মূল্যস্ফীতি ও অস্থিতিশীল মুদ্রা বাজারে চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি ও অস্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের কারণে অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা জানান।

ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক উন্নয়নশীল অর্থনীতির চেয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। যদিও মুডিস’স ইনভেস্টর সার্ভিস বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং এবং দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, তারপরেও ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশনকে সামনে রেখে অর্থনীতিতে গতি আনতে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে আমাদের অর্থনীতি বেশকিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে এবং যেকোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা একান্ত আবশ্যক। পণ্যের মূল্য কমিয়ে আনতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সঙ্গে রাজস্ব নীতিসমূহের সমন্বয় করা প্রয়োজন। আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এ ব্যাপারে যথাযথ এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের নিকট হতে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য বাজারভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, সরকারকে অবশ্যই রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে করে আমাদের প্রথাগত বাজার ও গতানুগতিক প্রথাগত পণ্যের বাইরেও সম্ভাবনাময় একাধিক বাজারে ভিন্ন ভিন্ন নতুন পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বৃদ্ধি করা যায়।

ব্যারিস্টার সাত্তার মনে করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা উচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষকরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে কর অফিস খোলা এবং কর অফিসের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য একটি যথাযথ ম্যাপিং প্রয়োজন। রাজস্ব বাড়াতে অনানুষ্ঠানিক খাতকে যথাযথভাবে করের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম নিশ্চিত করতে রাজস্ব বোর্ডের জনশক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পূর্ণ অটোমেশনের মাধ্যমে করজাল বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও ব্যারিস্টার সাত্তার ক্রমবর্ধমান মন্দঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন।




স্বার্থান্বেষী মহল রপ্তানি খাত নিট শিল্প ধ্বংসে ষড়যন্ত্র করছে: বিকেএমইএ

বিশ্বের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে দেশের প্রধানতম রপ্তানিখাত নিট শিল্পখাতে এর ঋণাত্মক প্রবাহ পড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। রপ্তানিখাত নিট শিল্পের ক্রান্তিলগ্ন এ সময়ে মধ্যেও ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। কষ্টকর হলে এ মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করবে তারা। একই সঙ্গে কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা মহল এ শিল্পটিকে ধ্বংস করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি। বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে সামনের দিনগুলোতে বিকেএমইএ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে।

বিকেএমইএ দাবি করছে, কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা মহল এ শিল্পটিকে ধ্বংস করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, দেশের অর্থনীতির এবং শ্রমিকদের স্বার্থে এ শিল্পকে আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশলমাফিক নীতি প্রণয়ন।

সংগঠনটি বলছে, শ্রমিকরাই এ শিল্পের প্রাণ। তাই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কিন্তু একইভাবে মালিকপক্ষের দিকটিও বিবেচনা করে কারখানায় কোনো অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজন না হলে কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ ও গেইটে এ নোটিশটি লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বিকেএমইএ’র লিখিত অনুমোদন ব্যতীত তৃতীয় কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নিকট কারখানার তথ্য/উপাত্ত দেয়া যাবে না।

কারখানার ওয়ার্কার ডাটাবেইজ আবশ্যিকভাবে হালনাগাদ করতে হবে। কারণ, শ্রমিকদের যেকোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান বা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যাদি অত্যাবশ্যকীয়। কারখানার সব ধরনের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনিক তদারকি বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলোর উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখুন, যাতে করে যেকোনো ধরনের আশঙ্কার আভাস পাওয়া মাত্রই সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তাই সিসি টিভির ফুটেজ নিরাপদে সংরক্ষণে রাখতে হবে।




ঋণ পরিশোধে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পেল শ্রীলঙ্কা

বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পেল শ্রীলঙ্কা। চলতি বছরের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের কথা থাকলেও তা করতে ব্যর্থ হয় অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দ্বীপ রাষ্ট্রটি।

ওয়াশিংটন সময় বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ অফিসে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. আব্দুর রউফ তালুকদার।

তিনি বলেন, ‌‘আজকে শ্রীলঙ্কার সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশটির গভর্নর গত অক্টোবর আমার সঙ্গে দেখা করেছিল এবং তারা বলেছিল, ফেব্রুয়ারি মার্চের মধ্যে তাদের থেকে পাওনা টাকা তারা পরিশোধ করবে। কিন্তু তারা সেটি করতে পারেনি। তারা নতুন করে আমাদের কাছে সময় চেয়েছে এবং আমরা তাদের আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। আমাকে তারা কনফার্ম করেছে এই সময়ের মধ্যেই তারা আমাদের টাকা পরিশোধ করবে। আমরা তাদের সময় বাড়িয়ে দিয়েছি এবং এই অর্থের ইন্টারেস্টও পাব।

এক প্রশ্নে গভর্নর বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টিল্যাটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সি’র (মিগা) ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের চিঠি আমরা গ্রহণ করিনি। সরকার কখনো এত শর্ট টাইমে লোন নেয় না। এই ঋণের মেয়াদ ছিল মাত্র এক বছর এবং সুদ ছিল ৯ শতাংশের উপরে। এত উচ্চসুদে আমরা কখনো ঋণ নেই না। আমরা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের কাছ থেকে যেসব ঋণ নেই, সে ঋণের সুদ ৩ শতাংশ। এত বেশি সুদের ঋণ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ জন্য মিগা’র প্রস্তাব আমরা প্রথমেই না করে দিয়েছি।’

এর আগে, গত অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, চলতি বছরের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশের কাছ থেকে ধার নেওয়া ২০ কোটি ডলারের পুরোটা পরিশোধ করবে শ্রীলঙ্কা।

ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট আর দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা না করেই বড় বড় অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সঙ্গে করোনার ধাক্কায় মুখ থুবড়ে পড়ে দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। তখন ২০২১ সালে চরম সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে তিন দফায় ২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়া হয় শ্রীলঙ্কাকে। মুদ্রা বিনিময় নীতি মেনে ঋণ পরিশোধের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু দেউলিয়া ঘোষণার পর শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে ঋণের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। তবে গত অক্টোবরে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে এসে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আশ্বাস মেলে ঋণের টাকা ফেরত পাওয়ার।