মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক

ঢাকায় মার্কিন (যুক্তরাষ্ট্র) দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে।

রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে এ বৈঠক হয়। বিএসইসি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর জন ফে ও কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়া। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম ও পরিচালক ফারহানা ফারুকী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়ে মতামত বিনিময় হয়। আলোচনায় পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয়দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় পুঁজিবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিতকরণ এবং তাদের পোর্টফোলিও বিনিয়োগের বৃদ্ধি নিশ্চিতে করণীয় সম্পর্কে এ সময় আলোচনা হয়। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য জনপ্রিয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

এ সময় উপস্থিত সবাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে একসাথে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে একটি প্রাণবন্ত, গতিশীল ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার সৃষ্টিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় আগামী বছরে বিএসইসি ও বিডার যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি রোড শো আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় ডিএসইর প্রাযুক্তিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নাসডাক টেকনোলজি এবি তথা নাসডাক ওএমএক্স গ্রুপের সহায়তায় পরিচালিত কার্যক্রম আলোচিত হয়। এছাড়াও পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রশমনে আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশকয়েকটি কোম্পানির সাথে বৈঠকের বিষয়টি সভায় নির্দিষ্ট করা হয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যেও অন্যতম। বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসারে দু’দেশের আগ্রহ ও উদ্যোগের ফলে আগামীতে দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার আরও গতিশীলতা পাবে এবং সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের পুঁজিবাজার প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত রূপ লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




আগারগাঁও-মতিঝিল অংশের মেট্রোরেল চালু ২০ অক্টোবর

২০ অক্টোবর মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওইদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

রবিবার সচিবালয়ে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ২ সেপ্টেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাওলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার খুলে দেওয়া হবে। ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে টানেলের অপরপ্রান্তে আনোয়ারায় সুধী সমাবেশ হবে।’

এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেস উদ্বোধন উপলক্ষে সেদিন পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সুধী সমাবেশ হবে। এই সমাবেশ মহাসমাবেশ রূপ নেবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৬ সেপ্টেম্বর এমআরটি লাইন ৫ নর্দান রোডের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হবে। এ উপলক্ষে সাভারে সুধী সমাবেশ হবে।’

‘২০ অক্টোবর মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন করা হবে উল্লেখ করে ‍তিনি বলেন, ‘এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ হবে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের বিভিন্ন সভাসমাবেশ চলবে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘২২ অক্টোবর তেজগাঁওয়ে নবনির্মিত সড়ক ভবন থেকে ১৪০টি সেতু, ১২টি ওভারপাস উদ্বোধন করা হবে। ভেহিক্যাল ইন্সপেক্টর সেন্টার উদ্বোধন করা হবে। এটিও উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

সংবাদ সম্মেরনে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম নুরুল আমিন উল্লাহ নুরী, সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।