গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় সেই ভারতীয় নাগরিক ফের রিমান্ডে

বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন ও হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল মোমেন মিয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার রবিউলকে দুই দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। গত ১ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় মামলায় দশ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামির জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়িবোজ গ্রামে। তাকে ডিএমপির একটি জিডির সূত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে টিএফআই সেল-এর মাধ্যমে তাকে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

​জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, রবিউল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্মতারিখে অমিল রয়েছে। সে ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা রয়েছে।

আসামি জানায়, সে প্রায় ১০–১২ বছর ধরে একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করছে। কখনও ট্যুরিস্ট আবার কখনও বিজনেস ভিসায় সে দেশে প্রবেশ করত। তবে মূলত পর্যটন ও ব্যবসায়ের আড়ালে সে গুপ্তচরবৃত্তি চালাত এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করত বলে জানা যায়।

​তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, আসামি গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থপরিপন্থি কাজ চালায়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি তোলা, স্পর্শকাতর নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছিল, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

​আসামির বিরুদ্ধে দ্য অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর পৃথক ধারায় অপরাধ প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা বাংলাদেশবিরোধী কোনো বড় চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করছিল কিনা, তা যাচাই এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে নিবিড় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়।




একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন। রায়ে সাইফুর রহমানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে।

এ ছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপর একটি ধারায় তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রবিউল হাসান ওরফে ইসলাম, মাহফুজ রহমান মাসুম, মো. আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল এবং মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে বিচারক ৯১ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ পড়ে শোনান।

এর আগে গত ৮ জুলাই আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন নির্যাতিত তরুণী ও তার স্বামী, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে কয়েকজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।




সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাসহ ৪ জনের কারাদণ্ড

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার নাইমুল ইসলামসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

অপর আসামিরা হলেন সোনালী ব্যাংকের হিসাবধারী রফিকুল ইসলাম, আল আমিন ও লিপি বেগম।

রায়ে আসামি নাইমুলকে দুটি পৃথক ধারায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ৮১ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। এ ছাড়া অপর ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সাজা দেওয়া হয়। অপর তিন আসামিকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৮১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আসামি নাইমুল ও রফিকুলকে মঙ্গলবার কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। উপস্থিত হন জামিনে থাকা আল আমিনও। এ ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় আসামি লিপির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ২১ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে ১ কোটি ১৯ লাখ ১৯ হাজার ২০৪ টাকা নির্ধারিত হিসাবে জমা না করে চারটি হিসাবে পরস্পর যোগসাজশে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৩ জুন সোনালী ব্যাংকের ওয়াপদা ভবন করপোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।