নন-লাইফ বীমা কোম্পানির সিএফওদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড.এম আসলাম আলম।

রোববার নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের (সিএফও) জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্ধোধন করে তিনি এ আহ্বান জানান। বীমা প্রতিষ্ঠানের সিএফওদের আন্তর্জাতিক মান অনুসরণপূর্বক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বীমা চুক্তিতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস ১৭) নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

এ সময় বীমা প্রতিষ্ঠানের সিএফওদের আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেন তিনি। কর্মশালায় সিএফওদের আইএফআরএস ১৭ নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের ফেলো মেম্বার আশিক ইকবাল, এফসিএ।

আইডিআরএ জানায়, এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ন্ড ও অডিট রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ন্ড অনুসরণ করে বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।




একাডেমী অব লানিংয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধে আইডিআরএ’র নির্দেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট

একাডেমী অব লার্নিং লিমিটেডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইডিআরএ)এর নির্দেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একাডেমী অব লার্নিংয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইডিআরএ’র নির্দেশের ওপর হাইকোর্ট এ স্থগিতাদেশ দেয়।

জানা গেছে, বীমা এজেন্ট প্রশিক্ষণ বন্ধে আইডিআরএ’র নির্দেশের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১ আগস্ট হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে একাডেমী অব লার্নিং লিমিটেড। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট লানিং লিমিটেডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধে আইডিআরএ’র নির্দেশর ওপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেয়।

এ বিষয়ে জানতে একাডেমী অব লার্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লার সঙ্গে করা যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ২০১৪ সাল থেকে বীমা এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। এ খাতের উন্নয়নে আমাদের ভূমিকা অনেক। আমরা এ খাতের জন্য আরও কাজ করতে চাই। অথচ আইডিআরএ আমাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আমরা বারবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি আমাদের আবেদনে সাড়া দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত আইডিআরএ’র নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে। তাই আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাতে কোনো আইনী বাধা নেই।

আইডিআরএ’র নির্দেশের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএ’র মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানি না। বিষয়টি জেনে বুঝে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।




তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের সিইও আবুল কালাম আজাদের নিয়োগ অনুমোদন

তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে আবুল কালাম আজাদের নিয়োগ অনুমোদন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) আইডিআরএ’র উপ-পরিচালক মো. সোলায়মান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২৬ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ২৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য তার নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে আইডিআরএ।

আবুল কালাম আজাদ ১ আগস্ট ২০০১ সালে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে উপ-মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর দায়িত্ব পালন করেন। তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে যোগদানের আগে তিনি ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডে সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আবুল কালাম আজাদ তাকাফুলের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ একাডেমির অতিথি বক্তা ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্সে একাডেমির প্যানেল লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 




ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আইডিআরএ’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, বীমা দাবি পরিশোধ, বীমা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয় বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সাথে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় মতিঝিলস্থ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী। সভায় বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনসহ বিআইএ’র নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আইডিআরএ’র পক্ষে সভায় উপস্থিত ছিলেন সকল সদস্য, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, উপ-পরিচালক, সংশ্লিষ্ট সহকারী পরিচালক ও কর্মকর্তাগণ।

গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইডডিআরএ’র মুখপাত্র ও পরিচালক (উপসচিব) মো. জাহাঙ্গীর আলম। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও জানানো হয়, সভায় বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বিআইএ’র সার্বিক সহযোগিতায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। যেহেতু বিভিন্ন কোম্পানিতে নানা ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে তাই সমস্যাসমূহ দূর করতে হলে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও বিআইএ’র সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভায় বীমা আইন ও সকল আর্থিক বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ, বীমা দাবি দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল কোম্পানির প্রচার প্রচারণা বৃদ্ধি, পলিসি বিপননে এজেন্ট কর্তৃক প্রতারণা ও দুর্ভোগের আশু সমাধানে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া, বীমা খাতে বিদ্যমান সমস্যাবলি/চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় স্ট্রেকহোল্ডারদের আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও কাজ করা, বীমা পণ্যকে যুগোপযোগী ও আকর্ষণীয় করা, কোম্পানিসমূহের ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে আরো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ বীমা খাত উন্নয়ন প্রকল্প হতে গৃহীত বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে বীমা খাতের গুণগত পরিবর্তন আনয়নে সকলে একসাথে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইনসুরটেক ও ব্যাংকাসুরেন্স বীমার প্রসারে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।




আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এপিএ মূল্যায়ন র‌্যাংকিংয়ে ৮ম অবস্থানে আইডিআরএ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)’র বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) মূল্যায়নে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র ৫৮.৮১ শতাংশ নম্বর পেয়ে ৮ম অবস্থান রয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাথে এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাসমূহের স্বাক্ষরিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির এই চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয় বুধবার (৩০ আগস্ট)। যুগ্মসচিব ও এপিএ ফোকাল পয়েন্ট মাকছুমা আকতার বানু এতে স্বাক্ষর করেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করা, সুশাসন সংহতকরণ এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে রূপকল্প ২০৪১ এর যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এক্ষেত্রে বীমা খাতে অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা সুসংহতকরণে ৬টি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা বাস্তবায়ন; বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বীমা বাস্তবায়ন; বীমা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান; বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি; লাইফ, নন-লাইফ বীমা পলিসি গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী কর্মী বীমা গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি।

বীমা খাতের আরো ৩টি প্রতিষ্ঠান এই চুক্তিতে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে জীবন বীমা করপোরেশন ৯৫.৮৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে ৪র্থ স্থানে রয়েছে। ৯২.২৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে ৬ষ্ঠ হয়েছে সাধারণ বীমা করপোরেশন। আর ৮৩.৬৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে ৭ম হয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি। চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ স্থানে রয়েছে-বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, প্রতিষ্ঠানটির প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৫৯ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট, প্রাপ্ত নম্বর ৯৭.৯৫ শতাংশ। এ ছাড়াও ৯৭.৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, সংস্থাটির প্রাপ্ত নম্বর ৯২.৮০ শতাংশ। আইডিআরএ’র পরিচালক ও মুখপাত্র (উপসচিব) জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে বলেন, প্রথমবারের মতো ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে অংশ নিয়েছে আইডিআরএ। চুক্তির বিষয়গুলো বুঝে সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করতেই বেশ কিছু সময় চলে যায়। এ কারণে গেলো অর্থ বছরে আমরা তেমন ভালো করতে পারিনি।

তবে আশা করছি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের এপিএ চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা ভালো করতে পারব। এরইমধ্যে আমাদের কার্যক্রম অনেকটা গুছিয়ে আনা হয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলোও এই চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে শুরু করেছে। এপিএ কার্যক্রম পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বীমা খাতের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে, বলেন জাহাঙ্গীর আলম। উল্লেখ্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে অসাধারণ, ৯০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে অতি উত্তম, ৮০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে উত্তম, ৭০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে চলতি মান এবং ৬০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে চলতি মানের নিম্নে ধরা হয়েছে।




‘ব্যাংকাসুরেন্স’ চালু হলে দেশের লাখ লাখ বীমাকর্মী কর্মহীন হবে

‘ব্যাংকাসুরেন্স’ চালু হলে দেশের লাখ লাখ বীমাকর্মী কর্মহীন হয়ে যাবে। তারা বেকারত্বের অভিশপ্ত জীবনের শিকার হবে। ফলে বীমা সেক্টরে চরম বিশৃংখলা দেখা দিবে। জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে যা কোনভাবেই কাম্য নয়। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি স্বার্থান্বোষী মহল জাতীয় নিবাচনের আগে এই ধরণের অবাস্তব প্রকল্প ব্যাংকাসুরেন্স চালু করতে চায়।

সোমবার বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সামনে বাংলাদেশ নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইনচার্জ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনআইএ) উদ্যোগে এক অবস্থান কর্মসূচী ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইনচার্জ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম সৈনিক আহমেদের সঞ্চলনায় সিনিয়র সহ-সভাপতি নরুল হুদা ডিউকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

নেতারা বলেন, ব্যাংকাসুরেন্স ইউরোপীয় দেশের জন্য প্রযোজ্য। সেখানে লোকবল সংকট থাকায় একজন কর্মীকে দিয়ে একাধিক কাজ করানো হয়। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পটি পার্শবর্তী দেশ ভারতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা বীমা পেশায় নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যাংকাসুরেন্স প্রকল্প বন্ধ করার জন্য রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যানের অফিসের সামনে অবস্থান করে প্রতিবাদ কর্মসুচী পালন করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই ইতোপূর্বে ৭৫ সার্কুলার দিয়ে নন-লাইফ সেক্টরে সকল কর্মকর্তাকে এক কলমের খোচায় ডিএমডি, এডিশনাল এমডি পদবীধারী সবাইকে এজেন্ট করে দিয়েছিলেন। সেদিনও আমরা রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ৭৫ সার্কুলারের বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বীমা পেশা সমুন্নত রাখার স্বার্থে ওই সার্কুলার স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিনও গণমাধ্যম আমাদের পাশে ছিলো। আমরা আশা করি আজও ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য তারা আমাদের পাশে থাকবেন।

বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান একজন সফল বীমাবিদ ছিলেন। আজও আমরা বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা বীমা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে বর্তমান ব্যাংকাসুরেন্স প্রকল্পটি স্থগিত করার নির্দেশ প্রদান করে আমাদের পাশে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।




ভুতুড়ে পদ সৃষ্টি করেছে বেস্ট লাইফ

বীমা কোম্পানির জনবল কাঠামোতে সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-১, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-২ এবং সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-৩ নামের কোনো পদ না থাকলেও চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানি বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এই পদে জনবল নিয়োগ দিয়েছে। কোম্পানিটির বিভিন্ন ব্রাঞ্চে নিয়োগপ্রাপ্তরা দায়িত্বও পালন করছেন।

বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) করে দেওয়া জনবল কাঠামো অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোতে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট (এফএ), ইউনিট ম্যানেজার (ইউএম), ব্রাঞ্চ ম্যানেজার (বিএম), সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম), ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম), জেনারেল ম্যানেজার (জিএম), সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি), উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), অতিরিক্ত ব্যবস্থপনা পরিচালক এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদ রয়েছে।

কিন্তু বেস্ট লাইফ সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-১, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-২ এবং সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-৩ নামের পদ সৃষ্টি করে বীমা আইন লঙ্ঘন করছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল কাঠামোতে যে পদ নেই, সেই পদ সৃষ্টি করে লোক নিয়োগ দেওয়া প্রতারণার শামিল। এগুলো ভুতুড়ে পদ। এতে একদিকে যেমন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বীমা খাত নিয়ে সাধারণের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নেতিবাচক ধারনা। তাছাড়া কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও বাড়বে।

জানা গেছে, বেস্ট লাইফ বিভিন্ন সাংগঠনিক মিটিংয়ের ব্যানারে, প্রচারণায় এসব পদগুলো হরহামেশাই ব্যবহার করছে।

গত ১২ মে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বেস্ট লাইফের ‘শাহজাদপুর মডেল জোন’-এর শুভ উদ্বোধন ও উন্নয়ন সভার ব্যানারে আলোচ্য পদগুলোর উল্লেখ ছিলো। সভায় সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-১ পদে মো. সাখাওয়াত হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-২ পদে মো. কাজী মোতাহের হোসেন পিন্টু এবং সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক-৩ হিসেবে মো. সাইফুল ইসলামের নাম ব্যানারে দেখা যায়।

ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম এ মতিন। বীমা কোম্পানির জনবল কাঠামোতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নামে কোনো পদ না থাকলেও ওই ব্যানারে এম এ মতিনকে সিইও এবং এমডি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। তিনি সিইও হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করলেও ব্যানারে তার উল্লেখ ছিল না। এমনকি কোম্পানির ওয়েবসাইটেও তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের কথা উল্লেখ নেই।

গত ২৫ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সিকদার হাউজে বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বাঞ্ছারামপুর মডেল শাখার শুভ উদ্বোধন ও ব্যবসা উন্নয়ন সভার ব্যানারেও ভুতুড়ে কয়েকটি পদের নাম উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে কুমিল্লা বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মো. মজিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল জোনের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মো. মতিউর রহমান, বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলা সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আলহাজ্ব কাজী মো. লিটন মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে বাঞ্ছারামপুর মডেল শাখার জেনারেল ম্যানেজার ও ইনচার্জ মোল্লা মো. নাসির আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সিইও এম এ মতিন।

ভুতুড়ে এসব পদের বিষয়ে জানতে চাইলে বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম এ মতিন বলেন, সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী পদ শুধু সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তবে বেতন কাঠামো কম-বেশি বোঝাতে ১, ২ বা ৩ উল্লেখ করেছি।

বেতন কাঠামোর দোহায় দিয়ে পদ হিসেবে এগুলো ব্যবহার করার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো কিছু ব্রাঞ্চ অফিস করে। এটা তাদের ব্যাপার।

জানতে চাওয়া হয়, আপনার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একাধিক উন্নয়ন সভায় এসব পদ ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা? তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ব্যানারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ উল্লেখের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটা মিটিংয়ে আছি, এখন এতো কথা বলা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেস্ট লাইফের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন সিইও যোগদানের পর এসব পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পদগুলো আগে ছিল না। এসব পদের কারণে বছর শেষে কোম্পানির খরহ হবে ১৬০ শতাংশ পর্যন্ত। পদগুলোতে মূলত সিইও’র আত্মীয়-স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন এমএমডির অধীনে এমডিডি-১, তার অধীনে এমএমডি-২ এবং এএমডি-২-এর অধীনে রাখা হয়েছে এমএমডি-৩।

একাধিক বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসব আজগুবি পদসৃষ্টি বীমা খাতের জন্য ‘অশনি সংকেত’। বীমা খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এগুলো বন্ধ হওয়া জরুরি।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক ও মুখপাত্র (উপসচিব) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমএমডি-১, ২,৩ এমন কোনো পদ আইডিআরএর সাংগঠনিক কাঠামোতে নেই। কোনো কোম্পানি এমন পদ সৃষ্টি করলে তা অবশ্যই নিয়মবহির্ভূত। বীমা কোম্পানিতে এমডি পদ বলেও কিছু নেই।

ভারপ্রাপ্ত সিইও’র বিষয়ে তিনি বলেন, যাকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে অবশ্যই ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব উল্লেখ করতে হবে। কারণ যিনি চলতি দায়িত্বে আছেন তিনি পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নাও পেতে পারেন।




নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ের দিকে গুরুত্ব দিবো-ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন

স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন পলিসি ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ইতিপূর্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নতুন বীমা কোম্পানিগুলোর বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয় বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। সেই নির্দেশে স্বদেশ ইসলামী লাইফে তদন্ত করে কোম্পানির অনিয়ম ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে নতুন পলিসি ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা দিলো আইডিআরএ।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিন বলেন, আইডিআরএ আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আমাদের ভালো-মন্দ দেখভালের দায়িত্ব তাদের। এখন হয়তো আমাদের অসঙ্গতি পেয়েছে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলে আবার তারাই আমাদের ব্যবসা করার অনুমতি দিবে। ইতিপূর্বে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কয়েকটি কোম্পানিকে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সেগুলোকেও পরবর্তীতে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে। নতুন পলিসি ইস্যু না করার ফলে আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে ঠিকই কিন্তু এ সময়ে আমরা নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ের দিকে গুরুত্ব দিব। আমার দায়িত্ব পালনকালে নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ের হার যেটা কমছিল সেটা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, আমি যখন ২০১৯ সালে মুখ্য নির্বাহীর দায়িত্ব ভার গ্রহণ করি সে বছর ব্যবসা করি ৬ কোটি ২ লাখ টাকা, যার মধ্য নবায়ন ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২০ সালে ২ কোটি ৫০ লাখ নবায়নসহ মোট প্রিমিয়াম আয় করেন ১০ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ৪ কোটি ১ টাকা নবায়নসহ মোট ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করি। দায়িত্ব নেয়ার সময় কোম্পানির অবস্থান তেমন একটা সুবিধাজনক ছিল না। যার জন্য আমার অর্জিত সাফল্য ফুটিয়ে তুলতে পারিনি। এছাড়া, দায়িত্ব পালনকালে অনেক সময় নিয়মিত বেতন-ভাতা না নিয়ে এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এককালীন বেতন-বাতা না দিয়ে ভেঙে ভেঙে বেতন ভাতা দিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম ও নবায়নের অর্থ দিয়ে এসবি ও মৃত্যু দাবি পরিশোধ করে গ্রাহক সেবা সুনিশ্চিত রেখে কোম্পানির সুনাম রক্ষা করে কাজ করেছি এবং প্রতিনিয়ত ব্যবসা ও সংগঠন বৃদ্ধি করে কোম্পানিকে একটি পর্যায়ে নিয়ে এসেছি তখনি আইডিআরএ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা এলো। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস এ সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠবো। কোম্পানিকে গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।

সম্প্রতি স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহীকে পাঠানো এক চিঠিতে আইডিআরএ’র তদন্তে প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, লাইফ ফান্ড গঠন করতে না পারা, পরিশোধিত মূলধন ও মূলধন থেকে অর্জিত সুদের অর্থ খরচ করা, পলিসি নবায়নের হার কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ায় পলিসিহোল্ডারের স্বার্থে নতুন পলিসি বিক্রয় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ৮ বছরে (২০১৪ সাল হতে ২০২১ সাল) ২১৯%, ১৪৯%, ১২৬%, ৯৪%, ১১৫%, ৪১%, ৪৫% অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে। অনুমোদিত সীমার চেয়ে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের হার ৭৮%; যা বীমা আইন ২০১০ এর ৬২ ধারার লঙ্ঘন।

এই সময়ে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় ৪২ কোটি টাকা অথচ মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট প্রিমিয়াম আয়ের চেয়ে ১১ কোটি টাকা বেশি খরচ করেছে। এ কারণেই কোম্পানির লাইফ ফান্ড তৈরি হয়নি। ফলে গ্রাহকের দাবি পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়েছে। অপর দিকে কোম্পানি পরিশোধিত মূলধন ও মূলধন হতে অর্জিত সুদও খরচ করেছে বীমা কোম্পানিটি।

২০২১ সালে স্বদেশ ইসলামী লাইফের ২য় বর্ষে নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহের হার মাত্র ২৫%। ৩য় থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে পলিসি নবায়নের এ হার আরও কমে যায়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, কোম্পানিটির সামগ্রিক ব্যবসায়িক মডেল বা কৌশল অত্যন্ত দুর্বল।

আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তদন্ত দল মনে করছে, কোম্পানির বীমা ব্যবসার কার্যক্রম বীমাগ্রহীতা তথা বীমা শিল্পের স্বার্থের পরিপন্থী। বীমা গ্রাহকরা ঝুঁকিতে আছে। এ অবস্থায় নতুন বীমা পলিসি (প্রথম বছরের) ইস্যুর মাধ্যমে আরও অধিক সংখ্যক গ্রাহককে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।




জাতীয় বীমা নীতি শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে

২০১৪ সালে প্রণীত জাতীয় বীমা নীতি সংশোধন ও হালনাগাদ করছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য সংশোধিত জাতীয় বীমা নীতি শিগগিরই চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী।

ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে প্রণীত জাতীয় বীমা নীতি বাস্তবায়ন পরিকল্পনার মেয়াদ ২০২১ সালেই শেষ হয়ে গেছে। এখন এই বীমা নীতিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন এনে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে।

লক্ষ্য পূরণে জাতীয় বীমা নীতিতে স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও, বেশিরভাগ লক্ষ্যই অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে। সূত্র বলছে, গত বছরেই জাতীয় বীমা নীতির অবাস্তবায়িত কর্মপরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের সময়সীমা পুনঃনির্ধারণপূর্বক সাল পরিবর্তনের সংশোধিত প্রস্তাব অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় আইডিআরএ। একইসঙ্গে কিছু কর্মপরিকল্পনা যুগোপযোগী না হওয়ায় সংশোধনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়।

বীমা শিল্পের সঠিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নে ২০১৪ সালে জাতীয় বীমা নীতি প্রণীত হয়। যার উদ্দেশ্য ছিল বীমা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টি, বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা উন্নয়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায়, বীমা সেবা পরিচালনায় পেশাদারিত্ব সৃষ্টি এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ। বীমা খাতকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে ৫০ দফা নীতিগত উদ্দেশ্য রেখে প্রণীত হয় বীমা নীতি।

২০২১ সালের মধ্যে কর্মকৌশল বাস্তবায়নে নেয়া হয় স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। বিভিন্ন বিষয়ে প্রবিধান প্রণয়ন যার মধ্যে অন্যতম। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এসব কর্মকৌশল বাস্তবায়ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। ফলে নতুন করে সময় বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয় ২০২১ সালের মেয়াদ শেষে।

জাতীয় বীমা নীতি সংশোধনের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইডিআরএ’র সদস্য (আইন) মো. দলিল উদ্দিন ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে বলেন, বীমা নীতির অনেকগুলো বিষয় সংশোধন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

ইসলামিক ইন্সুরেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান তৈরির দিক নির্দেশনা রেখে ২০১৪ সালের ২ জুন জাতীয় বীমা নীতির খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ১১ জুন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থমন্ত্রণালয়। তবে মেয়াদ শেষ হলেও ইসলামিক ইন্স্যুরেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

৫০ টি অ্যাকশন প্ল্যানসহ বীমাখাতে দক্ষ লোকবল তৈরী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গ্রুপ বীমা চালু করা, বীমা সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বেসরকারি খাতে পেনশন স্কিম চালু করা, প্রমিত আচরণবিধি, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও জাতীয় বীমা দিবস চালু করার দিকনির্দেশনা ছিল জাতীয় বীমা নীতিতে।

বীমাসংক্রান্ত সব সমস্যাও উঠে এসেছিল জাতীয় বীমা নীতিতে। কীভাবে সমাধান হবে সেটিও বলা ছিল।

সার্বিকভাবে বীমা নীতির উদ্দেশ্য ছিল, গতানুগতিক ধারা থেকে বীমা শিল্পকে বের করে যুগোপযোগী নিয়মতান্ত্রিক ধারায় চালিত করার প্রয়াসে সুষ্ঠু নীতিগত কাঠামোয় আনয়ন করে বীমাকারীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায়, বীমা শিল্পে পেশাদারিত্ব সৃষ্টি এবং অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করে বীমা খাতকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে সময়োপযোগী দিকনির্দেশনার মাধ্যমে দেশের সব স্তরের মানুষকে তথা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিকে বীমার আওতায় নিয়ে এসে বীমা সেবা সহজপ্রাপ্য ও বিস্তৃত করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বীমার সুফল নিশ্চিত করা এবং ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে বীমা খাতে অবদান উল্লেখযোগ্য হারে (সম্ভাব্য ৪ শতাংশ) উন্নীত করা। তবে দীর্ঘ মেয়াদেও জিডিপিতে বীমার অবদান বাড়ানোর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।




ব্যাংকাসুরেন্সের  গাইডলাইন চূড়ান্ত, প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে আগামী মাসেই

প্রতীক্ষিত ব্যাংকাসুরেন্স চালু হচ্ছে শিগগিরই। ইতিমধ্যে ব্যাংকাসুরেন্স গাইডলাইন চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আগামী মে মাসেই গাইডলাইনসহ ব্যাংকাসুরেন্স চালুর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত বছর ব্যাংকাসুরেন্স গাইডলাইন ফর ব্যাংকস চূড়ান্ত করে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেই নির্দেশিকা ইংরেজি ভাষায় হওয়ায় বাংলায় প্রণয়ণের নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কর্পোরেট এজেন্ট বা ব্যাংকাসুরেন্স গাইডলাইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললেই দেশে ব্যাংকাসুরেন্স চালু করতে খুব বেশি দেরি হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে বলেছেন, ব্যাংকাসুরেন্স গাইডলাইন এখন শুধু মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মে মাসেই এটি চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে আশা করছি। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ব্যাংকাসুরেন্স চালু করতে কালক্ষেপণ হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

ব্যাংকাসুরেন্স চালু হলে দেশের বীমা খাত বহুদূর এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট বি এম ইউসুফ আলী। তিনি মনে করেন, যেসব গ্রাহকের কাছে বীমা কোম্পানিগুলো এখনো পৌঁছাতে পারেনি; ব্যাংকাসুরেন্স তাদেরকে সেখানে পৌঁছে দেবে। বীমাখাতের উন্নয়নের জন্য ব্যাংকাসুরেন্স চালু করা খুবই জরুরি। আশা করি নির্দেশিকা প্রণয়ণের পর খুব শিগগিরই এটি চালু হবে। বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকাসুরেন্স চালুর সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। তারা শুধু গাইডলাইনসের অপেক্ষায় রয়েছেন।

জানতে চাইলে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জিয়াউল হক ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে বলেন, ব্যাংকাসুরেন্স চালুর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

‘কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স) নির্দেশিকা, ২০২২’ শিরোনামে আইডিআরএ’র গাইডলাইনের খসড়ায় কর্পোরেট এজেন্টের যোগ্যতা, প্রধান ব্যাংকাসুরেন্স নির্বাহীর যোগ্যতা, ব্যাংকাসুরেন্স কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স ইস্যু, লাইসেন্স নবায়ন ও বাতিল, লাইসেন্স ফি ও মেয়াদকাল, লাইসেন্স স্থগিত এবং বাতিল, বীমাকারী ও ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংকাসুরেন্স চুক্তি, প্রিমিয়াম সংগ্রহ, বীমা পণ্য বিক্রয় পদ্ধতি, কর্পোরেট এজেন্টের আচরণবিধি, কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স) এর কমিশন, দাবি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ ২৫ টি বিষয় নিয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যাংক বীমাকারীর কর্পোরেট এজেন্ট হিসাবে কাজ করবে। ব্যাংকাসুরেন্স পদ্ধতি চালুর জন্য ব্যাংকের নিজস্ব কোড অব কনডাক্ট থাকতে হবে। ব্যাংক কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স চাইলে ব্যাংক ও বীমাকারীর মধ্যকার খসড়া চুক্তিপত্র; ব্যাংকাসুরেন্স চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পত্র; পে-অর্ডার বা একাউন্ট পেয়ি চেক দাখিল করতে হবে।

বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ব্যাংককে তিন বছরের জন্য কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদান করবে। কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স ফি বাবদ কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স নবায়নের সময় ব্যাংক ৫০ হাজার টাকা কর্তৃপক্ষের বরাবর জমা দিবে।

খসড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যাংক বীমাকারীর পক্ষে বীমাকারীর নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করবে। কর্পোরেট এজেন্ট বীমাকারীর পক্ষে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বীমাকারীর রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইন রিপোর্ট প্রদান করবে। কোন অবস্থাতেই কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স) এর প্রাপ্য কমিশন বাবদ আয় প্রিমিয়াম আয়ের সাথে সমন্বয় করা যাবে না। বীমা চুক্তি সম্পাদনের জন্য বীমাগ্রহীতার প্রস্তাবপত্রসমূহ, বীমাকারী কর্তৃক প্রদত্ত বীমাদলিলাদি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুসৃত হবে, কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স) এর কোন প্রভাব থাকবে না।

খসড়া নির্দেশিকায় বীমা পণ্য বিক্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ব্যাংক কর্পোরেট এজেন্ট হিসেবে অ্যাকাউন্টহোল্ডার বা গ্রাহকের নিকট লাইফ এবং নন-লাইফ বীমা কোম্পানির বীমা পরিকল্প বিক্রয়ের জন্য বিপণন চ্যানেলসমূহ যেমন: শাখা, টেলিমার্কেটিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, ওয়েবসাইট, অ্যাপস ইত্যাদির মাধ্যমে বীমা সুবিধার প্রস্তাবনা, বিজ্ঞাপন, বিক্রয়, বিতরণ অথবা বাজারজাতকরণ করতে পারবে; বীমাকারী বীমা পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, গ্রাহক বীমার প্রস্তাবপত্র পূরণ করিবে এবং প্রিমিয়াম জমার বিপরীতে বীমা গ্রাহককে কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স) প্রাথমিক রশিদ প্রদান করিবে। যথাযথ অবলিখন প্রক্রিয়া সম্পাদনের পর বীমা চুক্তিটি বীমাকারী কর্তৃক গৃহীত হইলে চূড়ান্ত রশিদ ও বীমাদলিল বীমা গ্রাহকের অনুকূলে প্রদান করা হইবে। বীমাকারী কর্তৃক বীমা পলিসি গৃহীত না হইলে এবং ইহা কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স)-কে জানানোর তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রিমিয়াম বাবদ প্রদত্ত অর্থ আবশ্যিকভাবে বীমাগ্রহীতাকে বীমাকারী ফেরত প্রদান করিবে।

খসড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যাংকের কোন প্রকার দায় থাকবে না বরং বীমা দাবির সম্পূর্ণ অর্থ বীমাকারী বীমাগ্রহীতার সাথে চুক্তি মোতাবেক প্রদান করবে। খসড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ব্যাংক কর্তৃক কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বীমা পরিকল্প গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না; একটি ব্যাংককে সর্বোচ্চ ৪টি লাইফ ও ৪টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির সাথে চুক্তি সম্পাদনের নিমিত্তে কর্পোরেট এজেন্ট এর লাইসেন্স প্রদান করা হবে। একটি বীমা কোম্পানি সর্বোচ্চ ৪ টি ব্যাংকের সাথে ব্যাংকাসুরেন্স চুক্তি করতে পারবে।

কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স) এর কমিশন বিষয়ে খসড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত সার্কুলার অনুসরণ করে নন-লাইফ বীমাপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকাসুরেন্স কর্পোরেট এজেন্টকে বীমাকারী প্রিমিয়ামের সর্বোচ্চ ১৫% হারে কমিশন দিবে। জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ২০ বছর বা তদুর্ধ্ব মেয়াদি পরিকল্পের জন্য প্রথম বর্ষ প্রিমিয়ামের সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ব্যাংককে কমিশন দেয়া যাবে।

 

নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স) চুক্তির আওতাধীন ব্যাংক তাদের হিসাবধারীদের নিকট ঋণ বা সঞ্চয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমা কোম্পানির পক্ষে পৃথক গোষ্ঠী বীমা চুক্তির আওতায় বীমা পরিকল্প বিক্রয় করতে পারবে (যেমন: ক্রেডিট কার্ড, গৃহ ঋণ, গাড়ি ঋণ বা যে কোন ঋণ কিংবা যে কোন ধরনের সঞ্চয় স্কিম)। এক্ষেত্রে বীমা কোম্পানি কমিশন হিসাবে মোট প্রিমিয়ামের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ কর্পোরেট এজেন্টকে (ব্যাংকাসুরেন্স) প্রদান করবে। প্রিমিয়াম কালেকশন ফি, লভ্যাংশ বন্টন বা অন্য কোন নামে কোন প্রকার অর্থ বা কমিশন কর্পোরেট এজেন্ট (ব্যাংকাসুরেন্স)-কে প্রদান করা যাবে না। তবে নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ে আরও বেশি সচেতন করা এবং উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে নবায়ন প্রিমিয়াম নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্জনের পর বোনাস প্রদান করা হবে।

 

ব্যাংক অ্যান্স্যুরেন্স ব্যবসার জন্য প্রণীত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ ব্যবসা করতে হলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। ব্যাংক অ্যাসুরেন্স ব্যবসার জন্য ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ হারের (সিআরআর) অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম হতে পারবে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধিত মূলধন কাঠামো রেটিং গ্রেড (ব্যাসেল-৩) অনুসারে ক্রেডিট রেটিং-২ এর চেয়ে কম হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত ন্যূনতম ক্যামেলস রেটিং-২ পূরণ করবে। এছাড়া ব্যাংক অ্যাসুরেন্স ব্যবসার অনুমোদন পেতে হলে ব্যাংকগুলোকে সর্বশেষ তিন বছর ইতিবাচক নিট মুনাফায় থাকতে হবে। এ ব্যবসার জন্য ব্যাংকগুলোর একটি কার্যকর ব্যাংক অ্যাসুরেন্স ব্যবসার পরিকল্পনাও থাকতে হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে একটি মডেলের মাধ্যমে ব্যবসা করতে হবে। তার জন্য ব্যাংকে আলাদা একটি বিভাগ খুলতে হবে, যার অধীনে ব্যাংক গ্রাহকরা বীমা পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। প্রতিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমতির রেজুলেশনের কপিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

ব্যাংক এবং বীমাকারীর মধ্যে স্বাক্ষরিত ব্যাংক অ্যাসুরেন্স এজেন্সি চুক্তির একটি অনুলিপি বীমা কোম্পানি ও ব্যাংকের আইনজীবী দ্বারা যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি পাওয়ার পর বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএতে কর্পোরেট এজেন্ট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। আইডিআরএ থেকে লাইসেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করবে ব্যাংক।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কর্পোরেট এজেন্ট লাইসেন্স পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে আইডিআরএর সব প্রবিধান মেনে চলতে হবে। প্রধান ব্যাংক অ্যাসুরেন্স নির্বাহীকে কোনো স্বীকৃত বিশ^বিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে, যেটি বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা বিদেশের অধিভুক্ত বিশ^বিদ্যালয় স্বীকৃত। এছাড়াও প্রধান কর্মকর্তাকে ব্যাংকিং অথবা বীমা কোম্পানিতে কমপক্ষে ১২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

প্রধান ব্যাংক অ্যাসুরেন্স কর্মকর্তার পদমর্যাদা হবে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নিচের পাঁচটি গ্রেডের মধ্যে। ওই কর্মকর্তাকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও সনদ থাকতে হবে।




নন লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোকে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ত্রৈমাসিক তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিল আইডিআরএ’র

নন লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে প্রতি তিন মাস পর পর ব্যবস্থাপনা ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

১১ এপ্রিল সকল নন লাইফ বীমা কোম্পানির উদ্দেশ্যে জারি করা এক সার্কুলারে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। ‘নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণী বিধিমালা ২০১৮’ অনুসরণপূর্বক ব্যবস্থাপনা ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যাদি ছক অনুযায়ী প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে (জানুয়ারি-মার্চ, এপ্রিল-জুন, জুলাই-সেপ্টেম্বর, অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রতি ত্রৈমাসিক শেষ হওয়ার ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কর্তৃপক্ষের বিনিয়োগ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা পরিবীক্ষণ শাখা, নন-লাইফ বরাবর পাঠানার নির্দেশনা দেয়া হয় ওই সার্কুলারে।

সার্কুলারে নন-লাইফ বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে নির্ধারিত ৩টি ছকে কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, প্রকৃত ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং খাতওয়ারি ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের হিসাব কর্তৃপক্ষে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখিত ছক-ক’তে অগ্নি ও অন্যান্য বীমা এবং নৌ বীমার গ্রস প্রিমিয়াম আয়ের বিপরীতে অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের হার তুলে ধরা হয়েছে-অগ্নি ও অন্যান্য বীমার ক্ষেত্রে এই খরচের হার-প্রথম ১৫ কোটি টাকায় ৩৫ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ৩৩ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ৩২ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ৩০ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ২৮ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ২৬ শতাংশ; পরবর্তী ৩০ কোটি টাকায় ২৪ শতাংশ এবং তদুর্ধ্ব প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে ২২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নৌ বীমার ক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের হার-প্রথম ১৫ কোটি টাকায় ২৬ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ২৫ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ২৪ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ২২ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ২০ শতাংশ; পরবর্তী ১৫ কোটি টাকায় ১৮ শতাংশ; পরবর্তী ৩০ কোটি টাকায় ১৭ শতাংশ এবং তদুর্ধ্ব প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।




আইডিআরএ’র পরিচালকসহ দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত না করে কালক্ষেপণ করায়
তদন্ত কমিটির প্রধানসহ দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী।

গত ২৩ মার্চ তদন্ত কমিটির প্রধান আইডিআরএ’র পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য আইডিআরএ’র কর্মকর্তা মুহাম্মদ শামছুল আলমকে এই কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৪ মার্চ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেন তদন্ত কমিটির ওই দুই সদস্য। চিঠিতে অভিযোগসমূহের সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য হিসাব বিজ্ঞানের যে বিশেষায়িত জ্ঞান প্রয়োজন তা কমিটির নেই বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে কোনো নিরীক্ষা ফার্ম দিয়ে বিশেষ নিরীক্ষা করালে অনিয়ম ও দুর্নীতি উদঘাটনের বিষয়টি ফলপ্রসূ হবে বলে মতামত দেন তারা।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বরাবর লেখা তদন্ত কমিটির ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘জাতীয় বীমা দিবস-২০২৩ এর কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় যথাসময়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় বীমা দিবস অতিক্রান্ত হওয়ার পর উল্লিখিত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, অভিযোগপত্রে কোম্পানির শুরু থেকে বিভিন্ন খাতের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত ১৫ টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগসমূহ দীর্ঘ মেয়াদের, জটিল এবং বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয় সংশ্লিষ্ট। বিষয়গুলো তদন্ত করে সঠিক তথ্য উদঘাটন করার জন্য দক্ষ চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ও ফিল্ড ফোর্স প্রয়োজন। ২০১০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কোম্পানির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব সমন্বয় সাধন করা এবং আর্থিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগসমূহের সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য হিসাব বিজ্ঞানের যে বিশেষায়িত জ্ঞান প্রয়োজন তা অত্র কমিটির নেই। তাছাড়া, অভিযোগপত্রের ১২ নং ক্রমিকে কোম্পানিকে স্বতন্ত্র অডিট করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোন অডিট ফার্ম দিয়ে বিশেষ অডিট করানো হলে অনিয়ম ও দুর্নীতি উদঘাটনের বিষয়টি ফলপ্রসূ হবে। পাশাপাশি অন্য কোন অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকলে তাও উদঘাটনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এমতাবস্থায়, আপনার সদয় বিবেচনার জন্য আলোচ্য কোম্পানির বর্ণিত অভিযোগের উপরেল্লিখিত বিষয়সমূহ উপস্থাপন করা হলো।’

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কমিটি গঠন করে আইডিআরএ। ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ওই কমিটিকে অভিযোগের প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। দীর্ঘ দুই মাসেও তদন্ত সম্পন্ন করতে না পেরে গত ১৪ মার্চ ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেয় কমিটি।




হোমল্যান্ড লাইফে লুটপাট তদন্তে দুদক ও আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টের নির্দেশ

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুদক বরাবর হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের একটি আবেদন আগামী দুই মাসের মধ্যে ইতিবাচকভাবে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়ও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকদের পুরো অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ কেনো দেওয়া হবে না, সংশ্লিষ্টদের জবাব চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৪ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে’ বলেও জানান আইনজীবী।
বুধবার (২৯ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১৪ গ্রাহকের পক্ষে রহিমা আক্তারের করা রিটের শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ জারি করেনে।

রিটে অর্থসচিব, ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান, দুদক চেয়ারম্যান, হোমল্যান্ড ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানের ১৪ পরিচালককে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।

রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আক্তার রসুল মুরাদ, আব্দুল্লাহিল মারুফ ফাহিম ও মো. দিদারুল আলম। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পরিচালকদের প্রতারণার খপ্পরে হোমল্যান্ড লাইফ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আদালত শুনানি শেষে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের গ্রাহকদের অর্থ লোপাটের অভিযোগ তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে করতে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ও দুদক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ অনলাইন নিউজ পোটালে ইতিমধ্যে
হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকসহ ‘টপ টু বটম’ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এসব দেখার দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতা সুযোগে এই প্রতিষ্ঠানটি ডুবতে বসেছে।

এদিকে নিরুপায় হয়ে গত ৫ মার্চ হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের ১০৪ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ১৪ গ্রাহকের পক্ষে রহিমা আক্তার নামের এক ভিকটিম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দায়ের করেছেন।

রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ), দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ এই প্রতিষ্ঠানটির ১৪ পরিচালককে।

রিট আবেদনে হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের পাওনা টাকা দ্রুত ফেরতের বিষয়ে নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

সূত্র মতে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পরিচালকদের প্রতারণার খপ্পরে হোমল্যান্ড লাইফ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে। বোর্ড সভার কার্যবিবরণী জালিয়াতি, জমি কিনতে ভুয়া নথি তৈরি, কমিশন ও অন্যান্য খাতে খরচের ভাউচার তৈরি করে এসব টাকা আত্মসাত করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের নামে অস্তিত্ববিহীন জমি কেনা হয়েছে। আবার সেই জমিতে মাটি ভরাট ও কাঁটাতারের বেড়া তৈরির নামে আরও অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
অপরদিকে ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকদের মধ্যে ১২ জন পরিচালক যৌথ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের দপ্তরে ওই প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিপুল পরিমান অর্থ লোপাটের অভিযোগ দায়ের করেন।

পরিচালকরা অভিযোগের শুরুতেই উল্লেখ্য করেছেন , হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তারা সকল ধরনের গ্রাহক লেনদেনে সম্পৃক্ত। বীমা গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শেয়ারহোল্ডাদের স্বার্থে কোম্পানির বিভিন্ন বিষয়ের প্রকৃত চিত্র বের করতে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের কাছে দায়ের করা আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেছেন হোমল্যান্ড লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান জামাল মিয়া, পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, কামাল মিয়া, আবদুর রব, জামাল উদ্দিন, আব্দুল হাই, আব্দুল আহাদ, ফয়জুল হক,শামীম আহমদ,এমাদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র পরিচালক শওকতুর রহমান ও ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী। উক্ত আবেদনের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবরও পাঠিয়েছেন।

তারা অভিযোগ বলেছেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় হোমল্যান্ড লাইফের কেনা ১২০ কাঠা জমি গ্রাহকের দাবি পরিশোধে বিক্রয় করা হয়। কিন্তু সঠিকভাবে সম্পূর্ণ টাকা গ্রাহকের দাবি পরিশোধে ব্যয় করা হয়নি। গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় পরিচালকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা পর্যন্ত হয়েছে।

কয়েকজনের দুর্নীতির জন্য এই পরিচালকরা অসম্মানিত হয়েছেন উল্লেখ করে আবেদনে ( চিঠিতে) বলা হয়েছে, কোন কোন এরিয়ায় কোন কোন গ্রাহককে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, তার তালিকা এবং জমির বিক্রয়মূল্য সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়েছে কি না? জমি ক্রয় এবং বিক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না বা একজন ব্যক্তির (পছন্দের ব্যক্তি) মাধ্যমে কেন সম্পূর্ণ জমি বিক্রয় করা হয়, তা তদন্তের মাধ্যমে দেখা দরকার।
জমি বিক্রয়ের টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে কীভাবে জমা করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ বোর্ডে পেশ করা হয়নি এমন অভিযোগ করে এতে বলা হয়েছে, জমি বিক্রয়ে দাপ্তরিক ও অন্যান্য খরচ দেখিয়ে কোম্পানি থেকে কত টাকা বের করা হয়েছে এবং জমি বিক্রয় গেইন ট্যাক্স কীভাবে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, তার রশিদসহ প্রমাণাদি পেশ করা হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জীবন বীমা তহবিল হ্রাস পাওয়ার সঠিকতা নির্ণয় এবং বর্তমান কোম্পানির জীবন বিমা তহবিল কত তা উপস্থাপন করা হয়নি। আবার কোম্পানির কতগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে এবং বিগত পাঁচ বছর সব ব্যাংকের বিবরণী এফডিআর, বাংলাদেশ সরকারি টেজারী বন্ড সহ (বিজিটিবি) উপস্থাপন করা হয়নি।
কোম্পানির যেসব মামলা চলমান তার বিবরণ এবং প্রত্যেক মামলার বিপরীতে মামলার শুরু থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইনজীবী ফি, দাপ্তরিক ও টিএ/ডিএ এবং অন্যান্য খরচ যৌক্তিক ভাউচার ছাড়াই এমডি, কোম্পানি সচিব ও আইন কর্মকর্তা জুবায়েরের স্বাক্ষরে বিপুল টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিচালকরা। একে ‘কোম্পানির টাকা কর্মচারী কর্তৃক আত্মসাৎ’ বলে মনে করছেন ওই পরিচালকরা।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্য আড়াল করে নিয়মবহির্ভূত অনেক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত দুই বছরের বিভিন্ন ব্যয়ের বিপরীতে যে ভাউচার আছে, সেগুলো ওই সময়ের ব্যাংক স্টেটমেন্টের সঙ্গে যাচাই করলে জনগণের আমানত খেয়ানত করার প্রমাণ বের হয়ে আসবে।

এছাড়া আরজেএসসি-তে রিটার্ন জমা দেওয়ার দাপ্তরিক ও লিগ্যাল ফি বাবদ কত টাকা খরচ করা হয়েছে তার হিসাবের বৈধতা না থাকায় বিবরণী বোর্ডে পেশ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন এই পরিচালকরা।
তাদের অভিযোগ, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভুয়া শত শত কোটি টাকা ব্যবসা দেখিয়ে কমিশন, ইনসেনটিভ গ্রহণ ও কোম্পানির টাকায় ওমরাহসহ বিদেশ ভ্রমণ করে কোম্পানির অর্থ অপচয় করা হয়েছে। এ কারণে সঠিক পলিসি গ্রাহক অর্থের সংকটে সেবা পেতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ভুয়া ব্যবসা বা পলিসির জন্য নবায়ন প্রিমিয়াম না আসায় কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় অতিরিক্ত করার পাশাপাশি কোম্পানির টাকা দিয়ে হাতে কলমে ভুয়া ব্যবসা করা এবং কোম্পানির হিসাব বিভাগের কারসাজিতে ব্যবসা হাতে কলমে দেখানো হয় বলেও অভিযোগ তুলেছেন এই পরিচালকরা। তাদের দাবি, ডিসিএস ফাইলসহ যাচাই-বাচাই করলে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে।

কোম্পানির কতগুলো যানবাহন আছে এবং কোন যানবাহন কার নামে বরাদ্দ, কত টাকা বরাদ্দ ও প্রত্যেক যানবাহনের বিপরীতে বছরে কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে, তার বিপরীতে রেজিস্ট্রার নেই বলেও অভিযোগ করেছেন হোমল্যান্ড লাইফের পরিচালকরা। এর মাধ্যমে লাখ লাখ আমানতের টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভুয়া ব্যবসা দেখিয়ে কোম্পানি থেকে বড় অঙ্কের টাকা সরিয়ে নেওয়া অভিযোগ আনা হয়েছে।

 




মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফের ৩ পরিকল্প অনুমোদন

মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চারটি বীমা পলিসির মধ্যে তিনটির অনুমোদন দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এছাড়া, স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত পলিসির তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তীতে অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইডিআরএ’র সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র মতে, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফের পক্ষ থেকে চারটি বীমা পলিসি অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ’র আবেদন করা হয়। বীমা পলিসি চারটি হলো; মার্কেন্টাইল লাইফ চাইল্ড এডুকেশন বীমা পলিসি, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড (যুগ্ন বীমা), সিঙ্গেল প্রিমিয়াম ক্রমহ্রাস টার্ম ইন্স্যুরেন্স এবং মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড স্বাস্থ্য বীমা পলিসি।

তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৩ মার্চ আইডিআরএ’র ১৫৬তম সভায় চারটি বীমা পলিসির মধ্যে ৩টি অনুমোদন দেয়া হয়।

আইডিআরএ’র উক্ত সভায় বীমা পলিসির বিষয়ে দাখিলকৃত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে পলিসিতে ব্যবহৃত সুদের হার ও ধার্যকৃত ব্যবস্থাপনা ব্যয় যথাযথ প্রতীয়মান হওয়ায় তিনটি পলিসির অনুমোদন দিয়েছে আইডিআরএ।
স্বাস্থ্য বীমা সম্পর্কে সভার আলোসূচীতে বলা হয়, বীমা আইন ২০১০ এর ৫(৪) ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন যে চুক্তির অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা পরিচালনা করা, সেই চুক্তিতে যদি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট বা উহার সম্পূরক কোন বীমা ব্যবসার বিষয় অন্তর্ভূক্ত থাকে, তা হলে এরূপ চুক্তি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা পরিচালনার জন্য সম্পাদন করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। এছাড়া, ৫(৪) ধারা উদ্বৃত করে সার্কুলারে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স বীমাকারিগণ লাইফ ইন্স্যুরেন্স চুক্তিতে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট বা এর সম্পূরক কোন বীমা ব্যবসার বিষয় অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন কিন্ত লাইফ ইন্স্যুরেন্স চুক্তি ব্যতিত স্বাধীনভাবে নন-লাইফ সংশ্লিষ্ট কোন বীমা ব্যবসার চুক্তি যথা কোন ব্যক্তির দূর্ঘটনা জনিত মৃত্যু, মৃত্যু ব্যতিত দূর্ঘটনা, রোগ বা অক্ষমতাজনিত ক্ষতি ইত্যাদি করতে পারবেন না। সার্কুলারে উল্লেখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন করতে বলা হয়েছে।

সূত্র মতে, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফের স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত পলিসিটি অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয় সেই পলিসির সার্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এটিকে স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য বীমা পলিসি হিসেবে বিবেচনা হয়েছে কারণ এতে কোন জীবন বীমার সুবিধা যোগ করা হয়নি পাশাপাশি পলিসিটি সাপ্লিমেন্টারি বা রাইডার প্রোডাক্ট কিনা সেবিষয়ে কোম্পানির দাখিলকৃত তথ্য হতে স্পষ্ট নয়। সার্কুলারে নির্দেশনার সাথে পলিসিটির বৈশিষ্ট্য সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় কোম্পানির নিকট আরো তথ্য চাওয়া হয়েছে। যা পরবর্তীতে তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।




রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের সিইও’র নিয়োগ নবায়ন

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেদ মামুনের নিয়োগ নবায়ন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

গত ১৩ মার্চ আইডিআরএ’র ১৫৬ সভায় আগামী ৩ বছরের জন্য মাসিক বেতন-ভাতাদি বাবদ সর্বমোট ১২ লাখ টাকায় খালেদ মানুনের নিয়োগ নবায়ন করা হয়। আইডিআরএ’র সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র মতে, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী পদে মো. খালেদ মামুনের নিয়োগ নবায়ন অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ আবেদন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে করা আবেদনে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে সর্বসাকুল্যে ১৫ লাখ ১১ হাজার টাকা প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়। আইডিআরএ উক্ত সভায় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ১৯ মার্চ ২০২৩ থেকে ১৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য খালেদ মামুনের মাসিক বেতন ভাতাদি সর্বমোট ১২ লাখ টাকা ধার্য্য করে নিয়োগ নবায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য ইতোপূর্বে গত ১৯ মার্চ ২০১৭ থেকে ১৮ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার মাসিক বেতন ভাতাদি ছিলো ৯ লাখ টাকা এবং ১৯ মার্চ ২০২০ থেকে ১৮ মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত মাসিক বেতন ভাতাদি ছিলো ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।




রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের সিইও’র নিয়োগ নবায়ন

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেদ মামুনের নিয়োগ নবায়ন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। গত ১৩ মার্চ আইডিআরএ’র ১৫৬ সভায় আগামী ৩ বছরের জন্য মাসিক বেতন-ভাতাদি বাবদ সর্বমোট ১২ লাখ টাকায় খালেদ মানুনের নিয়োগ নবায়ন করা হয়। আইডিআরএ’র সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র মতে, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী পদে মো. খালেদ মামুনের নিয়োগ নবায়ন অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ আবেদন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে করা আবেদনে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে সর্বসাকুল্যে ১৫ লাখ ১১ হাজার টাকা প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়। আইডিআরএ উক্ত সভায় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ১৯ মার্চ ২০২৩ থেকে ১৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য খালেদ মামুনের মাসিক বেতন ভাতাদি সর্বমোট ১২ লাখ টাকা ধার্য্য করে নিয়োগ নবায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য ইতোপূর্বে গত ১৯ মার্চ ২০১৭ থেকে ১৮ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার মাসিক বেতন ভাতাদি ছিলো ৯ লাখ টাকা এবং ১৯ মার্চ ২০২০ থেকে ১৮ মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত মাসিক বেতন ভাতাদি ছিলো ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।




বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলসহ ৩ কর্মকর্তাকে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে অপসারণে আইডিআরএ’র কাছে ১২ পরিচালকের আবেদন

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলসহ হিসাব কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তাদেরকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন কোম্পানিটির ভাইস-চেয়ারম্যান, উদ্যোক্তা ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১২ পরিচালক। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে করা এক যৌথ আবেদনে কোম্পানিটির ‘গ্রাহক, কর্মকর্তা/কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে’ওই কর্মকর্তাদের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান তারা।

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া ওই আবেদনে কোম্পানিটির পরিচালকরা অভিযোগ করে বলেছেন, মুখ্য নির্বাহীসহ ওই তিন কর্মকর্তা কোম্পানির আয় ব্যয় সম্পর্কে তাদেরকে কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। অপরদিকে, তথ্য গোপন করে হোমল্যান্ড লাইফের অর্থ আত্মসাত করছেন বলে তারা সন্দেহ করছেন। এমনকি নিয়মিত দুর্নীতির প্রমাণও মুছে ফেলছেন। ওই কর্মকর্তারা বহাল থাকায় এবং তাদের অসহযোগিতার কারণে কোনো তদন্ত বা নিরীক্ষাও করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদনে উল্লেখ করেন হোমল্যান্ড পরিচালকরা। এই আবেদন ছাড়াও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করছে আইডিআরএ।

আবেদনকারী পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন, হোমল্যান্ড লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান জামাল মিয়া, পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, পরিচালক কামাল মিয়া, আব্দুর রব, ফয়জুল হক, জামাল উদ্দিন, আব্দুল হাই , আব্দুল আহাদ, শামীম আহমদ, এমাদুল ইসলাম, শওকতুর রহমান, ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী। আবেদনের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবরও পাঠানো হয়েছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে করা ওই আবেদনে হোমল্যান্ড পরিচালকরা মুখ্য নির্বাহীসহ হোমল্যান্ডের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, “ (১)অফিস নির্বাহী কর্মকর্তা (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকর্তা) সকল ধরনের গ্রাহক লেনদেনে সম্পৃক্ত। আমরা এ কাজে সরাসরি যুক্ত নই। আমাদেরকে এ বিষয় না জানালে আমরা বোর্ডে উপস্থাপন করে জানানোর চাপ দেই। এই আক্রোশে তারা আমাদের নামে মাগুরার আদালতে মিথ্যা মামলা করিয়ে আমাদের অসম্মানিত করেছে। (২) দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে আদালতে যোগাযোগ করে জানতে পারি আমাদের নামে সমন এসেছিল। আমাদের সন্দেহ হয় যে, তারা ওই সমন আমাদের না দেখানোয় এবং সমনের বিষয় গোপন করেছিল বলেই আদালত ওয়ারেন্ট দিলে আমাদের (পরিচালকদের) কারাগারে যেতে হয়েছিল।

(৩)যেদিন পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করে সেদিন পুলিশ আমাদের মৌখিকভাবে বলেছে যে, কখন পুলিশ আসলে আমাদের গ্রেপ্তার করা যাবে সে বিষয়ে এই নির্বাহীগন গোপনে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছিল। (৪) মামলা বিষয়ক সকল তথ্য তারা গোপন করায় পরিচালকবৃন্দের নিকট অবিশ্বাস গভীর হয়েছে। এর ফলে কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হবেন মর্মে আশংকা করছি। ৫। ভবিষ্যতে এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ব্যক্তি নিরাপত্তায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।”
আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কাছে হোমল্যান্ড লাইফের ১২ পরিচালকের করা ওই আবেদনে আরো বলা হয়, “কোম্পানীর বেশিরভাগ পরিচালক সন্দেহ করেন যে, এই নির্বাহীগণ তথ্য গোপন করে কোম্পানির বহু লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করিতেছে। তারা বহাল থাকায় কোন তদন্ত বা নীরিক্ষা দ্বারা তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। তারা নিয়মিত দুর্নীতির প্রমাণ মুছে ফেলছে। তাদের অসহযোগিতার কারণে এই কোম্পানিতে কোন নিরপেক্ষ তদন্ত করাও সম্ভব নয়। তারা প্রায়ই দুর্নীতির প্রমাণ গায়েব করিতেছে এবং আমরা আয়-ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন কিছুই তারা জানায় না। তারা কয়েক পরিচালকের আশকারায় বেশি রকম দুঃসাহসী হয়ে আরো বড় রকমের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা গ্রাহকের টাকা গ্রহণ করে এবং দাবি পরিশোধ করে। কিন্তু কার কাছ থেকে কত টাকা নেয় এবং কাকে কত টাকা দাবি পরিশোধ করতে হবে সে সকল সিদ্ধান্ত তারাই নেয় এবং এমনকি দাবি পরিশোধে পরিচালকদের বা বোর্ডের কোন অনুমতিও নেয় না। প্রকৃতপক্ষে তারা দাবি পরিশোধ না করার অপরাধে দায়ি হওয়া সত্ত্বেও তারা আসামী হয় না; অথচ নিরীহ পরিচালকেরা মামলাভুক্ত হচ্ছেন। তারা কারসাজি করে কোম্পানীর নিরপরাধ পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য নীরিহ গ্রাহকদের উৎসাহিত করে পরিচালকদের শায়েস্তা করার পথ নিয়েছে। এমন অমানুষ নির্বাহীগণের এই কোম্পানীতে থাকার প্রয়োজনীয়তা নাই।”

হোমল্যান্ড পরিচালকদের আবেদনে বলা হয়, “গ্রাহক-লেনদেনে সম্পৃক্ত নির্বাহী কর্মকর্তাদের মামলায় জড়িত না হওয়া বা তাদের জবাবদিহিতা ব্যতীত সরাসরি কোম্পানির পরিচালকদের বিরুদ্ধ মামলায় জড়িতকরণ বিষয় এবং তাদের দ্বারা মামলাকারির কাছে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য-বিনিময়ের কারণে আমাদের মনে নিরাপত্তাহীনতার চূড়ান্ত আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই কোম্পানীতে থাকিলে আরো অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। উপরোক্ত ১০ টি কারণে এই মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকতার বিরুদ্ধে যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে সে কারণে তাদের এই কোম্পানীতে থাকা গ্রাহক ও পরিচালকদের জন্য আর ভাল হবে না। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার শেল্টারের কারণে দুর্নীতিবাজ আইন কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে না।মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হলে কোম্পানীর দুর্নীতির শিকড় আইন কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনার দ্বারা আদেশ হইলে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালক বোর্ড সভায় তাদের অপসারণে রেজুলেশন নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। এমতাবস্থায়, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকের স্বার্থে বর্ণিত দুর্নীতিবাজ ও নিরীহ পরিচালকবৃন্দকে মামলাভুক্ত করার ক্লিকবাজিতে জড়িত মর্মে সন্দেহযুক্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণের জন্য বিনীত আবেদন করছি।”

মুখ্য নির্বাহীসহ তিন কর্মকর্তাকে অপসারণের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মো. হান্নান মিয়া বলেন, ‘শুনেছি এসব বিষয় নিয়ে আইডিআরএ তদন্ত কমিটি করেছে। হোমল্যান্ড পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকেও তিন পরিচালকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন কি না কমিটি সে বিষয়ে তদন্ত করবে। তবে সহযোগিতার অভাবে তারা এখনো তদন্ত করতে পারছেন না।’ পরিচালকদের ঐক্য না থাকায় নেপথ্যের কারিগররা এসব কলকাঠি নাড়ছে। তাদেরকে আপনারাও চিনেন আমরাও চিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডলের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

হোমল্যান্ডের ১২ পরিচালকের আবেদনের বিষয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, কোম্পানিটির বিষয়ে আইডিআরএ তদন্ত কমিটি করেছে। তদন্ত চলছে।




আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে অনুদানের বিষয়ে আইডিআরএ’র সভা

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে বীমা কোম্পানিগুলোর অনুদান দেয়ার বিষয়ে সভা ডেকেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বেলা ২টায় কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের সভাকক্ষ-১ এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় আইডিআরএ’র প্রতিনিধিবৃন্দসহ বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যসোসিয়েশন ও মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের ৩জন করে প্রতিনিধি এবং সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইনের মাধ্যমে গঠিত একটি সংস্থা। দেশের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে পিতা-মাতা ও অভিভাবকের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অনুযায়ী ২০১২ সালে এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। ট্রাস্টের তহবিলে সরকারের এককালীন অনুদানের পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানের (ব্যাংক, বীমা ইত্যাদি) আর্থিক সহায়তা এবং সমাজের বিত্তবান, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অনুদান গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলেঅ নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলে অনুদান হিসেবে প্রদানের মাধ্যমে এর আকার বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের তহবিল বৃদ্ধির লক্ষ্যে তফিসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রতি বছর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫ শতাংশ হারে এই তহবিলে অনুদান দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করে। প্রতি বছর পূর্ববর্তী বছরের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক নিট মুনাফার (নিরীক্ষিত/ অনিরীক্ষিত) ভিত্তিতে নির্ধারিত সিএসআর বাজেট থেকে ৫% অর্থ সংশ্লিষ্ট বছরের ৩০ মে’র মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে বলা হয়েছে।

বিষয়ে আইডিআরএ’র সভা




ফারইস্ট ইসলামি লাইফের মুখ্য নির্বাহী  পদে আপেল মাহমুদের নিয়োগ অনুমোদন

ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে মো. আপেল মাহমুদের নিয়োগ অনুমোদন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

সোমবার (২০ মার্চ) কর্তৃপক্ষ নিয়োগ অনুমোদন সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করে। আইডিআরএ পরিচালক মোহাঃ আব্দুল মজিদ (উপসচিব)

স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, নিয়োগ চুক্তিপত্র এবং অন্যান্য দলিলাদির ভিত্তিতে বীমা আইন, ২০১০ ও বীমা কোম্পানি (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ) প্রবিধানমালা-২০১২ এর বিধানাবলি পরিপালিত হওয়ায় নিম্নোক্ত শর্তাবলি পরিপালন সাপেক্ষে জনাব মো. আপেল মাহমুদ, এসিআইআই (ইউকে) কে ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে (০৪ জানুয়ারি ২০২৩ হতে ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) তিন বছরের জন্য নিয়োগের অনুমোদন নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।




রমজানে বীমার অফিস সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা

 

আসন্ন রমজান মাসে বীমা খাতের অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। স্বাভা‌বিক সময় বিমা কোম্পানির অফিস চ‌লে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অর্থাৎ এই সূচির পবির্তন হবে আগামী ১ রমজান থেকে।

রোববার (১৯ মার্চ) বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। আইডিআরএর পরিচালক (প্রশাসন) সুবীর চৌধুরী স্বাক্ষারিত চিঠি দেশের বীমা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, রমজান মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বীমা কোম্পানির অফিস সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসময়ের মধ্যে যোহরের নামাজের বিরতি থাকবে ১৫ মিনিট (দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত)। এ সংক্রান্ত চিঠি সব জীবন এবং সাধারণ বীমা কোম্পানির সিইও ও চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার পর অফিসের সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৬ মার্চ জানানো হয়, রোজায় ব্যাংক লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। তবে আনুষঙ্গিক কাজ পরিচালনার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।




মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিজয়ী কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা

 

মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বিজয়ী কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা সম্প্রতি কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠনে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির সিইও মোহাম্মদ সাইদুল আমীন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র সদস্য (লাইফ), মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএমডি শেখ আব্দুর রশিদসহ অন্যান্যরা। সভায় সারাদেশ থেকে আগত প্রায় দুই শতাধিক বিজয়ী কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।




বীমা দিবস উপলক্ষে আইডিআরএ’র সংবাদ সম্মেলন ২৭ ফেব্রুয়ারি 

জাতীয় বীমা দিবস- ২০২৩ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) । আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) বেলা ৩টায় কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে বীমা খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ১ মার্চ ২০২৩ বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বীমা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বছর বীমা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমার জীবন আমার সম্পদ, বীমা করলে থাকবে নিরাপদ’।

জাতীয় বীমা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন।




বীমা কোম্পানির শাখা বা কার্যালয় বন্ধ করতে অনুমতি নিতে হবে আইডিআরএ’র

ইচ্ছে করলেই বীমা কোম্পানিগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানের শাখা বা কার্যালয় স্থানান্তর বা বন্ধ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের শাখা বা কার্যালয় স্থানান্তর বা বন্ধ করার ব্যাপারে নির্দেশন দিয়েছে
বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষের নিকট হতে পূর্বানুমোদন গ্রহণ ব্যতিত বীমা প্রতিষ্ঠানের শাখা বা কার্যালয় স্থানান্তর বা বন্ধ করা যাবেনা।

ইতোপূর্বে যে সকল স্থান হতে শাখা বা কার্যালয় স্থানান্তর অথবা বন্ধ করা হয়েছে, সে সকল স্থানে পুনরায় শাখা বা কার্যালয় খোলার ক্ষেত্রে পূর্বের স্থানান্তর অথবা বন্ধ সংক্রান্ত তথ্যসহ নতুন লাইসেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করতে হবে।

বীমা পলিসি গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সরাসরি অবহিতকরণের লক্ষ্যে বীমা প্রতিষ্ঠানের শাখা বা কার্যালয় স্থানান্তর অথবা বন্ধ করার পূর্বে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় এতদসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে এবং বিজ্ঞাপনের কপি কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করতে হবে।

বীমা প্রতিষ্ঠানের শাখা বা কার্যালয় স্থানান্তর অথবা বন্ধ করার অব্যবহিত পূর্বের স্থানে সাধারণের দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে স্থানান্তরিত শাখার নতুন ঠিকানা এবং বন্ধকৃত শাখার ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঠিকানা স্থানান্তর অথবা বন্ধ করার তারিখ হতে কমপক্ষে ২ (দুই) মাস প্রদর্শন করতে হবে;
একই স্থানে একাধিক শাখা বা কার্যালয় স্থাপন করা যাবেনা। নতুন নির্দেশনা জারির তারিখ থেকে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে বীমা প্রতিষ্ঠানের সকল শাখা বা কার্যালয়ের (স্থানান্তরিত বা বদ্ধসহ ঠিকানা, ই-মেইল ও ফোন/মোবাইল নম্বর প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করে সে তথ্য কর্তৃপক্ষকে প্রেরণ করতে হবে।

পরবর্তীতে বীমা প্রতিষ্ঠানের শাখা বা কার্যালয়ের ঠিকানা, ই-মেইল ও ফোন/মোবাইল নম্বরে কোন পরিবর্তন হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।