৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ৮ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার।

মঙ্গলবার (২১ মে) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটা প্রস্তাব ছিল রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির। এই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে। এর ক্রয়মূল্য ৯৫ কোটি ৭০ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ২৭১.৫০ মার্কিন ডলার। এর পূর্বমূল্য ছিল ২৮৪.১৭ মার্কিন ডলার। সুপারিশ করা দরদাতা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড। এটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।




আগামীকাল ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা উদ্বোধন

নরসিংদীতে চালু হতে যাচ্ছে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ইউরিয়া সার কারখানা এটি। জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব কারখানাটিতে বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার টন সার উৎপাদন হবে। এর মাধ্যমে ইউরিয়া সার আমদানিতে বছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের। আগামীকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারখানাটি উদ্বোধন করবেন।

ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উদ্বোধন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে শিল্প মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে অত্যাধুনিক কারখানাটির নানা দিক তুলে ধরেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা।

জাকিয়া সুলতানা জানান, দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা বছরে ২৬ লাখ টন। স্থানীয় কারখানা থেকে সার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১০ লাখ টন। বাকিটা আমদানি করতে হয়। ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা চালু হলে দেশে সার উৎপাদন অনেক বাড়বে। এতে বিদেশ থেকে সার আমদানিতে যে টাকা ব্যয় হয়, সেখান থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উদ্বোধনের পরপরই কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারছে না। এ জন্য আরও এক মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হবে। প্রথমে কিছুদিন পরীক্ষামূলক উৎপাদন হবে। এ সময় কোনো সমস্যা না হলে শিগগিরই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে।

জাকিয়া সুলতানা বলেন, কারখানাটি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। দেশে খাদ্য উৎপাদনে ইউরিয়া সারের চাহিদা বেশি থাকায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে এ সার কারখানা। পলাশ ও ঘোড়াশালের পুরোনো দুটি কারখানায় যে পরিমাণ গ্যাস লাগত, একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে নতুন কারখানায় আগের দুটি কারখানার চেয়ে বেশি ইউরিয়া উৎপাদন করা যাবে।

উল্লেখ্য, এ সার কারখানা প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৯২০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ, যা পরিশোধ করতে ১০ বছর সময় লাগবে। ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানাটিতে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।




 ১২০ টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

পৃথক চারটি লটে ১২০ টন ইউরিয়া সার কিনবে শিল্প মন্ত্রণালয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে ৩৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকায় সার কেনা হবে।

বুধবার (১২ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সচিব সাঈদ মাহবুব খান বিস্তারিত জানান।

অতিরিক্ত সচিব জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতারের কোম্পানি মুনতাজা থেকে ১৮তম লটে ৩০ হাজার টন (১০%+) বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার কেনা হবে। সার কিনতে ৮৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭০ টাকা ব্যয় হবে।

এছাড়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে মুনতাজা থেকে ১৯তম লটে ৩০ হাজার টন (১০%+) বাল্ক প্রিল্ড (অপশনাল) ইউরিয়া সার কেনা হবে। এই লটে সার কিনতে ব্যয় হবে ৯৭ কোটি ৫৮ লাখ ১ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) বাংলাদেশ এর নিকট থেকে ২০তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয় করা হবে। এই লটে সার কিনতে মোট ব্যয় হবে ৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ টাকা।

এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ১ম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার। এই লটে সার ক্রয়ে ৯৭ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যয় হবে।




৬০ হাজার টন ইউরিয়া কিনবে সরকার

দেশ-বিদেশি দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ৬০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২১২ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৮ টাকা।

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) ও সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে এ ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কাফকো ও সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ২১২ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৮ টাকা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এ সার কিনবে। কাফকো থেকে ১৩তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১০৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৭ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিসিআইসির মাধ্যমে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে ১৯তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১০৭ কোটি ২৮ লাখ ৭৬ হাজার ১০১ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।