মার্চ থেকে পেপারলেস আমদানি-রপ্তানি : অর্থ উপদেষ্টা

আগামী মার্চ মাস থেকে আমদানি ও রপ্তানির সকল কার্যক্রম পেপারলেস বা অনলাইনে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) আংশিকভাবে বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) চালু হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগের অধীনে সাতটি কাস্টমস এজেন্সিকে একক প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে।

রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে বিএসডব্লিউ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম সহজতর করার কথা জানান।

তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির পর থেকে আমদানি ও রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ১৯টি ডিপার্টমেন্টের যত ধরনের লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয় আছে এতে কোনো ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না, সব অনলাইনে করতে হবে। অন্যথায় আমাদের হাতেও ইন্সট্রুমেন্ট আছে। আমাদের অর্থসচিব অনলাইনে আবেদন না হলে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের বরাদ্দ আটকে দেবেন।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, গত ১৫ বছরে ডিজিটাল করতে অনেক টাকা ব্যয় করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। আমাদেরকে ডিজিটালের গল্প শোনানো হয়েছে শুধু। যাত্রাবাড়ী থানা পুড়ে গেল, কোনো ব্যাকআপ ডকুমেন্ট রইলো না। আমরা কার্যকর ডিজিটাল দেশ গড়তে অর্থায়ন করব।

এ সময় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের উপলব্ধি হয়েছে ডিজিটালের গুরুত্ব। সব নথিপত্র পুড়ে গেল কোনো ব্যাকআপ থাকলো না। অথচ বলা হয়েছিল দেশ ডিজিটাল হয়ে গেছে। স্মার্ট হয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে এসেছি স্মার্ট বাংলাদেশ হয়েছে, আমরা উন্নয়নের হাইওয়েতে প্রবেশ করেছি। এ ধরনের অনেক নেগেটিভ তৈরি হয়েছে। অথচ একটি থানার কাগজ পুড়ে গেলে অনলাইন না থাকায় তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিএসডব্লিউ-এর আওতায় এসেছে সাতটি সংস্থা। সেগুলো হলো পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অথরিটি ফর কেমিক্যাল উইপনস কনভেনশন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি ১২টি সংস্থাকে বিএসডব্লিউ-এর আওতায় আনা হবে। এর ফলে পুরো সিস্টেমটি সম্পূর্ণরূপে চালু হবে।

আরও জানানো হয়, ওই সাতটি সংস্থা ইতোমধ্যে তাদের অটোমেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন থেকে ব্যবসায়ীরা এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত সকল প্রকার শংসাপত্র, লাইসেন্স এবং পারমিট পেতে পারবেন। ফলে, কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য আর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।




মিয়ানমার থেকেও নিত্যপণ্য আমদানি করতে চুক্তি হচ্ছে

নিত্যপণ্য আমদানির জন্য ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

বুধবার (২৬ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নিত্যপণ্যগুলো আনতে, সেটার সরবরাহ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে সেজন্য ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে যাচ্ছি। মিয়ানমার থেকেও যাতে আমরা কৃষি উৎপাদিত পণ্যগুলো আনতে পারি, যেগুলো তাদের উদ্বৃত্ত আছে। অনেক বড় দেশ তাদের, অনেক উদ্বৃত্ত পণ্য আছে। এ বিষয়ে একটি চুক্তি আমরা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। আগামী জুলাই মাসে আমরা সেই চুক্তিটা সই করতে চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকেও আমরা পেঁয়াজ ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আনতে পারব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, সেটা হলো আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে কিছুটা হলেও যাতে আমরা সাধারণ মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে পারি। কিছুটা হলেও আমরা যাতে বাজারটা সচল রাখতে পারি। সেজন্যই আমরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি।




আমদানির অর্থায়নের তথ্য দেওয়ার নতুন নির্দেশনা

দেশের ব্যাংকগুলোর আমদানি পরবর্তী অর্থায়ন বা পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিংয়ের (পিআইএফ) তথ্য দিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। আগামী মার্চ থেকে নতুন ছকে প্রতি তিন মাস অন্তর এ তথ্য দি‌তে হবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২১ সালে জারি করা সার্কুলারে ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল এই দুইটি খাতের এবং ২০২২ সালের সার্কুলারে ট্রেডিং পণ্য ও কৃষিজাত পণ্য খাতের পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিংয়ের (পিআইএফ) সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব খাতের পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিংয়ের (পিআইএফ) তথ্য নতুন ছকে প্রতি তিন মাস অন্তর হার্ড ও সফট কপি ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশনে দাখিল করতে হবে। একইসঙ্গে বিবরণীর একটি অনুলিপি ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি (বিআরপিডি) বিভাগের টাস্কফোর্স সেলেও পাঠাতে হবে।

এ নির্দেশনা চলতি বছরের মার্চে সমাপ্ত ত্রৈমাসিক থেকে কার্যকর হবে। আগে জারি করা এ সংক্রান্ত অন্য শর্ত ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।




আসল আমদানি করা ৬১ হাজার ডিম

প্রথমবারের মতো ভারত থেকে এলো আমদানির ডিম। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির প্রথম চালানে ভারত থেকে ১৫ কোটির মধ্যে ডিম এসেছে ৬১ হাজার ৯৫০ পিস।

রবিবার সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে ডিমের চালান নিয়ে একটি গাড়ি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পর্যায়ক্রমে এ পথে আরও ডিম আসবে বলে জানান আমদানিকারকের প্রতিনিধিরা। প্রথম চালানের এ ডিমের আমদানিকারক ঢাকার রামপুরায় অবস্থিত বিডিএস করপোরেশন। এ চালানের রপ্তানিকারক ভারতের ত্রিপুরার কানুপ নামক এক প্রতিষ্ঠান।

এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৫ কোটি ডিম আমদানির জন্য ১৫ প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে। বেনাপোল দিয়ে আসা প্রতিটি ডিমের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ টাকা ৪৩ পয়সা। এর ওপর সরকারি শুল্ক এক টাকা ৮০ পয়সা। এলসি খরচ, রপ্তানি খরচ, পোর্ট চার্জ, সিঅ্যান্ডএফ চার্জ, পরিবহন খরচ ধরলে ৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০ টাকার মধ্যে থাকবে।

প্রথম চালানের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৮৮ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার। এর আগে গেল ৮ অক্টোবর ৫টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ কোটি ডিম আমদানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর চার প্রতিষ্ঠানকে চার কোটি ডিম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। ২১ সেপ্টেম্বর আরও ৬ কোটি ডিম আমদানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আমদানি করা ডিম খুচরা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি পিস ১২ টাকায় বিক্রি হবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী বলেন, ‘আমদানি করা ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।’

হায়দার আলী জানান, ‘এসব শর্তের মধ্যে একটি হলো, রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ামুক্ত মর্মে সনদ দাখিল করতে হবে। সরকার নির্ধারিত শুল্ক বা কর পরিশোধ করতে হবে। নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করা যাবে না। সরকারের অন্য বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।’

দেশে এর আগে ডিম আমদানি না হওয়ায় এই সনদ পেতে আমদানিকারকদের কিছুটা সময় লাগে। এ কারণে ডিম আসতে দেরি হয়েছে বলে জানান মো. হায়দার আলী।




২০২৩-২৪ মৌসুমে ভারতে ভোজ্যতেল আমদানি কমবে ৬%

ভারতে ভোজ্যতেল আমদানি কমে যেতে পারে। চলতি বছর দেশটিতে তেলবীজের মজুদ বাড়ায় নভেম্বরে আসন্ন ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে ভোজ্যতেলের আমদানি নিম্নমুখী হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের এক শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, দেশটিতে ভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণ ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে।

ভারত বিশ্বের শীর্ষ উদ্ভিজ্জ তেল আমদানিকারক। মুম্বাইভিত্তিক উদ্ভিজ্জ তেলের ব্রোকারেজ ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান সানভিন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সন্দীপ বাজোরিয়া বলেছেন, ‘‌আশা করছি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের ভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৬৬ লাখ টনে। ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে আমদানির পরিমাণ ১০ লাখ টন কমে যেতে পারে। আগামী মৌসুমে আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৫৬ লাখ টনে।’‌

ভারতে আমদানি হওয়া ভোজ্যতেলের সিংহভাগই মূলত পাম অয়েল। মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত উদ্ভিজ্জ তেলের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সন্দীপ বাজোরিয়া জানান, ২০২২-২৩ বিপণন বছরে এক কোটি টন পাম অয়েল আমদানি করেছে ভারত। আগামী বছর আমদানি কিছুটা কমে দাঁড়াবে ৯৫ লাখ টনে।

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে রয়টার্স জানিয়েছিল, দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে ভারতীয় পরিশোধনকারীরা জুলাই থেকেই পাম অয়েল মজুদ বাড়াচ্ছে। জুলাইয়ে দেশটি ১২ লাখ ৫ হাজার টন এবং আগস্টে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পাম অয়েল আমদানি করে। ২০২২ সালের আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ১৬ হাজার টন। সে হিসাবে চলতি বছর মাসটিতে আমদানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।

আর সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এসইএ) তথ্যমতে, আগস্টে ১৮ লাখ ৭০ হাজার টন উদ্ভিজ্জ তেল আমদানি করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকায় ও দেশীয় তেলবীজ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ভোজ্যতেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত।

ভারত প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে পাম অয়েল আমদানি করে। আর সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে।

সম্মেলনে বাজোরিয়া বলেন, ‘‌ভারতে ২০২২-২৩ সালে সয়াবিন আমদানির সম্ভাব্য পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৫ লাখ টনে। ভোজ্যতেলটির মজুদ বাড়ায় আগামী ২০২৩-২৪ মৌসুমে সয়াবিনের আমদানি কমে দাঁড়াতে পারে ৩২ লাখ টনে।

সূর্যমুখী তেলের আমদানিও আগামী বছর দুই লাখ টন কমে যাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের ৩১ লাখ টন থেকে আগামী বছরের সম্ভাব্য আমদানি কমে দাঁড়াবে ২৯ লাখ টনে।

বাজোরিয়া মনে করেন, ১২-১৫ লাখ টন সয়াবিন এবং ১২-১৪ লাখ টন সরিষা মজুদের ফলে আগামী বছর ভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণ কমে আসবে। আর খালাস হওয়ার অপেক্ষায় বন্দরে আটকে থাকা ভোজ্যতেল বাজারে প্রবেশ করলে মজুদ ও সরবরাহের পরিমাণ আরো বাড়বে। সব মিলিয়ে আগামী বছর আমদানির পরিমাণ কমে আসবে।

চলতি বছর এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্কতম আগস্ট পার করেছে ভারত। এ মাসে দেশটির স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে ৩৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়ায় ভারতের সয়াবিন ও চীনাবাদামের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রিফাইনারিরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি বাড়িয়েছেন। আগামী বছর বৈরী আবহাওয়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত না হলে অভ্যন্তরীণ তেলবীজ উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




আমদানি করা হচ্ছে দুই কার্গো এলএনজি

দেশে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে পৃথক দুটি দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে দুই কার্গো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রতি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ করে দুই কার্গোতে মোট ৬৭ লাখ ২০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ২৪২ কোটি ৮০ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮০ টাকা।

সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যমান ও ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য রাস লাফ্ফান লিকুইডিফাইড ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি (কাতারগ্যাস) এবং ওমান ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের (বর্তমান নাম ওকিউটি) সঙ্গে দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম অনেক বাড়ায় ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ ছিল। চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। গ্যাসের ঘাটতির ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে বর্ধিত দামে হলেও গ্যাস সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে এলএনজি আমদানির বর্ধিত ব্যয় নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ১৪ টাকা ঘনমিটার, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ৩০ টাকা ঘনমিটার এবং বাণিজ্যিক (রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ৩০.৫০ টাকা ঘনমিটার নির্ধারণ করা হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা কার্যকর হয়েছে।

সিসিইএ সভার অনুমোদনক্রমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ (এমএসপিএ) চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। পেট্রোবাংলা এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য ২১টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করলে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে, যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির (পিপিসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৩.৭৭ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৫৯৫ কোটি ৪৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪০ টাকা।

সিসিইএ সভার অনুমোদনক্রমে অপর একটি প্রস্তাবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমএসপিএ চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। পেট্রোবাংলা এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য ২১টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করলে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে, যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির (পিপিসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪.৯৭ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৬৪৭ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৪০ টাকা।

এ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।




রপ্তানি অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

আমদানিতে অর্থ পাচার কমেছে। কিন্তু রপ্তানির মাধ্যমে ব্যাপকহারে বেড়েছে অর্থ পাচার। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানির অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত ব্যাংকার্স সভায় এ নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ছাড়াও সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের জানান, ওভার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে। সে বিষয়টা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি বিপুল অংকের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে নিতে বলা হয়।

বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির মূল্য বেশি দেখানো ওভার–ইনভয়েসিং এবং রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো হচ্ছে আন্ডার–ইনভয়েসিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ খেলাপি। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি।

মুখপাত্র বলেন, সম্প্রতি আমরা ব্যাংক ঋণের একক সুদের সীমা উঠিয়ে দিয়েছি এবং সেটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সব ব্যাংক। বৈশ্বিক সংকট এখনো বিদ্যমান থাকায় দেশের মূল্যস্ফীতিতে একটি চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলার সংকট। সব মিলিয়ে আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্র বলেন, যেসব ব্যাংক বাফেদা নির্ধারিত রেটের বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে তাদের অবজারভেশনের মধ্যে রেখেছি। নিশ্চই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমে এলেও ফাইনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টস ব্যালেন্স এখনো ঋণাত্মক। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দরে ডলার সংগ্রহ প্রতিরোধ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ভূমিকা এবং ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে রয়েছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, তারল্য সংকট আছে। তবে কিছু কিছু ব্যাংকে এই সমস্যা। সব ব্যাংকের সংকট নেই। ব্যাংকগুলোকে সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।