ইভ্যালির গ্রাহকদের প্রায় ১৩ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে নগদ

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি বন্ধ হওয়ার সময় তার গ্রাহকদের যে টাকা নগদের কাছে জমা ছিল, তার অধিকাংশই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বন্ধ হওয়ার সময় ইভ্যালির পাওনাদার গ্রাহকদের মোট ১৭ কোটি ৬৯ লাখ ৩৩ হাজার ১৭৫ দশমিক ৮৪ টাকা নগদের কাছে জমা ছিল। যার মধ্যে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ১২ হাজার ৭৮০ দশমিক ৬৪ টাকা ২৪,৬৩০ জন গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুসারে যথাযথ যাচাই বাছাই প্রক্রিয়াসম্পন্ন করার মাধ্যমে ২০২৩ সালে নগদ ১,৬৩১ জন গ্রাহককে ৬ কোটি ১৪ লাখ ৪৭৫ দশমিক ৭০ টাকা এবং ২০২৪ সালে ২২,৯৯৯ জন গ্রাহককে কয়েক দফায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩০৪ দশমিক ৯৪ টাকা ফেরত দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্সবিষয়ক কারিগরি কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে নগদের কাছে জমা অর্থ গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে নগদের কাছে ইভ্যালির গ্রাহকের ৪ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ৩৯৫ দশমিক ২০ টাকা জমা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্সবিষয়ক কারিগরি কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকদের এই অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য নগদ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

এ বিষয়ে নগদের চিফ কমার্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহীন সারওয়ার ভূইয়া বলেন, অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা ইভ্যালির পাওনাদার গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছি। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আমরা নিশ্চিত করছি, নগদের সিস্টেমে ইভ্যালির গ্রাহকদের যে পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে, তা ফেরত দেওয়ার জন্য নগদ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।




ইভ্যালির রাসেল-শামীমার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি ও সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারহা দিবাহ ছন্দার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। এরপর মামলাটি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি ও সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

 

জানা যায়, রাজধানীর দারুস সালাম থানার বাসিন্দা মুজাহিদ হাসান ফাহিম ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ৫ লাখ টাকার একটি মোটরসাইকেল অর্ডার করে তার মূল্য পরিশোধ করেন। বাদীর ক্রয়কৃত মোটরসাইকেল যথা সময়ে অর্থাৎ ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে ব্যর্থ হলে ফাহিম ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে যোগাযোগ করলে মোটরসাইকেলের ক্রয় বাবদ টাকা পরিশোধের জন্য চেক দেন। চেকটি নগদায়নের জন্য ওই বছরের ২৩ আগস্ট ইভ্যালি থেকে ফোন দিয়ে ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ না থাকায় চেকটি নির্ধারিত তারিখে ব্যাংকে জমা না দিতে অনুরোধ করে। চেকের অর্থ পরবর্তীতে পরিশোধ করবে মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করে। পরবর্তীতে ওই চেক নগদায়ন করার জন্য ফাহিম ইভ্যালি, রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে বার বার তাগাদা দেওয়া স্বত্বেও তারা তাকে টাকা দিতে কালক্ষেপণ করে চেকের মেয়াদ অতিক্রম করান।

 

ফাহিমের অভিযোগ, তারা প্রতারণা করতে মোটরসাইকেলের টাকা আত্মসাৎ করার মানসিকতা নিয়ে এমন কাজ করেছেন। এ ঘটনায় ফাহিম আদালতে মামলা করেন।




১৫০ গ্রাহককে ১৫ লাখ টাকা ফেরত দিলো ইভ্যালি

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১৫০ জন গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ১৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

এসময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এ সফিকুজ্জামান, পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ১০ জনের হাতে তাদের পাওনা টাকা তুলে দেন ভোক্তার ডিজি। বাকি ১৪০ জনকে অনুষ্ঠান শেষে টাকা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রায় সাত হাজার অভিযোগ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জমা পড়েছে। এর মধ্যে আজ প্রথম পর্যায়ে ১৫০ অভিযোগ নিষ্পত্তি করে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বাকিদের টাকাও ফেরত দেওয়া হবে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ই-কমার্সকে আমরা ঠেকিয়ে রাখতে পারবো না। ই-কমার্স এগিয়ে যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গেলে অবশ্যই ই-কমার্সের বিস্তার ঘটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ই-কমার্স বিষয়ে প্রায় ১১ হাজার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ ইভ্যালির বিরুদ্ধে। ইভ্যালির রাসেল ২৭ মাস জেলে ছিলেন। তার যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়, তাহলে এ অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি হবে না। যে টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে চলে গেছে, সেগুলো তারা ফেরত পাবে না। তাই তাদের (ইভ্যালি) ব্যবসায় ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে হবে।

ই-কমার্স থেকে কেনাকাটায় ভোক্তার সচেতনতা প্রয়োজন উল্লেখ করে সফিকুজ্জামান বলেন, ভোক্তারা যতক্ষণ পর্যন্ত সচেতন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এমন প্রতারণা চলবে। তাই ভোক্তাদের উচিৎ কোন সাইট প্রকৃত, কোনটা প্রকৃত নয় সেটি দেখেশুনে কেনাকাটা করা।




ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিচার শুরু

গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাসেল ও চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে এ মামলায় তাদের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালতে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য এ দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামি রাসেলকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব তার অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন এবং সাক্ষীর জন্য আগামী ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। মামলার অপর আসামি শামিমা নাসরিন পলাতক রয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বছরের ১৯ অক্টোবর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। ওইদিন শামীমা আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

এর আগে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আলমগীর হোসেন নামে এক গ্রাহক বাদী হয়ে ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাড্ডা থানায় মামলাটি করেন।

Aমামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী ২০২০ সালের শুরুর দিকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইভ্যালি সম্পর্কে জানতে পারেন। সেখানে ইলেকট্রনিক্স পণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম মূল্যে অফার করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাজার মূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দেখতে পান। পরে তিনি ইভ্যালি অ্যাপসের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দুটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে দুটি অ্যাকাউন্ট খুলেন। তিনি নিজের আইডি দিয়ে আনুমানিক ৫ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করেন। আরেকটি আইডি বন্ধুর নামে খুলে ২৩ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করেন। তিনি দুই আইডি দিয়ে সর্বমোট ২৮ লক্ষাধিক টাকার অর্ডার করেন বিকাশ/নগদ, ও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট করেন। কিন্তু ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ তার অর্ডার করা পণ্যগুলো নির্ধারিত ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তার অর্ডার করা পণ্যগুলো বুঝে পাননি। এ ব্যাপারে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তারা পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করে। তিনি মোট ২৮ লাখ টাকার অধিক অর্ডার করা পণ্য বুঝে পাননি।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা সারাদেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কম মূল্যে পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাস।




১৪ গ্রাহককে টাকা ফেরত দিলো ইভ্যালি

পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে আটকে থাকা টাকা ফেরত পেয়েছেন ইভ্যালির ১৪ গ্রাহক। এসএসএল সার্ভিসের মাধ্যমে পেমেন্ট করা ১৪টি লেনদেনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ধাপে ১৪ জন গ্রাহককে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬৭ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলমান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মুহাম্মদ সাঈদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, গত ১২ তারিখ থেকে ইভ্যালি রিফান্ড কার্যক্রম শুরু করেছে। ধাপে ধাপে বিকাশ, নগদ ও এসএসএল-এ আটকে থাকা টাকাগুলো গ্রাহকদের রিফান্ড করা হবে। ইভ্যালির সবচেয়ে বেশি ১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আটকে আছে নগদে। বিকাশে ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ও এসএসএল-এ আছে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া ছোট কিছু অ্যামাউন্ট আছে বিভিন্ন সার্ভিসে, তবে সেটির পরিমাণ খুবই কম।

তিনি বলেন, ইভ্যালির প্রথম ধাপে এসএসএলের মাধ্যমে কিছু টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আজ অথবা কালকের মধ্যে নগদে আটকে থাকা দেড় কোটি টাকার একটি বড় পেমেন্ট রিফান্ড করা হবে।

২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে এসক্রো নীতিমালা কার্যকর হয়। এরপর গ্রাহক পণ্য ক্রয়ের জন্য পেমেন্ট গেটওয়েতে টাকা জমা দেওয়ার পর গ্রাহক তা বুঝে পেলে সেই টাকা পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা হতো।