জুনেই পাওয়া যাবে আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির টাকা: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের তৃতীয় কিস্তির টাকা জুনেই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রোববার (২৬ মে) দুপুরে সচিবালয়ে আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক ড. কৃষ্ণমূর্তি ভি সুব্রামানিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে ডলারের প্রবাহটা বাড়ানো যায়। এখানে অনেক নেগোসিয়েশন আছে। আমরা যেটা আশা করছি এই সমস্যাটি আমরা সমাধান করতে পারব। আমরা কাজ করছি। আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, ‘আপনারা সঠিক পথে আছেন। আপনারা যে কাজ করছেন সমস্যা সমাধানে সেটাতে আমাদের সমর্থন আছে।’

জুনে আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুন মাসেই তারা দেবে। সেখানে বাধা তো নেই।




আইএমএফের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত আজ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব আজ মঙ্গলবার সংস্থাটির বোর্ড সভায় উঠবে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ওয়াংশিটনে অবস্থিত আইএমএফ কার্যালয়ে এই সভা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছাড় করেছিল।

গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় আইএমএফের পর্ষদ। ঋণের শর্ত অনুযায়ী সাত কিস্তিতে ৪২ মাসে এ ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে। ঋণের গড় সুদের হার ২ দশমিক ২ শতাংশ।

এদিকে, আইএমএফ-এর বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ঋণ প্রস্তাবের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কারও ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের প্রস্তাব উঠছে বলে জানা গেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আলোচ্য প্যাকেজে দুই ধরনের ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে বর্ধিত ঋণ সহায়তা বা বর্ধিত তহবিল (ইসিএফ অ্যান্ড ইএফএফ) থেকে পাওয়া যাবে ৩৩০ কোটি ডলার। রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় পাওয়া যাবে ১৪০ কোটি ডলার। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ ঋণ কর্মসূচি চলাকালীন বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের শর্ত পরিপালন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঋণ পাওয়ার জন্য আইএমএফ বাংলাদেশকে কোয়ান্টিটেটিভ পারফরম্যান্স ক্রাইটেরিয়া (কিউপিসি) বা পরিমাণগত কর্মসক্ষমতার মানদণ্ড, ইন্ডিকেটিভ টার্গেটস (আইটি) বা নির্দেশক লক্ষ্য এবং স্ট্রাকচারাল বেঞ্চমার্ক (এসবি) বা কাঠামোগত মাপকাঠি পূরণের শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর), প্রাইমারি ব্যালান্স ও এক্সটার্নাল পেমেন্টস এরিয়ার্স সংক্রান্ত শর্তগুলো কিউপিসির আওতাভুক্ত।

সূত্র জানায়, নিট রিজার্ভ-সংক্রান্ত শর্ত এখনো পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্দেশক হিসেবে কর রাজস্ব, সামাজিক খাতে সরকারের ব্যয় ও সরকারের মূলধনি বিনিয়োগ সংক্রান্ত কিছু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল আইএমএফ।

অন্যদিকে, লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজস্বও আহরণ করতে পারেনি এনবিআর।

আইএমএফের শর্তে গত জুনের মধ্যে কর-জিডিপির অনুপাত দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ, বিপিএম৬ অনুসারে রিজার্ভের হিসাবায়ন, বাজারভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রার দর নির্ধারণ, ব্যাংকের পাইলট রিস্কভিত্তিক নজরদারির কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের তথ্য প্রকাশের কথা বলা হয়েছিল।

এছাড়া জুলাইয়ের মধ্যে সুদহারে করিডোর পদ্ধতি গ্রহণেরও শর্ত দিয়েছিল সংস্থাটি। শর্ত ছিল সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন ও ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের খসড়া জমা দেওয়ারও। এছাড়া সেপ্টেম্বর শেষে জলবায়ু ও সবুজ উদ্যোগকে সংহত করতে টেকসই সরকারি কেনাকাটার নীতি গ্রহণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের শর্ত ছিল। ঋণ কর্মসূচিতে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি পণ্যের দাম সমন্বয়ে সময়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নির্ধারণেরও শর্ত দেওয়া হয়।

আইএমএফের এশীয় ও প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে গত ৪ থেকে ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে সংস্থাটির রিভিউ মিশন সম্পন্ন হয়। মিশন শেষে এক বিবৃতিতে রাহুল আনন্দ বলেন, প্রথম কিস্তির রিভিউ সম্পন্ন করার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইএমএফ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য সংস্কার করেছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিদ্যমান ঝুঁকি এবং বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতে ক্রমাগত সুদহার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। এর ফলে চাপে পড়েছে স্থানীয় মুদ্রা টাকার বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদি নীতি অগ্রাধিকারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নাজুক জনগোষ্ঠীর ওপর এসব অর্থনৈতিক দুর্বিপাকের প্রভাবকে সহনীয় করা এবং বহিস্থ প্রভাবকের অভিঘাত মোকাবিলায় সহনশীলতা তৈরিতে জোর দিতে হবে।

প্রথম রিভিউ সম্পন্ন হলে এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ)-এর আওতায় ৪৬ লাখ ২০ হাজার ডলার (কোটার ৩৩ শতাংশ) এবং রেসিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় ২১ কোটি ৯০ লাখ ডলার (কোটার ১৫.৮ শতাংশ) ছাড় করা হবে।

বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের ঋণ অনুমোদন করা হয় গত জানুয়ারিতে। অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তারা জানান, বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে মঙ্গলবার বাংলাদেশের জন্য ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ আইএমএফ’র বোর্ড সভায় অনুমোদন বিষয়টি নিশ্চিত।




আইএমএফ ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির শর্তে ছাড়

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর প্রতিশ্রুত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত দিয়েছিল সেগুলো থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন করতে সম্মত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রিজার্ভ অর্জন এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অন্যতম।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) মিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় অংশ নেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সভায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা বিষয়গুলো তুলে ধরলে আইএমএফ মিশন কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে সূত্র জানায়।

ঢাকায় সফররত আইএমএফ মিশনের সঙ্গে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঋণদাতা সংস্থাটি বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার কমিয়ে ২০২৪ সালের জুন নাগাদ ২০.১৯ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ গঠনের নতুন লক্ষ্যমাত্রা দিতে পারে।

পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ যখন পশ্চিমা দেশগুলোয় চাহিদা কমে যাওয়ার সম্মুখীন; মূল্যস্ফীতি ও সার, জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় যখন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে তার মধ্যেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় এ অগ্রগতি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে, এছাড়াও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশি টাকার ৩৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন ঘটেছে।

সভায় আইএমএফ মিশন চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারকে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল, সেটিও কমাতে রাজি হয়েছে। তবে সরকারের প্রাইমারি ব্যালেন্স বাড়ানোর কথা বলেছে আইএমএফ।

চলতি বছরের শুরুতে আইএমএফ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২৫.৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিট বা প্রকৃত বৈদেশিক রিজার্ভ গঠনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু, আইএমএফের রিজার্ভ হিসাব করার পদ্ধতির ষষ্ঠ সংস্করণ বিপিএম৬ অনুযায়ী, বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২১.১৫ বিলিয়ন ডলার। নিট হিসাব করলে এই পরিমাণ আরও কমে ১৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী বছরের জুন নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ২৬.৮১ বিলিয়ন ডলার রাখার শর্ত দিয়েছিলো আইএমএফ। আগের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে তা থেকে কমিয়ে জুন নাগাদ তা ২০.১৯ বিলিয়ন ডলার করার বিষয়ে রাজি হয়েছে আইএমএফ। এই সংশোধন বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

মঙ্গলবার মিশনের সঙ্গে সভার আগে অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার যেসব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে আইএমএফের শর্ত পরিপালন করতে হচ্ছে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করেন। সেখানে আগামী জুনের মধ্যে সংস্থাগুলো তাদের সংশ্লিষ্ট টার্গেট কতটা অর্জন করতে পারবে, তা জানতে চান তিনি। সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে দুপুরে আইএমএফ মিশনের সঙ্গে সভায় অংশ নেন অর্থ সচিব। সেখানে রিজার্ভ, রাজস্ব আয় ও সরকারের প্রাইমারি ব্যালেন্স নিয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আইএমএফ মিশনের সঙ্গে সভায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি কর্মকর্তারা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, জরুরি আমদানির ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বিবেচনায় আগামী বছরের জুন নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রা মজুতের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে এটি কমাতে সম্মতি হয়েছে আইএমএফ।




রিজার্ভের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের ইঙ্গিত আইএমএফের

বেঁধে দেওয়া লক্ষ্য পূরণ করতে না পারায় রিজার্ভ নিয়ে অসন্তুষ্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ঢাকা সফররত দাতা-সংস্থার প্রতিনিধিদল এ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে রিজার্ভ নিয়ে তাদের মতামত বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করেছে।

আইএমএফ প্রতিনিধিদলের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রিজার্ভের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে তা চেষ্টা করেও পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এজন্য রিজার্ভে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে, গভর্নর না থাকায় ভারপ্রাপ্ত গভর্নর এ বিষয়ে মতামত জানাতে পারেননি। প্রতিনিধিদল বর্তমান লক্ষ্য মাত্রা ২৫ বিলিয়ন থেকে আগামী ডিসেম্বর ও মার্চের জন্য কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব কথা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ও এক নম্বর ডেপুটি গভর্নর কাজী সায়েদুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের, সাজেদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক সূত্র জানায়, আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের আগে আগের শর্তানুযায়ী বৈঠক করছে সংস্থাটির সদস্যরা। রিজার্ভ, বাজারভিত্তিক ডলারে রেট, ঋণখেলাপি, রাজস্ব সংস্কার, তারল্য ব্যবস্থাপনাসহ ৪৭ শর্তে আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়। বাংলাদেশ অধিকাংশ শর্ত পূরণ করতে পারলেও রিজার্ভে উন্নতি, কর-জিডিপি অনুপাত এবং বাজারভিত্তিক ডলার রেট করতে ব্যর্থ হয়। এসব বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বাস্তবতার আলোকে শর্তপূরণে আরও সময় পেতে পারে বাংলাদেশ।

আইএমএফের শর্তানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভের (এনআইআর) পরিমাণ ২৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রাখার কথা ছিল। জুলাইয়ের জন্য ছিল ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। তবে, আজ বুধবার রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার। আর সেখান থেকে অন্যান্য দায় বাদ দিলে রিজার্ভ ১৮ বিলিয়নের নিচে নেমে যায়।

বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মাসুদ বিশ্বাস। বিশেষ কারণে তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এ কারণে তার বিষয়গুলো নিয়ে আইএমএফ কোনো প্রশ্ন করেননি। একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএফআইইউ কার্যক্রম ও দেশের অর্থপাচার রোধে সংস্থাটি কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে আইএমএফের পক্ষ থেকে।

আইএমএফের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে গভর্নরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় একাধিক দল অংশ নেয়। আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিশদ আলোচনার মধ্যদিয়ে শেষ হবে।’

দেশের ব্যাংক, রাজস্ব ও পুঁজিবাজারসহ মোট ৪৭টি সংস্কার প্রস্তাবের দেয় দাতা সংস্থাটি। সংস্কার প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবি ধাপে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। যার প্রথম কিস্তির অর্থছাড় করে গত ফেব্রুয়ারিতে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ নভেম্বরে মিলবে এমন আভাস সংশ্লিষ্টদের।

 




ভর্তুকি কমিয়ে আনতে বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম

আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণপ্রাপ্তির শর্তানুযায়ী আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে বিদ্যুতের দাম বাড়নোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইএমএফের ঋণের বিপরীতে সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে ৫ শতাংশ। চলতি মাসে কিংবা আগামী মাসের যেকোনো সময় দাম বাড়ানোর ঘোষণা হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, লোকসান কমাতে বিতরণ সংস্থাগুলোও ভোক্তা পর্যায়ে ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির জন্য পিডিবির কাছে আবেদন করে। সে ভিত্তিতেই ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সে ভর্তুকির পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সরকার বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয় করতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, চলতি মাস কিংবা আগামী জুনে আরেক দফা বাড়ানো হবে বিদ্যুতের দাম। এর আগে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত গ্রাহকপর্যায়ে তিন ধাপে পাঁচ শতাংশ হারে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম নতুন করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। আর খুচরায় বাড়তে পারে ৫ শতাংশের মতো। দাম বাড়ানোর বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হবে উচ্চপর্যায় থেকে।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ভর্তুকি ছাড় করেছে ১৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এটি ২০২১-২২ অর্থবছরের ভর্তুকি হিসেবে পেয়েছে তারা। একই অর্থবছরের জন্য আগে পেয়েছে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভর্তুকির কোনো টাকা এখনো পাওয়া যায়নি। পিডিবি ভর্তুকি চাহিদা জানিয়ে চিঠি দিলেও টাকা ছাড় করতে দেরি করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহ-সভাপতি এম শামসুল আলম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মে ব্যয় বাড়ছে। আর এটি চাপানো হচ্ছে ভোক্তার ওপর। এখন বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানো হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির কারণে বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হবে। সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় সমন্বয় না করে মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, আইএমএফের শর্ত পরিপালনের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতগুলোতে সরকারি ব্যয় বাড়াতে সার ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে ভর্তুকি কমানোর জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক ভর্তুকি আইএমএফ নির্ধারিত সীমায় আটকে রাখতেই সরকার ইতোমধ্যে সারের দাম বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়। জ্বালানি তেলের মূল্য আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই তিন মাস পরপর আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে নিট ভর্তুকির পরিমাণও কমিয়ে আনা হবে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রিজার্ভ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্ষেত্রে আইএমএফের শর্তপূরণে কি ধরনের সমস্যা তা জানাতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকার সরে আসতে চায়। শিল্প খাতেও বাড়তি গ্যাস দরকার। এ কারণে আমদানি বাড়াতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয় করা প্রয়োজন।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, তেল ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুনঃনির্ধারণ এবং সমন্বয়ে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রেখে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০২৩ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

এর আগে আইন সংশোধন করে গত ১ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন), অধ্যাদেশ, ২০২২’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এর মধ্যদিয়ে বিশেষ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সরাসরি বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা যায় সরকারের হাতে।

গত ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি করে বিইআরসি। এরপরই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির আবেদন করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি গণশুনানি করে বিইআরসি। কিন্তু গণশুনানি শেষে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাহী আদেশে কয়েক দফায় ১৫ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়।

এর আগে গত নভেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় প্রায় ২০ শতাংশ (কার্যকর হয় ডিসেম্বর থেকে)। এটি সমন্বয়ে ১২ জানুয়ারি ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে গত ১৪ বছরে পাইকারি পর্যায়ে ১০ বার ও খুচরায় ১১ বার বেড়েছে বিদ্যুতের দাম।




বাংলাদেশ আইএমএফের ঋণ নিয়েছে কিছুটা স্বস্তির জন্য  : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ কিছুটা স্বস্তির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে, এমনটাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে দ্য রিজ-কার্লটন হোটেলের সভাকক্ষে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈশ্বিক ঋণ দাতা সংস্থা আইএমএফও ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘আমরা কিছুটা স্বস্তির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি।’

আইএমএফ সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্যে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন দেয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন আইএমএফের প্রধান যা কোভিড-১৯ মহামারির পরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে তুলেছে।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উদ্ধৃত করে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল (সামগ্রিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে) কারণ, দেশটি এমনকি করোনা মহামারির পরও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে।’

আইএমএফ প্রধান আরও বলেছেন, সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন ও দক্ষ যোগাযোগ এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এছাড়া, ক্রিস্টালিনা কোভিড-১৯ মহামারিকালে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখারও প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের নানা উদ্যোগ সম্পর্কে আইএমএফ প্রধানকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন একদিনে হয়নি বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল।’

শেখ হাসিনা বলেন, পট পরিবর্তনের পর কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি যেভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন চেয়েছেন সেভাবে তার পরিকল্পনা করেন এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন> জাপান দীর্ঘকালের পরীক্ষিত বন্ধু, হৃদয়ের খুব কাছের: প্রধানমন্ত্রী

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের পদক্ষেপ সম্পর্কে আইএমএফ প্রধানকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় আইএমএফের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে আশা করেন।

ব্রিফিং চলাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ বলেন, গত ১৪ বছরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইএমএফ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে এবং কখনই এর থেকে বিচ্যুত হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে কাজ করছে যা বাংলাদেশ মাত্র দু’সপ্তাহের আলোচনার মাধ্যমে পেয়েছে, যদিও অনেক দেশ বছরে পর বছর ধরে আলোচনা চালিয়েও পায় না।

আইএমএফ প্রধানকে উদ্ধৃত করে রউফ বলেন, ‘আইএমএফ ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খানও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।




২০২৩ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩% এর নিচে নামবে: আইএমএফ প্রধান

উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতে ক্রমাগত মন্দার কারণে এই বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি তিন শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সাথে, মুদ্রাস্ফীতির এখনও উচ্চতর গতির কারণে একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধার অধরা রয়ে গেছে।

ওয়াশিংটনে এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, এটা প্রত্যেকের সম্ভাবনার ক্ষতি করে, বিশেষ করে সবচেয়ে দুর্বল মানুষ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য।

কোভিড মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্ব অর্থনীতি আবার টালমাটাল হয়। এতে গত বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেক হয়ে ৩.৪ শতাংশে নেমে আসে।

যদিও এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোর অর্থনৈতিক শক্তি যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, ভারত এবং চীন এই বছরের সমস্ত প্রবৃদ্ধির অর্ধেক হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্বের প্রবৃদ্ধি সম্ভবত আগামী অর্ধ-দশকের জন্য প্রায় তিন শতাংশে থাকবে, যা ১৯৯০ এর দশকের পর থেকে সর্বনিম্ন মধ্যমেয়াদি পূর্বাভাস।