বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘হালাল অর্থনীতি’

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার প্রচলিত পণ্য বাণিজ্যের বাইরে এবার নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে ‘হালাল অর্থনীতি’।

প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, হালাল অর্থায়ন ও পর্যটনসহ নানা খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি।

আজ (সোমবার) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ও ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হালাল অর্থনীতি শুধু হালাল খাদ্য বা মাংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন এবং পর্যটনের মতো বিস্তৃত খাত অন্তর্ভুক্ত। এসব খাতে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি আসতে পারে।

তিনি জানান, আগামী ৮ থেকে ১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’। এতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল এক্সপোতে অংশ নেবে। এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।

সভায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’ নিয়ে উপস্থাপনা করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্সের (কেএনইকেএস) ডিরেক্টর জেনারেল পুতু রাহউইধিয়াসা। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিতে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ‘হালাল ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করতে পারে।

তার উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। গ্লোবাল হালাল ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্সে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। হালাল খাদ্য খাতে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান চতুর্থ এবং ফ্যাশন ও পোশাক খাতে ষষ্ঠ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হালাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত হলো হালাল খাদ্য। ২০২৩ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে হালাল পোশাক খাতে ব্যয় ছিল ২৭৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যার সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি এবং এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ভুক্ত দেশগুলো কীভাবে তাদের বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনে হালাল পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা জানার অন্যতম সুযোগ এই এক্সপো। পাশাপাশি বাংলাদেশের হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও এটি সহায়ক হতে পারে।

এর আগে সভায় স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে বাণিজ্যের ভারসাম্যে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। তিনি মনে করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বহুমুখী হবে এবং হালাল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল যাতে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যে এফবিসিসিআই আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।




রোববার বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামীকাল রোববার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মেলায় সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া এবং ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, মেলায় যাতায়াত সুবিধার জন্য গতবারের মতো শাটল বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা থাকবে। কুড়িল বিশ্ব রোড হতে এক্সিবিশন সেন্টার পর্যন্ত বিআরটিসি বাস চলাচল করবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে, তবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।




আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়ার পথে রাষ্ট্রপতি

আগামী ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ৪৩তম ‘আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন’ এবং ১৮তম ‘পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন’-এ যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পত্নী ড. রেবেকা সুলতানা এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট (বিজি-৫৮৪) সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কূটনৈতিক কোরের ডিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান।

বিমানটি সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট যাত্রাবিরতির পর (স্থানীয় সময়) বিকেল সাড়ে ৫টায় জাকার্তার সুকর্ন-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। খবর বাসসের

বঙ্গভবনের মুখপাত্র বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৩ সালের জন্য আসিয়ানের সভাপতি জোকো উইদোদোর আমন্ত্রণে রাষ্ট্রপতি জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে (জেসিসি) আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস) শীর্ষ সম্মেলন এবং পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

‘আসিয়ান প্রেক্ষিত: প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু’ এই প্রতিপাদ্য ও একগুচ্ছ এজেন্ডা নিয়ে তিন দিনব্যাপী আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ‘ইস্ট এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন’-এও যোগ দেবেন। রাষ্ট্রপতি সেখানে ‘গেস্ট অব চেয়ার’ হিসেবে ‘আইওআরএর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দুর সমর্থনে আঞ্চলিক স্থাপত্যকে শক্তিশালী করার বিষয়ে সমাপনী ভাষণ দেবেন।’

এ ছাড়াও তিনি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এবং থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও পূর্ব-তিমুর রাষ্ট্রীয় নেতাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

রাষ্ট্রপতি ৬ সেপ্টেম্বর হুতান কোটা গেলোরা বুং কার্নোতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন।

ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন ও তাঁর পত্নী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর যাবেন। রাষ্ট্রপতি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।




বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি শিগগিরই

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া মধ্যকার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি শিগগিরই হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রোববার (২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলো মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্টদূতও চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে অগ্রগতি সাধনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে দুই দেশ ‘ট্রেড নেগোশিয়েন্স কমিটি’ গঠন করেছে এবং এখন পর্যন্ত তিনটি সভা করেছে এবং আগামী মাসে ইন্দোনেশিয়ায় চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই রাউন্ডে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজীকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উভয়ের দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বন্ধুপ্রতীম এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ। দুই দেশই পর্যটন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে উভয় দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভ্রমণ করার সুযোগ পাবে এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্য সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাণিজ্য প্রসারে এপেক্স চেম্বারের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরের আহ্বান জানালে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত সম্মত হন এবং সহযোগিতার ব্যাপারে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলোর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশে থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছ।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে পামওয়েল রিফাইনারি স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ীরা ইচ্ছুক।