বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দিন ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের নির্ধারিত ছুটি। সাধারণ ছুটির কারণে এই সময়ে ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং রপ্তানি বিল বিক্রয়ের সুবিধার্থে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ ও ১৯ মার্চ পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ওই দুই দিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে নির্ধারিত সময়ে লেনদেন চলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে গত ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরি পােশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সরকারি ছুটির দিন ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে খােলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপােশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

 

ছুটির দিন ব্যাংক লেনদেন সূচি—

সকাল ১০টা থে‌কে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে আর অ‌ফিস চল‌বে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে। ছুটির মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন তাদের বিধি মোতাবেক ভাতা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।




ঈদের আগে ছুটিতে দুদিন পোশাক শিল্প এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ঈদের ছুটি রয়েছে। এসময় বন্ধ থাকবে ব্যাংকও।

তবে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ ও রপ্তা‌নি বিল বিক্র‌য়ের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় ১৮ ও ১৯ মার্চ সী‌মিত প‌রিস‌রে ব্যাংক খোলা রাখ‌তে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দুইদিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে লেনদেন চলবে নির্ধারিত সময়ে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরিপােশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সরকারি ছুটির দিন ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে খােলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপােশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

ছুটির দিন ব্যাংক লেনদেন সূচি

সকাল ১০টা থে‌কে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে, আর অ‌ফিস চল‌বে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে।

ছুটির মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবে তাদের বিধি অনুযায়ী ভাতা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।




ঈদযাত্রায় পাঁচ রুটে চলবে বিশেষ ট্রেন

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রুটে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রেলপথ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম ছাড়বে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে, চাঁদপুর পৌঁছাবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২ ট্রেন চাঁদপুর ছাড়বে ভোর ৪টায়, চট্টগ্রাম পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে।

ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে তিস্তা স্পেশাল-৩ ঢাকা ছাড়বে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে, দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। তিস্তা স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ ছাড়বে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে, ঢাকা পৌঁছাবে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে।

ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ট্রেন ভৈরববাজার ছাড়বে সকাল ৬ টায়, কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮ টায়। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৬ কিশোরগঞ্জ ছাড়বে দুপুর ১২টায়, ভৈরববাজার পৌঁছাবে দুপুর ২টায়।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ট্রেন ময়মনসিংহ ছাড়বে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে, কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৮ ট্রেন কিশোরগঞ্জ ছাড়বে দুপুর ১২টায়, ময়মনসিংহ পৌঁছাবে বিকেল ৩টায়।

জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ট্রেন জয়দেবপুর ছাড়বে সন্ধ্যা ৭টায়। পার্বতীপুর পৌঁছাবে রাত ২টা ৩০ মিনিটে। পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর ছাড়বে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে, জয়দেবপুর পৌঁছাবে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে৷

ঈদের পর পার্বতীপুর স্পেশাল-৯ ট্রেন জয়দেবপুর থেকে ছাড়বে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে, পার্বতীপুর পৌঁছাবে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে। পার্বতীপুর স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে ছাড়বে রাত ১০টা ২০ মিনিটে, জয়দেবপুর পৌঁছাবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে।

এবারের ঈদযাত্রার অগ্রীম টিকিট বিক্রি হবে ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত এবং ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি হবে ১৩ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। এবারও শতভাগ টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে।

এছাড়া আসন্ন ঈদযাত্রা উপলক্ষ্যে আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (ডে-অফ) প্রত্যাহার করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




ঈদের পর এখনো চালু হয়নি ১১ গার্মেন্টস

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানী ও আশপাশের অধিকাংশ গার্মেন্টসে কর্মচাঞ্চল্য ফিরলেও এখনো নিরবতা বিরাজ করছে কিছু পোশাক কারখানায়। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য বলছে, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর সোমবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত এখনো ১১টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এসব কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির আওতাধীন মোট দুই হাজার ৩৪টি কারখানার মধ্যে দুই হাজার ২৩টি ইতোমধ্যে খুলে গেছে। অর্থাৎ বর্তমানে খোলা কারখানার হার ৯৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে বাকি ১১টি কারখানা এখনো ছুটির তালিকায় রয়েছে। যা মোট কারখানার ০ দশমিক ৫২ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৮৫৪টি চালু কারখানার মধ্যে ৮৪৭টি খোলা থাকলেও বাকি ৭টি এখনো বন্ধ। আর সাভার-আশুলিয়া ও জিরানি অঞ্চলে ৪০০টি কারখানার মধ্যে ৩৯৬টি চালু রয়েছে। সেখানেও এখনো চারটি কারখানা খোলা হয়নি।

নারায়ণগঞ্জে ১৮৮টি কারখানার মধ্যে ১৮৭টি চালু থাকলেও একটি এখনো ছুটিতে রয়েছে। তবে, ডিএমপি এলাকাভুক্ত ৩২১টি কারখানা এবং চট্টগ্রামের ৩৬৩টি কারখানার সবগুলোই খোলা রয়েছে। ফলে এই দুই অঞ্চলে বন্ধ কারখানার হার শূন্য শতাংশ।

এসব কারখানা কেন বন্ধ রয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ বলছে, কিছু কারখানায় লে-অফ ঘোষণা, কিছু কারখানায় উৎপাদন ঘাটতি, রপ্তানি আদেশ সংকটের কারণে এখনো কার্যক্রম চালু হয়নি।

অন্যদিকে, শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি পাঁচটি কারখানা। যার মধ্যে রয়েছে— বেসিক নিটওয়্যার লিমিটেড, টিএনজেড এ্যাপারেলস লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস ইকো লিমিটেড, ব্যাসিক ক্লোথিং লিমিটেড এবং রোয়ার ফ্যাশন লিমিটেড। তবে, শ্রম মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে এসব কারখানার শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মার্চ মাসের ১৫ থেকে ৩০ দিনের বেতন দিয়েছে— এমন কারখানার সংখ্যা দুই হাজার ১৯টি এবং বেতন না দেওয়া কারখানার সংখ্যা পাঁচটি।

কয়েকটি কারখানা চালু না হওয়া নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, কারখানা খোলা, বন্ধ হওয়া কিংবা নতুন কারখানা চালু হওয়ার বিষয়গুলো গার্মেন্টস সেক্টরে একটি চলমান প্রক্রিয়া। তা ছাড়া, অর্থনৈতিক সমস্যা, অর্ডারের সংকট ইত্যাদি কারণে চলমান কারখানাগুলোর মধ্যে কিছু কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। বিভিন্ন কারণে সবসময় শতভাগ কারখানা খোলা না-ই থাকতে পারে, এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। প্রায় ৯৯.৪৮ শতাংশ কারখানা ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ইঙ্গিত।

এটি উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




ট্রেনে ঈদযাত্রার ২৯ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৪ মার্চ ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ ১৯ মার্চ পাওয়া যাচ্ছে ২৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট ৷

বুধবার (১৯ মার্চ) সকাল ৮টায় পঞ্চম দিনের মতো অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় ৷ অগ্রিম টিকিটের শতভাগই বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। যাত্রীদের সুবিধায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টায় এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেই অনুযায়ী এই দুই সময়ে দুই অঞ্চলের টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ মার্চ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অগ্রিম টিকিট বিক্রির তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ৩১ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদযাত্রায় এবার প্রতিদিন ঢাকা থেকে ৩৫ হাজার ৩১৫টি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে।

এছাড়া বিগত বছরগুলোতে ঈদযাত্রায় ৮ থেকে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালাতো বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু এবার সেটি কমিয়ে ৫ জোড়া করা হয়েছে।




ঈদের দিন স্থলবন্দর বন্ধ, সীমিত আকারে চলতে পারে কাস্টমস-পোর্ট

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ বা ১১ এপ্রিল দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে। সরকার রমজান ৩০ দিন ও ঈদুল ফিতর ১১ এপ্রিল ধরে আগামী ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে। তবে গুঞ্জন রয়েছে ঈদের ছুটি আরও একদিন বাড়তে পারে। সরকারি ছুটি চূড়ান্ত না হওয়ায়, ঈদের ছুটিতে স্থলবন্দর এবং কাস্টমস ও নদীবন্দর ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

জানা গেছে, শুধু ঈদের দিন দেশের ২৪টি স্থলবন্দর বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে ঈদের ছুটিতে ১০ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) কাস্টমস হাউস/স্টেশনগুলোর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে পারে জাতীয় রাজস্ব রোর্ড। একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে চট্টগ্রাম বন্দরও।

এবার ঈদে লম্বা ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে দেশ। আগামী ১১ এপ্রিল বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর হতে পারে ধরে নিয়ে চলতি বছরের ছুটির তালিকা বছরের শুরুতেই সাজিয়ে রেখেছে সরকার। সরকারি ক্যালেন্ডারে ঈদের ছুটি ধরা হয়েছে ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল। ঈদের ছুটির পর ১৩ এপ্রিল শনিবার, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের ছুটি।

এছাড়া ঈদের আগে ৭ এপ্রিল শবে কদরের ছুটি। তার আগের দুদিন ৫ ও ৬ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। ফলে ৮ ও ৯ এপ্রিল ছুটি পেলে সরকারি চাকরিজীবীরা এবার ঈদে ছুটি কাটাতে পারবেন টানা ১০ দিন। তবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আগামী ৯ এপ্রিল ছুটি রাখার সুপারিশ করেছে সরকারের কাছে।




শুক্রবার যেসব এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও রপ্তানি কার্যক্রম ঠিক রাখতে পোশাক কারখানা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাংকের কিছু শাখা খোলা রাখা হচ্ছে। সেগুলো হলো, ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা।

এসব শাখা বুধবার (১৯ এপ্রিল) ও বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল সীমিত) পরিসরে খোলা ছিল। আগামীকাল শুক্রবার অর্থাৎ ২১ এপ্রিলও সরকারি ছুটির দিন ওইসব এলাকায় ব্যাংক খোলা থাকবে।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রপ্তানি বিল বিক্রয়ের এবং উক্ত শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন, বোনাসসহ অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ১৯, ২০ এবং ২১ এপ্রিল সরকারি ছুটির দিন সীমিত সংখ্যক লোকবলের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

শুক্রবার ব্যাংক লেনদেন সূচি

শুক্রবার সকাল সা‌ড়ে ৯টা থে‌কে দুপুর সা‌ড়ে ১২টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে আর অফিস চল‌বে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে।

ঈদ পরবর্তী সময়ে তফসিলি ব্যাংকের অফিস সময় রোজার আগের নিয়‌মে চল‌বে। অফিস চল‌বে সকাল ১০টা থে‌কে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এবং লেনদেন হ‌বে ১০টা থে‌কে বিকাল সা‌ড়ে ৩টা পর্যন্ত।

ঈদের ছুটিতে চেক ক্লিয়ারিংয়ে নতুন সময়সূচি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলবে। ঈদ উপলক্ষ্যে ২০, ২১, ২২ ও ২৩ এপ্রিল (মোট ৪ দিন) ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে ক্লিয়ারিং হাউজে লেনদেনে আন্তঃব্যাংকের চেক নিষ্পত্তির নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঈদের ছুটির চারদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস), স্বয়ংক্রিয় চেক নিকাশ ঘর (বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজ-বিএসিএইচ বা ব্যাচ) কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

এ সেবার মাধ্যমে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বা অন্য ব্যাংকের গ্রাহককে অর্থ পরিশোধ ও স্বয়ংক্রিয় চেক নিষ্পত্তি করে থাকে। বিএসিএইচ-এর মাধ্যমে হাই ভ্যালু চেক (৫ লাখ টাকার বেশি) এবং রেগুলার ভ্যালু চেক (৫ লাখ টাকার কম) নিকাশ ব্যবস্থা নিষ্পত্তি করা হয়। ছুটিতে হাই ভ্যালুর চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য বেলা সাড়ে ১০টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

এগুলো দুপুর ১২টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। আর যেকোনো রেগুলার ভ্যালুর চেক বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে ক্লিয়ারিং হাউজে পাঠাতে হবে। এসব চেক দুপুর দেড়টার (১:৩০) মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) সেবা আগের নিয়মে চলবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।




৭৯ কারখানায় এবার ঈদের ছুটি হচ্ছে না

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার এবং অন্যান্য খাতসহ প্রায় ৩০০ কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানাসহ মোট ২৮১টি কলকারখানায় শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

শিল্প পুলিশ বলছে, কাজের প্রচণ্ড চাপ থাকায় এ বছর ৭৯টি কারখানায় ঈদের ছুটি হচ্ছে না। তবে শ্রমিকরা এই ঈদের ছুটি পরবর্তী সময়ে ভোগ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ শিল্পাঞ্চল পুলিশের তথ্যমতে, দেশে মোট ৯ হাজার ৬১৬টি কলকারখানা রয়েছে। তাতে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমরা বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানা মালিকদের বলেছি ধাপে ধাপে ছুটি দিতে, যাতে শ্রমিক ভাই-বোনদের যাতায়াতের ভোগান্তি কম হয়। তাই তারাও সেভাবে ছুটি দিচ্ছে।

নিটওয়্যার মালিকদের প্রতিষ্ঠান বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকরা যাতে সুন্দরভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য এবার ধাপে ধাপে ঈদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে কারখানাগুলোতে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে অধিকাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি থাকবে বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, দেশের ৮টি শিল্পাঞ্চলের মধ্যে ১ নম্বর অঞ্চল আশুলিয়ায় ১ হাজার ৭৯২টি কারখানার মধ্যে ৬৪টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অঞ্চল গাজীপুরের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে ৩ নম্বর অঞ্চল চট্টগ্রামের ১ হাজার ৪৮০টি কারখানার মধ্যে ১৬৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বর অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের ২ হাজার ২০৭টি কারখানার মধ্যে ১৮টি কারখানায় এবং খুলনায় অঞ্চলে ৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

আজ ও কাল (বৃহস্পতিবার) আরও বেশি কিছু কারখানা ঈদের ছুটি দেওয়া হবে। আর শুক্রবার থেকে বাকি সব কল-কারখানায় ছুটি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা নেতারা।

তারা বলছেন, একসঙ্গে সব কল-কারখানায় ছুটি হলে বাড়ি ফেরা নিয়ে শ্রমিকদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। তাই কারখানার মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে ধাপে ধাপে, আগে-পরে করে ছুটি দিয়ে দেওয়ার জন্য। কারখানা মালিকরাও সেই নির্দেশনা অনুসারে বেতন-বোনাস দিয়ে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি ঘোষণা করছেন।




আজ থেকে সড়কে ট্রাক চলাচল বন্ধ

ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে মহাসড়কে আজ বুধবার (১৯ এপ্রিল) থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

মঙ্গলবার গণপরিবহন সংক্রান্ত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিআরটিএ।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উল্লিখিত সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রীসহ রপ্তানিপণ্যবাহী যানবাহন, ওষুধ, সার, কাঁচা চামড়া এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনসমূহ এর আওতামুক্ত থাকবে। পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

টোল প্লাজায় যানজট এড়াতে টোলের সমপরিমাণ ভাংতি টাকা ভাংতি রাখতে হবে এবং ঈদের পূর্বের সাতদিন থেকে সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।




পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ৫ দিন

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) মোট ৫ দিন দেশের পুঁজিবাজার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি থাকছে দুই দিন।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

ঈদের ছুটির পর আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন যথারীতি সকাল ১০টায় শুরু হবে এবং দুপুর ২টা ২০মিনিট পর্যন্ত চলবে। ওইদিন থেকে পোস্ট ক্লোজিং দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হবে। তবে অফিস সময় সকাল ৯ টা থেবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হবে।

এদিকে ২৯ রোজার হিসেব ধরে আগামী বুধবার থেকে থাকছে ঈদের ছুটি। টানা পাঁচ দিন বন্ধের পর আগামী ২৪ এপ্রিল পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু হবে। তবে রোজা যদি ৩০টি হয়। সে হিসেবে ছুটি আরো একদিন বাড়বে। মানে ঈদের ছুটির পর আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হবে।




চাহিদা বাড়ায় চিনির দাম বেড়ে গেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বাজারে চিনির চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জুট প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল’-জেপিবিপিসির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ঈদ ঘিরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিনির দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও বাজারে দাম বেড়েছে, সাংবাদিকরা এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সম্প্রতি লক্ষ্য করেছি যে চিনির দাম একটু ঊর্ধ্বমুখী। আমরা বলেছিলাম চিনির দাম পাঁচ টাকা কমাবো। পরবর্তীকালে হিসাব-নিকাশ করে দেখা যায় তিন টাকা ৫০ পয়সা কমানো যায়। যখনই এটা আলোচনা চলছিল তখনই চিনির দাম আবার বাড়ানো হয়। রমজানের শেষ দিকে ঈদ ঘিরে চিনির চাহিদা অনেক বেড়েছে। যে কারণে দামও বেড়েছে। দাম যে বেড়েছে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যেটা হয় তা আপনারা বোঝেন। যখন আমরা একটি দাম ঠিক করি, এরমধ্যে গত ১৫ দিনে বিশ্ববাজারে চিনির দাম আরও ১০০ ডলার বেড়েছে। যেটা বেড়েছে সেটা দেশে আসতে আরও এক মাস সময় লাগবে। কিন্তু আপনারা জানেন- ব্যবসায়ীরাতো সুযোগ নিয়েই থাকে। আগামীতে বাড়বে, তারা আগে থেকেই সুযোগটা নেয়। রমজান মাসও শেষ দিকে, তাই ঈদ সামনে রেখে চিনির দামে একটু প্রভাব পড়েছে। চাহিদা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, যা বলেছিলাম তার থেকে দাম একটু বাড়তি আছে। (বাজার নিয়ন্ত্রণের) আমরা চেষ্টা করছি। এতো বিশাল মার্কেট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, আসলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আমরা চেষ্টা করছি নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য, যতদূর পারা যায় আর কি।

মুরগির বাজারের অস্থিরতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, মুরগির বিষয়টি আমাদের দেখার নয়। সেটি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিষয়। একটা ব্যাপার কি, কেউ কিন্তু আমাদের কাছে ফ্রেম মেনে আসে না। মুরগি, ডিম, বেগুন, আম, সবকিছু আমাদের কাছে নিয়ে আসে। মুরগি নিয়ে যখন প্রশ্ন করেন আমাকে উত্তর দিতে হলে জানতে হবে মুরগির উৎপাদন খরচ কত। সেটা তো আমি জানি না।

তিনি বলেন, আমাদের ভোক্তা অধিকার সবসময় বাজার তদারকি করছে। ফলে কখনো কখনো দাম কমেও আসছে। মূল কথা হলো- প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যদি একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দিতে পারতো তাহলে সুবিধা হতো। তাহলে আমরা চেষ্টা করে দেখতাম কী করা উচিৎ। এটা নিয়ন্ত্রণ করে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তারপরও আমরা বিষয়টি দেখতে ভোক্তা অধিকারকে বলবো।




ঈদের আগে চড়া মসলার বাজার

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দাম বেড়েছে মসলা জাতীয় পণ্যের। বিক্রেতারা বলছেন, তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দাম রাখতে হচ্ছে।

আর, ক্রেতারা বলছেন ঈদের আগে সব সময় মসলার দাম বিনা কারণে বেড়ে যায়।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি ও খুচরো মসলার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বড় এলাচ প্রতি কেজি ১৬০০-২৬০০ টাকা, মাঝারি এলাচ ১৪০০-১৫০০ টাকা, ছোট এলাচ ১২০০-১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় জিরা ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য মসলার মধ্যে লবঙ্গ ১৪০০-১৫০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ৯৫০-১০০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৬৫০-৭০০ টাকা, দারুচিনি ৪১০-৫২০ টাকা, ধনিয়া ১৩০-১৬০ টাকা, সরিষা ৩০০-৩৫০ টাকা, মেথি ৩৫০-৪০০ টাকা, তেজপাতা ১৫০-২০০ টাকা, মিষ্টি জিরা ৪০০-৫০০ টাকা, কালিজিরা ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি মসলা গড়ে ১০-১০০ টাকা কেজি প্রতি বেড়েছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে। জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ বাংলানিউজকে বলেন, মসলা আমরা কিনেছি বাড়তি দামে। তাই বিক্রি করতে হচ্ছে কিছুটা বেশি দামেই। আর, ঈদের আগে বাজার একটু চড়া-ই থাকে।

একই বাজারে কথা হয় ক্রেতা শাহজাহান খন্দকারের সঙ্গে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, প্রত্যকে ঈদে মানুষ মাংসটা একটু বেশি খায়। যে কারণে মসলার চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় একটু বেশি থাকে। আর চাহিদা বেশি মানেই দামও বাড়বে। অন্তত, এ দেশে এটাই নিয়ম। অন্যকিছু না। অহেতুক দাম বাড়িয়েছে বিক্রেতারা।

এদিকে, বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা, দেশি রসুন ৭০-১০০টাকা, আমদানি করা রসুন ১২০-১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০-১২০ টাকা, দেশি শুকনা মরিচ ৩৯০-৪৪০ টাকা, আমদানি করা শুকনা মরিচ ৪২০-৪৬০ টাকা, দেশি হলুদ ২২০-২৯০ টাকা, আমদানি করা হলুদ ১৯০-২৩০ টাকা, দেশি আদা ২২০-২৪০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৩০-২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমান বাজারে খোসাযুক্ত চীনাবাদাম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। তবে খোসাবিহীন বাদাম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া কাঠবাদাম ৮০০-৯০০ টাকা, পেস্তাবাদাম ১৮০০-২০০০ টাকা, কাজুবাদাম মানভেদে ৯০০-১০০০ টাকা, আখরোট ১০০০-১১০০ টাকা, মিষ্টি আলুবোখারা কেজিপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা, টক আলুবোখারা ৫০০-৬০০ টাকা, কিসমিস ৪০০-৫০০ টাকা, কালো কিসমিস ৭৫০-৮৫০ টাকা ও নারিকেল জোড়া ১০০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।




নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ

চলতি সেচ মৌসুম, পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) থেকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলেছে। প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণকক্ষে থাকবেন চারজন কর্মকর্তা। ছুটির দিনসহ ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন একজন উপসচিব এই কাজে নেতৃত্ব দেবেন।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বিভাগের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, চলতি সেচ মৌসুম, পবিত্র মাহে রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর সময়কালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিবীক্ষণের নিমিত্ত বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন।

আব্দুল গণি রোডের বিদ্যুৎ বিভাগের ১৪ তলায় নিয়ন্ত্রণকক্ষটি খোলা হয়েছে, যার টেলিফোন নম্বর: ০২-৪৭১২০৩০৯ ও মোবাইল নম্বর: ০১৭৩৯০০০২৯৩।

নিয়ন্ত্রণকক্ষটি সরকারি ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চালু থাকলেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণকক্ষ ছাড়াও কোন দিন কোন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের ফোন নম্বর রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর সেচ মৌসুমকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলে থাকে। তবে এবার সেচ ও রমজান একই সঙ্গে হওয়ায় বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দেশে বড় কোনও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে সম্প্রতি অপেক্ষাকৃত তাপমাত্রা কম থাকায় স্বস্তি ছিল। গরমের মাত্রা বাড়লে বাড়তি চাহিদা তৈরি হবে। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার সব প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।