রোহিঙ্গাদের জন্য ১.৪ কোটি ইউরো সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ অতিরিক্ত এক দশমিক চার কোটি ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

 

আজ (বৃহস্পতিবার) এ তথ্য জানায় ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর জানায়, অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এই সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করবে এবং রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প, সীমিত সম্পদ ও দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুত জীবনের কারণে রোহিঙ্গারা নানা ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত আলো, কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সহজ অভিযোগ জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, মানব পাচার ও শোষণের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন নারী ও শিশুরা। এলপিজি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে বাইরে যেতে হয় না, ফলে নিরাপত্তা বাড়ে এবং বন উজাড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে।

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এ সহায়তা ঘোষণা করা হলো। এ দিবসটি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্ব্যক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত এবং আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সহায়তাকারী, যারা মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো ও টেকসই সমাধানে জোর দেয়। জরুরি সেবা চালু রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা এখনও অনেক প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ২০২৫–২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) বাস্তবায়নে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকার, মানবিক সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। চলতি বছরে এই পরিকল্পনার জন্য প্রায় ৭১ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানানো হয়।




ঢাকায় ইইউভুক্ত দেশের জন্য ভিসা সেন্টার খোলার অনুরোধ

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যেসব দেশের ভিসা ঢাকা থেকে ইস্যু করা হয় না, ইইউ রাষ্ট্রদূতকে সেসব দেশের জন্য ঢাকায় একটি ভিসা সেন্টার খোলার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাক্ষাৎ করতে গেলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ অনুরোধ জানান।

বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, অভিবাসন, মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ, বাংলাদেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উপদেষ্টা বলেন, ইইউভুক্ত দেশসমূহে বাংলাদেশ অন্যতম জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশ। তাছাড়া ব্যাবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, চিকিৎসাসহ নানা কাজে প্রচুর বাংলাদেশি লোকজন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যা বিবেচনায় পৃথিবীর শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে অন্যতম। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে গিয়ে ইইউভুক্ত দেশের জন্য ভিসা সংগ্রহ সময়সাপেক্ষ, কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। তাই ইইউভুক্ত দেশসমূহের জন্য ঢাকায় একটি

ভিসা সেন্টার খোলা অত্যাবশ্যক। রাষ্ট্রদূত, এ বিষয়ে ইইউভুক্ত দেশসমূহের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান।
ইইউ রাষ্ট্রদূতকে উপদেষ্টা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের উন্নয়নে অন্যতম বৃহৎ অংশীদার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইইউ বাংলাদেশের ব্যাবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে ইইউ সমর্থন করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ চাইলে ইইউ প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সামর্থ্য, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারে। বাংলাদেশে এ বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি রয়েছে বিধায় উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের জন্য ইইউভুক্ত দেশে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের অনুরোধ করেন। এ সময় উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের আন্তরিকতা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হলে এটি ফলপ্রসূ হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তবে ধীরে ধীরে এটির উন্নতি ঘটছে। এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, ইইউ বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। রাষ্ট্রদূত, সংঘবদ্ধ মবসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, যত বেশি সঠিক তথ্য জনগণকে সরবরাহ করা হবে, তত বেশি অপতথ্যের বিস্তার দূরীভূত হবে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশ বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি আমাদের মিডিয়াকে সবসময় সঠিক তথ্য পরিবেশনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছি।

রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অফিসিয়ালি বাংলাদেশে ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়েও বেশি শরণার্থী কক্সবাজারে বসবাস করছে, যা ঐ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ। সেখানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আমাদের বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থাও রোহিঙ্গাদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।

মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ইইউ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিবছর প্রচুর বাংলাদেশি ইউরোপে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়। দালাল ও মানবপাচার চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেকের প্রাণহানি ঘটে।

তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইইউ এর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় ডায়ালগ আয়োজন ও পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। উপদেষ্টা এ বিষয়ে ইইউকে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করবে।




গতবছর ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৪.৮৬ শতাংশ

২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গত বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে ওঠানামা সত্ত্বেও শেষ প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য রপ্তানির ফলেই এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরে জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের ১৮ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সবশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের তুলনায় চীন ২০২৪ সালে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। যেখানে পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া যথাক্রমে ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানি ২০২৪ সালে ২৬ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৩ সালের ২৫ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে, তুরস্ক ২০২৪ সালে ইইউতে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ পোশাক রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে, যা ১০ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভিয়েতনাম ৪ দশমিক ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৪ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছে। আর পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ও ৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালে ভারত ইইউতে ৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্য সংযোজিত পোশাক উৎপাদন, শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা মান মেনে চলা এবং নির্মাতা ও শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাসহ বেশ কয়েকটি কারণ এই স্থিতিশীল বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। এ উন্নয়নগুলো ক্রেতাদের আস্থা বাড়িয়েছে, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করেছে এবং রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী অবস্থান দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এটি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক পূর্বাভাস। কারণ, ২০২৫ সালে এই রপ্তানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা ফিরে আসছে এবং এখানে সোর্সিং কার্যক্রম বাড়াচ্ছে, যা রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশাবাদী সামনে কাজের অর্ডার আরও পাবে। ফলে, এবছরও গতবারের মতো প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ডিএসই’র চেয়ারম্যানের বৈঠক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু’র সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল পরিসংখ্যান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্টের প্রকল্প কর্মকর্তা সমষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ মিঃ মার্গা পিটার্স ও ইনক্লুসিভ গভর্নেন্সের টিম লিডার ফাস্ট সেক্রেটারি মিস এনরিকো লরেনজন ডিএসই কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন৷

বুধবার (২৯ মে) এ বৈঠকের সময় তার সঙ্গে ছিলেন ডিএসই’র পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সাত্বিক আহমেদ, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা খাইরুল বাসার আবু তাহের মোহাম্মদসহ ডিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ৷

বৈঠকে ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি উদীয়মান পুঁজিবাজার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশের সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমান পুঁজিবাজারকে উন্নয়নের সাথে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার বিষয়ে ভাবছেন। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অৰ্থায়ণ হয়। আর এর মাধ্যমে দেশের জিডিপি’র পরিমাণ বৃদ্ধি পায়৷ প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ডিএসই’র সহযোগিতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি পণ্য এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টকরণ ইত্যাদি বিষয়সমূহ নিয়েও আলোচনা করেন৷ প্রতিনিধিবৃন্দ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন৷

পরে প্রতিনিধিবৃন্দকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং “রূপকল্প ২০৪১” বাস্তবায়নে সরকারের সম্ভাব্য উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়ন করার তথ্য-বিশ্লেষণ এবং সচিত্র দিক নির্দেশনামূলক “World Leader Sheikh Hasina: The Pioneer of Golden Bangladesh” নামক নিজের লেখা একটি বই উপহার দেন ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু।




বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হুইটলি বলেছেন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৪ বিলিয়ন ইউরোর বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমরা খুবই আগ্রহী। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন তিনি৷

রাষ্ট্রদূত চার্লস হুইটলি বলেন, এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার পরিকল্পনা জানতে পেরে আমরা বেশ আশাবাদী। কাজেই বাংলাদেশের সহায়তা অংশীদার হিসেবে কাজ করার বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশা বেড়েছে।

চার্লস হুইটলি বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশে কাজ করছি আমরা। সেসব ক্ষেত্রে বাজেট সহায়তা নিয়েও কথা বলেছি। বাণিজ্য ও ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

২০২৬ সালের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা; জানতে চাইলে হুইটলি বলেন, স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সহজ হোক, আমরা সেটিই চাচ্ছি। আমরাও এ বিষয়ে জোর দিচ্ছি। কারণ এটা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই জিএসপি প্লাসে সহজ রূপান্তর চাচ্ছি। এটাই আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড়ো ভিত্তি। ২০২৬ সালের প্রক্রিয়ার জন্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই ইউরোপীয় চেম্বারস অব কমার্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে কীভাবে সহায়তা করতে পারি, সেদিকেই আমরা বেশি আলোকপাত করছি।

তবে শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলেও জানিয়েছেন হুইটলি।




চীনকে পেছনে ফেলে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষে

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে গেছে বাংলাদেশ। দাম ও পরিমাণ, উভয় ক্ষেত্রেই এখন ইইউতে শীর্ষ নিট পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ।

ইইউ’র পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাট সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করে। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) ইইউ’র পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলো ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের নিট পোশাক নিয়েছে। একই সময়ে চীন থেকে তারা ৮৯৬ কোটি ডলারের নিট পোশাক আমদানি করে। বছরের ৯ মাস বিবেচনায় এই প্রথমবারের মতো ইইউতে বাংলাদেশের নিট পোশাক রপ্তানি চীনকে ছাড়িয়ে গেল। একই সঙ্গে পরিমাণের দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসে ইইউ বাংলাদেশ থেকে ৫৭ কোটি ১০ লাখ কেজি নিট পোশাক আমদানি করেছে। একই সময়ে চীন থেকে তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ কেজি।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সোমবার এক চিঠির মাধ্যমে সংগঠনটির সদস্য ও সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

চিঠিতে তিনি বলেন, গত বছর ইইউতে পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত বছর ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩৩ কোটি কেজি। একই সময়ে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি কেজি। ওই বছর ইইউতে বাংলাদেশ ৭৩০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল, যা ছিল চীনের চেয়ে কম। কিন্তু এ বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রথমবারের মতো নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে গেছে বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়।

বিজিএমইএ সভাপতি তার চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ আগামী বছরগুলোয় আরও কিছু তৈরি পোশাকপণ্যে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ কয়েকটি গন্তব্যের অন্যতম হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়লে সামগ্রিকভাবে তা রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে, ইউরোস্ট্যাটের তথ্য মতে, নিট রপ্তানিতে বাংলাদেশ চীনকে টপকে ইইউতে শীর্ষ স্থান দখল করলেও সামগ্রিক পোশাক রপ্তানিতে চীন এখনো শীর্ষ স্থান দখলে রেখেছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ইইউতে চীনের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল পোশাকের মূল্যের দিক থেকে ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি; অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ১৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় চীন প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বেশি রপ্তানি করেছে।

জানা গেছে, গত বছরেও বাংলাদেশ নিট পোশাকের পরিমাণের দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে যায়। ২০২২ সালে ইইউতে পরিমাণের দিক থেকে মোট পোশাকের রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন কেজি।

অন্যদিকে চীন রপ্তানি করেছে ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন কেজি পোশাক। পরিমাণের দিক দিয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করার পরও মূল্যের দিক থেকে বাংলাদেশ চীনের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি আয় করতে পেরেছে।

 




চার মাসে ইউরোপে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৪ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত— এই চার মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং ইতালিতে বাংলাদেশে পোশাক রফতানিতে যথাক্রমে ১৮.০৭ শতাংশ ২.৫৬ শতাংশ, ১২.৭৩ শতাংশ এবং ৯.৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অপরদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম রফতানি বাজার, জার্মানিতে ২০২২-২৩ সালের জুলাই-অক্টোবর সময়ে রফতানি ২.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১১.৪৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে , ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে রফতানি ১.৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বছরওয়ারি ৩.০৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ২০২৩-২৪ সালের জুলাই-অক্টোবর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাক রফতানি ২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। একই সময়ে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রফতানি যথাক্রমে ১৪.৬৩ শতাংশ (ধনাত্মক) প্রবৃদ্ধি এবং ১.৫৩ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৪৬২.৮৬ মিলিযন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে আমাদের পোশাক রফতানি আগের বছরের একই সময়ের মধ্যে ২.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১৭.০১ শতাংশ বেড়ে ২.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে রফতানি যথাক্রমে ২৩.০৩ শতাংশ, ৪৫.৪৪ শতাংশ, এবং ২৯.৮৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে ভারতে আমাদের পোশাক রঅতানি ১২.৮ শতাংশ কমেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ সালের জুলাই-অক্টোবরে বিশ্বে মোট রফতানি হয়েছে ১৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক বছর আগের একই সময়ে ১৩.৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে।




শ্রম খাতের অগ্রগতি দেখতে ঢাকায় ইইউ প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশের শ্রম খাতের অগ্রগতি দেখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদল পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছে।

রোববার (১২ নভেম্বর) তারা ঢাকায় আসে।

ঢাকা সফরকালে শ্রম আইন সংশোধন পরবর্তী পরিস্থিতি, শিশুশ্রম বিলোপ ও শ্রমিকবিরোধী সব ধরনের সহিংসতা নিরসনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করবে দলটি।

ইইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা প্যাম্পালোনি।

ঢাকা সফরের প্রথম দিন রাজধানীর বাড্ডায় একটি বিশেষ স্কুল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্টাফদের সঙ্গে প্রতিনিধিদল মতবিনিময় করেন। প্রতিনিধিদল আগামী ১৫ নভেম্বর পররাষ্ট্রসচিব, বাণিজ্যসচিব এবং শ্রমসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবে। এছাড়া, ইইউর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঢাকা সফরকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

প্রতিনিধিদল সফরকালে শ্রম খাতের অগ্রগতি, ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রমিকের অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করবেন।

 




বেলজিয়ামের ইউরোনেক্সট ব্রাসেলসের সঙ্গে ডিএসইর বৈঠক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বনামধন্য পুঁজিবাজার বেলজিয়ামের ইউরোনেক্সট ব্রাসেলসের চেয়ারম্যান বিনসেন্ট ভেন ড্যাসেরৈর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহাম্মদ হাসান বাবু।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বেলজিয়ামের রাজধানীর ব্রাসেলসে ‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়ালস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক রোড শো‘র পরে ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহাম্মদ হাসান বাবুর নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল ইউরোনেক্সট ব্রাসেলসের চেয়ারম্যান বিনসেন্ট ভেন ড্যাসেরৈর সঙ্গে বৈঠক করেন।

ডিএসই থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞওপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহাম্মদ হাসান বাবু বাংলাদেশের অর্থনীতি, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন৷ এছাড়াও ড. হাসান বাবু প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করেন৷

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উদীয়মান। ডিএসই’র বাজার মূলধন প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজার অন্যতম প্রধান খাত। এছাড়াও বাংলাদেশে উদ্ভাবনী প্রকল্পসমূহ এবং স্মার্ট বাংলাদেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রকল্পসমূহে বিনিয়োগ করা যেতে পারে৷ আগামীতে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তাবায়নের সাথে একটি গতিশীল পুঁজিবাজার পাব বলে আমরা আশাবাদী, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরে ড. হাসান বাবু ডিএসই ও বেলজিয়ামের ইউরোনেক্সট ব্রাসেলসের পারস্পরিক সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা করেন৷ একই সাথে ড. হাসান বাবু বেলজিয়ামের ইউরোনেক্সট ব্রাসেলসের চেয়ারম্যানকে তার সুবিধামতো সময়ে বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শনের আহ্বান জানান৷

ডিএসই’র প্রতিনিধিদল প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন এবং বেলজিয়ামের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি, শেয়ারবাজার ও সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরবেন৷

প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডিএসই’র পরিচালক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মো. আফজাল হোসেন, মো. শাকিল রিজভী, শরিফ আনোয়ার হোসেন এবং ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সাত্ত্বিক আহমদ শাহ, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদুর রহমান৷

প্রসঙ্গত, গত ২৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্রান্স, জার্মানি এবং বেলজিয়ামে বিএসইসি ও বিডার যৌথ উদ্যোগে রোড শো হয়েছে।




যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে

দীর্ঘদিন পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে।

বুধবার (৯ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির সূত্র মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এর আগের বছর ২০২২-২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৭২৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২২-২৩ সালের জুলাই মাসে ছিল ৬৮৫ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ড এবং পোল্যান্ডের মতো কিছু বড় বাজারে রপ্তানি যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ, ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

একই সময়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানিতে রপ্তানিতে ০.৭০ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং রপ্তানি ৫১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এসময়ে ফিনল্যান্ড, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া, মাল্টা, স্লোভাকিয়া এবং স্লোভানিয়াতে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অপরদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ৪৭৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন এবং ১২৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬৭৪ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি যথাক্রমে ৪৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ২ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ১৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে।

 




ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। তবে রপ্তানি হওয়া পোশাকের পরিমাণে এগিয়ে গেলেও অর্থের হিসাবে এখনো চীনের পেছনে রয়েছে দেশ। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য দিয়ে তৈরিপোশাক শিল্প মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে এ তথ্য।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য মতে, ইইউ বাজারে চীনের চেয়ে বাংলাদেশি তৈরিপোশাকের রপ্তানি মূল্য কেজিপ্রতি ৫ ডলার ৮২ সেন্ট কম। এ কারণে ইউরোপে চীনের তৈরিপোশাক রপ্তানি বাংলাদেশের তুলনায় ৭২৬ কোটি ডলার বেশি।

গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১৩৩ কোটি কেজির সমপরিমাণ তৈরিপোশাক রপ্তানি করে। একই সময়ে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি কেজির সমপরিমাণ। ২০২১ সালের তুলনায় গত বছর পোশাক রপ্তানির পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২১ দশমিক ২০ শতাংশ বাড়ে। একই সময়ে অর্থাৎ গত বছরে চীনের বেড়েছে ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

বিজিএমইএ জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১০ হাজার ৩১০ কোটি ডলারের তৈরিপোশাক আমদানি করেছে। ২০২১ সালের তুলনায় গত বছর ইউরোপের বাজারে পোশাক আমদানি বেড়েছে ২০ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

তথ্য বলছে, রপ্তানি হওয়া পোশাকের পরিমাণে এগিয়ে গেলেও অর্থের হিসাবে এখনো চীনের নিচে রয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর ইউরোপের বাজারে চীন ৩ হাজার ১৫ কোটি ডলারের তৈরিপোশাক রপ্তানি করে, তাদের রপ্তানি বেড়েছে ১৭ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ২ হাজার ২৮৮ কোটি ডলারের তৈরিপোশাক। যা ২০২১ সালের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।

গত বছর ইউরোপের বাজারগুলোয় বাংলাদেশ ও চীনের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে তুরস্ক। ভারতের রপ্তানি ছিল ৪৮৪, ভিয়েতনামের ৪৫৭, পাকিস্তানের ৩৯৪, কম্বোডিয়ার ৩৮১, মরক্কোর ৩১২, শ্রীলঙ্কার ১৬২ এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি ডলারের।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কম দামে ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি করে। গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানি হওয়া প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ছিল ১৭ দশমিক ২৭ ডলার, ২০২১ সালে ছিল ১৫ দশমিক ৪২ ডলার। গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানি হওয়া পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে। গত বছর ইউরোপে বাংলাদেশের চেয়ে কম মূল্যে পোশাক রপ্তানি করেছে পাকিস্তান। দেশটির পোশাকের প্রতি কেজির গড় মূল্য ছিল সাড়ে ১৪ ডলার।

গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে প্রতি কেজি পোশাক ২২ ডলার ৪৮ সেন্টে আমদানি করে ইউরোপ। ভিয়েতনাম প্রতি কেজি পোশাক পৌনে ৩১ ডলারে রপ্তানি করে, ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কো যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৮৮ ও ২৯ দশমিক ৬৯ ডলারে প্রতি কেজি পোশাক রপ্তানি করছে। শ্রীলঙ্কা প্রতি কেজি তৈরিপোশাক রপ্তানি করে ২৮ দশমিক ৫৪ ডলার, তুরস্ক ২৫ দশমিক ৩৯, ভারত ২৩ দশমিক ২৭, চীন ২৩ দশমিক ০৩ ও কম্বোডিয়া গড়ে ২২ দশমিক ১৮ ডলারে।




বাংলাদেশ-ইইউ দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব জোরদারে সম্মত

বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে অংশীদারত্বকে আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ২-৩ মে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠককালে তারা এই সম্মতি প্রকাশ করেন।

এর মধ্যে রয়েছেন- আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের কমিশনার জুটা উরপিলাইনেন, স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ইলভা জোহানসন, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিশনার জেনেজ লেনারিচ, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির চেয়ার বের্ন্ড ল্যাঞ্জ, পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার ডেভিড ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ইইউ মানবাধিকারের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়ামন গিলমোর।

বৈঠকে ইইউ বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেছে এবং দেশটির সাফল্যের জন্য স্বাগত জানিয়েছে। আজ এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার বাংলাদেশ প্রশংসা করেছে এবং মিয়ানমারে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য ইইউ-এর সমর্থন চেয়েছে।

উভয়পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক, মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধসহ পারস্পরিক স্বার্থ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে।

গ্র্যাজুয়েশনে প্রস্তুত করার জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ইইউকে অবহিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে ইইউ-এর অনেক বড় ভূমিকার কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ অংশীদারত্ব সহযোগিতা চুক্তির দ্রুত সূচনার আশা প্রকাশ করেছে, যা উন্নত সম্পর্ককে সুসংহত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়া হবে।

বৈঠকে বেলজিয়াম ও ইইউতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিম রাজ্জাক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী আলম চারদিনের ব্রাসেলস সফরে রয়েছেন এবং ইউরোপীয় কমিশনের কমিশনার, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠকসহ একটি পরিপূর্ণ এজেন্ডা কভার করছেন।




ইউরোপের বাজারে পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এই চিত্র উঠে এসেছে।

রোববার (১৬ এপ্রিল) সময়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক পণ্য রপ্তানি ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ছিল ১৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানিতে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে, যেখানে ফ্রান্স এবং স্পেনে আমাদের রপ্তানি যথাক্রমে ২৫ দশমকি ২৩ শতাংশ এবং ১৮ দশমকি ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ডে রপ্তানি ১৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমেছে।

উল্লিখিত সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাক রপ্তানিতে বছরওয়ারিভাবে ৫ দশমিক ০১ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়ে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় আমাদের রপ্তানি যথাক্রমে ১৪ দশমিক ০৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে আগের ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মার্চের তুলনায় আমাদের পোশাক রপ্তানি ৩৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন থেকে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে আমাদের রপ্তানি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ৫৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ৪২ দশমিক ২২ শতাংশ, ৮২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ৭৩ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ৩৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।