ডিএসসিসি এলাকায় ই-রিকশা নিবন্ধন শুরু

ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে আবেদন করলেই মিলবে না নিবন্ধন। এ জন্য ই-রিকশাকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদন বা ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে।

এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর শর্ত পূরণ করতে হবে। সব শর্ত পূরণ করে সিটি করপোরেশনে আবেদন জমা দিলেই শুরু হবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া।

​মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ই-রিকশা নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক বক্তব্যে এ পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

​প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, আজ (মঙ্গলবার) থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই- এই ফরম কিন্তু কোনো চলাচলের অনুমতিপত্র নয়, এটি কেবল নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও বুয়েটের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে।

​ই-রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে একাধিক সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত মডেলের ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার বন্ধ করতে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

​তিনি জানান, ই-রিকশা সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকাকে মোট চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জোন নির্ধারণ এবং অঞ্চলভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে।

​একবারে সব অটো-রিকশা বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, সব কিছু হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে আমরা ধাপে ধাপে এগুলোকে নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে চাই। প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার, ২ হাজার কিংবা ৫০০—যে কয়টি ই-রিকশা শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে।

​ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আজ (৩ নভেম্বর) থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে নিবন্ধন আবেদন ফরম বিতরণ করা শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নগর ভবন এবং ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। অটোরিকশা ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে প্রশাসক এই সমস্যা সমাধানে নাগরিক, রিকশা মালিক ও চালক এবং গণমাধ্যমসহ সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

 




অগাস্টেই ঢাকার দুই এলাকায় ই-রিকশা

আগামী অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই অঞ্চলে চলাচল শুরু করবে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা বা ই-রিকশা।

ওইসব রিকশা সড়কে নামার পর অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা তুলে দেওয়া হবে।

শনিবার ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনে ই-রিকশা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

তিনি বলেন, অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২ এ এই রিকশা চলাচল শুরু হবে।

“আমরা এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটা ধীরে ধীরে শুরু করব। প্রাথমিকভাবে আমরা ওই অঞ্চল থেকে বর্তমানে যেসব অননুমোদিত রিকশা চলছে, সেগুলো তুলে দিব। এই রিকশাগুলো আমরা গ্র্যাজুয়ালি সরাব, মানে কোনো হেভি এভিকশন ড্রাইভ দিয়ে সরিয়ে দেব তা না।

“নতুন রিকশাগুলো যারা কিনবেন তারা নামতে থাকবেন, পুরোনোগুলো ফেইজআউট হবে। পুরো বিষয়টি আমরা সায়েন্টিফিক ও গ্রাজুয়াল প্রসিডিউর মেনে করব, কোনো জোর-জবরদস্তির পথে আমরা যাব না।”

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নির্ধারিত টাইমলাইন ধরে তারা কাজ করছেন না। ধীরে ধীরে ই-রিকশা নামানোর প্রক্রিয়াটি হবে।

“কমপ্লিট ডেটলাইন ধরে ফেজআউট করলে বিষয়টি নিয়ে আবার নানা কথাবার্তা হবে। আমরা আস্তে আস্তে মার্কটে যাবে, কারণ যারা কিনবেন তাদেরও প্রস্তুতির একটা ব্যাপার আছে। টার্গেট হচ্ছে অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা এগুলো মার্কেটে দেওয়া শুরু করব।”

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “ওইসব অঞ্চলে যারা রিকশা চালাচ্ছেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রিকশাও দেওয়া হবে তাদেরই।

“চার্জিং পয়েন্টের বিষয়ে আমরা কাজ করছি, দেখি কিছু চার্জিং পয়েন্ট তৈরি করা যায় কি না। ডেসকোর সঙ্গে আমরা আলাপ করে সেটা ঠিক করব।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ই-রিকশা এবং চালকের নিবন্ধন করতে হবে। দুর্নীতি এড়াতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে করা হবে।

“যাতে করে এখানে হাতের কোনো সংস্পর্শ না থাকে। কারণ হাতের সংস্পর্শ আর লাইসেন্সের বিষয় হলেই আমাদের এখানে অবৈধ লেনদেনের একটা সুযোগ তৈরি হয়। ঢাকায় রিকশার এই রূপান্তরটা যারা করবেন, সেই রিকশাচালকদের ওপর যেন বাড়তি চাপ তৈরি না হয় সেটা নিশ্চিত করতে চাই।”

উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় রিকশা থাকবে। আর রিকশাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটিতে কিউআর কোড থাকবে।

“এখন যেমন আনলিমিটেড রিকশা নামানো হচ্ছে, তখন তা হবে না। চাইলেই কেউ রিকশা নামিয়ে ফেলতে পারবে না। একটি এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা থাকবে। রিকশাগুলো ওই জোনেই চলবে। কিউআর কোড রিকশাগুলোকে রেগুলেশনে আনতে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করবে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহজাহান মিয়া, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল হাফিজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।