টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, বেসরকারি খাত সুরক্ষায় অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে বেসরকারি খাতকে সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক অবস্থান বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অতীতে এমন নীতির কারণে সুদের হার বেড়েছে এবং বেসরকারি খাত ‘ক্রাউড আউট’-এর মুখে পড়েছে, যা টেকসই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সদস্যসহ অর্থ মন্ত্রণালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে চায় না। বরং এমন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ না পড়ে। এটিই বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান নির্দেশনা।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’-এর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে অর্থনৈতিক সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছায়।

এ প্রসঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীর হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা পরিবারে সাশ্রয় ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এসএমই খাত। পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারায় আনতে কাজ করছে সরকার। এসব পণ্যের ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, থিয়েটার, সিনেমা ও সংগীত খাতকেও অর্থনীতির অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত কর্মক্ষমতা দেখাতে পারছে না। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো না হলে কর আদায়ও বাড়ে না। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বাড়ে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারকে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে দিতে হবে। এজন্য সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।

বিনিয়োগ বাড়াতে ডিরেগুলেশনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসার পথে অতিরিক্ত প্রতিবন্ধকতা থাকলে নতুন বিনিয়োগ আসবে না।




ক্ষতি নিরূপণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারীকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- এনবিআরের প্রথম সচিব মো. রইচ উদ্দিন খান, মো. তারেক হাসান, ঢাকা কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়া।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কমিটিকে দ্রুততম সময়ে অগ্নিকাণ্ডে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা কাস্টম হাউসের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যাতে বাণিজ্য কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে শনিবার দুপুর সোয়া ২টায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে ছিলেন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, দুই প্লাটুন বিজিবি-সহ পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজটি মূলত পোস্ট অফিস ও হ্যাঙ্গারের মাঝামাঝি জায়গায় বা আট নম্বর গেটের পাশে। আর আগুন লেগেছে আমদানির কার্গো কমপ্লেক্স ভবনে। এখানে আমদানি করা পণ্য রাখা হয়। আগুনে সেখানকার প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। এতে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।




ডিএসই পরিদর্শনে আসছেন আনিসুজ্জামান চৌধুরী

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিদর্শনে আসছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৬ মে) তিনি ডিএসই পরিদর্শন করবেন। ডিএসই ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ওই দিন সকাল ১০টার দিকে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ডিএসইতে উপস্থিত হবেন। সেখানে তিনি দুটি আলাদা বৈঠক করবেন। প্রথমে তিনি অংশীজনদার সঙ্গে, পরবর্তীতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এরপর তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর কার্যক্রম ঘুরে দেখবেন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারের নাজুক পরিস্থিতিতে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ডিএসই পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নানামুখী উদ্যোগে অর্থনীতির কয়েকটি জায়গায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হ্রাস বন্ধ হয়েছে, রিজার্ভের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে, ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বেড়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরেছে। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম কেবল পুঁজিবাজার। অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো ছোঁয়া লাগেইনি এ সেক্টরে। বরং বাজারে দরপতন নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। লেনদেনও নেমেছে তলানীতে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা একাধিকবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

বিষয়টি সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। সরকার উত্তরণের উপায় খুঁজছেন। এর অংশ হিসেবে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করছেন ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।




বাংলাদেশকে ৩ মিলিয়ন ইউরো দেবে আইএলও

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে ৩ মিলিয়ন ইউরোর একটি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের আর্থিক সহায়তায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিভা অংশীদারিত্ব সমর্থন’ শীর্ষক একটি তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প (২০২৪-২০২৭) বাস্তবায়ন করবে।

১৯৭২ সালের ২২ জুন বাংলাদেশ আইএলও’র সদস্যপদ লাভের পর আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত ৫২ বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনমুখি কর্মসংস্থানের জন্য আইএলও আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত উভয় ধরনের সাহায্য করে আসছে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পটিয়াইনেন নিজ নিজ পক্ষে প্রকল্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের প্রধান মিশাল ক্রেজা, ইআরডি’র অতিরিক্ত সচিব একেএম সোহেল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী এবং আইএলও ও সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।

সার্বিক অর্থে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে- নির্বাচিত ইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের বিভিন্ন পেশাগত খাত যেমন- স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, আইসিটি, পরিচর্যা, অতিথি সেবা, নির্মাণ এবং কৃষি খাতে, তাদের দক্ষতা বাড়িয়ে বিদ্যমান শ্রম চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত করা।




পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের নীতি সহায়তা চায় বিজিএমইএ

দেশের পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে নীতি সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ জানান তিনি। এ সময় বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) ও সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।

বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প, এর সম্ভাবনা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের রূপকল্প সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে। বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের গভীর প্রভাব এবং এই প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যে সকল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ দেশগুলোতে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে পোশাকের চাহিদা কমেছে। কারণ, ভোক্তারা পোশাকের চেয়ে খাদ্য এবং জ্বালানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে এবং পোশাক খাতে রপ্তানি কমে যাওয়া দেশের বৈদেশিক রিজার্ভের উপর সরাসরি প্রভাব রাখছে।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান শিল্পের এ সংকটময় পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বৈশ্বিক বাজারে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বিশ্বব্যাপী উচ্চ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ম্যান-মেইড ফাইবার-ভিত্তিক পোশাকসহ নন-কটন পণ্যগুলোতে যাওয়ার মাধ্যমে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের ওপর শিল্প ক্রমবর্ধমানভাবে যে গুরুত্ব প্রদান করছে, তা তুলে ধরেন এবং নীতি সহায়তার মাধ্যমে পণ্য বৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহিত করা এবং সহজতর করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

এছাড়াও ফারুক হাসান পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের জন্য শিল্পের প্রতিশ্রুতি, বিশেষ রিসাইক্লিং-এ সক্ষমতা তৈরি এবং সার্কুলার অর্থনীতি গ্রহণে শিল্পের প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরেন।




সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার নতুন নির্দেশনা জারি

সরকারি গাড়ি কেনার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই তা শিথিল করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা অর্থাৎ গ্রেড-১ এর কর্মকর্তারা পাবেন আগের চেয়ে বেশি দামের গাড়ি। যেখানে এ খাতে আগে বরাদ্দ ছিল ৯৪ লাখ টাকা। যা এখন বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা পাবেন ৬৫ লাখ টাকার গাড়ি। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির যানবাহনের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যদিও সোমবার প্রজ্ঞাপনটির অনুমোদন হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন নির্দেশনায় কোন গ্রেডের কর্মকর্তা কত টাকা মূল্যের গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গাড়ির ধরন ও ব্যবহার উপযোগী মাত্রা সিসিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সরকারি দপ্তরের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির কার, জিপ, পিক-আপ (সিঙ্গেল কেবিন, ডাবল কেবিন), মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স, কোস্টার মিনিবাস (এসি), মিনিবাস (নন এসি), বাস (নন এসি) ও ট্রাক-এর বাজার দর বিবেচনা করে যানবাহনের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

কোন কর্মকর্তা কত টাকার গাড়ি পাবেন

জিপ – ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) (ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ); (গ্রেড-১ এবং গ্রেড-২ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য)।

জিপ – ৬৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২০০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ); (গ্রেড-৩ বা তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য)।

কার – ৪৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ১৬০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ);

এছাড়া পিক-আপ (সিঙ্গেল কেবিন) = ৩৮ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৫০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ); পিক-আপ (ডাবল কেবিন) – ৫৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৫০০ সিসি) (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।

মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা (অনূর্ধ্ব ১২৫ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ); মাইক্রোবাস = ৫২ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।

অ্যাম্বুলেন্স – ৫৪ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ); (৮) কোস্টার অথবা মিনিবাস (এসি) = ৭৫ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ৪২০০ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।

মিনিবাস (নন এসি) – ৩২ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ২৭৭১ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ); বাস (বড়, নন এসি)= ৪৬ লাখ টাকা (অনূর্ধ্ব ৫৮৮৩ সিসি) (রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত);

(ক) ট্রাক – ৩৯ লাখ টাকা (৫ টন) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।

(খ) ট্রাক – ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা (৩ টন) (রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরসমূহের যানবাহন ক্রয়ে অনুমতি অথবা বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লিখিত মূল্য অনুসরণের জন্য অর্থ বিভাগের সব শাখা অথবা অধিশাখাসমূহকে এ মূল্য মেনে গাড়ি কেনার নির্দেশনা দেয়।

এর আগে গত ২ জুলাই অর্থ বিভাগ এক পরিপত্রের মাধ্যমে নতুন যানবাহন কেনা বন্ধের কথা জানিয়েছিল।




রূপালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. নোমান মিয়া

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেছেন রূপালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নোমান মিয়া। পদোন্নতি পেয়ে তিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ঢাকা উত্তর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে যোগদান করেছেন। এর আগে তিনি রংপুর বিভাগীয় প্রধান (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯৮ সালে মো. নোমান মিয়া ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির (বিআরসি) মাধ্যমে সিনিয়র অফিসার হিসেবে রূপালী ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন।

অভিজ্ঞ এ ব্যাংকার এর আগে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান (চলতি দায়িত্বে), ডিজিএম পদে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়, সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের জোনাল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও নিরীক্ষা ও পরিদর্শন টীম প্রধান, চৌমুহনা কর্পোরেট, মৌলভীবাজার কর্পোরেট, শ্রীমঙ্গল শাখার এজিএম ও ব্যবস্থাপক এবং এনায়েতগঞ্জ শাখা, এনায়েতগঞ্জ শাখা ও আজিমগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে এক যুগেরও বেশী সময় সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আজিমগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সেরা ব্যবস্থাপক হিসেবে ১ম পুরস্কার লাভসহ শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট অর্জন করেন। তিনি সততা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে সর্বমহলে প্রশংসা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন।

তিনি কুমিল্লা বোর্ড থেকে ১৯৮৫ সনে এসএসসি ও ঢাকা বোর্ড থেকে ১৯৮৭ সনে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে পদার্থ বিদ্যায় ১৯৯০ সনে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৯১ সনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বি ইউ পি এর অধীন আর্মি ইন্সটিটিউট, সিলেট থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি পেশাগত ডিগ্রী ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় উভয় পর্বে উত্তীর্ণ। পেশাগত প্রয়োজনে ব্যাংকিং বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

তিনি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বানেশ্বর গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মরহুম সালেহ উদ্দিন ও মাতা মরহুমা রেজিয়া বেগমের ২য় সন্তান তিনি।




সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ

চলতি অর্থবছরে সরকারি ব্যয় কমাতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করা হয়েছে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ, গাড়ি, জাহাজ, বিমান কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২ জুলাই) বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের উপ-সচিব আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে কতিপয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ করা হয়েছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকবে। সব ধরনের আবাসিক, অনাবাসিক, অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ ব্যয়ও বন্ধ থাকবে। বৈদেশিক ভ্রমণ, কর্মশালা, সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ বরাদ্দ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতাসাধনের জন্য বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সাশ্রয় করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ খাতের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ এবং জ্বালানি খাতের বরাদ্দে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ খরচ করা যাবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতাসাধনের লক্ষ্যে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং আওতাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর কর্পোরেশন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে কতিপয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে পরিচালন বাজেটের আওতায় অর্থনৈতিক কোডসমূহে বরাদ্দকৃত অর্থ নিম্নোক্তভাবে ব্যয় করা যাবে:

বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ এবং পেট্রোল, অয়েল, লুব্রিকেন্ট, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। সব আবাসিক ভবন, অনাবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। সকল প্রকার মোটরযান, জলযান ও আকাশযান খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে, ১০ বছরের অধিক পুরনো মোটরযান প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে।

ওপরের খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য কোনো খাতে এবং অন্য কোনো খাত থেকে এসব খাতে পুনঃউপযোজন করা যাবে না।

নতুন নির্দেশনায় সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ, কর্মশালা, সেমিনার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কোনো বিদেশ ভ্রমণ কর্তৃপক্ষের অত্যাবশ্যকীয় বিবেচিত হলে সীমিত আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে করা যাবে।

এছাড়াও পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সরকারি অর্থায়নে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা/বিশ্ববিদ্যালয়/দেশ কর্তৃক প্রদত্ত স্কলারশিপ/ফেলোশিপের আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নে মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়ন করা যাবে।

বিদেশি সরকার/প্রতিষ্ঠান/উন্নয়ন সহযোগীর আমন্ত্রণে ও সম্পূর্ণ অর্থায়নে আয়োজিত বৈদেশিক প্রশিক্ষণ এবং সরবরাহকারী/ঠিকাদার/পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তারা সেবা/পণ্যের গুণগত মান নিরীক্ষা/পরিদর্শন খাতে সীমিত ভ্রমণ করতে পারবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে অর্থ বিভাগের এ ধরনের উদ্যোগে ১৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাত থেকে সাশ্রয় হয়েছে ১ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। এছাড়া, পণ্য ও সেবাসহ পূর্ত কাজ এবং শেয়ার ও ইকুইটিতে বিনিয়োগের লাগাম টেনে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।




তিন বছরের জন্য আইএসডিবির পরিচালক বাংলাদেশ

ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)-এর কার্যনির্বাহী পরিচালক নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ আইটিএফসির (আন্তর্জাতিক ইসলামী ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন) লার্জেস্ট ফিনান্সিং পার্টনার পুরস্কারের সম্মান লাভ করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের ইসলামি উন্নয়ন ব্যংকের বার্ষিক সভা সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বাংলাদেশ ইসলামি উন্নয়ন ব্যংকের কার্যনির্বাহী পরিচালকদের একজন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এ পদে বাংলাদেশ ২০২৪ সাল থেকে তিন বছরের জন্য থাকবে।

এ কনস্টিটুয়েন্সিতে অন্য সদস্যদের মধ্যে আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং মালদ্বীপ রয়েছে। পাকিস্তান এ কনস্টিটুয়েন্সিতে ২০২০ সাল থেকে কার্যনির্বাহী পরিচালকদের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল এবং তারা পরবর্তি মেয়াদেও দায়িত্ব পালন করতে চায় মর্মে প্রস্তাব করেছিল।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলনেতা অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের সচিব শরিফা খান ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এ সংক্রান্ত বিধির ৩১ (৩) উদ্ধৃত করে বলেন, একটি নির্বাচিত সদস্য দেশ তিন বছরের জন্য সেবা প্রদান করবে এবং তারপর আরবি বর্ণমালার ক্রমানুসারে অন্য দেশকে সুযোগ প্রদান করতে হবে।

সার্বিক আলোচনার পর বাংলাদেশকে আইএসডিবি বোর্ডের কার্যনির্বাহী নির্বাচিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ মিশন এবং অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের পাঁচজন জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এ বছরের সভার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল পার্টনারশিপ টু ফিন্ড অফ ক্রাইসিস। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল- নমনীয় ঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা উন্নয়ন করে আইএসডিবি তার সদস্য দেশগুলির এ সময়কালীন ভৌগোলিক-রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান করতে পারে মর্মে মতামত ব্যক্ত করে।

এসময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বার্ষিক সভার বিভিন্ন সেশনে উপস্থিত হয় এবং আইএসডিবি এবং অন্যান্য সদস্যদেশের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কিছু সভা করে।

এছাড়াও বার্ষিক সভার সময় আইএসডিবি গ্রুপের অংগসংগঠন আন্তর্জাতিক ইসলামী ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে লার্জেস্ট ফিনান্সিং পাটনার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আইটিএফসির কাছ থেকে নিয়মিত ঋণ গ্রহণ এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়, আইএসডিবি বোর্ড আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাস্তবায়িতব্য রুলার অ্যান্ড প্রি-আরবান হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ২৭০ মিলিয়ন ইউরো ঋণ অনুমোদন করেছে।




টিসিবির জন্য  ২৫ হাজার টন চিনির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য কেনা হবে ২৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি। আলাদা দুটি কোম্পানির কাছ থেকে এই চিনি ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, স্থায়ীভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি গ্লোবাল করপোরেশন ঢাকার কাছ থেকে কেনা হবে। কোম্পানিটির কাছ থেকে চিনি কিনতে সরকারের ব্যয় করতে হবে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন চিনি গ্লোল্ডেন উইংস জেনারেল ট্রেডিং এফজেডই, ইউএই (লোকাল এজেন্ট : শানজাইব লিমিটেড) এর কাছ থেকে ক্রয় করা হবে। এই লটে চিনি কিনতে ব্যয় হবে ৬৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।




জীবন বীমার নতুন এমডি মিজানুর রহমান

জীবন বীমা করপোরেশনের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি জীবন বীমা করপোরেশনে এমডি হিসেবে যোগদান করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মো. মিজানুর রহমানকে জীবন বীমা করপোরেশনের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের থেকে দেওয়া ওই নিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতেই মিজানুর রহমান এমডির দায়িত্ব নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানিয়েছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আমাকে জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়েছে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ১৩ ফেব্রুয়ারি অফিস আদেশে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদানের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।