আরামিট সিমেন্টের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ২৭ মার্চ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, আলোচিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৪-ডিসেম্বর’২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।

 




দর কমার শীর্ষে আরামিট সিমেন্ট

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে দর কমার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ দর হারিয়েছে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) আরামিট সিমেন্টের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ১১ টাকা ৬৬ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৭ টাকা ৬২ পয়সা। এদিকে আলোচ্য হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৫০ পয়সা। এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯৭ পয়সায়।

 

ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ২৬ টাকা ৬০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটি ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়েছে।




সার্বিক মন্দার মধ্যেও শেয়ারের দর বাড়ছে

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকার কারণে কেনাবেচা হয় না। এমন শেয়ার মোটের ৫৮ শতাংশ। ফ্লোর প্রাইসের ওপরে বাকি ৪২ শতাংশ শেয়ার থাকলেও ২০ থেকে ২৫টি শেয়ার ঘিরে লেনদেন আবর্তিত হচ্ছে। এর মধ্যেই কিছু শেয়ারের দরে হঠাৎ উল্লম্ফন হচ্ছে। তবে এক দিন বাড়লে পরের তিন দিন পতন হচ্ছে। অথচ সার্বিকভাবে বাজারে মন্দা পরিস্থিতি চলছে।

গতকাল ডিএসইতে দর ওঠানামায় সার্বিক মিশ্রধারার মধ্যে চার কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। এগুলো হলো– আরামিট সিমেন্ট, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মো প্লাস্টিক, ওইম্যাপ ইলেক্ট্রোড এবং এসকে ট্রিমস। এ ধরনের কিছু শেয়ারের দর এভাবে মাঝেমধ্যেই হুট করে এক দিন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। কিন্তু পরে আবার দর হারায়।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, কয়েক মাস ধরে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। ২ থেকে ৩ দিনে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দর বাড়ানোর নজির রয়েছে। কিছু শেয়ার হঠাৎ সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচার পর দিনই দর হারাতে দেখা গেছে। দরবৃদ্ধির দিনে আরও দর বাড়তে পারে এমন আশায় কিছু বিনিয়োগকারী ওই শেয়ার কেনেন। যারা এমন ভেবে শেয়ার কেনেন, তারা লোকসানে পড়েন। যেমন– গতকাল ওইম্যাপ ইলেক্ট্রোডের দর ১ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ২১ টাকায় কেনাবেচা হয়। গত ১৮ এপ্রিল থেকে ৪ জুন সময়কালের দেড় মাসে এর দর প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে সাড়ে ২৮ টাকায় ওঠে। এর পর থেমে থেমে দরপতনে গত ১৬ আগস্ট ১৮ টাকা পর্যন্ত নামে। মাঝে ১৯ জুলাইও প্রায় ২০ শতাংশ দর বেড়ে ২৫ টাকায় ওঠে। এর পর দিন থেকে ফের দরপতন হয়।

একই চিত্র দেখা যায় আরামিট সিমেন্টের ক্ষেত্রে। গত মে থেকে জুলাই মাসে অন্তত ছয় দফায় হুট করে এর দর বেড়েছে। প্রত্যেকবার দরবৃদ্ধির পর ফের দরপতন হয়েছে। নতুন করে গত ২০ আগস্ট থেকে দরবৃদ্ধি শুরু হয়েছে। ২২ টাকা ২০ পয়সা থেকে শুরু করে গত পাঁচ দিনে দর বেড়ে ২৮ টাকা ৮০ পয়সায় উঠেছে। বেঙ্গল উইন্ডসর, এসকে ট্রিমসসহ অন্য একই শেয়ারে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে দরবৃদ্ধির দিনে বিনিয়োগকারীদের এ শেয়ার ক্রয়ে আগ্রহ থাকার দিনে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়।

এভাবে অল্প কিছু শেয়ারের দরে বেশ উত্থান-পতন হলেও সার্বিকভাবে পুরো শেয়ারবাজার মন্দায় রয়েছে। গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩১৪ শেয়ারের মধ্যে ৭৯টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭১টির এবং অপরিবর্তিত বা ফ্লোর প্রাইসে ছিল ১৬৪টি। ক্রেতার অভাবে এদিন ৭৮ কোম্পানির কোনো শেয়ার কেনাবেচা হয়নি। ডিএসইএক্স ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬২৮০ পয়েন্টে উঠেছে। লেনদেন হয়েছে ৪১৩ কোটি টাকার শেয়ার।




সপ্তাহজুড়ে ৩ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ

বিদায়ী সপ্তাহে আর্থিক প্রতিবেদকন প্রকাশ করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, আরামিট সিমেন্ট এবং আরিামিট লিমিটেড। এই তিন কোম্পানি দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর’২২) সমাপ্ত অর্থবছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন: কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৪৩ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৯৪ পয়সা। আয় বেড়েছে ১২.৪৩ শতাংশের বেশি।

অর্থবছরেরর দুই প্রান্তিকে বা ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’২২) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৪১ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮ টাকা ২৮ পয়সা। আয় বেড়েছে ১.৫৭ শতাংশের বেশি।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৭২ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১১ টাকা ৫৭ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৭৯ টাকা ৯৭ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৭২ টাকা ৫২ পয়সা।

আরামিট সিমেন্ট: কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ০৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ২ টাকা ১৫ পয়সা।

দুই প্রান্তিকে বা ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’২২) কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৪ টাকা ১১ পয়সা।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৯৩ পয়সা।

আরামিট লিমিটেড: কোম্পানিটির শেয়ার আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা।

দুই প্রান্তিকে বা ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’২২) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ১২ পয়সা।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা।




আরামিট সিমেন্টের বোর্ড সভার তারিখ নির্ধারণ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরামিট সিমেন্টের বোর্ড সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ৪টায় এ কোম্পানির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় কোম্পানিটির ৩১ ডিসেম্বর,২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকাশ করা হবে।