এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার ‘লক-ইন’—এ নতুন নির্দেশনা

এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরি‌জ লিমিটেডের উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডাদের (প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত ১৮৩ জন/প্রতিষ্ঠান) ধারণ করা শেয়ারের ‘লক-ইন’ এর বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক-ইন সময়ে শেয়ার বিক্রি করা যায় না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যমান লক-ইন অবমুক্তির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছর বা প্রস্তাবিত ৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজের সমাপ্তি ও বাণিজ্যিক ব্যবহার চালু করার (রাজউকের অকুপেন্সি সার্টিফিকেটসহ) মধ্যে যেটি পরে সম্পন্ন হবে ততদিন পর্যন্ত লক-ইন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশ, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৮৩৭তম কমিশন সভায় এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরি‌জ লিমিটেডের ৯৫ কোটি টাকা প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তোলন করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই আইপিও’র মাধ্যমে ৯৫ কোটি টাকা পুঁজি উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যবসায় সম্প্রসারণ (যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ইনস্টলেশন), ফ্যাক্টরি ভবন নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে মর্মে কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলন করা অর্থ বা আইপিও ফান্ডের ব্যবহার সম্পন্ন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে, আইপিও ফান্ডের ব্যবহার সম্পন্ন না করেই প্রকল্প মূল্যায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন (রাজউক কর্তৃক বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ইত্যাদি) ব্যতিরেকে এবং পূর্বঅভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছাড়াই কোম্পানিটি ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন প্রকাশ করে।

৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ তথা রিয়েল এস্টেট/হোটেল ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও কোম্পানিটির সংঘস্মারকের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না। এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পরিদর্শন পরিচালিত হয় এবং ওই পরিদর্শন প্রতিবেদনেও উপরোল্লিখিত অসংগতি উদঘাটিত হয় বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

এদিকে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্যপ্রকাশকারীর সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০২৬’ এর খসড়া কমিশন সভায় অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদিত খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে।




পুঁজিবাজারের হৃৎপিণ্ড আইপিও: রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেছেন, পুঁজিবাজারের হৃৎপিণ্ড আইপিও। পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫ এর মাধ্যমে বাজারে নতুন আইপিও আসার পথ সুগম হবে। এই সুযোগকে স্বদব্যবহারের সময় এখনই। এ জন্য বাজার সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজার অংশীজনদের পঞ্চম মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসির সহকারী পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র মো. মোহাইমিনুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ, মো. সাইফুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নে কমিশনের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, মার্জিন বিধিমালা, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস- এই তিনটি বিধিমালা পুঁজিবাজার সংস্কারের প্রধান ভিত্তি। ২০২৫ সালের মধ্যেই এগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

সভায় পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। বিএসইসিকে অধিকতর শক্তিশালীকরণ ও পুঁজিবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গঠিত কমিটির সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী সভায় বলেন, চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যাগুলো সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বিগত বছরে সম্পন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পুঁজিবাজার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫, পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫, পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, নতুন পণ্য সংযোজন, রোড শো, ই-কেওয়াইসি, অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু, এপিআই কানেকটিভিটি বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ, মার্জার ও একুইজিশন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, সিসিবিএল কার্যক্রম, মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যপরিধি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম খায়রুজ্জামান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ইফতেখার আলম, সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার ও কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ রাশেদ হুসাইন, ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসির সিইও মো. আল আমিন তালুকদার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




আইপিও আইনের খসড়া সুপারিশের ওপর মতামত আহ্বান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক গঠিত শেয়ারবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়া সুপারিশের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার মতামত আহ্বান করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও পক্ষগুলি তাদের মতামত আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ই-মেইলে পাঠাতে পারবেন।

সোমবার (৭ এপ্রিল) বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং তার সম্পর্কিত আইন নিয়ে টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে কমিশনের কাছে খসড়া সুপারিশ জমা দিয়েছে। এই সুপারিশগুলো শেয়ারবাজারের সংস্কার এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে বলে বিএসইসি আশা করছে।

শেয়ারবাজার সংস্কারের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং সম্পর্কিত আইন সম্পর্কিত টাস্কফোর্সের সুপারিশে মতামত পাঠানোর জন্য ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া হয়েছে: suggestion.iporules@sec.gov.bd। সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের মতামত আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এই ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিএসইসি শেয়ারবাজারের আইনি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার চেষ্টা করছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করবে এবং বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বিএসইসি ও সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টা শেয়ারবাজারে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে।




বোরাক রিয়েল এস্টেটের আইপিও আবেদন বাতিল

বোরাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদন বাতিল করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।  কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য আবেদন করে।

আইপিওর আবেদনের সঙ্গে দেওয়া কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০১৫ এর রুল ১৫(৫) এর ক্ষমতা বলে কমিশন কোম্পানির আইপিও আবেদন বাতিল করেছে। সম্প্রতি বোরাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সত্রে জানা গেছে।

একইসঙ্গে বিষয়টি কোম্পানির আইপিওর দায়িত্বে নিয়োজিত ইস্যু ম্যানেজার বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও স্বদেশ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া কোম্পানির আইপিও আবেদন, খসড়া প্রসপেক্টাস, তথ্য, সংবেদনশীল তথ্য, ডিএসইর পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি ও ব্যাখ্যা যাচাই করে বেশকিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে চিঠিতে জানিয়েছে বিএসইসি।

জানা গেছে, কোম্পানিটি আবাসনে তার বিনিয়োগের সম্পদের মূল্য জানিয়েছে ৭০০ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেই সাথে ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৬৫২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএএস) অনুযায়ী, আবাসনে বিনিয়োগ করলে কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে সেই বিনিয়োগের লাভ বা লোকসান হিসাব করতে হবে। তবে ৭০০ কোটি ২০ লাখ টাকায় যে মুনাফা দেখানো হয়েছে তা অবাস্তব প্রমাণ করে।

নিট সম্পদ মূল্যের বিষয়ে বলা হয়েছে, কোম্পানির সম্পদ মূল্য ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ৮১ টাকা ৩৭ পয়সা। যা ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮ টাকা ৫৪ পয়সা। অথচ ন্যায্যমূল্য ও আসল মূল্যের লাভ বাদ দিলে সম্পদ মূল্য হতো ৮৫ টাকা ২০ পয়সা। তাই এ অতিমূল্যায়িত নিট সম্পদ মূল্যের বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেই সাথে এই মূল্যে কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং কোম্পানি তাদের আর্থিক অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

লভ্যাংশের বিষয়ে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষে আনরিয়ালাইজড মুনাফা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখিয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রকৃত নগদ অর্থ প্রবাহ না থাকায় লভ্যাংশ দিতে পারবে না। তাই লভ্যাংশ দিতে গেলে কোম্পানির এই অবাস্তব মুনাফা দেখানো ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আয়ের বা ইপিএস অসঙ্গতির বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৯৯ পয়সা ।

যা ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষে দেখানো হয়েছে ৬৫ টাকা ২৫ পয়সা। ৭০০ কোটি ২০ লাখ টাকা বাদ দিলে তা হবে মাত্র ৪ টাকা ৬৪ পয়সা। যা কোম্পানি অসত্য তথ্য প্রদান করেছে এবং তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করবে। এছাড়া কোম্পানি ২০২৩ সালের ৩০ জুন যে আর্থিক তথ্য প্রদান করেছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং কোম্পানি অসত উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডে সংস্কার দরকার: ডিএসই চেয়ারম্যান

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড সম্পর্কিত কাজে কিছু সংস্কারের দরকার আছে। এ সংস্কারের বিষয়ে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ, বিএমবিএর সাবেক সভাপতি ছায়েদুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মমিনুল ইসলাম বলেন, ডিএসইর হিউম্যান রিসোর্স, টেকনিক্যাল দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা শিগগিরই সেটা করব। কিছু জায়গায় আমাদের স্বচ্ছতার অভাব আছে। এসব জায়গায় স্বচ্ছতা ফেরাতে আমরা কাজ করব। পুঁজিবাজারে কোথায় কোথায় সংস্কার প্রয়োজন, তা আজ সংবাদিকদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজার অর্থনীতির সুন্দরতম সৃষ্টি। তবে, আমরা সৃষ্টিটাকে অসৃষ্টি তৈরি করে ফেলেছি। সেটা আমাদের সামগ্রিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি। দেশের মাঝে দুর্নীতি, বিচারহীনতা, অদক্ষতা এবং ভুল সিদ্ধান্ত, সেই বিষয়গুলো পুঁজিবাজারে আছে। সেটারই ফল আজকের এই পরিস্থিতি। আমরা বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি তৈরি করেছি, যার জন্য মার্কেটে কারসাজি কমেনি। এতে বিনিয়োগকারী, বাজার মধ্যস্থতাকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অতিরিক্ত নির্ভরতা ব্যাংককে ধ্বংস করেছে, একইসাথে আমাদের অর্থনীতিকে শেষ করেছে। এটা থেকে আমাদের বের হতে হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ট্যাক্স সংক্রান্ত কিছু বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। আমরা এনবিআরের সাথে এ বিষয়ে কাজ করছি। এতে এনবিআর বেশি ট্যাক্স পাবে, একইসঙ্গে বাজারের উন্নতি হবে। তা হবে মার্কেট ফ্রেন্ডলি।

ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ ও আইসিবির সংস্কার দরকার। এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা এবং আইসিবি চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ৫ আগস্টের পরে সরকারের কাছে পুঁজিবাজার নিয়ে যেরকম প্রত‍্যাশা ছিল, সেরকম সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই, ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে পুঁজিবাজারের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

মতবিনিময় সভায় ক‍্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সভাপতি এম এম গোলাম সামদানি ভুঁইয়া বলেন, বর্তমান কমিশন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর, এমনটি দাবি ও প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু, বিএসইসিতে অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আছেন। এছাড়া, কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। তাদের মধ‍্যে একজনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়নি মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন। বরং এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পরামর্শে কাজ করে বর্তমান কমিশন।

দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক ও সিএমজেফের সাবেক সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু বলেন, নিরীক্ষকদের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। কারণ, তারা জেনে-বুঝে ভুয়া আর্থিক হিসাব সঠিক বলে সত‍্যায়িত করে। এ সমস‍্যা নিয়ে শেয়ারবাজারকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। পুঁজিবাজারের আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোম্পানি সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য আইন করা দরকার। শুধু ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট দেখে আর এফআরসি বা অডিট ফার্রমের ওপর নির্ভর করে আইপিওর অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার ও সিএমজেফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। বিএসইসিতে নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে ডিবিএসহ সবাই প্রশংসা করে। আর বিদায় নিলে সমালোচনা করে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমালোচনার কাজ করলে, ক্ষমতায় থাকাকালীনই কমিশনের সমালোচনা করতে হবে। তাহলে সুফল পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ‍্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের যোগ্যতা শূন্য। সাম্প্রতিক সময়ে তারা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাই তা প্রমাণ করে।

মতবিনিময় সভায় অর্থসূচকের সম্পাদক ও সিএমজেফের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার আনোয়ার ইব্রাহিম, প্রথম আলোর বিজনেস এডিটর সুজয় মহাজন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেস প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা, দ্য ডেইলি স্টারের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও ইআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধাসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।




আইপিওর টাকার অবস্থা জানতে ৯ কোম্পানি পরিদর্শন করবে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ও রিপিট আইপিওর (আরপিও) মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকা কোথায় ও কিভাবে বিনিয়োগ করেছে, ওই টাকার কত অংশ বিনিয়োগ হয়েছে, কতটা বাকী আছে- ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সেচঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯২৪ তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যে ৯টি কোম্পানি পরিদর্শন করবে বিএসইসি- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি), বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড, ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, লুব-রেফ (বাংলাদেশ) লিমিটেড, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, রিং শাইন টেক্সটাইল লিমিটেড, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

আলোচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিএসসি আরপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করেছে। বাকী কোম্পানিগুলোর টাকা তুলেছে আইপিওর মাধ্যমে। বেশিরভাগ কোম্পানির বিরুদ্ধে হিসাবকারসাজি করে আর্থিক স্বাস্থ্য ভাল দেখিয়ে বিনিয়োগ আইপিওতে আসার অভিযোগ আছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি কোম্পানি যে খাতে ও যে সময়সীমার মধ্যে আইপিওতে সংগ্রহ করা অর্থ ব্যবহার করবে বলে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করেছিল, বাস্তবে তা করেনি। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুন্ণ হয়েছে।

এর মধ্যে বেস্ট হোল্ডিংস আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিলো। আর ইনডেক্স এগ্রো আইপিওতে উত্তোলন করছে ৫০ কোটি টাকা, জেএমআই হসপিটাল আইপিওর মাধ্যমে ৭৫ কোটি টাকা, লুব-রেফ আইপিওর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস তুুলেছিলো ৭৫ কোটি টাকা, রিং শাইন টেক্সটাইল আইপিওর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা, সিকদার ইন্স্যুরেন্স আইপিও থেকে ১৬ কোটি টাকা এবং সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস আইপিওর মাধ্যমে তুলেছিলো ৩০ কোটি টাকা।




আইপিওতে আসতে চায় ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে চায় প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি। সম্প্রতি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইপিওর মাধ্যমে ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি বাজার থেকে ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। আর সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে অটোক্লেভ প্যানেলস, কনক্রিট ব্লক, ইট ও টাইলস উৎপাদনের একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করবে কোম্পানিটি।

কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ, ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি হচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেক পরিবারের একটি কোম্পানি। পুঁজিবাজারে এলে এটি হবে এই গ্রুপের দ্বিতীয় কোম্পানি। গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। কোম্পানিটি মূলত সমুদ্রবন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ-দুবাই রুটে জাহাজ পরিচালনার ব্যবসায়ও যুক্ত হয়েছে কোম্পানিটি।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি মূলত একটি ইপিসি (Engineering, Procurement and Construction) কোম্পানি। এই কোম্পানি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুসারে, তাদের জন্য অবকাঠামোর ডিজাইন, পণ্য ক্রয়, অবকাঠামো তৈরি ও সংস্থাপন করে থাকে। এর পাশাপাশি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি নিরাপত্তা ও আইটি সংশ্লিষ্ট ইক্যুইপমেন্ট, ড্রেজার, ক্রেন,ভারি মেশিনারিজ সরবরাহ ও সংস্থাপন সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে। কোম্পানিটির ব্যবসার পরিধির মধ্যে আরও রয়েছে নদী খনন, ভূমি উন্নয়ন, বহুতল ভবন নির্মাণ; সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার ইত্যাদি নির্মাণ।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি বেশ কয়েকটি বিদেশী কোম্পানির সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করে। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানির পণ্য ও সেবার পরিবেশক তারা। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের এস্ট্রোফিজিকস, স্ক্যানস্ক্যান, আমেরিকান সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, তুরস্কের রিডোম্যাক টার্কি, সিঙ্গাপুরের এমটি কমিউনিকেশন, নেদারল্যান্ডসের ইউভি স্ক্যান।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কোম্পানিটির ১২ কোটি শেয়ার রয়েছে। তারা নতুন করে আর ৩ কোটি শেয়ার ইস্যু করার পরিকল্পনা করছে।

কোম্পানির একজন উর্ধতন কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, তাদের নতুন প্ল্যানটি হবে গ্রিন ফ্যাক্টরি তথা পরিবেশবান্ধব। পাশাপাশি এই প্ল্যান্ট পরিবেশবান্ধব নির্মাণে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের কারখনায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণ উপকরণ উৎপাদন করা হবে। এর মধ্যে কিছু উপকরণ বাংলাদেশে তারাই প্রথম নিয়ে আসবেন। এরমধ্যে রয়েছে-অটোক্লেভ প্যানেলস। আগুনে না পুড়িয়ে তাপ-ও চাপের মাধ্যমে মেশিনে এই প্যানেল উৎপাদন করা হবে। এই প্যানেল ব্যবহারে নির্মাণ ব্যয় এবং সময়ও সাশ্রয় হবে। যেমন- কেউ চাইলে তারা ২০ ফুট বাই ২০ ফুট আকারের প্যানেল তৈরি করে দেবেন। সংশ্লিষ্ট ক্রেতা এটি নিয়ে শুধু সংস্থাপন করে দেবেন।

শিগগিরই কোম্পানিটি আইপিওর প্রক্রিয়া শুরু করবে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনসাপেক্ষে আইপিওর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।




মঙ্গলবার এনআরবি ব্যাংকের লেনদেন শুরু

ঢাকা স্টক একচেঞ্জে (ডিএসই) এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের লেনদেন শুরু হবে মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে। ডিএসইতে কোম্পানিটি ‘এন’ ক্যাটাগরি থেকে লেনদেন শুরু করবে। ডিএসইতে কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড হলো “NRBBANK”। আর কোম্পানি কোড ১১১৫৫। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে, ব্যাংকটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সম্পন্ন করে শেয়ারবাজারে ‘ব্যাংক’ খাতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ব্যাংকটি আইপিও আবেদন গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে এনআরবি ব্যাংক ১০ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। শেয়ারপ্রতি অভিহিত মূল্য ছিল ১০ টাকা।

শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করে ব্যাংকটি সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ১২ টাকা ৭২ পয়সা।

চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২৩) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২৭ পয়সা। বিগত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭২ পয়সা।

আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি তালিকাভুক্তির আগে কোনো ধরনের ডিভিডেন্ড ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না। আইপিওতে কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

এনআরবি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের দিক থেকে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ৫০ হাজারের বেশি গ্রাহক সক্রিয়ভাবে ক্রেডিট কার্ড ধারণ করছে, যেগুলোর মোট অর্থের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকার বেশি।




এনআরবি ব্যাংকের আইপিওতে প্রায় আড়াই গুণ আবেদন

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়ে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক এনআরবি ব্যাংক। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে সংরক্ষিত শেয়ারের বিপরীতে কয়েকগুণ আবেদন জমা পড়েছে। ব্যাংকটি আইপিওতে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার জন্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল।

এনআরবি ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, দেশে বসবাসকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য ৭০ কোটি টাকার শেয়ার সংরক্ষিত ছিল। এর বিপরীতে ২৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার আবেদন জমা পড়ে, যা নির্ধারিত সংখ্যার প্রায় ৪ গুণ।

অন্যদিকে, এনআরবি ব্যাংকের আইপিওতে প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে ৫ কোটি টাকার শেয়ার। এর বিপরীতে ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ারের জন্য আবেদন জমা পড়েছে, যা প্রায় ৫ গুণ।

এছাড়াও, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এনআরবি ব্যাংকের আইপিওতে তাদের জন্যে বরাদ্দকৃত ২৫ কোটি টাকার বিপরীতে ৬২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার আবেদন করেছে যা প্রায় আড়াই গুণ।

বিনিয়োগকারীরা যারা এনআরবি ব্যাংকের আইপিওতে অংশগ্রহণ করে ব্যাংকের প্রতি তাদের আস্থা ও সমর্থন দিয়েছেন তাদের প্রতি এনবিআর ব্যাংক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আইপিওতে রেকর্ড পরিমাণ সাবস্ক্রিপশন বিনিয়োগকারীদের এনআরবি ব্যাংকের প্রতি পূর্ণ আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।




সিকদার ইন্স্যুরেন্সের লেনদেন শুরু বুধবার

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলন করা সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের লেনদেন বুধবার (২৪ জানুয়ারি) শুরু হতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত সিকদার ইন্স্যুরেন্সের ট্রেডিং কোড হলো- ‘SICL’। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড হলো- ২৫৭৫৮ আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড হলো- ১১০৪৮।

এর আগে গত বুধবার (১০ জানুয়ারি) সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারযোগ্য বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হয়েছে।

কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ১৬ কোটি টাকার বিপরীতে ২৭২ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়ে, যা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৭.০৬ গুণ বেশি। প্রতি ১০ হাজার টাকা আবেদনের বিপরীতে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা ৪২টি শেয়ার এবং অনিবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা ১০৫ টি শেয়ার বরাদ্দ পান।

এদিকে, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বিএসইসির ৮৮২তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সিকদার ইন্স্যুরেন্স প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যে ১ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ইস্যু করে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি উত্তোলন করে। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল বিএসইসি কোম্পানিটির ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি প্রতিবেদন পরিচ্ছন্ন না পাওয়ায় আইপিওর আবেদন বাতিল করেছিল। এই সংক্রান্ত একটি চিঠি কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং সিইও বরাবর পাঠানো হয়।

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আইডিআরএ’র বিধান মোতাবেক বাধ্যতামূলকভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিক্সড ডিপোজিট, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ, ফ্লোর ক্রয় এবং আইপিও ব্যয় নির্বাহ করবে।

সর্বশেষ প্রকাশিত ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮.৭৩ টাকা। আর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.২২ টাকা।

আইপিওর ইস্যু ম্যানেজার ও আন্ডার রাইটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সোনারবাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আর নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করছে জি.কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস।

প্রসঙ্গত,পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পূর্বে কোম্পানিটি কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।




বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও আবেদন শুরু

পুঁজিবাজারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) আবেদন গ্রহণ রোববার (১৪ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে। এই আবেদন গ্রহণ চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর আগে কোম্পানিটির আইপিও আবেদনের তারিখ ৮ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইলেকট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের শেয়ারের কাট-অব প্রাইস (প্রান্তসীমা মূল্য) ৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছেন যোগ্য বিনিয়োগকারীরা (ইআই)। তবে কাট অব প্রাইসের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমে অর্থাৎ ২৪ টাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারী ও অনাবাসী বাংলাদেশিদের কাছে শেয়ার ইস্যু করা হবে। গত ২০ থেকে ২৩ নভেম্বর কোম্পানিটির বিডিং অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৮৮৫তম সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড পুঁজিবাজার থেকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে ৩৫০ কোটি টাকা তুলবে। বেস্ট হোল্ডিংসের প্রজেক্টগুলোর মধ্যে আছে- লা মেরিডিয়ান, বেস্ট হোটেল লিমিটেড, ধামসোর ইকোনমিক জোন লিমিটেড প্রভৃতি। এসব টাকা দিয়ে কোম্পানিটি বিল্ডিং এবং অন্যান্য সিভিল ওয়ার্ক, মেশিনারিজ এবং ইক্যুইপমেন্ট প্রকিউরমেন্ট ফর লাক্সারি কালেকশন, বিদ্যমান দায় এবং আইপিও খাতে ব্যয় করবে।

২০২৩ সালের ৩০ জুনের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে কোম্পানির পুনঃমূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ৫৬.৩৪ টাকা। পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ৩২.২৬ টাকা। শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১.২৪ টাকা। বিগত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ০.৯৫ টাকা।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে শান্তা ইক্যুয়িটি লিমিটেড এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।




বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিওতে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা আবেদনের সুযোগ

ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানি বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনার জন্য আবেদন করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। বুধবার (১০ জানুয়ারি) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই সীমা বেঁধে দিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এর আগে ১০ হাজার টাকা ও এর গুণিতক যে কোনো সংখ্যক শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশন যে কোনো সংখ্যক শেয়ারে আবেদনের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা বেধেঁ দিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। নিলামে যোগ্য বিনিয়োগকারী তথা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৫ টাকা দরে ২ কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের দর নির্ধারিত হয়েছে ২৪ টাকা।

ঘোষিত সূচি অনুসারে, আগামী ১৪ জানুয়ারি বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিওর আবেদন জমা নেওয়া শুরু হবে। যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। অনিবাসী বাংলাদেশীসহ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিওতে সংরক্ষিত আছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ২৩ হাজার শেয়ার।

প্রথমে বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও আবেদন জমা নেওয়া সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল ৮ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পরিবর্তন করে ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

বিএসইসি এক নির্দেশনায় আইপিওতে আবেদনের শর্ত শিথিল করে বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিওতে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার গুণিতক যে কোনো সংখ্যার আবেদনের সুযোগ রাখা হয়।

এদিকে গত ২ জানুয়ারি কিছু বিনিয়োগকারী বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিওতে যে কোনো সংখ্যক শেয়ার কেনার সুযোগ বাতিল করার জন্য আবেদন করেন। এ আবেদনে বলা হয়, প্রদত্ত সুযোগের কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুন্ণ হবে। নির্দেশনায় যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে চাইলে একজন বড় বিনিয়োগকারী একাই পুরো শেয়ার কিনে নিতে পারবেন। তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তেমন শেয়ার পাবেন না।

বিনিয়োগকারীদের আবেদন বিবেচনায় নিয়ে কমিশন কোম্পানিটির আইপিও আবেদনের সর্বোচ্চ সীমা পুনঃনির্ধারণ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

যোগাযোগ করলে বেস্ট হোল্ডিংসের কোম্পানি সচিব আবুল কালাম আজাদ অর্থসূচককে বলেন, বিনিয়োগকারীদের আবেদন বিবেচনায় কমিশন আবেদনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ লাখ টাকা বেঁধে দিয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বেস্ট হোল্ডিংসের কোম্পানি সচিব আবুল কালাম আজাদ অর্থসূচককে বলেন, বিএসইসি আইপিওর আবেদনের সর্বোচ্চ সীমা পুনঃনির্ধারণ করে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা বেঁধে দিয়েছে। তাই একজন বিনিয়োগকারী সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকার জন্য আবেদন করতে পারবেন।




এনআরবি ব্যাংকের আইপিও আবেদন শুরু ২৮ জানুয়ারি

পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় থাকা এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিটির আইপিও আবেদন গ্রহণ আগামী ২৮ জানুয়ারি শুরু হবে। এ আবেদন গ্রহণ চলবে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর এ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ জানুয়ারি।

তথ্য মতে, আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করার অনুমোদন পেয়েছে এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড। এর আগে গত বছরের জুন মাসে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন পায়। এক বছর পর আরেকটি ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন হলো। নতুন ব্যাংকটি তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের সংখ্যা হবে ৩৬টি।

গত বছরের ৯ নভেম্বর পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮৮৭তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এনআরবি ব্যাংককে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১০ কোটি শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি শেয়ারবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে।

আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যাংকটি সরকারি সিকিউরিটিজ ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের কাজে ব্যয় করবে।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৭২ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২৭ পয়সা। গত ৫ বছরের ভরিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় ৭২ পয়সা।

উল্লেখ, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।




সিকদার ইন্স্যুরেন্সের আইপিও আবেদন শেষ  হবে বৃহস্পতিবার

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া বীমা খাতের কোম্পানি সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন আগামীকাল ২৮ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার শেষ হবে। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির আইপিও আবেদন শুরু হয়েছিল।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিএসইসির নির্দেশনা মোতাবেক কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদনের জন্য প্রত্যেক দেশী বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে। আর অনাবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ থাকতে হবে ন্যূনতম ১ লাখ টাকা।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। যার অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির ৮৮২তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির এ আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়।

জানা গেছে, বিএসইসির পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫ অনুসারে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির আইপিও প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থে কোম্পানিটি মেয়াদি আমানত রাখা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ফ্লোর ক্রয় এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যবহার করবে।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আর কোম্পানির নিরীক্ষক হিসেবে আছে জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

 




বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও আবেদনের তারিখ পরিবর্তন

ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানি বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদনপত্র ও চাঁদার টাকা জমা নেওয়ার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। কোম্পানিটির আইপিও আবেদন শুরু হবে আগামী ১৪ জানুয়ারি; যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পরযন্ত।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এর আগে কোম্পানিটি আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পরযন্ত চাঁদা জমা নেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছিল।

বুকবিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারী (Eligible Investor) তথা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। আর এই নিলামের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের কাট-অফ মূল্য (Cut-off Price) নির্ধারিত হয়েছে ৩৫ টাকা। এখান থেকে ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়ে ২৪ টাকা দরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বেস্ট হোল্ডিংসের প্রসপেক্টাস অনুসারে, ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য কোম্পানিটিকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার ইস্যু করতে হবে। এর মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা কিনে নিয়েছেন ২ কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার।

কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে ১৫ শতাংশ শেয়ার, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার। তাদেরকে অবশ্য কাট-অফ মূল্যের উপর ২০ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে ৪২ টাকা দরে এই শেয়ার কিনতে হবে। এই শেয়ারের উপর ২ বছরের লক-ইন থাকবে, যা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার দিন থেকে গণনা হবে।

আইপিওতে অনিবাসী বাংলাদেশীসহ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ২৩ হাজার শেয়ার।

বর্তমানে বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ৯২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আইপিওর পর কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়াবে ১ হাজার ৫০ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানি বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এই অর্থ কোম্পানিটির বিভিন্ন চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যাংক ঋণের একাংশ পরিশোধ ও আইপিওর ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা হবে।




সিকদার ইন্স্যুরেন্সের আইপিও আবেদন শুরু আগামীকাল

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া বীমা খাতের কোম্পানি সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিটির আইপিও আবেদন আগামীকাল (২১ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হবে। এ আবেদন গ্রহণ চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিএসইসির নির্দেশনা মোতাবেক কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদনের জন্য প্রত্যেক দেশি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে। আর অনাবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ থাকতে হবে ন্যূনতম ১ লাখ টাকা।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। যার অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির ৮৮২তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির এ আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিএসইসির পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫ অনুসারে, সিকদার ইন্স্যুরেন্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির আইপিও প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থে কোম্পানিটি মেয়াদি আমানত রাখা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ফ্লোর ক্রয় এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যবহার করবে।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আর কোম্পানির নিরীক্ষক হিসেবে আছে জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।




বেস্ট হোল্ডিংসের কাট-অব প্রাইস ৩৫ টাকা

পুঁজিবাজার থেকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৩৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পেয়েছে বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড। এরই ধারাবাহিকতায় বিডিংয়ের মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ারের প্রান্তসীমা মূল্য (কাট-অব প্রাইস) নির্ধারণ করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমের (ইএসএস) মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ারের কাট-অব প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে ৯৮টি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৩টি প্রস্তাব সফল হয়েছে। এসব প্রস্তাবের বিপরীতে কোম্পানিটি শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে।

যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় কোম্পানিটি এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রস্তাব দিবে। বিএসইসির নির্দেশনা অনুসারে, আট-অব প্রাইস থেকে ৩০ শতাংশ কম দামে তথা ২৪ টাকা দরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করা হবে। শিগগিরই কোম্পানি পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রসপেক্টাস প্রকাশ করা হবে, যাতে শেয়ার কেনার আবেদন ও টাকা জমা নেওয়ার সময়সূচির উল্লেখ থাকবে।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৮৮৫তম সভায় কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড পুঁজিবাজার থেকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে ৩৫০ কোটি টাকা তুলবে। বেস্ট হোল্ডিংসের প্রজেক্টগুলোর মধ্যে আছে—লা মেরিডিয়ান, বেস্ট হোটেল লিমিটেড, ধামসোর ইকোনমিক জোন লিমিটেড প্রভৃতি। এসব টাকা দিয়ে কোম্পানিটি বিল্ডিং এবং অন্যান্য সিভিল ওয়ার্ক, মেশিনারিজ এবং ইক্যুইপমেন্ট প্রকিউরমেন্ট ফর লাক্সারি কালেকশন, বিদ্যমান দায় এবং আইপিও খাতে ব্যয় করবে।

২০২৩ সালের ৩০ জুনের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে কোম্পানির পুনঃমূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ৫৬.৩৪ টাকা। পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ৩২.২৬ টাকা। শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১.২৪ টাকা। বিগত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ০.৯৫ টাকা।

কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে শান্তা ইক্যুয়িটি লিমিটেড এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।




এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের আইপিও’র স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের অর্থ উত্তোলনের উপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে। আইপিও-তে জনসাধারণের কাছ থেকে আবেদন জমা নেওয়া শুরুর ঠিক একদিন আগে গত ১৫ জানুয়ারি তা স্থগিত করেছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৮৮৯তম কমিশন বৈঠকে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএসসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিশন সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

এর আগে, বিএসইসি’র ৮৩৭তম কমিশন সভায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য অনুমোদন পায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। এজন্য চলতি বছরের ১৬ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত পাবলিক সাবস্ক্রিপশনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগে, গত বছরের ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর কোম্পানিটির শেয়ারের কাট-অব প্রাইস (প্রান্তসীমা মূল্য) নির্ধারণে বিডিং অনুষ্ঠিত হয়। বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা (ইআই) কোম্পানিটির শেয়ারের প্রান্তসীমা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রান্তসীমা মূল্যের চেয়ে ৩০ শতাংশ বা ২০ টাকা এ দুয়ের মধ্যে যেটি কম হবে, সে মূল্যে শেয়ার ইস্যু করা হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় জনসাধারণের কাছে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রিতে আর কোনও বাধা রইল না।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে শাহজালাল ইক‌্যুইটি ম‌্যানেজম‌্যান্ট লিমিটেড। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি কোনও প্রকার ডি‌ভিডেন্ড ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

আইপিও’র মাধ্যমে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ বাজার থেকে ৯৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। আর এই টাকার বড় অংশ ব্যয় করা হবে কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণে।




আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে সময় চায় সিলভা ফার্মাসিটিক্যাল

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারের সময় বাড়াতে চায় পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি সিলভা ফার্মাসিটিক্যালসে লিমিটেড। কোম্পানিটি পরিচালনা পর্ষদের সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহীত অর্থ ব্যবহারের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটির গত ১৩ নভেম্বর (সোমবার) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া হবে। শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি পেলে কোম্পানিটির আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহারে আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পাবে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কারখানা ভবন নির্মাণ ও বিদেশ থেকে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির কাজ শেষ করতে পারেনি। এ কারণে আইপিও তহবিলের সম্পূর্ণ ব্যবহার সম্পন্ন করতে পারেনি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।




‘আইপিও যাচাইয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের আরও ভূমিকা থাকা উচিত’

বর্তমানে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবসহ (আইপিও) সব ধরনের পাবলিক অফারের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা আইন রয়েছে। কোথাও স্টক এক্সচেঞ্জ অনুমোদন দেয়, আবার কোথাও রেগুলেটর অনুমোদন দেয়। আমাদের দেশে আগে থেকেই রেগুলেটর আইপিও অনুমোদন দিয়ে আসছে। তবে আইপিওর যাচাই-বাছাইয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের আরও ভূমিকা থাকা উচিত। এক্ষেত্রে আগে এক্সচেঞ্জের যে ভূমিকা ছিল, তা এখন অনেকটা কম।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত সিএমজেএফ টক অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান এসব কথা বলেন। রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিএমজেএফ’র নিজস্ব কার্যালয়ে সিএমজেএফ টক অনুষ্ঠিত হয়।

এক প্রশ্নোত্তরে ডিএসইর এমডি বলেন, পুঁজিবাজারের আস্থার উন্নয়নে ফ্লোর প্রাইস স্থায়ী কোনও সমাধান নয়। এটা শেয়ার প্রাইস নির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপ। রেগুলেটর বা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাইস ফিক্স করা ঠিক না। এটা বিশ্বের কোথাও নেই। স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাইস ডিসকভারের জায়গা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি ডিএসইর বর্তমান অবস্থার নানাদিক এবং এর উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে পুঁজিবাজারের ম্যানুপুলেশন বন্ধ, ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেন, কৌশলগত বিনিয়োগ ও টেকনিক্যাল সহায়তা, ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনা, বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ নানা বিষয় ওঠে আসে।

ড. এটিএম তারিকুজ্জামান বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীকরণে ডি-মিউচ্যুয়ালইজেশন করা হয়। এই আইনে স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ট্রেকহোল্ডারদের প্রতিনিধিও রয়েছে। তবে কাজ করতে গিয়ে মনে হচ্ছে, কিছু বিষয় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেটা নিয়ে রেগুলেটরের সাথে আলোচনা করবো আমরা।

ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশনের পর স্টক এক্সচেঞ্জে বেশ কিছু সুফলও এসেছে। মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা আলাদা হয়েছে। সরাসরি কোনও হস্তক্ষেপে নেই। অপারেশনে বোর্ডের কোনও ইনফ্লুয়েশন নেই। তবে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

কৌশলগত বিনিয়োগকারী থেকে কী পেলাম এমন প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, সাংহাই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রস্তাবে টেকনিক্যাল কিছু প্রস্তাব ছিল। সেই প্রস্তাবের কিছু কাজ ইতোমধ্যে হয়েছে। আরও কিছু বাকি রয়েছে। করোনার কারণে বাস্তবায়নের বিলম্ব হয়েছে। আশা করি, অবশিষ্ট কাজও হবে।

বিনিয়োগকারীর সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে লাভ-লোকসান থাকবেই। কারও লোকসান হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কেউ যাতে প্রতারণার শিকার না হয়, বিনিয়োগকারীর টাকা যাতে কেউ আত্মসাৎ করতে না পারে- সে ব্যাপারে আমরা তৎপর আছি।

পুঁজিবাজারে ম্যানুপুলেশন বন্ধে ডিএসই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে কি না এমন প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শেয়ার কারসাজি নিয়ে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, অনেক তদন্তই ডিএসই করার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠিয়েছে। কারসাজি নিয়ন্ত্রণের ডিএসইর সার্ভিলেন্স টিম কাজ করছে।

তিনি বলেন, কারসাজি বন্ধ ও গভীর অনুসন্ধানে ডিএসইর আরও ক্ষমতা প্রয়োজন। বিশেষ করে কারখানা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে এটি খুবই জরুরি। কারণ কারসাজি ভালোভাবে ডিগ-আউট করতে ডিএসই তথ্য চাইলে, কেউ নাও দিতে পারে। না দিলে কিন্তু বাধ্য করা বা ব্যবস্থা নেওয়ার মতো এখতিয়ার আমাদের নেই, যা বিএসইসির আছে। বর্তমানে কোনও কারখানায় প্রবেশ করতে না দিলে বা কেউ তথ্য দিতে না চাইলে সেটা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানো হয়। আবার কারখানা পরিদর্শনের জন্য বিএসইসির কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে ঘটনা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তাই কারসাজির গভীর তদন্তে ডিএসইর আরও ক্ষমতা প্রয়োজন। কারসাজি বন্ধে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত এক প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চয়ই দেখেশুনেই আইপিও অনুমোদন করে। আর বিএসইসি অনুমোদন করলে সেটি তালিকাভুক্ত করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, বাজারের উন্নয়নে আইন-কানুনের কিছু পরিবর্তন ও সংশোধন প্রয়োজন। এগুলো আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তুলে ধরবো। বিএসইসি এই বাজারের উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রাখছে। তাই আইনের পরিবর্তন ও সংশোধনের বিষয়ে তারা ইতিবাচক সাড়া দেবেন বলে আশা করছি।




পুঁজিবাজারে আইপিওতে আসবে কালিয়ার রেপ্লিকা

পুঁজিবাজারে আসবে একমি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কালিয়ার রেপ্লিকা লিমিটেড। এটি একটি প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি। কোম্পানিটির আইপিও ইস্যু করবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল লিমিটেড ও এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে কায়লার রেপ্লিকা লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

বুধবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল লিমিটেড থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল প্যাকেজিং খাতের প্রতিষ্ঠান কায়লার রেপ্লিকা লিমিটেডের কর্পোরেট উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমিত পোদ্দার এবং কায়লার রেপ্লিকা লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- কায়লার রেপ্লিকা লিমিটেডের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা কাজি এমডি সাইফুল ইসলাম এফসিএমএ, একমি ল্যাবরেটরিজের নির্বাহী পরিচালক কাজী মোহাম্মদ বদরুদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা।




পুঁজিবাজারে আসছে টেকনো ড্রাগস

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতের প্রাথমিক পাবলিক অফারিংয়ের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসছে ওষুধ কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। এ লক্ষ্যে আগামী ১৪ অক্টোবর ঢাকায় একটি রোড শো করবে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পুঁজিবাজারে থেকে টাকা নিয়ে কোম্পানিটি কারখানা নির্মাণ ও সংস্কার করবে। যন্ত্রপাতি কেনা, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও বরাদ্দ বাবদ খরচ করবে। নরসিংদী জেলায় অবস্থিত কোম্পানিটি যাত্রা শুরু করে ১৯৯৬ সালে।

প্রিমিয়ামের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। এই টাকার মধ্যে ১৫ কোটি টাকা দিয়ে গাজীপুরে বিকে বাড়িতে নতুন কারখানা তৈরি করবে। নরসিংদির কারখানা সংস্কারে ব্যয় করবে ২৫ কোটি টাকা। নতুন যন্ত্রপাতি কিনবে ২৭ কোটি টাকার। কোম্পানি ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবহার করবে ৩০ কোটি টাকা। আর ৩ কোটি টাকা খরচ করবে আইপিও বাবদ।

২০১০ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানটি জুলাই ২০২২ থেকে ৩০ জুন ২০৩০ সালে আয় হয়েছে ২৭৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তাতে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৮ পয়সা। ৩০ জুন বছরে কোম্পানির পুনঃমূল্যায়নের পর শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএনভি) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৭৪ পয়সা।

দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ওষুধ প্রস্তুতকারকারী প্রতিষ্ঠানটির এর আগের বছর আয় হয়েছিল ৫০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সেই বছর কর-পরবর্তী প্রকৃত মুনাফা হয়েছিল ৪৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সে বছর শেয়ার প্রতি আয়(ইপিএস) ছিল ৫ টাকা ১০ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়াই এনএভি ছিল ২২ টাকা ৫৭ পয়সা।

পুঁজিবাজারে আসার আগে নিয়ম অনুসারে টেকনো ড্রাগস আগামী ১৪ অক্টোবর ঢাকায় রোডশোর আয়োজন করছে। যেখানে এটি প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কোম্পানটিকে তুলে ধরবে। রোড শোতে, মার্চেন্ট ব্যাংকার, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, অ্যাসেট ম্যানেজার, মিউচুয়াল ফান্ড ও যৌথ বিনিয়োগ স্কিম এবং স্টক ডিলারসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা রোডশোতে অংশ নেবেন।

এরপর কোম্পানির বিডিং অনুমোদনের পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের জন্য একটি অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ শতাংশ কমে প্রাথমিক শেয়ার কিনতে পারবে।

প্রতিষ্ঠানটিকে বাজারে আনতে ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে। আর বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ইস্যুটির রেজিস্টার হিসেবে কাজ করছে।




আইপিওর অর্থ ব্যয়ে সংশোধন আনবে মিডল্যান্ড ব্যাংক

পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেডের সংগৃহীত অর্থের একটা অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ‘‌আইপিও ব্যয়’ নিষ্পত্তির জন্য। এ অংশের অবশিষ্ট ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৯৭৬ টাকা ব্যাংকটি এখন ভিন্ন খাতে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এ অর্থ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করবে। পর্ষদে এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ব্যাংকটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে ব্যাংকটি।

তথ্য অনুসারে, আইপিও ব্যয় খাতের অর্থ ব্যয় ও ব্যাংকের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে আগামী ২৯ অক্টোবর বিকাল ৪টায় ইজিএম আহ্বান করেছে মিডল্যান্ড ব্যাংক। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ধরা হয়েছে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর। ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করে মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেডে থেকে মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়ার এক মাসের মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকটি বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে।




আইপিওর অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যয় করতে চায় নাভানা ফার্মা

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে যে কথা বলে টাকা উত্তোলন করেছিল নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, সেই সিদ্ধান্ত পাল্টানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির সর্বশেষ পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (৩ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ডিএসইর তথ্য মতে, আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ভবন নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এখন টাকা পাওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে কোম্পানির পর্ষদ। তারা সেই বরাদ্দের অর্থ ইউনিটের আধুনিকায়ন ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, আইপিওর অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা পরিবর্তন সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে হবে। সেই লক্ষ্যে আগামী ৩১ জুলাই কোম্পানির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সভায় পাশ হলে তারপর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন নিতে হবে।

উল্লেখ্য, আইপিওর মধ্যে পুঁজিবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা নতুন জেনারেল প্রোডাকশন বিল্ডিং নির্মাণে ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু ওই ভবন নির্মাণ না করে কিছু ইউনিটের আধুনিকায়ন ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসভিপিও ফ্যাসিলিটিজের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। জেনারেল লিকুইড ফ্যাসিলিটিজের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর এনিমেল হেলথ ফ্যাসিলিটিজের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

এর বাইরে পিডি ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

আইপিওর অর্থে ভবন নির্মাণ না করার যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, কোম্পানির বিভিন্ন ওষুধের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ভবন নির্মাণের পর ওষুধ উৎপাদনে যেতে বেশ সময় লাগবে। এই বাস্তবতায় নতুন ভবন নির্মাণ না করে বিদ্যমান ফ্যাসিলিটিজগুলো সম্প্রসারণ লাভজনক হবে।




আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে সময় পেলো ইউনিয়ন ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারের সময় বাড়ানো হয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আইপিও ফান্ড ব্যবহার করতে পারবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে আইপিও ফান্ড বাড়ানোর বিষয়ে অনুমতি পেয়েছে। ফলে ব্যাংকটি আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহারে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় পেয়েছে। তবে, বিষয়টি চূড়ান্ত হবে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে।




বিওতে জমা ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের আইপিও’র শেয়ার

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। গত ৮ মে (সোমবার) কোম্পানিটির আইপিওর শেয়ার সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা করা হয়।

সিডিবিএল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে ১৮ এপ্রিল ইলেক্ট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ইএসএস) এর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রো-রাটার ভিত্তিতে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ১০ হাজার টাকা আবেদনের বিপরীতে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা ৩৬টি শেয়ার এবং অনিবাসি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা ৭২টি শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন। কোম্পানিটি ১ কোটি ৬০ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলন করে। ওই ১৬ কোটি টাকার বিপরীতে ৩০৫ কোটি টাকার আবেদন করেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে প্রতিটি শয়ারের বিপরীতে ১৯.০৭ গুণ আবেদন বেশি পড়ে।

জানা গেছে, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ গত ৩ থেকে ৮ এপ্রিল কোম্পানিটির আইপিও আবেদন গ্রহণ সম্পন্ন করে। এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৮৫৩তম কমিশন সভায় কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে ১ কোটি ৬০ হাজার শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা তুলবে। এই জন্য প্রতিটি শেয়ারের অফার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। উত্তোলিত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, এফডিআর বিনিয়োগ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করা হবে।

২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির একচ্যুয়ারাল ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুযায়ী মোট উদ্বৃত্ত ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পূর্বে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।




ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের আইপিও আবেদন শুরু

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমতি পাওয়া ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণ সোমবার (৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে। এ আইপিও আবেদন গ্রহণ চলবে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৮৫৩তম কমিশন সভায় কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে ১ কোটি ৬০ হাজার শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা তুলবে। এই জন্য প্রতিটি শেয়ারের অফার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। উত্তোলিত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, এফডিআর বিনিয়োগ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করা হবে।

২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির একচ্যুয়ারাল ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুযায়ী মোট উদ্বৃত্ত ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পূর্বে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

 




শেয়ারবাজার থেকে ৯০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে বাংলালিংক

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৯০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে বাংলালিংক। এ জন্য অভিহিত মূল্যে বা ১০ টাকা করে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়বে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২১ মার্চ) শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের () সঙ্গে বৈঠক করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সভায় বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদসহ বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলালিংকের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান তারজিগলুর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

বাংলালিংকের পেইড আপ ক্যাপিটাল আট হাজার কোটি টাকা। নতুন করে আরও ৯০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আইপিওর ফিক্স প্রাইস পদ্ধতিতে বাংলালিংক শেয়ারবাজারে থেকে ৯০০ কোটি টাকা উত্তোলন করতে চায়।

এর আগে গ্রামীণফোন ও রবি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

বাংলালিংক তালিকাভুক্ত হলে বড় তিনটি মোবাইল অপারেটর শেয়ারবাজারে চলে আসবে।

মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি বাংলালিংক মাল্টার টেলিকম ভেঞ্চারস লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা গ্লোবাল টেলিকম লিমিটেডের ১০০ শতাংশ মালিকানাধীন একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে চার কোটি গ্রাহক রয়েছে।

২০২২ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির আয় পাঁচ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ডাটা খাতে আয় হয়েছে চার হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা।




আন্ডার সাবস্ক্রিপশন মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও

নানা অনিয়ম, জালিয়াতি এবং লাগামহীন ঋণ খেলাপিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক খবরে বিপাকে পড়েছে ব্যাংক খাত। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আস্থার সংকট। যার প্রতিফল দেখা গেছে পুঁজিবাজারে। ফলে আইপিওর শেয়ার কেনার লোক পাচ্ছে না চতুর্থ প্রজন্মের মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড।

ব্যাংকটির আইপিওতে আন্ডার সাবস্ক্রিপশন হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম বিনিয়োগকারী কোম্পানির শেয়ার পেতে আবেদন করেছেন, যা ব্যাংক খাতের কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ঘটনা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির তথ্য মতে, ব্যাংকটি ৭ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৭০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের আবেদন গ্রহণ করে। এসময়ে ব্যক্তি-প্রাতিষ্ঠানিক এবং দেশি-বিদেশিসহ মোট ১৫ হাজার ৩৩৮টি বিনিয়োগকারীর আবেদন জমা পড়েছে। এই বিনিয়োগকারীরা ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংকটির ৫ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ১৫০টি শেয়ার কিনতে আবেদন করেন। যা কোম্পানির ৭ কোটি শেয়ারের ৭৪ শতাংশ। এটি পুঁজিবাজারে ইতিহাসে আইপিওর বাজারের মন্দার রেকর্ড। তবে আইপিও বাতিল হচ্ছে না।

নিয়ম অনুযায়ী, আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ারে যদি বিনিয়োগকারীদের আবেদন ৬৫ শতাংশ জমা পড়ে। তবে বাকি ৩৫ শতাংশ শেয়ার আন্ডার রাইটারকে কিনতে হবে। ফলে কোম্পানির আন্ডার রাইটারকে ২৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার অর্থাৎ ১ কোটি ৮১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০টি শেয়ার বা ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকার শেয়ার কিনতে হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের মন্দা অবস্থা ও ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম হওয়া আন্ডার সাবস্ক্রিপশন হয়েছে। তবে ইস্যু বাতিল হয়নি। বাকি শেয়ার আন্ডার রাইটার কিনে নেবে।