রপ্তানি বাড়াতে পণ্যকে ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত করা হবে

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, রপ্তানি সম্প্রসারণে ই-কমার্স গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রপ্তানি বাড়াতে পণ্যকে ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। উদ্যোক্তাদের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে সরকার।

 

রোববার (৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর অফিসকক্ষে ইউএনডিপির প্রতিনিধি স্টেফান লিলারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

 

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, সরকার সারাদেশ থেকে যোগ্য উদ্যোক্তা ও পণ্যকে জাতীয় ও রপ্তানি বাজারে নিয়ে আসতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হস্তশিল্পকে বর্ষপণ্য ঘোষণার পর হস্তশিল্পকে কেন্দ্র করে সারা দেশে একযোগে কাজ করছে সরকার। এখন পণ্যের সঙ্গে এর কারিগর ও অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

 

দায়িত্বভারের জন্য অভিবাদন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিশেষকরে এলডিসি গ্রাজুয়েশন সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ইউএনডিপি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেলক্ষ্যে কারিগরি ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করবে ইউএনডিপি।

 

এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, ইউএনডিপির সহকারী প্রতিনিধি আনোয়ার হক, সহকারী প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামান, যুগ্মসচিব নাহিদ আফরোজ, উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ই-কমার্সের লেনদেনে বাড়ছে কার্ডের ব্যবহার

করোনা মহামারির ঘরবন্দি সময়ে দেশে ই-কমার্স, এফ-কমার্সসহ অনলাইন ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার হয়। সময় ও শ্রম বাঁচাতে মানুষও এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কমবেশি সব শ্রেণির মানুষ অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্ত হলেও ব্যাংকের কার্ডধারীদের মধ্যে অনলইনে কেনাকাটার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। কার্ড থেকে পেমেন্ট নানা ছাড়, উপহার আর নিরাপদ পেমেন্টের নিশ্চিতের কারণে এই প্রবণতা বেড়েছে।

২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ই-কমার্সে কার্ডে লেনদেন হয়েছে ১২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। যা এর আগের একই সময়ের তুলনায় ২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা বেশি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি সময়ে অনলাইন কেনাকাটায় ১০ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এরপরের বছরের একইসময়ে লেনদেন হয় ১২ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এসময় কার্ডে অনলাইন কেনকাটায় লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা।

করোনার সময়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয় ই-কমার্স। তবে ২০২১ সাল থেকে ইভ্যালি, ধামাকা শপিং, ই-অরেঞ্জ ও কিউকমের মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসতে থাকে। এতে এই খাত থেকে আস্থা হারান গ্রাহকরা। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে আস্থা ফিরতে শুরু করে খাতটিতে। এর ফলে ই-কমার্সে কেনাবেচা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ই-কমার্সে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা। ২০২২ সালের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৭৭২ কোটি টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে ই-কমার্সে লেনদেন বেড়েছে ৩০০ কোটি টাকা। আর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে ই-কমার্সে লেনদেন বেড়েছে ৮২৫ কোটি টাকা।

এদিকে ই-কমার্স খাতে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে এলে এই খাতে গ্রাহকদের আস্থাহীনতা তৈরি হয়। অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অগ্রিম টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনেও পণ্য বা সেবা সরবরাহ করছে না। এ নিয়ে ২০২১ সালের জুনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা জারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই নির্দেশনার আলোকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ নিজস্ব সেটেলমেন্ট হিসেবে ধারণ করবে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য সরবরাহের পর দাম পাবে। লেনদেন নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যাংক, এমএফএস বা ই-ওয়ালেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের জুনে ই-কমার্সে লেনদেন বেড়ে রেকর্ড ১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা হয়েছিল। কিন্তু ই-কমার্স প্রতারণার প্রভাবে এক মাসের ব্যবধানে তা কমে দাঁড়ায় ৭৪২ কোটি টাকায়। তবে সরকারের ডিজিটাল কমার্স আইন ২০২১ প্রণয়নের পর গত বছরের এপ্রিলে আবার হাজার কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে এই খাতের বেচা-কেনা। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকার লেনদেন হয়।




কর অব্যাহতি সুবিধা চায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো

দেশের ই-কমার্স ব্যবসায় অনেক সম্ভাবনা থাকলেও এখনো এই খাত তেমন বিকশিত হয়নি। এ কারণে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা চেয়েছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। একই সঙ্গে তারা পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আরোপিত ১৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় গতকাল মঙ্গলবার ই-ক্যাব নেতারা এসব প্রস্তাব দেন। ঢাকার আগারগাঁওয়ের নতুন রাজস্ব ভবনে গতকাল বিকেলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। একই সময়ে আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ রুটি বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি, বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংগঠন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশ উন্নত হচ্ছে, আমাদেরও মনের দিক থেকেও উন্নত হতে হবে। কর-ভ্যাট সুবিধা না পেলে কোম্পানি ভালো করতে পারবে না—এমন মনোভাব পরিহার করা দরকার। যারা কর-ভ্যাট দিতে পারবে না, সেসব ব্যবসা আমাদের দরকার নেই।’

বাজেট আলোচনায় ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিনিয়োগস্বল্পতা ও লোকসানি পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই খাতের বিকাশে ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ই-ক্যাব।

ই-ক্যাব আরও জানিয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ই-কমার্সভিত্তিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ খরচ অনেক বেড়ে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে অনলাইন কেনাকাটায়। তাই সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে ই-ক্যাব। পাশাপাশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদামসহ বিভিন্ন সহায়ক কার্যালয় ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির দাবিও জানানো হয়। এ ছাড়া ই-কমার্সের বিভিন্ন খাতের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণেরও অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে সব ধরনের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় হস্তনির্মিত রুটি, বিস্কুট ও কেকের দাম বেড়ে গেছে। ফলে কর্মজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর তার প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও ধুঁকে ধুঁকে চলছে। বর্তমানে হাতে তৈরি পাউরুটি, বনরুটি, বিস্কুটে উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। এই সীমা ২০০ টাকা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রুটি বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পেইন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমএ) বলেছে, দেশে রঙের ব্যবহার বাড়াতে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা দরকার। বর্তমানে রং উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএফপিআইএ) দাবি করেছে, গ্রাহক পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর না কেটে বছর শেষে একবারে করের হিসাব করার। কারণ হিসেবে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এ খাতের কাঁচামাল আমদানির সময় ৫ শতাংশ অগ্রিম কর দিতে হয়। বিক্রির সময়ও আবার ৭ শতাংশ অগ্রিম আয়কর কেটে রাখা হয়। এতে বছর শেষে দেখা যায়, যে পরিমাণ আয়কর তাঁদের হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি অগ্রিম আয়কর কেটে নেওয়া হয়েছে। কর কর্মকর্তারা সেটি সমন্বয়ের কথা বললেও বাস্তবে তা পাওয়া যায় কম।

এর আগে সকালে এনবিআরের সঙ্গে প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় অংশ নেয় পাঁচটি সংগঠন। তাদের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ বছরের কর মওকুফ সুবিধার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ)। এ ছাড়া প্লাস্টিক খেলনায় ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানানো হয়।

রপ্তানিমুখী আসবাবসামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর কমিয়ে বস্ত্র খাতের মতো নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ আসবাব রপ্তানিকারক সমিতি। একই সঙ্গে আমদানি করা কাঁচামালের ওপর থেকে শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতিরও প্রস্তাব করে তারা।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর করা ও বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের আমদানি প্রাপ্যতা তিন বছরে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।

হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ)। একই সঙ্গে অগ্রিম আয়কর থেকেও অব্যাহতি চেয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ছয় লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)।




ই-কমার্সে ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণে ‘সিসিএমএস’ সেবা চালু

ই-কমার্সের ভোক্তাদের অভিযোগ দাখিল আরও সহজ করতে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সেন্ট্রাল কম্পেলেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিসিএমএস) সেবা। বিশেষায়িত এ প্ল্যাটফর্মটি ভোক্তা, নিয়ন্ত্রক, সমন্বয়ক এবং ই-কমার্স স্টেকহোল্ডারদের মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করবে।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিশেষায়িত এ সেবার উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামানসহ অনেকে।

সেন্ট্রাল কম্পেলেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এখানে একজন ভোক্তা ই-কমার্স সংক্রান্ত যেকোনো যৌক্তিক অভিযোগ করে প্রতিকার পাবেন। প্ল্যাটফর্মটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ই-কমার্স স্টেকহোল্ডার, নথি সিস্টেম এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অ্যাপটি বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণে এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

সিসিএমএস ব্যবহারে ইন্টিগ্রেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং উইজেট মডিউলের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করা যাবে। ভোক্তাদের মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অভিযোগটি নেওয়া হয়।

অভিযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাখিল করার মাধ্যমে অভিযোগ ভেরিফাই করা হবে। অভিযোগ দায়ের করার আগে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্সে অভিযোগ করা হয়েছে কি না এবং কোনো প্রতিকার পেয়েছে কিনা সেটি যাচাই করা সহজ হবে।

অভিযোগ দায়েরের আগে ই-কমার্স নীতিমালা শর্তসমূহ অনুসরণ করা হয়েছে কি না সেটি যাচাই করা সম্ভব হবে। ভোক্তার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে অবহিত করা ও সমাধানের সুযোগ দেওয়া হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, অভিযোগের বিস্তারিত ও যাচাই করতে পারে। গ্রাহক যেকোনো সময়ে তার অভিযোগের বিস্তারিত ও অগ্রগতি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি গ্রাহক এসএমএস ও ইমেইল নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানতে পারবেন।

অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সেটি সমাধানের চেষ্টা না করলে বা দু’পক্ষের মধ্যে মতের অমিল হলে সিস্টেম সেটি ডিটেক্ট এবং নোটিফিকেশন জারি করে এবং নিয়ন্ত্রণকারীকে জানিয়ে দেওয়াসহ একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে।