ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ফের কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একইসঙ্গে ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহসহ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, গত ২৪ মে থেকে গ্রাহকরা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। একইসঙ্গে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করেছে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও দাবি করেন তারা।

গ্রাহক ফোরাম তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটপাটের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার।

ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরের বিভিন্ন শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গ্রাহক মহাসমাবেশ।




বেক্সিমকো-ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারে আস্থা ফিরবে বাজারে : ডিবিএ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত বাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর করে স্বাভাবিক লেনদেন পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিবিএ জানায়, পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইসজনিত অচলাবস্থা দূর করে স্বাভাবিক লেনদেন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে গত ৪ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছিল তারা।

ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বলা হয়, বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় স্বাভাবিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং বাজারে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছিল।

সংগঠনটির দাবি, ফ্লোর প্রাইসের কারণে মার্জিন ঋণগ্রহীতা বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল।

ডিবিএ জানায়, তাদের আবেদন এবং বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসির নবনিযুক্ত কমিশন বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা নিরসন, স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও গতিশীল করবে।

ডিবিএ আশা প্রকাশ করেছে, নতুন কমিশনের নেতৃত্বে বাজারের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থি বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ, আধুনিক, টেকসই ও আস্থাভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংগঠনটি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।




ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি আকিজ উদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নতুন ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আকিজ উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

বুধবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে আকিজ উদ্দিন এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এসময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। ব্যাংকটির গুরু দায়িত্বে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ এক সভায় ব্যাংকটির ডিএমডি আলতাফ হোসেনকে এএমডি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রামের পটিয়ার সন্তান মো. আকিজ উদ্দিনকে ডিএমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফুল আলম মাসুদের ব্যক্তিগত সচিব।




বিশেষ বিবেচনায় আট হাজার কোটি টাকা চায় ইসলামী ব্যাংক

সার, বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ চার খাতে ভর্তুকি বাবদ সরকারের কাছে নিজের গ্রাহকদের পাওনা আট হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আগাম চায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ৷

ভর্তুকি পাওয়ার পর সমন্বয়ের শর্তে এ অর্থ চাওয়া হয়েছে৷ যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আংশিক তহবিল জোগানে সম্মত হয়েছে৷ এতে ইসলামী ব্যাংক কেবল রেমিট্যান্স ও সিএমএসএমই খাতে ভর্তুকির ৪৮৩ কোটি টাকা আগাম নিতে পারবে৷

জানা গেছে, বিশেষ বিবেচনায় তারল্য সুবিধার অনুরোধ জানিয়ে গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি লেখেন ইসলামী ব্যাংকের এমডি৷ চিঠিতে বলা হয়, দেশে বিরাজমান মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমায় ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের চাহিদা বেড়েছে৷ আবার মানুষের হাতে নগদ টাকা ধরে রাখার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ ফলে ব্যাংক খাতে নগদ প্রবাহে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে৷

বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রাহকের নগদ টাকার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিধিবদ্ধ তারল্য সঞ্চিতি সংরক্ষণে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে৷ তারপরও দেশের সবচেয়ে বড় আমানতের ব্যাংক হওয়ায় গ্রাহকের নগদ উত্তোলন চাহিদা পূরণে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে৷ শরিয়াহ ব্যাংক হওয়ায় পদ্ধতিগত কারণে ইসলামী ব্যাংক যে কোনো মাধ্যম থেকে নগদ অর্থ নিতে পারে না৷ পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা অব্যাহত রাখা একান্ত প্রয়োজন৷

চিঠিতে কোন খাতে কী পরিমাণ ভর্তুকির টাকা পাওনা রয়েছে, তা উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২২ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপত্রের আলোকে ব্যাংকটি ৭১ কোটি ২১ লাখ ডলারের ৪৫টি এলসি খুলেছে৷ এর বিপরীতে গ্রাহক ভর্তুকি বাবদ সাত হাজার ৭৪ কোটি টাকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে৷ গ্রাহক টাকা পেলে তাদের এখানে সমন্বয় হবে৷ একইভাবে ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকটির পাওনা ৪০০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা৷ করোনা সংকট মোকাবিলায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত প্রণোদনার আওতায় ব্যাংকটি পাবে ১৪৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা৷ এ ছাড়া রেমিট্যান্সের বিপরীতে ভর্তুকির ৩৩৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা পাবে ব্যাংকটি৷

নিয়ম অনুযায়ী, রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ সহায়তা গ্রাহককে তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করে ব্যাংক৷ আর আর্থিক প্রণোদনার আওতায় সরকারি সুদ ভর্তুকির টাকা প্রথমে ব্যাংক বহন করে৷ ব্যাংকগুলো আবেদন করার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ শেষে সরকার থেকে এ অর্থ পায়৷ এ জন্য বেশ সময় লাগে৷ সরকার ও বিদ্যুৎ-জ্বালানির ভর্তুকির টাকা আগাম চাওয়া হলেও দেওয়ার প্রক্রিয়া বেশ জটিল৷ যে কারণে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে শুধু রেমিট্যান্স এবং সিএমএসএমই খাতে ভর্তুকির টাকা আগাম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷ এর আগে রেপোর আদলে সুকুক বন্ড লিয়েনে রেখে শরিয়াহ ব্যাংকগুলোকে ১৪ দিন মেয়াদি ধারের সুযোগ দেওয়া হয়৷

এর আগে এ বছরের শুরুতে আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংককের কাছ থেকে আট হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার পায়৷ ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা কাটাতে সুদভিত্তিক টাকা ধার দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক৷