আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে প্যানেল

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগ‌্য স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের জন‌্য প‌্যা‌নেল প্রস্তুত কর‌ছে কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক। এখন থে‌কে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগু‌লো তা‌দের স্বতন্ত্র পরিচালক নাম ও প্রয়োজনীয় তথ‌্য বাংলা‌দেশ ব‌্যাং‌কের প‌্যা‌নেলে দে‌বে। এটা যাচাই-বাছাই ক‌রে যোগ‌্য হ‌লে অনাপত্তি নি‌য়ে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালকের মেয়াদ পূর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মেয়াদ শেষ হওয়ার ন্যূনতম ৩০ কর্মদিবস আগে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর পর্ষদে ন্যূনতম দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধান রয়েছে। কিন্তু স্বতন্ত্র পরিচালক ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ার ধারক থেকে স্বাধীন হলেও ফাইন্যান্স কোম্পানি ঋণ খেলাপি হ‌লে স্বতন্ত্র পরিচালকেরাও ঋণখেলাপি হয়ে যান। ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ইমেজের দক্ষ ব্যক্তিরা ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক হিসেবে নিযুক্তির বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

স্বতন্ত্র পরিচালকদের মূল দায়িত্ব হলো আমানতকারী ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণে নিরপেক্ষ মতামত প্রদান করার কথা। তা সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীন-নিরপেক্ষ মতামতের কোনো প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদে প্রতিষ্ঠান ও আমানতকারীদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ হওয়া সত্ত্বেও ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের কোনোভাবে বিপক্ষে মতামত দিতে পারছে না।

সেজন্য দক্ষতার ভিত্তিতে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ্য ব্যক্তির নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ফাইন্যান্স কোম্পানিগু‌লো বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে পাঠা‌বে। নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে যাচাই বাছাই শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে প্যানেলভুক্ত করবে।

এতে আরও বলা হয়, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে নিযুক্ত স্বতন্ত্র পরিচালকরা কোনোরূপ অনিয়ম পরিলক্ষিত, স্বাধীন মতামত প্রদান বাধাগ্রস্ত বা পর্ষদ সভার কার্যবিবরণীতে মতামতের প্রতিফলন না হলে অবিলম্বে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে লিখিতভাবে জানাতে বলা হ‌য়ে‌ছে।

প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের কপি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে। আর ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ওই ঋণের বিপরীতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ফাইন্যান্স কোম্পানির পক্ষে কোনো গ্যারান্টিপত্রে স্বাক্ষর করবেন না।




ফাইন্যান্স কোম্পানতিে বদিশেি পরচিালকদরে সংখ্যা নর্ধিারণে নর্দিশেনা

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ফাইন্যান্স কোম্পানির পর্ষদে কতজন বিদেশি থাকতে পারবে সে সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানিতে শেয়ার ধারণের অনুপাত হিসাব করে বিদেশি পরিচালকদের সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারবে।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশে কার্যরত সব ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা অর্থাৎ পরিচালকদের সংখ্যা ওই কোম্পানিতে তাদের ধারণ করা শেয়ার অনুপাতে নির্ধারণ করতে হবে। ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ এর ১৫(১) ধারায় বিদেশি পরিচালকের সংখ্যা নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আর এই ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ এ নির্দেশনা জারি করেছে।

সম্প্রতি পাস হওয়া ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ এর ১৫(১) ধারায় বলা আছে, কোনো পরিবারের সদস্য সমষ্টিগতভাবে শতকরা ৫ ভাগের বেশি শেয়ার থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ২ জন পরিচালক থাকতে পারবে। আর শতকরা ২ শতাংশ হতে ৫ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকে ১ জন পরিচালক থাকতে পারবে। আর বিদেশি শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক শেয়ার ধারণের বিপরীতে পরিচালতের সংখ্যা বাংলাদেশ কর্তৃক নির্ধারিত হবে।




নারী উদ্যোক্তাদের ঋণে মিলবে বিশেষ প্রণোদনা

নারী উদ্যোক্তাদের দেওয়া ঋণ যথাসময়ে আদায় বা পরিশোধে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক প্রত্যেককে দেওয়া হবে ১ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা।

বুধবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

সিএমএসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তাদের বিতরণকৃত ঋণ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রণোদনা সুবিধা প্রদান প্রসঙ্গে সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ৪ ও ১৭ আগস্ট, ২০২২ সালের ২০ জুন, ২০২৩ সালের ২৫ জুন সার্কুলারের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্মল এন্টারপ্রাইজ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদ/মুনাফায় বিতরণকৃত ঋণ যথাসময়ে সমন্বয় /আদায়/পরিশোধে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক প্রত্যেককে ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

প্রণোদনার পরিমাণ হিসাবায়নে যেসব নির্দেশনা/ব্যাখ্যা অনুসরণীয় হবে সেগুলোর হলো, প্রণোদনার পরিমাণ হিসাবায়নের জন্য সকল নিয়মিত ঋণ/বিনিয়োগের পরিমাণ ও ব্যবহারকাল বিবেচনা করতে হবে। কন্টিনিউয়াস বা রিভোলিং (সিসি, ওডি ইত্যাদি) ঋণ/বিনিয়োগসমূহ মেয়াদের মধ্যে পুনঃনবায়ন করা হলে তার বিপরীতে প্রণোদনা সুবিধা প্রাপ্য হবে। বিরূপমানে শ্রেণিকৃত হলে উক্ত ঋণ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রণোদনা সুবিধা প্রাপ্য হবে না।

আগের সার্কুলারগুলোতে নারী উদ্যোক্তাদের বিতরণকৃত ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে প্রণোদনা প্রদান সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




জাতীয় শোক দিবসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯ নির্দেশনা

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য ৯টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো: ১৫ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা। ১ আগস্ট থেকে মাসব্যাপী কালো ব্যাজ ধারণ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ ব্যানার ফেস্টুন স্থাপন। ১৫ আগস্ট শ্রদ্ধা নিবেদন।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপরে আলোচনা সভার আয়োজন। স্বীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনাপূর্বক অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নিজ কার্যালয়ে বা সুবিধাজনক স্থানে বৃক্ষরোপণ ও তা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়ে গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ। নিজস্ব ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড থাকলে সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র, ভাষণ প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানের আলোকচিত্র ধারণ করে তা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করার কথা বলা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮(ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামের শেষেও পিএলসি যোগ করতে হবে

এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মতোই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামের শেষে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বা ‘পিএলসি’ লিখতে হবে। আর পিএলসি লেখার জন্য আলাদাভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগবে না। পিএলসি লেখা কার্যকর করে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করলেই হবে। পরিবর্তিত নামের গেজেট প্রকাশের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে আবেদন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়ে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২০ এর মাধ্যমে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ (১৯৯৪ সালের ১৮নং আইন)- এ সীমিতদায় কোম্পানি শনাক্তকরণ সংক্রান্ত নতুন ধারা ১১ক সন্নিবেশ করা হয়েছে। সন্নিবেশিত ধারার (ক) উপ-ধারাতে সীমিতদায় পাবলিক কোম্পানির ক্ষেত্রে নামের শেষে ‘পাবলিক লিমিটেড (সীমিতদায়) কোম্পানি’ বা ‘পিএলসি’ লেখার বিধান রাখা হয়েছে। উল্লিখিত বিধান পরিপালনার্থে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নামের শেষে ‘পাবলিক সীমিতদায় কোম্পানি’ বা ‘পিলসি’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২০ এর সন্নিবেশিত বিধান মোতাবেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিদ্যমান নামের শেষে সীমিত দায় বা লিমিটেড শব্দের পরিবর্তে ‘পাবলিক সীমিতদায় কোম্পানি’ বা ‘পিএলসি’ সংযোজন এবং সংঘ-স্মারক ও সংঘ-বিধির পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যাদি সম্পাদন করার নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রাধিকার প্রদান করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, সংঘ-স্মারক ও সংঘ-বিধিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধনের পর পরিবর্তিত নামে গেজেট প্রকাশের নিমিত্তে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে পরিবর্তিত ও রেজিস্ট্রিকৃত সংঘ-স্মারক, সংঘ-বিধির সার্টিফাইড কপি এবং আরজেএসসি কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রসহ এ বিভাগে আবেদন করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮(ছ) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সার্কুলার জারি করা হয়।