পূর্বাচলে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাসব্যাপী ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৪ উদ্বোধন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর উপকণ্ঠে পূর্বাচল নিউ টাউনে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান।

অনুষ্ঠানে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে গত ১৫ বছরে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

মেলায় স্থানীয় টেক্সটাইল, মেশিনারিজ, কার্পেট, প্রসাধনী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, গৃহস্থালীর পণ্য, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, খেলাধুলার সামগ্রী, স্যানিটারি সামগ্রী, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, ভেষজ সামগ্রী, টয়লেট্রিস, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, হস্তশিল্প, গৃহসজ্জা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য পণ্য প্রদর্শিত এবং বিক্রি হবে।
তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ইরানের কোম্পানিগুলো এ বছর তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। মেলায় বিদেশি কোম্পানির ১৬-১৮টি প্যাভিলিয়নসহ ৩৫১টি স্টল রয়েছে।

মেলায় প্রবেশ মূল্য সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
মেলা সকাল ১০টায় খোলা হবে এবং সপ্তাহের দিনগুলোতে রাত ৯টায় বন্ধ হবে। সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে দর্শনার্থীরা রাত ১০ টা পর্যন্ত মেলায় থাকতে পারবেন।

মেলায় যাতায়াতের সুবিধার্থে ফার্মগেট থেকে মেট্রোরেল এবং এলিভেট এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সংযোগের জন্য বাস পাওয়া যাবে।




বাণিজ্য মেলা শুরু ২১ জানুয়ারি

মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। গতবারের মতো এবারও রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়দার আলী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করবেন। পূর্বাচলে বিবিসিএফইসিতে মাসব্যাপী চলবে এ মেলা। রাজধানীতে এটি বাণিজ্য মেলার ২৮তম আসর। আর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু এক্সিবিশন সেন্টারে তৃতীয়। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলে স্থায়ী কেন্দ্রে বাণিজ্য মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন এবং উৎপাদনে সহায়তার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ মেলা হতো শেরেবাংলা নগরে। কোভিড মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলার আয়োজন করা যায়নি। এরপর মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে ২০২২ সালে প্রথমবার বাণিজ্য মেলা চলে যায় পূর্বাচলে বিবিসিএফইসিতে। এবার তৃতীয়বারের মতো স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চীন এক্সিবিশন সেন্টারে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্য মেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে।




মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এবং বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিয়েছে চারটি বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ দূতাবাস, ইয়াঙ্গুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, গত ২০ থেকে ২২ ডিসেম্বর মান্দালয় আঞ্চলিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমআরসিসিআই) উদ্যোগে মিয়ানমারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এবং বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমারে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। মান্দালয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য সংযোগস্থল এবং এর শিল্প ব্যবস্থা এই অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সহায়ক।

বাংলাদেশের চারটি কোম্পানি, এএনজে অ্যাপেক্স কনসালটেন্সি সার্ভিসেস লিমিটেড, রোশনি মিয়ানমার কোম্পানি লিমিটেড, ফার্স্ট গ্রিনহিল লজিস্টিকস লিমিটেড এবং সিএফ গ্লোবাল মেলায় নিজেদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। এসব প্রতিষ্ঠান মোবাইল টাওয়ার নির্মাণে লজিস্টিকস এবং সাপ্লাই চেইন, অ্যাক্রেডিটেশন ও সার্টিফিকেশন সেবা দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর শাহেদুল আকবর খান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মেলায় অংশগ্রহণ সমন্বয় সাধন করেন। এই সম্মেলনের অংশ হিসেবে কৃষি ও গবাদিপশু বিষয়ক ফোরাম এবং পর্যটন ও জ্বালানী বিষয়ক ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। মিয়ানমারে দায়িত্বরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেন কৃষি ও গবাদিপশু বিষয়ক ফোরামে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পরিপূরক কৃষিপণ্য ও কৃষি প্রযুক্তি বিনিময়ের তুলনামূলক সুবিধা আলোচনা করেন।

মেলায় বাংলাদেশ, চিন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, হংকং ও তাইওয়ানের ২৬২টি ব্যবসা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের স্টল নির্মাণ করা হয়। প্রদর্শিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য, কৃষিপণ্য, লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট পণ্য এবং কৃষি যন্ত্রপাতি।

মান্দালয় ট্রেড ফেয়ার-২০২৩ এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মিয়ানমারে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন পথ উন্মোচনে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং দুই দেশের শিল্প ক্ষেত্রে যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা যায়।




নির্বাচনের কারণে পেছাল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠানের তারিখ পেছানো হয়েছে। জাতীয় এসএমই মেলা আয়োজনও পিছিয়েছে। সাধারণত নতুন বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর মেলা শুরু হতে পারে তৃতীয় সপ্তাহে। প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

জানা গেছে, ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর ইপিবিতে বৈঠক হয়। নির্বাচনের আগে মেলা পরিচালনা, ক্রেতা সমাগম ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের যে কোনো দিন মেলা শুরু করা যায় বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঠিক কবে থেকে মেলা শুরু করা যায়, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর।

ইপিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেলার প্রস্তুতি হিসেবে মূল ফটক, টিকিটিং বুথ নির্মাণসহ সব কাজের টেন্ডার বা ইজারা প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের কাজ চলছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বুকিং দিয়েছে। তবে এবার স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা বাড়ছে না। গত বছরের মতোই থাকছে।

ইপিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হালিম সমকালকে বলেন, এবার নির্বাচনের কারণে ১ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্য মেলা শুরু হচ্ছে না। ২০২৪ সালের জানুয়ারির ২০ বা ২২ তারিখের দিকে মেলা শুরু করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এখনও চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

দুই বছর ধরে রাজধানীর নিকটবর্তী এলাকা পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে (বিবিসিএফইসি) ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী বছর সেখানে তৃতীয়বারের মতো মেলা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর দেশ-বিদেশের ৩৩১টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন মেলায় অংশ নেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ১০টি দেশের ব্যবসায়ীরা মেলায় পণ্য প্রদর্শন করেন।

এসএমই মেলা হতে পারে ২৯ ফেব্রুয়ারি
রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের অন্যতম বড় আসর জাতীয় এসএমই পণ্য মেলাও পেছানো হয়েছে। চলতি বছরের ৫ থেকে ১১ নভেম্বর ১১তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিকভাবে মেলা শুরুর জন্য আগামী বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারিকে বিবেচনায় রেখেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, নির্বাচনের কারণে মেলার সময় পরিবর্তন করতে হয়েছে। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।