দেশে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

দেশে এসে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান।

আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান এসে পৌঁছায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শৌকত আকবর।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি চালান দেশে আসবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছায় ২৮ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরে নেওয়া হয়। রাশিয়ার একটি কারখানা থেকে একটি বিশেষ বিমানে করে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পারমাণবিক জ্বালানির এই চালান আনা হয়। রাশিয়ার নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে (এনসিসিপি) এই জ্বালানি উৎপাদিত হয়। রূপপুরের জ্বালানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চুক্তিবদ্ধ রয়েছে রোসাটম।

প্রথম দফায় আসা ইউরেনিয়াম আজ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে দিয়ে নিউক্লিয়ার ক্লাবের ৩৩তম সদস্য দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।




২০২৫ সালে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাবেন গ্রাহকরা

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে শুরু হচ্ছে। তবে এই ইউনিটে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে ২০২৫ সালের শুরুতে। গ্রাহকরা ২০২৫ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পেতে শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) প্রকল্প পরিদর্শনে এসে এক ব্রিফিংয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। এর প্রায় ১০ মাস পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে।

প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে শৌকত আকবর জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের সামগ্রিক কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭০ শতাংশ। তবে প্রকল্পের কাজ যেভাবে এগিয়েছে, সেভাবে এগোয়নি সঞ্চালন লাইনের কাজ। গ্রিড লাইন নির্মাণে সব মন্ত্রণালয় কাজ করছে, বিষয়টি কো-অর্ডিনেট করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

তিনি আরও জানান, নিউক্লিয়ার জ্বালানি আসার পরই রূপপুর পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন নিউক্লিয়ার ক্লাবের ৩৩তম সদস্য হতে যাচ্ছে।

এদিন ব্রিফিংয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাবে দেশের জনগণ। সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি হওয়ার পরই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনগণ এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবেন। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আসার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনার স্বীকৃতি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এটোমিক এনার্জি কমিশনের (আইএইএ) গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

একটি নিউক্লিয়ার প্লান্ট নির্মাণে সাধারণত ১২-১৫ বছর সময় লাগে উল্লেখ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, সেই বিবেচনায় মাত্র ৭-৮ বছরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ একটা মাইলফলক। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান আসে। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের কাছে এই ইউরেনিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সিই লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।




দেশে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান

দেশে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামের এই চালানটি।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তেজস্ক্রিয় এ জ্বালানি দেশে আনা হয়েছে। রূপপুরের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা— রোসাটম এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত করার পর ইউরোনিয়ামের এই চালান প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।

পাবনার রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রাশিয়ার সহায়তায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন।

২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিট মিলিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরেই প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা মোতাবেক কাজ এগিয়ে নেওয়ায় পারমাণবিক জ্বালানি পাওয়ার সব ধাপ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

আইএইএর নির্দেশনা অনুযায়ী শর্ত পূরণ করায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে (বিএইসি) পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি ও সংরক্ষণের লাইসেন্স দেয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে রুশ প্রতিষ্ঠান বাররুস প্রজেক্ট এলসিসিকে।

রূপপুরে বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। তাদের অধিকাংশই রাশিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভারতেরও কিছু দক্ষ প্রকৌশলী আছেন রূপপুর প্রকল্পে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের ১ হাজার ৪২৪ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তাদের রাশিয়া পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।