এটিবিতে লেনদেনে নতুন নির্দেশনা জারি

অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের (এটিবি) কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সোমবার (২০ মে) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি জারি করেছে।

এতে বলা হয়েছে, প্রথম ট্রেডিং দিনের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) রেগুলেশনের তফসিল এ-এর অধীনে পরিশিষ্ট ২ অনুযায়ী ন্যায্য মূল্যের উপর সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশ (পাঁচ শতাংশ) হবে।

তবে শর্ত থাকে যদি প্রথম ট্রেডিং দিন থেকে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে কোন ট্রেড বা লেনদেন সম্পাদিত না হয়, তবে ওই স্টক ব্রোকার বিক্রেতার দ্বারা নির্ধারিত বিক্রয়ের জন্য অফারটি শুরু করবে।

এছাড়া লেনদেন না করার ক্ষেত্রে, বিক্রেতা যেকোন মূল্যে অফার মূল্য নির্ধারণ করতে পারে কিন্তু তফসিল-এ এর অধীনে পরিশিষ্ট ২ অনুযায়ী গণনা করা ন্যায্য মূল্যের বেশি হবে না।

দ্বিতীয় এবং পরবর্তী লেনদেন থেকে রেগুলার সার্কিট ব্রেকার গতকালের ক্লোজিং প্রাইস বা ওপেন অ্যাডজাস্টেড প্রাইসের উপর ৫ শতাংশ (পাঁচ শতাংশ) হবে।

তবে শর্ত থাকে এটিবিতে লেনদেন করা শেয়ারের মূল্য যে কোনো সময়ে ন্যায্য মূল্যের ৩০ শতাংশের (ত্রিশ শতাংশ) বেশি হবে না।

এটিবি প্ল্যাটফর্মে ট্রেড করা সমস্ত ইক্যুইটি সিকিউরিটির লেনদেনের নিষ্পত্তি টি+৪ ভিত্তিতে হবে।

যদি এই ধরনের কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদনের তারিখ থেকে আগের ২ (দুই) বছরের মধ্যে রক্ষিত উপার্জন ব্যবহার করে বোনাস শেয়ার ইস্যু করা ছাড়া পরিশোধিত মূলধন বাড়ায় তবে সেই কোম্পানি তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ইস্যুকারী এটিবিতে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য হবে না।

এটিবিতে তালিকাভুক্তির আগে এবং পরবর্তীতে ইস্যুকারী কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক বিবৃতি এটিবিতে তালিকাভুক্তির জন্য স্টক দ্বারা ঘোষিত হিসাবে নিরীক্ষকদের প্যানেল দ্বারা নিরীক্ষিত হবে।

এই নির্দেশিকাটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড) রেগুলেশন, ২০২২ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড) প্রবিধান ৯-এর সাব-রেগুলেশন (৫) এর ধারা (ই), (এফ) এবং (জি) এর বিধানগুলিকে বাতিল করবে। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।




এটিবিতে তালিকাভুক্ত হচ্ছে আইএফআইসি ব্যাংকের বন্ড

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেয়েছে। ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত আইএফআইসি ব্যাংকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড।

রোববার (১৫ অক্টোবর) ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আইএফআইসি ব্যাংকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ডিএসইর অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের আওতায় লেনদেন করবে।

আইএফআইসি ব্যাংকের নন-কনভার্টেবল, রিডামবল, আনসিকিউরড, ফ্লোটিং রেট সাব-অর্ডিনেটেড ৫০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বন্ড অনুমোদন করা হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৫০০ কোটি টাকার বন্ড দুইটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করার জন্য অনুমোদন করেছিল।




ইউনাইটেড এয়ারে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে বিএসইসি

পুঁজিবাজারের ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরে অপেক্ষায় থাকা ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারের গত দশ বছরের আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত দরপত্র আহ্বানে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিএসইসি। সমস্ত আবেদন প্রাপ্তির পর বিএসইসি একজন নিরীক্ষক নির্বাচন করবে, যারা সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করবে।

 

কোম্পানির পূর্বের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে তাহবিল তসরুপের অভিযোগ রয়েছে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগের পরিচালনা পর্ষদ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে কারসাজি করে ইচ্ছাকৃতভাবে লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ১০ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সাবেক পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়, ইউনাইটেড এয়ারের পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্যদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) কার্যক্রমের ওপর সংগঠিত অনুসন্ধান পরবর্তী দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত কমিটির সুপারিশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সাবেক পরিচালনা পর্ষদসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের বিও হিসাবের ডেবিট ট্রানজেকশন (শেয়ার স্থানান্তর) স্থগিত করার নির্দেশ দেয় বিএসইসি। সম্প্রতি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠিয়েছে কমিশন।

 

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, কমিশন ডিপোজেটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা ১৯৯৯ এর ধারা ১৪ এর এবং প্রবিধানমালা ২০০৩ এর ৪৮ ও ৫১ (২) এর অধীনে সিডিবিএলকে অবিলম্বে চিঠিতে উল্লেখিত কোম্পানির পরিচালক, স্বতন্ত্র পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিও হিসাবের ডেবিট ট্রানজেকশন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হলো। চিঠিতে কোম্পানির পরিচালক ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী, পরিচালক শাহিনুর আলম, পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মুকদাতির, স্বতন্ত্র পরিচালক ড. বিজন কুমান সাহা এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মাহিদবুল ইসলাম চৌধুরীর বিও হিসাবের ডেবিট ট্রানজেকশন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে বিগত ৬ বছর ধরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানির আর্থিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করছে বিএসইসি। তবে সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং তহবিল তছরুপের কারণে কোম্পানিকে কোনোভাবেই দাঁড় করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাসহ চারটি সুপারিশ বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করে কোম্পানির পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ। এদিকে গত বছরে স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশন লঙ্ঘনের কারণে কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপটেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির কাছে নির্দেশনা চেয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ও পরিত্যক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে ১ লাখ ৬০ হাজার প্রান্তিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত প্রায় ৭৯৩ কোটি টাকার সুরক্ষার্থে বিএসইসি ৮ জন অভিজ্ঞ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে। তবে, কোম্পানির সাবেক ফাউন্ডার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন তাসারুল আহমেদ চৌধুরী বিদেশে পলাতক রয়েছেন। তবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বিএসইসি।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন-কাজী ওয়াহিদ উল আলম, এম সাদিকুল ইসলাম, মাসকুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূইয়া, মুহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ ও সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। কোম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন কাজী ওয়াহিদ উল আলম। আর নতুন পরিচালনা পর্ষদ ২০২১ সালের ৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই এয়ারলাইনটি পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়া ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কারণে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মূল মার্কেট থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। একই সঙ্গে গত ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কোম্পানির সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ আছে। দীর্ঘ সময় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এ ব্যর্থতার জন্য কোম্পানির সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দায়ী বলে মনে কমিশন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের বছরের ১২ জানুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারকে ওটিসি মার্কেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। এদিকে, ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিএসইসি ওটিসি মার্কেট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে, ওটিসি মার্কেটের কোম্পানিগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যত সম্ভাবনার ভিত্তিতে এসএমই প্ল্যাটফর্ম ও এটিবিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এরই ধারাবাহিকতায় বিএসইসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনাইটেড এয়ারকে ওটিসি থেকে এটিবিতে স্থানান্তর করা হবে।

বর্তমানে ৮২৮ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮২ কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ২.৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১১.০৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮৬.৪৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




ইউনাইটেড এয়ারের আগের পর্ষদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা বিএসইসি’র

পুঁজিবাজারের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরে অপেক্ষায় থাকা ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারের আগের পরিচালনা পর্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বিএসইসির চেয়ারম্যান আধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৮৬২তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইউনাইটেড এয়ারের পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্যদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) কার্যক্রমের উপর সংগঠিত অনুসন্ধান পরবর্তী দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত কমিটির সুপারিশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।