বেতন-বোনাস পায়নি সাড়ে ৫ হাজার কারখানার শ্রমিক

ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। আর মাত্র একদিন পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানেও ঈদের ছুটি শুরু হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মার্চ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পায়নি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কারখানার শ্রমিক। শুধু তাই নয়, ৫০টির বেশি কল-কারখানার শ্রমিকরা এখনো ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পায়নি।

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বেতন-বোনাস নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে শ্রমিকদের। এমন পরিস্থিতিতে ঈদ বোনাস ও অর্ধেক মাসের বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি থেকে শুরু করে মহাসড়কও অবরোধ করছেন শ্রমিকরা।

কারখানা মালিকদের নেতারা আশ্বস্ত করছেন, বেতন ও বোনাস দিয়েই কল-কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হবে। ঈদের আগেই সব বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হবে।

অন্যদিকে ২৫ রমজান থেকে ২৭ রমজানের মধ্যে বেতন-বোনাস দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্যমতে, দেশে মোট ৯ হাজার ৬১৬ কলকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৮৮টি কারখানার শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন- ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। তার মধ্যে শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন দেয়নি ১ হাজার ১৫৫টি কারখানা। আর বোনাস দেয়নি ৪ হাজার ৩৩৩টি কারখানার মালিকরা।

শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, দেশের ৯ হাজার ৬১৬টি কল-কারখানার মধ্যে সর্বশেষ মার্চ মাসের শ্রমিকদের বেতন দিয়েছে ৮ হাজার ৪৬১টি। অর্থাৎ ১ হাজার ১৫৫টি কল-কারখানায় মার্চ মাসের বেতন হয়নি। শতাংশের হিসেবে ৮৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ১২ দশমিক ১ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বাকি রয়েছে।

বাকি থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ১৬৩১টি কারখানার মধ্যে ১৪৮৪টির বেতন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৪৭টি কারখানায় এখনো বেতন হয়নি।

একইভাবে বিকেএমইএ’র ৯৫টি, বিটিএমএ’র ২৪টি, বেপজার ১টি এবং অন্যান্য ৮৮৮টি কল-কারখানায় বেতন দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনও দেয়নি ৫০টি কলকারখানা মালিক।

অপরদিকে ৯ হাজার ৬১৬টি কল-কারখানার মধ্যে শ্রমিকদের ঈদের বোনাস দিয়েছে ৫২৮৩টি কারখানা। অর্থাৎ ৪ হাজার ৩৩৩টি কারখানায় বোনাস হয়নি। যা শতাংশের হিসেবে ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

এখনো বোনাস দেয়নি এমন কারখানার মধ্যে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেশি। এ খাতের ১৬৩১টির মধ্যে বোনাস পেয়েছে মাত্র ৮৫১টি কারখানার শ্রমিক। বাকি ৭৮০টি কারখানার শ্রমিকরা বোনাস পায়নি। যা শতকরা হিসেবে ৪৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।

একইভাবে বিকেএমইএর ৭০০টির মধ্যে বোনাস পায়নি ২৪৬টির। বিটিএমএর ৩৫৮টির মধ্যে বোনাস হয়নি ১৭৪টির। বেপজার ৩৪৫টি কারখানার মধ্যে বোনাস হয়নি ২০টির।

পাটকল খাতের ৮৩টি কল-কারখানার মধ্যে ৪৪টির বোনাস পায়নি শ্রমিকরা। এছাড়া অন্যান্য খাতের ৬ হাজার ৪৯৯টি কারখানার মধ্যে বোনাস হয়নি ৩ হাজার ৬৯টির। সবমিলিয়ে ৪ হাজার ৩৩৩টি কারখানায় বোনাস হয়নি। শতাংশের হিসেবে ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের বোনাস পরিশোধ হয়নি।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মার্চ মাসের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে। অল্প কিছু কারখানায় বেতন বাকি রয়েছে এগুলো আজ কালকের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে। আর বেতনের পাশাপাশি বোনাস দিয়ে তারপরই কারখানাগুলো ঈদের ছুটিতে যাবে।

বিজিএমইএ’র পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, হাতে গোনা কয়েকটি গার্মেন্টস হয়তো দেরি করছে কিন্তু অধিকাংশ কারখানা শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আজ থেকে সরকারি ছুটি কিন্তু ২১ এপ্রিল থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি শুরু হবে। এই দুদিনে বড় অংশের বেতন ও বোনাস দেওয়া হয়।

তিনি প্রত্যাশা করেন, গত দুই-তিন বছর ধরে দুই-একটি কারখানা ছাড়া বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। এবছরও বেতন-বোনাস নিয়ে ঝামেলা হবে না। ঝামেলা সৃষ্টি হলে সবার উদ্যোগে সমাধান করা হবে। তবুও শ্রমিকদের ঈদের বেতন বোনাস পরিশোধ করা হবে।

নিটওয়্যার কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা ছিল। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের প্রাইম টেক্সটাইল গতকাল বেতন-বোনাস দিয়ে দিয়েছে। আর একটি হচ্ছে- গাজীপুরের ক্রসলাইন টেক্সটাইল, এই কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিয়ে দেবে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো সমস্যা দেখছি না। তারা ছুটির আগের বেতন-বোনাস দুটোই দিয়ে দিবে।

পোশাক কারখানা শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ-জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, অর্ধেকের বেশি কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়নি। মালিকরা বলছেন দিয়ে দিবেন। আমরা তাদের বারবার বলার চেষ্টা করছি দ্রুত দিতে। কিন্তু তারা দেরি করছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঈদে ছুটি শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো অর্ধেক প্রতিষ্ঠানে বেতন-বোনাস হয়নি। ফলে ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি ছিল- ১৮ এপ্রিলের মধ্যে বেতন-বোনাস দিয়ে দেওয়ার জন্য। কারণ এরপর ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ফলে শ্রমিকদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি হবে। কিন্তু এই সময়ে এখনো অর্ধেক শ্রমিক বেতন-বোনাস পায়নি। আমরা মালিকপক্ষকে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছি।

এদিকে বেতন-বোনাস পরিশোধ না করায় মঙ্গলবার গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল মিলস নামে একটি কারখানার শ্রমিকরা।

রাজধানীর উত্তরার ইন্ট্রাকো ডিজাইন ও ইন্ট্রাকো ফ্যাশন লিমিটেডের এখনো সমস্যা চলছে। ভালুকার এডাম টেক্সটাইল লিমিটেড ও গাজীপুরের ক্রসলাইন এবং নারায়নগঞ্জের প্রাইম টেক্সটাইলের শ্রমিকরা বেতন বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি দিয়েছে। মালিকরা বেতন-বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখনো বেতন বোনাস পায়নি শ্রমিকরা।

ঈদের ছুটির আগে দ্রুত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এ আহ্বান জানান।

শ্রমিক নেতারা বলেন, শ্রমজীবী মানুষরা যেন খুশি মনে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ঈদের পূর্বে পরিশোধ করতে হবে।

তারা বলেন, প্রতি বছর ঈদের পূর্বে কিছু কিছু কল-কারখানায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মালিকরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে কারখানাগুলোতে ছুটি দিয়ে দেন। এতে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হন। শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ বছর যেন বিগত বছরগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য মালিকদের যথাসময়ে বেতন-ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।




কল-কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু

ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরি পোশাক, নীটওয়ার এবং অন্যান্য খাতসহ প্রায় তিনশ কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্পাঞ্চল পুলিশের এ তথ্য মতে, দেশের মোট ৯ হাজার ৬১৬টি কল-কারখানায় শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানাসহ মোট ২৮১টি কল-কারখানায় শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

শিল্প পুলিশ বলছে, কাজের প্রচণ্ড চাপ থাকায় এ বছর ৭৯টি কারখানায় ঈদের ছুটি হচ্ছে না। তবে এই ঈদের ছুটি পরবর্তীতে শ্রমিকরা ভোগ করতে পারবেন।

সূত্র জানায়, দেশের ৮টি অঞ্চলের মধ্যে ১ নম্বর অঞ্চল আশুলিয়াতে ১ হাজার ৭৯২টি কারখানার মধ্যে ৬৪টি কারখানা ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অঞ্চল গাজীপুরের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টি কল-কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে ৩ নম্বর অঞ্চল চট্টগ্রামের ১ হাজার ৪৮০টি কল-কারখানার মধ্যে ১৬৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বর অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের ২২০৭টি কারখানার মধ্যে ১৮টি কারখানায় এবং খুলনায় অঞ্চলে ৩টি কল-কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

আজ ও কাল (বৃহস্পতিবার) আরো বেশি কিছু কোম্পানিতে ঈদের ছুটি দেওয়া হবে। আর শুক্রবার থেকে বাকি সব কল-কারখানা ছুটি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা নেতারা।

তারা বলছেন, একসঙ্গে সব কল-কারখানা ছুটি হলে বাড়ি ফেরা নিয়ে শ্রমিকদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। তাই কারখানা মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে ধাপে ধাপে, আগে পরে করে ছুটি দিয়ে দেওয়ার জন্য। কারখানা মালিকরাও সেই নির্দেশনা অনুসারে বেতন-বোনাস দিয়ে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি ঘোষণা করছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, যেসব কারখানায় অর্ডার কম রয়েছে শ্রমিকদের বেতন বোনাস দিয়ে তারা ঈদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। এবার আমরা বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানা মালিকদের বলেছি, ধাপে ধাপে ছুটি দিতে। যাতে শ্রমিকদের ভাই ও বোনদের যাতায়াতের ভোগান্তি কম হয়। তাই তারাও সেভাবে ছুটি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার ঈদের শ্রমিকরা লম্বা ছুটি পাবেন। অনেক কারখানা ঈদের এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ২৯ কিংবা ৩০ এপ্রিলও খোলবে। তবে যাদের অত্যন্ত সমস্যা তারা ২৫, ২৬ এপ্রিল কারখানা খোলবে।

নীটওয়ার মালিকদের প্রতিষ্ঠান বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঢাকা পোস্টকে বলেন, শ্রমিকরা যাতে সুন্দরভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য এবার ধাপে ধাপে ঈদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে কারখানাগুলোতে। তিনি বলেন, সবার বেতন-বোনাস দিয়েই সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঈদের ছুটি দিয়েছে বেশ কিছু কারখানায়।

তবে বৃহস্পতিবার থেকে অধিকাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি থাকবে বলে জানান তিনি।

এদিকের ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পোশাক কারখানা বেশ কয়েক দিন বন্ধ থাকবে। এ সময় কারখানায় থাকবেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ অবস্থায় কারখানায় যাতে কোনো অগ্নিদুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিজিএমইএ।

কারখানা বন্ধকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে কারখানায় জরুরিভিত্তিতে ৭ পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে পোশাক মালিকদের এ সংগঠন। সোমবার বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সই করা এক চিঠিতে এসব সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশগুলো হলো

১. কারখানা বন্ধ করার পূর্বে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে জেনারেটর, বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ, বয়লার, এসি, কম্পিউটার, সব ফ্লোরের মেশিনারিজ, লাইট, ফ্যান, আয়রন, ইলেকট্রিক হিটার/কেটলি ইত্যাদি বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা। নিরাপত্তার স্বার্থে শুধুমাত্র রাতে জরুরি বাতি জ্বালানো যাবে।

২. কারখানার মালামালের নিরাপত্তার স্বার্থে মূল গেটসহ ভবনের সব দরজা, জানালা ইত্যাদি বন্ধ রাখা।

৩. জরুরি অবস্থা (অগ্নিদুর্ঘটনা বা যেকোনো দুর্ঘটনা) এবং পুরো কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে প্রশিক্ষিত সিকিউরিটি গার্ড নিযুক্ত রাখা।

৪.তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নির্বাপণ করার জন্য কারখানায় প্রয়োজনীয় অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, পানি ভর্তি ড্রাম ও বালতি এবং হোজরিল/হাইড্রেন্টসমূহ কার্যকর আছে কি না তা পরীক্ষা করা।

৫. যেকোনো ধরনের নিরাপত্তার জন্য কারখানার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় রাখা এবং সেগুলো সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

৬. যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য সিকিউরিটি গার্ডকে অবশ্যই নিকটস্থ থানা এবং জরুরি সেবার নম্বর হাতের কাছে রাখার নির্দেশ দেওয়া।

৭. কারখানা খোলার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, এসি, জেনারেটর, বয়লার, কমপ্রেসর ইত্যাদি চালু করার পূর্বে পরীক্ষা করে নেওয়া। বিশেষ করে বয়লার চালু করার পূর্বে বয়লারের সব ইনলেট-আউটলেটের ভাল্ব পরীক্ষা করে নেওয়া।