আইএমএফের কাছে নতুন করে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আবেদন করেছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচি বিবেচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্কার পরিকল্পনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করছেন।

ইভো ক্রজনার বলেন, ‘‘২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় চলমান কর্মসূচিগুলো একটি কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে নতুন বাস্তবতার আলোকে আরও গভীর ও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’’

আইএমএফের বিবৃতিতে ‘‘ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং নিম্ন রাজস্ব আহরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’’

সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘‘নতুন কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের আবেদন আইএমএফ ও সরকারের মধ্যে এমন একটি নতুন কাঠামো তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করবে এবং সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করবে।’’

‘‘তবে সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির অনুমোদন দেশের বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন, শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতি, বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার পরিকল্পনা এবং আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে’’, বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নের জন্য শিগগিরই একটি আইএমএফ স্টাফ মিশন ঢাকা সফর করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ওই সফরের পর সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির আকার, অর্থায়নের পরিমাণ এবং সংস্কারসংক্রান্ত শর্তাবলি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

বিবৃতিতে আইএমএফ বাংলাদেশের প্রতি তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, ‘‘টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তারা বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাবে।’’

অন্যদিকে, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের শীর্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোংয়ের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিভিন্ন শিল্প খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মিতসুইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, বৃহৎ ভোক্তা বাজার এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সম্ভাবনার প্রশংসা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আইএমএফের নতুন সহায়তা কর্মসূচির উদ্যোগ এবং অন্যদিকে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ সীমিত রাখা সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

সরকার জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারলে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন বৈঠক শেষে দেশে ফিরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অনেক দেশ আগেই মূল্য সমন্বয় করেছে। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় দাম না বাড়িয়ে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেছে। তবে সরকারের তহবিলের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এ পদক্ষেপকে তিনি প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এমন সরল সমীকরণ সব সময় প্রযোজ্য নয়। এটি সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব আলোচনা কোনো দাতব্য কার্যক্রম নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই এমন কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না, যা দেশের জনগণ, অর্থনীতি বা ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।

আইএমএফ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল এবং এতে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব শর্ত মেনে নিতে বাধ্য নয়। যেসব শর্ত দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো গ্রহণ করা হবে না।

তিনি জানান, কর্মসূচিটির মেয়াদ আরো ছয়-সাত মাস রয়েছে। এরপর ভবিষ্যতে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্তও সরকার নিজেই নেবে।

শর্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয় জনসমক্ষে আনা সম্ভব নয়।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌ফ্যামিলি কার্ড’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ, যা জনগণের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বহুপক্কীয় সংস্থাগুলোও সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেয় এবং এ ধরনের কর্মসূচিকে সমর্থন করে।

তিনি আরো জানান, আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদল সামনে বাংলাদেশ সফর করবে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এসব সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।

সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনেক দিকেই সামঞ্জস্য রয়েছে। অতীতে অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সরকার নিজস্ব উপায়ে সম্পন্ন করছে, যাতে সুশাসন নিশ্চিত হয় এবং জনগণ উপকৃত হয়।

অতিরিক্ত বৈদেশিক সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী বলেই আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে কী পরিমাণ সহায়তা পাওয়া যাবে, তা আলোচনা শেষ হওয়ার পরই নির্ধারিত হবে।

তিনি আরো বলেন, আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। আলোচনা যেখানে গিয়ে দাঁড়াবে, সেখান থেকেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব, এটা সম্পূর্ণ আমাদের সিদ্ধান্ত।




এডিবি ও আইএমএফের সহায়তা না পেলেও বাস্তবসম্মত বাজেট করা হবে :অর্থ উপদেষ্টা

এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর বাজেট সহায়তা না পেলেও একটি ম্যানেজেবল এবং বাস্তবসম্মত বাজেট করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

রোববার (৪ মে) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) মি. ইংমিং ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসে আমাদের ইকোনোমির অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন, আমরা বলেছি, ইকোনমির অবস্থা আগের চেয়েও বেটার। আমাদের মাইক্রো ইকোনমিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে অনেক সংস্কার করেছি, সবচেয়ে বড় বিষয় যেটা সেটা হলো ‘ট্রেড’। এ বিষয়ে বেসরকারি খাতে একটি সামিট অনুষ্ঠিত হবে ।

তিনি বলেন, আমাদের যে বিনিয়োগ সামিট হয়েছে, সেটার প্রশংসা করেছে তারা, এডিবি এখন আমাদের অবকাঠামোর উন্নয়নে সহায়তা করছে এটা তারা করতেই থাকবে।
এডিবি বলছে, প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য ঢাকাতে একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করার কথা বলেছে।

আইএমএফ লোন ইস্যুতে বিলম্ব হওয়াতে এডিবির বাজেট সাপোর্টে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজেট সাপোর্টের বিষয় তারা আইএমএফ বিষয়টা দেখে, সেখানে তারা মাইক্রো ইকোনমির বিষয় জানতে চেয়েছে, এ বিষয় আমরা আলোচনা করছি, আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে।

আমাদের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে এডিবির সন্তুষ্টি কেমন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এডিবি বলেছে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অর্থনীতি ভালো করছে, এক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী আমাদের অর্জন নিয়ে তারা খুশি। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি, এটাও তারা জানে, আমরা তাদের বলেছি, গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে এডিবি খেয়াল রাখছে, তারা আমাদের প্রকল্প সহায়তাসহ ব্যাংকিং খাত ও এনবিআরে যে সংস্কারগুলো আছে সেগুলোতে সহায়তা করবে।

আমাদের প্রকল্প সহায়তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন বাজেট সাপোর্ট, সেক্ষেত্রে এডিবিকে শর্ট টার্মে কোনো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাজেট সাপোর্টের একটা বিষয় আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, তাদের সফট ল্যান্ডিয়ের উইন্ডো আস্তে আস্তে উন্মোচিত হচ্ছে। তবে আমরা এটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, বাজেট সহায়তায় আমরা তাদের বলেছি ‘ওসিএফ’ ফান্ড থেকে সহায়তা করতে, কিন্তু তারা বলেছে এ ফান্ড তো লিমিটেড, তবে আমরা এটা দেখব।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয় বাজেট সাপোর্টের জন্য আমরা কর বাড়াচ্ছি, করের পরিধি বাড়াচ্ছি, বাজেট সাপোর্ট নিয়ে যদি আইএমএফ অযৌক্তিক কিছু শর্ত দেয়, তাহলে আমরা সেটা দেখবো, আমাদের মূল ফোকাস হলো বাজেটে খরচ কমানো; দক্ষতা বাড়ানো। আমরা যদি আইএমএফ ও এডিবির সাপোর্ট নাও পাই তাও বাজেট দেব।

 




বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ল আরও

দেশে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারায় বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে প্রায় ২৭ বিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ প্রায় ২১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।

রোববার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৬ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৬৭৮ কোটি ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন বা ২ হাজার ১৪২ কোটি ডলার।

 

তবে এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, তা হলো ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ। এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুব একটা প্রকাশ করে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ডলার, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা এবং আকুর বিল বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়।

সাধারণত নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের ‘বিপিএম-৬’ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ের নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। মাসটিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন। চলতি মাসেও ২৬ দিনে ২.২৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে এসেছে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার ও মার্চে সব রেকর্ড ভেঙে ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা সাত মাস দুই বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। যার প্রভাবেই চাঙা রয়েছে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ।




স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করবে আইএমএফ

স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। শিগগির এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বসবে সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইএমএফ কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএপের বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হবে আগামী ২১ এপ্রিল। বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯০ দেশের গভর্নর, ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা যোগ দেবেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা, উন্নয়ন, নীতিমালা সংস্করণ, সমসাময়িক ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে প্রতি বছর এ বৈঠকের আয়োজন করে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের চুক্তি তার বর্ধিত ঋণসুবিধা, বর্ধিত তহবিল সুবিধা, টেকসই এবং স্থায়িত্ব সুবিধা বাড়াবে। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশ ও এর জনগণকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে আইএমএফ।

আইএমএফের একটি মিশন দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক নীতি পর্যালোচনা করতে ৬ থেকে ১৭ এপ্রিল ঢাকা সফর করে। মিশনটি পর্যবেক্ষণ করেছে যে, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে, অর্থবছরের প্রথমার্ধে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগের একই সময়ের ৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমেছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, কঠোর নীতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে এই মন্দা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক দশকের সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল মূল্যস্ফীতি, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ থেকে ৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য আইএমএফ রাজস্ব একত্রকরণ, আরও নমনীয় বিনিময় হার, উন্নত কর সম্মতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুপারিশ করেছে।

আইএমএফ ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছিল, যার বিপরীতে তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।




জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের নিচে নামার পূর্বাভাস

আগামী জুন মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাশাপাশি সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দল সব বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর পাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন মতে, ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা তার আগের মাস জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে আইএমএফের সঙ্গে চলা বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এ সময় প্রতিনিধি দলটি আগামী জুন নাগাদ বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। সরকারের সবগুলো অর্গান যখন একসঙ্গে কাজ করে তখনই এটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানান তিনি।

আইএমএফের ঋণের সবশেষ দুই কিস্তি পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া জবাবে সংস্থাটি সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, সফররত প্রতিনিধি দলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হচ্ছে তারা সন্তুষ্ট। যদি কোনো প্রশ্নের জবাবে তারা সন্তুষ্ট না হন, তখন তারা পাল্টা প্রশ্ন করে থাকেন, যেটা এখনো হয়নি, এখানে আমরা আশাবাদী।

রিজার্ভ গণনা নিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ গণনার ক্ষেত্রে ডাবল কাউন্টিং হচ্ছে না। আইএমএফের নির্দেশনার আলোকে বর্তমানে রিজার্ভ গণনা করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট নিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, তারল্য সংকটে থাকা দেশের ১১ ব্যাংকের মধ্যে ৬টির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাদের এখন তারল্য সহায়তা লাগবে না। তবে এখনো পাঁচটি ব্যাংক দুর্বল অবস্থা রয়েছে।

আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের চতুর্থ কিস্তির ২৩৯ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ। সে অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পর্যালোচনা করতে ৬ এপ্রিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করছে আইএমএফ। সংস্থাটির ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের প্রতিনিধি দলটি ৬ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। সব দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করবে সফররত আইএমএফ দল।




দাতা সংস্থার ঋণ পেতে সরকার মরিয়া নয় : অর্থ উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান কর্মসূচির চতুর্থ কিস্তিসহ কোনো দাতা সংস্থার ঋণের জন্য আমরা একেবারে মরিয়া হয়ে নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স ভালো।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বব্যাংকের দেওয়া শর্তের প্রায় সবগুলো পূরণ করেছে সরকার। নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায়ে আলাদা বিভাগ হবে, রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, করছাড়ও কমিয়ে আনা হচ্ছে। আগামী জুনের আগে আরও কিছু শর্ত বাস্তবায়ন হবে।

আইএমএফের চলমান কর্মসূচির চতুর্থ কিস্তি কী পিছিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগামী মার্চে তাদের বোর্ড মিটিং হবে।

এটা জুন পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত উনারা এ বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে সরকারের অবস্থান হচ্ছে– বর্তমানে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স ভালো। তাই আমরা একেবারে মরিয়া হয়ে উঠিনি। শুধু আইএমএফের চতুর্থ কিস্তিই নয় যেকোনো ঋণের বিষয়েই একই কথা। আইএমএফের সঙ্গে মার্চের আগে সরকারের আলাপ হবে।

প্রসঙ্গত, চতুর্থ কিস্তির ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার ছাড় মুদ্রা বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে না দেওয়া এবং কর–রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় ইতোমধ্যেই পাঁচ ফেব্রুয়ারি থেকে আরও এক মাস পিছিয়েছে আইএমএফ। এটি আরও পিছিয়ে জুনে নিয়ে যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা, অভ্যান্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোসহ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায়ে দুটি বিভাগকে আলাদা করার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। এটি তারা বাস্তবায়ন করতে চান।

বাস্তবায়নে সুনিদির্ষ্ট কোনো দিনক্ষণ দেওয়া হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখতে চায়। তবে তারা এও জানেন যে, সরকারের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যেকোনো করছাড় বা নতুন করে করারোপ আইনি প্রক্রিয়ায় বাজেটের মাধ্যমে হওয়া দরকার হয়।




ফেব্রুয়ারি-মার্চে আইএমএফ ঋণের ১.১ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের চতুর্থ কিস্তির ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

 

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আইএমএফ-এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আজ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল এসেছিল। তাদের সঙ্গে ঋণ প্যাকেজ ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে চতুর্থ কিস্তির ১.১ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে এটা পেয়ে যাব।

 

তিনি বলেন, তারা আমাদের এখানে থাকবে কিছুদিন। আমরা তাদের বলেছি আমরা এমন কিছু নেব যেটা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক হয়। আমরা এমন কিছু নেব না যেটা নিজের….।

উপদেষ্টা বলেন, তারা কতগুলো লক্ষ্যমাত্রা দেবে সেটা করতে পারব কি না, সেটা অন্য ব্যাপার। কিন্তু আমি আশা করি তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য সহায়তা দেবে।

 

অতিরিক্ত ফান্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত ফান্ডের বিষয়ে আমরা আবার আলোচনা করে বলব। চলমান ৪.৭ বিলিয়ন ডলার তো প্রথম প্যাকেজের। কিন্তু সংস্কার করতে হলে আমাদের ফান্ড লাগবে। আমাদের অনেক কিছু সংস্কার করতে হচ্ছে, যেমন- ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব খাত। এগুলো করতে আমাদের ফান্ড লাগবে।

তিনি বলেন, কিছুদিন পর এডিবি আসবে, ওপেক ফান্ডের টাকা আসবে। সব মিলিয়ে আগামী জুনের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার পাব।

শ্বেতপত্র নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের স্থিতিশীলতা কিন্তু ফিরে এসেছে। সম্পূর্ণ আসেনি, তবে এখন সময় বিনিয়োগের। আপনারা দেখবেন ফরেন এক্সচেঞ্জ রেট আগের মতো ওঠানামা করছে না। ব্যাংকিং খাতের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের লিকুইডিটি সাপোর্ট লাগছে। তবে ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় ব্যাংক কিছুটা ফিরে আসছে। ইসলাসী ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংক। অন্যান্য ব্যাংকগুলোও ধীরে ধীরে ফিরে আসবে।

সালেহ উদ্দিন বলেন, রেমিট্যান্স খুবই ভালো। রপ্তানিও হচ্ছে ভালো, আমদানি একটু কম আছে। তবে আগের চেয়ে একটু বেড়েছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি কিছু কম আসছে, সেটা কিছু রেস্ট্রিকশনের কারণে। সেটা আমরা চিন্তা করছি, কী করা যায়।

উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে থাকার মধ্যে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ। এর তিনদিন পর প্রথম কিস্তিতে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার ছাড় করে সংস্থাটি। এরপর গত ১৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় করা হয়।

২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট সাত কিস্তিতে ঋণের পুরো অর্থ ছাড় করার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির পরবর্তীগুলোতে সমান অর্থ থাকার কথা ছিল। কিন্তু রিজার্ভ আরও কমে যাওয়ায় তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তিতে বেশি অর্থ চায় বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে বেশকিছু কঠিন শর্তের বাস্তবায়ন এবং আগামীতে আরও বড় সংস্কার কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় সংস্থাটি তৃতীয় কিস্তিতে ৬৮ কোটি ডলারের পরিবর্তে ১১৫ কোটি ডলার দিয়েছে। এখন চতুর্থ কিস্তিতে ১.১ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। তবে মোট ঋণের পরিমাণ এবং মেয়াদ একই থাকবে।




চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৫ শতাংশ : আইএমএফ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) কমার আভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে এমন প্রাক্কলন করেছে আইএমএফ। সংস্থাটি প্রতিবছর এপ্রিলে একটি এবং অক্টোবরে আরেকটি ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রকাশ করে।

 

চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের আগের পূর্বাভাস ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি আগেও ৯ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

সর্বশেষ আউটলুকে বলা হয়েছে, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বিশ্বের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে স্থির থাকবে। আর ২০২৫ সালের পর বৈশ্বিক সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। তথ্য উল্লেখ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে অবশ্য বাংলাদেশ নিয়ে আলাদা কোনো পর্যালোচনা বা বিশ্লেষণ নেই।




বাংলাদেশের সংস্কারকে এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে আইএমএফ

বাংলাদেশের সংস্কার এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটির গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তা ক্রিজ পাপেজর্জিউ এর নেতৃত্বে মিশন দল সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে গত ২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা সফর করে।

মিশন শেষে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আইএমএফ এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায়।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংস্কার এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে আইএমএফ। যার মূল লক্ষ্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং শক্তিশালী, টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত প্রবৃদ্ধি গড়ে তোলা।

সংস্থাটি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের সাথে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি।

তারা আরও বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীলে সাহায্য করেছে, অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সাহায্য করেছে। যদিও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়েছে। এছাড়া অর্থ প্রদানের ভারসাম্যের অবনতি কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সাথে কর রাজস্ব সংগ্রহ হ্রাস পেয়েছে, ব্যয়ের চাপ বেড়েছে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থ পরিশোধের বকেয়া জমা হয়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে আইএমএফ উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নীতি ও সংস্কারের উপর উন্মুক্ত এবং ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া হিসাবে আমরা ক্রমাগত আর্থিক কঠোরকরণ এবং অ-প্রধান মূলধন ব্যয়কে যুক্তিযুক্তকরণসহ নীতির সমন্বয় করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। বাংলাদেশ এবং তার জনগণকে সমর্থন করার জন্য আইএমএফ একটি অবিচল অংশীদার।




জুনেই পাওয়া যাবে আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির টাকা: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের তৃতীয় কিস্তির টাকা জুনেই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রোববার (২৬ মে) দুপুরে সচিবালয়ে আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক ড. কৃষ্ণমূর্তি ভি সুব্রামানিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে ডলারের প্রবাহটা বাড়ানো যায়। এখানে অনেক নেগোসিয়েশন আছে। আমরা যেটা আশা করছি এই সমস্যাটি আমরা সমাধান করতে পারব। আমরা কাজ করছি। আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, ‘আপনারা সঠিক পথে আছেন। আপনারা যে কাজ করছেন সমস্যা সমাধানে সেটাতে আমাদের সমর্থন আছে।’

জুনে আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুন মাসেই তারা দেবে। সেখানে বাধা তো নেই।




১০ বছর কর অবকাশ পাওয়া শিল্পখাতের সুবিধা বাতিল চায় আইএমএফ

ঋণের তৃতীয় কিস্তি ছাড় করার আগে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও আগের শর্ত পূরণ নিয়ে ঢাকা সফরে রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল।

দফায় দফায় অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সভা বৈঠক হচ্ছে। বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে কর অবকাশ প্রাপ্ত শিল্পখাত নিয়ে আলোচনা হয়। যেখানে আইএমএফের পরামর্শ হলো ন্যূনতম ১০ বছর ধরে সুবিধা পাওয়া শিল্পখাত থেকে অবকাশ সুবিধা বাতিল করে করের আওতায় আনা।

আগের দেওয়া পরামর্শগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা নিয়ে চলতি সপ্তাহে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ১০ বছর হিসাবে কর অবকাশ সুবিধা পাওয়া শিল্পখাত বিবেচনা করলে দেশের অধিকাংশ খাতই চলে আসছে। যার মধ্যে রয়েছে— ফার্মাসিটিক্যালস, কৃষি যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, ইলেট্রনিক্স শিল্প, অটোমোবাইল, বাইসাইকেল, গাড়ির টায়ার, নির্মাণ সামগ্রীর স্বয়ংক্রিয় ইট কিংবা রড, রপ্তানি করে এমন কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, পোল্ট্রি শিল্প, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্প ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ। এমন অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ ধরনের শিল্প এর আওতায় চলে আসবে।

তিনি আরও বলেন, আইএমএফ পরামর্শ দেওয়ার অনেক আগে থেকে এনবিআর এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে। তবে অবশ্যই আমাদের যেসব দেশীয় শিল্প ভালো করছে এবং যে সব পণ্যের জনসাধারণের নিত্যপ্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, ওইসব খাতকে অবশ্যই আমাদের বিবেচনা করতে হবে। জটিল এমন সিদ্ধান্ত হুটহাট করে নেওয়া সম্ভব হবে না।

এর আগে গত মাসে আইএমএফের একটি কারিগরি দল এনবিআরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সেখানে কর অবকাশসুবিধা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এবারের সফররত আইএমএফের প্রতিনিধিদলটি এসব পরামর্শ বাস্তবায়নে পরিকল্পনা ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইতে পারে বলে জানা গেছে।

২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪৫০ কোটি বা সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়ে আবেদন করে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। এরই মধ্যে ঋণের দুটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফ বলছে, আয়কর আইনে বলা হয়েছে, উৎপাদন খাতের কর অবকাশসুবিধা ২০২৫ সালের অর্থাৎ আগামী বছরের জুনে শেষ হয়ে যাবে। আইন অনুযায়ী, এই মেয়াদ শেষের পর তা যেন আর নবায়ন করা না হয়।

আইএমএফ প্রসঙ্গে সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, সবাই কর অব্যাহতি বললেও আমরা সেটাকে লজিস্টিক সাপোর্ট বলে থাকি। এ ধরনের অর্থনৈতিক পলিসি প্রতিটি দেশেই রয়েছে। আইএমএফ যেটা বলে আসছে, সেটা হলো ভর্তুকি কমানো। নগদ প্রণোদনা ও ভর্তুকি এটা এনবিআরের বিষয় না। ভর্তুকি আসলে এক ধরনের সাপোর্ট। আমরা ভর্তুকিকে সাপোর্টের পর্যায়ে নিয়ে যাবো। এ সব সাপোর্ট ধাপে ধাপে কমিয়ে আনবো, যাতে আমাদের উৎপাদনে ধস না নামে। সেটা আইএমএফও জানে। আমরা তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। একসাথে সবকিছু মানা যাবে না। একইভাবে এনবিআরও যেখানে করছাড় কিংবা সাপোর্ট দিয়ে আসছে, সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সেখানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পলিসি সাপোর্টের ক্ষেত্রে এনবিআর এক জায়গায় স্থির থাকে না। প্রতি বছর বাজেটে সাপোর্ট দিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।




করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ আইএমএফের

বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ ) ৫ শতাংশ করহার তুলে দিয়ে ৫ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা আয়ের ওপর প্রান্তিক করের হার ১০ শতাংশ করার পরামর্শ দিয়েছে।

ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে আইএমএফের কর নীতি মিশন।

তারা বলেছে, যে বিধান অনুযায়ি এনবিআর কর অব্যাহতি দিতে পারে সে বিধান থাকা উচিত না। সেই সঙ্গে বর্তমানে যেসব খাতে কর সুবিধা পায়, সেসব খাতেরে বিদ্যমান সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে আর বাড়ানো উচিৎ না।

কর ছাড় বিষয়ে প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিনিধি দলটি বলছে, কর আদায় বাড়াতে আগামী অর্থবছর থেকে কোম্পানিগুলোর জন্য ইলেকট্রনিক ফাইলিং চালু করা উচিত। এই বছরের জুলাই থেকে আগামী অর্থবছর শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাজস্ব কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান ও আয়কর কর্মকর্তাদের সামনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন ডেভিড বার, অরবিন্দ মোদি এবং ডেভিড ওয়ান্টওয়ার্থের সমন্বয়ে গঠিত আইএমএফ প্রতিনিধি দলটি।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে অব্যাহতি ও রেয়াতসহ প্রত্যক্ষ কর ব্যয়ের মোট প্রাক্কলিত পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া কর ভর্তুকির পরিমাণ ৮৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে ৪০ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রাক্কলিত প্রত্যক্ষ কর ব্যয়ের মোট পরিমাণ হবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৪১ কোটি টাকা।

আয়কর আইন-২০২৩ এর ট্যাক্স হলিডে অংশের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিনিধি দলটি আইনি বিধান বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছে। যেন কর প্রশাসন নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবসায়কে ছাড় দিতে না পারে।

তারা বলছে, কর প্রশাসনের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার আছে এবং আইএমএফ করপোরেট আয়কর ই-রিটার্ন চালুতে সহায়তা করতে পারে।

প্রতিনিধি দলটি অবশ্য করপোরেট আয়করের জন্য অবচয় ভাতার হার ও ভাতা মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যবসার লোকসান অন্তত ১০ বছর ধরে চলতে দেওয়া যেতে পারে।

আইএমএফের প্রতিনিধি দল ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ট্যাক্স রিটার্ন পর্যালোচনা ও সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে এনবিআরকে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রনিক রিটার্ন দাখিল ও পেমেন্টের আহ্বান জানিয়েছে।




আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তি নিয়ে আশাবাদী সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের তৃতীয় কিস্তি পেতে আশাবাদী সরকার।
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত বুধবার সচিবালয়ে আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জয়ন্দু দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঋণ কর্মসূচির তৃতীয় কিস্তির অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদাতা সংস্থাটির একটি দল বাংলাদেশ সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এক বছর আগে আইএমএফ বোর্ড আর্থিক সংকটে থাকা বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য এই ঋণ অনুমোদন করে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলার ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার দেয় সংস্থাটি।

বৈদেশিক মুদ্রার ন্যূনতম রিজার্ভ (এনআইআর) ও কর-রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও আইএমএফ ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি অনুমোদন দেয়।

আগামী মে মাসে আইএমএফ ঋণের তৃতীয় কিস্তি দিতে পারে।

আগামী মাসে সফরকালে আইএমএফ দল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে সরকারের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করবে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, বিশ্বব্যাংক যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে তার বেশিরভাগই পূরণ হয়েছে। তবে আগের মতো সরকার ন্যূনতম রিজার্ভ রাখতে পারেনি।

শর্ত অনুসারে, ২০২৩ সালের শেষে রিজার্ভ কমপক্ষে ১৭ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার হওয়া দরকার ছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ডলার কম।

তবে এবার কর-রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, অন্যান্য সংস্কার উদ্যোগের শর্তগুলো পূরণ হয়েছে।

তৃতীয় কিস্তির আরেক শর্ত হলোÑ ডিসেম্বরে বাজেট ঘাটতি যেন ৯০ হাজার ৫২০ কোটি টাকার বেশি না হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ১২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা।

এই ঘাটতি আইএমএফের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

আইএমএফ’র চারটি পরিমাণগত শর্ত সরকার পূরণ করেছে। এগুলো হলোÑ বৈদেশিক বকেয়া, রিজার্ভ, সামাজিক খরচের অগ্রাধিকার ও মূলধন বিনিয়োগ।

আইএমএফ কিছু কাঠামোগত শর্তও যুক্ত করেছে।

কাঠামোগত শর্তগুলোর একটি হলো সরকার ডিসেম্বর থেকে ত্রৈমাসিক জিডিপি তথ্য প্রকাশ করবে। তবে তা প্রকাশ করতে পারেনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

‘আপাতত ক্রলিং পেগ সিস্টেম চালু থাকবে’ উল্লেখ করে গত বুধবার অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার মুদ্রার বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করবে না।

গত জানুয়ারিতে টাকার দামের আকস্মিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তীকালীন ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করবে।
গত বছরের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুদ্রাবাজার অবাধে চলতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ঋণ কর্মসূচি চলমান রাখতে এটি আইএমএফর প্রধান দাবিগুলোর একটি ছিল।




রিজার্ভ বেড়ে ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বিতীয় ধাপের ৬৯ কোটি ( ৬৮৯ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাজেট সহায়তা ঋণের ৪০ কোটি (৪০০ বিলিয়ন) ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। এ‌তে ক‌রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বে‌ড়ে ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁ‌ছে‌ছে।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক। এসময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মুখপাত্র বলেন, আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে অনুমোদিত ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ও এডিরির ঋণের ৪০ কোটি ডলার এসেছে। গত বৃহস্পতিবার এ অর্থ রিজার্ভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই দুই সংস্থার ঋণ পাওয়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার হ‌য়ে‌ছে। বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, খরচ করার মতো রিজার্ভ আছে ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে আইএমএফের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি অনুমোদন হয়।

স্বল্প মেয়াদে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে মুদ্রানীতির রাশ টেনে ধরার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর সঙ্গে সহায়ক নীতি হিসেবে নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি ও মুদ্রার বিনিময় মূল্যের ক্ষেত্রে আরও নমনীয় হওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। বাইরের আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে এসব পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।

এদিকে বাংলাদেশ গত জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারায় আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যে অব্যাহতি চেয়েছিল, তা অনুমোদন করেছে সংস্থাটির পর্ষদ। একই সঙ্গে ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ সংরক্ষণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর শেষে নিট রিজার্ভ থাকার কথা ছিল ২৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। জুন শেষে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে এক্ষেত্রে ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হয়নি।




অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৩ পরামর্শ আইএমএফের, বাড়বে রিজার্ভ

 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তিন দফা সুপারিশ করেছে আইএমএফ। আর চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারলে আগামী দিনে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করবে। ফলে চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হতে পারে।

আইএমএফের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে-মুদ্রানীতিকে আরও কঠোর ও সংস্কার করা, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করা এবং নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি অনুসরণ করতে হবে।

আইএমএফ-এর ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বাবদ ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় করার প্রস্তাব অনুমোদনের পর সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ এসব সুপারিশ করেছে।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রতিবেদনটি আইএমএফর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

জানুয়ারিতে আইএমএফ’র নির্বাহী পর্ষদ বাংলাদেশের অনুকূলে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রথম কিস্তি বাবদ ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পায়। দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় করার প্রস্তাব মঙ্গলবার আইএমএফ-এর নির্বাহী বোর্ড অনুমোদন করেছে।

আইএমএফ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একাধিক ধাক্কা লেগেছে। এর প্রভাবে অর্থনীতি বহুপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে তিন দফা পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়ক হবে।

এক.
মুদ্রানীতিকে আরও সংকোচনমুখী ও সংস্কার করতে হবে। একইভাবে এ প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকতে হবে।

দুই.
সহায়ক ও নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি অনুসরণ করতে হবে।

তিন.
ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে আরও উন্মুক্ত করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানিতে কঠোরতা আরোপ করার ফলে আমদানি ব্যয় কমেছে। গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে আগামী দিনে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করবে।

চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসবে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বৃত্ত অতিক্রম করে ৭ শতাংশের বৃত্তে প্রবেশ করবে।

এতে বলা হয়, মুদ্রানীতিতে আরও সংকোচনমুখী করলে মূল্যস্ফীতির হার কমবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির প্রভাব জোরদার হবে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ধাপে ধাপে নমনীয় করলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে ডলারের প্রবাহ বাড়বে। অর্থনীতিতে বহুপাক্ষিক ধাক্কা মোকাবিলায় এটি জরুরি বলে মনে করে আইএমএফ।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমতির দিকে থাকলেও রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির মতে, অর্থনৈতিক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুর্বল শ্রেণির জন্য এখন সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধিসহায়ক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে করনীতি সংশোধন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কর-রাজস্ব বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ, ব্যয় করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

দেশের অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ছে। এতে অর্থায়নের চাহিদাও বেশি। এ কারণে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি। ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি কমাতে সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি মূলধন পুনরুদ্ধারে বিশেষ কৌশল প্রণয়ন করতে বলেছে সংস্থাটি।

আইএমএফ পর্ষদ এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ব্যাংক খাতের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো জোরদার করা, শাসনব্যবস্থার উন্নতি ও শেয়ারবাজারের উন্নয়ন করা গেলে আর্থিক খাতের দক্ষতা বাড়বে এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ খাতে তারা জোর দিতে বলেছে।




চলতি মাসে রিজার্ভে যোগ হচ্ছে ঋণের ১.৩১ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। ঋণের এ অর্থ শুক্রবার রিজার্ভে যোগ হবে।

তাছাড়া চলতি মাস ডিসেম্বরে এডিবির ৪০০ মিলিয়ন বা ৪০ কোটি ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ কোটি ডলারসহ অন্যান্য সোর্স থেকে আরও ১৩ কোটি ডলার আসবে।

এসব অর্থের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত (রিজার্ভ) কিছুটা বাড়বে। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে রিজার্ভে যোগ হবে এক দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। যদিও নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে আকু পেমেন্ট রয়েছে। সেখানে এক বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি রিজার্ভ থেকে বের হবে (পেমেন্ট হবে)।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক এ তথ্য জানান।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ১৯ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব মতে রিজার্ভ রয়েছে ২৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইএমএফের প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী পর্ষদের বৈঠক হয়। সে বৈঠকে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের প্রস্তাব অনুমোদন পায়।




আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থের অনুমোদন

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। সংকটে পড়েছে ব্যাংকিং খাতও। নাজুক এই অবস্থায় অর্থনীতিকে সবল করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে আইএমএফের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি অনুমোদন হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭৬ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার পায় বাংলাদেশ।

অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭টি কিস্তিতে এই অর্থ বিতরণ করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া ৪৪৭ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তির পরে ৬টি সমান কিস্তিতে অবশিষ্ট ৬৫৯ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ গত বছরের জুলাই মাসে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য আবেদন করার পর শর্তসাপেক্ষে ঋণ দিতে রাজি হয় আইএমএফ। ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।




আইএমএফের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত আজ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব আজ মঙ্গলবার সংস্থাটির বোর্ড সভায় উঠবে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ওয়াংশিটনে অবস্থিত আইএমএফ কার্যালয়ে এই সভা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছাড় করেছিল।

গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় আইএমএফের পর্ষদ। ঋণের শর্ত অনুযায়ী সাত কিস্তিতে ৪২ মাসে এ ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে। ঋণের গড় সুদের হার ২ দশমিক ২ শতাংশ।

এদিকে, আইএমএফ-এর বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ঋণ প্রস্তাবের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কারও ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের প্রস্তাব উঠছে বলে জানা গেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আলোচ্য প্যাকেজে দুই ধরনের ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে বর্ধিত ঋণ সহায়তা বা বর্ধিত তহবিল (ইসিএফ অ্যান্ড ইএফএফ) থেকে পাওয়া যাবে ৩৩০ কোটি ডলার। রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় পাওয়া যাবে ১৪০ কোটি ডলার। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ ঋণ কর্মসূচি চলাকালীন বাংলাদেশকে বিভিন্ন ধরনের শর্ত পরিপালন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঋণ পাওয়ার জন্য আইএমএফ বাংলাদেশকে কোয়ান্টিটেটিভ পারফরম্যান্স ক্রাইটেরিয়া (কিউপিসি) বা পরিমাণগত কর্মসক্ষমতার মানদণ্ড, ইন্ডিকেটিভ টার্গেটস (আইটি) বা নির্দেশক লক্ষ্য এবং স্ট্রাকচারাল বেঞ্চমার্ক (এসবি) বা কাঠামোগত মাপকাঠি পূরণের শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর), প্রাইমারি ব্যালান্স ও এক্সটার্নাল পেমেন্টস এরিয়ার্স সংক্রান্ত শর্তগুলো কিউপিসির আওতাভুক্ত।

সূত্র জানায়, নিট রিজার্ভ-সংক্রান্ত শর্ত এখনো পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্দেশক হিসেবে কর রাজস্ব, সামাজিক খাতে সরকারের ব্যয় ও সরকারের মূলধনি বিনিয়োগ সংক্রান্ত কিছু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল আইএমএফ।

অন্যদিকে, লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজস্বও আহরণ করতে পারেনি এনবিআর।

আইএমএফের শর্তে গত জুনের মধ্যে কর-জিডিপির অনুপাত দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ, বিপিএম৬ অনুসারে রিজার্ভের হিসাবায়ন, বাজারভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রার দর নির্ধারণ, ব্যাংকের পাইলট রিস্কভিত্তিক নজরদারির কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের তথ্য প্রকাশের কথা বলা হয়েছিল।

এছাড়া জুলাইয়ের মধ্যে সুদহারে করিডোর পদ্ধতি গ্রহণেরও শর্ত দিয়েছিল সংস্থাটি। শর্ত ছিল সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন ও ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের খসড়া জমা দেওয়ারও। এছাড়া সেপ্টেম্বর শেষে জলবায়ু ও সবুজ উদ্যোগকে সংহত করতে টেকসই সরকারি কেনাকাটার নীতি গ্রহণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের শর্ত ছিল। ঋণ কর্মসূচিতে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি পণ্যের দাম সমন্বয়ে সময়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নির্ধারণেরও শর্ত দেওয়া হয়।

আইএমএফের এশীয় ও প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে গত ৪ থেকে ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে সংস্থাটির রিভিউ মিশন সম্পন্ন হয়। মিশন শেষে এক বিবৃতিতে রাহুল আনন্দ বলেন, প্রথম কিস্তির রিভিউ সম্পন্ন করার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইএমএফ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য সংস্কার করেছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিদ্যমান ঝুঁকি এবং বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতে ক্রমাগত সুদহার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। এর ফলে চাপে পড়েছে স্থানীয় মুদ্রা টাকার বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদি নীতি অগ্রাধিকারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নাজুক জনগোষ্ঠীর ওপর এসব অর্থনৈতিক দুর্বিপাকের প্রভাবকে সহনীয় করা এবং বহিস্থ প্রভাবকের অভিঘাত মোকাবিলায় সহনশীলতা তৈরিতে জোর দিতে হবে।

প্রথম রিভিউ সম্পন্ন হলে এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ)-এর আওতায় ৪৬ লাখ ২০ হাজার ডলার (কোটার ৩৩ শতাংশ) এবং রেসিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় ২১ কোটি ৯০ লাখ ডলার (কোটার ১৫.৮ শতাংশ) ছাড় করা হবে।

বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের ঋণ অনুমোদন করা হয় গত জানুয়ারিতে। অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তারা জানান, বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে মঙ্গলবার বাংলাদেশের জন্য ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ আইএমএফ’র বোর্ড সভায় অনুমোদন বিষয়টি নিশ্চিত।




আইএমএফ ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির শর্তে ছাড়

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর প্রতিশ্রুত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত দিয়েছিল সেগুলো থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন করতে সম্মত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রিজার্ভ অর্জন এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অন্যতম।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) মিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় অংশ নেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সভায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা বিষয়গুলো তুলে ধরলে আইএমএফ মিশন কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে সূত্র জানায়।

ঢাকায় সফররত আইএমএফ মিশনের সঙ্গে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঋণদাতা সংস্থাটি বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার কমিয়ে ২০২৪ সালের জুন নাগাদ ২০.১৯ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ গঠনের নতুন লক্ষ্যমাত্রা দিতে পারে।

পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ যখন পশ্চিমা দেশগুলোয় চাহিদা কমে যাওয়ার সম্মুখীন; মূল্যস্ফীতি ও সার, জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় যখন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে তার মধ্যেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় এ অগ্রগতি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে, এছাড়াও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশি টাকার ৩৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন ঘটেছে।

সভায় আইএমএফ মিশন চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারকে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল, সেটিও কমাতে রাজি হয়েছে। তবে সরকারের প্রাইমারি ব্যালেন্স বাড়ানোর কথা বলেছে আইএমএফ।

চলতি বছরের শুরুতে আইএমএফ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২৫.৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিট বা প্রকৃত বৈদেশিক রিজার্ভ গঠনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু, আইএমএফের রিজার্ভ হিসাব করার পদ্ধতির ষষ্ঠ সংস্করণ বিপিএম৬ অনুযায়ী, বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২১.১৫ বিলিয়ন ডলার। নিট হিসাব করলে এই পরিমাণ আরও কমে ১৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী বছরের জুন নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ২৬.৮১ বিলিয়ন ডলার রাখার শর্ত দিয়েছিলো আইএমএফ। আগের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে তা থেকে কমিয়ে জুন নাগাদ তা ২০.১৯ বিলিয়ন ডলার করার বিষয়ে রাজি হয়েছে আইএমএফ। এই সংশোধন বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

মঙ্গলবার মিশনের সঙ্গে সভার আগে অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার যেসব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে আইএমএফের শর্ত পরিপালন করতে হচ্ছে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করেন। সেখানে আগামী জুনের মধ্যে সংস্থাগুলো তাদের সংশ্লিষ্ট টার্গেট কতটা অর্জন করতে পারবে, তা জানতে চান তিনি। সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে দুপুরে আইএমএফ মিশনের সঙ্গে সভায় অংশ নেন অর্থ সচিব। সেখানে রিজার্ভ, রাজস্ব আয় ও সরকারের প্রাইমারি ব্যালেন্স নিয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আইএমএফ মিশনের সঙ্গে সভায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি কর্মকর্তারা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, জরুরি আমদানির ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বিবেচনায় আগামী বছরের জুন নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রা মজুতের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে এটি কমাতে সম্মতি হয়েছে আইএমএফ।




চার ইস্যুতে আইএমএফের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক

চারটি ইস্যুতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাথে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল। গতকাল সোমবার বিকাল তিনটায় বিএসইসির কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে সকল কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসির একটি সূত্র জানিয়েছে, চারটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএসইসির সাথে বৈঠক করেছে আইএমএফ। ইস্যুগুলো হলো- বর্তমান মার্কেটের অবস্থা, নতুন আইন-কানুন,গ্রিন বন্ড ও সর্বজনীন পেনশন স্কিম।

বৈঠকের বিষয়ে বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিসহ চারটি ইস্যুতে আইএমএফ প্রতিনিধি দল আমাদের সাথে বৈঠক করেছে। বিএসইসির চেয়ারম্যান আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে তাদেরকে ব্রিফ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা চেয়েছে, তারা আশ্বাস দিয়েছেন। সব মিলিলে খুব সুন্দর বৈঠক হয়েছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, একবছর আগে এই প্রতিনিধি দল আমাদের সাথে বৈঠক করেছিলো, সেই বৈঠকের পর থেকে আমাদের কী উন্নতি হয়েছে তারা জানতে চেয়েছে। আমরা আমাদের উন্নতির বিষয়ে তাদেরকে বলেছি।

তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। বিশেষ করে একটি বড় ফান্ড সাপোর্টও চাওয়া হয়েছে। বলেছি এই সহযোগিতা পেলে আমাদের আগামীর কাজগুলো করতে অনেক সহজ হবে।

এমন একটি সময় আইএমএফ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার সাথে বৈঠক করছে, যেই সময়ে দেশে ডলার সংকট চলছে। সংকট দূর হওয়ার পরিবর্তে বরং বাড়ছে। ডলার সংকটকালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির বিষয়টি আলোচনার শীর্ষে। ঋণ পেতে চাইছে দেশ, অন্যদিকে ঋণ পেতে নানা শর্তও জুড়ে দিয়েছে আইএমএফ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঋণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া শর্ত খতিয়ে দেখতে পরামর্শদাতা সংস্থাটির বিশেষ দল গত ৪ অক্টোবর ঢাকায় আসে। এই সময়ে তারা অংশীজনদের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক করবে। আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো- আর্থিক খাতের স্থায়িত্ব, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, ব্যাংক খাতের সংস্কার, তারল্য ব্যবস্থাপনা, ডলারের বাজারভিত্তিক রেটে লেনদেন, ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ গণনা পদ্ধতি, সুদের হার ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন, টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, বন্ড মার্কেট, ডলার পরিস্থিতের অগ্রগতি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করবে আইএমএফ প্রতিনিধি দল।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণের অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। বর্ধিত তহবিল সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৩৩০ কোটি ডলার এবং রেজিলিয়্যান্স অ্যান্ড সানসেইনিবিলিটি ফ্যাসিলিটির আওতায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি ডলার। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়ার পরে মোট ৪২ মাসে ৭ কিস্তিতে এ ঋণ পাবে বাংলাদেশ। ঋণের গড় সুদ হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ। আর গত বছরের ২৪ জুলাই আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়েছিল বাংলাদেশ।




বিজিএমইএর সঙ্গে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার (আইএমএফ) প্রতিনিধিদল। রোববার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ বৈঠক হয়েছে। তারা পোশাক খাতের সম্ভাবনাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বিজিএমইএ থেকে জানানো হয়েছে, আইএমএফের মিশন প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে সংস্থাটির প্রতিনিধিদল বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আইএমএফের প্রতিনিধিদলে রাহুল আনন্দের সঙ্গে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তারা হলেন—বাংলাদেশ ও ভুটানে আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জায়েন্দু দে, ক্রিস পাপাইওরগিও, ডিভিশন চিফ পিয়াপর্ন সোদশ্রিবিবুন, ডেপুটি ডিভিশন চিফ এস্টেল জু লিউ, সিনিয়র ইকোনমিস্ট সিওক হিউন ইউন, সুফাছল সুফাচালশাই ও রিচার্ড ভার্গিস।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিজিএমইএর পরিচালক আসিফ আশরাফ, পরিচালক নীলা হোসনে আরা, বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন লেবার অ্যান্ড আইএলও অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান আ ন ম সাইফুদ্দিন এবং স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফরেন মিশন সেলের চেয়ারম্যান শামস মাহমুদ।

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং দেশের রপ্তানি পারফরম্যান্সের ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রভাব প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এই গ্র্যাজুয়েশনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়। এলডিসি-পরবর্তী যুগে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপরও জোর দেওয়া হয় বৈঠকে।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান আইএমএফের প্রতিনিধিদলকে পোশাক শিল্পের টেকসই কৌশল ২০৩০ বিষয়ে অবহিত করে বলেন, এই রূপকল্পের লক্ষ্য হলো— বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রেখে আরও টেকসই উপায়ে পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।

তিনি পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসাধারণ অগ্রগতির কথা বলেন, যার মধ্যে রয়েছে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং সার্কুলার ইকোনমিসহ আরো উৎকর্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উচ্চতর প্রবৃদ্ধির রূপকল্পের আলোকে মূল্য সংযোজন আইটেম, বিশেষ করে নন-কটন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।




রিজার্ভের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের ইঙ্গিত আইএমএফের

বেঁধে দেওয়া লক্ষ্য পূরণ করতে না পারায় রিজার্ভ নিয়ে অসন্তুষ্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ঢাকা সফররত দাতা-সংস্থার প্রতিনিধিদল এ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে রিজার্ভ নিয়ে তাদের মতামত বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করেছে।

আইএমএফ প্রতিনিধিদলের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রিজার্ভের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে তা চেষ্টা করেও পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এজন্য রিজার্ভে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে, গভর্নর না থাকায় ভারপ্রাপ্ত গভর্নর এ বিষয়ে মতামত জানাতে পারেননি। প্রতিনিধিদল বর্তমান লক্ষ্য মাত্রা ২৫ বিলিয়ন থেকে আগামী ডিসেম্বর ও মার্চের জন্য কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব কথা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ও এক নম্বর ডেপুটি গভর্নর কাজী সায়েদুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের, সাজেদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক সূত্র জানায়, আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের আগে আগের শর্তানুযায়ী বৈঠক করছে সংস্থাটির সদস্যরা। রিজার্ভ, বাজারভিত্তিক ডলারে রেট, ঋণখেলাপি, রাজস্ব সংস্কার, তারল্য ব্যবস্থাপনাসহ ৪৭ শর্তে আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়। বাংলাদেশ অধিকাংশ শর্ত পূরণ করতে পারলেও রিজার্ভে উন্নতি, কর-জিডিপি অনুপাত এবং বাজারভিত্তিক ডলার রেট করতে ব্যর্থ হয়। এসব বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বাস্তবতার আলোকে শর্তপূরণে আরও সময় পেতে পারে বাংলাদেশ।

আইএমএফের শর্তানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভের (এনআইআর) পরিমাণ ২৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রাখার কথা ছিল। জুলাইয়ের জন্য ছিল ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। তবে, আজ বুধবার রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার। আর সেখান থেকে অন্যান্য দায় বাদ দিলে রিজার্ভ ১৮ বিলিয়নের নিচে নেমে যায়।

বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মাসুদ বিশ্বাস। বিশেষ কারণে তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এ কারণে তার বিষয়গুলো নিয়ে আইএমএফ কোনো প্রশ্ন করেননি। একটি সূত্রে জানা গেছে, বিএফআইইউ কার্যক্রম ও দেশের অর্থপাচার রোধে সংস্থাটি কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে আইএমএফের পক্ষ থেকে।

আইএমএফের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে গভর্নরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় একাধিক দল অংশ নেয়। আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিশদ আলোচনার মধ্যদিয়ে শেষ হবে।’

দেশের ব্যাংক, রাজস্ব ও পুঁজিবাজারসহ মোট ৪৭টি সংস্কার প্রস্তাবের দেয় দাতা সংস্থাটি। সংস্কার প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবি ধাপে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। যার প্রথম কিস্তির অর্থছাড় করে গত ফেব্রুয়ারিতে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ নভেম্বরে মিলবে এমন আভাস সংশ্লিষ্টদের।

 




৫০ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বব্যাংক আইএমএফের বার্ষিক সভা

মরক্কোর মারাকাশ শহরে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা। গতকাল সোমবার মরক্কোর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় গ্লোবাল পার্লামেন্টারিয়ান ফোরামের বৈঠকের মধ্য দিয়ে এ সভা শুরু হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের ১৯০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাত ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা।

এবারও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পরিবর্তে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভাতেও যাননি অর্থমন্ত্রী। ওই সভাতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ৫০ বছর পর আফ্রিকার কোনো দেশে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৩ সালে আফ্রিকার আরেক দেশ কেনিয়ায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত মাসে মারাকাশে বড় ধরনের ভূমিকম্পে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় মরক্কোতে এবার বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সভা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত সভাটি আয়োজনের সিদ্ধান্তের নেয় দেশটির সরকার। কভিডের কারণে প্রায় তিন বছর পর ২০২২ সালে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন সশরীরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সাল থেকে প্রতি বছর সাধারণত সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পরপর দুই বছর ওয়াশিংটনে হওয়ার পর তৃতীয় বছর অনুষ্ঠিত হয় অন্য কোনো সদস্য দেশে। বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্যরা নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন এতে।




আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও বাড়ল সুদহার

ব্যাংকের পর এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও সুদহার বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদের সঙ্গে ৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৫ শতাংশ যোগ করে সুদহার নির্ধারণ হবে। আর আমানতে যোগ করা যাবে ২ শতাংশের পরিবর্তে আড়াই শতাংশ। গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে।

বিভিন্ন শর্ত পূরণ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির পরামর্শে এরই মধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে স্মার্ট বা সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিলের সুদহার বাড়বে। গত সেপ্টেম্বর মাসে স্মার্ট ছিল ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণে সুদহার হবে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর আমানতে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।




খেলাপি ঋণ আদায় নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ

খেলাপি ঋণ আদায় এবং ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকায় সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর প্রতিনিধিদল। তারা খেলাপি ঋণ আদায় এবং ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে।

বাংলাদেশে সফররত আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদলটি গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় এসব বিষয়গুলো তুলে ধরে বলে জানা গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষে সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ এবং আইএমএফের পক্ষে ছিলেন সংস্থাটি এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ।

সভা সূত্রে জানা গেছে,সংস্থাটি দেশের ব্যাংকিং খাত এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে বলে উল্লেখ করেছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এখনো ১০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের হাতে থাকা ব্যাংকগুলোর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এখন ২০ শতাংশে ওপরে চলে গেছে। প্রতিনিয়ত এই ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার বেড়েই চলেছে। খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের দৃশত কোনো উদ্যোগই কাজে লাগছে না। এ পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক মাসে খেলাপি ঋণের মাত্রা কিভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, আলোচনার শুরুতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাংকিং খাতে বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকের সার্বিক বিষয়ে একটি চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে দেখানো হয়, বিগত দিনে ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বলা হয়, বেশ কয়েক বছর ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ‘বার্ষিক কর্মসম্প্রদান চুক্তি’ (এপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন সূচক পর্যালোচনা করা হয়। এর আওতায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয় ব্যাংকগুলোকে। এ পর্যায়ে আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, এরপরও এসব ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হচ্ছে কেন, খেলাপি ঋণই বা বাড়ছে কেন। এর জবাবে বলা হয়, চেষ্টা করা হচ্ছে, খেলাপি ঋণ কমানোর। আগামী বছরের মাঝামাঝি এর দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়।

এ বিষয়ে আইএমএফ পক্ষ থেকে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলা হয়, ঋণের চুক্তি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

জানা গেছে, আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সভার অবস্থা জানতে গতকাল দুপুরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে সচিবালয়ে তার কক্ষে ডেকে নেন অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল। এ সময়ে সচিব সভার ফলাফল সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে এ সরকারি ছয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশ। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৪ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৬৪ শতাংশই এখন খেলাপি। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণও ১৬ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। সোনালী ব্যাংকের ১২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। সরকারি খাতের সর্ববৃহৎ এ ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের হার ১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৩৯ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ১৯ শতাংশের বেশি। বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। এ ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশই খেলাপি। বিডিবিএলের খেলাপি ঋণের হারও ৪৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যার পরিমাণ ৯৭১ কোটি টাকা।

গত এপ্রিল-জুন সময়ে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৪ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। ফলে জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকায়। এই খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণের ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন দেশে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এখন তা দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ ১৪ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় সাতগুণ।




আইএমএফের শর্ত পূরণে ব্যর্থতার যে ব্যাখ্যা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। প্রথম কিস্তি ছাড়ের পর দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হতো। তবে সেসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনেকগুলো শর্তের মধ্যে একটি ছিল চলতি বছরের জুনের মধ্যে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন রাখা। তবে সেই শর্ত পূরণ হয়নি। এর মধ্যেই দ্বিতীয় কিস্তির আগে শর্তের অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এতে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের ব্যর্থতা তুলে ধরেছে বলে জানা গেছে।

আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের এবারের বৈঠক শুরু হয়েছে। ঋণের শর্ত অনুযায়ী যেসব সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে সে বিষয়ে তাদেরকে অবহিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব শর্ত পূরণ করতে পারেনি তার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।’

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছয়টি শর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে দুটি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। কেন বাংলাদেশ এই দুটি শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তা অর্থ মন্ত্রণালয় চিঠি লিখে এই ঋণদাতা সংস্থাটিকে ব্যাখ্যা করেছে।

জানা যায়, নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) ছাড়া বাংলাদেশ অন্য যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তা হলো ন্যূনতম রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। গত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আইএমএফ নির্ধারিতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা কম আদায় করেছে। এজন্য চলতি অর্থবছর জিডিপির অনুপাতে ০ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তি রাজস্ব আদায় করতে হবে এনবিআরকে।

আইএমএফের শর্ত অনুসারে, নতুন অর্থবছরে এনবিআরের যে স্বাভাবিক লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার চেয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে হবে।

জুনের মধ্যে যেসব শর্ত বাংলাদেশ পূরণ করতে পেরেছে, তা হলো সুদের হার নির্ধারণে করিডোর ব্যবস্থা চালু করা ও আইএমএফের বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের প্রতিবেদন প্রকাশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রস আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (জিআইআর) এর তথ্য প্রকাশ করে, নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) প্রকাশ করে না। বর্তমানে জিআইআর হিসেবে রিজার্ভ রয়েছে ২১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসেবে রয়েছে ২৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া সেপ্টেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শর্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এনআইআর হিসেবে ২৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রাখার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এখানে এনআইআর হিসেবে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি জিআইআর হিসেবে ব্যর্থ।

এছাড়া মুদ্রার বাজার-নির্ধারিত বিনিময় হার প্রবর্তন করা ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কর্মপরিকল্পনা শেষ করার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন প্রকাশের শর্ত ছিল সংস্থাটির। এই দুটি শর্ত পূরণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, ঋণ কর্মসূচির পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা ও সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য কর্মসূচির প্রথম পর্যালোচনা শুরু করতে এরই মধ্যে ঢাকায় এসেছে আইএমএফের প্রতিনিধি দল। মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ।

ঢাকায় অবস্থানের দ্বিতীয় দিন বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আবদুর রউফ তালুকদার ও অর্থসচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করবেন আইএমএফ কর্মকর্তারা। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা অবস্থানকালে তারা এক ডজনের বেশি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। এই অংশ হিসেবে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে উদ্বোধনী বৈঠক শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একাধিক বৈঠক করবে সংস্থাটি। সারাদিনই ব্যস্ত সময় পার করবেন আইএমএফ প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, তারা বিভিন্ন টেকনিক্যাল বৈঠকে অংশ নেবেন। এদিন আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। তার সঙ্গে থাকবেন ডেপুটি গভর্নররা।

এছাড়া হেড অব বিএফআইইউ, চিফ ইকোনমিস্ট ও বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকরা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বৈঠকে যোগ দেবেন। বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তথ্য পর্যালোচনামূলক আলোচনায় অংশ নেবে আইএমএফ প্রতিনিধিদল।




বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ২৩.১৪ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই হিসাবে দেশের রিজার্ভ এখন ২৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবায়ন পদ্ধতিতে রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে রিজার্ভ গণনায় আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম ৬) পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

সাধারণত, প্রতি মাসে গড়ে বিদেশ থেকে পণ্য কেনার জন্য ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়। সেই হিসাবে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৪ মাসের মতো আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান উৎস হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। গত মাসের মতো চলতি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশ মন্থর। জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। চলতি আগস্টেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়েনি। আগস্টের প্রথম ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৯ কোটি ডলার।

বাজারে সংকট থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। ফলে রিজার্ভের পরিমাণও দ্রুত কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলোয় এখনো ডলার সংকট কমেনি। প্রতিদিনই কেনার বিপুল চাহিদা আসছে। কোনো কোনো দিন তা ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকৃত চাহিদা যাচাই করে তবেই ডলার বিক্রি করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত জ্বালানি তেল, এলএনজি, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির দায় মেটানোর জন্য ডলার বিক্রি করছে। পাশাপাশি সরকারের বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্যও ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।




ভারতকে চাল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান আইএমএফের

বাসমতি ব্যতীত অন্য সব চাল রপ্তানিতে ভারত যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফ বলছে, ভারতের এ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।

অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি মাসের ২০ তারিখে বাসমতি ব্যতীত অন্য সব চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারী দেশ। দেশটির রপ্তানি করা মোট চালের পরিমাণ ২৫ শতাংশই বাসমতি ব্যতীয় অন্য চাল।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিঞ্চাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বর্তমান পরিবেশে, এই ধরনের বিধিনিষেধ বিশ্বের বাকি অংশে খাদ্যের দামের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কোনো দেশ এর পাল্টা কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারে।

চলতি বছরের বর্ষায় ভারতের রাজ্যগুলোতে বৃষ্টিপাতের ভারসাম্যে ব্যাপক অবনতি হয়েছে। জুনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটির উত্তরাঞ্চলী ও কেন্দ্রীয় রাজ্যগুলোতে অতিমাত্রায় বর্ষণ ঘটলেও পূর্ব, উত্তরপূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। ফলে বিগত অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর ভারতে উৎপাদিত চালের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন ভারতের কৃষি বিজ্ঞানীরা।

 




বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে কাজ করবে আইএমএফ

বন্ড মার্কেটের উন্নতি চায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশেষ করে, সেকেন্ডারি মার্কেটে সরকারি বন্ডের উন্নয়নে কাজ করবে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সরকারি বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে কাজ করতে চায় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক। গতকাল তারা ঢাকায় এসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সরকারি বন্ড নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। প্রতিনিধিদলে আইএমএফের পাঁচজন ও বিশ্বব্যাংকের দুজন উপস্থিত ছিলেন।

মেজবাউল হক আরও জানান, সরকারি বন্ড নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গেও এই প্রতিনিধিদল বৈঠক করবে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, সেকেন্ডারি মার্কেটে সরকারি বন্ডের উন্নতি করা।

বুধবার (৫ জুলাই) ঢাকায় এসেছে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবিষয়ক কারিগরি মিশন। সফরের প্রথম দিনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টানা বৈঠক ও একটি কর্মশালা করে প্রতিনিধিদল। বৈঠকে আইএমএফ দেশের আর্থিক খাতে আরও সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি বাবদ ৪৭৬ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে ৩ বছরে সাতটি কিস্তিতে ঋণের পুরো অর্থ ছাড় করা হবে। এর মধ্যে দুই দফা বাংলাদেশ সফর করে গেছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। এ নিয়ে তৃতীয় দফায় এসেছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল।




চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ বর্ধনশীল : আইএমএফ

চ্যালেঞ্জিং অর্থনীতিতে বাংলাদেশ একটি বর্ধনশীল দেশ। বর্ধনশীল দেশ হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঢাকা সফরত আইএমএফের মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ।

রোববার (০৭ মে) সফর শেষে এক লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানানো হয়। রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে দলটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গত ২৫ এপ্রিল ঢাকায় আসেন।

আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পটভূমিতে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ বর্ধনশীল দেশ হলেও ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির চাপ, বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থার উচ্চতর অস্থিরতা, ট্রেডিং অংশীদারদের মধ্যে মন্দা প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

লিখিত বক্তব্যে সংস্থাটি জানায়, সফরের সময় আমরা সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিকখাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা তহবিল-সমর্থিত প্রোগ্রামের অধীনে মূল প্রতিশ্রুতি পূরণের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেছি। এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) বা এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) বা রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) ব্যবস্থার প্রথম পর্যালোচনায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে, যা এ বছরের শেষের দিকে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও জানানো হয়, ‘আইএমএফ এর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, দ্বিপাক্ষিক দাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও দেখা করেছে।’




ভর্তুকি কমিয়ে আনতে বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম

আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণপ্রাপ্তির শর্তানুযায়ী আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে বিদ্যুতের দাম বাড়নোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইএমএফের ঋণের বিপরীতে সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে ৫ শতাংশ। চলতি মাসে কিংবা আগামী মাসের যেকোনো সময় দাম বাড়ানোর ঘোষণা হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, লোকসান কমাতে বিতরণ সংস্থাগুলোও ভোক্তা পর্যায়ে ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির জন্য পিডিবির কাছে আবেদন করে। সে ভিত্তিতেই ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সে ভর্তুকির পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সরকার বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয় করতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, চলতি মাস কিংবা আগামী জুনে আরেক দফা বাড়ানো হবে বিদ্যুতের দাম। এর আগে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত গ্রাহকপর্যায়ে তিন ধাপে পাঁচ শতাংশ হারে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম নতুন করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। আর খুচরায় বাড়তে পারে ৫ শতাংশের মতো। দাম বাড়ানোর বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হবে উচ্চপর্যায় থেকে।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ভর্তুকি ছাড় করেছে ১৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এটি ২০২১-২২ অর্থবছরের ভর্তুকি হিসেবে পেয়েছে তারা। একই অর্থবছরের জন্য আগে পেয়েছে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভর্তুকির কোনো টাকা এখনো পাওয়া যায়নি। পিডিবি ভর্তুকি চাহিদা জানিয়ে চিঠি দিলেও টাকা ছাড় করতে দেরি করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহ-সভাপতি এম শামসুল আলম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মে ব্যয় বাড়ছে। আর এটি চাপানো হচ্ছে ভোক্তার ওপর। এখন বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানো হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির কারণে বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হবে। সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। অন্যায় ও অযৌক্তিক ব্যয় সমন্বয় না করে মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, আইএমএফের শর্ত পরিপালনের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতগুলোতে সরকারি ব্যয় বাড়াতে সার ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে ভর্তুকি কমানোর জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক ভর্তুকি আইএমএফ নির্ধারিত সীমায় আটকে রাখতেই সরকার ইতোমধ্যে সারের দাম বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়। জ্বালানি তেলের মূল্য আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই তিন মাস পরপর আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে নিট ভর্তুকির পরিমাণও কমিয়ে আনা হবে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রিজার্ভ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্ষেত্রে আইএমএফের শর্তপূরণে কি ধরনের সমস্যা তা জানাতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকার সরে আসতে চায়। শিল্প খাতেও বাড়তি গ্যাস দরকার। এ কারণে আমদানি বাড়াতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয় করা প্রয়োজন।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, তেল ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুনঃনির্ধারণ এবং সমন্বয়ে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রেখে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০২৩ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

এর আগে আইন সংশোধন করে গত ১ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন), অধ্যাদেশ, ২০২২’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এর মধ্যদিয়ে বিশেষ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সরাসরি বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা যায় সরকারের হাতে।

গত ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি করে বিইআরসি। এরপরই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির আবেদন করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি গণশুনানি করে বিইআরসি। কিন্তু গণশুনানি শেষে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাহী আদেশে কয়েক দফায় ১৫ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়।

এর আগে গত নভেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় প্রায় ২০ শতাংশ (কার্যকর হয় ডিসেম্বর থেকে)। এটি সমন্বয়ে ১২ জানুয়ারি ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে গত ১৪ বছরে পাইকারি পর্যায়ে ১০ বার ও খুচরায় ১১ বার বেড়েছে বিদ্যুতের দাম।




বাংলাদেশ আইএমএফের ঋণ নিয়েছে কিছুটা স্বস্তির জন্য  : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ কিছুটা স্বস্তির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে, এমনটাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে দ্য রিজ-কার্লটন হোটেলের সভাকক্ষে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈশ্বিক ঋণ দাতা সংস্থা আইএমএফও ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘আমরা কিছুটা স্বস্তির জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি।’

আইএমএফ সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্যে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন দেয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন আইএমএফের প্রধান যা কোভিড-১৯ মহামারির পরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে তুলেছে।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উদ্ধৃত করে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল (সামগ্রিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে) কারণ, দেশটি এমনকি করোনা মহামারির পরও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে।’

আইএমএফ প্রধান আরও বলেছেন, সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন ও দক্ষ যোগাযোগ এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এছাড়া, ক্রিস্টালিনা কোভিড-১৯ মহামারিকালে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখারও প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের নানা উদ্যোগ সম্পর্কে আইএমএফ প্রধানকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন একদিনে হয়নি বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল।’

শেখ হাসিনা বলেন, পট পরিবর্তনের পর কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি যেভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন চেয়েছেন সেভাবে তার পরিকল্পনা করেন এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন> জাপান দীর্ঘকালের পরীক্ষিত বন্ধু, হৃদয়ের খুব কাছের: প্রধানমন্ত্রী

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের পদক্ষেপ সম্পর্কে আইএমএফ প্রধানকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় আইএমএফের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে আশা করেন।

ব্রিফিং চলাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ বলেন, গত ১৪ বছরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইএমএফ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে এবং কখনই এর থেকে বিচ্যুত হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে কাজ করছে যা বাংলাদেশ মাত্র দু’সপ্তাহের আলোচনার মাধ্যমে পেয়েছে, যদিও অনেক দেশ বছরে পর বছর ধরে আলোচনা চালিয়েও পায় না।

আইএমএফ প্রধানকে উদ্ধৃত করে রউফ বলেন, ‘আইএমএফ ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খানও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।




২০২৩ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩% এর নিচে নামবে: আইএমএফ প্রধান

উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতে ক্রমাগত মন্দার কারণে এই বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি তিন শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সাথে, মুদ্রাস্ফীতির এখনও উচ্চতর গতির কারণে একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধার অধরা রয়ে গেছে।

ওয়াশিংটনে এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, এটা প্রত্যেকের সম্ভাবনার ক্ষতি করে, বিশেষ করে সবচেয়ে দুর্বল মানুষ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য।

কোভিড মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্ব অর্থনীতি আবার টালমাটাল হয়। এতে গত বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেক হয়ে ৩.৪ শতাংশে নেমে আসে।

যদিও এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোর অর্থনৈতিক শক্তি যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, ভারত এবং চীন এই বছরের সমস্ত প্রবৃদ্ধির অর্ধেক হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্বের প্রবৃদ্ধি সম্ভবত আগামী অর্ধ-দশকের জন্য প্রায় তিন শতাংশে থাকবে, যা ১৯৯০ এর দশকের পর থেকে সর্বনিম্ন মধ্যমেয়াদি পূর্বাভাস।




রিজার্ভ গণনার আইএমএফ পদ্ধতি শুরু জুনে

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন গণনায় বিপিএম৬ পদ্ধতি আগামী জুন মাস থেকে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জুন মাসে বছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জুলাই থেকে রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশ করা হবে।

একই সঙ্গে ওই সময়ে ঋণের সুদের হারের সীমা তুলে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারভিত্তিক সুদ হার নির্ধারণের জন্য একটি মানদণ্ড বেঁধে দেবে। এর সঙ্গে ৩ বা ৪ শতাংশ যোগ করে ঋণের সুদ হার নির্ধারণ করতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের নীতি সুদ হার নিরূপণের বিষয়ে একটি সুদের হারের করিডোর তৈরি করবে। এর ভিত্তিতে সময়ে সময়ে সুদের হারে পরিবর্তন আনা হবে।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত মানিটারি পলিসি বিষয়ক কমিটির সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ডেপুটি গভর্নর, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, আইএমএফ আগামী জুনের মধ্যে রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশ করার শর্ত দিয়েছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করেছে। প্রথম কিস্তির টাকা হাতে পাওয়ার পর ঋণের শর্ত পালনে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ।

আগামী জুলাইয়ে রিজার্ভের প্রকৃত হিসাব প্রকাশ করা হবে। এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি মডেল তৈরি করছে। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করলে রিজার্ভ বেশ কমে যাবে। বর্তমানে রিজার্ভ রয়েছে ৩ হাজার ১২৬ কোটি ডলার। এ থেকে বিভিন্ন তহবিলে বিনিয়োগ করা অর্থ বাদ দিলে রিজার্ভ ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে নেমে আসবে। বর্তমান রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন তহবিলে ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ওই বিনিয়োগ থেকে ১০০ কোটি ডলার ইতোমধ্যে কমিয়ে আনা হয়েছে। আরও কমানোর চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিজস্ব হিসাবের রিজার্ভের তথ্য এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাব-দুটির তথ্যই প্রকাশ করবে।

আইএমএফের আরও একটি শর্ত হচ্ছে ঋণের সুদের হারের সীমা তুলে দেওয়া। বর্তমানে সুদের হারের সীমা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বেধে দেওয়া আছে। এ সীমা তুলে দিতে হবে আগামী জুনের মধ্যে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। সুদের হারের ওই সীমা তুলে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বেঞ্চমার্ক সুদ বা সুদের হারের মানদণ্ড ঘোষণা করবে। এটি নির্ধারণ করা হবে সরকারের বিভিন্ন বন্ডের গড় সুদের হারের ভিত্তিতে। বর্তমানে সরকারের ৫টি প্রধান বন্ডের গড় সুদের হার রয়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ। এর সঙ্গে ৩ বা ৪ শতাংশ ব্যাংক যোগ করে আলাদা আলাদাভাবে তারা সুদের হার নির্ধারণ করতে পারবে। তখন সুদের হার ১১ থেকে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এর সঙ্গে রয়েছে আরও নানা ধরনের ফি।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার নির্ধারণ করে নিজস্ব পলিসি পর্যালোচনা করে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সুদের হারের করিডোর তৈরি করবে। যার ভিত্তিতে নীতি সুদের হার যেমন ব্যাংক রেট (বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদে ঋণ দেয়), রেপো রেট (কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিক্রি করা ট্রেজারি বিল পুনরায় কিনে নেওয়ার সুদ) ও রিভার্স রেপো রেট নির্ধারণ করবে।

সূত্র জানায়, সুদের হারের এ নীতি পরিবর্তন হবে। বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সুদের হার কমবে বা বাড়বে। এ বিষয়গুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন কাজ করছে। আগামী অর্থবছরের জুলাইয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার সময়ে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নীতিও ঘোষণা করবে।