বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তায় ব্যাংক হিসাব চালু

বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে বঙ্গবাজারের ফনিক্স রোডে এনেক্সকো টাওয়ারে আইএফআইসি ব্যাংককে এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।

আইএফআইসি ব্যাংক হিসাবের নাম ‘বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ড কে এস তহবিল’। হিসাব নম্বর ০২০০০৯৪০৬৬০৩১ (সেভিং অ্যাকাউন্ট)।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম যৌথভাবে এই ব্যাংক হিসাব খোলেন। এই হিসাবে দেশ-বিদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা যাবে। সবার সহযোগিতায় বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম  বলেন, বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬ হাজার দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার দোকান কর্মচারীর জীবিকা বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের আগ মুহূর্তে এই অগ্নিকাণ্ডে সব ব্যবসায়ী নিঃস্ব করে দিয়েছে। এমন দুরবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে দেশ-বিদেশের মানুষের আর্থিক সহায়তা চান বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা।




অবশিষ্ট মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন এনেক্সকো টাওয়ারের ব্যবসায়ীরা

বঙ্গবাজার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এনেক্সকো টাওয়ারের পঞ্চম, ষষ্ঠ তলায় পানি ছেটানো অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে অবশিষ্ট মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসব মাল সরাতে এনেক্সকো টাওয়ার থেকে একের পর এক ফেলা হচ্ছে বস্তা।

বুধবার (৫ এপ্রিল) বঙ্গবাজারের এনেক্সকো টাওয়ারের সামনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। রাস্তায় দেখা গেছে কাপড়ের সারি সারি বস্তা। মূলত অগ্নিকাণ্ডের পর অবশিষ্ট মালামাল রাখা হয়েছে এসব বস্তায়।

 

এলাকাটি ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলে জানান, যেসব ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কম হয়েছে তারা এনেক্সকো টাওয়ার থেকে তাদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কর্মীরা ওপর থেকে মালামাল বস্তায় ভরে নিচে ফেলছেন। আর দোকানিরা ভ্যান-পিকআপ দিয়ে মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন।

 

এনেক্সকো টাওয়ারের একটি দোকানের ম্যানেজার ইমরান জাগো নিউজকে বলেন, গার্মেন্টস প্রোডাক্ট এবং শাড়ির দোকান বেশি ছিল। অধিকাংশ মালই পুড়ে গেছে। তবে, যাদের কিছুটা অবশিষ্ট আছে তারা সরিয়ে নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, বঙ্গবাজারের এনেক্সকো টাওয়ার, মহানগর শপিং কমপ্লেক্সে এখনো ধোঁয়া ওড়তে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো পানি ছিটাচ্ছেন। এখনো পোড়া গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের কথা জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। আগুন নেভাতে সকাল থেকে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট। এরপর সেখানে নির্বাপণ কাজে যোগ দেন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যসহ র্যাব, বিজিবি ও ওয়াসার সদস্যরা।

বঙ্গবাজারে আজও কোথাও কোথাও জ্বলছে আগুনঅন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে কারো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কেটের অধিকাংশ দোকানের মালামাল পুড়ে গেছে। ঈদ ঘিরে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা ঈদ সামনে রেখে ঋণ ও ধারদেনা করে দোকানে নতুন মালামাল তুলেছিলেন। আগুন লাগার ঘটনায় তাদের অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।