যোগ্য পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের দাবি গ্রাহকদের

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

একই সঙ্গে ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রাহকদের দাবি ছিল এস আলমের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল এবং ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে, যা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপদ নয়।

তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্রাহকেরা ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং বিভিন্ন বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ জোরপূর্বক ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন করে এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণের নামে বের করে নেয়। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, জোরপূর্বক নেওয়া শেয়ার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করা এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেওয়া ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার।

অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকের স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে গ্রাহকেরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে গতকাল রোববার আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাতিল করা হয়েছে সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমসহ পরিচালকদের নিয়োগও। পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে।




পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখুন: প্রশাসক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির আমানতকারী ও গ্রাহকদের ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংকের বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। তিনি বলেন, ‘এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যান এবং ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখুন।’

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলতাফ হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তিনি আপাতত এক সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে খুব শিগগির যোগ্য, দক্ষ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।

 

তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের জন্য যাচাই-বাছাই চলছে। আমরা এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে চাই, যারা দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংক পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করা সম্ভব হবে।’

এদিকে, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. আলতাফ হুসাইন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ সহায়তা হিসেবে আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

তিনি বলেন, ‘গতকালও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি। তবে পুরো অর্থ এখনো ব্যবহার করতে হয়নি। আমরা আশা করছি, যারা আতঙ্কে টাকা তুলে নিয়েছেন তারা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন।’

গ্রাহকদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন আলতাফ হুসাইন। তিনি জানান, দেশের একটি বড় শাখার তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় হিসাব বন্ধের (অ্যাকাউন্ট ক্লোজড) সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে এসেছে, যা ইতিবাচক সংকেত বহন করে।

সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত গাড়ি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান একটি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। অপসারণের চিঠি হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি ফেরত নেওয়া হবে।

সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুককে পুনর্বহালের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘তিনি এরইমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদ তা গ্রহণ করেছে। ফলে তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই।’




ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার সিদ্ধান্ত স্থগিত

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পা‌নি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমক্যাশ লিমিটেডে বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ যথাযথ আলোচনার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র সম্পন্ন করার জন্য এমক্যাশ লিমিটেডে কৌশলগত ইক্যুইটি বিনিয়োগকারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসির অন্তর্ভুক্তি করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার হয়েছে। গত ১২ মার্চ দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৩৯৬তম সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৯ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায়, এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির জন্য পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছিল। সে সময় জানানো হয়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ পর্ষদ সভায় বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া না পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৫ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকের হাতে ০.১৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭৫.০৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭.৯১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬.৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে। কোম্পানিকে ক্রেডিট রেটিং দিয়েছে এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এ’ এবং স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-২’।

কোম্পানিটির গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্য অনুযায়ী এ ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা ১১ ডিসেম্বর

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ১১ ডিসেম্বর এ এজিএম হবে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের গত ৭ ডিসেম্বরের আদেশ (কোম্পানি ম্যাটার নং ১১০৭ অব ২০২৫) অনুসরণ করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ গত ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এজিএমের তারিখ নির্ধারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ইসলামী ব্যাংকের ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ১১ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে করা হবে।

২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সমাপ্ত হিসাববছরের কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৬৮ টাকা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৩.৯৫ টাকা।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪.৩৬ টাকা।




ইসলামী ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে মো. ওমর ফারুক খানকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ৩০ জুলাই ২০২৮ পর্যন্ত মেয়াদে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।

এর আগে ২৪ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের আহ্বানে অনুষ্ঠিত ভাইভা বোর্ডে অংশ নেন ওমর ফারুক খান। সাক্ষাৎকার ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা তার নিয়োগ অনুমোদন করে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ইসলামী ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগ দেন। এর আগে এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ব্যাংকিং খাতে তার প্রায় ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সফলভাবে ইসলামী ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং উইং, প্রধান কার্যালয়, বিভিন্ন বিভাগ, জোনাল অফিস ও শাখার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভারতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম শরিয়াহভিত্তিক তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ওমর ফারুক খানের দায়িত্ব গ্রহণে ব্যাংকের পরিচালনায় নতুন গতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।




এস আলম গ্রুপের ৩১ একর সম্পদ নিলামে তুলেছে ইসলামী ব্যাংক 

এবার এস আলম গ্রুপের বেনামি প্রতিষ্ঠানের ১৭৮৩ কোটি টাকা ঋণ আদায়ে ৩১ একর সম্পদ নিলামে তুলেছে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। খেলাপি প্রতিষ্ঠানটির নাম কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড।

চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকার প্লট-সি ২৬/২৭ সরকারি শিল্প প্লটের ঠিকানায় ওই ঋণ দেয় ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

সোমবার (১২ মে) স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ নিলাম ডাকে ব্যাংকটির জুবিলী রোড শাখা।

চট্টগ্রামের স্থানীয় এক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি জুবিলী রোড শাখার বিনিয়োগ গ্রাহক কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের কেলিশহর কাশেম চৌধুরী বাড়ির নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও নুর নাহার দম্পতির ছেলে মো. রহিম উদ্দিন চৌধুরী এবং চেয়ারম্যান নগরীর বাকলিয়া থানাধীন পশ্চিম বাকলিয়া খালপাড় মক্কা আবাসিক এলাকার ইসলামীয়া ম্যানসনের মুনীর আহমেদ ও হালিমা বেগম দম্পতির ছেলে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লভ্যাংশসহ ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগ বাবদ ১ হাজার ৭৮৩ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৩১ টাকা এবং আদায়কাল পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য খরচ আদায়ের নিমিত্তে অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ এর ১২ (৩) ধারা মোতাবেক বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে বিক্রির জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ৪৩টি আলাদা তপসিলে ৩০ একর ৬০ শতক জমিসহ কারখানা রয়েছে। এ জমির মধ্যে নালা, পুকুর, খাস প্রকৃতির জমিও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকটির জুবিলী রোড শাখার কর্মকর্তারা খেলাপি ঋণটি এস আলমের গ্রুপের বলে জানিয়েছে। ওই ঋণ অনুমোদনের সময় ফাইলে স্বাক্ষর দিতে অনীহা প্রকাশের কারণে দুই কর্মকর্তাকে বদলি ও চাকুরিচ্যুত হতে হয়েছে বলেও জানান তারা।

এর আগে, ৮২ কোটি টাকা আদায়ে আদায়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এস আলম স্টিলস, এস আলম ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, ২৭ এপ্রিল ২১৮০ কোটি টাকা আদায়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন স্টিল মিল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভোজ্যতেল কারখানাসহ ১১৪৯ শতাংশ জমি এবং এর আগে ২০ এপ্রিল ৯৯৪৮ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে এস আলম গ্রুপের চিনিকলসহ প্রায় ১১ একর সম্পত্তিসহ আরও বেশ কয়েকটি নিলাম ডাকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।




ইসলামী ব্যাংকের হজ প্রিপেইড কার্ড চালু

হজযাত্রীদের নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি ও ঝামেলা এড়াতে হজ প্রিপেইড কার্ড চালু করলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ কার্ডের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এ সময় ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুক খান ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোশাররফ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের হজ প্রিপেইড কার্ড ক্যাশের পরিপূরক হিসেবে বহন করা যাবে। এটি গ্রহণ করতে আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলার প্রয়োজন নেই এবং দ্রুততম সময়ে ফ্রি এন্ডোর্সমেন্ট করা যাবে। কার্ড ইস্যু ও বন্ধে কোনো চার্জ নেই এবং তাৎক্ষণিক ব্যালেন্স রিলোড ও অব্যবহৃত ব্যালেন্স রিফান্ড সুবিধা রয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবে মাস্টারকার্ড প্রচলিত পস মেশিনের মাধ্যমে কেনাকাটা, মাস্টারকার্ড প্রচলিত যে-কোনো এটিএম বুথ হতে নগদ মুদ্রা উত্তোলন ও হাজীদের থাকা খাওয়াসহ যাবতীয় বিল পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকের আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পসহ যে-কোনো শাখা ও উপশাখা থেকে এই কার্ড গ্রহণ করা যাবে।

এ কার্ডে হজের জন্য সর্বোচ্চ ১২০০ ডলার বা প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার সমপরিমাণ রিয়াল লোড করা যাবে। এ কার্ড গ্রহণ করতে হজ ভিসার কপি, এনআইডি ও পাসপোর্টের কপি, ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও দেশি সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে।




ইসলামী ব্যাংকের বন্ড ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর বিষয়ে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটি ১০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর জন্য অনাপত্তিপত্র দিয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, গত ২৪ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ১০০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে অবসায়নযোগ্য ও রূপান্তর অযোগ্য এ সাবঅর্ডিনেট বন্ডটির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে টায়ার টু মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছিল ব্যাংকটি।

এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অনাপত্তি দেয়ার সময় বন্ডের অর্থের পরিমাণ ৫০০ কোটি কমিয়ে ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।




ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেলো ইসলামী ব্যাংক

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ম্যাগাজিনের দেওয়া ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৩ এ ‘মোস্ট ইনোভেটিভ প্রাইভেট কমার্শিয়াল ব্যাংক ইন বাংলাদেশ’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

সম্প্রতি দুবাইয়ে এক অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অথরিটি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে এ পুরস্কার প্রদান করে।

ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে দক্ষতা, আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন প্রোডাক্ট উদ্ভাবনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের জন্য ইসলামী ব্যাংককে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স পাবলিকেশন লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ’ ম্যাগাজিন বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শিল্পে প্রতিভা, নেতৃত্বের দক্ষতা, আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও সক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের উপর গবেষণা করে বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে এই পুরস্কার প্রদান করে।




স্মৃতিসৌধে ইসলামী ব্যাংকের পুষ্পস্তবক অর্পণ

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পক্ষ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, শনিবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ব্যাংকের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডিরেক্টর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন।

এ সময় ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. নাইয়ার আজম, মুহাম্মদ শাব্বির ও কাজী মো. রেজাউল করিম, ক্যামেলকো তাহের আহমেদ চৌধুরীসহ প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৩ কোটি ডলার

দেশে নভেম্বরে প্রবাসীরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৯৩ কোটি ডলার। যা আগের মাসের চেয়ে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার কম। অক্টোবর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৭ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

রোববার (৩ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মাসে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭২ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

নভেম্বরে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। যার পরিমাণ ৪৭ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার ডলার। এরপরেই অবস্থান করছে পূবালী ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এ ছাড়া, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এবং এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমের এসেছে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে গত সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল। আলোচ্য মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এ ছাড়া, সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার।

বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।




ছয় মাসে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আগস্টে

সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে কমেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। গেল মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ও ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। দেশের প্রবাসী আয়ের এ অংক গত ছয় মাসে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে খোলা বাজারে যখন ডলারের দামের ব্যবধান বেশে হয় তখন হুন্ডি বেড়ে যায়। আর যখন হুন্ডির চাহিদা বাড়ে তখন রেমিট্যান্স কমে যায়। গত মাসে ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে ডলারের দাম ৫ থেকে ৬ বেশি ছিল। তাই বেশি লাভের আশায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী আগস্টে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এ অংক আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ৪৩ কোটি ৭৪ লাখ বা ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম। গত বছরের আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

এছাড়া আগের মাস জুলাইয়ে তুলনায়ও আগস্টে প্রবাসী আয় কমেছে। গত জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। অর্থাৎ জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার বা ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

আগস্টে মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতো ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। আলোচিত সময় ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ডলার। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ১২ কোটি ৭৪ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকে ৮ কোটি ৯২ লাখ, আল-আরাফা ব্যাংকে এসেছে ৭ কোটি ৩৩ লাখ এবং জনতা ব্যাংকে এসেছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

ডলার সংকট ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয় এবং আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে ব্যাংকগুলো। এখন প্রবাসী আয়ে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দাম দিচ্ছে। রপ্তানি বিল নগদায়নে প্রতি ডলারের বিপরীতে দাম দিচ্ছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা এবং আমদানি ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা।

প্রকৃত রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নিয়মে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত রিজার্ভ ২ হাজার ৩৩০ কোটি (২৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন) ডলার।

সবশেষ গত ২৬ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভ আছে ২ হাজার ৯২০ কোটি ডলার (২৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার। তবে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী- আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রকৃত রিজার্ভে ৬১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রকৃত রিজার্ভ নেমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে। প্রতি মাসে ৬ বিলিয়ন ডলার হিসাবে এ রিজার্ভ দিয়ে ৪ মাসের কম আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে বাংলাদেশ।

সারা বিশ্বে প্রচলিত ও বহুলব্যবহৃত আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম ৬) অনুযায়ী, রিজার্ভ গণনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত বিভিন্ন তহবিলের পাশাপাশি বিমানের জন্য প্রদত্ত ঋণ গ্যারান্টি, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ঋণ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকে আমানত এবং নির্দিষ্ট গ্রেডের নিচে থাকা সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত নয়। এসব খাতে বর্তমানে রিজার্ভ থেকে ৬৩৭ কোটি ডলার দেওয়া আছে, যা বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়েছে।




শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের এ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) সিস্টেমসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

আলোচ্য সময়ে সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩.৮৩ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ২.৯৯ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৩.২১ টাকা।




ইসলামী ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত এমডির পদত্যাগ

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেছেন। তিনি ব্যাংকটির আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান ছিলেন। তার পদত্যাগের পর ব্যাংকটির ডিএমডি আলতাফ হোসেনকে এএমডি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নতুন ডিএমডি হয়েছেন আকিজ উদ্দিন, যিনি এর আগে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন।

বুধবার (২৯ মার্চ) ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান। সভায় ব্যাংকটির মনোনীত ও স্বতন্ত্র পরিচালকেরা অংশ নেন।

জানা গেছে, পদত্যাগ করা ওমর ফারুক খান ব্যাংকটির চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা ছিলেন। তবে তার মেয়াদ শেষ হতে আরও প্রায় ছয় মাস বাকি ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যে জমি ইসলামী ব্যাংক বিক্রি করেছিল, ব্যাংকের পক্ষে ওমর ফারুক খান তার দলিল গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ব্যবসা দেখভালের কারণে আমদানি, রফতানি, প্রবাসী আয় সংগ্রহ তার কাজের অংশ ছিল।

এদিকে পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকটির ডিএমডি আলতাফ হোসেনকে এএমডি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আকিজ উদ্দিনকে ডিএমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন।