প্রকল্পে বিনিয়োগের তুলনায় রিটার্ন নিয়ে প্রশ্ন আছে: অর্থ উপদেষ্টা

আমাদের অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের তুলনায় রিটার্ন নিয়ে প্রশ্ন আছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২৬ মে) নগরীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) আয়োজিত এক সেমিনার তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সেমিনারে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধানদের মধ্যে জবাবদিহিতা মূল্যায়ন এবং সততা, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের মূল স্তম্ভের ওপর আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকারি বিনিয়োগে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশ বৈদেশিক প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়েছে। টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং নীতিগত শাসনব্যবস্থা, এগুলোর ব্যবহার জরুরি। মূল্যায়ন, নিরীক্ষা এবং সম্মতি হলো সেই হাতিয়ার যা আমাদের এই স্তম্ভগুলো তৈরি করতে সহায়তা করে। এগুলো নিশ্চিত করে যে আমাদের নীতি এবং প্রকল্পগুলো কেবল কাগজে কলমে বিদ্যমান নয় বরং আমাদের নাগরিকদের জন্য বাস্তব সুবিধা দিয়ে থাকে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি মনে করি প্রকল্পে অডিট দরকার। সবার অংশগ্রহণে এগুলো মূল্যায়ন করা দরকার। আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নে ডোনার গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে ডোনারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে সোশ্যাল অডিট দরকার। সোশ্যাল অডিটি বলতে যেখানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে সেই স্থানীয় লোকজন যেন এটা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে পারে। যেমন প্রকল্পের নাম, প্রকল্পের কাজ কি, প্রকল্পের ব্যয় কত এবং কোন সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া যদি সড়ক নির্মাণ করা হয় সড়কটি কত কিলোমিটার হবে, এটার বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে জানাতে হবে। এটা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের টাকা কি হচ্ছে এটা সবার জানা দরকার। অডিটরদের প্রিপার হতে হবে। ম্যানিপুলেট যেন না হয়। আমাদের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী দরকার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী সেরা অনুশীলনগুলোকে আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং অংশীদারদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাগুলোর উপস্থিতি সংলাপ এবং জ্ঞান বিনিময়ের জন্য একটি মূল্যবান সুযোগ।

এডিবির প্রিন্সিপাল প্রফেশনাল স্পেশালিস্ট হেনরিক পিসাইয়া বলেন এই সেমিনারটি দেখিয়েছে যে জবাবদিহিতা এবং মূল্যায়ন প্রকল্পে ভালো ফলাফলের জন্য অন্যতম। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চলমান প্রকল্পে আরও নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে। ফলে প্রকল্পে ভালো রিটার্ন মিলবে।

এনডিবি এবং বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলো এই সেমিনারে। ২০২১ সালে ব্রিকস-বহির্ভূত প্রথম দেশ হিসেবে ব্যাংকে যোগদান করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার তার অবকাঠামোগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পে সুশাসন, মূল্যায়ন যোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, অবকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করার জন্য এনডিবি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যকে সমর্থন করে।




বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে : ইআরডি

বাংলাদেশ বর্তমানে বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুখোমুখি। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি এবং বিতরণ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যা দেশের আর্থিক পরিস্থিতিতে আরও চাপ তৈরি করেছে। এ পরিবর্তন দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

ইআরডি তথ্য অনুযায়ী, ঋণ প্রতিশ্রুতি ৯১.০৭ শতাংশ এবং বিতরণ ২৭.০৭ শতাংশ কমেছে গত বছরের তুলনায়। অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ ২৮.৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের আর্থিক সম্পদগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর প্রতিফলন। এ ছাড়া জুলাই-নভেম্বর সময়ে উন্নয়ন অংশীদাররা মাত্র ৫২২.৬৮ মিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৫.৮৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক কম। বিতরণও কমে ২.১১ বিলিয়ন ডলার থেকে ১.৫৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ১.৭১ বিলিয়ন ডলার মূলধন এবং সুদ পরিশোধ করেছে, যা গত বছরের ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বেশি।

বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আগামী উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হতে পারে। ঋণ প্রতিশ্রুতি এবং বিতরণের হ্রাস বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে হতে পারে। ঋণ পরিশোধের খরচ বৃদ্ধির ফলে সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ খাতে, যেমন অবকাঠামো এবং সামাজিক কর্মসূচিতে বিনিয়োগ সীমিত করতে হতে পারে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, জুলাই এবং আগস্ট মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে বিতরণ কমেছে। অনেক বৈদেশিক ঋণ দ্বারা তহবিলপ্রাপ্ত প্রকল্প স্থগিত হয়ে গেছে, কারণ বিদেশি পরামর্শক এবং কর্মীরা অনুপস্থিত ছিলেন। সরকার বর্তমানে ঋণ প্রস্তাবগুলোর পর্যালোচনা করছে, যা নতুন ঋণ চুক্তির জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে।

তারা আরও জানান, পর্যালোচনা শেষ হলে সরকার ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে এবং তার লক্ষ্য পূরণের জন্য চেষ্টা করবে। তাছাড়া বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)সহ উন্নয়ন অংশীদাররা বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন করতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার বৈদেশিক অর্থায়নে প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো বন্ধ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ইআরডি সংস্থাগুলোকে বৈদেশিক ঋণ বরাদ্দের জন্য অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলির একটি তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ইআরডি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-নভেম্বর সময়ে এডিবি ছিল সর্বোচ্চ বিতরণকারী অংশীদার, তারা দিয়েছে ৩১৮ মিলিয়ন ডলার। এরপর জাপান ৩০৮ মিলিয়ন ডলার, রাশিয়া ২৪৫ মিলিয়ন ডলার, বিশ্বব্যাংক ২০৫.৪৪ মিলিয়ন ডলার এবং ভারত ৬৩.৪২ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন, যদি দেশের রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি না পায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উন্নত না হয়, তবে ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ একটি অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা সেতু, রেল সংযোগ এবং বঙ্গবন্ধু টানেলের মতো বড় প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৯.৮৮ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সাহায্য প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যা ২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় ৮.৯২ শতাংশ বেশি।




বাংলাদেশকে ৩ মিলিয়ন ইউরো দেবে আইএলও

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে ৩ মিলিয়ন ইউরোর একটি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের আর্থিক সহায়তায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিভা অংশীদারিত্ব সমর্থন’ শীর্ষক একটি তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প (২০২৪-২০২৭) বাস্তবায়ন করবে।

১৯৭২ সালের ২২ জুন বাংলাদেশ আইএলও’র সদস্যপদ লাভের পর আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত ৫২ বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনমুখি কর্মসংস্থানের জন্য আইএলও আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত উভয় ধরনের সাহায্য করে আসছে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পটিয়াইনেন নিজ নিজ পক্ষে প্রকল্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের প্রধান মিশাল ক্রেজা, ইআরডি’র অতিরিক্ত সচিব একেএম সোহেল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী এবং আইএলও ও সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।

সার্বিক অর্থে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে- নির্বাচিত ইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের বিভিন্ন পেশাগত খাত যেমন- স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, আইসিটি, পরিচর্যা, অতিথি সেবা, নির্মাণ এবং কৃষি খাতে, তাদের দক্ষতা বাড়িয়ে বিদ্যমান শ্রম চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত করা।




সঠিক নীতি প্রণয়নে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব : অর্থমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের (এলডিসি গ্রাজুয়েশন) প্রেক্ষাপটে প্রণীত নীতি ও কৌশল দেশের আসন্ন নবম ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও নীতি নির্ধারকরা। তারা বলেছেন, কৌশলটিতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা উচিত।

রোববার (৯ জুন) রাজধানীতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ (ইউ এন ডেসা) কর্তৃক আয়োজিত ‘টেকনিক্যাল লেভেল ওয়ার্কশপ অন স্মুথ ট্রানজেশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী মিজ ওয়াসিকা আয়শা খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহা. সেলিম উদ্দিন। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিজ গুয়েন লুইস। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।

কর্মশালায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সঠিক নীতি, পদ্ধতি ও কৌশল প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করতে পারবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এই দেশের কর্মঠ জনগণ, গতিশীল ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জনবান্ধব সরকার।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়ানোর লক্ষ্যে স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্রাটেজি শীর্ষক নীতি কৌশলটিতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া উচিত। স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্রাটেজি শীর্ষক কৌশলপত্রটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গুয়েন লুইস বলেন, জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও পরিবেশগত মান সুনিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সব মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছে। ফলে, পাঁচ বছর প্রস্তুতিকালীন শেষে ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ।




শাহজালাল বিমানবন্দরের উন্নয়নে ৫৬০০ কোটি টাকা দেবে জাইকা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের (তৃতীয় কিস্তি) জন্য ৭৬ হাজার ৬৩৫ মিলিয়ন জাপানি ইয়েনের সমপরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অফিসে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশি ইয়োশিদা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ ঋণচুক্তি করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিং (টার্মিনাল ৩), নতুন কার্গো কমপ্লেক্স ও বহুস্তরবিশিষ্ট গাড়ি পার্কিং নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া, এ ঋণের অধীনে অন্যান্য ট্রান্সপোর্ট মোডের সঙ্গে যোগাযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো আনুষঙ্গিক খাতে অর্থায়ন করা হবে।

বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এর মধ্যে দিয়ে দেশের বিমান ও কার্গো চলাচলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ হবে। এর ফলে বিমানবন্দরে প্রবেশ ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ব্যবহার করা আরও বেশি আরামদায়ক হবে এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।

এ ঋণচুক্তিতে সিভিল ওয়ার্কসের জন্য বাৎসরিক ১.৩০ শতাংশ সুদহার ও পরামর্শ সেবার জন্য ০.২০ শতাংশ সুদহারের মতো সহজ শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই ঋণ পরিশোধের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ বছর। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশি ইয়োশিদা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিমান খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হচ্ছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এটি কেবল ক্রমবর্ধমান চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলবে। এই উদ্যোগ আমাদের দুই দেশের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।’

দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত জাপান সরকার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করেছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামাঞ্জস্য বজায় রেখে জাপান সরকার কর্তৃক অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ ও অনুদান সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩১.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।




 বাজেট সহায়তায় ৪০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

সরকার প্রতিবছর যে বাজেট ঘোষণা করে, তার পুরোটা দেশীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হয় না। নির্ভরশীল হতে হয় বৈদেশিক ঋণের বাজেট সহায়তার জন্য। অভ্যন্তরীণ উৎসে সম্পদ অর্জন ও রাজস্ব আয় কম হওয়ায় বিদেশি ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে শেষের দিকে এসেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এ অর্থবছরে বাজেট সহায়তায় ৪০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এ বাজেট সহায়তার ঋণচুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রমান্বয়ে কমতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের তহবিল বাড়াতে সহায়তা করবে এডিবির বাজেট সহায়তা।

গত ২৪ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের এ অর্থ সাড়ে ৩ মাসের আমদানি সুরক্ষিত করার জন্য যথেষ্ট। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া বাজেট সহায়তা যোগ হওয়ার পর এ রিজার্ভ বেড়েছিল বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ অর্থবছরে (২০২২-২৩) ক্রমাগত ভঙ্গুর অর্থনীতি সামাল দিতে এ বাজেট সহায়তা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দাতা সংস্থা ও দেশগুলো সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ দেয়। এ ধরনের অর্থসহায়তা পেতে নির্দিষ্ট একটি প্রকল্প তৈরি করতে হয়। এরপর ওই প্রকল্প ধরে দাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি চলে। কিন্তু বাজেট সহায়তার অর্থ দিয়ে সরকার নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। বাজেট সহায়তার অর্থ সরকার যেকোনো খাতে খরচ করতে পারে। তাই অর্থনীতির চাপ সামলাতে বাজেট সহায়তার অর্থ নেওয়া সরকারের জন্য বেশি সুবিধাজনক। তবে এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

এডিবির সঙ্গে এখন বাজেট সহায়তার যে দর-কষাকষি হয়েছে, তাতে বেশকিছু শর্ত রয়েছে। যেমন ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, জ্বালানির দাম নির্ধারণ, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন খাতে নীতি সংস্কার আনতে হবে। এসব শর্ত কতটা বাস্তবায়িত হলো, তা নিয়মিত নজরে রাখবে এডিবি। বাজেট সহায়তার জন্য কোনো খাত দেখাতে না হলেও এডিবিকে বাজেট সহায়তার অর্থের খরচের খাত জানাতে হয়। এবার যে ৪০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে খরচ করতে চায় বলে জানা গেছে।

এর আগে এডিবির নেতৃত্বে কো-ফান্ডিং উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এ বাজেট সহায়তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাবে। দুই ধাপে এই তহবিল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে এপ্রিলে এক দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে দেশে। আগামী জুনে আরও প্রায় এক বিলিয়ন ডলার আসার কথা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশ সরকারকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিয়েছে এডিবি। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পরিবহন, জ্বালানি, পানিসম্পদ, কৃষি, স্থানীয় সরকার, সুশাসন, আর্থিক ও বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দেয়।