তিন সাবসিডিয়ারি কোম্পানি একীভূতকরণে বিএসইসির অনুমোদন পেল ইন্ট্রাকো

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি তাদের তিনটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে একীভূত করার চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির এই প্রস্তাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ অনুমোদন দিয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের তিনটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি এম. হাই অ্যান্ড কো., সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, নেসা অ্যান্ড সন্স লিমিটেড ও গুড সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডকে একীভূতকরণ স্কিমে উচ্চ আদালতের অনুমোদন পেয়েছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি। সম্প্রতি, একীভূতকরণ স্কিমের মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির জন্য বিএসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ২১ মে এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার। রিজার্ভে রয়েছে ৩২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ৯ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০। এর ৩০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে।

এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২২ দশমিক ২০, বিদেশি বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৭ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




রেকর্ড ডেট নির্ধারণ ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের

বন্ডে আবেদনের জন্য ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে। আগামী ১ নভেম্বর বন্ড আবেদনের জন্য কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, “ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং কনভার্টেবল বন্ড” ইস্যু করবে কোম্পানিটি। বন্ড ছেড়ে কোম্পানিটি ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। রোববার (০১ অক্টোবর) বন্ড ইস্যুর বিষয়ে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছ থেকে অনুমোদনপত্র পেয়েছে।

বন্ডের এর মেয়াদ হবে ৭ বছর। এর সুদের হার ৭ শতাংশ। এটি হবে আনসিকিউরড এবং কানভার্টিবল। এই বন্ডের পুরোটাই চাইলে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের শেয়ারে রূপান্ত করা যাবে। আলোচিত বন্ডের ২০ কোটি টাকার ইউনিট বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বরাদ্দ করা হবে। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ করা হবে ১৫ কোটি টাকার বন্ড।

বন্ডের অবশিষ্ট ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে। বন্ড ইস্যুর মঅধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ ৩টি নতুন সিএনজি স্টেশন স্থাপন, ৫টি এলপিজি স্টেশন স্থাপন এবং ৫টি মাদার-ডটার সিএনজি স্টেশন স্থাপনে ব্যয় করা হবে।




সূচকের পতন, আবারও ৪০০ কোটির নিচে ডিএসইর লেনদেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কমেছে সব কটি সূচকের মান। পাশাপাশি লেনদেন কমেছে উভয় শেয়ারবাজারেই। আর ডিএসইতে লেনদেন নেমেছে ৪০০ কোটির নিচে।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) পুঁজিবাজারে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস শেষে এ তথ্য জানা যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)

ডিএসইতে মঙ্গলবার কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। লেনদেন হয়েছে ৩৯১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার। এর আগে চলতি মাসের ২০ আগস্ট সবশেষ ৪০০ কোটির নিচে নেমেছিল ডিএসইর লেনদেন। আর গত কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৪০ কোটি ০৯ লাখ টাকার শেয়ার। লেনদেন কমেছে ১৪৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এদিন ডিএসইতে কমেছে সবকটি সূচকের মানও। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৯০ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৭১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে। আর ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ৫ দশমিক ০৮ পয়েন্ট। সূচকটি অবস্থান করছে ২ হাজার ১৩৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল ফু-ওয়াং ফুডস। এ ছাড়া এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, রূপালী লাইফ ইন্সুরেন্স, জেমিনী সী ফুড, সোনালী পেপার এন্ড বোর্ড মিলস, ইস্টার্ন হাউজিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, খান ব্রাদার্স ও এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ছিল শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায়।

ডিএসইতে মঙ্গলবার ৩২০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৩টি কোম্পানির, কমেছে ১২৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)

অন্যদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার সিএসইতেও মঙ্গলবার কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১০ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার। লেনদেন কমেছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

সিএসইতে এদিন কমেছে সব কটি সূচকের মানও। সিএএসপিআই সূচক ২১ দশমিক ২৩ পয়েন্ট ও সিএসসিএক্স সূচক ১৪ দশমিক ০৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬০৫ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে ও ১১ হাজার ১২২ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে।

এ ছাড়া সিএসই-৫০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট। সূচকটি অবস্থান করছে ১ হাজার ৩০৮ দশমিক ১৭ পয়েন্টে। আর সিএসই-৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ১ দশমিক ০৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৯০ দশমিক ৯২ পয়েন্টে ও ১ হাজার ১৭৪ দশমিক ০২ পয়েন্টে।

সিএসইতে ১৬০ টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২০টির, কমেছে ৬৪টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৬টি কোম্পানির শেয়ার দর।