বিজিএমইএর সঙ্গে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার (আইএমএফ) প্রতিনিধিদল। রোববার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ বৈঠক হয়েছে। তারা পোশাক খাতের সম্ভাবনাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বিজিএমইএ থেকে জানানো হয়েছে, আইএমএফের মিশন প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে সংস্থাটির প্রতিনিধিদল বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আইএমএফের প্রতিনিধিদলে রাহুল আনন্দের সঙ্গে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তারা হলেন—বাংলাদেশ ও ভুটানে আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জায়েন্দু দে, ক্রিস পাপাইওরগিও, ডিভিশন চিফ পিয়াপর্ন সোদশ্রিবিবুন, ডেপুটি ডিভিশন চিফ এস্টেল জু লিউ, সিনিয়র ইকোনমিস্ট সিওক হিউন ইউন, সুফাছল সুফাচালশাই ও রিচার্ড ভার্গিস।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিজিএমইএর পরিচালক আসিফ আশরাফ, পরিচালক নীলা হোসনে আরা, বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন লেবার অ্যান্ড আইএলও অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান আ ন ম সাইফুদ্দিন এবং স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফরেন মিশন সেলের চেয়ারম্যান শামস মাহমুদ।

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং দেশের রপ্তানি পারফরম্যান্সের ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রভাব প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এই গ্র্যাজুয়েশনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়। এলডিসি-পরবর্তী যুগে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপরও জোর দেওয়া হয় বৈঠকে।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান আইএমএফের প্রতিনিধিদলকে পোশাক শিল্পের টেকসই কৌশল ২০৩০ বিষয়ে অবহিত করে বলেন, এই রূপকল্পের লক্ষ্য হলো— বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রেখে আরও টেকসই উপায়ে পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।

তিনি পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসাধারণ অগ্রগতির কথা বলেন, যার মধ্যে রয়েছে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং সার্কুলার ইকোনমিসহ আরো উৎকর্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উচ্চতর প্রবৃদ্ধির রূপকল্পের আলোকে মূল্য সংযোজন আইটেম, বিশেষ করে নন-কটন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।




ছয় মাসে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আগস্টে

সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে কমেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। গেল মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ও ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। দেশের প্রবাসী আয়ের এ অংক গত ছয় মাসে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে খোলা বাজারে যখন ডলারের দামের ব্যবধান বেশে হয় তখন হুন্ডি বেড়ে যায়। আর যখন হুন্ডির চাহিদা বাড়ে তখন রেমিট্যান্স কমে যায়। গত মাসে ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে ডলারের দাম ৫ থেকে ৬ বেশি ছিল। তাই বেশি লাভের আশায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী আগস্টে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এ অংক আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ৪৩ কোটি ৭৪ লাখ বা ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম। গত বছরের আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

এছাড়া আগের মাস জুলাইয়ে তুলনায়ও আগস্টে প্রবাসী আয় কমেছে। গত জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। অর্থাৎ জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার বা ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

আগস্টে মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতো ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। আলোচিত সময় ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ডলার। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ১২ কোটি ৭৪ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকে ৮ কোটি ৯২ লাখ, আল-আরাফা ব্যাংকে এসেছে ৭ কোটি ৩৩ লাখ এবং জনতা ব্যাংকে এসেছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

ডলার সংকট ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয় এবং আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে ব্যাংকগুলো। এখন প্রবাসী আয়ে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দাম দিচ্ছে। রপ্তানি বিল নগদায়নে প্রতি ডলারের বিপরীতে দাম দিচ্ছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা এবং আমদানি ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা।

প্রকৃত রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নিয়মে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত রিজার্ভ ২ হাজার ৩৩০ কোটি (২৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন) ডলার।

সবশেষ গত ২৬ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভ আছে ২ হাজার ৯২০ কোটি ডলার (২৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার। তবে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী- আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রকৃত রিজার্ভে ৬১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রকৃত রিজার্ভ নেমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে। প্রতি মাসে ৬ বিলিয়ন ডলার হিসাবে এ রিজার্ভ দিয়ে ৪ মাসের কম আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে বাংলাদেশ।

সারা বিশ্বে প্রচলিত ও বহুলব্যবহৃত আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম ৬) অনুযায়ী, রিজার্ভ গণনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত বিভিন্ন তহবিলের পাশাপাশি বিমানের জন্য প্রদত্ত ঋণ গ্যারান্টি, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ঋণ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকে আমানত এবং নির্দিষ্ট গ্রেডের নিচে থাকা সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত নয়। এসব খাতে বর্তমানে রিজার্ভ থেকে ৬৩৭ কোটি ডলার দেওয়া আছে, যা বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়েছে।