ঈদের ১০ম দিনে যমুনা সেতুতে টোল আদায় ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা

পবিত্র ঈদুল আজহার ১০ম দিনেও যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে একদিকে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কারণে সেতুতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন চলাচল করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর দুই প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৮২০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৭ জুন) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে অর্থাৎ উত্তরবঙ্গমুখী লেনে ১৪ হাজার ৫৬০টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে অর্থাৎ ঢাকামুখী লেনে পারাপার হয়েছে ১৬ হাজার ২৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩০ হাজার ৮২০টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনো অনেক মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করছেন। ফলে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রয়েছে। তবে, আগের কয়েক দিনগুলোর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কমেছে।

প্রসঙ্গত, দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতু। ঈদ উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে সেতুতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।




ঈদুল আজহায় সড়কে নিহত ৪০২, আহত ১২৯৪

ঈদুল আজহার সময় সারা দেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাছাড়া নৌ-পথে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ জন। মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত ও ১৩৪০ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী থেকে সারা দেশে যাতায়াত করে। ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারের ১০/১২ দিনের তৎপরতা নয় বরং ঈদযাত্রায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচাতে, যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেয়া তথ্যানুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন।

২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। দুই ঈদুল আজহায় তুলনা করলে সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ও আহত ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেয়ার ঘটনা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে ও ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে সংগঠিত হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়।

এছাড়া সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, দশমিক ২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।




সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ৮ দিন বন্ধ থাকার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপ এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বন্দরের সকল ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিলো। তবে এ সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ খোলা ছিল।

তিনি আরও জানান, ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।




মহাসড়কে ৭ দিন বন্ধ থাকবে পণ্যবাহী যান চলাচল

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে পণ্যবাহী মোটরযান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

শনিবার (২৩ মে) বিআরটিএর সদর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ঈদের আগের ৩ দিন এবং ঈদের পরের ৩ দিনসহ মোট ৭ দিন—অর্থাৎ ২৫ মে ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংকলরি চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও গৃহস্থালী সামগ্রী, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

যানবাহন চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে যেকোনো প্রয়োজনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মোবাইল নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬, ০১৫৫০০৫৬৫৭৭, ০১৫৫০৭২২০৬৫, ০১৫৫০৭২২০৬৬ ও টেলিফোন নম্বর +৮৮-০২-৫৫০৫৮১৮১, +৮৮-০২-৫৫০৫৮১৮২-এ যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিন ব্যাংক বন্ধ, ২৫-২৬ মে সীমিত পরিসরে খোলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫-৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে নির্দিষ্ট শিল্পাঞ্চলে ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ মে শনিবার ও ২৪ মে রোববার তফসিলি ব্যাংকসমূহের সব শাখা ও উপ-শাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এরপর ২৫ মে সোমবার থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে।

তবে ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এসব শাখায় অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এবং লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপ-শাখা ও বুথসমূহে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।




কোরবানির চামড়া সংরক্ষণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়- এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু, সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সব মসজিদে খতিব ও ইমামরা যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন, তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে । পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদরাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে তা যেন সফল হয় সেদিকে নজর রাখতে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

এছাড়াও, বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেন। সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও যেন সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার এরইমধ্যে দেশব্যাপী মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-

• কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ;
• প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার;
• বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ;
• স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান;
• পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ;
• অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ;
• সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আবদুর রহিম সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।




কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে ব্যাংকের বুথ বাধ্যতামূলক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের আগে পশু কেনাবেচায় বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন হওয়ায় জাল নোটের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) জারি করা এক সার্কুলারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। একইসঙ্গে প্রতিটি ব্যাংককে একজন করে সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭ মের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে কোন ব্যাংক দায়িত্ব পালন করবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকার বাইরের পশুর হাটগুলোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস ঠিক করবে। যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের কাজ করবে সোনালী ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের আগের রাত পর্যন্ত রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বিরতিহীনভাবে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সুষ্ঠুভাবে বুথ পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পশুর হাটে দায়িত্ব পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংক। এছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক বিভিন্ন হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি পশুর হাটে দায়িত্ব পালন করবে ১৯টি ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক। এছাড়া মধুমতি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বিভিন্ন হাটে বুথ পরিচালনা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনও জাল নোট শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে কোরবানির পশুর হাটে নিরাপদ ও সুষ্ঠু লেনদেন নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




ঈদুল আজহায় নৌপথে মনিটরিংয়ে গাফিলতি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল আজহা ও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রী, কোরবানির পশু ও কার্গো পরিবহনে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, নৌযানের কাগজপত্র সঠিক রেখে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং মনিটরিংয়ে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ রবিবার (১০ মে) রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিবসভিত্তিক আয়োজনগুলো অনেক সময় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব পরিবর্তন দেখা যায় না। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি কাজ হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নৌপথ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক মাধ্যম। দেশে নৌ দুর্ঘটনার হার অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় কম হলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগে দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

নদীগুলোর নাব্যতা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অনেক নদী সংকুচিত হয়ে আসছে এবং কোথাও কোথাও চর জেগে উঠছে। তাই নৌপথ টিকিয়ে রাখতে নিরাপত্তার পাশাপাশি আধুনিক নৌযান ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

নৌযানের রুট পারমিট ও সার্ভে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও পরবর্তীতে তদারকি করা হয় না। এমনকি পরিদর্শনের সময় নৌযান সাময়িকভাবে প্রস্তুত করে উপস্থাপনের অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে নিয়মিত ও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী উত্তাল থাকবে, তাই যাত্রীবাহী নৌযানগুলোকে কাগজপত্র হালনাগাদ রেখে চলাচল করতে হবে। মন্ত্রণালয় নিয়মিত পরিদর্শন করবে এবং অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছোট নৌপথে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, মালিক, নাবিক ও শ্রমিকরা একসঙ্গে কাজ করলে দেশের নৌপরিবহন খাতে পূর্বের ঐতিহ্য ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।




ঈদ সামনে রেখে শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি

ঈদুল আজহা সামনে রেখে শপিং মল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফইএবি)।

মঙ্গলবার (৫ মে) এফইএবির সভাপতি আজহারুল হক আজাদের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটি বলছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উৎসব কেন্দ্র করে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই গতি সঞ্চারিত হবে। বিশেষ করে দেশীয় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতের জন্য এই সময়টি বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় মৌসুম। বর্তমান জ্বালানি সাশ্রয় পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত শপিংমলের সময়সূচি বাস্তবায়িত হলেও, বাস্তবতা বিবেচনায় এই সময়সূচির পুনর্বিন্যাস এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শপিংমলগুলোর মোট বিক্রয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ হয় সন্ধ্যার পর, আর মাত্র ৪০ শতাংশ বিক্রি হয় দিনের বেলায়। তীব্র গরম ও কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেলায় ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে, ফলে সন্ধ্যার পরই মূল কেনাকাটার চাপ তৈরি হয়। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিংমল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের বড় একটি অংশ ব্যবসার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বড় ধরনের বিক্রয় সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংগঠনটি বলছে, পাড়া-মহল্লার দোকান, রেস্টুরেন্ট, খোলাবাজার ও বিভিন্ন অস্থায়ী মেলা রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। ফলে শপিংমলের ক্ষেত্রে আলাদা সময়সীমা বজায় রাখা, বাজার ব্যবস্থায় একটি অসম প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে, এফইএবি’র পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হচ্ছে-শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান দুপুর ১টা থেকে কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে এবং বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হোক।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি আংশিকভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে ঈদ মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি নিশ্চিত করা যাবে।

এফইএবি বিশ্বাস করে, এ সিদ্ধান্ত শুধু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যই নয়, দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড, নারী উদ্যোক্তা এবং এখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহৎ কর্মসংস্থানের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আসন্ন ঈদ সামনে রেখে শপিংমলের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে তারা।




ঈদ ঘিরে শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতকারী দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার তৎপরতা বাড়িয়েছে। এ লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতকারীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বুধবার (২২ এপ্রিল) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিল্প মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা ঢাকা ও গাজীপুরের শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে কারখানাগুলোর জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এসময় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু কারখানার জেনারেটরের জন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সহায়তা চান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমমন্ত্রী পেট্রোল পাম্পগুলোতে সংশ্লিষ্ট কারখানার নাম ও প্রাপ্য ডিজেলের পরিমাণ উল্লেখ করে নোটিশ টানানোর নির্দেশ দেন, যেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি শিল্পঘন এলাকায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা কারখানাগুলো চিহ্নিত করে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ভাসমান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।” শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে কারখানা মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

 

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মো. ইমরুল মহসিন এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এছাড়া বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং শিল্প মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।




ঈদের ছুটির পর চালু ৯২ শতাংশ গার্মেন্টস কারখানা

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৫ জুন) পর্যন্ত সংস্থার আওতাধীন ২ হাজার ৮৮টি সক্রিয় গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৯৯৮টি চালু রয়েছে। অর্থাৎ ছুটি শেষে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছে।

বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলভিত্তিক এ পরিসংখ্যান বলছে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ কারখানা চালু রয়েছে। এখানকার ৮৪৭টি কারখানার মধ্যে ৮১০টি খোলা রয়েছে। সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় চালু আছে ৩৬০টি কারখানা, যা মোট ৩৯৫টির মধ্যে ৯১ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জে খোলা আছে ২০০টি কারখানা, যা ৯৮ শতাংশেরও বেশি। ঢাকার ডিএমপি এলাকায় চালু আছে ২৯০টি কারখানা, যা ৯৫ শতাংশ।

তবে ব্যতিক্রম চট্টগ্রাম অঞ্চল। সেখানে বিজিএমইএ-এর আওতাধীন সবগুলো ৩৩৮টি কারখানাই আজ খোলা ছিল।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় বন্ধের হার প্রায় ৯ শতাংশ, ঢাকার ডিএমপি এলাকায় প্রায় ৫ শতাংশ এবং গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রায় ৪ শতাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে কম বন্ধের হার নারায়ণগঞ্জে, যেখানে মাত্র ২ শতাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে। তবে যেসব কারখানা এখনো বন্ধ সেগুলোতে ঈদের ছুটি চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, ঈদের পর শ্রমিকরা দলে দলে কাজে ফিরছেন। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরাও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ফলে খুব অল্প সময়েই অধিকাংশ ইউনিট কার্যক্রমে ফিরে এসেছে।

প্রসঙ্গত, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গত ৩ জুন ৯ শতাংশ এবং ৪ জুন ৪১ শতাংশ গার্মেন্টসের শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। সবশেষ ৫ জুন বাকি ৫০ শতাংশ শ্রমিক ছুটিতে বাড়ি যান।




ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করল বিআরটিসি

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) চালু করল ‘ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস’।

বুধবার (০৪ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিল আন্তর্জাতিক বাস ডিপোতে এ সার্ভিসের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সারা দেশের যাত্রীসেবায় বিআরটিসি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত। ঈদযাত্রা হোক আনন্দময় ও নিরাপদ-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা জানান, ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে এবার সংযোজন করা হয়েছে ৬৩০টি বাস। ঢাকা শহরের গার্মেন্টস কর্মীসহ দেশের নানা প্রান্তের শ্রমজীবী মানুষ যেন নিরাপদে ও স্বল্প খরচে বাড়ি পৌঁছাতে পারেন- সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

তিনি বলেন, ২৬টি স্থান থেকে এই সার্ভিস পরিচালিত হবে। প্রতিটি বাসে চালক ও যানবাহনের বিস্তারিত তথ্যসহ স্টিকার সংযুক্ত করা হয়েছে। চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে অনিয়ম রোধে প্রস্তুত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিসি পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম, পরিচালক (কারিগরি) কর্নেল কাজী আইয়ুব আলী, জিএম, ডিজিএম, অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা ও বাস ডিপোর কর্মীরা।

বিআরটিসির ঈদ সার্ভিসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে ২৪ মে থেকে। সার্ভিস চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। টিকিট সংগ্রহ করা যাবে ঢাকার মতিঝিল, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, জোয়ার সাহারা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, কুমিল্লা, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, টুঙ্গিপাড়া ও সোনাপুরের বাস ডিপো থেকে।

 




যানবাহনের চাপ বাড়লেও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে উত্তরবঙ্গের মানুষ

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে প্রিয়জনের টানে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। উত্তরের পথে যাত্রা করা যাত্রীদের ঢল এখন সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে। যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত হয়ে বাড়ি ফেরার এই যাত্রায় বেড়েছে যানবাহনের চাপ, তবে আশার কথাÑ এতো চাপের মাঝেও কোথাও কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

বুধবার (৪ জুন) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে কড্ডার মোড়, মুলিবাড়ি চেকপোস্ট, নলকা ও হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় দেখা গেছে স্বাভাবিক যান চলাচল। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি খোলা ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলেও বাড়ি ফিরছে মানুষ। শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রায় এসব পরিবহনে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে অনেকগুণ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, অতীতের মতো দীর্ঘ যানজট বা ধীরগতির ভোগান্তি নেই।

মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যাত্রীরা স্বস্তিতে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। সাধারণত ঈদের সময় এসব মহাসড়কে যেভাবে যানজট লেগে থাকে, এবার তেমন চিত্র নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার কারণে অনেকটাই শৃঙ্খলিত রয়েছে পুরো যাত্রাপথ।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, গত ২৪ ঘটনায় যমুনা সেতু দিয়ে ৩৬ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ বাড়ছে।

তবে মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি হুইলার যানবাহনগুলো নিয়ম ভেঙে বড় যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচল করছে। এর ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। প্রশাসনের নজরদারির মাঝেও এসব যানবাহনের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে গোলচত্বর এলাকায় যানবাহনের গতি ও লেন ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে পুলিশ স্থাপন করেছে পর্যবেক্ষণ পয়েন্ট। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে যানবাহনগুলোকে সঠিক লাইনে চলাচল নিশ্চিত করছেন।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ জানান, জেলা পুলিশের সমন্বয়ে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন এবং এখন পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো যানজট হয়নি।

এদিকে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, যানজটমুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। সাদা পোশাকেও সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ থ্রি হুইলার চলাচল রোধ করতে গেলে অতীতে থানায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। মহাসড়কে সার্ভিস লেন না থাকায় এই যানগুলো মূল সড়কেই চলতে বাধ্য হচ্ছে। তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে।




ঈদের ছুটিতে ৩ দিন বিশেষ এলাকায় ব্যাংক খোলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ৫ জুন থেকে ১৪ জুন টানা ১০ দিন ছুটি থাকবে। এসময় বন্ধ থাকবে ব্যাংকও। তবে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ ও রপ্তানি বিলের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় ৫, ১১ ও ১২ জুন সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখতে বলা হয়েছে। ওই তিন দিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে লেনদেন চলবে নির্ধারিত সময়ে।

রোববার ( ২৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধের সুবিধার্থে আগামী ৫ জুন (বৃহস্পতিবার) সীমিত পরিসরে বিভিন্ন ব্যাংকের কিছু শাখা খোলা থাকবে। শিল্পঘন ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাক শিল্পের লেনদেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোতে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বাকি সময় ব্যাংকের লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এছাড়া ওষুধ শিল্প খাতসহ আমদানি ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ ও বৈদেশিক লেনদেন সম্পাদনের লক্ষ্যে ১১ জুন ও ১২ জুন বুধবার এবং বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার অথরাইজড ডিলার (এডি) শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এ দু’দিন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লেনদেন হবে এবং লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালিত ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্দেশনায় বলা হয়, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিধি মোতাবেক ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।




ঈদুল আজহায় ১০ দিন ছুটি ঘোষণা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১০ দিন ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (৬ মে) সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

এরমধ্যে দুটি শনিবার ১৭ ও ২৪ মে যথারীতি অফিস খোলা থাকবে বলে ওই পোস্টে জানানো হয়েছে। তবে কবে থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে কবে শেষ হবে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

গত ঈদুল ফিতরে ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটি ছিল। ঈদে টানা পাঁচদিন ছুটি আগেই ঘোষণা করেছিল সরকার। সেখানে নির্বাহী আদেশে আরও একদিন ছুটি বাড়ানো হয়।

ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরুর দুদিন আগে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ছুটি ছিল। মাঝে ২৭ মার্চ একদিন খোলা ছিল অফিস।




ঈদের ছু‌টি‌তেও যেসব এলাকায় ব‌্যাংক খোলা

পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবা‌নির পশু কেনার জন‌্য লেন‌দে‌নের সু‌বিধার্থে রাজধানীর দুই সি‌টি ও চট্টগ্রাম সি‌টি কর‌পো‌রেশন এবং নাটোরের সিংড়া পশুর হা‌ট সংলগ্ন ব্যাং‌কের শাখা ও উপশাখা খোলা রাখতে ব‌লে‌ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব শাখায় ব্যাংকিং কার্যক্রম রাত ১০টা পর্যন্ত পরিচালনা কর‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে।

তাই শ‌নিবার ও রোববার সকাল ১০টা থে‌কে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধা‌রিত এলাকায় হাট সংলগ্ন ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা খোলা থাক‌বে।

পশু ব্যবসায়ী‌দের ব্যাং‌কিং লেন‌দে‌নের সু‌বিধা‌র্থে এ নি‌র্দেশনা দি‌য়ে‌ছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জা‌রি ক‌রে বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাং‌কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কা‌ছে পাঠায়।

নির্দেশনায় আসন্ন ঈদুল আজহায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও নাটোরের সিংড়া পৌরসভার
কোরবানির পশুর হাটের (স্থায়ী ও অস্থায়ী) নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা, উপশাখা স্বীয় বিবেচনায় নির্বাচন করে বিশেষ ব্যবস্থায় ১৪ জুন থেকে ঈদের আগের দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে বলা হয়।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোরবানির পশুর হাটে অস্থায়ী বুথ স্থাপন করতেও বলা হয় নির্দেশনায়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোতে অতিরিক্ত সময়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক ভাতা প্রদান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ঈদের আগে তিনদিন ছুটিতে শিল্প এলাকায় ব্যাংক খোলা
তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ ও রপ্তা‌নি বিল বিক্র‌য়ের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় সী‌মিত প‌রিস‌রে শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাংক খোলা রাখ‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে।

কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে তৈরিপোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ১৪, ১৫ ও ১৬ জুন পূর্ণ দিবস খোলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

তাই পোশাক শিল্প এলাকায় শ‌নিবার ও রোববার ব‌্যাংক খোলা।




ট্রেনে ঈদযাত্রা: শুরুর দিনেই শিডিউল বিপর্যয়

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হয়েছে ট্রেনে ঈদযাত্রা। তবে শুরুর দিনেই বিলম্বে শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। বিলম্বে ট্রেন ছাড়ায় গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। গরমের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম ভর্তি মানুষ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে ট্রেনের জন্য।

ট্রেনের রেকগুলোতে কোচ সংযোজন ভুল হওয়ায় বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার ট্রেনে ঈদযাত্রার শুরুর দিনে ঢাকা থেকে দিনের প্রথম ট্রেন রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯) ছেড়ে যায় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে। সিডিউল অনুযায়ী ট্রেনটি ভোর ৬টায় ছাড়ার কথা ছিল।
বিলম্বে ছেড়েছে দিনের অন্যান্য ট্রেনও। দ্বিতীয় ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬) ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে যাত্রা করার কথা থাকলেও ছেড়ে গেছে ৬টা ৫০ মিনিটে। এরপরের ট্রেন সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯) দুই ঘণ্টা বিলম্বে সকাল সাড়ে ৮টায় ছেড়ে গেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও প্ল্যাটফর্ম এলাকায় যেন টিকিট ছাড়া কেউ ঢুকতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের ভোগান্তিমুক্ত রাখতে প্লাটফর্ম এলাকায় প্রবেশ মুখে পুলিশ, র‌্যাব এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। প্লাটফর্মে প্রবেশের মুখে ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনারদের (টিটিই) যাত্রীদের টিকিট চেক করতে দেখা গেছে। তবে এবার এনআইডি মিলিয়ে দেখতে দেখা যায়নি। যারা টিকিট পাননি তাদের ১-৬ নম্বর কাউন্টারে গিয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, মোহনগঞ্জগামী সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের ট্রেন মহুয়া কমিউটার (৪৩) বেলা সাড়ে ১১টায়ও ছেড়ে যায়নি। চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী কমিউটার (৪) ৮টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্লাটফর্ম ছেড়ে পায়নি।

রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭১) ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে। এটি ৪০ মিনিট বিলম্বে ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়েছে। ঈদ স্পেশাল ট্রেন ‘দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল’ সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার থাকলেও ১ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস (৭০৫) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এটি ২৫ মিনিট বিলম্বে ১০টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায়।

রেলওয়ের একটি সূত্র বলছে, শুরুর দিকের দুটি ট্রেনের রেকে কোচ সংযোজন ভুল হয়। সেগুলো ঠিক করতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। এই বিলম্বের প্রভাব অন্য ট্রেনগুলোতেও পড়েছে। এজন্য ২০/৩০ মিনিট দেরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, “যদি কোনো ট্রেন দেরিতে আসে তাহলে ঢাকা থেকে দেরিতে ছেড়ে যায়। কারণ ট্রেনগুলো ঢাকায় আসার পরে ক্লিনিং ওয়াটারিং করা হয়। এজন্য প্রত্যেকটা ট্রেনে অন্তত এক ঘণ্টা সময় লাগে।”




ঈদুল আজহার আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়ার সিদ্ধান্ত

পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগেই গার্মেন্টসসহ সব সেক্টরের শ্রমিকদের উৎসব ভাতাসহ বেতন পরিশোধ করা হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (আরএমজি-টিসিসি)-এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি’র সভাপতিত্বে আজ বুধবার (১৫ মে) রাজধানীর শ্রম ভবনের সভাকক্ষে ১৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভাশেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের ঈদের ছুটি যাতে দীর্ঘ ও স্বস্তিদায়ক হয় এ বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ঈদের আগে শ্রমিক ছাঁটাই বা কারখানাগুলো লে-অফ করতে পারবে না।

সভায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তরিকুল আলম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক আবদুর রহিম খান, বিজিএমইএর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশেনের সভাপতি নাজমা আক্তার এবং বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনিসহ মালিক ও শ্রমিক পক্ষের অন্যান্য নেতারা।




ঈদের ছুটিতে ১৫ দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১০৬

ঈদুল আজহার আগে ও পরে ১৫ দিনে (২৩ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত) দেশে ৩০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৩১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬১ জন, শিশু ৭২ জন। ১১৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৬ জন, যা মোট নিহতের ৩২.৭১ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮.৬১ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৬৯ জন পথচারীও নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১.২৯ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৭ জন, অর্থাৎ ১৪.৫০ শতাংশ।

এ সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত, ২৬ জন আহত এবং ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৭টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে। শুক্রবার (১৪ জুলাই) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র:

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১০৬ জন (৩২.৭১%), বাস যাত্রী ১০ জন (৩.০৮%), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ২৪ জন (৭.৪০%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ২৫ জন (৭.৭১%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-ম্যাক্সি) ৭০ জন (২১.৬০%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ১১ জন (৩.৩৯%) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ৯ জন (২.৭৭%) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন:

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩১টি (৪৩.২৩%) জাতীয় মহাসড়কে, ১১৫টি (৩৭.৯৫%) আঞ্চলিক সড়কে, ৩৭টি (১২.২১%) গ্রামীণ সড়কে এবং ২০টি (৬.৬০%) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ:

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে আক্রান্ত হয়েছে ২০.৪৮%, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৬.৫০%, মোটরসাইকেল অন্য যানবাহন দ্বারা ধাক্কা/চাপায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৯.৭৫%, মোটরসাইকেল পথচারীকে ধাক্কা/চাপা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে ৮.৪৩% এবং সড়কের গর্ত ও স্পিড ব্রেকারের কারণে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪.৮১%।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত চালক ও আরোহীদের মধ্যে ৫২.৮৩ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন:

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ভ্যান-র্যাবের পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-লং ভেহিক্যাল, তেলবাহী ভাউচার ২২.৩৩%, যাত্রীবাহী বাস ১৬.৪১%, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-পাজেরো-জীপ ৭.৬১%, মোটরসাইকেল ২০.৬৪%, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-ম্যাক্সি) ১৯.৯৬%, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম-লাটাহাম্বা-স্টীয়ারিং গাড়ি) ৮.৭৯%, বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা ২.৭০% এবং অজ্ঞাত গাড়ি ১.৫২%।




৫ দিন পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ৫ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৮ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ৪২ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমসের চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব অফিসার কলি মোল্লাহ জানান, ঈদ উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ৫দিন বন্ধ ছিল। রোববার সকাল থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ভারতের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪২ ট্রাক ও আমদানি হয়েছে ২৮ ট্রাক পণ্য।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে।




ঈদের ছুটিতে চেক ক্লিয়ারিংয়ে নতুন সময়সূচি

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির সময় আগামী ২৭ ও ২৮ জুন (মঙ্গলবার ও বুধবার) তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাংকগুলোর শাখা খোলা থাকবে। এসব শাখায় আন্তঃব্যাংকের চেক নিষ্পত্তির নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (২৫ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ ও ২৮ জুন সরকারি ছুটির দিন স্বয়ংক্রিয় চেক নিকাশ ঘর (বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজ—বিএসিএইচ বা ব্যাচ) কার্যক্রম নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশনের (ডিওএস) ২১ জুন, ২০২৩ তারিখের সার্কুলার লেটার নং-১৮ এ উল্লিখিত এলাকার বাইরে কোনো ব্যাংক শাখার ওপর চেক দেওয়া যাবে না।

এ সেবার মাধ্যমে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বা অন্য ব্যাংকের গ্রাহককে অর্থ পরিশোধ ও স্বয়ংক্রিয় চেক নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। বিএসিএইচ’র মাধ্যমে হাই ভ্যালু চেক (৫ লাখ টাকার বেশি) এবং রেগুলার ভ্যালু চেক (৫ লাখ টাকার কম) নিকাশ ব্যবস্থা নিষ্পত্তি করা হয়।

ছুটিতে হাই ভ্যালুর চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য বেলা ১১টার মধ্যে পাঠাতে হবে। এগুলো দুপুর ১টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। যেকোনো রেগুলার ভ্যালুর চেক বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে ক্লিয়ারিং হাউজে পাঠাতে হবে। এসব চেক দুপুর দেড়টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।

বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) সেবা আগের নিয়মে চলবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২১ জুন নির্দেশনায় জানানো হয়, ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রপ্তানি বিল ক্রয়-বিক্রয় এবং উক্ত শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ২৭ ও ২৮ জুন সরকারি ছুটির দিনে নিম্নোক্ত সময়সূচি অনুযায়ী সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে:

ব্যাংক লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।




 ঈদ সামনে  রেখে বাড়ছে প্রবাসী আয়

আসছে ঈদুল আজহা। এর আগেই বাড়ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ। কোরবানির এই ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ততই বাড়ছে।

চলতি জুন মাসের প্রথম ১৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১১২ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। এছাড়া ১৬ দিনে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে তা প্রতিদিন গড় হিসাবে দেশে আসছে রেমিট্যান্স ৭ কোটি মার্কিন ডলার। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি মাসের ১৬ দিনে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৮৫ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে নগদ প্রণোদনা পাওয়া যায়। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে পরিবার পরিজনের নিকট রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। রেমিট্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেমিট্যান্স বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছর ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে প্রবাসীদের উদ্দেশে জানায়, বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ করুন, প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন। হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে রেমিট্যান্স না পাঠানোর জন্য এভাবে আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে (হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে) প্রেরণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রবাসীদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, আপনাদের অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে না পাঠিয়ে বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রেরণ করুন, দেশ গড়ায় মূল্যবান অবদান রাখুন এবং আপনার প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন। আরও জানায়, অবৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রচলিত আইনে বিএফআইইউ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

এছাড়া রেমিট্যান্স বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে – প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বাড়ানো, বৈধ উপায়ে ওয়েজ আর্নার্স রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা, সরকার রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি সম্মাননা প্রদান, রেমিট্যান্স বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও সহজিকরণ পাশাপাশি অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়ণ অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া, ফিনটেক পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরকে বাংলাদেশের ব্যাংকের সাথে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রেমিট্যান্স প্রেরণে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর চার্জ ফি মওকুফ করা হয়েছে। সর্বশেষ সেবার বিনিময়ে দেশে রেমিট্যান্স আয় আনতে ফরম সি পূরণ করার শর্ত শিথিল করেছে এবং সেবা খাতের উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকরা ঘোষণা ছাড়াই ২০ হাজার মার্কিন ডলারে বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার সুযোগ।

গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।




ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রেলওয়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদুল ফিতরের মতো এবারো অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে শতভাগ টিকিট। এজন্য Utick আগের সেই পরিচিত ভিড়-কোলাহল নেই। নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্যও।

জানা গেছে, আজ ২৪ জুনের টিকিট অগ্রিম বিক্রি হচ্ছে। এবার ঈদযাত্রার টিকিট দুই ভাগে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট এবং দুপুর ১২টায় পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. মাসুদ সারোয়ার বলেন, ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি আজ থেকে শুরু হয়েছে। ঈদুল ফিতরের মতো এবারো অগ্রিম টিকিটের শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আজ বিক্রি হওয়া পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের আসন ছিল ১২ হাজার ৮২১টি। এসব টিকিট সকাল ৯টার মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সার্ভারে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় ছিল। প্রায় ৪০ লাখ বার সার্ভারে হিট করেছে টিকিট প্রত্যাশীরা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম সহজ ডটকমের মাধ্যমে হচ্ছে। তাদের প্রতি মিনিটে ৮ হাজার টিকিট বিক্রির সক্ষমতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে সার্ভার ডাউনের কোনো অভিযোগ আসেনি।

বুধবার (১৪ জুন) সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনের টিকিট কাউন্টারগুলো ফাঁকা। শুধু নিয়মিত যাত্রীদের আনাগোনা রয়েছে প্ল্যাটফর্মে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ১৫ জুন দেওয়া হবে ২৫ জুনের টিকিট, ১৬ জুন দেওয়া হবে ২৬ জুনের টিকিট, ১৭ জুন দেওয়া হবে ২৭ জুনের টিকিট এবং ১৮ জুন দেওয়া হবে ২৮ জুনের টিকিট।

ঈদ পরবর্তী ফিরতি অগ্রিম টিকিট দেওয়া শুরু হবে ২২ জুন থেকে। সেই হিসাবে ২২ জুন দেওয়া হতে পারে ২ জুলাইয়ের টিকিট। যথাক্রমে ২৩ জুন ৩ জুলাইয়ের, ২৪ জুন ৪ জুলাইয়ের, ২৫ জুন ৫ জুলাইয়ের ও ২৬ জুন ৬ জুলাইয়ের টিকিট পাওয়া যেতে পারে।




ঈদ উপলক্ষে ১৮ জুন মিলবে নতুন নোট

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১৮ জুন (রোববার) থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত জনসাধারণ ও গ্রাহকদের মধ্যে নতুন নোট বিনিময় করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসময়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুরের কয়েকটি ব্যাংকের শাখা থেকেও নতুন নোট সংগ্রহ করা যাবে। এবার ঈদ উপলক্ষে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমান পর্যন্ত নতুন নোট বিশেষ ব্যবস্থায় বিনিময় করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা।

সোমবার (১২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১৮ জুন হতে ২৫ জুন পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) ঢাকা অঞ্চলের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট বিশেষ ব্যবস্থায় বিনিময় করা হবে। একই ব্যক্তি একাধিকবার নতুন নোট গ্রহণ করতে পারবেন না। তবে নোট উত্তোলনকালে কেউ ইচ্ছা করলে কাউন্টার থেকে মূল্যমান নির্বিশেষে যে কোনো পরিমাণ ধাতবমুদ্রা গ্রহণ করতে পারবেন।

যেসব ব্যাংক ও শাখায় মিলবে নতুন নোট

জনতা ব্যাংকের পোস্তগোলা শাখা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখা, এনসিসি ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখা, ব্যাংক এশিয়ার বনানী-১১ শাখা, উত্তরা ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা, পূবালী ব্যাংকের সদরঘাট শাখা, যমুনা ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখা, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বাবু বাজার শাখা, ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাখালী শাখা, দি সিটি ব্যাংকের ইসলামপুর শাখা, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের বিজয়নগর শাখা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের নবাবপুর শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা, ওয়ান ব্যাংকের লালবাগ শাখা, ট্রাস্ট ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা, জনতা ব্যাংকের আব্দুল গণি রোড কর্পোরেট শাখা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখা, অগ্রণী ব্যাংকের জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্পোরেট শাখা, প্রাইম ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখা, জনতা ব্যাংকের টিএসসি কর্পোরেট শাখা, সোনালী ব্যাংকের জাতীয় সংসদ ভবন শাখা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা, ব্র্যাক ব্যাংকের শ্যামলী শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কর্পোরেট শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা, এনআরবিসি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখা, ব্র্যাক ব্যাংকের সাত মসজিদ রোড শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মেইন ব্র্যাঞ্চ, দিলকুশা, যমুনা ব্যাংকের লালমাটিয়া শাখা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ঢাকা মেইন শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের রায়ের বাজার শাখা, রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নিউমার্কেট শাখা, এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখা, এনসিসি ব্যাংকের দিলকুশা শাখা, এক্সিম ব্যাংকের মিরপুর শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মিরপুর শাখা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখা, অগ্রণী ব্যাংকের মিরপুর শাখা, মিরপুর-১, উত্তরা ব্যাংকের বাবু বাজার শাখা, জনতা ব্যাংকের রজনীগন্ধা, ঢাকা (কচুক্ষেত কর্পোরেট শাখা), দি সিটি ব্যাংকের মগবাজার শাখা, সোনালী ব্যাংক লিঃ, ইব্রাহীমপুর শাখা, এনসিসি ব্যাংকের মগবাজার শাখা, ন্যাশনাল ব্যাংকের উত্তরা শাখা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মালিবাগ চৌধুরীপাড়া শাখা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা মডেল টাউন শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কাকরাইল শাখা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এসএমই এন্ড এগ্রিকালচার শাখা, দক্ষিণখান, এনসিসি ব্যাংকের মালিবাগ শাখা, রূপালী ব্যাংকের উত্তরা মডেল টাউন কর্পো: শাখা, ইসলামী ব্যাংকের খিলগাঁও শাখা, সোনালী ব্যাংকের কোর্ট বিল্ডিং শাখা, অগ্রণী ব্যাংকের রামপুরা টিভি শাখা, ইসলামী ব্যাংকের গাজীপুর চৌরাস্তা শাখা, এবি ব্যাংকের প্রগতি স্বরণী শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রগতি স্বরণী শাখা, এক্সিম ব্যাংকের শিমরাইল শাখা, নারায়ণগঞ্জ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের দক্ষিণ বনশ্রী শাখা, এনআরবিসি ব্যাংকের ভুলতা শাখা, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ব্যাংকের বনশ্রী শাখা, ইসলামী ব্যাংকের কাঁচপুর শাখা, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ব্যাংকের নন্দীপাড়া শাখা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা, নারায়ণগঞ্জ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নন্দীপাড়া শাখা, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাভার শাখা, সাভার, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, প্রাইম ব্যাংকের সাভার শাখা, সাভার, প্রাইম ব্যাংক লি., বসুন্ধরা শাখা, ট্রাস্ট ব্যাংকের কেরানীগঞ্জ শাখা, কেরানীগঞ্জ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখা, সোনালী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ কর্পোরেট শাখা, মুন্সিগঞ্জ, ব্র্যাক ব্যাংকের বনানী শাখা এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের শ্রীনগর শাখা, মুন্সিগঞ্জ।




কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশু

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ। গতকাল শনিবার (১০ জুন) রাজধানীর সাদিক অ্যাগ্রো খামারে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এ কথা জানান সচিব।

নাহিদ রশীদ বলেন, আমাদের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশু রয়েছে। আগামী ১৪ তারিখ সংখ্যাটা নির্দিষ্ট করে জানানো যাবে।

সচিব আরো বলেন, এছাড়া খামারিরা আমাদের জানিয়েছেন, পশু আনতে গিয়ে পথেঘাটে নানা ধরনের ভোগান্তি হয় তাদের। এক্ষেত্রে অভিযোগ সেন্টার চালু করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মো. এমদাদুল হক তালুকদার বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর বেশি সংখ্যক গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি হয়েছে। সে অনুযায়ী এ বছর পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। সংকট হওয়ার সুযোগ নেই। কোরবানি শেষে পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।




ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১০ কেজি করে চাল পাবেন ১ কোটি ভিজিএফ কার্ডধারী

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৫১৫ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ১ কোটি ৫১ হাজার ভিজিএফ কার্ডধারী ব্যক্তি ১০ কেজি করে এসব চাল পাবেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এ বরাদ্দ দিয়ে সম্প্রতি সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের ৬৪ জেলার ৪৯২টি উপজেলার জন্য ৮৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৪৯টি এবং ক, খ ও গ ক্যাটাগরির ৩২৯টি পৌরসভার জন্য ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫১টিসহ সর্বমোট ১ কোটি ৫১ হাজার ৫০০টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে কার্ডপ্রতি ১০ কেজি হারে ১ লাখ ৫১৫ টন ভিজিএফ চাল শর্তাবলি অনুসরণ করে বিভাজন অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হলো।

বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফ চাল আগামী ২০ জুনের মধ্যে উত্তোলনসহ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে বলেও চিঠিতে বলা হয়।

বরাদ্দের শর্তে বলা হয়, এসব ভিজিএফ বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অবহিত করবেন। ভিজিএফ উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ শর্তাবলি অনুসরণ করতে হবে–

(ক) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ এর তথ্য অনুযায়ী ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দ করা ভিজিএফ কার্ড সংখ্যা পুনর্বিভাজন করে তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। www.bbs.gov.bd ওয়েবসাইটে লগইন করে জনসংখ্যার তথ্য পাওয়া যাবে।

(খ) দুস্থ/অতি দরিদ্র ব্যক্তি/পরিবারকে এ সহায়তা দিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক বন্যাক্রান্ত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ/অতি দরিদ্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

(গ) নিচের শর্তাবলির মধ্যে কমপক্ষে চারটি শর্ত পূরণ করে এমন ব্যক্তি/পরিবার, দুস্থ/অতি দরিদ্র বলে গণ্য হবে–

১. যে পরিবারের মালিকানায় কোনো জমি নেই বা ভিটাবাড়ি ছাড়া কোনো জমি নেই।
২. যে পরিবার দিনমজুরের আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
৩. যে পরিবার মহিলা শ্রমিকের আয় বা ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল।
৪. যে পরিবারের উপার্জনক্ষম পূর্ণ বয়স্ক কোনো পুরুষ সদস্য নেই।
৫. যে পরিবারে স্কুলগামী শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয়।
৬. যে পরিবারে উপার্জনশীল কোনো ব্যক্তি নেই।
৭. যে পরিবারের প্রধান স্বামী পরিত্যক্তা, বিচ্ছিন্ন বা তালাকপ্রাপ্তা মহিলা।
৮. যে পরিবারের প্রধান অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা।
৯. যে পরিবারের প্রধান অসচ্ছল ও অক্ষম প্রতিবন্ধী।
১০. যে পরিবার কোনো ক্ষুদ্রঋণ প্রাপ্ত হয়নি।
১১. যে পরিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে চরম খাদ্য-অর্থ সংকটে পড়েছে।
১২. যে পরিবারের সদস্যরা বছরের অধিকাংশ সময় দু’বেলা খাবার পায় না।




পেঁয়াজের কেজি ১০০ ছুঁই ছুঁই

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রায় প্রতি বছরই পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করে তোলেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। নিজেরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেন ইচ্ছামতো। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদুল আজহার এক মাস আগেই বাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় একশ টাকা।

মাত্র দেড়মাস আগে রমজানে এক কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। সবশেষ দুইদিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়।

পেঁয়াজের দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই কোরবানির ঈদ সামনে রেখে অসাধু বিক্রেতারা পেঁয়াজ নিয়ে সিন্ডিকেট করেন। তবে বিক্রেতাদের দাবি, মূলত ভারত থেকে আমদানি না হওয়ায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এমনটা চলতে থাকলে আসন্ন কোরবানির ঈদে পেঁয়াজের বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজের আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) বন্ধ করে দেয় সরকার। ফলে পরদিন ১৬ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে দাম বাড়তে থাকে রান্নায় অতিপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্যটির।

রোববার (৪ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, ফকিরাপুল, মালিবাগ বাজার, মালিবাগ রেলগেট বাজার, খিলগাঁও বাজার এবং এসব এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ (দেশি কিং) বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এছাড়া দেশি (পাবনা) বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা কেজি। দেশি ও চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, আদা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা প্রতি কেজি।

পেঁয়াজ কিনতে খিলগাঁও বাজারে এসেছেন আয়েশা খাতুন। দুইদিন আগেও তিনি ৮০ টাকা কেজিদরে পেঁয়াজ কিনেছেন, আজ ৯৫ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা।

আয়েশা বলেন, দুইদিনের ব্যবধানে কীভাবে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে যায়? দুইদিন আগে কিনেছিলাম, আজ আবার কিনতে আসলাম। কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনেই হতবাক।

একই কথা জানান আরেক ক্রেতা বোরহান উদ্দিন।  তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের এখনো প্রায় এক মাস দেরি, এর মধ্যেই দাম বেড়েছে অনেক। রোজায় ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছি, এখন দাম প্রায় তিনগুণ। এখনই সরকারিভাবে অভিযান পরিচালনা করে পেঁয়াজ মজুতদারদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। এটা না হলে কোরবানি আসতে আসতে ২০০ টাকায় পেঁয়াজ কেনা লাগবে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন মালিবাগ রেলগেট বাজারের খুচরা বিক্রেতা নাজমুল হোসেন।  তিনি বলেন, দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি থাকে, আমদানির মাধ্যমে তা মেটানো হয়। ফলে আমদানি বন্ধের পর দাম ধীরে ধীরে পাইকারিতে বাড়তে থাকে। এখন আমদানি উন্মুক্ত হলে দাম আবারও কমে আসতে পারে।

হাসান নামের অপর এক বিক্রেতা বলেন, আমরা খুচরা বিক্রি করি, দর-দাম নিয়ে মাথাব্যথা নেই। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে আমরা সেভাবে বিক্রি করি। আবার পাইকারিতে দাম কমলে খুচরায়ও কমে যায়। তবে বর্তমানে যেভাবে দাম বাড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে আসন্ন কোরবানির ঈদে পেঁয়াজের বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও মন্তব্য এ খুচরা বিক্রেতার।




ঈদুল আজহারট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ১৪ জুন

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আগামী ১৪ জুন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলরত সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। আর পূর্বাঞ্চলে চলাচলরত সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দুপুর ১২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে।

বুধবার রেল ভবনে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের উপস্থিতিতে ঈদকেন্দ্রিক ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত বৈঠক হয়।

এতে রেলের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। আগামী ২৯ বা ৩০ জুন ঈদ ধরে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। আগামী ৩০ মে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা তুলে ধরার কথা রয়েছে।

১৪ জুন পাওয়া যাবে ২৪ জুনের টিকিট। একইভাবে ১৫ জুন দেওয়া হবে ২৫ জুনের, ১৬ জুন ২৬ জুনের, ১৭ জুন ২৭ জুনের ও ১৮ জুন দেওয়া হবে ২৮ জুনের অগ্রিম টিকিট।

ঈদযাত্রার ট্রেনের ফিরতি অগ্রিম টিকিট দেওয়া শুরু হবে ২২ জুন। সেই হিসাবে ২২ জুন দেওয়া হতে পারে ২ জুলাইয়ের টিকিট। যথাক্রমে—২৩ জুন ৩ জুলাইয়ের, ২৪ জুন ৪ জুলাইয়ের, ২৫ জুন ৫ জুলাইয়ের ও ২৬ জুন ৬ জুলাইয়ের টিকিট দেওয়া হবে। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে পূর্বাঞ্চলে ১১৬টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ১০২টি মিলিয়ে মোট ২১৮টি অতিরিক্ত ইঞ্জিন যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ঈদের মতো এবারও সব আসনের টিকিট শুধু অনলাইনে বিক্রি করা হবে। চারটি কাউন্টারে বিক্রি হবে শুধু দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট। ঈদযাত্রায় কেনা অগ্রিম টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না।

২৪ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হচ্ছে।