আমদানি-রপ্তানির ডলার অর্থায়নে বাড়ল সুদহার

বৈদেশিক মুদ্রা স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক অর্থাৎ আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নের সুদহার পুনঃনির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ডলারের বাণিজ্যিক অর্থায়নে আগের চেয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি সুদ পাওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নের সুদের হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে মুদ্রার বেঞ্চমার্ক রেটের সঙ্গে ৪ শতাংশ যুক্ত করে বার্ষিক সুদের হার নির্ধারণ করতে হবে। অর্থায়ন চলমান থাকাকালীন অবস্থায় বেঞ্চমার্ক রেট হিসেবে লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার্ড রেট (লাইবর) ব্যবহার করা যাবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সুদহার পুনঃনির্ধারণ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন নির্দেশনা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার বেঞ্চমার্ক রেটের সঙ্গে সাড়ে ৩ শতাংশ যুক্ত করে সুদের হার নির্ধারণ করা হতো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মার্কিন ডলারের বেঞ্চমার্ক রেট হিসেবে ব্যবহৃত এসওএফআরের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দশমিক ৫০ শতাংশ সুদহার কমানো হয়েছে। এতে করে বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় আমদানি ব্যয় কিছুটা কমবে। পাশাপাশি রপ্তানিকারকরাও কম সুদে রপ্তানি বিল বৈদেশিক মুদ্রায় ডিসকাউন্ট করতে পারবে।

জানা গেছে, এখন বেঞ্চমার্ক রেফারেন্স রেট ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি আমদানি-রপ্তানির সময় এই রেটের সঙ্গে ৪ শতাংশ যোগ করে সুদ পাবে।




আখাউড়া স্থলবন্দরে ২ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

বিশ্বকর্মাপূজা উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ২ দিন বন্ধ থাকবে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। তবে বন্ধের সময় স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিশ্বকর্মাপূজা উপলক্ষ্যে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর দুইদিন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন। পূজার ছুটি শেষে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে যথারীতি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলবে।

উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয় উত্তরপূর্ব ভারতে। রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, প্লাস্টিক, রড, সিমেন্ট ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ইত্যাদি।




হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে একদিন বন্ধের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া স্বাভাবিক রয়েছে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্ট ধারী যাত্রী পারাপার।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানিয়েছেন হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত।

তিনি জানান, শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষ্যে আগামীকাল বুধবার একদিন বন্ধের পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভারতের সঙ্গে হিলি স্থলবন্দর দায়ে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর অভ্যন্তরীণ সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে। তা আনলোড করে দেশি ট্রাক লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।

এদিকে হিলি ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, গতকাল বুধবার হিলি স্থলবন্দরে ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এই চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্ট ধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল। আজও স্বাভাবিক রয়েছে।




১০০ বছরের আমদানি-রপ্তানির মাস্টারপ্ল্যান তৈরির সুপারিশ

১০০ বছরের পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাস্টারপ্ল্যান তৈরির সুপারিশ করেছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

রোববার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫৯তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান, রনজিত কুমার রায়, গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং মো. আছলাম হোসেন সওদাগর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ৫৮তম বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়।

কমিটি পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে উল্লেখ করে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে স্বল্প জমিতে অধিক কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করে। এছাড়াও বৈঠকে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, সমস্যা ও উত্তরণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়কে ভবিষ্যতে ১০০ বছরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি, রিজার্ভের বিষয়ে চিন্তা করে সব বন্দরগুলোকে নিয়ে সমন্বিতভাবে স্টাডি করে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির সুপারিশ করা হয়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




৫ দিন পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ৫ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৮ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ৪২ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমসের চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব অফিসার কলি মোল্লাহ জানান, ঈদ উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ৫দিন বন্ধ ছিল। রোববার সকাল থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ভারতের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪২ ট্রাক ও আমদানি হয়েছে ২৮ ট্রাক পণ্য।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে।




সাত মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১০ শতাংশ

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এনবিআরের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়-সংক্রান্ত এনবিআরের সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে।

এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ওই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সংস্থাটির।

সাত মাসে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব এসেছে ৫২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৮ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। তবে এ খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাত থেকে সাত মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৬ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় যা ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি । তবে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। এ ছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে সাত মাসে রাজস্ব এসেছে ৫৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দার পূর্বাভাসের কারণে দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতি কিছুটা শ্লথগতিতে আছে। এসব কারণে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আয় হচ্ছে না। তবে এনবিআর কর্মকর্তারা আশা করছেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও গতি পাবে। তখন রাজস্ব আয়ও বাড়বে।