বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে পলিসি বেসড লোন হিসেবে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ইনভেস্টমেন্ট লোন ও গ্যারান্টি ফ্যাসিলিটি হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ডিরেক্টরের সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টার এক সভা শেষে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে বিশ্বব্যাংকের প্রেস উইং থেকেও বিষয়টি জানিয়েছিল।

সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে এ ঋণ অনুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঋণ পেতে তিনটি শর্ত পালন করতে হবে বাংলাদেশকে।

শর্তগুলো হলো- বেসরকারি খাতে অ্যাসেস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলাপি ঋণের নতুন সংজ্ঞায়ন করা, নতুন গঠিত টাস্কফোর্সের অডিট ফার্মের কার্যবিবরণী বিশ্বব্যাংকে উপস্থাপন করার শর্ত মানতে হবে বাংলাদেশকে।




আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৬৫ শতাংশ

গত এক বছরে দেশের আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন ৬৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রকাশিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ১৪ হাজার ১০৬টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন বা এসটিআর জমা হয়েছে।

আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৬৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে এমন লেনদেন ও কার্যক্রম হয়েছিল আট হাজার ৫৭১টি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২৮০টি।




প্রিমিয়ার লিজিংয়ের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন, ২০২৩) ও অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটি চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে (২.৬৭) টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ছিল (২.৯৯) টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ০.৩২ টাকা।

এদিকে, কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে (৪.২২) টাকা। আগের হিসাব বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (৫.৪০) টাকা। সে হিসেবে এ সময়ের ব্যবধানে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ১.১৮ টাকা।

২০২৩ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটিরে ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে (২২.৪৮) টাকায়। আর সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ২.৯০ টাকা।




ইস্টার্ন হাউজিংয়ের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ অক্টোবর। আর ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৭.৩৭ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৫.৮৮ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮০.০৮ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।




আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লাউড কম্পিউটিং’ তদারকি জোরদারের নির্দেশ

আর্থিক খাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বর্তমানে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে খাতটিতে ব্যবহার করা সিস্টেমগুলো পরিচালনায় তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সাইবার আক্রমণসহ তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি বিষয়ে সমন্বয় করে চলতি বছরের মার্চে একটি নির্দেশনা জারি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ। এই নির্দেশনা দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

গত ১৬ মার্চের নির্দেশনায় বলা হয়, প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয়, যেকোনো স্থান থেকে সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ, সিস্টেম ব্যবহারে নিরবচ্ছিন্নতা ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ক্লাউড সেবা গ্রহণের হারও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে, ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি ইন্টারনেট নির্ভর হওয়ায় এতে সাইবার আক্রমণসহ তথ্যের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়েছে। আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ঝুঁকি নিরূপণ ও কার্যকর তদারকি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া ক্লাউড সংক্রান্ত নিরীক্ষা ও পরিপালন নিশ্চিতে এবং সর্বোপরি ক্লাউড প্রযুক্তির বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানো প্রভৃতি বিষয়কে সমন্বিত করে ক্লাউড কম্পিউটিং সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাউড কম্পিউটিং সংশ্লিষ্ট যেকোনো কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা অনুসরণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, নির্দেশনার সার্বিক পরিপালন নিশ্চিত সাপেক্ষে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর এবং অন্যান্য আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

আর চলমান সব ক্লাউড সেবা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ নীতিমালার পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ক্লাউড সেবা গ্রহণকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে অন্যান্য ব্যাংকসহ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮(ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।