এনসিসি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এনসিসি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ২১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের এ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১.৭০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিতে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করা হয়েছে। আর শেয়ারহোল্ডারদের ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২১ মে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৪.২৯ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৩.৯৪ টাকা।

আলোচ্য সময়ে সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১৪.১৫ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির এনওসিএফপিএ ছিল ২.৮৩ টাকা।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭.২০ টাকা।

এই করপোরেট ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেনের কোনো মূল্য সীমা থাকবে না।




এনসিসি ব্যাংকের বন্ড ইস্যুতে বিএসইসির অসম্মতি

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত এনসিসি ব্যাংক পিএলসির বন্ড ইস্যুর আবেদন অনুমোদনে অসম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ২০২২ সালের ১০ আগস্ট ‘এনসিসি ব্যাংক নন-কনভার্টেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড-২’ নামে একটি বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এনসিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ওই বন্ডের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন করার কথা ছিল। তবে ব্যাংকটির বন্ড ইস্যুর এই আবেদনে অসম্মতি প্রকাশ করেছে বিএসইসি।

গত ৯ অক্টোবর বিষয়টি জানিয়ে এনসিসি ব্যাংককে একটি চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। আজ তারা এ চিঠি হাতে পেয়েছে। এদিকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে আবেদন করতে ম্যানেজমেন্টকে নির্দেশনা দিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ।




এনসিসি ব্যাংকের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি’র (এনসিসি) ৩৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২০২৩ সালের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়েছে।

সম্প্রতি ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার সভাপতিত্বে করেন। সভায় ২০২৩ সালের ৩১শে ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত হিসাব, পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন ও বহিঃ নিরীক্ষকদের প্রতিবেদন উত্থাপিত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয়।

সভায় ভাইস চেয়ারম্যান সোহেলা হোসেন, পরিচালক ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো. আবদুল আউয়াল, প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ, পরিচালক ও প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তানজীনা আলী, পরিচালক সৈয়দ আসিফ নিজামউদ্দীন, পরিচালক ও প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চাকলাদার, পরিচালক মো. মঈনউদ্দিন, পরিচালক মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, স্বতন্ত্র পরিচালক মীর সাজেদ উল বাসার, প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস. এম. আবু মহসীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এম. শামসুল আরেফিন এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. মনিরুল আলমসহ ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার সভাপতির ভাষণে ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতির মূল সূচকগুলো বর্ণনা দিয়ে বলেন, এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারস্ ইকুইটি ও মোট সম্পদ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে যার ফলে আমাদের ক্রেডিট রেটিং ও ক্যামেলস রেটিং এ উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগ্রাসী প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিবর্তে সম্পদের গুণগতমান বজায় রাখা, লো কষ্ট -নো কষ্ট তহবিল বৃদ্ধি, তহবিল খরচ হ্রাস, ফি কমিশন ভিত্তিক আয় বৃদ্ধিসহ আরও অন্যান্য বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে এনসিসি ব্যাংক ক্রমান্বয়ে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




এনসিসি ব্যাংকের নতুন এম‌ডি ও সিইও শামসুল আরেফিন

এনসিসি ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম‌ডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) হয়েছেন এম. শামসুল আরেফিন।

শনিবার (১১ মে) ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হ‌য়ে‌ছে। ইতোমধ্যে তিনি ব্যাংকে যোগদান করেছেন।

ব্যাংকটি জানায়, এম‌ডি হওয়ার আগে শামসুল আরেফিন একই ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ক্যামেলকো, চিফ রিস্ক অফিসার, ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং কর্পোরেট বিজনেস বিভাগের প্রধানসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন বিজনেস টিমের পাশাপাশি অপারেশন্স্ টিমেরও নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।

আরেফিন ১৯৯৪ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে তিনি ওয়ান ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং এসবিএসি ব্যাংকে বিভিন্ন পর্যায়ের শাখা ব্যবস্থাপক এবং প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানসহ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি কম (সম্মান) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম কম (ফিন্যান্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা জীবনের সকল পর্যায়ে তিনি প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন। পরে তিনি নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (ফিন্যান্স) সম্পন্ন করেন।

তিনি দেশে ও বিদেশে ব্যাংকিং সংক্রান্ত অসংখ্য সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।




এনসিসি ব্যাংকের পর্ষদে তিন কমিটির চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত

বেসরকারি এনসিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের তিনটি কমিটির চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম আবু মহসী, মো নূরুন নেওয়াজ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এবং মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ অডিট কমিটির চেয়ারম্যান পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ব্যাংকের পর্ষদের ৫০৬তম সভায় (২৫ অক্টোবর) তারা পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম আবু মহসীন চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি মহসীন কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিঃ এর উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়াম্যান এবং সেন্ট্রাল হসপিটালের পরিচালক।

তিনি এ্যালায়েন্স ডিপ সী ফিসিং লিঃ, জে এম শিপিং লাইন্স ও ফুড এন্ড একোমোডেশন কোং লিঃ এর চেয়ারম্যান এবং ব্রাদার্স অক্সিজেন লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগ্রুপ মোজাহের ঔষধালয় এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এস, এম, মোজাহেরুল হক এর পুত্র এবং মোজাহের গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর পরিচালক। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিল্প উদ্যোক্তা। তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এর পরিচালক এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর প্রাক্তণ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। এছাড়া, পূর্বে তিনি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নেওয়াজ ইলেক্ট্রোমার্ট লিঃ ও ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর চেয়ারম্যান ও সেন্ট্রাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিঃ এর সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ২০২১ সালের জন্য বাণিজ্যিকভাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত একজন সিআইপি। তিনি ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য এবং ফেনীতে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা গড়ে তুলেছেন।

স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ দেশের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মাসুদ ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।




এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রয়ের ঘোষণা

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এনসিসি ব্যাংকের একজন উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্র করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা এম এ কাশের এর কাছে ৫০ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার রয়েছে। সেখান থেকে তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, তিনি আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিদ্যমান বাজার মূল্যে (পাবলিক/ব্লক মার্কেটে) কোম্পানির উল্লেখিত পরিমান শেয়ার বিক্রি করতে পারবে।




১৭ ব্যাংককে ডেফারেল সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঋণখেলাপিতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি হলেও ১৭ ব্যাংককে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সুবিধা দিয়ে টিকিয়ে রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোকে বিপৎকালীন প্রভিশন ঘাটতি পূরণ করার লক্ষ্যে ডেফারেল (বকেয়া) সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যাংকভেদে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে এক থেকে নয় বছর পর্যন্ত। এ বকেয়া প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তিতে পরিশোধ করবে ব্যাংকগুলো।

বিশেষ এ সুবিধা পাওয়ার শীর্ষে রয়েছে ন্যাশনাল, জনতা, এবি ও রূপালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, ধারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি দিয়ে ব্যাংকগুলোকে রক্ষার চেষ্টা করা হলেও এটা গ্রাহকের মধ্যে ভীতি ছড়াতে পারে।

ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের মানভেদে শূন্য দশমিক ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারে না, তাদের ব্যাংকের মূলধন থেকে সেই ঘাটতি সমন্বয় করা হয়। ফলে ব্যাংকের মূলধন কমে যায়। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সেই ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না। এই দুই সমস্যা সমাধানে ডেফারেল নামক বিপৎকালীন সুবিধা পায় ব্যাংক। এতে কাগজে-কলমে সমাধান হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকের সমস্যা থেকেই যায়।

ডেফারেল সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক নিয়েছে ১০ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৮ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। ব্যাংক দুটোকে পরবর্তী ৯ বছরের মধ্যে প্রভিশন সমন্বয় করার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবি ব্যাংক ডেফারেল সুবিধা নিয়েছে ৬ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, যা ২০২৯ সাল পর্যন্ত কিস্তিতে সমন্বয় করা যাবে। রূপালী ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতির বিপরীতে ৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পায়।

ব্যাংকগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টা আমানতকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি। সাধারণ আমানতকারীরা যদি না জানে তাঁরা যে ব্যাংকে টাকা রাখছেন তার ভিত্তি দুর্বল, তাহলে তাঁদের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকে। এ জন্য লাগাতার ডেফারেল সুবিধা দেওয়া মোটেও ব্যাংকের জন্য ভালো নয়। এতে ব্যাংকগুলো আগ্রাসী ঋণে আগ্রহ পায়।’

অগ্রণী ব্যাংক ৫ হাজার ৯১১ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা নিয়েছে চার বছরের জন্য। বেসিক ব্যাংক ৪ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার সুবিধা পেয়েছে, যা ৯ বছরের জন্য সমন্বয়ের সুযোগ থাকছে। সোনালী ব্যাংক চার বছরে ৩ হাজার ৭২১ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পায়। ওয়ান ব্যাংক পাঁচ বছরের জন্য ১ হাজার ২৪ কোটি টাকার সুবিধা পায়।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফজাল করিম বলেন, ‘নিয়ম মেনেই ডিফারেল সুবিধা দেয়। এতে কোনো ব্যাংক সমস্যাগ্রস্ত হলে তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায়। তবে প্রভিশন সমন্বয়ে ব্যাংকগুলোর চেষ্টা থাকা দরকার।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এনসিসি ব্যাংককে ৬৮৫ কোটি টাকা এবং ঢাকা ব্যাংককে ৪৯৮ কোটি টাকার সুবিধা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৪২৮ কোটি, আইএফআইসি ৪২০ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ২৯৯ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৭০ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংক ১২১ কোটি এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংককে ৩৭ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা দেওয়া হয়। এই ব্যাংকগুলোকে ২০২৩ সালের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার আগপর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের ডেফারেল সুবিধা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান ডেফারেল সুবিধার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ব্যাংকের প্রয়োজনে ডেফারেল সুবিধা নেয় ব্যাংকটি। তবে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে কম ডেফারেল সুবিধা পায় সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক।’




এনসিসি ব্যাংককে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানে বিএসইসির সম্মতি

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (৩১ মে) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডকে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের সম্মতি দিয়েছে।

বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ জুন।




এনসিসি ব্যাংকের ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ৫১টি পে-অর্ডার ইস্যু করে ১ কোটি ৬০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এনসিসি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২৭ মার্চ) দুদকের গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- এনসিসি ব্যাংকের নরসিংদী শাখার বরখাস্ত হওয়া ব্যবস্থাপক নাসিরুদ্দীন আহম্মদ, উপ-ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন, এক্সিকিউটিভ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুর রহমান ও ব্যাংকটির অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা একে অপরের সহায়তায় প্রতারণা, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ৫১টি পে-অর্ডার ইস্যু করে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় আসামিরা গ্রাহকের নামে পরিচালিত বিশেষ সঞ্চয়ী হিসাব, অন্যান্য গ্রাহকের ভুয়া মেয়াদি আমানত ও বন্ধ হিসাব কৌশলে ব্যবহার করেছেন।

জানা যায়, অর্থ আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নাসিরুদ্দীন আহম্মদ ও উপ-ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন উল্লেখিত পে-অর্ডারগুলোর একাউন্ট পেয়ী বাতিল করে ক্যাশে পরিশোধের জন্য ব্যবস্থা করেন। পরিশেষে কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুর রহমানের দেন।এসময় মো. সাইফুর রহমান ও অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম পে-অর্ডারের সই যাচাই করে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নাসিরুদ্দীন আহম্মদ ও উপ-ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন ও এক্সিকিউটিভ অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সেগুলো নগদায়নের নিমিত্ত উপস্থাপন করেন। এরপর তারা দেখে পে-অর্ডারগুলো নগদ পরিশোধের নিমিত্ত পাস করে সাইফুর রহমানের কাছে দেন।

এরপর মো. সাইফুর রহমান পে-অর্ডারের অপর পৃষ্ঠায় নিজেই বিভিন্ন ব্যক্তির সই জাল করে ক্যাশ থেকে নগদে এক কোটি ৬০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন।

এঘটনায় অনুসন্ধান চলমান। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছেন।