১৫ লাখ টাকা জরিমানার মুখে আইসিবি

ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড পরিচালিত ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড থেকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে দুটি কোম্পানিতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেডে দেড় কোটি টাকা এবং এএফসি হেলথ লিমিটেডে ৬ কোটি টাকা বিধি-বহির্ভূত বিনিয়োগ হয়েছে।

ওই বিনিয়োগে মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কমিশন।

বুধবার (৬ মে) বিএসইসি পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার সংস্থার চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০১২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়, মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি থেকে বিধি-বহির্ভূত বিনিয়োগ হওয়ায় ফান্ডটির ইউনিটধারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে ট্রাস্টি হিসেবে আইসিবি যথাযথ তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিনিয়োগগুলোর বিপরীতে হঠাৎ করে ৯৯ শতাংশ প্রভিশন রাখা হলেও তা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরেনি নিরীক্ষক মালেক সিদ্দিকী ওয়ালী অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। তাই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) পাঠানো সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।




আইসিবির নতুন এমডি নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ। তিনি এর আগে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

তথ্য মতে, নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ ১৯৯৭ সালে বেসিক ব্যাংকে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেতে পেতে তিনি ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা পদে আসীন হন। ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে পদোন্নতি দিয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস থেকে সিএমএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথের আগে আবুল হোসেন আইসিবির এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




ঋণের ৩ হাজার কোটি টাকা পেলো আইসিবি

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রায়াত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) সরকারের গ্যারান্টিতে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) মঞ্জুরীকৃত ঋণের অর্থ আইসিবির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে।

জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে গত ১৩ নভেম্বরে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ ও উচ্চ সুদ হারে গৃহীত আমানত ও ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নিজস্ব বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়।

গত ৩ ডিসেম্বর ঋণের সুদ হার পরিবর্তনপূর্বক ব্যাংক রেট নির্ধারণ করা হয় এবং ১২ ডিসেম্বর আইসিবির ব্যাংক হিসাবে মঞ্জুরীকৃত ঋণের অর্থ জমা হয়েছে।

এর আগে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও ঋণশোধের জন্য সাভরেন গ্যারান্টির বিপরীতে আইসিবিকে স্বল্প সুদ হারে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ ছাড় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ৪টি ব্যাংকের মাধ্যমে এই টাকা দিবে আইসিবিকে। এর মধ্যে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৭০০ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে ৮০০ কোটি টাকা। ৪ শতাংশ সুদে নেওয়া ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি এই অর্থ দিয়ে পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করা হবে। সুদ-আসলে ঋণ পরিশোধের জন্য দেড় বছর বা ১৮ মাস সময় পাবে আইসিবি। এই ঋণের গ্যারান্টি দিয়েছে সরকার।




আইসিবির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ৮৭ পয়সা লোকসান হয়েছে। গতবছর প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৭৩ পয়সা লোকসান হয়েছিল।

আলোচিত প্রান্তিকে কোম্পানিটির ক্যাশ ফ্লো ছিল মাইনাস ১ টাকা ৮০ পয়সা, যা গত বছর একই সময়ে মাইনাস ৭২ পয়সা ছিল।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৫১ টাকা ০৮ পয়সা।

অর্থসূচক/




৩ হাজার কোটি টাকার সভরেন গ্যারান্টি পেল আইসিবি

পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ৩ হাজার কোটি টাকার সভরেন গ্যারান্টি দিয়েছে সরকার। এ ঋণ গ্যারান্টি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য যে কোনো ঋণদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবে আইসিবি।

রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি মূলত পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিয়ে থাকে। পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে সংকট কাটাতে সহযোগিতা করে। এ ঋণ পাওয়ার ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য সহায়তা দিতে সক্ষম হবে আইসিবি। ফলে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সভরেন গ্যারান্টির অর্থ হচ্ছে, এ ঋণের বিপরীতে রাষ্ট্র গ্যারান্টার হিসেবে থাকবে।

সভরেন গ্যারান্টির বিষয়ে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এই টাকাটা প্রয়োজনের তুলনায় খুব বেশি নয়। পুঁজিবাজার আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে সময় অন্যান্য ব্যাংকের মতো আইসিবিতেও এক ধরনের লুট হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার নামে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ এনে আইসিবি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন যে টাকা ঋণ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। তবে এর অনুপাত এখনো নির্ধারিত হয়নি।’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আইসিবির ফান্ড প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এই ফান্ড পেলে আইসিবির আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। ঋণগুলো পরিশোধের পাশাপাশি কিছু ফান্ড নতুন করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। এতে বাজারে তার‌ল্য এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে।’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারল্য সংকট কাটাতে সরকারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়ে আসছিল আইসিবি। তবে আর্থিক সংকটের কারণে সরাসরি ঋণ দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে কয়েক দফায় চিঠি চালাচালিও হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে ঋণ আর অনুমোদন হয়নি।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। নতুন সরকার সব খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে। বিএসইসি, ডিএসই ও আইসিবি থেকে শুরু করে আর্থিক খাতের প্রায় সব সংস্থার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। তবে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানের কিছু সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এমন অবস্থায় বিএসইসিও ব্যাপক সংস্কার কাজ শুরু করে। অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে জানতে বিএসইসিতে উপস্থিত হলে পুঁজিবাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মূলধনি মুনাফা করহার কমিয়ে অর্ধেক করে দিলে পুঁজিবাজারে ব্যাপক উত্থান হয়।

এরপর নতুন করে আলোচনায় আসে আইসিবির ঋণের বিষয়টি। এ নিয়ে গত ১৭ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে (এফআইডি) বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টার কাছে সেই প্রস্তাবনা রেজ্যুলেশন আকারে তুলে ধরে এফআইডি। পরে তা গত মঙ্গলবার অনুমোদন পেয়েছে।

এদিকে ২০২২ সালের জুলাইয়ে ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা চালুর প্রায় দুই বছর পর জানুয়ারিতে তা প্রত্যাহার হয়। এর পরই বাজার মূলধন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা কমে যায়। ফ্লোর প্রাইস হলো কোনো স্টক বেচাকেনার সর্বনিম্ন মূল্য। আর শেয়ার নির্ধারিত ফ্লোর প্রাইসের নিচে নামতে পারে না। বাজারের অস্থিরতা রোধের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিএসইসি গত ২৪ এপ্রিল তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না বলে আদেশ দেয়।

অস্থিতিশীল বাজারের কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আইসিবি ২৬৭ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এটির মূলধন লাভ ৫৯ শতাংশ কমে ১০৫ কোটি টাকা হয়েছে। এ ছাড়া আমানত ও ঋণের সুদ পরিশোধ ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ৬৭৫ কোটি টাকা হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বিনিয়োগ ব্যাংকটির মুনাফা ৪৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৭ কোটি টাকা হয়। এ ছাড়া ফ্লোর প্রাইস সীমাবদ্ধতার মধ্যে শেয়ার বিক্রি করতে না পারায় আইসিবি এটির আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে।




বোনাস লভ্যাংশ বিওতে পাঠিয়েছে আইসিবি

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রয়াত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশের শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশের শেয়ার সিডিবিএলের মাধ্যমে ৮ জানুয়ারি বিও হিসাবে পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, আলোচ্য বছরে আইসিবি ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ২.৫০ শতাংশ বোনাস ও ২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।




আইসিবি’র লভ্যাংশ অনুমোদন

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ৪৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা শনিবার (২৩ ডিসেম্বর)অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটি সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ৩০ জুন ২০২৩ এর সমাপ্ত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারগণের জন্য ২.৫% ক্যাশ এবং ২.৫% স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়।

আইসিবি’র পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন এবং পরিচালনা বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।




মুনাফা থেকে লোকসানে আইসিবি

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইসিবি) পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য প্রান্তিকে আগের হিসাব বছরের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা থেকে বড় লোকসানে নেমেছে।

রোববার (১৯ নভেম্বর) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ সভায় সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

তথ্য মতে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ২.৮০ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ০.২৫ টাকা। এই হিসাবে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা থেকে লোকসানে নেমেছে।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) ছিল (০.৭৩) টাকা।

এছাড়া, গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫০.৫৬ টাকা।




আইসিবির নতুন চেয়ারম্যান ড. সুবর্ণ বড়ুয়া

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া। তিনি আইসিবির সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. কিসমাতুল আহসানের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তার নিয়োগ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, ড. সুবর্ণ বড়ুয়াকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই মেয়াদ কার্যকর হবে।

শিক্ষাবিদ ও গবেষক সুবর্ণ বড়ুয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর করেছেন। তিনি ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেশন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইডি সম্পন্ন করেন।




বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪৭ কোটি টাকা ছাড়

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা স্কিমের আওতায় পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল হতে ঋণ বিতরণের জন্য প্রায় ৪৭ টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) থেকে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেওয়া হবে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ তহবিলের টাকাগুলো যদি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে পারে, তাহলে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উন্নতি হবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসইসির চিঠির প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা স্কিমের আওতায় আইসিবি’র মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণের সুদ ও আসল হিসেবে আদায়কৃত অর্থ পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে এ অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মতি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা ও এ বিষয়ে গঠিত তদারকি কমিটির পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। সে চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশের প্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল হতে ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আইসিবিকে দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল শাখায় রক্ষিত আছে এবং পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল-২ শিরোনামে পরিচালিত এসএনডি হিসাব থেকে ছাড় দেওয়া হবে।

এ অর্থ ব্যবহার এবং ফেরত প্রদানে সরকারি নির্দেশনা, নীতিমালা এবং বিএসইসি, আইসিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। টাকা আসলে পলিসি ও আবেদন অনুযায়ী বিতরণ করা হয়। এছাড়া যারা এখনো টাকা পায়নি তাদের আগে দেওয়ার চেষ্টা করব। এটা একটি রেগুলার প্রক্রিয়া। সুদসহ ঋণ পরিশোধ করা হলেই বাংলাদেশ ব্যাংক পুনরায় ঋণ প্রদান করে।