ইউসিবির ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির ৭৭৫ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহে রাইটস শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১ হাজার ১৯তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ইউসিবি কর্তৃপক্ষের রাইটস শেয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ টাকা মূল্যের ৭৭ কোটি ৫১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৯৪৯টি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকটির বিদ্যমান দুটি শেয়ারের বিপরীতে নতুন করে একটি শেয়ার ইস্যু করা হবে।

বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা প্রতি ২টি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইটস শেয়ার (১ : ২ অনুপাতে) কেনার সুযোগ পাবেন। এই শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটি শেয়ার বাজার থেকে মোট ৭৭৫ কোটি ১৮ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে।

ইউসিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাইটস শেয়ার ইস্যু থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে।

 




৪ ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত চারটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ব্যাংকগুলো হলো- ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি ও এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

ব্র্যাক ব্যাংক: চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৫৪ টাকা। আগের বছর একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ১.২৫ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ০.২৯ টাকা। এদিকে, চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে বা ৬ মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩.৫৬ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ২.৬২ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ০.৯৪ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪২.২২ টাকায়।

ইস্টার্ন ব্যাংক: চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.২৩ টাকা। আগের বছর একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ১.১১ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ০.১২ টাকা। এদিকে, চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে বা ৬ মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২.২০ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ২.০২ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ০.১৮ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭.৭১ টাকায়।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক: চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.০৮ টাকা। আগের বছর একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ০.৪১ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা কমেছে ০.৩৩ টাকা। এদিকে, চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে বা ৬ মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.১২ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ০.৮২ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ০.৭২ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫.৭৪ টাকায়।

এনআরবিসি ব্যাংক: চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.০০৩ টাকা। আগের বছর একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ০.২৯১ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা কমেছে ০.২৮৮ টাকা। এদিকে, চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে বা ৬ মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.০৮৩ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ০.৭৩৩ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা কমেছে ০.৬৫ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬.৬৭ টাকায়।




বন্ড ছেড়ে ১০০০ কোটি টাকা তুলবে ইউসিবি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) আরও একটি সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করবে। এই বন্ডের নাম- ইউসিবি ৬ষ্ঠ সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড। এর আগে ইউসিবি আরও পাঁচটি সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করেছে।

প্রস্তাবিত বন্ডটি ইস্যুর মাধ্যমে ইউসিবি বাজার থেকে ১০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। টিয়ার-টু মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে এই অর্থ ব্যবহার করবে ব্যাংকটি।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ইউসিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন সভায় বন্ড ইস্যুর এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

সূত্র অনুসারে, আলোচিত বন্ডটি হবে ট্রাস্ট ব্যাংকের ৬ষ্ঠ সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড। এই বন্ডের মেয়াদ হবে ৭ বছর। মেয়াদ শেষে এর পূর্ণ অবসায়ন ঘটবে। বন্ডটি শেয়ারে রূপান্তর-অযোগ্য। অর্থাৎ এর কোনো অংশ শেয়ারে রূপান্তর হবে না। এই বন্ডের বিপরীতে কোনো জামানত থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে বন্ড ইস্যু করার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।




ইউসিবি ও ন্যাশনাল ফাইন্যান্স চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব জব্দ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহির ও তার ভাই ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেডের (এনএফএল) চেয়ারম্যান আসিফ জহিরের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার মা কামরুন নাহারের ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। কার ফাঁকি সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের হিসাব জব্দ করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) এনবিআর ও বিভিন্ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে। হিসাব জব্দ করা ব্যক্তি ও তাদের ব্যক্তি মালিকানা ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের সব লেনদেন বন্ধ থাক‌বে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩-এর ২২৩ ধারার ক্ষমতাবলে শরীফ জহির, তার ভাই আসিফ জহির ও তাদের মা কামরুন নাহার এবং সৈয়দ ইশতিয়াক ইসলাম (পিতা- সৈয়দ দিদারুল আলম) ও তাদের পরিবারের (পিতা, মাতা, ভাই, বোন, স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা) নামে পরিচালিত সব হিসাব (ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, ভল্ট লকার) অর্থসম্পদ লেনদেন স্থগিত করতে বলা হয়েছে।

শরীফ জহির ইউসিবি ব্যাংকের নবগঠিত বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার ভাই আসিফ জহির সম্প্রতি এনএফএলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অনন্ত গ্রুপে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া, তিনি আসিফ জহির সিন্দাবাদডটকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি।