চলতি বছরই ই-পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

এছাড়া ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশিরা ভিসা না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন উপদেষ্টা।

সরকার সব পাসপোর্ট ইলেকট্রনিক পাসপোর্টে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরই ই-পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন করা হবে। আমার দায়িত্বকালেই এ কাজ শেষ করে যেতে চাই।

তবে রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করার সুযোগ না পান সেটা নিয়েও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।




সৌদিতে বাংলাদেশিদের জন্য চালু হলো ই-পাসপোর্ট

সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এস এম রাকিবুল্লাহ। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে যাওয়া ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কারিগরি দল উপস্থিত ছিলেন।

দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, পেশাজীবী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণির বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে ই-পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকা থেকে যাওয়া সহকারী প্রকল্প পরিচালক মেজর সুমিরিয়ার সাদেকিন উপস্থিত বাংলাদেশিদের সম্যক ধারণা দেন।

তিনি বলেন, আবেদনকারীরা পাঁচ বা ১০ বছর মেয়াদের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পরে কারিগরি দল ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সভাপতির বক্তব্যে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের ৪৬তম মিশন হিসেবে ই-পাসপোর্ট সেবাটি চালু করা হলো। ই-পাসপোর্ট সেবাদানের জন্য এরই মধ্যে দূতাবাসে ২০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও দূতাবাস বিভিন্ন শহরে কনস্যুলার পরিষেবা প্রদানের সময় ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল পারমিট সেবাও দূতাবাসে শুরু করা হয়েছে। এছাড়াও ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে কারও কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে তিনি দূতাবাসের টোল ফ্রি নম্বরে অথবা দূতাবাসে এসে সংশ্লিষ্ট শাখায় সরাসরি যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানান।

তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশে আরও জানান, সরকার প্রবাসীদের জন্য সেবা সহজীকরণে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। তিনি প্রবাসীদের দেশ বিনির্মাণে বৈধপথে বেশি বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাতে অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে ‘ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প’র ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি কয়েকজন আবেদনকারীকে ই-পাসপোর্ট অ্যানরোলমেন্ট স্লিপ হস্তান্তর করেন। এছাড়া একজন আবেদনকারীর কাছে প্রথমবারের মতো ইলেট্রনিক ট্রাভেল পারমিট সরবরাহ করা হয়।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ফলে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবে বসবাসরত সব প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার জন্য অনলাইনে সিরিয়াল নিতে পারবেন। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের কর্মকর্তারা ১৪ সেপ্টেম্বর জেদ্দা গিয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলেও এ পরিষেবা চালু করবেন।

সৌদি আরবে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু করায় দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের প্রথম সচিব জামিরুল ইসলাম।

আইএইচআর/এমকেআর