সিঙ্গাপুর হওয়ার কথা বলছি না, শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য : অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশকে হুবহু সিঙ্গাপুরে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখানো নয় বরং ধৈর্য, চেষ্টা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, সময় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনপ্রিয়তার চাপে পড়ে নয় বরং দেশের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই নীতি নির্ধারণ করতে হয়। নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয় এবং এখানে ভুল থাকার সম্ভাবনাও থাকে। নীতি নেওয়া খুব সহজ কাজ না। অনেক সময় জনপ্রিয় বা পপুলিস্ট ডিমান্ড আসে-কেউ বলে সুদের হার কমান, কেউ বলে কর কমান। সবাই বলে ‘আমি, আমি’, কিন্তু ‘আমরা’ বলে না। অথচ নীতি তো একজনের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য।

তিনি বলেন, পলিসি লেভেলে কাজ করতে গিয়ে নানা চাপ আসে। তবে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সামগ্রিক চিত্র দেখতে হয়। ‌ভুল থাকতেই পারে, সবাইকে খুশি করা যাবে না এটা বাস্তবতা।

নিজের ভূমিকা নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি জানি না ভবিষ্যতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে যাব কি না। তবে গভর্নর হিসেবে পুরোপুরি ব্যর্থ হব এটা মনে করি না। কিছু কাজের ফল আপনারা দেখতে পাবেন।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট কোনো একক সরকার বা ব্যক্তির কারণে নয়। এটা দীর্ঘদিনের ডেভেলপমেন্ট প্রসেসের অংশ। সবাই ধীরে ধীরে কন্ট্রিবিউট করেছে এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একেবারে নেগেটিভভাবে দেখার প্রবণতা ঠিক নয়। ৫৪ বছরে বাংলাদেশ ফেল করেনি। আমরা অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছি, কিন্তু সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা সিঙ্গাপুর হয়ে যাব-এমন কথা বলছি না। তবে চেষ্টা করলে, ধৈর্য ধরে কাজ করলে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করাই সবচেয়ে বড় কথা। ভবিষ্যতেও সবাই মিলে বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে হবে।




যে ডলার আছে আপৎকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত না: অর্থ উপদেষ্টা

বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে যে ডলার আছে তা আপৎকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ঠিক আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

 

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অর্থ উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হয়- ডলারের চাহিদা কমে যাচ্ছে, সে হিসেবে ডলারের দামও কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে দুই মিলিয়ন ডলার নিয়ে নিয়েছে দামটাকে একই পর্যায়ে রাখার জন্য। এতে আমদানিকারকদের জন্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে যাচ্ছে কি না? উত্তরে তিনি বলেন, ডলার দাম কিছুটা যদি স্থিতিশীল না রাখি তাহলে খারাপ প্রভাব পড়বে। যারা রেমিট করে তাদের বিষয়টাও দেখতে হবে। কারণ ওরাইতো আমাদের মূল চালিকা শক্তি।

সালেহউদ্দিন বলেন, আমরা ডলার কিনছি সেটা ঠিক। কিন্তু এখন আমাদের কাছে যে ডলার আছে সেটা বাংলাদেশের আপৎকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত না। ধরেন দেশে বড় ধরনের কোনো একটা কিছু হলো। তখন দ্রুত যদি কিছু আনতে হয় তখন কি হবে? ফরেন এক্সচেঞ্জ শুধু আমদানির জন্য ব্যবহার করা হয়, সেটা আপনাদের ভুল ধারণা। তাই সেভ কিছু না থাকলে বিপদ হবে।

তিনি বলেন, এটা আমি টের পেয়েছি যখন আমি ২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলাম তখন। সে সময় সিডর, আইলা হলো তখন অনেক ঝামেলা হয়েছে। যাই হোক সে সময় আমরা সেটা সামাল দিয়েছিলাম। সুতরাং এসবের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক করছে। রিজার্ভটা বিল্ডআপ করা দরকার।

বৈঠকের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আজকের বৈঠকে কিছু বৈচিত্র ছিল। আমরা সার, কিছু খাদ্য পণ্য আমদানি করি। কিন্তু এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন চট্টগ্রামের শাহআমানত বিমান বন্দরটাকে আপগ্রেড করার জন্য সেখানর রানওয়ে আপগ্রেড করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিমান বন্দরের কন্টোলরুম আরও আধুনিকায়ন করার জন্য একটা প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছি। এছাড়া অকটেন আনার অনুমোদন দিয়েছি। বর্তমানে অকটেনের কিছুটা ইয়ো আছে। দেশের অভ্যন্তরে অকটেনের চাহিদা আছে। তাই আমরা চাই না যে দেশে কোনো রকমের জ্বালানির সমস্যা হোক।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দরের মান উন্নয়নে কি করা হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়েটা গ্রেড ওয়ান। সেটা স্পেস বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে বড় বিমান উঠা নামা করতে হলে রানাওয়েটা গ্রেড -২ তে উন্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকার কন্টোলটা আরো আধুনিক করা হবে।




ব্যবসায় আস্থা ও গতি ফেরানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থ উপদেষ্টা

খাদের কিনারা থেকে গত এক বছরে দেশের অর্থনীতি অনেকটা উপরে উঠে এসেছে—এমন মন্তব্য করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, শুল্কসহ সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরানো এবং স্লো হয়ে যাওয়া ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও একটু গতি সঞ্চার করা।

বুধবার (৬ আগস্ট) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, খাদের কিনারা থেকে অর্থনীতি অনেকটা উপরে উঠে এসেছে। এটা দেখার জন্য দৃষ্টি এবং অন্তর্দৃষ্টি লাগে। একেবারে ওপরে ওপরে ভাসা ভাসা দেখলাম, ভাসা ভাসা বলে দিলাম, তা না। অনেক কিছুই হয়েছে। চ্যালেঞ্জ যেটা ছিল, একেবারে প্রকুরিয়াস (ঝুঁকিপূর্ণ বা টালমাটাল) অবস্থায় ছিল। এখন আমরা একটা স্বস্তির জায়গায় আসতে পারছি।

‘তবে অবশ্যই সামনে চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জ অনেকগুলো- আমাদের মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, এখন ট্যারিফের ব্যাপার আছে। আর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরেকটু গতি সঞ্চার করা, যেটা স্লো হয়ে গেছে’- বলেন ড. সালেহউদ্দিন।

তিনি বলেন, আমাদের সময়ে আমরা যেগুলো তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন করতে পারবো, সে ধরনের প্রকল্পে মনোনিবেশ করছি। বিশেষত ব্যবসা-বাণিজ্য যেন সহজ হয়, ভালো হয়।

মূল্যস্ফীতি কি স্বস্তির জায়গায় আসছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, স্বস্তির জায়গায় আসতে একটু সময় লাগবে। মূল্যস্ফীতি এমন না ঘোড়ার রাশ ধরে টেনে দিলাম। ঘোড়ায় চড়তে হলে, মাথাটা টেনে তুলতে হয়। মূল্যস্ফীতি এ রকম না, একদিনে সব কমিয়ে দিলাম। এটা কমছে, তবে নন-ফুডটা আমাদের একটু চ্যালেঞ্জিং।

বাজেট ঘাটতি ও নির্বাচনের বাজেট নিয়ে সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য যে অর্থ লাগবে আমরা দেবো। সেটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। প্রভিশনাল হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ মাত্র, যেটা আমরা বলেছি ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে রাখবো।

সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ইমিডিয়েট কতোগুলো জিনিস আমরা করে ফেলেছি। কতোগুলো আছে মিডটার্ম, লংটার্ম। যেমন- ব্যাংক রেজুলেশন একটু সময় লাগবে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটা রোডম্যাপ করছে। ক্যাপিটাল মার্কেট মোটামুটি চেষ্টা করছে, সেটা হয়তো আরও একটু উন্নতি হবে। এনবিআরের বিষয়টি আমরা তাড়াড়াড়ি… অধ্যাদেশটা কিছুটা সংশোধন করবো, সেটা করে ফেলবো। আমাদের একটা টার্গেট ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু একটা করে ফেলবো।

যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক নির্ধারণ করেছে, সেটা স্বস্তিদায়ক কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরেকটু কমলে ভালো হতো। তবে ওরা যেটা করেছে মোটামুটি, স্বস্তির জায়গা বলবো না। আমরা তো চাই এটা (পাল্টা শুল্ক) না হলে ভালো হতো। এমনিতেই বিশ্ব অনেক চ্যালেঞ্জে। আর যদি অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করেন, তবে বাংলাদেশ খুব খারাপ পজিশনে নেই। আমাদের সুযোগ হলো- আরএমজি অনেক ভালো। আমাদের টেক্সটাইল, আমাদে নিট যেটা, সেটা কিন্তু ওরা অনেক তাড়াতাড়ি এডজাস্ট করতে পারবে। ওয়েভিং একটু ডিফিক্যাল্ট হতে পারে।

আপনারা কি আবার দর-কষাকষিতে যাবেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, বশির সাহেব (বাণিজ্য উপদেষ্টা) এখনো আসেননি। আমি ইউএস চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। ওদের বাংলাদেশের বিষয়ে মনোভাব খুবই ভালো। বলে—তুমি শেভরনের টাকা ফেরত দিয়েছো, মেটলাইফের টাকা দিয়ে দিয়েছো। বলে—তোমরা তো টাকা আটকে রাখো না। ব্যবসায়ীদের কিন্তু বাংলাদেশের ওপর ভালো মনোভাব আছে।

 

তিনি বলেন, চুক্তি এখনো সই হয়নি। একটা ফরমাল চুক্ত সই হবে। এখানে আমরা দেখবো কোন কোন জায়গায় আমাদের ডিউটি (শুল্ক) কমাতে হবে। কি কি আমদানি করতে হবে।

অন্য এক প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যখন ওয়ান টু ওয়ান নেগোসিয়েশন হয়, অনেকে কথা বলা হয় না। এটা মাল্টিলেটার নেগোসিয়েশন না, এটা ডব্লিউটিও না, এটা ইউএন না যে সবাই জানবেন। ওখানে ভিয়েতনাম আমার প্রতিদ্বন্দ্বী, আবার চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান সবাই আছে। কতোগুলো জিনিস আছে বলা যায় না।




সরকারি জমি যারাই নিতে চাইবে অর্থ দিয়ে নিতে হবে : অর্থ উপদেষ্টা

এখন থেকে সরকারি জমি কাউকে প্রতীকী মূল্য দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারি জমি যারাই নিতে চাইবে অর্থ দিয়ে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম এরিয়ায় বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) বা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য বন্ধ থাকা চট্টগ্রামের জলিল টেক্সটাইল মিলসের ৫৪.৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের একটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জলিল টেক্সটাইল মিলস সেনাবাহিনী নিতে চাচ্ছে। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি প্রতীকী মূল্যে দেবো না। এখন থেকে প্রতীকী মূল্যটা এভয়েড (এড়িয়ে) করব। যারাই নিতে চাই অর্থ দিয়ে নেবে। কারণ প্রতীকী মূল্যে দিলে যারা নিয়ে যায়, তারা ঠিকমতো ইউটিলাইজ করে না।

তাহলে কি জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়নি? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাদেরকেই দেওয়া হবে, তবে মূল্যটা নির্ধারণ করে প্রস্তাব আসতে হবে।

এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়- বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কিনতে কত খরচ হবে? তবে এর কোনো জবাব দেননি অর্থ উপদেষ্টা।

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- বোয়িং দিয়েতো বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। আর কি কি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা হবে? এর জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আরও আছে, ওই প্যাকেজ নিয়ে গেছে, কি কি কিনতে হবে।

সামরিক সরঞ্জাম কেনা হবে কি? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সেটা আমি বলব না। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনকে এই প্রশ্ন করেন।




নির্বাচনী বাজেটে কোনো কার্পণ্য করা হবে না: অর্থ উপদেষ্টা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য অর্থের যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আমরা কোনো কার্পণ্য করব না।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিএপি, ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এলএনজির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলএনজি এলে আমরা হয়তো সারের সরবরাহ বাড়াতে পারবো। রংপুরে ৩০টি স্কুল রিনভেন্ট করার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের কাছে এনবিআরকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা ঘোষণা করে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে প্রজ্ঞাপন আপনারা দেখেছেন দ্যাট ইজ ফাইনাল। এর পরেও কোনো প্রজ্ঞাপন নেই, আগেও প্রজ্ঞাপন নেই। আমি প্রজ্ঞাপন জারি করার লোক। আই এম নট এ ডিসিশন মেকার (আমি কোনো সিদ্ধান্তদাতা নই)। ওনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি প্রজ্ঞাপন জারি করেছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনার দরকার আছে কি নেই, সে বিষয়ে কথা বলার আগেই ওনারা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এখন ওনাদের দাবি-দাওয়া আছে কি না সেটা বুঝলে পরে আমরা বসবো।

বন্দরের স্থবিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। পণ্য যা বন্দরে ঢুকেছে সেগুলো এখন জাহাজিকরণ হবে। ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি। তবে খুব বেশি একটা ক্ষতি হয়নি।

আন্দোলনকারীদের ইঙ্গিত করে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, আপনি নেই বলে কোনো কাজ থেমে থাকবে এটা বাংলাদেশে হবে না, পৃথিবীর কোনো দেশে হয় না।




খাদের কিনারে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলছে সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছিল, তা বাইরে থেকে কেউ বুঝবেন না। অন্তর্বর্তী সরকার খাদের কিনারে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যারা দেশ চালাচ্ছেন, তারা কেউ ক্ষমতা নেননি, দায়িত্ব নিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিএ ভবনের আইসিএবি মিলনায়তনে নিজের লিখিত ‘গভর্নরের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থের নতুন সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বইয়ে শুধু গভর্নরের সময়কাল নয়, নিজ জীবনের নানা স্মৃতি লেখা হয়েছে। ২০১৯ সালে বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশ হয়েছিল। এবারের সংস্করণে আরও কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ অনেকে।




এ বছর প্রবৃদ্ধি বেশি হবে না : অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এ বছর প্রবৃদ্ধি (গ্রোথ) বেশি হবে না, আগেই বলে দিলাম। তবে ঘাবড়ে যাবেন না।

 

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত এক বই উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ভাত-ডালের অভাব হবে না। জীবনধারণের জন্য মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, সে ব্যবস্থা সরকার করেছে। খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসেছে দেশ।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা অনেক সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও খুব বেশি সংস্কার করে যেতে পারব না। তবে আমরা কিছু ফুটপ্রিন্ট রেখে যাব। বিশেষ করে এনবিআরের নীতিগত ও প্রশাসনিক পৃথকীকরণ করা হবে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সময় দিচ্ছেন ডিসেম্বরের মধ্যে চলে যেতে হবে। ফলে এত বেশি সংস্কার করা যাবে না।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতির বর্তমান সমস্যাগুলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তবে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে, যদিও অনেক কিছু দৃশ্যমান নয়।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা কর দিতে চান না। তাহলে কর বাড়াব কোথায়? গত সরকারের সময় কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মতো এত দ্রুত পৃথিবীর কোথাও ধনী হওয়া যায় না।




এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক সংস্কার বেশি প্রয়োজন: অর্থ উপদেষ্টা

এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক সংস্কারের বেশি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তারমতে, প্রক্রিয়াগত আইন কানুন ঠিকমত ব্যবহার হলে এই সংস্কার করা কঠিন হবে না।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় এসব জানান উপদেষ্টা। তারমতে, প্রক্রিয়াগত আইন কানুন ঠিকমত ব্যবহার হলে এই সংস্কার করা কঠিন হবে না।

ক্ষমতার পালাবদলে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশন, পুলিশসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারে কমিশন গঠন করেছে। তবে অর্থনীতি সংস্কারে কোনো কমিশন গঠন হয়নি। অর্থনীতিবিদরা এ ধরনের কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলছি। আমি মনে করি এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি অর্থনৈতিক সংস্কার। সেটা যদি আমরা না করতে পারি, অর্থনৈতিক সংস্কার করা কঠিন, আবার সহজ। কঠিন হল এখানে অনেকগুলো ফান্ডামেন্টাল আইন কানুন আছে। কিন্তু প্রক্রিয়াগত যে আইন কানুন আছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহার, সুষ্ঠু ব্যবহার ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার করতে পারলে এই সংস্কার খুব বেশি কঠিন হবে না। এই জিনিসটা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। সিস্টেম আছে, কিন্তু সিস্টেমটা আমরা ঠিকমত ব্যবহার করছি না।

রাজস্ব আদায় ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেশ সঠিক পথে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মোটামুটি এগিয়ে আছি। প্রযুক্তিগত দিক ও প্রক্রিয়াগত দিক থেকে পিছিয়ে আছি। আমাদের আধুনিক যুগে প্রবেশ করতে হবে।

এই সময়ে রাজস্ব আদায় ও তা ব্যয় করা চ্যালেঞ্জের জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যয়টা নির্বিচারে করবো সেটা মোটেই ঠিক হবে না। আমাদের রাজস্ব আয় ও ব্যয় উভয়ই যৌক্তিক করতে হবে। এটা সবার আকাঙক্ষা।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এই উপদেষ্টা বলেন, রাজস্ব আহরণে সহায়তা করুন। জোর করে টাকা পয়সা আদায় করা যাবে না।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটু ইতিবাচক দৃষ্টিতে আমাদের দেখবেন। সবই খারাপ বাংলাদেশে, সবই ভালো, এই হচ্ছে না, ওই হচ্ছে না, পেঁয়াজের দাম কমে গেছে, আলুর দাম কমে গেছে, চালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। সব জিনিসের দাম একত্রে কমে গেছে এটা পৃথিবীর কোনো দেশে আমরা দেখিনি। সব জিনিসের দাম একত্রে বেড়ে যাবে, এটাও আমরা আশা করি না। তবে এটা ঠিক জনগণের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। পণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকছে না অনেকেরই।

অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য হোসেন আহমদ,সদস্য (কাস্টমস: নীতি ও আইসিটি) মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অংশীজনদের স্শরীর উপস্থিতি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় বাংলাদেশ কাস্টমস সেবা প্রদান করবে। ডাটা এনালিটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং এর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সুনিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ভ্যাট ও ট্যাক্স বাড়ানোর আগে বা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের মতামত নিলে ভালো হয়। ব্যবসায়ীদের বক্তব্যদের সুযোগ থাকলে তারা কর আদায়ে অংশীদার হতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কাস্টমসকে ট্রেড ফ্যাসিলেটেশনের যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছি। রাজস্ব আদায় কমলেও আমাদের কাস্টমসের গুরুত্ব কমেনি। কাস্টমসের মূল উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় নয়। দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাস্টমস শুল্ক ও বিধি নিষেধগুলো দেওয়া হয়।

প্রায় ১২ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি এই সংখ্যা ১৪ লাখ হবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি আয়কর রিটার্ন দেওয়ার শেষ দিন। তারপরেও অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া যাবে, কিন্তু সেক্ষেত্রে কিছু জরিমানা যোগ হবে। ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ব্যবসায়ীরা ট্রান্সজেকশন গোপন করেন বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ১৬ জন কর্মকর্তাকে সার্টিফিকেট অব মেরিট সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে এই কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

সম্মাননা পাওয়া এনবিআরের ১৬ কর্মকর্তারা হলেন, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (দক্ষিণ), এর কমিশনার মোহাম্মাদ লুৎফর রহমান,সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার খন্দকার নাজমুল হক, খুলনার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বশীর আহমেদ, কমলাপুর কাস্টমস হাউস আইসিডি অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমান, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) এর যুগ্ম কমিশনার হাসনাইন মাহমুদ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান, ঢাকা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মিজ সানজিদা শারমিন, এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মো. আহসান উল্লাহ, কমলাপুর কাস্টমস হাউস আইসিডির ডেপুটি কমিশনার ওমর মবিন, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক পারভেজ আল জামান, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ) এর ডেপুটি কমিশনার মিজ খাদিজা পারভীন সুমী, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান মুন্সী, সারোয়ার আলম, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও মো. আতিকুল ইসলাম।

বাংলাদেশসহ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) সদস্যভুক্ত ১৮৬টি দেশে একযোগে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাজেশন ২৬ জানুয়ারিকে কাস্টমস দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে বাংলাদেশ দিবসটি উদযাপন করছে।

এবারের কাস্টমস দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে ‘কাস্টমস সেবায় প্রতিশ্রুতি দক্ষতা নিরাপত্তা প্রগতি’।




সরকার কর্মব্যস্ত, ঘন ঘন মিটিং তারই প্রমাণ : অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অত্যাবশ্যকীয় জিনিস বা জরুরি জিনিস দ্রুত অনুমোদন দিতে আমরা ঘন ঘন ক্রয় কমিটির মিটিং করি। আর এটাই প্রমাণ করে সরকার মোটামুটি কর্মব্যস্ত।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাজারে আলুর দাম বাড়লেও অন্য জিনিসের দাম সাশ্রয়ী হয়েছে। বাজারে প্রত্যেক জিনিসের দাম কমানো সম্ভব না। বাজার এমন একটা জিনিস একটার দাম কমবে, একটার দাম বাড়বে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা ঘন ঘন ক্রয় কমিটির মিটিং করি। অত্যাবশ্যকীয় জিনিস বা জরুরি জিনিসগুলো সবসময় দ্রুত অনুমোদন দেই। এটা একটা প্রমাণ যে এই সরকার মোটামুটি কর্মব্যস্ত এবং মানুষের সুবিধা আমরা দেখি। এত ঘন ঘন মিটিং আমি আগে দেখিনি।

তিনি বলেন, আমরা তাড়াতাড়ি প্রসেস করে যৌক্তিক যে জিনিসগুলো ক্রয় করা প্রয়োজন সেগুলোর অনুমোদন দেই। আজকে আমরা বিভিন্ন ধরনের সার কেনার অনুমোদন দিয়েছি। এলএনজি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, অনেকের মধ্যে একটি মিস কনসেপশন (ভুল ধারণা) আছে, সেটা গতকাল বাণিজ্য উপদেষ্টা ক্লিয়ার করেছেন। প্রতি টনে সয়াবিন তেলের দাম কত বেড়েছে, ৩০-৪০ বছরে এতো দাম বাড়েনি। যাই হোক আন্তর্জাতিক বাজার তো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আজকের বৈঠকে নবম, দশম শ্রেণীর পাঠ্যবই মুদ্রণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, জেনারেল এডুকেশন প্লাস মাদ্রাসার। পাঠ্যবই আমরা দ্রুত চাচ্ছি। জানুয়ারির মধ্যে পাঠ্যবই করে ফেলতে বলেছি। চেষ্টা করবে, তবে জানুয়ারির মধ্যে হয়ত সবগুলো করে ফেলতে পারবে না।

শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারি কি বই পাবে— এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে যেটা আমরা অনুমোদন দিয়েছি, সেটা তারা অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছে। অনেক ব্যস্ত প্রেস, চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আপনারা যেভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তার প্রভাব তো বাজারে দেখা যাচ্ছে না— এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, প্রভাব যে একেবারে নাই তা নয়। আপনারা খালি দেখেন আলুর দাম বেড়ে গেছে কিন্তু অন্যগুলো তো সাশ্রয়ী হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপনি বাজারে এক হাজার টাকা নিয়ে যান কোনোটার দাম বেশি হবে, কোনোটা কম হবে। প্রত্যেকটার দাম কমতে হবে, এটা ডিফিকাল্ট। বাজার এমন একটা জায়গা যেখানে একটার দাম কমবে, একটার দাম বাড়বে। আজকে আমি বাজার করলাম, কালকে সকালে দেখব একটার দাম কমেছে আরেকটার দাম বেড়েছে। কমারটা তো কেউ বলে না, সবাই বাড়ারটা বলে।