মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের ২৫ কোটি টাকার ইউনিট বিক্রি

মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের গ্রোথ ফান্ডের প্রাথমিক ইউনিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। ফান্ডের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি টাকার মধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে মিডল্যান্ড ব্যাংক আড়াই কোটি টাকার ইউনিট কিনেছে। বাকি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফান্ডটির উদ্যোক্তা মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি। ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও কাস্টডিয়ান কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি এ মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি।

মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামির উদ্দিন বলেন, মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের প্রতি আস্থা রাখার জন্য বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই সফল সাবস্ক্রিপশন বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পেশাদারভাবে পরিচালিত বিনিয়োগ উপকরণের প্রতি আগ্রহ ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

ফান্ডটির সাবস্ক্রিপশন পর্বে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। এটি পেশাদার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ড এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

২৫ কোটি টাকা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ফান্ডটি চালু করা হয়। এর মধ্যে স্পন্সর হিসেবে মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এবং অবশিষ্ট অর্থ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড’ মূলত শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন তালিকাভুক্ত শেয়ার, সরকারি সিকিউরিটিজ, মানি মার্কেট ইনস্ট্রুমেন্ট এবং অনুমোদিত অন্যান্য আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হবে। ফান্ডটি টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগের বহুমুখীকরণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে গবেষণাভিত্তিক বিনিয়োগ কৌশল অনুসরণ করবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত জানুয়ারিতে বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড হিসেবে ‘মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড’ অনুমোদন দেয়।




মিউচুয়াল ফান্ড খাত শক্তিশালী হলে পুঁজিবাজার শক্তিশালী হবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘রেগুলেটরি ওভারসাইট অ্যান্ড গর্ভরন্যান্স অব মিউচুয়াল ফান্ড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় দেশের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ফান্ড ম্যানেজার, ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এছাড়াও বিএসইসি’র কমিশনার ড. মিজানুর রহমান কর্মশালায় মূল বক্তব্য প্রদান করেন এবং বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির উন্নয়নের জন্য এই খাতে সুশাসন নিশ্চিতে সকল অংশীজনদের একসাথে কাজ করার উপর জোর দেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি, পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মিউচ্যুয়াল ফান্ড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারলে এবং এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে পারলে, এই খাতকে বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানান তিনি। দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারকে দৃঢ় ও শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে চাইলে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মশালায় মূল বক্তব্যে বিএসইসি’র কমিশনার ড. মিজানুর রহমান দেশের পুঁজিবাজারে বিদ্যমান মিউচ্যুয়াল ফান্ডসমূহ এবং এই খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট নীতি সংক্রান্ত ইস্যুগুলো এবং এই খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর আয়কর অব্যাহতির বিষয়টি নিয়ে পূর্ণ সমাধান আসায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সম্প্রসারণের জন্য আগামীতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিধিবিধান ও নীতি সংশ্লিষ্ট পুনর্গঠনে কমিশন কাজ করছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও এই খাতে রেগুলেটরি অ্যাকশনগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করবে বলে উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করেন তিনি। দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি এবং উপস্থিত মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের তাদের মূলবান মতামত ও পরামর্শ কর্মশালায় উপস্থাপনের অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী মিউচুয়াল ফান্ড সংশ্লিষ্টদের স্বাগত জানান এবং এই খাতে সুশাসন নিশ্চিতে একত্রে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “মিউচুয়াল ফান্ড আমাদের পুঁজিবাজারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে যত শক্তিশালী করা যাবে, দেশের পুঁজিবাজার ততটাই শক্তিশালী হবে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসি সবরকমের চেষ্টা করে যাচ্ছে, আপনারাও আপনাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখুন।” তিনি মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী রূপ দিতে কমিশন সংশ্লিষ্টদের সবধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানান।

এছাড়াও কর্মশালায় অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) এর প্রেসিডেন্ট হাসান ইমাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এইচ এফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফায়েকুজ্জামান, এএএমসিএমএফ-এর সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, এএএমসিএমএফ -এর সেক্রেটারি জেনারেল অরুনাংশু দত্তসহ মিউচুয়াল ফান্ড খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য ও মতামত উপস্থাপন করেন।




প্রাইম ফাইন্যান্সের ৩ ফান্ডের পোর্টফোলিও খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন

পুঁজিবাজারের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালিত তিনটি মিউচুয়াল ফান্ডের পোর্টফোলিওর সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ড তিনটি হলো- প্রাইম ফাইন্যান্সিয়াল ফার্স্ট ইউনিট ফান্ড, প্রাইম ফাইন্যান্স সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড এবং রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী এবং সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ খান।

তথ্য মতে, গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের নিজস্ব সুবিধার জন্য ইউনিট হোল্ডারদের অর্থ অবৈধ আত্মসাৎ, অপব্যবহার এবং পাচারে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এবং মূল ব্যবস্থাপনা কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে। কমিটি মিউচুয়াল ফান্ডের সমস্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত পর্যালোচনা করবে।

এছাড়া, প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ডের সুবিধাভোগী মালিকের অ্যাকাউন্টে অফিসিয়াল লেনদেনের বিবরণী যাচাই করে দেখবে। কমিটি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে মেয়াদী আমানত এবং অন্যান্য ব্যালেন্সে কুপন পেমেন্ট বা সুদ প্রদানের প্রমাণ পর্যালোচনা করবে। আর মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এবং কোনো সংশ্লিষ্ট পক্ষের সুবিধার জন্য বেআইনি অর্থপ্রদানকেও চিহ্নিত করবে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি সিকিউরিটিজ বিনিয়োগের ত্রৈমাসিক সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অফ বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) রেকর্ড পর্যালোচনা করবে।

প্রসঙ্গত, ইউএফএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিনিয়োগকারীদের তহবিল থেকে ১৫৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে বিএসইসি বিষয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ইউএফএস অ্যাসেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীর সম্পদের মিথ্যা প্রতিবেদন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর বিএসইসি অন্যান্য সম্পদ ব্যবস্থাপক পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।