স্টিল শিল্পে আরোপিত করভার হ্রাসের প্রস্তাব

স্টিলের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা, রড বিক্রয়ের ক্ষেত্রে টিডিএস (উৎসে কর) ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়া টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা ও অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি।

সংগঠনেরটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বৈশ্বিক নানান সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই খাত। অনেক স্টিল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। অবকাঠামোগত কাজ থমকে আছে। স্টিল উৎপাদন কমে গেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চাপে আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের সব দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব হবে না। তবে, যৌক্তিক দাবি হলে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, এইচ এস কোডের জটিলতা নিরসনে কাজ করা হবে। তবে অপব্যবহার রুখতে হবে ব্যবসায়ীদের। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মূলের সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন লৌহ শিল্পের একাধিক কাঁচামালে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার ও ও আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সেকেন্ডারি স্টিল ও প্রাইম কোয়ালিটি একই ধরনের শুল্কায়ন করা হয়। এসময় ব্যবসায়ীরা কাস্টমসে ভোগান্তি নিরসন ও অগ্রিম কর তুলে নেওয়ার দাবি জানান। কয়েক বছর উদ্যোগ নিয়েও ইএফডি বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।




সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও রপ্তানি ভর্তুকির উৎসে কর দিতে হবে না

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও রপ্তানিতে নগদ ভর্তুকির ওপর উৎসে কর কর্তন করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক নয়, সেসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফাতেও উৎসে কর মওকুফ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী এসব খাতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ উৎসে কর প্রযোজ্য ছিল। বুধবার (২৩ আগস্ট) এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সই করা প্রজ্ঞাপনে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আয়কর আইন ২০২৩ এর ৭৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও নগদ রপ্তানি ভর্তুকির ওপর উৎসে কর হতে অর্জিত আয়ের বিপরীতে উৎসে কর্তিত করের পরিমাণকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে নির্ধারণ করে উৎস হতে অর্জিত আয়ের বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো করদায় পরিশোধ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।




তৈরি পোশাকে উৎসে কর দশমিক ২৫ করার দাবি

আগামী পাঁচ বছরের জন্য শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর দশমিক ২৫ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৫৩ বিধি (বিবিবিবি) ধারায় বর্তমানে রপ্তানি মূল্যের উপর উৎসে আয়কর কাটার হার ১ শতাংশ।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছে। চিঠিতে বিপিজিএমইএ জানায়, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৫৩ বিধি (বিবিবিবি) ধারায় বর্তমানে রপ্তানি মূল্যের উপর উৎসে আয়কর কাটার হার ১ শতাংশ। পরবর্তীতে রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে ২০২১-২২ অর্থবছরে এই হার শূন্য দশমিক ২৫ করা হয়েছিল। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আবার সেই হার ১ শতাংশ করা হয়েছে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও সেই হার বহাল আছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বাজেটের আগে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তখন তারা তাদের প্রস্তাব দিয়েছেন। যা বিবেচনা করার মতো ছিল, তা বিবেচনা করা হয়েছে। সব প্রস্তাব নেওয়া সম্ভব নয়।

বিপিজিএমইএ আরও জানায়, ২০২৭ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে অগ্রাধিকারমূলক ট্যারিফ সুবিধা পাবে না। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আরএমজি, এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতে নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় কম থাকলেই তা সম্ভব। এ কারণে এ খাতে আগামী পাঁচ বছর উৎসে কর শূন্য দশমিক ২৫ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে এনবিআরের প্রাক বাজেট আলোচনায় লিখিতভাবে এ প্রস্তাব করা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়েছে বিপিজিএমইএ।




পুঁজিবাজার থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে

চলতি বছরের মে মাসে পুঁজিবাজার থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৩ সালে সরকার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এই টাকা বেশি রাজস্ব পেয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের মে মাসে ডিএসইতে ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি লেনদেন হওয়ায় সরকার স্টক এক্সচেঞ্জ হোল্ডারদের লেনদেনের ওপর কমিশন থেকে উৎসে কর বাবদ ৩ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৯৬১ টাকা বেশি পেয়েছে।

সূত্র জানায়, ডিএসইতে চলতি বছরের মে মাসে দেশের ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৪৯০টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও)ধারীদের ১৮ হাজার ৬৭৩ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ২৭২ টাকার শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং বন্ডের লেনদেন হয়েছে। সেখান থেকে কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২০ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৬২৫ টাকা।

এর আগের বছর ২০২২ সালের মে মাসে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন হয়েছিল ১৪ হাজার ৬১২ কোটি ২৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৯ টাকার শেয়ার। সেখান থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২২ সালের মে মাসের তুলনায় ২০২৩ সালের মে মাসে লেনদেন বেড়েছে। আর লেনদেন বাড়ায় সরকার এ খাত থেকে ৩ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৯৬১ টাকা রাজস্ব বেশি পেয়েছে।

শুধু আগের বছরের তুলনায় নয়, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের তুলনায়ও মে মাসে সরকারের রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে। এপ্রিল মাসে রাজস্ব আয় হয়েছিল ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ১৭ হাজার ৮০৭ টাকা।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও  বলেন, ডিএসইতে যত লেনদেন বাড়বে, সরকার তত এখান থেকে রাজস্ব আয় পাবে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে গতিশীল রাখতে তালিকাভুক্ত-অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ব্যবধান রাখার দাবি জানিয়েছি। সরকারি, বেসরকারি এবং বহুজাতিক ভালো ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে অনুরোধ জানিয়েছি। এসব কোম্পানি বাজারে এলে বাজার চাঙা থাকবে। লেনদেন ৫শ, ১ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৪ হাজার বা ৫ হাজার কোটি হলে সরকারও অনেক বেশি রাজস্ব পেত। সুতরাং লেনদেন বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।

এ বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাফিজ মোহাম্মদ হাসান বাবু বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা দুই পা এগোলে এক পা পেছায়। আমরা চেষ্টা করছি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা দূর করতে। বিনিয়োগকারীদের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ দিতে। বিনিয়োগকারীরা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ পেলে বাজারে আসবে। তাহলে লেনদেন বাড়বে। আর লেনদেন বাড়লে সরকার এ খাতে থেকে রাজস্ব আরও বেশি পাবে।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দুই ধরনের শেয়ার কেনাবেচা থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে। প্রথমটি হলো, কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচা থেকে রাজস্ব আয়। দ্বিতীয়টি হলো, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচায় ব্রোকারেজ হাউজের ওপর আরোপিত কর।

ডিএসইর তথ্য মতে, দুই ধরনের করের মধ্যে প্রথমটি হলো–৫৩ বিধি ধারা, এই ধারায় ডিএসইর স্টেক হোল্ডারদের অর্থাৎ ব্রোকার হাউজের প্রতিনিধিদের লেনদেনের ওপর দশমিক ০৫ শতাংশ কর। এ খাত থেকে এপ্রিলে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১২ টাকা। আগের বছরের একই মাসে এই রাজস্ব আয় ছিল ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৫১৭ টাকা।

অন্যদিকে, বিএসইসি রুলস ৫৩-এম অনুসারে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার কেনাবেচা বাবদ লেনদেন ও শেয়ার হস্তান্তর থেকে ৫ শতাংশ হারে কর বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩১৩ টাকা। ২০২২ সালের একই সময়ে এই রাজস্ব আয় ছিল ৩ কোটি ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৯ টাকা।

সব মিলিয়ে ডিএসই থেকে চলতি বছরের মে মাসে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২০ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৬২৫ টাকা। ডিএসই এই টাকা সরকারের কোষাগার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিয়েছে। তার আগের এপ্রিল মাসে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ১৭ হাজার ৮০৭ টাকা।

এক মাস হিসাবে ডিএসই থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও অর্থবছরের হিসেবে সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে। সরকার ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ে মোট ১১ মাসে ৭৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৫ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, সরকার চলতি বছরের ১১ মাসে ডিএসই থেকে রাজস্ব বাবদ পেয়েছে ২৫৫ কোটি ১১ লাখ ৯১ হাজার ৩৫৯ টাকা। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের লেনদেন থেকে সরকার ৩৩৪ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৪ টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। অর্থাৎ ৭৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৫ টাকা বঞ্চিত হয়েছে সরকার।