আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ মার্চ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। হাতে আছে আর মাত্র সাত দিন। এর মধ্যেই করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এবার বেশিরভাগ করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই সহজে ই-রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনেও এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন সিস্টেম চালু থাকছে।

সাধারণত প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকে ৩০ নভেম্বর। তবে এবার তিন দফায় এক মাস করে সময় বাড়িয়ে শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন নিয়েছেন।

যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবেন

ই-রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সহজেই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোনও কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই হয়। একই সঙ্গে অনলাইনেই কর পরিশোধ করা যায়। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

শেষ সময়ে তাড়াহুড়া নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে করদাতাকে জরিমানাসহ আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রিটার্ন দেওয়ার আগে করণীয়

রিটার্ন জমার আগে করদাতাদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে— আগে থেকেই আয়–ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা, জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য আবার পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া।

কর প্রশাসন বলছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধাও পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন।




অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করলো সরকার

আয়কর রিটার্ন জমা অনলাইনে বাধ্যতামূলক করলো সরকার। রোববার (৩ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা বিশেষ আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশি, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ ব্যক্তি, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। এই চার শ্রেণির করদাতা চাইলে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ই-রিটার্ন সিস্টেমে কারিগরি সমস্যার কারণে যদি কোনো সাধারণ করদাতা রিটার্ন জমা দিতে না পারেন, তাহলে তাকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে যুক্তিসঙ্গত কারণ জানিয়ে আবেদন করতে হবে। অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে তারা কাগজে (পেপার রিটার্ন) রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

আয়কর আইন ২০২৪ এর ধারা ৩২৮ এর উপ ধারা (চ) প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ আদেশ দ্বারা ৪ আগস্ট থেকে কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত সব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার অনলাইনে (www.ctaxnbf.gov.bd) আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হলো।

গত বছর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের সব সরকারি কর্মকর্তা, সব তফসিলি ব্যাংক ও কিছু বড় কোম্পানির কর্মকর্তাদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ বছরের মাঝামাঝি সবার জন্য অনলাইন রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছিল এনবিআর।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে ১ কোটি ৪৫ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ৪৫ লাখ রিটার্ন জমা দিয়েছেন।




অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়ে

২০২৪-২৫ করবর্ষে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ১৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের উদ্দেশ্যে ২০ লাখের বেশি করদাতা রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

বুধবার (৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ১৬ লাখ অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ২০ লাখ অতিক্রম করেছে। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী সব সম্মানিত করদাতাকে এনবিআর ধন্যবাদ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, আয়কর দিবস পরবর্তী সময়েও এনবিআর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সেবাটি চালু রেখেছে। সেইসঙ্গে রিটার্ন দাখিলের পর করদাতা কর্তৃক রিটার্নে কোনো ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে আয়কর আইন ২০২৩ এর ১৮০(১) ধারা মোতাবেক মূল রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে ১৮০(২) ধারায় ঘরে বসেই সহজে অনলাইনে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ২২৫ জন করদাতা অনলাইনে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেছেন।

এনবিআর জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা সহজে এবং দ্রুত তাদের ২০২৪-২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করে দাখিলকৃত রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, টিআইএন সনদ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারছেন। একইসঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট (ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করদাতারা কর পরিশোধের সুবিধা ও কর সমন্বয়ের সুবিধা পাচ্ছেন। এই বিষয়ে কল সেন্টার ও ই-মেইলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

এনবিআর ইতোমধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেমের পরবর্তী আপগ্রেডেশেনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য ‘ই-রিটার্ন সিস্টেমের সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানের উপায় নির্ধারণ’ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করে। ই-রিটার্ন সিস্টেমটিকে আরও সহজ, সমৃদ্ধ ও করদাতাবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানায় এনবিআর

 




আয়কর সেবা মাস শুরু

আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ মেলার পরিবেশে করদাতাদের সব ধরনের সেবা দিতে  আজ রোববার (৩ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে কর তথ্যসেবা মাস।

নভেম্বর মাসজুড়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ৪১টি কর অঞ্চলের ৬৫০টি সার্কেলে অফিস চলাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে করসেবা।

গত চার বছরের মতো চলতি বছরেও আয়কর মেলা হচ্ছে না। সে কারণে প্রতিটি কর অঞ্চলে কর মেলার পরিবেশে মিনি করমেলার আয়োজন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর কর মেলা আয়োজন করে আসছিল এনবিআর। তবে ২০২০, ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে আয়কর মেলা বন্ধ রয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারি কারণে করমেলা বন্ধ রাখলেও বাড়তি খরচের বিবেচনায় এবারও আয়কর মেলা আয়োজনে না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান গণমাধ্যমে বলেন, আমরা আয়করদাতাদের অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহ দিতে চাই। ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সহজেই ঘরে বসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। ফলে আর ট্যাক্স অফিসে যেত হলো না, ব্যাংকে যেতে হলো না। সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র।

এবারও সরকারি কর্মচারীদের জন্য সচিবালয়ে রিটার্ন জমার বুথ বসাবে এনবিআর। যা চালু থাকবে ৩ থেকে ১৭ নভেম্বর। আর শেরেবাংলা নগরে সরকারি কর্মচারীরা এই সেবা পাবেন ১৯ থেকে ২৩ নভেম্বর। এবারো সেনা মালঞ্চে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের রিটার্ন জমা দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কর অঞ্চলগুলোতে যে সব সেবা পাওয়া যাবে

>> আয়কর মেলার পরিবর্তে কর কমিশনার অঞ্চলগুলোতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৩ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন গ্রহণের জন্য করদাতাদের সেবা দেওয়া।

>> প্রতিটি অফিসে উন্মুক্ত স্থান বা কার পার্কিং এরিয়ায় রিটার্ন গ্রহণ বুথ ও হেল্প ডেস্ক স্থাপন করে রিটার্ন গ্রহণের পরিবেশকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। একইসঙ্গে রিটার্ন দাখিলকারী করদাতাদের তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকারপত্রের সঙ্গে রিটার্ন দাখিলের জন্য উৎসাহ প্রদানে উপহার দেওয়া হবে।

>> অনলাইনে কীভাবে রিটার্ন দাখিল করা যায়, সে বিষয়টি হাতে কলমে দেখিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে কর সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য অফিস যেতে হবে না।

>> সব কর কমিশনার সেবা কেন্দ্রে ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

>> প্রতিটি কর অঞ্চলের নিজস্ব ওয়েবসাইট তথ্যসহ হালনাগাদ করতে হবে। ওই ওয়েবসাইটে আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন ফর্ম, পরিপত্র, রিটার্ন পূরণের নির্দেশিকা, ভিডিও টিউটোরিয়ালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সন্নিবেশ করতে হবে।

>> কর অঞ্চলগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখবে। অন্যান্য মাধ্যমের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চলবে।

এছাড়া ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাতীয় ট্যাক্স কার্ড ও ঢাকার কর অঞ্চলগুলোর সেরা করদাতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ৪টি কর অঞ্চলে কেন্দ্রীয়ভাবে ও অন্য সব কর অঞ্চল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যথাযথ আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে জেলা ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক সেরা করদাতা সম্মাননা প্রদান করবে।




ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ই–রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক

সরকারি কর্মচারীদের মতো চার সিটি করপোরেশনে অবস্থিত আয়কর সার্কেলের অধিভুক্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষ আদেশে পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত বিশেষ আদেশ প্রসঙ্গে সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ২২ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে জারি করা বিশেষ আদেশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক ওই পত্রে বর্ণিত নির্দেশনা আপনাদের ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিপালন নিশ্চিতকরণের জন্য আপনাদের নির্দেশনা দেওয়া হলো।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।

তালিকার প্রথমে রয়েছেন ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অবস্থিত আয়কর সার্কেলসমূহের অধিক্ষেত্রভুক্ত সব সরকারি কর্মচারী। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সব তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তৃতীয়ত, দেশের সব মোবাইল টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরও অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে।

এছাড়া ছয়টি বড় বিদেশি কোম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এই কোম্পানিগুলো হলো ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি।

এর আগে ২১ অক্টোবর দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দাপ্তরিক লেনদেনে ডিজিটাল প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের সব সরকারি কর্মকর্তাদের ই-রিটার্ন পোর্টালের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।




রিটার্নে জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিবরণ বাধ্যতামূলক না করার প্রস্তাব

শতভাগ ক্যাশ-লেস পদ্ধতির প্রচলন না হওয়া পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে করদাতাদের জীবনযাত্রার সকল ব্যয় বিবরণ বাধ্যতামূলক না করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। পাশাপাশি আয়কর আদায় বাড়াতে অটোমেশন করাসহ বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড় চেয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত প্রাক বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে সভায় এনবিআর ও সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটি বলছে, যেহেতু আয়করের সংজ্ঞা অনুযায়ী— যা আয় বলে গণ্য হবে সেই আয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি করদাতার জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়কে রিটার্ন ভিত্তিতেই কর প্রদান করা হবে এবং ব্যয় বিয়োজনের সুযোগ নেই। ব্যক্তি করদাতাদের জীবনের সংশ্লিষ্ট ব্যয়কে দাখিলে বাধ্যতামূলক করা হলে করদাতারা রিটার্ন প্রদানে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

তারা আরও বলছে, করদাতারা যেহেতু শতভাগ ক্যাশ-লেস পদ্ধতির আওতায় আসেনি, সে কারণে তাদের পক্ষে এ সকল ব্যয় হিসাব রাখা কঠিন।

এছাড়া সংগঠনটি ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর পুরোপুরি বাস্তবায়ন, সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক মূসক কার্যক্রম পরিচালনা করা, করদাতাদের অতিরিক্ত কর ফেরত প্রদান, বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে কর বাতিল, কর জাল বাড়াতে এনবিআরকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।




আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল ২ মাস

পূর্বনির্ধারিত ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে রিটার্ন জমার শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে এনবিআর। একইসঙ্গে কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন জমার মেয়াদ ১৫ জানুয়ারি থেকে দেড় মাস বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে।
ব্যক্তি করদাতাদের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে রিটার্ন জমার শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এছাড়া কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন জমার মেয়াদ ১৫ জানুয়ারি থেকে দেড় মাস বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে।

বুধবার এক প্রজ্ঞাপনে এই ঘোষণা দেয় এনবিআর।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০ লাখ ব্যক্তির আয়কর রিটার্ন জমার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর। তবে এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক রিটার্নও জমা পড়েনি।

এনবিআরে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ১৯ লাখের মতো নাগরিকের রিটার্ন জমা পড়েছে। সারা বছরের যেকোনো সময় রিটার্ন জমা দেয়া যায়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের পর সংশ্লিষ্ট আয় বছরের রিটার্ন দাখিল করতে গেলে ৪ শতাংশ জরিমানা দিতে হয়।

এ বছর কোনো আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়নি। এর পরিবর্তে এনবিআর করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে সহায়তা করার জন্য দেশব্যাপী কর অঞ্চল অফিস চত্বরে বিশেষ সহায়তা পরিষেবার আয়োজন করেছে।

এক্ষেত্রে করদাতাদের যে বিনিয়োগ রেয়াত পাওয়ার কথা ছিল, সেটিও তারা পাবেন না। ফলে তাদের আরও বেশি কর দিতে হবে।




মিনি করমেলায় শেষ সময়ে উপচে পড়া ভিড়

একজন করদাতার বার্ষিক আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য নির্ধারিত ফরমে উপস্থাপন করার মাধ্যম হচ্ছে আয়কর রিটার্ন। আয়কর আইন অনুযায়ী নভেম্বরের ৩০ তারিখ রিটার্ন দাখিল করার শেষ দিন।

সে হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রিটার্ন দাখিল করার সময় আছে মাত্র দুইদিন। তাই করদাতাদের সময় থাকতে রিটার্ন দাখিল করার পরামর্শ দিয়েছেন এনবিআরের আয়কর বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। যদিও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ও কর সমিতিসহ বিভিন্ন ফোরাম থেকে সময় বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।

সময় বৃদ্ধির আশায় না থেকে শেষ সময়ে করদাতারা কর অফিসগুলোতে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য এসেছেন। ফলে কর অফিসের সামনে স্থাপিত বিশেষ বুথে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

করদাতাদের সুবিধার্থে নভেম্বরের পুরো মাসজুড়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ৩১টি কর অঞ্চলের ৬৪৯টি সার্কেলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে মেলার পরিবেশে করসেবা দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে রয়েছে হেল্প ডেস্ক, রিটার্ন গ্রহণ বুথ, ই-টিআইএন, ই-রিটার্ন ও এ-চালানের আলাদা বুথ।

কর অঞ্চল-৮ এর আওতায় ৮০ হাজারের বেশি করদাতা ই-টিআইএন নিবন্ধন নিয়েছেন। যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজারের মতো ব্যক্তি নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে থাকেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুসারে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে কর অঞ্চল-৮ এর কর কমিশনার মোহাম্মদ আবুল মনসুর  বলেন, আশা করছি রাষ্ট্রের উন্নয়নে অংশীদার হতে করদাতারা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন। এরপরেও রিটার্ন জমা দেওয়া গেলেও কর অব্যাহতিসহ বিভিন্ন কর সুবিধা মিলবে না। বরং জরিমানাসহ বাড়তি কর দিতে হবে। আমাদের কর অঞ্চলের এখন রিটার্ন দাখিল ও রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক।

এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৯৫ লাখের বেশি করদাতা ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন নিলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন দাখিল হয়নি বলে জানা গেছে। গত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে দেশের ৩১ কর অঞ্চলে প্রায় ৩২ লাখ রিটার্ন দাখিল হয়েছিল। যদিও প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো অনেক পিছিয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরে অন্তত ৪০ লাখ রিটার্ন দাখিলের প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

এনবিআরের একাধিক কর কমিশনার  বলেন,যত সময় যাচ্ছে করদাতাদের চাপ তত বাড়ছে। আশা করছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। তবে আমাদের কাছেও সময় বৃদ্ধির বিষয়টি শেয়ার করছেন। এটা এনবিআর সিদ্ধান্ত নিবে, আমাদের কাজ করে যাচ্ছে।

রিটার্ন দাখিলের শেষ সপ্তাহে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে এসেছে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত শাহজাহান

বলেন, আসলে অফিসে কাজের চাপ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে কর অফিসে আসা হয়নি। ভেবেছিলাম সময় বৃদ্ধি করবে। তবে সেই ঘোষণা না পেয়ে ঝুঁকি নেইনি। আজ চলে এলাম জমা দেওয়ার জন্য।

সাধারণত কোনো ব্যক্তি-করদাতার আয় যদি বছরে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি হয়, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি, নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে চার লাখ টাকার বেশি হয়, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হয় এবং প্রতিবন্ধী করদাতার আয় সাড়ে চার লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হলে তার রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া আরও অনেক কারণে ব্যক্তিকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। চলতি অর্থবছর থেকে শুধু রিটার্ন দাখিল করলেই হবে না, বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে হলে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্রও দেখাতে হবে। আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২০২৪ অনুযায়ী ৪৪ ধরনের সেবায় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কারণে রিটার্ন দাখিলের বিকল্প নেই ই-টিআইএনধারীদের।




আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা এক মাস বাড়াতে বলেছে এফবিসিসিআই

আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লিখিত এক চিঠিতে তারা বলেছে, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন।

এর কারণ হিসেবে এফবিসিসিআই বলেছে, নতুন আয়কর আইন-২০২৩ প্রতিপালন ও আয়কর পরিপত্র বিলম্বে প্রকাশের কারণে এবার কারদাতারা প্রস্তুতি নেওয়ার তেমন সময় পাননি। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে অনেক করদাতার পক্ষেই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব হবে না।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন থেকে এফবিসিসিআইয়ের কাছে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আয়কর আইন-২০২৩–এর ৩৩৪ নম্বর ধারার আলোকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধির অনুরোধ করেছে এফবিসিসিআই।

নতুন আয়কর আইনে কর দিবসের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে। রিটার্ন জমার সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হলে কর দিবস ৩০ নভেম্বরের পর অন্য কোনো দিনে পালনের ঘোষণা দিতে পারে এনবিআর।

এর আগে আরও একটি সংগঠন রিটার্ন জমার সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করেছিল। ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন রিটার্ন জমার সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ানোর দাবি জানায়। ৮ নভেম্বর এনবিআর চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে চিঠি দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ উজ্জামান খান।