ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে যুক্ত হতে আগ্রহী এডিবি

উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বাস্তবায়িত হতে যাওয়া ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে যুক্ত হতে আগ্রহী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশ সফররত সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

সোমবার (২৫ মে) প্রতিনিধিদলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনার পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবির প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও এডিবির মধ্যে বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়।

আমির খসরু বলেন, এরই মধ্যে বাজেট সহায়তাসহ কয়েকটি প্রকল্পে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে একাধিক গ্রোথ সেন্টার, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ডিজিটাল উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার সঙ্গে বাইরের উৎস থেকেও সমপরিমাণ অর্থায়ন আসতে পারে।

এছাড়া, দেশের পুঁজিবাজারে এডিবির সহযোগিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতেও সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে বলে জানান তিনি।




বাংলাদেশকে এডিবির ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে নতুন উদ্যোগ

দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ সহায়তা সরকারের চলমান সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এডিবির ‘সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর সাবপ্রোগ্রাম-২-এর আওতায় এ অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা, আওতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য ও ঝুঁকিপূর্ণতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রূপে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক স্কিম চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।

কর্মসূচির আওতায় নতুন অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি রাজস্বের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত নারীকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।

এছাড়া জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগ ক্ষুদ্র পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।




শিক্ষার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিউম্যান অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক জি সুন সং-এর সাথে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এডিবির চলমান সহযোগিতা প্রশংসার দাবিদার৷ আমরা আশা করছি ভবিষ্যতেও এসব সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে এডিবির চলমান ও সম্ভাব্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির সঙ্গে এডিবির সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এডিবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বেজা ও এডিবির চুক্তি সই

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পিপিপি পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বেজা ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফেনী অংশে সোনাগাজী উপজেলায় ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

রোববার (২৯ জুন) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এ তথ্য জানায়। বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং। এছাড়া সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেজা জানায়, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পিপিপি পদ্ধতিতে গ্রাউন্ড মাউন্টেড সোলার (১০০-২০০ এমডব্লিউ) পিভি প্রকল্প স্থাপনের লক্ষ্যে টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের জন্য বাংলাদেশ বেজা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে আজ একটি ট্রান্সসেকশন অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট (টিএএসএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়াও এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাথে উভয়পক্ষের একটি সারসংক্ষেপ স্বাক্ষরিত হয়। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই ‘গ্রিন ইকোনমিক জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই চুক্তির আওতায় জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফেনী অংশে সোনাগাজী উপজেলায় ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর ফটোভোল্টেইক (পিভি) এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) সমন্বিত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

বেজা আরও জানায়, এই প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশে বাস্তবায়িত প্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোতে পরিচালিত হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫ অনুসরণে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। যা দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এই প্রকল্পটি বেজা তথা বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। এটি পিপিপি কাঠামো অনুসরণে দেশের প্রথম সোলার প্রকল্প। যা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে সফলভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এডিবিকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। তিনি এডিবিকে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমীক্ষা সমাপ্ত করে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরার জন্য অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সরকার ঘোষিত ‘জিরো নেট কার্বন এমিশন’ বাস্তবায়নে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করেই শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পথ তৈরির জন্য বেজা সচেষ্ট হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। যেখানে এদেশে প্রথমবারের মত ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এটি বিদ্যুৎ গ্রিডে ক্লিন এনার্জি সরবরাহ করবে এবং সেই সাথে একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে।

এর ফলে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




 এডিবির কাছে চার খাতে সহযোগিতা চাইলেন অর্থ উপদেষ্টা

ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু কার্যক্রম, আঞ্চলিক সংযোগ এবং টেকসই অর্থায়ন- এই চার খাতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে উন্নততর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

ইতালির মিলানে এডিবি’র ৫৮তম বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ তিনি এ আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এডিবির বার্ষিক সভায় বাংলাদেশে ডিজিটাল সমতা, জলবায়ু অর্থায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল রূপান্তর, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আঞ্চলিক সংযোগের ওপর জোর দেন।

সভায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ অন্য সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অর্থ উপদেষ্টা এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা ও অন্যান্য প্রতিনিধির উদ্দেশে বলেন, নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের পথে এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সংকটপূর্ণ সময়ে শুধু অর্থায়ন নয়, কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এডিবির ভূমিকা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উপদেষ্টা চারটি প্রধান খাতে এডিবির কাছে উন্নততর সহযোগিতার আহ্বান জানান। এর মধ্যে রয়েছে-

>> ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি- অবকাঠামো, ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণে সহায়তা বাড়ানো।

>> জলবায়ু কার্যক্রম- নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু-বান্ধব কৃষি এবং উপকূলীয় সুরক্ষার জন্য বেশি পরিমাণে ছাড়যুক্ত অর্থায়ন আহ্বান।

>> আঞ্চলিক সংযোগ- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, শক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার পরামর্শ।

>> টেকসই অর্থায়ন- ঋণ টেকসইতা বজায় রেখে উন্নয়ন চাহিদা পূরণের জন্য ছাড়যুক্ত তহবিল ও উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আজকের সংকটকে আগামীর সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হলে আমাদের সাহসী চিন্তাধারা, গভীর অংশীদারত্ব ও সম্মিলিত সংকল্পের প্রয়োজন। এই বছরের প্রতিপাদ্য ‘অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, আগামীর প্রস্তুতি’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। গত পাঁচ দশকে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে আনুমানিক ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে, যা মূলত দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আর্থিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের মূল উন্নয়ন অগ্রাধিকারের প্রতি- যেমন জলবায়ু সহনশীলতা, মানবিক সহায়তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি- সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ২০২২ সালের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কৌশল অনুসারে কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, জলবায়ু অর্থায়ন, এসএমই উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রশাসন এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সবুজ বিনিয়োগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, নদী পুনরুদ্ধার, বেসরকারি খাত, কারিগরি সহায়তা, পয়ঃনিষ্কশন ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং যৌথ গবেষণায় সহায়তার আহ্বান জানায়।




এডিবির কাছে চার খাতে সহযোগিতার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল সমতা, জলবায়ু অর্থায়ন, আঞ্চলিক ও টেকসই অর্থনীতিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৫৮তম বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

মিলানে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ অন্য সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের পথে এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সংকটপূর্ণ সময়ে শুধু অর্থায়ন নয়, কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এডিবির ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চারটি প্রধান খাতে এডিবির কাছে উন্নততর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি-অবকাঠামো, ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ; কার্যক্রম- নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু-বান্ধব কৃষি এবং উপকূলীয় সুরক্ষার জন্য বেশি পরিমাণে ছাড়যুক্ত অর্থায়ন; আঞ্চলিক সংযোগ- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, শক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা এবং টেকসই অর্থায়ন- ঋণ টেকসইতা বজায় রেখে উন্নয়ন চাহিদা পূরণের জন্য ছাড়যুক্ত তহবিল ও উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের সংকটকে আগামীর সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হলে আমাদের সাহসী চিন্তাধারা, গভীর অংশীদারিত্ব ও সম্মিলিত সংকল্পের প্রয়োজন। এই বছরের প্রতিপাদ্য ‘অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, আগামীর প্রস্তুতি’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

এদিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। গত পাঁচ দশকে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে আনুমানিক ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে, যা মূলত দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আর্থিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বৈঠকে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের মূল উন্নয়ন অগ্রাধিকারের প্রতি যেমন– জলবায়ু সহনশীলতা, মানবিক সহায়তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি- সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ২০২২ সালের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কৌশল অনুসারে, এফসিডিও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, জলবায়ু অর্থায়ন, এসএমই উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রশাসন এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সবুজ বিনিয়োগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, নদী পুনরুদ্ধার, বেসরকারি খাত, কারিগরি সহায়তা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং যৌথ গবেষণায় সহায়তার আহ্বান জানায়।




এডিবি ও আইএমএফের সহায়তা না পেলেও বাস্তবসম্মত বাজেট করা হবে :অর্থ উপদেষ্টা

এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর বাজেট সহায়তা না পেলেও একটি ম্যানেজেবল এবং বাস্তবসম্মত বাজেট করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

রোববার (৪ মে) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) মি. ইংমিং ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসে আমাদের ইকোনোমির অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন, আমরা বলেছি, ইকোনমির অবস্থা আগের চেয়েও বেটার। আমাদের মাইক্রো ইকোনমিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে অনেক সংস্কার করেছি, সবচেয়ে বড় বিষয় যেটা সেটা হলো ‘ট্রেড’। এ বিষয়ে বেসরকারি খাতে একটি সামিট অনুষ্ঠিত হবে ।

তিনি বলেন, আমাদের যে বিনিয়োগ সামিট হয়েছে, সেটার প্রশংসা করেছে তারা, এডিবি এখন আমাদের অবকাঠামোর উন্নয়নে সহায়তা করছে এটা তারা করতেই থাকবে।
এডিবি বলছে, প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য ঢাকাতে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করার কথা বলেছে।

আইএমএফ লোন ইস্যুতে বিলম্ব হওয়াতে এডিবির বাজেট সাপোর্টে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজেট সাপোর্টের বিষয় তারা আইএমএফ বিষয়টা দেখে, সেখানে তারা মাইক্রো ইকোনমির বিষয় জানতে চেয়েছে, এ বিষয় আমরা আলোচনা করছি, আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে।

আমাদের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে এডিবির সন্তুষ্টি কেমন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এডিবি বলেছে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অর্থনীতি ভালো করছে, এক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী আমাদের অর্জন নিয়ে তারা খুশি। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি, এটাও তারা জানে, আমরা তাদের বলেছি, গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে এডিবি খেয়াল রাখছে, তারা আমাদের প্রকল্প সহায়তাসহ ব্যাংকিং খাত ও এনবিআরে যে সংস্কারগুলো আছে সেগুলোতে সহায়তা করবে।

আমাদের প্রকল্প সহায়তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন বাজেট সাপোর্ট, সেক্ষেত্রে এডিবিকে শর্ট টার্মে কোনো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাজেট সাপোর্টের একটা বিষয় আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, তাদের সফট ল্যান্ডিয়ের উইন্ডো আস্তে আস্তে উন্মোচিত হচ্ছে। তবে আমরা এটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, বাজেট সহায়তায় আমরা তাদের বলেছি ‘ওসিএফ’ ফান্ড থেকে সহায়তা করতে, কিন্তু তারা বলেছে এ ফান্ড তো লিমিটেড, তবে আমরা এটা দেখব।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয় বাজেট সাপোর্টের জন্য আমরা কর বাড়াচ্ছি, করের পরিধি বাড়াচ্ছি, বাজেট সাপোর্ট নিয়ে যদি আইএমএফ অযৌক্তিক কিছু শর্ত দেয়, তাহলে আমরা সেটা দেখবো, আমাদের মূল ফোকাস হলো বাজেটে খরচ কমানো; দক্ষতা বাড়ানো। আমরা যদি আইএমএফ ও এডিবির সাপোর্ট নাও পাই তাও বাজেট দেব।

 




৩০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন ঘোষণা করেছে এডিবি

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৩০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে। যা এডিবি সদস্যভুক্ত দেশগুলো পাবে। ফলে বাংলাদেশও সুবিধা পাবে। নানান প্রকল্পে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এডিবি অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে।

রোববার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় সহায়তা ২৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এডিবি। ফলে ২০২২-২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা উদ্যোগের জন্য মোট তহবিল ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।

এ সহায়তা কৃষিকাজ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে শুরু করে বিতরণ ও ব্যবহার পর্যন্ত সমগ্র খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াজুড়ে একটি বিস্তৃত কর্মসূচির তহবিল সরবরাহ করবে।

মিলানে এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সভায় এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেন, খরা, বন্যা, চরম তাপ এবং অবক্ষয়িত প্রাকৃতিক সম্পদ কৃষিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ জীবিকাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। এ সম্প্রসারিত সহায়তা দেশগুলোকে ক্ষুধা দূরীকরণ, খাদ্যাভ্যাস উন্নত করতে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে কৃষক ও কৃষি ব্যবসার জন্য সুযোগ তৈরি করবে। এটি খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে বিতরণ ও গ্রহণের পদ্ধতি পর্যন্ত সমগ্র খাদ্যমূল্য শৃঙ্খলে পরিবর্তন আনবে।




ঢাকায় এডিবির বিজনেস অপরচুনিটিজ সেমিনার শুরু

ঢাকায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিজনেস অপরচুনিটিজ সেমিনার শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন শুরু হয়। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ি ইউন জং সেমিনারের শুরুতেই বক্তব্য দেন।

সেমিনারে পরামর্শক, ঠিকাদার, সরবরাহকারী, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, কূটনৈতিক মিশনের কর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছেন।

এডিবির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশন (বিআরএম) প্রতি বছর বিজনেস অপরচুনিটিজ সেমিনার (বিওএস) আয়োজন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও এই সেমিনার আয়োজিত হচ্ছে। সেমিনারে বাংলাদেশের ও বিদেশের দক্ষ সরবরাহকারী, ঠিকাদার, পরামর্শক, বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা এডিবি-অর্থায়িত প্রকল্প এবং এডিবির বেসরকারি খাতের কার্যক্রম নিয়ে নানা ধরনের ব্যবসায়িক সুযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।

এডিবি জানিয়েছে, বিজনেস অপরচুনিটিজ সেমিনার (বিওএস) একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে দেশে এডিবি অর্থায়িত চলমান ও আসন্ন প্রকল্পগুলোর প্রধান ব্যবসায়িক সুযোগগুলো তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে বর্তমানে আনুমানিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এখনও চুক্তিবদ্ধ হয়নি। পাশাপাশি, বিওএস-এ সম্প্রতি বিডিং প্রক্রিয়ায় আনা পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয় এবং উচ্চমানের, প্রতিযোগিতামূলক বিড ও প্রস্তাব প্রস্তুতের জন্য বিশেষজ্ঞ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এডিবির বেসরকারি খাত উন্নয়নের কৌশলগত দিকনির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, এবারের বিওএস-এ এডিবির বেসরকারি খাতের কার্যক্রমের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে, সেইসাথে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) অন্যান্য সম্ভাবনার দিকেও আলোচনা করা হবে। সেমিনারটি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে গঠনমূলক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং এডিবি যেসব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে তা অন্বেষণ করার সুযোগ করে দেয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এডিবি জানিয়েছে, এবারে বিওপির মূল উদ্দেশ্যে হলো—এডিবির প্রোকিউরমেন্ট, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং, যৌথ আলোচনা ও পরামর্শ। এবারের বিওপিতে অংশগ্রহণকারীরা এডিবির ক্রয়নীতি ও বিধিবিধান, বিডিং প্রক্রিয়ায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনসমূহ, এডিবি অর্থায়নে চলমান ও আসন্ন ব্যবসায়িক সুযোগসমূহ, এডিবি অর্থায়িত প্রকল্পে কাজ করার সুবিধা এবং কীভাবে এসব চুক্তির জন্য যোগ্যতা অর্জন করা যায় এবং এডিবি-র বেসরকারি খাতভিত্তিক কার্যক্রম ও সুযোগসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন।

আয়োজন সম্পর্কে এডিবি জানিয়েছে, বিওএস একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। যেখানে পরামর্শক, ঠিকাদার, উৎপাদক এবং সরবরাহকারীরা বাংলাদেশে এডিবি অর্থায়িত প্রকল্পে পণ্য ও সেবাদানের সুযোগ খুঁজে পেতে পারেন।




মূল্যস্ফীতি বেড়ে হবে ১০.২ শতাংশ

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৯ শতাংশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার ৯.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (৯ এপ্রিল) ঢাকায় এডিবির কান্ট্রি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) ২০২৫’ প্রকাশ উপলক্ষ্যে এই পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়।

এডিবি জানায়, চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অস্থিরতা বিবেচনায় তারা পূর্ববর্তী পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে সংস্থাটি বলেছে, আগামী অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.১ শতাংশে পৌঁছাবে।

পোশাক খাতে রপ্তানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, শিল্প খাতে অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশজ চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২ শতাংশ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিওং বলেন, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করাও প্রয়োজন। এ জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ জরুরি। এসব পদক্ষেপ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

এডিবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব, পর্যাপ্ত বাজার তথ্যের ঘাটতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা এবং টাকার অবমূল্যায়ন মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেবে।

এছাড়া, বাণিজ্য ঘাটতি সংকুচিত হওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ফলে ২০২৪ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ১.৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ অর্থবছরে ০.৯ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।




বেসরকারি খাতে উন্নয়নে ১২০০ কোটি টাকা দেবে এডিবি

বাজেট সহায়তার আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে এডিবি-বাংলাদেশের মধ্যে ঋণচুক্তি হয়েছে।

স্ট্রেনদেনিং বাংলাদেশ ইনফ্রাস্টাক্চার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড অ্যাডিশনাল ফাইন্যান্সিং প্রকল্পের আওতায় এ স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, এডিবির পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইয়ুন জিয়ং ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বাজেট সহায়তা হিসেবে ৬০ কোটি ডলার দেবে এডিবি প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৪-২০২৯। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বাস্তবায়িতব্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এডিবি প্রস্তাবিত প্রকল্পের অনুকূলে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে।
Jagonews24 Google News Channelজাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল।

এ ঋণটি অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্স হিসেবে পাওয়া গেছে, যা ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। ঋণটির বার্ষিক সুদের হার ০ দশমিক ৫০ শতাংশ।




বেসরকারি খাতের উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

দেশের বেসরকারি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা (প্রতি ডলার সমান ১১৯ টাকা ধরে)। এই ঋণ মূলত দেশের বেসরকারি আর্থিক ইউনিটগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এডিবি বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নে অনুমোদন করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এ প্রকল্পটি বাংলাদেশকে বেসরকারি খাতের অর্থায়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপ কমাতে এবং আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম করবে। ঋণটি লিঙ্গ জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর দৃঢ় ফোকাসসহ, পিপিপির সংগঠনের মাধ্যমে টেকসই বেসরকারি বিনিয়োগকে সমর্থন করবে। এ জন্য বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

এডিবি জানায়, রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ একটি রূপান্তরমূলক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রাথমিকভাবে সরকারি খাত দিয়ে চালিত, সীমিত সম্পদ এবং বাস্তবায়ন সীমাবদ্ধতার কারণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অবকাঠামো বিনিয়োগের একটি প্রধান বাধা হলো স্থানীয় বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ তহবিলের ঘাটতি। এডিবি ঋণের লক্ষ্য হলো বিআইএফএফএলকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন দেওয়া, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করার সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে এ ব্যবধান পূরণ করবে।

বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড প্রজেক্ট শক্তিশালীকরণ-অতিরিক্ত অর্থায়ন বেসরকারি খাতের অর্থায়নে বিআইএফএফএল-এর সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক স্পনসর এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আনা নতুন প্রযুক্তির সুবিধা দেবে।




এডিবির কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে ২.৪৩ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, একমাত্র বাধ্যতামূলক লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে, এডিবি এমএসএলের জন্য অর্থায়ন প্যাকেজের ব্যবস্থা, কাঠামোগত এবং সিন্ডিকেট করেছে, যা বাংলাদেশ-ভিত্তিক শক্তি কোম্পানি জুলস পাওয়ার লিমিটেডের (জিপিএল) মালিকানাধীন। এতে এডিবি থেকে ১৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঋণ এবং এডিবির মাধ্যমে পরিচালিত লিডিং এশিয়া’স প্রাইভেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড ২ থেকে ৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঋণ রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় একটি ২০-মেগাওয়াট (মেগাওয়াট) গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি এবং পরিচালনা করা হবে। সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বার্ষিক ৩৭.৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং বার্ষিক ১৮ হাজার ৩৪৪ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন এড়াবে।

এডিবির বেসরকারি সেক্টর অপারেশনের মহাপরিচালক সুজান গ্যাবরি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততাকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করবে। এডিবি সহযোগিতা করতে পেরে আনন্দিত, যেটি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অগ্রগামী দক্ষতা এবং উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে, যাতে টেকসই সমাধান অগ্রসর হয়। নবায়নযোগ্য শক্তি বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ ক্ষমতার মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ে গঠিত।

জেপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুহের লতিফ খান বলেন, দেশে আমাদের দ্বিতীয় সৌর প্রকল্পের জন্য এডিবি থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত।




যেকোনো বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী এডিবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সিনিয়র এডভাইজর এডিমন গিংটিং ও বাংলাদেশে এডিবির নবনিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জেয়ং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে সংস্থাটি বাংলাদেশকে যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।

 

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ করেন এডিবির প্রতিনিধি দল। এ সময় এডিবির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়োংবো নিং ও কান্ট্রি ইকোনোমিস্ট চন্দন সাপকোতা উপস্থিত ছিলেন।

এডিবির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের চলমান ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো সম্পর্কে পরিকল্পনা উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। উভয় পক্ষ প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময় কমিয়ে আনতে একমত হয়েছে।

 

পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলকে জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল পুনঃনির্ধারণ ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। এডিবি প্রতিনিধিরা টাস্ক ফোর্সসহ যেকোনো বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।




বাংলাদেশকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি

বাংলাদেশকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১১৭.৪২ টাকা ধরে)।

সোমবার (১০ জুন) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এডিবি ঋণ চুক্তি সই করে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বলেন, দ্বিতীয় শক্তিশালীকরণ সামাজিক স্থিতিস্থাপকতা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সুরক্ষার কভারেজ এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদার প্রতিক্রিয়া জোরদার করার ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক কাজকে ত্বরান্বিত করা। এ কর্মসূচির প্রথম ধাপ ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন এই প্রোগ্রামটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরক্ষামূলক এবং প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা জোরদার করার জন্য সরকারের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের দ্বিতীয় ধাপের কর্মপরিকল্পনাকে সমর্থন করে। প্রোগ্রামটি সামাজিক সুরক্ষা প্রোগ্রাম পরিচালনায় দক্ষতা উন্নত করতে, সবচেয়ে দুর্বলদের জন্য সুরক্ষা বাড়াতে এবং অবদানকারী সুরক্ষা প্রকল্পগুলো প্রবর্তনের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ উন্নত করতে সহায়তা করবে। এটি দুর্বলতা, বর্জন এবং আরও দারিদ্রের মধ্যে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

গোপালগঞ্জ-মাদারীপুরের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ঋণ অনুমোদন এডিবির
সংস্থাটি জানায়, এই প্রোগ্রামটি দক্ষতা এবং কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দুটি নগদভিত্তিক সুরক্ষা প্রোগ্রামকে একীভূত করবে। এই প্রোগ্রামটি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করাসহ জলবায়ু দুর্বলতার বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার জন্য সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ু অভিযোজিত ব্যবস্থাগুলোকে একীভূত করতে সহায়তা করবে।

এডিবির সহায়তা বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করবে এবং ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য জীবিকা সহায়তা কর্মসূচির কভারেজ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অসহায় নারী ও ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষাকে শক্তিশালী করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোগ পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের জন্য তার তহবিল দ্বিগুণ করছে, যাতে আর্থিক পরিষেবাগুলোতে মহিলা ক্ষুদ্র ব্যবসা অপারেটরদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারিত করা যায়।

এডিবি জানায়, কর্মসূচির আরেকটি লক্ষ্য হলো তৈরি পোশাক খাতের শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এ ছাড়া এটি একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠনে সমর্থন করে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ওপর কর্মী সমিতি, নিয়োগকর্তা সমিতি এবং দেশের সামাজিক বিমা প্রকল্পগুলোকে আরও বিকাশের ক্ষেত্রে একটি মূল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে সহায়তা করা।




জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি

জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে ক্লাইমেট রেজিলেন্ট ইন্টিগ্রেটেড সাউথ ওয়েস্ট প্রজেক্ট ফর ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে ঋণচুক্তি হয়েছে।

নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং এডিবির পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং চুক্তিতে সই করেন। এসময় বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির আবাসিক মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২০ এপ্রিল) ইআরডি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রকল্পটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়ন করবে। আলোচ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আনুষঙ্গিক উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন আনয়ন, সমন্বিত পানিসম্পদ ও অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ ও সমন্বিত সহায়তার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে। এছাড়া প্রকল্প হতে প্রাপ্ত সুবিধাদির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য পানি ব্যবস্থাপনা সংঘ গঠন করা হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জানুয়ারি ২০২৪ হতে ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত।

এ ঋণটি এডিবির নমনীয় শর্তে পাওয়া গেছে, যার সুদের হার ২ শতাংশ এবং ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। এছাড়া অন্য কোনো চার্জ নেই।

এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে সদস্যলাভের পর হতে এডিবি থেকে এর অর্থনীতির অগ্রাধিকারভুক্ত বিভিন্ন খাতগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি সাধারণত বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, কৃষি, পানিসম্পদ ও সুশাসনকে প্রাধান্য দেয়।

 




এডিবির কাছে আরও বাজেট সহায়তা চায় বাংলাদেশ

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে আরও বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেক্টর ও থিমস) ফাতিমা ইয়াসমিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ বাজেট সহায়তা চান অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিব সাংবাদিকদের এডিবির কাছে আরও বাজেট সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি জানান। আর এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এডিবির সঙ্গে সম্পর্ক ডেভেলপ করছি ৫০ বছর ধরে। এটা আরও ভালো হবে, আরও শক্তিশালী হবে। তার জন্যই আমরা সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, আমরা এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে যাচ্ছি। সেখানে আরও আলোচনা হবে। কিন্তু সো ফার আমরা খুবই হ্যাপি। যেভাবে উন্নত হচ্ছে এবং আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং, তারা আমাদের প্রয়োজন বুঝতে পারছে। আমরা খুবই সন্তুষ্ট।

এসময় অর্থসচিব বলেন, এডিবি আমাদের ৫০ বছরের বন্ধু। আমরা এডিবির কাছ থেকে ফান্ড পেয়ে আসছি, ভবিষ্যতে যেন আরও পাই, সেজন্য স্যার (অর্থমন্ত্রী) রিকুয়েস্ট করেছেন। বিশেষ করে বাজেট সাপোর্ট আমাদের নতুন উইন্ডো, বাজেট সাপোর্টে এডিবি আমাদের অনেক হেল্প করেছে।

তিনি বলেন, করোনার সময় আমাদের বাজেট সাপোর্ট দেওয়ায় আমরা ইকোনমির দ্রুত রিকভারি করতে পেরেছি। এই বাজেট সাপোর্ট যাতে আরও বাড়ে সেজন্য স্যার রিকোয়েস্ট করেছেন।

আরও বাজেট সাপোর্ট চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এডিবির পক্ষ থেকে কি বলা হয়েছে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, আলোচনা করছি আমরা।

এরপর অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট সাপোর্টও দেবে। দেবে তো। তারা আসছেই তো এজন্য।

আমাদের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এডিবি প্রতিনিধি দলের কোনো অবজারভেশন আছে কি না– এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, না কোনো অবজারভেশন নেই। তারা খুব খুশি।

এদিকে চলতি বছরের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় চার হাজার কোটি টাকার বেশি) বাজেট সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এডিবি। গত বছরের ১১ ডিসেম্বরে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে থেকেও ৯ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

ইআরডির তথ্য মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি আট মাসে সুদ ও আসল বাবদ আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের প্রায় ২০৩ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করেছিল ১৪২ কোটি ডলার। অর্থাৎ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার (৮০৬ মিলিয়ন)। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা দ্বিগুণ।

সাম্প্রতিক অর্থবছরগুলোয় সরকারের বাজেট সহায়তা নেওয়ার পরিমাণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। মূলত করোনা-পরবর্তী সময়ে টিকা কেনা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বাজেট সহায়তার পরিমাণ বেড়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার বাজেট সহায়তা নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার ১৭৬ কোটি ডলার, ২০২২১-২২ অর্থবছরে ২৫৯ কোটি এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০৯ কোটি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা নেয় সরকার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেট সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি ডলার।




গোপালগঞ্জ-মাদারীপুরের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ঋণ অনুমোদন এডিবির

দেশের গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির অনুমোদিত অর্থে এই দুই জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এখানকার জনগোষ্ঠীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এজন্য ৭.১ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এডিবি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ৭৮১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)।

বুধবার (১৩ মার্চ) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এডিবি জানায়, বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকের ভিত্তিতে, জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বাংলাদেশ চরম আবহাওয়া এবং ধীর গতিতে শুরু হওয়া জলবায়ু ইভেন্টের ক্রমবর্ধমান ফ্রিকোয়েন্সি এবং তীব্রতার সম্মুখীন হচ্ছে। কার্যকরী পদক্ষেপ ব্যবস্থা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। জলবায়ু পরিবর্তনশীলতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষির জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ হারাতে পারে।

সংস্থাটির সিনিয়র প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ পুষ্কর শ্রীবাস্তব জানায়, এডিবির এই অর্থে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল সমন্বিত জলসম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অর্জিত সুবিধাগুলো ধরে রাখবে। যা কৃষি উৎপাদন, উন্নত সম্প্রদায়ের অবকাঠামো এবং গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এডিবির অতিরিক্ত সহায়তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। বিশেষ করে নারী ও দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য আয় এবং টেকসই জীবিকা বাড়াবে ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করবে।

এডিবি জানায়, তাদের এই অর্থে ৬ লাখেরও বেশি জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এছাড়া, জলবায়ু-সহনশীল বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস করবে। এই অর্থে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থার জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এডিমন গিন্টিং সাক্ষাৎকালে পঞ্চমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় শেখ হাসিনার হাতে এডিবির প্রেসিডেন্টের অভিনন্দনপত্র তুলে দেন।




বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলাদেশকে শত কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে মোট শত কোটি ডলারের একাধিক ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও এডিবির পক্ষে চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করেন যথাক্রমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ও বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং।

উল্লেখযোগ্য চুক্তির আওতায় রয়েছে ঢাকা-উত্তর-পশ্চিম আন্তর্জাতিক সড়ক করিডর উন্নয়ন। এ খাতে বাংলাদেশ পাবে ৩০ কোটি ডলার ঋণ।

জানা গেছে, স্মার্ট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎশক্তির দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তির স্বাক্ষর হয়েছে। যা ক্লিন এনার্জি সলিউশনে রূপান্তরে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।

দেশীয় ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিকস ও ডায়াগনস্টিকস স্থাপনা ও ভ্যাকসিন সরবরাহে জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য দেবে ৩৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন সেবার জন্য দেয়া হচ্ছে নয় কোটি ডলার।

এছাড়া বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) প্রোগ্রামের উন্নয়নের জন্য আরেক চুক্তিতে বাংলাদেশকে পাবে ১০ কোটি ডলার।

ম্যানিলাভিত্তিক ঋণদাতাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘স্মার্ট মিটারিং এনার্জি এফিসিয়েন্সি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রিপেইড গ্যাস মিটার (এসপিজিএম) স্থাপন করে, এ খাতের লোকসান কমাতে সরকারের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে।

প্যারিস চুক্তির অধীনে, বাংলাদেশের নিজস্ব জলবায়ু প্রশমন ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে একটি হল এসপিজিএম স্থাপন।

এডিবি জানিয়েছে, প্রকল্পটি বছরে প্রায় ৪ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

গিনটিং বলেছেন, ‘এই প্রকল্প গ্যাস বাঁচাতে সাহায্য করবে; গ্যাসের অপচয় রোধ করা; গ্যাসের নিরাপদ ও দক্ষ ব্যবহার সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতনতা তৈরি করা; রাজস্ব প্রবাহ বাড়াবে এবং বিল তৈরি, সংগ্রহ ও নিরীক্ষণের খরচ কমিয়ে গ্যাস বিতরণ কোম্পানির আর্থিক কর্মক্ষমতার উন্নয়ন করবে।’

তিনি আরও জানান, ‘প্রকল্পটি গ্যাস বিতরণ উপখাতের জন্য বাংলাদেশের জলবায়ু প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও অবদান রাখবে।’

প্রকল্পটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দেশের বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠান– তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের রূপান্তরমূলক এবং আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াবে।

এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি, যেমন ইউনিফাইড মিটারিং ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত স্মার্ট মিটার এবং একটি স্বয়ংক্রিয় ওয়েব-ভিত্তিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম।

সাড়ে ১৭ লাখ ডলারের একটি প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এডিবি সরকারকে তার ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী স্বল্প-কার্বন জ্বালানিতে রূপান্তর এবং গ্যাস বিতরণ উপখাতের মিথেন লিকেজ-জনিত ক্ষতি হ্রাসের পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।

এর মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবনী পরিচ্ছন্ন জালানি-ভিত্তিক সমাধানের প্রাক-সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন তৈরি করা এবং কার্বন ক্রেডিট ব্যবহারসহ ভবিষ্যতের প্রকল্প অর্থায়নের জন্য ব্যক্তিগত পুঁজি অভিগম্যতার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা।

কারিগরি সহায়তার বিশেষ তহবিল থেকে ১০ লাখ ডলার অনুদান এবং এডিবির পরিচালিত রিপাবলিক অব কোরিয়া ই-এশিয়া এবং নলেজ পার্টনারশিপ তহবিল থেকে সাড়ে ৭ লাখ ডলার অর্থায়ন সহায়তা করা হবে।




ঋণ-অনুদান মিলে বাংলাদেশকে ১৩৫৩ কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষকের আয় বাড়াতে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রেজিলেন্ট স্মল স্কেল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই অনুদান ও ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১০ দশমিক ৬ কোটি ডলার ঋণ ও ১ দশমিক ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়া হবে।

রোববার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও এডিবি’র মধ্যে ঋণ ও অনুদান চুক্তি সই হয়েছে। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার ও এডিবির আবাসিক মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি আট বিভাগের ৪২টি জেলার ৩৪১টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ১৫০টি নতুন উপ-প্রকল্পে জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা অবকাঠামোর উন্নয়ন, ২৩০টি বিদ্যমান উপ-প্রকল্পে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২৩ হতে জুন ২০২৯ পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এডিবি সহজ শর্তে ঋণ দেবে। ঋণের সুদের হার শতাংশ। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে এ ঋণটি পরিশোধযোগ্য।

এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে সদস্যলাভের পর হতে এডিবি থেকে এর অর্থনীতির অগ্রাধিকারভুক্ত বিভিন্ন খাতসমূহে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছে। এডিবি এ যাবত বাংলাদেশ সরকারকে ২৯,৮৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা ও ৫৭১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান সহায়তা দিয়েছে।

বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি সাধারণত বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, কৃষি, পানিসম্পদ ও সুশাসন-কে প্রাধান্য দেয়। বর্তমানে এডিবি ৫৩টি চলমান প্রকল্পে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে। এছাড়া, ২০২৬ সাল পর্যন্ত এডিবির পাইপলাইনে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




বাংলাদেশকে ১৩২৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি

বাংলাদেশকে ১২ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৩২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১১০.৩০ টাকা ধরে)। ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট লিভলিহুড ইম্প্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ইন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস সেক্টর নামে প্রজেক্টে এ অর্থ দেবে সংস্থাটি।

বুধবার (৪ অক্টোবর) এডিবির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এ সংক্রান্ত একটি ঋণ চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মিজ শরিফা খান ও এডিবির পক্ষে সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং চুক্তিতে সই করেন।

ইআরডি জানায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ওই এলাকার অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ ঐ এলাকায় বসবাসরত পিছিয়ে পড়া জনগণের দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে নতুন কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এডিবির এই ঋণের সুদের হার হবে ২ শতাংশ। এছাড়া, অন্য কোনো চার্জ নেই। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।




সদস্য দেশগুলোর জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার ঘোষণা এডিবির

সদস্য দেশগুলোর জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির এই অর্থ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

সোমবার (২ অক্টোবর) সংস্থাটির ম্যানিলা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, এডিবি মূলধন ব্যবস্থাপনা সংস্কার অনুমোদন করেছে। এই অঞ্চলের ওভারল্যাপিং, যুগপৎ সংকট মোকাবিলায় পরবর্তী দশকে ১০০ বিলিয়ন ব্যয় করা হবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন ডলারে স্থানান্তর করার জন্য প্রাইভেট এবং অভ্যন্তরীণ পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যমে তহবিলের সম্প্রসারণকে আরও সুবিধা দেওয়া হবে।

এডিবি জানায়, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দারিদ্র মানুষগুলো নানা সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষার ফলাফল এবং জীবিকাকে বিপন্ন করে। আনুমানিক ১৫৫ মিলিয়ন মানুষ, বা এই অঞ্চলের জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। বিশেষ করে নারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়-সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, যা খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য এবং পরিষেবাগুলো থেকে বঞ্চিত।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলে নানা সংকট তৈরি করছে। পরবর্তী দশকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নানা প্রকল্পে ব্যয় করার ফলে এডিবি সদস্যভুক্ত দেশগুলো আরও উপকৃত হবে বলে জানায় এডিবি।

এডিবি ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশসহ বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সদস্য দেশ ৬৮টি।




তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এডিবির ১১০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) প্রোগ্রামের উন্নতির জন্য ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) এডিবির প্রধান কার্যালয় থেকে এ ঋণ অনুমোদন করেছে সংস্থাটি।

ঋণ অনুমোদন প্রসঙ্গে এডিবির সোশ্যাল সেক্টর ইকোনমিস্ট রিওতারো হায়াশি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তি গ্রহণকে ত্বরান্বিত করতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য উচ্চশিক্ষায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামকে উন্নীত করা সময়ের প্রয়োজন। এই প্রকল্পটি আরও দক্ষ এবং প্রযুক্তি-সচেতন স্নাতক এবং উদ্যোক্তাদের বিকাশে সহায়তা করবে। যারা দেশের আইটি শিল্পকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।

এডিবি জানায়, প্রকল্পটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, সফটওয়্যার প্রকৌশল এবং তথ্যপ্রযুক্তি ডিগ্রি প্রোগ্রামগুলোকে আপগ্রেড করবে। এডিবির এই অর্থে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামগুলোকে আপগ্রেড করা হবে। প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে শেখার কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং ইন্টারনেট অফ থিংসের মতো সর্বশেষ প্রযুক্তিগুলোকে একীভূত করবে।

এডিবি আরও জানায়, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাগার স্থাপন, সহযোগিতা; স্টার্ট-আপ স্পেস এবং সহায়ক সুবিধাদি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। এই সুবিধাগুলো জলবায়ু, দুর্যোগ-স্থিতিস্থাপক নকশা, শক্তি এবং জল-সংরক্ষণ বৈশিষ্ট্যগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এছাড়া, নারীবান্ধব সুযোগ-সুবিধা এবং পরিষেবাগুলো অন্তর্ভুক্ত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন শিক্ষামূলক পদ্ধতি এবং উদীয়মান ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে শিক্ষকদের সক্ষমতা তৈরি করবে।

তিনটি এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকরা যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসার জন্য শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সুযোগ, কর্মজীবন কাউন্সেলিং এবং শিল্প প্লেসমেন্ট স্নাতক ছাত্রদের জন্য প্রদান করা হবে।




বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কমে ৬.৬ শতাংশ হবে: এডিবি

আজ বুধবার ‘উন্নয়নশীল এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবণতা ও সম্ভাবনা: দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এডিবি এ পূর্বাভাস জানিয়েছে।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

আজ বুধবার ‘উন্নয়নশীল এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবণতা ও সম্ভাবনা: দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এডিবি এ পূর্বাভাস জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিবহির্ভূত পণ্যের দাম কিছুটা হ্রাস, প্রত্যাশিত উচ্চতর কৃষি উৎপাদন ও নতুন কাঠামোর অধীনে মুদ্রানীতির কঠোরতার কারণে মূল্যস্ফীতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের নয় শতাংশ থেকে কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত আগস্টে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল নয় দশমিক ৯২ শতাংশ। একই মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

এর আগে জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল নয় দশমিক ৬৯ শতাংশ। ওই মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল নয় দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল সাত দশমিক ৯৫ শতাংশ। জুলাইয়ে তা ছিল নয় দশমিক ৪৭ শতাংশ।




বাংলাদেশের জিডিপি ৬.৫ শতাংশ হতে পারে: এডিবি

     ‘বাহ্যিক আর্থিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও সরকার তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। কেননা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতি করতে জরুরি সংস্কার        করা হচ্ছে।’ – এডিবি

বাংলাদেশের জিডিপি চলতি অর্থবছরে প্রত্যাশার তুলনায় সামান্য বেড়ে ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

আজ বুধবার এডিবির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের তুলনায় এবার তা সামান্য বাড়তে পারে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন জিনটিং বলেন, ‘বাহ্যিক আর্থিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও সরকার তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। কেননা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতি করতে জরুরি সংস্কার করা হচ্ছে।’




২০৫০ সাল নাগাদ ৭ কোটি কর্মসংস্থান হবে: এডিবি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডোর কাজে লাগানো গেলে ২০৫০ সাল নাগাদ নতুন করে ৭ কোটি ১৮ লাখ কর্মসংস্থান হবে। বাণিজ্য সুবিধা বেড়ে ২৮৬ কোটি টাকা হবে, যা বাংলাদেশের চিত্র বদলে দেবে।

বুধবার (২৩ আগস্ট) ‘বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর ডেভেলপমেন্ট হাইলাইটস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উস্থাপন করেন সুন চ্যাং হোং।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছি। ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ করছি। ঢাকার চারপাশের উন্নয়ন করছি। ঢাকাকে বাইপাস করে সড়কের কাজ করছি। বঙ্গবন্ধু সেতু ও পদ্মা সেতু বড় করিডোর। এটা আমরা করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা থেকে এখন ঢাকায় আসতে নৌকায় উঠতে হয় না। সরকার ব্যবসাবান্ধব। সরকার ব্যবসা আরও সহজ করছে। সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা ফ্লাইওভার চার হাজার কোটি টাকায় নির্মাণ করছি। এর মাধ্যমে দেশের বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়বে।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নানা কাজে পাশের বাড়ি (ভারত) যেতেই হবে। এটা করলে লাভ হবে। ভুটান-ভারতের সঙ্গে কানেক্টিভিটি (সংযোগ) করছি। এটা আমাদের প্রয়োজনে করছি, আামাদের বন্ধু দরকার। আমাদের প্রয়োজন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা।

দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে বর্তমান সরকারের পাশে থাকতে হবে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। তাহলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকবে। শেখ হাসিনা কাজ করছেন, তাকে আরও সুযোগ দিতে হবে। শেখ হাসিনাকে যত বেশি সুযোগ দেবে, দেশ তত বেশি এগিয়ে যাবে।

এডিবির প্রতিবেদনের বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডরের সুবিধা কাজে লাগানো গেলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ৭ কোটি ১৮ লাখ কর্মসংস্থান হবে। ২০৪০ সালের মধ্যে হবে ৪ কোটি ৬২ লাখ কর্মসংস্থান এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ১ কোটি ২৭ লাখ কর্মসংস্থান হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা বাড়বে ২৮৬ বিলিয়ন ডলার, যা টাকার অংকে ৩১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। যদি করিডোর সুবিধা ব্যবহার করা না যায়, তাহলে ২০৫০ সালে কর্মসংস্থান হবে ৩ কোটি ১১ লাখ।

২০৩০ সালে সুবিধা ব্যবহার করা না গেলে ১ কোটি ৭০ লাখ, আর ব্যবহার করা গেলে হবে ২ কোটি ৩৪ লাখ কর্মসংস্থান হবে। ২০৩৫ সালে সুবিধা কাজে না লাগানো গেলে ২ কোটি ১০ লাখ, সুবিধা কাজে লাগালে হবে ৩ কোটি ৪৭ লাখ কর্মসংস্থান। এছাড়া ২০৪০ সালে কর্মস্থান হবে ২ কোটি ৪৮ লাখ। তবে করিডোর সুবিধা কাজে লাগানো গেলে হবে ৪ কোটি ৬২ লাখ কর্মসংস্থান।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, যোগাযোগের উন্নয়ন করলে উন্নয়ন হয়, এটা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। উত্তরাঞ্চল তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। দুই যুগের বেশি সময় আগে উত্তরাঞ্চলের সাথে যোগাযোগের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হলেও এখনো দেশের দেশের সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল উত্তরবঙ্গ।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী বলেন, যে সম্ভাবনার কথা বলছি, তা কার্যত আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। উৎপাদন বিপণন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে করিডোর সমস্যা। এর উন্নয়ন যে গতিতে কাজ হচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা ভালো ফল বয়ে আনছে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজার রহমান ও বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনের (বেজা) চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং। সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী।




রামপুরা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ২৮শ কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা সাড়ে ১৩ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণে ২৬.১ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৭৯২ কোটি ৭০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা ধরে)। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যানজট দূর করার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের মধ্যে টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে বলে জানায় সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) এডিবির ঢাকা অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটি জানায়, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক অব চায়না, ডিবিএস ব্যাংক লিমিটেড এবং বাংলাদেশে অবস্থিত একটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড থেকে ১৯৩ মিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ ঋণের মাধ্যমে প্রকল্পটি অর্থায়ন করা হচ্ছে। এডিবি প্রকল্পের কাঠামো, সমঝোতা, দরপত্র সম্পাদনে সহায়তা করেছে এবং বাণিজ্যিক ও আর্থিক সুবিধায় সহায়তা প্রদান করেছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এডিবি অফিস অব মার্কেটস ডেভেলপমেন্ট এবং পিপিপির প্রধান ক্লিও কাওয়াওয়াকি জানান, আমরা এই এক্সপ্রেসওয়ের নকশা, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেসরকারি খাতের অংশীদারদের প্রস্তুত, বাজারজাতকরণ এবং আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করেছি। এটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিলেটসহ বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব জেলাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে। রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা পিপিপি প্রকল্পটি মার্কিন ডলার এবং টাকার বিনিময় হারের সঙ্গে আংশিক রাজস্ব যুক্ত করে একটি প্রাপ্যতা অর্থ প্রদানের ব্যবস্থার অধীনে বিতরণ করা হয়েছিল। ঢাকা বাইপাস রোড পিপিপির প্রথম সড়ক লেনদেনের একটি ন্যূনতম রাজস্ব গ্যারান্টি হিসেবে ৩৭০ মিলিয়ন দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, এডিবি তাই অবকাঠামো খাতে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে উভয় ধরনের পেমেন্ট মেকানিজমের পথ তৈরি করতে সাহায্য করেছে। চুক্তিটি বিনিয়োগের জন্য একটি সম্পদ শ্রেণি হিসেবে সড়ক পিপিপি বিকাশে এডিবির নেওয়া একটি প্রোগ্রাম্যাটিক পদ্ধতির অংশ। বাংলাদেশে লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে এডিবির সঙ্গে একটি পিপিপি লেনদেনের দ্বিতীয় সফল আর্থিক সমাপ্তি এটি। বর্তমানে এডিবি জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে, যা ১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে।




 বাজেট সহায়তায় ৪০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

সরকার প্রতিবছর যে বাজেট ঘোষণা করে, তার পুরোটা দেশীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হয় না। নির্ভরশীল হতে হয় বৈদেশিক ঋণের বাজেট সহায়তার জন্য। অভ্যন্তরীণ উৎসে সম্পদ অর্জন ও রাজস্ব আয় কম হওয়ায় বিদেশি ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে শেষের দিকে এসেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এ অর্থবছরে বাজেট সহায়তায় ৪০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এ বাজেট সহায়তার ঋণচুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রমান্বয়ে কমতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের তহবিল বাড়াতে সহায়তা করবে এডিবির বাজেট সহায়তা।

গত ২৪ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের এ অর্থ সাড়ে ৩ মাসের আমদানি সুরক্ষিত করার জন্য যথেষ্ট। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া বাজেট সহায়তা যোগ হওয়ার পর এ রিজার্ভ বেড়েছিল বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ অর্থবছরে (২০২২-২৩) ক্রমাগত ভঙ্গুর অর্থনীতি সামাল দিতে এ বাজেট সহায়তা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দাতা সংস্থা ও দেশগুলো সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ দেয়। এ ধরনের অর্থসহায়তা পেতে নির্দিষ্ট একটি প্রকল্প তৈরি করতে হয়। এরপর ওই প্রকল্প ধরে দাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি চলে। কিন্তু বাজেট সহায়তার অর্থ দিয়ে সরকার নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। বাজেট সহায়তার অর্থ সরকার যেকোনো খাতে খরচ করতে পারে। তাই অর্থনীতির চাপ সামলাতে বাজেট সহায়তার অর্থ নেওয়া সরকারের জন্য বেশি সুবিধাজনক। তবে এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

এডিবির সঙ্গে এখন বাজেট সহায়তার যে দর-কষাকষি হয়েছে, তাতে বেশকিছু শর্ত রয়েছে। যেমন ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, জ্বালানির দাম নির্ধারণ, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন খাতে নীতি সংস্কার আনতে হবে। এসব শর্ত কতটা বাস্তবায়িত হলো, তা নিয়মিত নজরে রাখবে এডিবি। বাজেট সহায়তার জন্য কোনো খাত দেখাতে না হলেও এডিবিকে বাজেট সহায়তার অর্থের খরচের খাত জানাতে হয়। এবার যে ৪০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে খরচ করতে চায় বলে জানা গেছে।

এর আগে এডিবির নেতৃত্বে কো-ফান্ডিং উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এ বাজেট সহায়তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাবে। দুই ধাপে এই তহবিল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে এপ্রিলে এক দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে দেশে। আগামী জুনে আরও প্রায় এক বিলিয়ন ডলার আসার কথা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশ সরকারকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিয়েছে এডিবি। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পরিবহন, জ্বালানি, পানিসম্পদ, কৃষি, স্থানীয় সরকার, সুশাসন, আর্থিক ও বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দেয়।




বিজিএমইএ সভাপতির সঙ্গে ওইসিডি ও এডিবি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

অরগানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এবং এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছে। রোববার (২১ মে) ঢাকায় বিজিএমইএ পরিদর্শন এবং বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন এ প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন ওইসিডি ডিএএফ ইনভেস্টমেন্ট ইউনিটের ইকোনমিস্ট (পলিসি অ্যানালিস্ট) ফার্নান্দো মিস্টুরা, ওইসিডি ডিএএফ ইনভেস্টমেন্ট ইউনিটের পলিসি অ্যানালিস্ট আইরিস ম্যানটোভানি, ওইসিডি আরবিসি সেন্টারের পলিসি অ্যানালিস্ট সেবাস্টিয়ান ওয়েবার, ওইসিডি আরবিসি সেন্টারে সিনিয়র পলিসি অ্যানালিস্ট ম্যাথিয়াস অল্টম্যান, এডিবির সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট সুন চ্যান হং, এডিবির সিনিয়র ইকোনমিক অফিসার মাহবুব রব্বানী এবং এডিবি কনসালটেন্ট মাসরুর রিয়াজ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ এর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

তারা পোশাক শিল্প ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এফডিআই (বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ) এর ভূমিকাসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং ২০২৬ সালে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণের পর অর্থনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা রপ্তানির আরও বৈচিত্র্যকরণ এবং পোশাক শিল্পের ভেতরে এবং বাইরে এফডিআই আকর্ষণের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ডিউ ডিলিজেন্স শর্তগুলোর প্রভাবও গুরুত্ব পেয়েছে।

তারা বাংলাদেশে ওইসিডি বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার বিষয়েও কথা বলেন। পর্যালোচনাটি দেশে স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ বিষয়ে মূল্যায়ন করবে এবং বিনিয়োগের কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করবে। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য সংগঠন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তৈরি পোশাক শিল্পের মুখপাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজিএমইএ পর্যালোচনাটি রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শক অংশীদারের ভূমিকা পালন করেছে।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা, শিল্পের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা ও সুযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি প্রতিনিধিদলকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শিল্পের রূপকল্প এবং প্রস্তুতি, বিশেষ করে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, প্রযুক্তির মানোন্নয়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পের প্রস্তুতি গ্রহণ বিষয়ে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উচ্চমূল্যের পোশাকের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন ও নন-কটন টেক্সটাইলের মতো বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং ডিউ ডিলিজেন্স প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও কাজ করছে।

ওইসিডি-এডিবি প্রতিনিধিদল কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ব্যাপক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এ অর্জনগুলো অন্যান্য শিল্প খাতের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা অন্যান্য খাতগুলো যাতে করে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পোশাক শিল্পের মডেল অনুসরণ করতে পারে, সেজন্য বিজিএমইএকে সহযোগিতা প্রদানের আহবান করে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এ বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, শিল্প ও বিজিএমইএ এর অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে বিজিএমইএ অন্যান্য খাতগুলোকে সহযোগিতা প্রদান করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে।




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের রেলপথ সংস্কারে ১৮৪ কোটি দেবে এডিবি

২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট-ছাতকবাজার সেকশন (মিটারগেজ) পুনর্বাসনে ১৮৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

আজ মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে হবে এই বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট-ছাতক বাজার সেকশন পুনর্বাসনের মাধ্যমে উক্ত সেকশনে রেলযোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ে এমব্যাংকমেন্ট, রেলপথ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পুনর্বাসন।

এছাড়া ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য সহজে পানি নির্গমনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও রেলওয়ে এমব্যাংকমেন্টের উচ্চতা বৃদ্ধি করা। রেলযোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোসহ মালবাহী ট্রেন চালুকরণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং রেলপথ পুনর্বাসনের মাধ্যমে ট্রেনের গতিবৃদ্ধি ও ভ্রমণ সময় হ্রাস করা।

প্রকল্প এলাকা

সিলেট জেলার সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা। ২০২৩ সালের এপ্রিল হতে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রেলওয়ে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৪১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।

প্রধান কার্যক্রম

৩৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ে এমব্যাংকমেন্ট ও রেলওয়ে ট্র্যাক পুনর্বাসন, বন্যার পানি সহজে নির্গমনের জন্য বিদ্যমান ৯টি ব্রিজ কালভার্টের অতিরিক্ত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ। তিনটি জরাজীর্ণ স্টেশন বিল্ডিং ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং তিনটি স্টেশন নন-ইন্টারলক কালার লাইট সিগনালিং স্থাপন ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থার সংস্কার।

 

পরিকল্পনা কমিশনের মতামত

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট-ছাতক সেকশনে রেলযোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং এর মাধ্যমে উক্ত অঞ্চলের জনগণ সহজে, কম খরচে ও স্বল্প সময়ে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ পাবে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য ও যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।




মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮. ৭ শতাংশ হবে: এডিবি

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) এডিবির ঢাকা অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সন চ্যাং হং।

এডিবির প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভলপমেন্ট আউটলুক-২০২৩’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক সংকটেও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিন্ত আশাব্যঞ্জক। কেননা রপ্তানি গ্রোথ দিন দিন কমে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটও প্রভাব ফেলেছে। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার ধীরগতির অন্যতম কারণ ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ। এর ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার মধ্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ গত বছর ছিল মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ, সেখান থেকে ২০২৩ সালে বেড়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও।

এডিমন গিনটিং বলেন, ‘সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার প্রভাবেও তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। পাশাপাশি সব খাতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। এই কঠিন সময়েও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করবে৷। এই সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহকে শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতকে গভীর করা, এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ানো জরুরি৷’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জলবায়ু এজেন্ডার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় নবায়নযোগ্য শক্তি সরবরাহের দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে। এই জন্য একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

এডিবির প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ কম হবে কারণ জ্বালানি ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে নানা কারণে উৎপাদন খরচও বেশি। রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতি, কঠোর ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং পাবলিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিও ধীর হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বারিও উপস্থিত ছিলেন।




বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নে এডিবির ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এশিয়ার প্রথম ক্রস-বর্ডার উইন্ড পাওয়ার (বায়ু বিদ্যুৎ) প্রকল্পের জন্য ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৃহত্তম প্ল্যান্ট। মূলত এটি একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি।

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) এডিবির প্রধান কার্যালয় ম্যানিলা থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, এডিবি তার ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল সদস্য দেশের সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে এক করতে সাহায্য করার জন্য একটি ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করেছে যা কাগজবিহীন বাণিজ্যকে এগিয়ে নেবে।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড ইনিশিয়েটিভ এবং জাতিসংঘের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ল- এর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় এডিবি। এডিবির মডেল আইনের সঙ্গে জাতীয় প্রবিধান গ্রহণ এবং একীভূতকরণের পক্ষে সমর্থন করছে। ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস জাতীয় আইনের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করে। এতে ইলেকট্রনিক হস্তান্তরযোগ্য রেকর্ডের ব্যবহার এবং স্বীকৃতি উভয় দেশের সীমানায় ব্যবহার করা যায়।

সংস্থাটির প্রাইভেট সেক্টর অপারেশনস ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক সুজান গ্যাবরি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যকে ডিজিটালাইজ করার জন্য এবং প্রবৃদ্ধি ও চাকরির ক্ষেত্রে অর্থনীতির জন্য ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যের ডিজিটালাইজেশন এডিবির জন্য একটি প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আরও টেকসই, সবুজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাণিজ্য এবং সরবরাহ চেইন তৈরি করতে কঠোর পরিশ্রম করছি।

এ বছর সেন্ট্রাল এশিয়া রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন, ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড এজেন্ডা ২০৩০-এর অধীনে ডিজিটাল বাণিজ্য ত্বরান্বিত করার অংশ হিসেবে চীন জর্জিয়াকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।




জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার চায় এডিবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এবিআর) সংস্কার চায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। নানা ধরনের পাঁচ প্রকল্পে ২৩ কোটি ডলার দিতে চায় সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিংয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎ শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ কথা জানান।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এডিবি বাজেট সহায়তা দেয়। এডিবি চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার হোক। এটা আমাদেরও প্রত্যাশা, কারণ এনবিআর সংস্কার না হলে আমাদের লক্ষ্য পূরণ কীভাবে হবে!

তিনি বলেন, নানা ধরনের পাঁচ প্রকল্পে ২৩ কোটি ডলার (প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) দিতে চায় এডিবি। এডিবি টাকা নিয়ে প্রস্তুত, আমরা প্রস্তুত হলেই এটা ছাড় হয়ে যাবে। বন্যায় দেশে সড়ক, খাবার পানি ও রেলপথের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এসব কাজে এডিবি আমাদের সহায়তা দেবে।

এ সময় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি রাজস্ব বোর্ডকে সংস্কারের জন্য। আমরা সব সময় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকি। বন্যায় দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে, এসব অবকাঠামো সংস্কারে আমরা সহায়তা দেবো।




২৩ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন এডিবির

গতবছর বন্যায় দেশের ৯ জেলা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব জেলায় পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে জরুরি সহায়তা হিসেবে ২৩ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঋণ অনুমোদন উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এডিবির প্রিন্সিপাল পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট টিকা লিমবো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে অভিযোজন পরিকল্পনাসহ অনেক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে এডিবির এ ঋণ বেশ সহায়ক হবে।

সূত্র জানায়, গত বছর দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় অনেক বৃষ্টিপাত হয়। এতে বন্যা দেখা দেয়। এই বন্যার কারণে অপেক্ষাকৃত নিচু হাওর অঞ্চলের ৭২ লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এডিবির ঋণের অর্থে ক্ষতিগ্রস্থ জেলাগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও প্রতিকূলতা প্রতিরোধের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কাজে লাগানো হবে। এই কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কাজে ব্যয় করা হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের এ ঋণে এসব জেলায় ৭৫৭ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৩৪ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। প্রয়োজনীয় সেতু এবং কালভার্টও নির্মাণ করা হবে প্রকল্পের আওতায়। আগামীতে বন্যা মোকাবিলায় যা সহায়ক হবে। প্রকল্পের কার্যক্রমে সমাজের প্রবীণ, নারী ও শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার কথা রয়েছে।

এছাড়া, আগমীতে বন্যার ক্ষতি থেকে ফসল রক্ষায় ৮০ কিলোমিটার নদীতীর উন্নয়ন এবং প্রায় চার কিলোমিটার বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। বর্ষায় পানিতে নিমজ্জিত থাকা ১৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচকাজের জন্য চারটি স্লুইস গেট সংস্কার করা হবে। নদীতীর রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে এক লাখ গাছ লাগানো হবে।