বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরির তাগিদ ইইউ’র

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সংলাপ সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি, ব্যবসাবান্ধব নীতি সংস্কার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এতে ইইউ রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং ইউরোপীয় বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত ড. লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

উভয় পক্ষ বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, টেকসই উন্নয়ন এবং নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংলাপে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারত্বের গুরুত্ব এবং বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আরও কিছু করতে চাই এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশ আরও অনেক বেশি ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও পুঁজি আকৃষ্ট করতে পারে।’

রাষ্ট্রদূত বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে বিডা’র সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন মূল চাবিকাঠি হচ্ছে এই সংস্কারের গতি বজায় রাখা, নিয়ন্ত্রক স্বচ্ছতা জোরদার করা এবং নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।’

ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সংলাপে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য পূর্বাভাসযোগ্যতা, ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং সুস্পষ্ট বিধিবিধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তার মতে, সুইডিশ এবং ইইউ সংস্থাগুলো স্বচ্ছতা এবং নৈতিক অনুশীলনগুলি বজায় রেখে উচ্চমানের সমাধান দিতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের অংশীদারত্ব ক্রমশ বাড়ছে, সহযোগিতা গভীর ও বৈচিত্র্যময় করার শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে। একটি উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশ নতুন সুযোগের দ্বার খুলে দেবে এবং সুইডেন অগ্রগতির অংশীদার হতে প্রস্তুত।

সংলাপে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিঞ্চেত্রু উপস্থিত ছিলেন।




মার্কিন শুল্কারোপের প্রভাব সামাল দেওয়া কঠিন হবে না : অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কারোপে অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়বে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে না। প্রভাব কীভাবে সামলানো যায় তা দেখা হবে।

রোববার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার অফিসকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভালো কিছু হবে বলে আমরা আশাবাদী।

‘রমজান এবং ঈদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা গেছে এবং মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালোর দিকে যাচ্ছে, রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে’—উল্লেখ করেন অর্থ উপদেষ্টা।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। গত ২ এপ্রিল ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই শুল্কের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় বাজারটিতে পণ্য রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকেরা। বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ১৮ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্বনেতাদের নানা প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বন্ধুসুলভ নয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নিঃসন্দেহে এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভূত হবে। চীন বলেছে, তারা এই ঘটনার প্রতিশোধ নেবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের জবাবে তারাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাংলাদেশের পক্ষে। আমদানির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বেশি। তবে রপ্তানি তৈরি পোশাকের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, যার মধ্যে বেশিরভাগ মৌলিক আইটেম অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি লোহা, ইস্পাত, খনিজ জ্বালানি, তুলা, তেলবীজ ও নিউক্লিয়ার রেক্টরসহ পাঁচটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার এবং দেশ থেকে আমদানি ছিল ২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬০১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের লোহার ইস্পাত আমদানি করেছে, তারপরে খনিজ জ্বালানি ৫৯৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, তুলা ৩৬১ মিলিয়ন ডলার, তেলবীজ ৩৪১ মিলিয়ন ডলার ও নিউক্লিয়ার রেক্টর ১১১ মিলিয়ন ডলারের আমদানি করেছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেশিরভাগ আসে তৈরি পোশাক থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের ৭ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। বাকিটা এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চামড়ার জুতা, ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য থেকে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ছিল ৯৭০১ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আমদানি ২৩৪৪ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি ১০৪১৭ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ২৮২৫ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার; ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি ৬৯৭৪ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ২২৬৮ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার; ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৫৮৩২ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ২১২৬ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৬৮৭৬ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ১৭৭৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৫৯৮৩ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার, আমদানি ১৭০৪ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।




পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা দেবে ইইউ

বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে লজিস্টিক সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ জনবল প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার।

বৈঠকে তারা পারস্পরিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন বাস্তবায়ন এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

বশির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশনকে পুরোপুরি সম্মান করে এবং কনভেনশন বাস্তবায়নের জন্য দেশটির একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাদের অধিকাংশই যুবসমাজ। আমাদের লক্ষ্য হলো তাদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা এবং যুব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করা।

সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে কাজ করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছে। এছাড়া সরকার দাম কমাতে অনেক পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছে।

মাইকেল মিলার বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইইউ ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হলে ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।




জলবায়ু সম্মেলনে ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাবে ইইউর সমর্থন চাইল বাংলাদেশ

জলবায়ু সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার আজারবাইজানের বাকুতে কপ২৯-এর চূড়ান্ত ফলাফলের বিষয়ে এলডিসি মন্ত্রী এবং ইইউ মন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে এই আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. জিয়াউল হক।

বৈঠকে অবশিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে উভয় পক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমতাভিত্তিক চুক্তি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, অনেক সমস্যা এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তিনি উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করার মাধ্যমে কপ-২৯-এ একটি অর্থবহ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে এলডিসি মন্ত্রীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের মূল অবস্থান তুলে ধরেন।

ইইউ মন্ত্রীরা এলডিসি দেশগুলোর উদ্বেগের বিষয়গুলো স্বীকার করেন এবং জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, নির্গমন হ্রাস এবং গ্লোবাল স্টকটেক প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কপ-২৯-এর চূড়ান্ত আলোচনায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার এ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও সফররত এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক পাওলা পামপোলিনি।

বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে তারা সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় তা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক পাওলা পামপোলিনি এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।




এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের দিকে বাংলাদেশকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদায়ী রাষ্ট্রদূত চার্লস হুইটলি।

রোববার (১৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের স‌ঙ্গে আলাপকা‌লে এ অভিমত ব্যক্ত ক‌রেন রাষ্ট্রদূত।

চার্লস হুইটলি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের এখন এলডিসির তালিকা থেকে উত্তরণের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমরা এলডিসি থে‌কে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণ চাই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার খুব ভালো একটা আলোচনা হয়েছে। শিল্প কারখানায় কর্মপরিবেশ, শ্রম ক্ষেত্রে জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় বাংলাদেশ যেভাবে কাজ করেছে, সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। একটি স্থিতিশীল দেশ হিসেবে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এ ছাড়া সীমান্তের ওপারে খুব অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত অবস্থা বিরাজ করছে; এটা নিয়ে কথা হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমাদেরকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো আভাসও মিলছে না। ইউরোপীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে।

খুব শিগগিরই বাংলাদেশে দা‌য়িত্ব পালন শেষ ক‌রে ব্রাসেলসে ফিরে যাচ্ছেন চার্লস হুইটলি। বাংলাদেশে অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে তি‌নি বলেন, গেল তিন বছরে এই দেশে আমি কাজ করেছি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এসময়ে আমাদের মধ্যে সহযোগিতা বেড়েছে। বাংলাদেশে আমার কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা নেই।




পোশাক খাতের উন্নয়নে ইইউ’র সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান

পোশাক খাতের উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

রোববার (১৯ মে) সংগঠনটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, স্পেন এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) এই আহ্বান জানান।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস-মোলার, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রস্টার, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দো, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ভন লিন্ডে, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের চার্জ ডি’ অ্যাফেয়ার্স থিজস ওয়াউডস্ট্রা, ইউ ডেলিগেশনের উপপ্রধান (ডেপুটি হেড অব মিশন) ড. বার্ন্ড স্প্যানিয়ার, স্প্যানিশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল অ্যাটাশে এসথার পেরেজ তাহোসেস এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধি দলের বাণিজ্য উপদেষ্টা আবু সৈয়দ বেলাল। বৈঠকে বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল (দীপু), সহ-সভাপতি (অর্থ) মো. নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন দিকগুলো বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের কল্যাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিল্পের অর্জনগুলো তুলে ধরেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা, বিশেষ করে চলমান ইবিএ স্কিম থেকে জিএসপি প্লাস এ উত্তোরণের সময়কাল বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণের পরও বাংলাদেশ যাতে করে তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিউ ডিলিজেন্স ডিটেকটিভ ও অন্যান্য আসন্ন প্রটোকলগুলো অনুসরণ করার ক্ষেত্রে শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ইইউ এর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইইউ-এর সহযোগিতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য ইইউ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং এথিক্যাল সোর্সিং নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ক্রেতাদের আহ্বান জানানোর জন্য রাষ্ট্রদূতদের অনুরোধ করেন। বিজিএমইএ নেতারা অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ইইউর সাথে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।




বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হুইটলি বলেছেন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৪ বিলিয়ন ইউরোর বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমরা খুবই আগ্রহী। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন তিনি৷

রাষ্ট্রদূত চার্লস হুইটলি বলেন, এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার পরিকল্পনা জানতে পেরে আমরা বেশ আশাবাদী। কাজেই বাংলাদেশের সহায়তা অংশীদার হিসেবে কাজ করার বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশা বেড়েছে।

চার্লস হুইটলি বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশে কাজ করছি আমরা। সেসব ক্ষেত্রে বাজেট সহায়তা নিয়েও কথা বলেছি। বাণিজ্য ও ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

২০২৬ সালের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা; জানতে চাইলে হুইটলি বলেন, স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সহজ হোক, আমরা সেটিই চাচ্ছি। আমরাও এ বিষয়ে জোর দিচ্ছি। কারণ এটা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই জিএসপি প্লাসে সহজ রূপান্তর চাচ্ছি। এটাই আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড়ো ভিত্তি। ২০২৬ সালের প্রক্রিয়ার জন্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই ইউরোপীয় চেম্বারস অব কমার্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে কীভাবে সহায়তা করতে পারি, সেদিকেই আমরা বেশি আলোকপাত করছি।

তবে শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলেও জানিয়েছেন হুইটলি।




চীনকে পেছনে ফেলে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষে

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে গেছে বাংলাদেশ। দাম ও পরিমাণ, উভয় ক্ষেত্রেই এখন ইইউতে শীর্ষ নিট পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ।

ইইউ’র পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাট সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করে। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) ইইউ’র পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলো ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের নিট পোশাক নিয়েছে। একই সময়ে চীন থেকে তারা ৮৯৬ কোটি ডলারের নিট পোশাক আমদানি করে। বছরের ৯ মাস বিবেচনায় এই প্রথমবারের মতো ইইউতে বাংলাদেশের নিট পোশাক রপ্তানি চীনকে ছাড়িয়ে গেল। একই সঙ্গে পরিমাণের দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসে ইইউ বাংলাদেশ থেকে ৫৭ কোটি ১০ লাখ কেজি নিট পোশাক আমদানি করেছে। একই সময়ে চীন থেকে তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ কেজি।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সোমবার এক চিঠির মাধ্যমে সংগঠনটির সদস্য ও সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

চিঠিতে তিনি বলেন, গত বছর ইইউতে পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত বছর ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩৩ কোটি কেজি। একই সময়ে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি কেজি। ওই বছর ইইউতে বাংলাদেশ ৭৩০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল, যা ছিল চীনের চেয়ে কম। কিন্তু এ বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রথমবারের মতো নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে গেছে বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়।

বিজিএমইএ সভাপতি তার চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ আগামী বছরগুলোয় আরও কিছু তৈরি পোশাকপণ্যে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ কয়েকটি গন্তব্যের অন্যতম হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়লে সামগ্রিকভাবে তা রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে, ইউরোস্ট্যাটের তথ্য মতে, নিট রপ্তানিতে বাংলাদেশ চীনকে টপকে ইইউতে শীর্ষ স্থান দখল করলেও সামগ্রিক পোশাক রপ্তানিতে চীন এখনো শীর্ষ স্থান দখলে রেখেছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ইইউতে চীনের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল পোশাকের মূল্যের দিক থেকে ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি; অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ১৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় চীন প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বেশি রপ্তানি করেছে।

জানা গেছে, গত বছরেও বাংলাদেশ নিট পোশাকের পরিমাণের দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে যায়। ২০২২ সালে ইইউতে পরিমাণের দিক থেকে মোট পোশাকের রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন কেজি।

অন্যদিকে চীন রপ্তানি করেছে ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন কেজি পোশাক। পরিমাণের দিক দিয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করার পরও মূল্যের দিক থেকে বাংলাদেশ চীনের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি আয় করতে পেরেছে।

 




ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। তবে রপ্তানি হওয়া পোশাকের পরিমাণে এগিয়ে গেলেও অর্থের হিসাবে এখনো চীনের পেছনে রয়েছে দেশ। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য দিয়ে তৈরিপোশাক শিল্প মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে এ তথ্য।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য মতে, ইইউ বাজারে চীনের চেয়ে বাংলাদেশি তৈরিপোশাকের রপ্তানি মূল্য কেজিপ্রতি ৫ ডলার ৮২ সেন্ট কম। এ কারণে ইউরোপে চীনের তৈরিপোশাক রপ্তানি বাংলাদেশের তুলনায় ৭২৬ কোটি ডলার বেশি।

গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১৩৩ কোটি কেজির সমপরিমাণ তৈরিপোশাক রপ্তানি করে। একই সময়ে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি কেজির সমপরিমাণ। ২০২১ সালের তুলনায় গত বছর পোশাক রপ্তানির পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২১ দশমিক ২০ শতাংশ বাড়ে। একই সময়ে অর্থাৎ গত বছরে চীনের বেড়েছে ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

বিজিএমইএ জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১০ হাজার ৩১০ কোটি ডলারের তৈরিপোশাক আমদানি করেছে। ২০২১ সালের তুলনায় গত বছর ইউরোপের বাজারে পোশাক আমদানি বেড়েছে ২০ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

তথ্য বলছে, রপ্তানি হওয়া পোশাকের পরিমাণে এগিয়ে গেলেও অর্থের হিসাবে এখনো চীনের নিচে রয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর ইউরোপের বাজারে চীন ৩ হাজার ১৫ কোটি ডলারের তৈরিপোশাক রপ্তানি করে, তাদের রপ্তানি বেড়েছে ১৭ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ২ হাজার ২৮৮ কোটি ডলারের তৈরিপোশাক। যা ২০২১ সালের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।

গত বছর ইউরোপের বাজারগুলোয় বাংলাদেশ ও চীনের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে তুরস্ক। ভারতের রপ্তানি ছিল ৪৮৪, ভিয়েতনামের ৪৫৭, পাকিস্তানের ৩৯৪, কম্বোডিয়ার ৩৮১, মরক্কোর ৩১২, শ্রীলঙ্কার ১৬২ এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি ডলারের।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কম দামে ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি করে। গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানি হওয়া প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ছিল ১৭ দশমিক ২৭ ডলার, ২০২১ সালে ছিল ১৫ দশমিক ৪২ ডলার। গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানি হওয়া পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে। গত বছর ইউরোপে বাংলাদেশের চেয়ে কম মূল্যে পোশাক রপ্তানি করেছে পাকিস্তান। দেশটির পোশাকের প্রতি কেজির গড় মূল্য ছিল সাড়ে ১৪ ডলার।

গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে প্রতি কেজি পোশাক ২২ ডলার ৪৮ সেন্টে আমদানি করে ইউরোপ। ভিয়েতনাম প্রতি কেজি পোশাক পৌনে ৩১ ডলারে রপ্তানি করে, ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কো যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৮৮ ও ২৯ দশমিক ৬৯ ডলারে প্রতি কেজি পোশাক রপ্তানি করছে। শ্রীলঙ্কা প্রতি কেজি তৈরিপোশাক রপ্তানি করে ২৮ দশমিক ৫৪ ডলার, তুরস্ক ২৫ দশমিক ৩৯, ভারত ২৩ দশমিক ২৭, চীন ২৩ দশমিক ০৩ ও কম্বোডিয়া গড়ে ২২ দশমিক ১৮ ডলারে।




বাংলাদেশ-ইইউ দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব জোরদারে সম্মত

বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে অংশীদারত্বকে আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ২-৩ মে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠককালে তারা এই সম্মতি প্রকাশ করেন।

এর মধ্যে রয়েছেন- আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের কমিশনার জুটা উরপিলাইনেন, স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ইলভা জোহানসন, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিশনার জেনেজ লেনারিচ, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির চেয়ার বের্ন্ড ল্যাঞ্জ, পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ার ডেভিড ম্যাক অ্যালিস্টার এবং ইইউ মানবাধিকারের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়ামন গিলমোর।

বৈঠকে ইইউ বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেছে এবং দেশটির সাফল্যের জন্য স্বাগত জানিয়েছে। আজ এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার বাংলাদেশ প্রশংসা করেছে এবং মিয়ানমারে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য ইইউ-এর সমর্থন চেয়েছে।

উভয়পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক, মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধসহ পারস্পরিক স্বার্থ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে।

গ্র্যাজুয়েশনে প্রস্তুত করার জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ইইউকে অবহিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে ইইউ-এর অনেক বড় ভূমিকার কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ অংশীদারত্ব সহযোগিতা চুক্তির দ্রুত সূচনার আশা প্রকাশ করেছে, যা উন্নত সম্পর্ককে সুসংহত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়া হবে।

বৈঠকে বেলজিয়াম ও ইইউতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিম রাজ্জাক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী আলম চারদিনের ব্রাসেলস সফরে রয়েছেন এবং ইউরোপীয় কমিশনের কমিশনার, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠকসহ একটি পরিপূর্ণ এজেন্ডা কভার করছেন।




বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে ইইউ

স্বল্পোন্নত থেকে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে ব্রাসেলসে একাধিক বৈঠকে ইইউ পার্লামেন্টের সদস্য ও ইউরোপিয়ান কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বেলজিয়ামের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ইউরোপের নেতারা বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও জিএসপি রেগুলেশনের র‌্যাপোরটিয়ার হেইডি হাউতলা, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিটির (আইএনটিএ) চেয়ার ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য বার্ন্ড ল্যানগে, আইএনটিএর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মনিটরিং গ্রুপের র‌্যাপোর্টিয়ার ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য ম্যাক্সিমিলিয়ান ক্রাহর সঙ্গে বৈঠক করেন। ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস ও অর্থনৈতিক এবং বৈশ্বিক ইস্যু বিষয়ক ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হেলেনা কনিগ, এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ক অ্যাকটিং ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা প্যাম্পালোনির সঙ্গেও বাংলাদেশ দলের বৈঠক হয়।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ শীর্ষক বাণিজ্য সুবিধার যথাযথ ব্যবহার করে আর্থসামাজিক পরিস্থিতির অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে বাংলাদেশ এবং এখানকার মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ ছাড়াও বাংলাদেশ এখন সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে বৃহত্তর টেকসই ও স্থায়িত্ব অর্জন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির বর্ধিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। এ বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয় বৈঠকে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার নিজস্ব জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন পরিকল্পনাও প্রণয়ন করেছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান বাহ্যিক অস্থিরতা, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের পর আরও ছয় বছরের জন্য ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট মেজারস অব্যাহত রাখার আলোচনায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় দৃঢ় সমর্থন প্রদানের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আলোচনাধীন নতুন জিএসপিতে বাংলাদেশের বাণিজ্য স্বার্থ, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের সুরক্ষা প্রদানেরও অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। কোম্পানি ও ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রাসঙ্গিক কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতকল্পে করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি ডিউ ডিলিজেন্সের আওতায় একটি মেকানিজম তৈরির অনুরোধও করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে মুখ্যসচিব ছাড়াও রয়েছেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের সভাপতি নিহাদ কবির ও বাংলাদেশ এমপ্লোয়ার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ফারুক আহমেদ। রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।




ইইউতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৫.৬৯ শতাংশ

২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউরোস্ট্যাটের এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ সময়ে বাংলাদেশ সেখানে ২২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।

তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে থাকা দেশ চীন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি বছরে ১৭ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে চীন থেকে ইইউর আমদানি ছিল ৩০ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইইউর তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক আমদানির উৎস তুরস্ক থেকে পোশাক আমদানি ১০ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে এবং আমদানি ১১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে ইইউর আমদানি যথাক্রমে ২১ দশমিক ০২ ও ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

এ বিষয়ে কথা হলে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আমরা বলতে পারি, ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় আমরা ভালো করছি। তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই প্রবৃদ্ধি দেখে আসলে একজন উৎপাদনকারী হিসেবে খুব বেশি খুশি হওয়া যাবে না। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পেছনে আসলে কিছু কারণ আছে।

তিনি বলেন, তারা ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তৈরি পোশাকের বাজার পরিস্থিতি ভালো ছিল। তখন চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে বিভিন্ন সময়ে লকডাউন ছিল। ফলে বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে। পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে এবং উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকে এবং পণ্যের দামও বেড়ে যায়।

বিজিএমইএর এই পরিচালক বলেন, আমাদের লাভ কিন্তু কমেছে। লাভের টাকা থেকে আমাদের কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়৷ তারপর পরিচালনা ব্যয় আছে৷ সব মিলিয়ে খুব যে লাভ বেড়েছে, তা নয়৷ তবে, আমরা আশা করছি শিগগিরই এই প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারব।শন, সিরডাপ