রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর দায়িত্বে আবদুর রহিম খান

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। তিনি বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।

রোববার (২৪ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, মো. আবদুর রহিম খানকে মন্ত্রণালয়ে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এর ভাইস চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব দেওয়া হলো।

ইপিবির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন। ১৯ আগস্ট তাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।




ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। আগামী বছর থেকে মেলার নাম থেকে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ঢাকা বাণিজ্য মেলা’ নামে পরিচিত হবে। ১৯৯৫ সাল থেকে ডিআইটিএফ নামে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুরুতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেলার আয়োজন হলেও এখন এটি পূর্বাচলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইপিবির ১৪৮তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানসহ অনেকে। সভায় বেশকিছু সদস্য নাম পরিবর্তনের বিপক্ষে মত দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মেলার উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নতমানের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং সেগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। তারা দূতাবাস বা প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে নয়, বরং স্থানীয় এজেন্ট বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে অংশ নিচ্ছে। এতে করে পণ্যের মান যাচাই করা যাচ্ছে না এবং অনেক সময় নিম্নমানের পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং মেলার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এসব কারণেই মেলার নাম থেকে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান আগে অংশ নিয়েছে, তারা আগামীতেও অংশ নিতে পারবে। পাশাপাশি ইপিবি একটি নতুন আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার নাম হবে ‘সোর্সিং বাংলাদেশ ২০২৫’। এই মেলার মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।




ফেব্রুয়ারিতে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২.৭৭ শতাংশ

সদ্যবিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৩৯৭ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ৩ হাজার ২৯৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৯৮১ কোটি ডলার।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয়ে বরাবরের মতোই ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ ও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর শ্রমিক অসন্তোষে জর্জরিত ছিল তৈরি পোশাকশিল্প খাতসহ অন্য শিল্পখাতগুলো। গ্যাস সংকট চরমে। নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সরকারি পদক্ষেপে শিল্পোদ্যোক্তারা শঙ্কিত। এরকম আরও কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যেই টানা ছয় মাস পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। এবার ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি বেড়েছে গত বছরের একই মাসের চেয়ে পৌনে ৩ শতাংশ (২.৭৭ শতাংশ)।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে কৃষিজাত পণ্যে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও পোশাক খাতে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।




সাত মাসে রপ্তানি আয় ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ডলার ছাড়াল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা টাকার অঙ্কে ৫৪ হাজার ১১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা)। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪২০ কোটি ডলার। অর্থাৎ জানুয়ারিতে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ হাজার ৫৯৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রবাসী আয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে, তবে শিল্প খাতের কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান, যা এই পরিসংখ্যানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যদিও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার আশাব্যঞ্জক, তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার ফলে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুযোগ সৃষ্টি হলেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত সাত মাসে রপ্তানি আয় প্রধানত তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাতে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য খাতের মধ্যে রাবার পণ্য ৩৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ, সাইকেল রপ্তানি ৬৪ ও জাহাজ রপ্তানি ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা, হিমায়িত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। তবে চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি কমেছে। কিন্তু রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি যেহেতু তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, তাই এ খাতের রপ্তানির ওপর নির্ভর করে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি। এ খাতে জানুয়ারি মাসে রপ্তানিতে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এর কাছাকাছি রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলারের, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। শুধু জানুয়ারিতে এ খাতে ৩৬৬ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়েছে; এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানির অর্ডার বাড়লেও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রপ্তানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল্যের প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে রপ্তানি

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে ৫১৮ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি হয় ৪৬৩ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য।

সোমবার (৪ মার্চ) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিথ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া শীর্ষ পণ্যগুলো হলো পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল।

অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। কৃষি পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। হোমটেক্সটাইল পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে ৩ হাজার ২৮৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬৪ কোটি ডলারের। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।




জানুয়ারি মাসে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ৪৯৭ কোটি ডলার

গত জানুয়ারি মাসে দেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৯৭ কোটি ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি।

জানুয়ারি মাসের এই আয়ের মধ্য দিয়ে কয়েক মাস পর ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের কাছাকাছি পৌঁছে পোশাক খাত।

জানুয়ারি মাসে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় দাঁড়িয়েছে ৫৭২ কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার, গত অর্থবছরের এই সময়ে যা ছিল ৫১৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় ১১.৪৫ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রবিবার এই পরিসংখ্যান করে ইপিবি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশ থেকে ৩ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাত থেকে ২ হাজার ৮৩৬ কোটি ৩১ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে নীট পোশাক (সোয়েটার, টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৬১৮ কোটি ডলার সমমূল্যের এবং ওভেন পণ্যের (শার্ট, প্যান্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া জুলাই-জানুয়ারি সময়ে অন্যান্য প্রধান রপ্তানি পণ্য যেমন-পাট ও পাটজাত পণ্য ৫১ কোটি ডলার, হোম টেক্সটাইল ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, পাদুকা ২৯ কোটি ৬২ লাখ ডলার, প্লাস্টিক পণ্য ১৪ কোটি ১৩ লাখ ডলার, কৃষিজাত পণ্য ৫৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার, হিমায়িত মাছ ২৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার এবং রাসায়নিক পণ্য ২০ কোটি ২২ লাখ ডলার রপ্তানি হয়েছে।




পূর্বাচলে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাসব্যাপী ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৪ উদ্বোধন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর উপকণ্ঠে পূর্বাচল নিউ টাউনে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান।

অনুষ্ঠানে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে গত ১৫ বছরে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

মেলায় স্থানীয় টেক্সটাইল, মেশিনারিজ, কার্পেট, প্রসাধনী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, গৃহস্থালীর পণ্য, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, খেলাধুলার সামগ্রী, স্যানিটারি সামগ্রী, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, ভেষজ সামগ্রী, টয়লেট্রিস, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, হস্তশিল্প, গৃহসজ্জা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য পণ্য প্রদর্শিত এবং বিক্রি হবে।
তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ইরানের কোম্পানিগুলো এ বছর তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। মেলায় বিদেশি কোম্পানির ১৬-১৮টি প্যাভিলিয়নসহ ৩৫১টি স্টল রয়েছে।

মেলায় প্রবেশ মূল্য সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
মেলা সকাল ১০টায় খোলা হবে এবং সপ্তাহের দিনগুলোতে রাত ৯টায় বন্ধ হবে। সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে দর্শনার্থীরা রাত ১০ টা পর্যন্ত মেলায় থাকতে পারবেন।

মেলায় যাতায়াতের সুবিধার্থে ফার্মগেট থেকে মেট্রোরেল এবং এলিভেট এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সংযোগের জন্য বাস পাওয়া যাবে।




 পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নিম্নমুখী

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াল ১ দশমিক ৩০ শতাংশে। মূলত পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি হারের এই নিম্নমুখী অবস্থান উঠে এসেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন বলছে, জুলাই-নভেম্বর এ পাঁচ মাসে ২২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারের। মূলত নভেম্বর মাসে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশ। এতে পুরো রপ্তানিতে ঝাঁকুনি লেগেছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থ-বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের। যেখানে এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের। বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার নেমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে।

নভেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার আগের দুই মাসের চেয়ে কমেছে কয়েকগুণ। আগের মাস অক্টোবরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩ শতাংশ।

শুধু নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে। একক মাসের হিসাবে এটা আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। আগের বছরের নভেম্বর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের।

দেশে তৈরি পোশাক- রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হওয়ায় পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোট রপ্তানি আয়ও নিম্নমুখী।

বিবিএস বলছে, নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে নিট পোশাকের রপ্তানি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। এরমধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের। যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ কম। ওভেন পোশাক রপ্তানি আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় এর প্রভাব দেশের তৈরি পোশাক খাত তথা পুরো রপ্তানি খাতকে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি জুলাই থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত অব্যহত ছিল। কিন্তু অক্টোবর থেকে সেটা কমতে থাকে।

পোশাক শিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে বলে মনে করছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এতে মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাকের ওপর। এ ছাড়া গত মাসে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনেকে সময়মতো রপ্তানি করতে পারেনি। রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটিও অন্যতম বড় কারণ।

এছাড়া অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে হিমায়িত মৎস্য রপ্তানি হয়েছে ১৭৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশ। ৪২০ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলারের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে; প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৮৯ শতাংশ।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ; নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রপ্তানির পরিমাণ ৪২৭ মিলিয়ন ডলার।

এক সময়ের প্রধান রপ্তানি পণ্য সোনালী আঁশ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ; চলতি অর্থ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারের।

হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪২ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২০০ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ। জাহাজ রপ্তানি কমেছে প্রায় শতভাগ।




বাণিজ্যের প্রসারে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে : টিপু মুনশি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও রপ্তানি আয় বাড়াতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ এ শব্দ দুটি ভুলে যেতে হবে।

বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি আয়োজিত ‘রপ্তানি উন্নয়ন ভবন’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে ডেনিমে বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম এবং তৈরি পোশাক শিল্পে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এটি আমাদের মতো দেশের জন্য কত যে গৌরব ও অহংকারের তা সবাই বুঝি। সেবা নিশ্চিত করতে হলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। এই শব্দ আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বে অবহেলা করে টেবিলে কাজ ফেলে রাখা উচিত নয়। যেদিনের কাজ সেদিনেই করতে হবে। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা যাবে না।

তিনি জানান, রপ্তানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। রপ্তানি বাড়ানোর অনেক সম্ভাবনাময় খাত আছে। দেশে রপ্তানিযোগ্য বৈচিত্র্যময় নানা পণ্যের সমাহার রয়েছে। এগুলো কাজে লাগানোর জন্য দরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।

এছাড়া নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ এবং ২০৪১ সালের যে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম।




রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা

চলতি বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের তৈরি পণ‍্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি কমেছে। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইপিবির তথ‍্য মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৭৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম।

এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার সমপরিমাণ। শুধু গতবছরের তুলনায় কমেনি বরং অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয়ে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তাও পূরণ হয়নি। উল্লেখিত মাসে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্যের। সেই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। ফলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩- ২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস ভালো ইতিবাচক থাকার পর চতুর্থ মাসে রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় ফিরল।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে অক্টোবরে মোট ১ হাজার ৭৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তাতে প্রথম চার মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে প্রথম তিন মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রতি মাসেই রপ্তানি আয় হয়েছে ৪০০ কোটির বেশি। এর মধ্যে আগস্টে এসেছিল সবচেয়ে বেশি ৪৭৮ কোটি ডলার। জুলাইয়ে যা ছিল ৪৫৯ কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩১ কোটি ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৬২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকেও অক্টোবরের রপ্তানি আয় কমেছে। এ বিষয়ের তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দার কারণে পোশাক রপ্তানি কমেছে। এটি আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বিদেশের অর্থনৈতিক মন্দা কাটলে পোশাক রপ্তানি আরও বাড়বে।




  টানা দুই মাস পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হোঁচট

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্যের রপ্তানি সেপ্টেম্বর মাসে বেড়েছে। তবে সরকার রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর নয়, তার আগের মাস আগস্টেও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর টানা দুই মাস সরকার নির্ধারিত পোশাক পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হোঁচট খেলো বাংলাদেশ।

রোববার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রতিবেদনে এ থ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্যমতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য বিশ্ববাজারে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ পণ্য। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৩১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বিদায়ী মাসটিতে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে আয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯০ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণের। আর আয় হয়েছে ৩৬১ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। ২৯ কোটি ডলার অর্থাৎ শতাংশের হিসেবে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম রপ্তানি আয় হয়েছে।

তার আগের মাস আগস্টে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২২ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আয় হয়েছিল ৪০৪ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। পরপর দুই মাসেই কমেছে। তবে তার আগের মাস জুলাইয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭৭কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিমাণ পোশাক পণ্যের। সেই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিমাণের। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও বেশি রপ্তানি আয় হয়েছিল।

সবমিলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (তিন) মাসে রপ্তানি আয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেখান থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার পরিমাণ পণ্য। অর্থাৎ সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

তবে আগের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালের প্রথম তিন মাসের চেয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছিল ১ হাজার ২৭কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার পণ্যের। আর চলতি বছরে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

তার আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ।




পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য আগস্ট মাসে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে ৪০৪ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৩৭৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ইউএস ডলার।

অর্থাৎ ২০২২ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ইউএস ডলার বা ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রথম দুই (জুলাই ও আগস্ট) মাসে ৭৯৯ কোটি ৮৬ লাখ ইউএস ডলার সমপরিমাণ পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭১১ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার সমপরিমাণ পণ্য।

অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে জুলাই ও আগস্ট মাসে ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে।

দুই প্রকার পোশাক পণ্যের মধ্যে শুধু চলতি অর্থ বছরের আগস্ট মাসে ওভেন পোশাক খাতে ১৭২ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ডলার সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ১৬৮ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

অপরদিকে নীট পোশাক খাতে আগস্ট মাসে ২৩১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা ২০২২ সালে ছিল ২০৬ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।




২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে রপ্তানি আয়ে চমক

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি আয়ে চমক দেখিয়েছে। বাংলাদেশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় করেছে। পাশাপাশি চলতি বছরের জুলাই মাসে সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল তা পূরণ করেও ২ দশমকি ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে।

বুধবার (২ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ৪৫৯ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশের তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার সমপরিমাণ পণ্য। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় ৬০ কোটি ৮১ লাখ ইউএস ডলার পরিমাণ আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশ ২৬ ধরনের পণ্য রপ্তানি করে। এর মধ্যে ১৭টি খাতের রপ্তানি বেড়েছে। এই ১৭ খাতের মধ্যে যথারীতি রপ্তানি সবচেয়ে বেশি হয়েছে পোশাক খাত থেকে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে সরকার এবার ৬২ বিলিয়ন ডলার বা ৬ হাজার ২০০ কোটি ইউএস ডলার পরিমাণ পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করবে। তাতে প্রবৃদ্ধি হবে ১১ দশমকি ৫৯ শতাংশ। তার মধ্যে একক মাস হিসেবে জুলাই মাসে সরকারে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ বিলিয়ন বা ৪৪৮ কোটি ১০ লাখ ইউএসডলার পরিমাণ পণ্য। আর সরকারের রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৫৯ কোটি ২০ লাখ ইউএস ডলার পণ্য। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বেড়েছে। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এর আগের বছর ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

খাতভিত্তিক রপ্তানি তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাসে রপ্তানি আয় সবচেয়ে বেশি হয়েছে তৈরি পোশাক থেকে। এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ মোট রপ্তানি হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক পণ্য।

এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২২৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের (প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং ওভেন পোশাক বিদেশে গেছে ১৬৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের (প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ)।




পোশাক রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৬.৮০ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি হয়েছে ৪৬.৯৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.৪১ শতাংশ বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

সোমবার (৩ জুলাই) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে ওভেন ও নিট পোশাক রপ্তানি করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে ৪৬.৯৯ বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে ওভেন পোশাক ২১.২৫ বিলিয়ন ডলার এবং নিট পোশাক ২৫.৭৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে মোট পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪২.৬১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ওভেন ১৯.৩৯ বিলিয়ন ডলার এবং নিট ২৩.২১ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ওভেন পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯.৫৬ শতাংশ এবং নিট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৮৭ শতাংশ। বছরের ব্যবধানে পোশাক রপ্তানি ৪.৩৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এ সময় মোট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.২৭ শতাংশ।

বিদায়ী অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও সদ্য সমাপ্ত জুনে অনেকটা পিছিয়ে আছে। গত জুন মা‌সে পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪.৪৯ বি‌লিয়ন ডলার। এ সময় অর্জন হয়েছে ৪.৩৬ বি‌লিয়ন ডলার। আলোচ্য সময়ে পোশাক রপ্তানির লক্ষ‌্যমাত্রার চেয়ে ২.৯০ শতাংশ পিছিয়েছে বাংলাদেশ।

জুনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত জুন মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪.৩৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ওভেন পোশাক ১.৯০ বিলিয়ন ডলার এবং নিট পোশাক ২.৪৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে। আগের বছর একই সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৪.০৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ওভেন ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং নিট ২.২২ বিলিয়ন ডলার। আলোচ্য সময়ে ওভেন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১.৯৯ শতাংশ এবং নিটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৪০ শতাংশ। এ সময় মোট পোশাক রপ্তানিতে ৬.৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।




মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি আয়

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। মে মাসে মোট ৪৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৫১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

রোববার (৪ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

যদিও রপ্তানির এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। মে মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫১২ কোটি ডলার। আর ২০২২ সালের মে মাসে রপ্তানি থেকে ৩৮৩ কোটি ডলার আয় হয়েছিল।

ডলার সংকটের কারণে গত মার্চে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, একইভাবে পরের মাস এপ্রিলে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৫ হাজার ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৭১৭ কোটি ডলারের পণ্য।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে রপ্তানিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। যেখানে রপ্তানি হয়েছে ১১২ কোটি ডলারের পণ্য। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০২ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ খাতের রপ্তানি কমেছে ৩০ শতাংশ।




৪ মাস পর রপ্তানি আয়ে ভাটা

বৈশ্বিক মন্দা, দেশে জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও ইতিবাচক ধারায় ছিল রপ্তানি আয়। চার মাস ধরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও সদ্যসমাপ্ত মার্চে নেতিবাচক ধারায় ফিরেছে রপ্তানি।

মার্চে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে উদ্যোক্তারা আয় করেছেন ৪৬৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ শতাংশ ও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম।

রোববার (২ এপ্রিল) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইপিবি জানায়, চলতি বছর মার্চে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০২ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরের মার্চে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৬ কোটি ২২ লাখ ডলার।

মার্চে নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও অর্থবছরের ৯ মাস (জুলাই থেকে মার্চ) মোট রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের তিন প্রান্তিক মিলিয়ে (জুলাই থেকে মার্চ) রপ্তানি আয়ে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। মার্চ শেষে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭২ কোটি ১৬ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাকের অংশই বেশি। মার্চে মোট ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তবে এ মাসে পোশাক রপ্তানিও আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক দশমিক ০৪ শতাংশ পিছিয়ে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এসময় চামড়াজাত পণ্যে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, পাদুকায় ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, পরচুলায় ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে এ ৯ মাসে কৃষিপণ্যে ২৮ দশমিক ৩১, হিমায়িত মাছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, পাটজাত পণ্যে ২১ দশমিক ২৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।