অন্যায় করে পার পাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে : সালেহউদ্দিন আহমেদ

অন্যায় করে পার পাওয়া যায়- এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার রাতে রাজধানীর হোটেল সোনাগাঁও-এ ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘১১তম আইসিএসবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর কর্পোরেট গভর্নেন্স এক্সিলেন্স’ ২০২৩ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা কিছু দিনের জন্য এসেছি, একটা মেসেজ দিয়ে যেতে চাই যে, অন্যায় করে পার পাওয়া যাবেনা। ব্যক্তিগত বা সরকারি অর্থ যেটাই হোক অপচয় করা ঠিক না।

তিনি বলেন, আমরা অর্থের অপচয় করতে চাই না। অনেকে অনেক অর্থের অপচয় করেছেন। জবাবদিহিতার বাইরে থেকেছেন। আমরা এ অবস্থা থেকে বের হতে চাই।

অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির খোঁজ পাওয়া যায় না উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি কোম্পানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জানতে চায় তোমাদের দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ কেমন? আমরা তাদের আশ্বস্ত করতে চাই। বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

করপোরেট সুশাসনে উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ৪১টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়েছে আইসিএসবি। অনুষ্ঠানে এসব কোম্পানিকে ১৪ ক্যাটাগরি বা শ্রেণিতে পুরস্কৃত করা হয়।

পরে প্রধান অতিথি পুরস্কার প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য সচিব মো. সেলিম উদ্দিন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, আইসিএসবি এর সিনিয়র সভাপতি নুরুল আমিন ও সহ সভাপতি মুশফিকুর রহমান প্রমুখ।




বিএসইসি’র চেয়ারম্যানের সঙ্গে আইসিএসবি কাউন্সিলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সঙ্গে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারীজ অব বাংলাদেশ’র (আইসিএসবি) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ এফসিএস’র নেতৃত্বে আইসিএসবি’র কাউন্সিল সদস্যগণ তার অফিসে বৃহস্পতিবার (৯ মে) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের মেয়াদকাল বৃদ্ধিতে তাকে অভিনন্দন জানান।

মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ এফসিএস বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের উপদেষ্টা কমিটি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বোর্ডে আইসিএসবি সদস্যদের প্রতিনিধিত্বের ব্যাপারে উল্লেখ করেন। তালিকাভুক্ত কোম্পানি সমূহে কেবলমাত্র আইসিএসবি থেকে চার্টার্ড সেক্রেটারি ডিগ্রী অর্জনকারীদের নিয়োগ প্রদান করার জন্যও তিনি প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোডে আইসিএসবি’র বিএসএস-৫ এবং বিএসএস-৬ ‘ভার্চুয়াল এবং হাইব্রিড মিটিং’ এবং ‘রেজোলিউশন বাই সার্কুলেশন’ অন্তর্ভুক্ত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে সেক্রেটারিয়াল অডিট চালু করারও অনুরোধ জানান।

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম মনোযোগ সহকারে কথাগুলো শুনেন এবং বাংলাদেশে কোম্পানি সেক্রেটারি পেশার পেশাদারিত্ব ও উন্নয়নে আইসিএসবির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এসকল কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্পোরেট খাতে গুড কর্পোরেট গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি তার পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

কাউন্সিল সদস্যগণ চেয়ারম্যান মহোদয়কে তাঁর মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর সহায়তা ও নির্দেশনা ইনস্টিটিউটকে তার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

উক্ত সভায় এম নুরুল আলম এফসিএস, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট; এ.কে.এম. মুশফিকুর রহমান এফসিএস, ভাইস প্রেসিডেন্ট; মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এফসিএস, ট্রেজারার; অলি কামাল এফসিএস, কাউন্সিল সদস্য; মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এফসিএস, কাউন্সিল সদস্য; মোঃ জাকির হোসেন, সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মোঃ শামিবুর রহমান এফসিএস, নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) উপস্থিত ছিলেন।




আইসিএসবি পুরস্কার পেল ৪৩ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

করপোরেট সুশাসনে উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ৪৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়েছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)। শনিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কোম্পানিকে ১৪ ক্যাটাগরি বা শ্রেণিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

আইসিএসবি এ বছর দশমবারের মতো পুরস্কারটি দিয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ব্যাংকিং শ্রেণিতে ইস্টার্ণ ব্যাংক স্বর্ণপদক এবং ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক রৌপ্য ও ব্র্যাক ব্যাংক ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক স্বর্ণপদক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক রৌপ্য ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ব্রোঞ্জপদক পায়।

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে আইডিএলসি ফাইন্যান্স স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স রৌপ্য এবং ডিবিএইচ ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস যৌথভাবে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে।

সাধারণ বিমা ক্যাটাগরিতে সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স স্বর্ণ এবং গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স রৌপ্য ও পিপলস ইনস্যুরেন্স ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। জীবনবিমা শ্রেণিতে ন্যাশনাল লাইফ স্বর্ণপদক ও প্রগতি লাইফ রৌপ্যপদক পেয়েছে।

ফার্মাসিউটিক্যালস ও কেমিক্যাল শ্রেণিতে বেক্সিমকো ফার্মা স্বর্ণ, স্কয়ার ফার্মা রৌপ্য এবং রেনাটা লিমিটেড ও নাভানা ফার্মা যৌথভাবে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে।

বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শ্রেণিতে মতিন স্পিনিং স্বর্ণ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল রৌপ্য ও হুয়া ওয়েল টেক্সটাইলস ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। ফুড ও অ্যালায়েড ক্যাটাগরিতে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার স্বর্ণ, গোল্ডেন হার্ভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ রৌপ্য ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ব্রোঞ্জপদক পায়।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি শ্রেণিতে এডিএন টেলিকম স্বর্ণ, আমরা টেকনোলজিস রৌপ্য আইটি কনসালট্যান্টস ও ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। প্রকৌশল ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ স্বর্ণ, রানার অটোমোবাইলস রৌপ্য ও সিঙ্গার বাংলাদেশ ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাটাগরিতে আরএকে সিরামিকস স্বর্ণ, ম্যারিকো বাংলাদেশ রৌপ্য ও লাফার্জ হোলসিম ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার ক্যাটাগরিতে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি স্বর্ণ, লিন্ডে বাংলাদেশ রৌপ্য এবং ডোরিন পাওয়ার ও এমজেএল বাংলাদেশ যৌথভাবে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে।
সেবা ক্যাটাগরিতে ইস্টার্ন হাউজিং স্বর্ণ, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস রৌপ্য ও ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ শ্রেণিতে রবি আজিয়াটা স্বর্ণ ও বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল কোম্পানি রৌপ্যপদক পেয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অনলাইনে যুক্ত হন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ভালো জায়গা। দেশের করপোরেট খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে বিনিয়োগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের বেসরকারি খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।’

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য কীভাবে ঠিক রাখা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫০ শতাংশের ওপর রপ্তানি হয়ে থাকে। এসব বাজারে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আইসিএসবির সভাপতি মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমান সরকার যদি ২০১০ সালে চার্টার্ড সেক্রেটারিয়েট আইন প্রণয়ন না করত, তাহলে এই সংস্থা কিংবা এই পেশা এত দূর আসতে পারত না। সরকার এবারের আয়কর আইনে এই পেশাকে নতুন করে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরাও বাংলাদেশে এই পেশার যাত্রাকে আরও বেগবান করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। আজকের এই আয়োজন তারই একটা অংশ।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেবিলাইজেশন ফান্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, ইস্টার্ণ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী আলী রেজা ইফতেখার, শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, সিটি ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হোসাইন আক্তার ও আইসিএসবির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুল আলম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার মিজানুর রহমান প্রমুখ।