৫০ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বব্যাংক আইএমএফের বার্ষিক সভা

মরক্কোর মারাকাশ শহরে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা। গতকাল সোমবার মরক্কোর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় গ্লোবাল পার্লামেন্টারিয়ান ফোরামের বৈঠকের মধ্য দিয়ে এ সভা শুরু হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের ১৯০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাত ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা।

এবারও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পরিবর্তে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভাতেও যাননি অর্থমন্ত্রী। ওই সভাতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ৫০ বছর পর আফ্রিকার কোনো দেশে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৩ সালে আফ্রিকার আরেক দেশ কেনিয়ায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত মাসে মারাকাশে বড় ধরনের ভূমিকম্পে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় মরক্কোতে এবার বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সভা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত সভাটি আয়োজনের সিদ্ধান্তের নেয় দেশটির সরকার। কভিডের কারণে প্রায় তিন বছর পর ২০২২ সালে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সাল থেকে প্রতি বছর সাধারণত সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পরপর দুই বছর ওয়াশিংটনে হওয়ার পর তৃতীয় বছর অনুষ্ঠিত হয় অন্য কোনো সদস্য দেশে। বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যরা নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন এতে।




‘বাংলাদেশ আফ্রিকার ১৪০ কোটি মানুষকে টার্গেট করে কাজ করবে’

খুব শিগগিরই আফ্রিকার কিছু দেশে আমরা (বাংলাদেশ) ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ ও এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ শিফট করতে যাচ্ছি। মারিশাসকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার ১৪০ কোটি মানুষকে টার্গেট করে আমরা কাজ করবো।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এসব কথা বলেন।

ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসিনা শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল মোনায়েম এবং কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাশিহুল হক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যা পড়ি তার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্র্যাকটিক্যাল কাজের অনেক পার্থক্য রয়েছে। ইথিকস নিয়ে আমরা যেভাবে কাজ করতে চাই, বাস্তবতার নিরিখে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ওয়ার্ল্ডওয়াইড জিও পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে দেশের মন্ত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতেন বড় বড় ডোনেশন আনতে। যে মন্ত্রী যত বেশি বিদেশি সাহায্য আনতে পারতেন, তার ক্রেডিট তত বেশি হতো। বিশ্বের অনেক দেশ এখনো আমাদের বন্যা-খরা পীড়িত দারিদ্র্য দেশ হিসেবেই জানে। আমাদের দেশের কিছু পলিটিক্যাল মানুষ দেশের বিরুদ্ধেই বিদেশিদের কাছে বদনাম করে। এজন্য বিদেশিরাও আমাদের ছোট করে দেখে।

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আমরা যখন বিদেশিদের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলি তাঁরা অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না। পরে গুগলে অনুসন্ধান করে দেখে বিশ্বাস করে। আগামী মাসে আমরা প্যারিস, তুলুজ, বার্লিন এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ইনভেস্টমেন্ট সামিটের আয়োজন করছি। এ সামিটে ওসব দেশের দূতাবাসগুলো আমাদের সহযোগিতা করছে। একসময় আমরা প্যারিসে সাহায্য নিতে যেতাম। আর এখন আমরা সেখানে বিসনেস পার্টনার খুঁজতে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কখনো মিশন ভিশন ফেইল করেনি। আমরা যখন দারিদ্র্য দেশ ছিলাম তখন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধে আমরা ব্যর্থ হইনি। ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জনের যেই লক্ষ্য সেটিতেই আমরা ব্যর্থ হবো না।




আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারের অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আফ্রিকার তিনটি রাষ্ট্রসহ চারটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সুবিধার জন্য আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে চাই।’

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী ব্যস্ততার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন হোটেল রেডিশন ব্লু স্যান্ডটনে তার কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা পারস্পরিক সুবিধার জন্য দেশগুলোর কাছে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ও আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্যান্ডটন কনভেনশন সেন্টারে শেখ হাসিনা ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ফিলিপে জ্যাকিন্টো নিউসি, তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট ড. সায়মা সুল্লুহু এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

একই স্থানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দিলমা ভানা রুসেফের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মোমেন বলেন, বৈঠকে পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ব্রাজিল সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ৩০ বছর আগে বাংলাদেশের যশোরে এসেছিলেন উল্লেখ করে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন ব্যক্তিগতভাবে দেখতে আবারও এই দেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট রাইসি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনারা যে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তা দেখতে আমি বাংলাদেশে যেতে চাই।’

মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ফিলিপে জ্যাকিন্টো নিউসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী মোজাম্বিকের কাছ থেকে বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ চেয়েছেন।

নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দিলমা ভানা রুসেফ বাংলাদেশকে বিশেষকরে নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত প্রকল্পে সহায়তা প্রদানের জন্য তার সংস্থার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেছেন, ব্যাংকটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দিলমা ভানা রুসেফ বলেন, ‘আমি আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি যে যতদিন আমি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট থাকব ততদিন বাংলাদেশ নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের বর্তমান চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার আমন্ত্রণে ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ২২ আগস্ট জোহানেসবার্গে পৌঁছান।

ব্রিকস প্লাস সংলাপের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, উগান্ডার ভাইস-প্রেসিডেন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার উপ-প্রধানমন্ত্রী, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী ১৫তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে জোহানেসবার্গে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে ফটো সেশনেও যোগ দেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ২৬ আগস্ট জোহানেসবার্গ ত্যাগ করবেন এবং ২৭ আগস্ট সকালে ঢাকায় পৌঁছবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস।