কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে আলুর দাম

বাজারে নতুন আলু আসার পরে কয়েক সপ্তাহ ব্যবধানে দাম প্রতিকেজি ৬০ টাকায় নেমেছিলো। এখন আবারও বাড়তে শুরু করেছে আলুর দাম। বাজারে এখন প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে নতুন আসা গ্রানুলা (সাদা আলু) ও কার্ডিনাল (লাল আলু) উভয় জাতের আলুর দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বাজারে এখন সাদা নতুন আলু-ই বেশি। কিছু দোকানে পুরনো আলু পাওয়া যাচ্ছে, পুরোনো আলু এখনও বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। পুরনো আলুর দামও আগের তুলনায় ১০ টাকা বেশি।

 

বাজারে সাধারণত গ্র্যানুলা ও কার্ডিনাল জাতের আলু দেখা যায়। সাদা ও লাল উভয় জাতের আলুর দামে বড় কোনো পার্থক্য নেই। কার্ডিনাল আলু ডায়মন্ড আলু নামেও পরিচিত।

এদিকে বগুড়া অঞ্চলের পাকড়ি জাতের ছোট আলুর দাম আরও বেশি। এ ধরণের আলু ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও এসব আলুর দাম সাধারণ জাতের থেকে সব সময় বেশি থাকে।

বিক্রেতারা বলছেন, নতুন আলু আসার পরও এখনও আলুর বাজার চড়া, যে ধরনের পরিস্থিতি গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি। এক সপ্তাহ আগে দাম কমে ৬০ টাকায় নেমেছিলো। গত দুদিন ধরে আবারও বাড়ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এরপর আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ৩০ অক্টোবর আলু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে আলু আমদানির জন্য দেওয়া অনুমতিপত্রের (আইপি) মেয়াদ গত ১৫ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকার ৩ লাখ ৬ হাজার টন আলু আমদানির অনুমতিপত্র দিলেও এ পর্যন্ত দেশে আলু এসেছে ৬২ হাজার টন।

আলু আমদানি না হওয়া এবং আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ার কারণে বাজারে আলুর সরবরাহ কম, যে কারণে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

 

এদিকে কিছুদিন আগে ঘূর্নিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে দেশে টানা দুই দিন বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টিতে দেশের মুন্সিগঞ্জে রোপন করা বেশিরভাগ আলুর জমি ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এমনিতেই দেশে আলুর সংকট, এরমধ্যে মুন্সিগঞ্জের আলুর ক্ষতিরও একটি বড় প্রভাব বাজারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা আলুর ব্যবসায়ীরা।

ওই সময় কৃষি অধিদপ্তরের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবোর্চ্চ আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সিগঞ্জে ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমির মধ্যে ১২ হাজার ৭৬২ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া নরসিংদী, মানিকগঞ্জসহ কয়েকটি জেলা মিলিয়ে মোট ১৩ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমির আলুর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এদিকে কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে আলুর দাম প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাতে প্রতি কেজি আলুর খুচরা মূল্য পড়ছে ৬০ থেকে ৬৪ টাকা। এছাড়া পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত।




কারা আলুর দাম বাড়াচ্ছে সরকার চাইলে তথ্য দেবো

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেছেন, মুনাফালোভী একটি চক্র আলু মজুত করে দাম বৃদ্ধি করছে। এখানে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের কোনো দায় নেই। তবে কারা সিন্ডিকেট করে আলুর দাম বাড়াচ্ছে সরকার চাইলে সেসব তথ্য আমরা দেবো।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন সম্মেলন কক্ষে আলুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

তিনি বলেন, কোল্ড স্টোরেজ শেড থেকে আলু বের হয় ১৮ টাকা কেজি দরে। পরে পরিবহন, আড়ত ও খুচরা বিক্রেতাদের খরচসহ সব মিলিয়ে এ আলু ভোক্তাপর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩৬ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়।

বাবু বলেন, আমরা মনে করি মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে যারা আলু সংরক্ষণ করেছে তারা মনে করছে আলুর মজুত কম রয়েছে। সে জন্য তারা আলুর দাম বৃদ্ধি করে। ৯ সেপ্টেম্বর সদস্যদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আলু গত বছরের তুলনায় কম সংরক্ষিত রয়েছে। তবে সদস্যদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যে আলু সংরক্ষিত আছে তা দ্বারা ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পর্যাপ্ত আলু থাকবে।

কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, কারা আলুর দাম বৃদ্ধি করছে, কারা সিন্ডিকেট করে আলু মজুত করছে তাদের তথ্য আমরা বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়েছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। এখন আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, হিমাগার মালিকদের যে একতরফা দোষারোপ করা হচ্ছে এটা সঠিক নয়, কাংখিত নয় এবং তথ্যবহুল নয়। সরকার আলু মজুতের যে তথ্য দিচ্ছে তা সঠিক নয়। কারণ প্র্যাকটিক্যালি আমরা দেখছি কোল্ড স্টোরেজের ২০ শতাংশ খালি রয়েছে।

তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা আলু স্লো ছাড়ছে। এটা ওপেন মার্কেট মার্কেট দাম বাড়ছে। কেনো দাম বাড়ছে সেটা সরকারের সংস্থাগুলোকে আমরা বলেছি। এ দাম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে সেটা সরকারকে ভেবে চিনতে করতে হবে। মোবাইল কোর্ট বা হয়রানিমূলকভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না।