মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে মানববন্ধন করেছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেল চালকরা এনবিআর ভবনের সামনের সড়কে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল রেখে কর্মসূচি পালন করেন।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চালকরা জানান, আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে অগ্রিম কর (এআইটি) বা বাড়তি শুল্ক আরোপের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমেছেন।

তাদের দাবি, মোটরসাইকেল এখন আর কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

 

এ কে এম ইমন নামের একজন চালক বলেন, ‘একটি মোটরসাইকেল কেনার সময়ই আমাদের মোটা অঙ্কের শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। এরপর নতুন করে আবার কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই এই সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুক।’

চালকরা জানান, গত কয়েক মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নতুন করে কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তাই মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তারা।




বিদ্যুৎ ও ফুয়েল ক্রাইসিসে সোলার সিস্টেম জরুরি : বিকেএমইএ

বিদ্যুৎ ক্রাইসিস এবং ফুয়েল ক্রাইসিসের কারণে এই মুহূর্তে সোলার সিস্টেম জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এমন মন্তব্য করেন।

হাতেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে নতুন বাস্তবতা তৈরি হলেও ব্যাটারি আমদানির বিধিনিষেধ এবং কাস্টমস জটিলতায় বাধার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।

ওই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এতদিন নেট মিটারিং ব্যবস্থায় সোলার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে মাস শেষে বিল সমন্বয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানা চালু রাখতে সোলার সিস্টেমকে ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য ব্যাটারি স্টোরে

তিনি বলেন, দুই-তিন ঘণ্টার লোডশেডিং মোকাবিলায় সোলার জেনারেটর মোডে যেতে হলে ব্যাটারি প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমদানি নীতিতে নমনীয়তা দরকার, যাতে আমরা বিদ্যুৎ ঘাটতি নিজেরাই মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সোলার সিস্টেমের যন্ত্রাংশ আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ৪ মেগাওয়াট সোলার প্রকল্পের জন্য আমদানি করা মাউন্টিং স্ট্রাকচার কাস্টমস ছাড় দিচ্ছে না, যদিও এ বিষয়ে পূর্বে একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পোর্ট ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব। একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন না হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন তিনি।

পোশাক খাতে সাব-কন্ট্রাক্ট ব্যবস্থার জটিলতাও তুলে ধরেন বিকেএমইএ নেতা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সাব-কন্ট্রাক্ট প্রয়োজন হলেও পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা থাকায় তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না। এছাড়া এক ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে পণ্য পরিবহনের সময় ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, যেসব কার্যক্রমে জাতীয় অর্থনীতিতে বাস্তব মূল্য সংযোজন নেই, সেগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা রাখা হবে না। তবে সুবিধা পেতে হলে দেশের জন্য কীভাবে উপকার হচ্ছে তা প্রমাণ করতে হবে।

বিকেএমইএ তাদের বাজেট প্রস্তাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে কর ০.৫ শতাংশে স্থির রাখার দাবি জানিয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাব-কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি প্রস্তাব জানিয়েছে বিকেএমই। পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তু আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইকেলড ফাইবার উৎপাদনে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে।




কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে কাজ করছে সরকার : এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকাস্থ আইসিএমএবির রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সবসময় গঠনমূলক প্রস্তাবনা ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে সরকার অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরতের প্রক্রিয়া উন্নত করছে। পাশাপাশি করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-ট্যাক্স রিটার্ন সিস্টেমের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখনে আইসিএমএবির সেমিনার ও কনফারেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। তিনি অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে সমন্বিত আলোচনার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। কর নীতির সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর) রঞ্জন কুমার ভৌমিক। প্রস্তাবিত ভ্যাট সংস্কার ও অব্যাহতি বিষয়ে আলোচনা করেন এনবিআরের প্রথম সচিব (ভ্যাট নীতি ও ভ্যাট অব্যাহতি) মশিউর রহমান। ট্যাক্স ভেরিফিকেশন সিস্টেমসহ (টিভিএস) অন্য গুরুত্বপূর্ণ কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করেন এমএম অ্যান্ড কোং-এর সিইও মো. মহিমন।

আইসিএমএবি সভাপতি কাওসার আলম বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিনির্ভর বাজেট পেতে দেশের কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি, করের পরিধি সম্প্রসারণ, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ: বিজিএমইএ

গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ ছাড়া আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এমন অবস্থায় আগামী জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএ’র শীর্ষ নেতারা সভাউপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শুল্কের প্রভাবে রপ্তানি নিম্নমুখী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রপ্তানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি নিম্নমুখী, অর্থাৎ কারখানাগুলো পরিমিত সভায় ক্ষমতায় চলতে পারছে না, ফলে ফিক্সড কস্ট আনুপাতিক হারে বেড়েছে এবং অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেছে।

বিজিএমইএ’র প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১.০০ থেকে হ্রাস করে ০.৬৫ শতাংশ করা ও তা ৫ বছরের জন্য নির্ধারণ করা, সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া এবং ইটিপিসহ একাধিক কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।

 

বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২%-১৫% এ পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। ২০১৭-২০২৩ সময়কালে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি, গত ৫ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রণোদনা গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।




রাজস্ব কাঠামোতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চায় ঢাকা চেম্বার

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) করের অবদান বৃদ্ধিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব কাঠমোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একইসঙ্গে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের নূন্যতম সীমা ৫ লক্ষ টাকা করা, বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭.৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

আজ (বুধবার) এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি শুল্ক খাতে ঢাকা চেম্বারের ৫৪টি প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ’র নিকট পেশ করেন ডিসিসিআইয়ের মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।

প্রস্তাবনা উপস্থাপনের শুরুতেই ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম বি এম লুৎফুল হাদি বলেন, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ ও করের বোঝা হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে নীতি সহায়তা প্রদানের বিষয়গুলোকে এ বছর ডিসিসিআই জোর দিয়েছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণের হার বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আসবে বলে মনে করছে বাণিজ্য এ সংগঠনটি।

এসময় ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালক এম মোসাররফ হোসেন, ইঞ্জি মোস্তফা কামাল এবং রাশীদ মাইমুনুর ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারী সকল সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ডেটা সমন্বয়ের মাধ্যমে সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন, কোম্পানির আমানতের উৎসে সুদ হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোম্পানির নিট সম্পদের উপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপকরনের উপর জোরারোপ করেন। সেই সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরোক্ষ রাজস্ব আয় বাড়াতে ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা বাতিল ও ভ্যাট সংগ্রহ বৃদ্ধিতে মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তন সহ সামগ্রিক মূসক কার্যক্রমে অটোমেশনের প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

ঢাকা চেম্বারের বাজেট প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এ বছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, শুল্কের হার হ্রাসের চেয়ে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা নিরসনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে, উদ্যোক্তাদের স্বস্তি আসবে পাশাপাশি দেশের ম্যাক্রো অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, সত্যিকারের কমপ্লায়েন্স করদাতাদের ওপর করের বোঝা ও হয়রানি হ্রাসের লক্ষ্যে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য গ্রহণ করা হবে না। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, সরকার ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআর বদ্ধ পরিকর।

তিনি উল্লেখ করেন, ভ্যাটের থ্রেসহোল্ড গতবছর ৩ কোটি টাকা থেকে ৫০ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৮ লাখেরও কম, আমাদের অর্থনীতির সক্ষমতা বিচারে এ সংখ্যা কোটির বেশি হওয়া উচিত। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, কর্পোরেট করের হার ৫০ শতাংশ হতে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে বর্তমানে ২৭.৫ শতাংশ নামিয়ে আনা হয়েছে, এটিকে আরও হ্রাসের আসলেই তেমন সুযোগ নেই, তবে ইফেকটিভ করের হার যেন না বাড়ে তার ওপর বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি। আগামী বছর থেকে কর্পোরেট করের রিটার্ন অনলাইনে প্রদান প্রক্রিয়া চালু হবে পাশাপাশি কর ফেরত (রিফান্ড) প্রদানের ব্যবস্থা অনালইনে নিশ্চিতের কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।




কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময় আরও ১ মাস বৃদ্ধি

আবারও কোম্পানি করদাতাদের কর জমার সময় বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক আদেশে কোম্পানির ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার সময় বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর আগে সময় বৃদ্ধি করে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৫ মার্চ ও ১৫ মে পর্যন্ত কোম্পানি করদাতারদের রিটার্ন জমার সময় নির্ধারিত করেছিল এনবিআর। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় কোম্পানি রিটার্নের সময় বৃদ্ধি করা হলো।

করনীতির দ্বিতীয় সচিব একরামুল হক স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ এর দফা (খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর আইন, ২০২৩ এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানি করদাতাদের ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বৃদ্ধি করা হলো। সম্প্রতি কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়াতে এনবিআরে চিঠি পাঠায় ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন।




চামড়া শিল্পের সংকট উত্তরণে ৪৩ কেমিক্যালে কর-ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

চামড়া শিল্পের সংকট উত্তরণে ট্যানারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ৪৩ প্রকারের কেমিক্যাল আমদানিতে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন চামড়া শিল্প উদ্যোক্তারা।

 

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকতে বাংলাদেশ ফিনিশড্ লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এই প্রস্তাব দেয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় উৎপাদন ব্যয় কমাতে না পারলে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। শতভাগ রপ্তানিমুখী ট্যানারি প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল উৎপাদনে ব্যবহৃত ৪৩ প্রকারের কেমিক্যাল এবং প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রে উৎস কর ও মূসক সম্পূর্ণরুপে প্রত্যাহার করা জরুরি।

ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচা চামড়া একটি পচনশীল কৃষিজাত পণ্য। গত বছরের ২৬ মে প্রকাশিত এসআরও অনুযায়ী, কাঁচা চামড়া সরবরাহের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ হারে উৎস কর ধার্য করা হয়। এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে পুনরায় করমুক্ত করার দাবি তুলেছেন তারা।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের এনবিআরের পরিপত্র অনুযায়ী শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে কোনো প্রকার মূসক ব্যতিরেকে বিল পরিশোধের সুবিধা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন মালিকরা। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি বা দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিনিশড্ লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

তারা বলছেন, আধুনিক চামড়া শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠা করে পণ্য বহুমুখীকরণে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য এই নীতিগত সহায়তাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই বিশাল ক্ষেত্রটি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

একইভাবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, জাতীয় প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও মূল্য সংযোজনের নিরিখে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ব্যবহৃত কেমিক্যালের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়ে ট্যানারি শিল্প মালিকরা আরও কিছু দাবি উপস্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামাল কাঁচা চামড়া পচনশীল হওয়ায় দ্রুত সংরক্ষণ প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে কেমিক্যাল একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে পানি, লবণ ও কিছু অ্যাসিড ছাড়া অধিকাংশ কেমিক্যাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও এক্সেসরিজ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে এসব কেমিক্যাল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স, অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট ও সোর্স ট্যাক্সসহ মোট ট্যাক্স ইনসিডেন্ট ৩০ শতাংশের বেশি। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, কেমিক্যাল আমদানিতে মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত শুল্ক শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি পাওয়া যায়। তবে এ খাতে ভ্যাট হার এখনও ১৫ শতাংশ রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন এসআরও জারি করে মূল্যভিত্তিক ৩ শতাংশের বেশি শুল্ক অংশ অব্যাহতি এবং কেমিক্যাল আমদানিতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে নন-বন্ড ট্যানারি শিল্প প্রতিযোগিতামূলক হবে, অনিয়মিত বা ঘুরপথে কেমিক্যাল আমদানির প্রবণতা কমবে, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।




আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ মার্চ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। হাতে আছে আর মাত্র সাত দিন। এর মধ্যেই করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এবার বেশিরভাগ করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই সহজে ই-রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনেও এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন সিস্টেম চালু থাকছে।

সাধারণত প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকে ৩০ নভেম্বর। তবে এবার তিন দফায় এক মাস করে সময় বাড়িয়ে শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন নিয়েছেন।

যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবেন

ই-রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সহজেই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোনও কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই হয়। একই সঙ্গে অনলাইনেই কর পরিশোধ করা যায়। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

শেষ সময়ে তাড়াহুড়া নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে করদাতাকে জরিমানাসহ আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রিটার্ন দেওয়ার আগে করণীয়

রিটার্ন জমার আগে করদাতাদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে— আগে থেকেই আয়–ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা, জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য আবার পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া।

কর প্রশাসন বলছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধাও পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন।




কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়লো

কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক দফা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার (১৫ মার্চ) এক আদেশে কোম্পানির ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার সময় ১৫ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল করা হয়েছে।

করনীতির দ্বিতীয় সচিব একরামুল হকের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ এর দফা (খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর আইন, ২০২৩ এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানি করদাতাদের ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ানো হলো।

কোম্পানি করদাতারদের রিটার্ন জমার সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল এনবিআর। তবে পরে তা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সম্প্রতি কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়াতে এনবিআরে চিঠি পাঠায় ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন। এরপর আরও এক দফায় সময় বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলো।

এর আগে ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতার জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে এনবিআর।




মেট্রোরেলের সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি ৩০ জুন পর্যন্ত

রাজধানীবাসীর কাছে জনপ্রিয় বাহন মেট্রোরেলের সেবার উপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বুধবার  (২৪ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমীন শেখ বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, সরকার জনগুরুত্ব বিবেচনায় এবং পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহন মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ইতোপূর্বে মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করেছে। মেট্রোরেল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন করের বিদ্যমান অব্যাহতি চালু রাখার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে ওই অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সরকার ২৩ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উদ্বোধন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেল চলাচল মতিঝিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। মেট্রোরেলের যাত্রীদের কোনো ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাস নেই। সব যাত্রী একই ভাড়ায় নির্ধারিত গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে পারেন।




হজযাত্রীদের প্লেনের টিকিটে শুল্ক প্রত্যাহার

আগামী বছরের হজযাত্রীদের জন্য প্লেনের টিকিটের ওপর আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এসব সংক্রান্ত এ আদেশ জারি করেছে এনবিআর।

অবিলম্বে এ সুবিধা কার্যকর হবে ও আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা থাকবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

হজযাত্রীদের প্লেনের টিকিটের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার এবারই প্রথম করা হয়নি। আগেও এনবিআর একাধিকবার এই শুল্ক মওকুফ করেছে। সাধারণত প্লেনের টিকিট বিক্রির সময়ই যাত্রীদের ভ্রমণ কর বা আবগারি শুল্ক সংগ্রহ করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে দেওয়া হয়।

বর্তমানে সৌদি আরবগামী বিমান টিকিটের ওপর পাঁচ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। হজযাত্রীদের জন্য এটি মওকুফ করা হয়েছে।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করতে পারবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।




শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকার জব্দ করলো এনবিআর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকে থাকা আরও দুটি লকার জব্দ করেছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় অভিযান চালিয়ে লকার দুটি জব্দ করা হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শাখাটির সাবেক স্থানীয় কার্যালয় অংশে শেখ হাসিনার নামে ৭৫১ ও ৭৫৩ নম্বর লকার রয়েছে। কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মের সন্দেহে এগুলো জব্দ করা হয়।

গত ১০ সেপ্টেম্বর এনবিআরের গোয়েন্দারা সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় শেখ হাসিনার একটি লকার (নম্বর ১২৮) জব্দ করে। একই শাখায় তার দুটি ব্যাংক হিসাবও পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি হিসাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং অন্যটিতে ৪৪ লাখ টাকা জমা ছিল। সংশ্লিষ্ট হিসাবে সব ধরনের লেনদেন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সিআইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বৃহত্তর তদন্তের স্বার্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লকার ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় অগ্রণী ও পূবালী ব্যাংকে থাকা শেখ হাসিনার তিনটি লকার ও দুটি ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যেই জব্দ করা হলো।




এনবিআরের আরও ৫ কর কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

এবার প্রায় একই কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের তিন অতিরিক্ত কমিশনারসহ পাঁচ কর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

সোমবার (১৮ আগস্ট) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ইস্যু করা পৃথক প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে দুপুরে পৃথক আদেশে এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের দুই অতিরিক্ত কমিশনারসহ চার কাস্টমস কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আদেশে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি পালন ও দেশের রাজস্ব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তারা হলেন- সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের পরিচালক চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা, কর অঞ্চল-০৭ এর অতিরিক্ত কর কমিশরার ‍সুলতানা হাবীব, ফরিদপুর কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মো. মেসবাহ উদ্দিন খান এবং দিনাজপুরের কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া।

আদেশে বলা হয়েছে, সরকার গত ১২ মে ২০২৫ তারিখ রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির পর এর বিরোধিতা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং আয়কর বিভাগের কর্মচারীদের কর্মসূচি চলাকালীন দায়িত্বরত কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনে বাধা প্রদান এবং কাজ ত্যাগ করে রাজস্ব ভবনে আসতে বাধ্য করতে সংগঠকের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে; সেহেতু, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা-৩৯(১) অনুযায়ী তাদেরকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগপূর্বক চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক তারা খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দুপুরে কাস্টমস বিভাগের যাদের বরখাস্ত করা হয় তারা হলেন- সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, মোংলা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আ’লা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান, চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির এবং খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপ কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

এর আগে বদলির আদেশ অবজ্ঞাপূর্বক প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এনবিআরের আয়কর ও কাস্টমস বিভাগের ২০ এর অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।




যাত্রীসেবায় মান উন্নয়নের নির্দেশ

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বেনাপোল কাস্টমস হাউস পরিদর্শনে এমন নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি কার্গো ইয়ার্ড, কার্গো ভেহিকল স্ক্যানিং এবং আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময় সভার শুরুতে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় তিনি নিলামযোগ্য ও ধ্বংসযোগ্য পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির দিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বেনাপোল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর এবং এটি ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ব্যবসায়ীদের যাতে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাস্টমস এবং রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

চলতি মাসে ৭ ও ১০ জুলাই ঢাকা ও পানগাঁও কাস্টমস হাউস পরিদর্শন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।




এনবিআর চেয়ারম্যানকে নিয়ে কটূক্তি অভিযোগে নিরাপত্তা প্রহরী বরখাস্ত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে কটূক্তি করার অভিযোগে কর অঞ্চল-১০ এর নিরাপত্তা প্রহরী মো. সেলিম মিয়া কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কর অঞ্চল-১০ এর কমিশনার মো. শাহ আলীর সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. সেলিম মিয়া, নিরাপত্তা প্রহরী, সার্কেল-২০০, কর অঞ্চল-১০, ঢাকা নিজ নামে নিবন্ধনকৃত মোবাইল নম্বরের বিপরীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সম্মানিত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয় সম্পর্কে শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য/আচরণ করেছেন। যেহেতু মো. সেলিম মিয়া মোবাইল নম্বরটি তার নিজ নামে নিবন্ধকৃত মর্মে স্বীকার করেছেন, সেহেতু তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তদন্তপূর্বক বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, যেহেতু, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করে। সেহেতু, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী জনাব মো. সেলিম মিয়াকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এর আগে, মঙ্গলবার এনবিআরের শীর্ষ ১৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খানের সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানকে অপসারণের দাবির মধ্যে জারি করা সবশেষ দুটি বদলি আদেশকে ‘প্রতিহিংসা ও নিপীড়নমূলক’ দাবি করে তা ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এবার সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় মোট ১৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। এদের মধ্যে দুপুরে আটজন, রাতে আরও ছয়জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।




এনবিআরের আন্দোলন হয়ে যায় সরকারবিরোধী, লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক ক্ষতির : জ্বালানি উপদেষ্টা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের ‘নিরীহ’ আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বন্দর ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করতে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিরও আহ্বায়ক।

রোববার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এই কথা জানান। এ সময় কমিটির সদস্য শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর কর্মকর্তাদের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের বিষয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, এটি নিরীহ আন্দোলন ছিল। পরে এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়। অর্থনৈতিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্য হয়ে পড়েছিল। রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত করার একটা উদ্দেশ্য ছিল।

একটা পত্রিকায় প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেখানে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথা বলা হয়েছে। সেখানে আন্দোলনের নামে সরকারবিরোধী অবস্থান তৈরি হয়েছে। সরকার কিন্তু অপরিসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা আমাদের বলেছেন, আপনারা এতদিন এটাকে (আন্দোলন) কন্টিনিউ করতে দিলেন কেন? এটা ১৫ দিনের মাথায় কেন থামালেন না? নিপীড়নমূলক না হয়ে কীভাবে এটা সমাধান করা যায় সেজন্য উনি বারবার আলোচনা করেছেন। কিন্তু সেটাতে কাজ হয়নি।

তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এরইমধ্যে পাঁচটি সভা করেছে। ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশন, আয়কর অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, এনবিআর, সংস্কার কমিশন এবং সর্বশেষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমরা মাঠ পর্যায়ে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট কার্যক্রম দেখব।

উপদেষ্টা জানান, আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের প্রধান বক্তব্য ছিল, এনবিআর অটুট রাখতে হবে। রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব বাস্তবায়নের যে দুটি ডিভিশন, সেখানে ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ করতে হবে। তারা দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। এখন আর দুই বিভাগ করার ক্ষেত্রে তাদের কোনো আপত্তি নেই। সংস্কার কমিটির যে বক্তব্য, সেটিও অভিন্ন।

উপদেষ্টা বলেন, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন দুই মাস আন্দোলনের কারণে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা এটাও জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত শুল্ক, আয়কর ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার হন তারা। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন আছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ফাওজুল কবির খান বলেন, আপনারা জানেন, এনবিআরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। কিছু কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা (ব্যবসায়ীরা) বলেছেন, এটি ঠিকই আছে, তবে এ বিষয়ে একটু ধীরগতি অবলম্বনের জন্য তারা অনুরোধ করেছেন।

গত ৩০ জুন ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বন্দর ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করতে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে আরও সদস্য হিসেবে রয়েছেন- নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।




কাজে ফিরলেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

যৌক্তিক সংস্কার ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করার পর স্বাভাবিক হয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম। সোমবার সকাল থেকেই কাজে যোগ দিয়েছেন সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। কয়েকদিনের স্থবিরতার পর আবারও এনবিআরে তৈরি হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য।

ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় রোববার রাতে ‘মার্চ ফর এনবিআর’ এবং ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

সোমবার (৩০ জুন) সকাল ৯টার আগেই কর্মস্থলে প্রবেশ করতে শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকাল ৮টার দিকে অফিসে আসেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। রাজস্ব ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খালা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, সকাল থেকেই আমাদের সব দপ্তরে কাজ শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ উপস্থিতি আছে। সব কাস্টমস হাউজ, আইসিডি, ভ্যাট ও কর অফিস সবাই কাজ করছে। যেহেতু আজ ৩০ জুন (অর্থবছরের শেষ দিন), আজকে আমাদের একটা বড় ড্রাইভ থাকে। রেভিনিউগুলো যেগুলো পাইপলাইনে আছে সেগুলো ট্রেজারিতে নিয়ে আসার একটা ক্রমাগত চেষ্টা থাকে। সেই চেষ্টাটা চলছে।

এর আগে, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আর্থিক ক্ষতিসহ বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা কমপ্লিট শাটডাউন আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। রোববার (২৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতারা।

রাজস্ব ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছিল এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। গত দুইদিন মার্চ টু এনবিআর ও কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন তারা। গত ১২ মে মধ্যরাতে এনবিআর বিলুপ্ত করে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এর বিরুদ্ধে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের কর্মসূচির ফলে সরকার গত ২৫ মে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে এনবিআর বিলুপ্ত না করে বরং এটিকে সরকারের একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত বিভাগের মর্যাদায় আরও শক্তিশালী করা, রাজস্ব নীতি প্রণয়ণের লক্ষ্যে আলাদা একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠন করা এবং প্রয়োজনীয় সব সংশোধনের আগ পর্যন্ত জারিকৃত অধ্যাদেশটি কার্যকর করা হবে না বলে জানায়। তার প্রেক্ষিতে ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।

এরপর কাজে যোগ দিলেও আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অফিসে ফেরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।




আগামী দুই শনিবার এনবিআরের সব অফিস খোলা

আগামী দুই শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়করসহ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য সব দফতর খোলা থাকবে।

বুধবার (১৮ জুন) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (বোর্ড প্রশাসন-১) উম্মে আয়মান কাশেমীর সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে জানানো হয়, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট কার্যক্রম চলমান থাকায় আগামী ২১ ও ২৮ জুন, পরপর দুই শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং এর অধীনস্থ কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়করসহ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য সব দপ্তর খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ এরইমধ্যে সব দফতরে পাঠানো হয়েছে৷




এনবিআরে কর্মবিরতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন

চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শনিবার (২৪ মে) সকাল থেকেই আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আসেন।

তারা নিচতলা সহ বিভিন্ন ফ্লোরে অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ, র‌্যাব সাদা পোশাকে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এনবিআর ভবনে। পরিচয়পত্র দেখিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভবনে প্রবেশ করতে হচ্ছে।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ, এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশ বাতিল, রাজস্ব সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত খসড়া এবং পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আলোচনা-পর্যালোচনাপূর্বক প্রত্যাশী সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নিয়ে উপযুক্ত ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করার দাবিতে ২২ মে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেয় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার সব কর অঞ্চল, কাস্টম হাউস ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগারগাঁও এনবিআরের নিচে কর্মবিরতির পাশাপাশি অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এছাড়া সারাদেশে সব অফিসেও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কাস্টম হাউসে কোনো কাজ করা হচ্ছে না। এছাড়া ভ্যাট ও কর অফিসেও কোনো সেবা দেওয়া হচ্ছে না। তবে ঘোষণা অনুযায়ী, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কর্মবিরতির আওতামুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। এ সময় সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সেবাপ্রার্থীদের প্রতি দু:খ প্রকাশ করেন তারা।




এনবিআর দুই ভাগ করার প্রক্রিয়া সঠিক নয়, ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ : দেবপ্রিয়

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো (সিপিডি) ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুইভাগ করা প্রক্রিয়ায় ঠিক হয়নি। আলোচনা ব্যাতিরেকে, পেশাজীবিদের জায়গা সংকুচিত ও অন্যান্য অংশীজনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যেটা করা করা হয়েছে, সেটা ঠিক হয়নি। এখন ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (১৯ মে) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নীতি সংস্কার ও জাতীয় বাজেট শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এনবিআর নিয়ে বর্তমানের যে আলোচনা চলছেন সে বিষয়ে বলতে বলবো- দুইভাগ করা ঠিক আছে। এটা আমাদের শ্বেতপত্রে সুপারিশে ছিল। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে, সেটা ঠিক হয়নি। আলোচনা ব্যাতিরেকে, পেশাজীবিদের জায়গা সংকুচিত ও অন্যান্য অংশীজনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে করা হয়েছে, এটা ঠিক হয়নি। এটাকে এখন ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি আমরা পরিসংখ্যান দেখি তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে, ঋণ প্রবাহ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে, এডিআই কমেছে ও পুঁজিবাজারের সকল সূচক নিন্মমুখী। এই অবস্থায় কর্মসংস্থান কিভাবে হবে? বেকারত্বে হার বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি হারের চেয়ে মূল্যস্ফিতির হার বেশি, অর্থ্যাৎ তাদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। তাহলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, এটা এখন জোর দিয়ে বলতে পারছি না। জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের নিচে আছে। এটা বাড়াতে হবে। আগামি অর্থবছরেও ১০ এর নীচে থাকছে। পরোক্ষ করের বৃদ্ধির হার বেশি। তার মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপরই করের বোঝা বাড়ছে।

বাজেটে ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, রাজস্ব ব্যয়ের দুটি খাত সবচেয়ে বেশি হচ্ছে- প্রথমটি সুদ ব্যয় আর দ্বিতীয়টি ভর্তুকি। সরকারের অর্থনীতি পরিচালনা কোনো ঘোষিত নীতিমালার আলোকে হচ্ছে না, তা চলছে এডহক ভিত্তিতে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার দুর্বলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য মুদ্রানীতি এখনও প্রতিফলিত হয়নি। ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে এলে আমরা একটা সিগনাল পাবো। বাংলাদেশে এ মুহূর্তে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। যুব দারিদ্র বাড়ছে এটা বলা বাহুল্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচারর‌্য বলেন, সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়টি আমাদের নজরে রেখেছেন। টাস্কফোর্স থেকে বলেছি দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকার আসলেও তারা অর্থনৈতিক বৈষম্য মোকাবেলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারে নাই। যে ফিসক্যাল পলিসি নিয়ে কাজ হচ্ছে, সেটাও কিন্তু গত সরকারের। পুরানো যে কাঠামো রয়েছে সেটাকেই ধুয়ে-মুছে কাজ করা হচ্ছে, সেটা আমাদের পছন্দ হয়নি। টাস্কফোর্সের যে সুপারিশ ছিল, সেটা ধরে যে গতি আসার কথা ছিল, তা আমরা দেখতে পাইনি। বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ-মিয়ানমার দিয়ে জটিলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, একইভাবে বৈষয়িক অর্থনীতির পরিস্থিতিও খুবই জটিল। বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাপনা খুবই সংকটের মধ্যে আছে। এই সংকটের মধ্যেই আগামির বাজেট করতে যাচ্ছে সরকার।

দেশের আমলাতান্ত্র আরও শক্তিশালী হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চোরতন্ত্রে ছিলেন আমলারা, ব্যবসায়ীরা আর রাজনীতিবিদরা। এখন রাজনীতিবিদরা পালিয়ে গেছেন, ব্যবসায়ীরা ম্রিয়মাণ আর আমলারা পুরো শক্তি নিয়ে পুনরীজ্জীবিত।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অনিসুজ্জামান চৌধুরী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাস্কেট কেস” ধরণের পুরনো, নেতিবাচক ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উন্নয়ন ও সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার উপর তিনি জোর দেন। পাশাপাশি, স্থিতিশীল ও ন্যায্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর অনুপস্থিতির দিকটি তুলে ধরেন, যা আজকের দিনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।




১৫ লাখ অনলাইন রিটার্নের ১০ লাখ করদাতারই শূন্য কর

চলতি করবর্ষে অনলাইন রিটার্নের মধ্যে ৬৬ শতাংশই শূন্য রিটার্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

সোমবার (২৪ মার্চ) আগারগাঁওয়ের এনবিআর আয়োজিত ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

আবদুর রহমান খান বলেন, ১৫ লাখ অনলাইন রিটার্নের মধ্যে ১০ লাখই সাড়ে ৩ লাখ টাকার নিচে। এর মানে, আমরা সঠিকভাবে করদাতাদের শনাক্ত করতে পারছি না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, ১০ লাখ করদাতার আয়কর বিবরণীতে উল্লিখিত বার্ষিক আয়ের বিপরীতে কোনো কর প্রদান করা হয়নি। এ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে, যারা কর প্রদান করছেন না, তাদের প্রকৃতপক্ষে করযোগ্য আয় নেই কি না। আমাদের কর ফাঁকি শনাক্ত করার দিকে আরও মনোযোগী হতে হবে।

এ সময় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে ব্যক্তিগত করদাতাদের কর ছাড়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকার করার প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সাড়ে তিন লাখ থেকে ৪ লাখ বা ৫ লাখ টাকা করার বিষয়টি যৌক্তিক মনে করি। তবে সমস্যা হলো, বর্তমানে ডিজিটাল রিটার্নের মাধ্যমে সকল তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ ১৫ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। প্রতিদিন ২-৩ হাজার রিটার্ন জমা পড়ছে এবং অনলাইন রিটার্ন এখনও চালু রয়েছে। অনেকেই রিভাইজড রিটার্নও জমা দিতে পারছেন, এটি একটি বড় সুবিধা।

শূন্য আয়কর বিবরণী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৫ লাখ রিটার্নের মধ্যে ১০ লাখ রিটার্নই সাড়ে ৩ লাখ টাকার নিচে জমা পড়েছে, যার মানে তারা এক টাকাও ট্যাক্স দেয়নি। পেপার রিটার্নের ক্ষেত্রেও চিত্র প্রায় একই। মফস্বল এলাকাতেও একই অবস্থা। যদি আমরা শূন্য রিটার্নের সীমা বাড়িয়ে চার লাখ করি, তাহলে শূন্য রিটার্নের সংখ্যা আরও এক লাখ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, কোয়ালিটি ট্যাক্সপেয়ারদের সংখ্যা খুবই কম। যদি আমরা সিলিং বাড়িয়ে দেই, তাহলে আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করব, কিন্তু এটা বলছি না যে, বাড়াবো না। এটা নিশ্চিত, যে বড় গ্রুপটি এখন ন্যূনতম কর প্রদান করে, তারা শূন্য করের আওতায় চলে যাবে, যা একটি সমস্যা।

ইআরএফের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, বাজেটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রশ্রেণির উপর করের বোঝা কমানোর জন্য কর ফেরতের ব্যবস্থা করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ওপর উপকরণের কর হার ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা, বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড করমুক্ত করা, ব্যক্তিশ্রেণির কর হার ৩০-৩৫ শতাংশ করা, ভ্যাটের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ করের দিকে জোর দেওয়া এবং বাজার মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে কর আদায় বৃদ্ধি করা।




অনলাইনে রিটার্ন ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে

২০২৪-২০২৫ করবর্ষে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের উদ্দেশ্যে ১৯ লাখের বেশি করদাতা রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ।

তিনি বলেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ১৫ লাখ অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ১৯ লাখ অতিক্রম করেছে।

এনবিআর জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা সহজে এবং দ্রুত তাদের ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করে দাখিলকৃত রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, টিআইএন সনদ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারছেন। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট (ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করদাতারা কর পরিশোধের সুবিধা ও কর সমন্বয়ের সুবিধা পাচ্ছেন। এই বিষয়ে কল সেন্টার ও e-mail এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

এনবিআর ইতোমধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেমের পরবর্তী আপগ্রেডেশেনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য ই-রিটার্ন সিস্টেমের সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানের উপায় নির্ধারণ— বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করে। ই-রিটার্ন সিস্টেমটিকে আরও সহজ, সমৃদ্ধ ও করদাতাবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানায় এনবিআর।




কর দিয়ে কেউ দেউলিয়া হয় না : এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, কর দিয়ে কেউ দেউলিয়া হয় না। কর দিয়ে দেউলিয়া হয়েছে এমন কথা কখনো শুনি নাই।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

কর অব্যাহতি নিয়ে এক প্রস্তাবের বিপরীতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন করে কর অব্যাহতির কথা কেউ বলবেন না। আমরা চাই যতটুকু আছে তাও কমিয়ে আনা, ধীরে ধীরে কর অব্যাহতি তুলে দেওয়া। সৈয়দ মুজতবা বলেছেন- বই কিনে দেউলিয়া হয় না। আমি বলব কর দিয়ে দেউলিয়া হয়েছে বলে শুনি নাই। কর তো আয়ের ওপর, ব্যয়ের ওপর নয়। তাহলে দিতে সমস্যা কোথায়।

আজ ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় পেশাজীবী সংগঠন আইসিএমএবি সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন আইসিএবি সভাপতি মারিয়া হাওলাদার স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন। এছাড়া আইসিএসবি, বাংলাদেশ ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনাল ফোরাম উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় জমির মৌজা মূল্য হালনাগাদকরণ প্রসঙ্গে আইসিএবির পক্ষ থেকে স্নেহাশিস বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে ভূমির ও ফ্ল্যাটের বাজার মূল্যের তুলনায় মৌজা মূল্য কম হওয়ায় অপ্রদর্শিত অর্থের সৃষ্টি হচ্ছে। জমির ফ্ল্যাটের মৌজা মূল্য সময় সময় হালনাগাদপূর্বক ডাটাবেজ তৈরি করা দরকার। এর মাধ্যমে এনবিআরের রাজস্ব হ্রাস এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে তিনি বলেন, মৌজা মূল্য হালনাগাদকৃত না থাকায় বিক্রয়কারীর সম্পদের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শিত হচ্ছে না। ফলে উক্ত অপ্রদর্শিত সম্পদ ও সেটা থেকে অর্জিত আয় প্রতিফলিত হচ্ছে না। অপরদিকে অনেকাংশেই উক্ত নিম্ন মৌজামূল্যের ফলশ্রুতিতে ক্রেতাদের প্রকৃত আয়ের উৎস আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত হচ্ছে না। ফলে এনবিআর সারচার্জসহ অন্যান্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রস্তাবের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, জমির প্রকৃত মূল্য মৌজায় নিয়ে আসার পক্ষে। তবে সমস্যা হচ্ছে জমি রেজিস্ট্রেশন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। আমার কর ব্যাপকহারে কমাতে চাই। ধীরে ধীরে এটা ন্যূনতম করতে চাই, সমস্যা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কি করবে। আমাদের কাজ আমরা করব।

বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশে ব্যবসা পরিচালনা করলেও অফিস না থাকায় তারা কর দিতে চায় না বলে জানান স্নেহশীষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, বিদেশি বিভিন্ন প্রজেক্টের প্রযোজ্য কর সরকারে ওপর দায় চাপানো হয়। এখানে বড় ধরনের কর ফাঁকি হয়।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যারা চুক্তি তৈরি করে তাদের বিবেচনা করা উচিত। বিদেশি প্রজেক্টগুলোতে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট। এটা সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অথচ যারা কাজ করছে তাদের দেওয়া উচিত।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, করদাতার রিটার্নে সব সম্পদ প্রতিফলিত হয় তা নিশ্চিত করতে, ইটিআইএন অবশ্যই বিআরটিএ, ভূমি রেকর্ড অফিস এবং সিটি কর্পোরেশনের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে। এই ধরনের অটোমেশন সম্ভাব্য ট্যাক্স দাখিলকারীদের ট্যাক্স জালের আওতায় আনা নিশ্চিত করবে এবং তাদের কোনো ঝামেলা ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে উৎসাহিত করবে। উপরন্তু এই ধরনের অটোমেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে করদাতা তাদের বকেয়া ট্যাক্স ক্রেডিট পেতে কোন অসুবিধার সম্মুখীন হবে না।

আইসিএবি বলছে, আইসিএবি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে ডিভিএস সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এতে করে খাতভিত্তিক মুনাফা, সেলস নির্ণয় করা সম্ভব। যার ভিত্তিতে যৌক্তিক উৎসে করের হার নির্ধারণ করা সম্ভব। বর্তমানে বহু ধারায় উৎসে কর আরোপের বিধান আছে। এর ভিতর কিছু কিছু খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব উল্লেখযোগ্য নয়। করদাতাদের ওপর এরূপ বিপুলসংখ্যক উৎসে করের পরিপালন ও হিসাব রক্ষণ করা দুরূহ।

অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও এত বিপুল সংখ্যক খাতের কর কর্তন মনিটরিং করতে অসুবিধায় পড়ছে। হিসাবরক্ষণের মানোন্নয়নের নতুন বিধানাবলির পরিপ্রেক্ষিতে আয় সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রাজস্বের জন্য উৎসে। করের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে। এ অবস্থায়, উৎসে কর কর্তনের খাতের সংখ্যা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা যেতে পারে।




মহাসড়কের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ইএফডি বাধ্যতামূলক

দেশের সব মহাসড়কে অবস্থিত ভ্যাটযোগ্য হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) অথবা সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

রোববার (২ মার্চ) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ।

এনবিআর জানায়, সারা দেশের সব মহাসড়কে অবস্থিত হোটেল রেস্তোরাঁগুলো ইলেকট্রনিক ভ্যাট চালান ইস্যু না করায় সরকারি কোষাগারে যথাযথভাবে ভ্যাট জমা হচ্ছে না বলে সচেতন ভোক্তারা অনবরত অভিযোগ করছেন। মহাসড়কের রেস্তোরাঁগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলে। অনেকে ভ্যাট আদায় করলেও সঠিকভাবে তা জমা দেন না। যথাযথভাবে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান দেশের মহাসড়কে অবস্থিত সব হোটেল ও রেস্তোরাঁতে ইএফডি/এসডিসি মেশিন বাধ্যতামূলকভাবে স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের মূসক বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে জারি করা পত্রে মাঠ পর্যায়ের কমিশনারদেরকে দেশের সব মহাসড়কে অবস্থিত হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ইএফডি/এসডিসি মেশিন স্থাপন করে প্রতিদিনের লেনদেন নিয়মিতভাবে মনিটরিং করে যথাযথ পরিমাণ ভ্যাট আদায়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জেনেক্স আইটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে গত কয়েক বছর ধরে ইএফডি মেশিন স্থাপন ও এর সার্বিক পরিচালনার মাধ্যমে আইভাস সিস্টেমে সব লেনদেনের তথ্য সন্নিবেশের কাজ করছে।

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সে লক্ষ্যে এনবিআর রাজস্ব আদায়ের জন্য নতুন নতুন করদাতা চিহ্নিতকরণ ও ভ্যাটের হার পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। এনবিআর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আইনানুগ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করদাতাদের সঙ্গে সেবামূলক মনোবৃত্তি বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। একইসঙ্গে ভোক্তাদের মহাসড়কের সব রেস্তোরাঁয় কেনাকাটা করার সময় ইলেকট্রনিক চালান বা রসিদ গ্রহণের জন্য এনবিআর বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।

ভ্যাট চালান গ্রহণ না করলে ক্রেতারা যে ভ্যাট পরিশোধ করেছেন তা সরকারি কোষাগারে জমা হবে না। প্রতি মাসে এনবিআর ইএফডি মেশিন জেনারেটেড ভ্যাটের রশিদগুলোর মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী ভ্যাটদাতাদের শতাধিক পুরস্কার দেবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।




১০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পেল অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটরের মর্যাদা

দেশের ১০ প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সনদ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক বিভাগ। ফলে এসব কোম্পানি কাস্টমসের প্রক্রিয়া সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে।

রোববার এনবিআর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের হাতে এইও সনদ তুলে দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, এই লাইসেন্স ব্যবসায় নতুন কোনও বাধা তৈরি করার পরিবর্তে কোম্পানিগুলোর গুড প্র্যাকটিসকে উৎসাহিত করবে। এই লাইসেন্স তারাই পাবেন যাদের ভোক্তা অধিকার, ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স, গভর্নেন্স, ইত্যাদি ব্যাপারে শক্ত ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। উন্নতবিশ্বে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটরের ধারণাটি বেশ কমন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার এই কনসেপ্ট কাগজে-কলমে চালু করলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কখনও বাস্তবিক অর্থে এই সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারেনি।

অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটরের মর্যাদা পেয়েছে ইউনিলিভার, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, জিপিএইচ ইস্পাত, বিএসআরএম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স, এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট, টোয়া পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ডিভাইস।




ভ্যাট বিষয়ক বাজেট প্রস্তাব চেয়েছে এনবিআর

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ভ্যাটসহ সংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী ও অংশীদারত্বমূলক করতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

৬ মার্চের মধ্যে বিভিন্ন চেম্বার ও বণিক সমিতিগুলোকে ছক তৈরি করে এনবিআরের ভ্যাট নীতি শাখার কাছে (হার্ড কপি) সুপারিশ ও প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

হার্ডকপির পাশাপাশি সরাসরি ই–মেইলের (vatpolicy@gmail.com ) মাধ্যমেও প্রস্তাব–সুপারিশ পাঠানো যাবে।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর জানায়, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি, চেম্বার ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো চিঠিতে মোট তিনটি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হচ্ছে – মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ ও এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্ট ১৯৪৪।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সম্প্রতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও অংশীদারত্বমূলক করার লক্ষ্যে ওই প্রস্তাবনা চাওয়া হয়।
এনবিআরের চিঠিতে ব্যবসায়ীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ভ্যাটসহ অন্যান্য পরোক্ষ করসংক্রান্ত আইন-বিধির ওপর সুচিন্তিত মতামত, প্রস্তাব ও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।




আগামী বাজেটে প্রত্যক্ষ কর বিষয়ক প্রস্তাব চেয়েছে এনবিআর

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট আয়করসহ অন্যান্য প্রত্যক্ষ করকে যুগোপযোগী ও অংশীদারত্বমূলক করতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যে বিভিন্ন চেম্বার ও বণিক সমিতিগুলোকে ছক তৈরি করে এনবিআরের করনীতি শাখার কাছে (হার্ড কপি) সুপারিশ ও প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। হার্ডকপির পাশাপাশি সরাসরি ই–মেইলের (taxpolicynbr@gmail.com) মাধ্যমেও প্রস্তাব–সুপারিশ পাঠানো যাবে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর জানায়, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি, চেম্বার ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো চিঠিতে মোট চারটি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হচ্ছে ২০২৩ সালের আয়কর আইন, ২০২৪ সালের উৎসে কর বিধিমালা ও অন্যান্য বিধিমালা, ২০০৩ সালের ভ্রমণ কর আইন এবং ১৯৯০ সালের দান কর আইন। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও অংশীদারত্বমূলক করার লক্ষ্যে ওই প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে।

 

এনবিআরের চিঠিতে ব্যবসায়ীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আয়করসহ অন্যান্য প্রত্যক্ষ করসংক্রান্ত আইন-বিধির ওপর সুচিন্তিত মতামত, প্রস্তাব ও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।




আগামী বাজেটে প্রত্যক্ষ কর বিষয়ক প্রস্তাব চেয়েছে এনবিআর

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট আয়করসহ অন্যান্য প্রত্যক্ষ করকে যুগোপযোগী ও অংশীদারত্বমূলক করতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যে বিভিন্ন চেম্বার ও বণিক সমিতিগুলোকে ছক তৈরি করে এনবিআরের করনীতি শাখার কাছে (হার্ড কপি) সুপারিশ ও প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। হার্ডকপির পাশাপাশি সরাসরি ই–মেইলের (taxpolicynbr@gmail.com) মাধ্যমেও প্রস্তাব–সুপারিশ পাঠানো যাবে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর জানায়, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি, চেম্বার ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো চিঠিতে মোট চারটি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হচ্ছে ২০২৩ সালের আয়কর আইন, ২০২৪ সালের উৎসে কর বিধিমালা ও অন্যান্য বিধিমালা, ২০০৩ সালের ভ্রমণ কর আইন এবং ১৯৯০ সালের দান কর আইন। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও অংশীদারত্বমূলক করার লক্ষ্যে ওই প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে।

এনবিআরের চিঠিতে ব্যবসায়ীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আয়করসহ অন্যান্য প্রত্যক্ষ করসংক্রান্ত আইন-বিধির ওপর সুচিন্তিত মতামত, প্রস্তাব ও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।




টিআইএন থাকার পরও রিটার্ন দাখিল না করলে নোটিশ : এনবিআর

কর শনাক্ত নম্বর বা টিআইএন থাকার পরও যারা দীর্ঘদিন রিটার্ন দাখিল করছেন না, তারা শিগগিরই নোটিশ পাবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম; বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান শীর্ষক নীতি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যারা রিটার্ন দাখিল করছেন না, তাদের কোনো সমস্যায়ও পড়তে হচ্ছে না। তাই আমরা এ বিষয়ে এনফোর্সমেন্টে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ীই ভ্যাট চালান দিতে চান না। আমাদের নাগরিকরা বিদেশে গিয়ে আইন ভঙ্গ করছেন না। কিন্তু, দেশে আমরা আইন মানি না। তার মানে, এ সমস্যার সমাধান করতে আইনের প্রয়োগ করা হয় না, এটাই সমস্যা।

বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, অর্থনীতিবিদ, লেখক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন চেয়ারপারসন এএইচএম আহসান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন চেয়ারম্যান (সচিব) ড. মইনুল খান, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলিম আখতার খান, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




এলপিজির ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ

অবশেষে এলপি গ্যাস উৎপাদনে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ভ্যাট আদায় নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এনবিআরের মূসক আইন ও বিধি বিভাগ থেকে এক বিশেষ আদেশে স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে। নতুন আদেশে সাড়ে সাত শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা ৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

অর্থাৎ এনবিআরের নির্দেশনার পর এলপি গ্যাসের উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ হলো।

এ বিষয়ে ভ্যাট বিভাগের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ৯ জানুয়ারি শতাধিক পণ্যে শুল্ক, কর ও ভ্যাট জারি করার অধ্যাদেশে দেখা যায়, তফশিলভুক্ত পণ্য থেকে এলপি গ্যাসকে বাদ দেওয়া হয়। তফশিলভুক্ত থাকা অবস্থায় এলপি গ্যাসের উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল, তবে আড়াই শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া ছিল। কিন্তু আইন অনুযায়ী তফশিল থেকে ওই পণ্য বাদ দেওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে (১৫ শতাংশ) ভ্যাট প্রযোজ্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কমিশনারেট কত আদায় করবে এবং ব্যবসায়ীরা কত শতাংশ ভ্যাট দেবে তা নিয়ে জটিলতার ছিল, সে বিষয়ে এনবিআর বিশেষ আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে।

এনবিআরের বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমানে এলপি গ্যাস বাসাবাড়িতে রান্নার জ্বালানি, অটোগ্যাস স্টেশনে যানবাহনের জ্বালানি এবং বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর বর্তমানে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস অপ্রতুল হওয়ার কারণে পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন প্রকার শিল্প কারখানায় এলপি গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলপি গ্যাসের উৎপাদন ও ব্যবহার সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী উৎপাদন পর্যায়ে এলপি গ্যাসে সাড়ে ৭ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দিয়েছে।

নতুন আদেশের পর শিল্প কারখানার উদ্যোক্তা ও বাসা-বাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীরা এলপি গ্যাসের দাম বাড়ার শঙ্কার রয়েছেন বলে জানা গেছে।




সুরক্ষা দেওয়ার দিন কিন্তু চলে গেছে, ব্যবসায়ীদের অর্থ উপদেষ্টা

কর ও নীতি সুবিধা পেয়েও দেশীয় শিল্প এখনো শিশুই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা কিছুদিন ব্যবসা করার পর বলেন আমাদের কর অব্যাহতি দেন। শারীরিকভাবে বড় হয়ে গেছে তারপরও এখনো সুরক্ষা চাচ্ছে তারা। এই সুরক্ষার দিন কিন্তু চলে গেছে।

ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সেমিনারে তিনি ব্যবসায়ীদের এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হক প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

শিল্প বা ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ না করে সালেহউদ্দিন বলেন, আমরা ৫০ বছর যাবত বহু শিশুকে লালন করেছি কর অব্যাহতি ও নানান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। আর কতকাল শিশুদের লালন করবো।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব সুরক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে, প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবো না।

কর, মূসক ফাঁকি দিলে সার্বিক অর্থনীতিতে একটা প্রভাব পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাতাসংস্থাগুলো ট্যাক্স, জিডিপি রেশিও কর অব্যাহতি নিয়ে প্রশ্ন করছে। বিদেশের বহু জায়গায় বাংলাদেশে ট্যাক্স রেভিনিউ, সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বহু প্রশ্ন করা হয়।

কর্মকর্তাদের আরও বেশি বন্ধুসুলভ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, একেবারে জোর করে আদায় করবেন। যদি অসুবিধা হয় শুনবেন। কমপ্লায়েন্স করতে একটু সহযোগিতা করবেন। বিশেষভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের বিষয় সরকার বিবেচনা করবে।

এই উপদেষ্টা আরও জানান, ব্যবসায়ীরা তার কাছে এনবিআরের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ নিয়ে আসে। যদিও এনবিআরের অনেক সীমাবদ্ধতা ও ম্যান্ডেট আছে বলে ব্যবসায়ীদের মনে করিয়ে দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা আমার কাছে গেলেই এনবিআর নিয়ে অভিযোগ করে। আমি যখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ছিলাম তখনও তারা অভিযোগ করতো। আমাদের এটা করতে হবে, ওটা করছে না। এনবিআরের সীমাবদ্ধতা আছে। তাদের কতগুলো ম্যান্ডেট আছে। চাইলেই সব তো দিয়ে দেওয়া যাবে না। নাথিং ইজ ফ্রি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। বিনা পয়সায় কোনো কিছু, পশ্চিমা দেশে বাবা-মাও সন্তান একটু বড় হলে টাকা-পয়সা দেয় না। বিনা পয়সায় কিছুই দেয় না।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলে প্রায়োরিটি খাতে খরচ কমানো হবে বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জের মুখে আছি। ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও, কর ও ভ্যাট বাড়ানোর কথা বলছি, খরচ কমানোর কথা বলছি। আবার ওইদিকে বলছি প্রায়োরিটি সেক্টরে খরচ কমাবো না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যাতায়াতে খরচ কম হবে না। আমরা টাকা কোথায় পাবো। ওখানে বাড়াতে হলে আমাদের রাজস্ব আদায় করতে হবে তো। এটা আমাদের বিবেচনায় আছে। মানুষের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিও আছে।

ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়ানোকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, নানা কারণে শুল্ক থেকে বাড়ানোর খুব বেশি সুযোগ নেই। কারণ এর প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়ে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর যে পরামর্শগুলো আছে সেগুলো মেনে শুল্ক বাড়ানোর খুব বেশি সুযোগ নেই। আমাদেরর মূল উৎস হচ্ছে মূসক ও আয়কর।

ব্যবসায়ীরা সরকারের পক্ষে মূসক সংগ্রহ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, এই দায়িত্ব পালনে ব্যাপক ঘাটতি আমরা দেখতে পাই। অনেক সময় গ্রাহক ভ্যাট দিতে চান, তারা রসিদ চান কিন্তু ব্যবসায়ীরা গড়িমসি করেন। এমন অভিযোগ আছে গ্রাহক ভ্যাট দিয়েছেন কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেননি। এই জায়গায় আমাদের কাজ করার সুযোগ আছে।

মূল প্রবন্ধে মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর আমূল বদলে গেছে রাজস্ব প্রশাসনের চিত্র। রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে বড় সংস্কারে পথে হাঁটছে এনবিআর। ৫ আগস্টের পর মূসক নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৪টি নিরীক্ষা শেষ করে ১৫৯ দশমিক ৬৬ কোটি টাকার মূসক ফাঁকি উদঘাটন করেছে। আদায় করেছে ৬১ দশমিক ১৬ কোটি টাকা। ভ্যাট অণুবিভাগ গত ৩ মাসে ৯ হাজার ৮২৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান, ভ্যাট আইন ও বিধি সংস্কারে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভ্যাট আদায়ে সঠিক পরিসংখ্যানের অভাব, করদাতার সন্তুষ্টি, কর সংস্কৃতির অভাব, নিম্ন দেশজ উৎপাদনশীলতা ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অটোমেশনের পথে হাঁটছে ভ্যাট বিভাগ।

ভ্যাট প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মানুষের মধ্যে ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতা কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা।

ভ্যাটের আওতা বাড়াতে ভ্যাটের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভ্যাটের হার কমিয়ে আওতা বাড়ানো যায় কি না সেটা দেখা যেতে পারে। যদি ভ্যাটের হার কমে তাহলে এর আওতা বাড়বে। তিনি সেবা খাতে ভ্যাট কমানো ও নতুন ব্যবসা যারা শুরু করেন তাদের ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ দেন।




পেট্রোবাংলার বকেয়া ৩৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ে এনবিআরের চিঠি

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কাছে বকেয়া ৩৫ হাজার ৮৬২ কোটি পাওনা রাজস্ব আদায়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

রোববার (১০ নভেম্বর) অর্থবিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান
এই চিঠি দিয়েছে। যেখানে এনবিআরের বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করতে পেট্রোবাংলাকে ঋণ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়, এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিউ) ভ্যাটের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সংস্থাটির বকেয়ার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধে এনবিআর ও পেট্রোবাংলার মধ্যে বেশ কয়েকবার সভা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির উত্তোলন করা গ্যাস বিতরণের বকেয়া ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ভ্যাটও দীর্ঘদিন পরিশোধ না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই জটিলতা কাটাতে চলতি বছরের জুনে অর্থ বিভাগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় এনবিআরকে টাকা পরিশোধের শর্তে বিনা সুদে পেট্রোবাংলাকে তিন অর্থবছরে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যেমন- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ হাজার কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ঋণ হিসাবে অর্থ বিভাগ পেট্রোবাংলাকে দেবে। এরই মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বকেয়া রাজস্ব পরিশোধের জন্য পেট্রোবাংলাকে ৫ হাজার কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ অনুমোদন করে।পেট্রোবাংলার ভ্যাট ফাঁকি ২৩ হাজার …চিঠিতে চলতি অর্থবছরে পূর্বনির্ধারিত পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করে এনবিআর।

চিঠিতে আরও বলা হয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে সরকারের রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে সচেষ্ট রয়েছে এনবিআর। এ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিভিন্ন অংশীজনের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআরের জন্য ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তন্মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন করের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৭ হাজার ছয় শত কোটি টাকা। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এবং জনসেবার মাত্রা ও পরিমাণ বৃদ্ধিকল্পে অধিক রাজস্ব জোগান দেওয়ার অন্যতম কৌশল হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি কোম্পানি কর্তৃক উত্তোলিত গ্যাস বিতরণের বিপরীতে বকেয়া ভ্যাট বাবদ ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা দীর্ঘদিনেও পরিশোধ না করার জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উপস্থিতিতে গত ৪ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, পেট্রোবাংলার আওতায় গ্যাস বিতরণ কোম্পানিসমূহ আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি (আইওসি) কর্তৃক উত্তোলিত গ্যাস বিতরণের বিপরীতে আহরিত মূসক ও সম্পূরক শুল্ক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পরিশোধ না করার কারণে জুলাই ২০০৯ হতে জানুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত রাজস্ব বকেয়া বাবদ ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা (সুদ ছাড়া) ৩ অর্থবছরে পরিশোধের সুবিধার্থে অর্থ বিভাগ বিনা সুদে পেট্রোবাংলাকে ঋণ প্রদান করবে।

ওই চিঠিতে ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বকেয়া ২২ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অনুরোধ করা হয়নি বলে জানা গেছে। তবে বকেয়া ভ্যাট আদায়ের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 




দাম কমাতে পেঁয়াজ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

দেশের অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য পেঁয়াজের দামের লাগাম টানতে কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক এবং রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বুধবার (৬ নভেম্বর) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে ৩১ অক্টোবর পেঁয়াজের দামের লাগাম টানতে পেঁয়াজ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য পেঁয়াজের দামে পুনরায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যা সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে পেঁয়াজের স্থানীয় চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ লাখ মেট্রিক টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন দ্বারা দেশের চাহিদার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকার বর্তমানে ২০ শতাংশ হারে রপ্তানি শুল্কারোপ করেছে। দেশে প্রয়োজনীয় চাহিদাপূরণ ও ঊর্ধ্বমুখী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি করা আবশ্যক হয়ে পেড়েছে। সেই কারণে আমদানি ব্যয় হ্রাসের জন্য শুল্ক কমানোর সুপারিশ করে ট্যারিফ কমিশন।




প্রথম ৩ মাসে রাজস্ব ঘাটতি সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা

বৈশ্বিক মন্দা কিংবা দেশে চলমান নানা সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে। ব্যবসারের শ্লথ গতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দেশের রাজস্ব আহরণের ওপরও।

যার প্রমাণ চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে জুলাই-সেপ্টেম্বরে আয়কর, মূসক বা ভ্যাট ও শুল্ক আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৫ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক (- ৬.০৭ শতাংশ)।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৯৬ হাজার ৪৯৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। যার বিপরীতে রাজস্ব আদায় ৭০ হাজার ৯০২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ২৫ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিগত তিন মাস ধরেই দেশে সবচেয়ে সংকট সময় অতিক্রম করছে। সরকার পরিবর্তনের পরও আবার ব্যবসা–বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যে কারণে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় করা যায়নি। সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাবে বলে মনে করছি।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, তিন মাসের মধ্যে অর্থবছরের জুলাই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২০ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম মাসেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি।

পরের মাস আগস্টেও একই অবস্থা দেখা গেছে। ওই মাসে ৩১ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। ওই মাসে রাজস্ব আয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়।

সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩৯ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ২ কোটি টাকা। এই মাসেও রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তিন মাসে আয়কর খাতে ঘাটতি হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো। এই খাতে আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এ সময়ে আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ কোটি টাকা কম।

অন্যদিকে আমদানি খাতে তিন মাসে ২৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে আদায় হয়েছে ২২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এই খাতে ঘাটতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে দেড় হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে।

গত জুলাই-সেপ্টেম্বরে ভ্যাট বা মূসক আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৮ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। ভ্যাট আদায় হয়েছে ২৫ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। এ সময়ে এই খাতের লক্ষ্য ছিল ৩৪ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে তিন হাজার কোটি টাকার মতো কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেটে মোট ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। যা জিডিপির ৯.৭ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। আর অন্যান্য উৎস থেকে ৬১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর থেকে আসবে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, ভ্যাট থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ কোটি, সম্পূরক শুল্ক ৬৪ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা, ৪৯ হাজার ৪৬৪ কোটি, রপ্তানি শুল্ক ৭০ কোটি, ৫ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা ও অন্যান্য কর থেকে আসবে ১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।




চিনি আমদানিতে শুল্ক-কর কমালো এনবিআর

চিনির বাজার দর সহনীয় ও স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির ওপর বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ।

বুধবার (৯ অক্টোবর) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে শিশু খাদ্যসহ কতিপয় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণপূর্বক কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, রেগুলেটরি ডিউটি ১৫ শতাংশ হ্রাসের মাধ্যমে আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি অপরিশোধিত চিনির ওপর শুল্ক কর ১১.১৮ টাকা এবং পরিশোধিত চিনির ওপর শুল্ক কর ১৪.২৬ টাকা কমানো হয়েছে। এতে চিনির কেজি প্রতি মূল্য কমপক্ষে শুল্ক হ্রাসের সমপরিমাণ কমে আসবে বলে মনে করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

এই শুল্ক কর হ্রাসকরণের ফলে অবৈধ পথে চিনির চোরাচালান নিরুৎসাহিত হবে এবং বৈধ উপায়ে আমদানি বাড়বে বিধায় শুল্ক কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

বাজারে চিনির দাম স্বাভাবিক ও সাশ্রয়ী মূল্য ধরে রাখতে গত ৫ অক্টোবর অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে শুল্ক কমানোর সুপারিশ করে বাংলাদেশ ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রেড কমিশন। চিঠিতে আপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনি আমদানিতে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ৩০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার সুপারিশ করে প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে ট্যারিফ কমিশন শুল্ক কমানোর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তির উপস্থাপন করা হয়।




ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কর কমিশনার বরখাস্ত

করদাতা থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আয়কর কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম আকন্দকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খানের সই করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম আকন্দ বর্তমানে চট্টগ্রাম কর আপিলাত ট্রাইব্যুনাল, দ্বৈত বেঞ্চের সদস্য হিসেবে কর্মরত। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাকে কর অঞ্চল-৭, ঢাকার কর কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর নিজ কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ ধারা মোতাবেক তাকে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন বিধিমোতাবেক তিনি খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এনবিআরের একাধিক সূত্র মতে, চট্টগ্রামের কর আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছিলেন শফিকুল ইসলাম আকন্দ। সম্প্রতি এক করদাতা তার বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি এনবিআরকে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হলো।

এর আগে করদাতাদের হয়রানির কারণে রাজশাহী থেকে খুলনায় বদলি করা হয় তাকে। সর্বশেষ তাকে চট্টগ্রাম আপিলাত ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়। তিনি বিসিএস ১৩ ব্যাচের আয়কর ক্যাডারের কর্মকর্তা।




কর কমিশনার পদে ১৫ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের ১৫ অতিরিক্ত কর কমিশনারকে পদোন্নতি দিয়ে কর কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত জাহান নিসু সই করা আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে চিঠি ইস্যু করে পদায়নের জন্য এনবিআরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- অতিরিক্ত কর কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অঞ্জন কুমার সাহা, গনেশ চন্দ্র মন্ডল, আয়েশা সিদ্দিকা শেলী, বিপ্লব কান্তি দাস, মুন্সী হারুনুর রশিদ, শেখ মো. মনিরুজ্জামান, মুহাম্মদ আমিনুর রহমান, সাধন কুমারা রায়, মো. আবু সাঈদ সোহেল, লুৎফুন্নাহার বেগম, মো. শব্বির আহমেদ, রুখসানা হক ও শাওন চৌধুরী।

অন্যদিকে, এনবিআরের অপর আদেশে চার উপ কর কমিশনারকে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।




নতুন চেয়ারম্যান এনবিআরে যেন আর কোনো দুর্বৃত্ত তৈরি না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, কোনো দুর্বৃত্ত যেন তৈরি না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

 

রোববার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান।

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের সুযোগ, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। যেখানে যা করা দরকার, সেখানে আমাদের সেটা করতে হবে। সবচেয়ে বেশি ফোকাস পাবে এনবিআরে এ ধরনের দুর্বৃত্ত যেন তৈরি না হয় তার দিকে। সে বিষয়ে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটাই বেশি জরুরি। এরকম যেন আর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন তৈরি না হয়।

 

তিনি বলেন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগ নিয়ে টাস্কফোর্স করা হবে। সেখানে যেকোনো পর্যায় থেকে অংশগ্রহণ ও কাজ করতে হবে। অন্যায়, অবিচার যেগুলো ধরা পড়বে বা যেগুলোর ইঙ্গিত আসবে, প্রত্যেকটাই অত্যন্ত শক্ত হাতে দেখব। খুব কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ জায়গায় কোনো ব্যত্যয় হবে না। তবে ধীরে ধীরে সব হবে। দুর্নীতিবাজদের খুব শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে। যদি তারা নিজেদের পরিবর্তন করতে না পারে তাহলে তারা থাকবে না।

আইনের বাইরে যাব না– মন্তব্য করে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, একজন ব্যক্তি বলল সব হয়ে গেল। আইনকানুন এক পাশে রেখে এভাবে হবে না। আমরা নিয়ম অনুযায়ী চলব। নিয়ম না থাকলে, নিয়ম বানাব। কিন্তু নিয়ম বা আইনের বাইরে যাব না।

অর্থপাচার রোধে এনবিআর কাজ শুরু করছে জানিয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা স্ট্রংলি এটা দেখছি। তবে একটু সময় দিতে হবে। আমরা এখনই একেবারে হুড়মুড় করে পড়ব না। নীতিগত সমস্যার কারণে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ পাওয়া যায়নি, এখানে পরিবর্তন আনতে হবে। এনবিআরের নেতিবাচক ইমেজ আছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের যেই স্পিরিট, দুর্নীতি মুক্ত ও বৈষম্য মুক্ত সমাজ গড়া, এটা আমাদের ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ইমেজ সংকট আছে যে আমরা তথ্য ঠিকভাবে সংগ্রহ করতে পারি না। যা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অডিট অধিদপ্তরের সঙ্গে গরমিল দেখা যায়। এখন থেকে এ বৈষম্য দূর করা হবে। আইবাস থেকে তথ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সমন্বিত তথ্য পরিবেশন করা হবে। রাজস্ব আহরণের একটাই ফিগার হবে।

এনবিআরে সংস্কার প্রসঙ্গে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, এনবিআর অটোমেশন করা হবে, এটাই আমার মূল কাজ। টোটাল ফাংশনকে অটোমেশন করতে পারলে হিউম্যান টাচ কমাতে পারলে সবাই এর সুবিধা পাবে। আমাদের আইনে কিছু দুর্বলতা আছে। আইন প্রয়োগেও কিছু দুর্বলতা আছে, ঘাটতি আছে। সে কারণে আমাদের রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে, সেখানেও কাজ করতে হবে।

কালো টাকা সাদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো এটা অত্যন্ত অশোভন কাজ। টোটালি আন এক্সেপ্টেবল। কালো টাকা সাদা করার মাধ্যমে দুর্নীতিকে স্বীকার করে নিচ্ছি। সৎ কর্মকর্তাকে ডিমোরালাইজড করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার বিরোধিতা করি।

রাষ্ট্রের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনি জটিলতা তৈরি হলে আমি বলব রাষ্ট্রের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে। এনবিআর কর আদায়ে কাজ করে কিন্তু রাষ্ট্র হিসেবে শুধু ট্যাক্সের কথা চিন্তা করলে হবে না, সেখানে জনকল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে বলেও জানান আবদুর রহমান খান।




মতিউর পরিবারের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের চারটি ফ্ল্যাট ও ৮৬৬ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন সম্পত্তি জব্দের আবেদন করেন।

চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে মতিউরের স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে বসুন্ধরায় তিনটি ফ্ল্যাট ও শাম্মী আখতার শিভলীর নামে জিগাতলায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

জব্দ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে মতিউরের নামে ১১৪ শতাংশ / ৬৯ কাঠা জমি, তার স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে ৫২২ শতাংশ জমি, ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে ২৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে। এ ছাড়া মেয়ে ফারজানা রহমান ইস্পিতার নামে বসুন্ধরায় পাঁচ কাঠা প্লট এবং শাম্মী আখতার শিভলীর নামেও পাঁচ কাঠা প্লট রয়েছে।

দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ৪টি ফ্লাট ও ৮৬৬.শতাংশের জমি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।