আইপিএল ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না: শেখ বশিরউদ্দীন

অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আইপিএল ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

রবিবার সচিবালয়ে নতুন আমদানি নীতি আদেশ সংক্রান্ত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার উদার বানিজ্যে বিশ্বাসী। কোনো দেশের সাথেই আন্তঃসম্পর্ক খারাপ চায়না সরকার।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আমদানি নীতিমালার সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই নীতিমালা উত্থাপন করা হবে।

শেখ বশিরউদ্দীন




১০০ বছর পরও আরেকজন বেগম রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারিনি : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১০০ বছর পরও আমরা আরেকজন বেগম রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারি নাই, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। তিনি যে সব দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, যেসব স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন, এ স্বপ্নকে আমরা আমলে আনতে পারি নাই। কথা বলেছি, অগ্রসর হতে পারি নাই।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন বলেন, বেগম রোকেয়ার জন্ম উপলক্ষে যে আয়োজন, সেটা শুধু তাকে স্মরণ করার জন্য না, আমাদের ব্যর্থতাগুলো খুঁজে বের করার জন্য, কেন আমরা ব্যর্থ হলাম, কেন এই ১০০ বছরেও আরও বেগম রোকেয়া আসলো না আমাদের মাঝে, যে আমাদের পথ দেখাতো, মনে করিয়ে দিত কোন পথে আমাদের যাওয়া দরকার।

তিনি বলেন, ১০০ বছর পরে কি হলো, কত অগ্রসর হলাম। ১৯৭৪ সালে একটা বিরাট দুর্ভিক্ষ হলো। পথে পথে মানুষ মারা গেল। আমরা নির্বাক তাকিয়ে দেখলাম। কিছুই করলাম না। তাদের মধ্যে বহু নারী ও বৃদ্ধ। কারও হিসাবে ওই দুর্ভিক্ষে ১৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর দিককার স্মৃতিচারণ করে নারীদের কঠিন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষের আঘাত প্রথমে আসে মেয়েদের ওপরে, শিশুদের ওপরে।’

‘আমরা দেখলাম, মেয়েরা জানে না তাদের নাম কী? সবাই চিনে, অমুকের মা, অমুকের স্ত্রী, অমুকের মেয়ে, নাতি-নাতনি। নাম জানে না। সমাজের একটা অংশ কীভাবে সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এটা তার নমুনা। আমরা নাম ঠিক করে দিলাম। নাম লিখতে শেখানোর জন্য হাতে কাঠি ধরিয়ে দিলাম। দিনরাত পরিশ্রম করে, চোখের পানি ফেলে তারা নাম লেখা শিখল… এটা ১০০ বছর পরের অবস্থা। ১০০ বছর আগে রোকেয়া সেই আমলে যে স্বপ্ন দেখেছে, সেটা বিশ্বাস করা যায় না। আজকে অনেকে বলে, ‘হ্যাঁ, সুন্দর কথা বলেছে…’ সুন্দর কথা না, রোকেয়া বিপ্লবী কথা বলেছে। সমাজকে ঝাঁকুনি দিয়ে কথা বলেছে। কিন্তু সেই ঝাঁকুনি বহন করে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যক্তি আর এলো না। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম রোকেয়া কোনো কাজ সমাজকে বাদ দিয়ে করেননি। সবসময় সমাজকে নিয়েই করেছে। ১০০ বছর আগে রোকেয়া লিখেছে, নারী-কন্যাদের লেখাপড়া শেখাও যাতে সে অন্ন উপার্জন করতে পারে। সেখান থেকে আমরা শিখতে পারছি না কেন? আয়োজন করছি কিন্তু শিখতে পারছি না। আমাদের দৈনন্দিন পথে রোকেয়া সাথে থাকুক, তাহলেই অগ্রসর হতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ি; ইকোনমিক্স অনার্সে অনেক ছেলে ছিল, মেয়ে ছিল মাত্র চার জন। কোনো কোনো বিভাগে কোনো মেয়েই ছিল না। এখন যেকোনো শিক্ষায়তনে যাও। মেয়ে শিক্ষার্থীরা উপচে পড়ছে। আমি খোঁজ নিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা এখন অর্ধেক-অর্ধেক। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মেয়েদের হল কয়টা? আমাকে বলল পাঁচটা। আর ছেলেদের হল ১৩টা। এটা কেমন বিচার হলো? মেয়েদের থাকার ব্যবস্থা তো আগে করতে হবে।’

নারীদের সামনে রেখেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘মেয়েরা গণ-অভ্যুত্থানে তাদের নেতৃত্ব দেখিয়েছে। আজকের নারীসমাজ গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নারী সমাজ। এটা ভিন্ন নারী সমাজ। তাদের হাত ধরেই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই নারীসমাজ শুধু নারীদের নয়, সবাইকে উজ্জীবিত করবে। সেজন্যই নারীদের উঁচু স্তরে ধরে রাখা আমাদের জন্য দরকার। নারীদের সামনে রেখেই আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।’

আজকের অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ।

প্রধান উপদেষ্টা এ বছর বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত চারজনের হাতে পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তরা হলেন
নারী শিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) রুবানা রাকিব, নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার শ্রেণিতে নাবিলা ইদ্রিস এবং নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা।




ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নতুন এক ন্যায়ভিত্তিক, টেকসই ও আশাব্যঞ্জক বিশ্ব গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সোশ্যাল বিজনেস, যুব ও প্রযুক্তি বিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে হলেও সুযোগ, মর্যাদা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা তার মূল লক্ষ্য।

ব্যবসা শুধু মুনাফার জন্য নয়, বরং মানুষ, পৃথিবী ও ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবে—এই নীতিতে অটল থাকার আহ্বান জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ বিশ্ব এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের দাবানল পৃথিবীকে পুড়িয়ে দিচ্ছে, বৈষম্য গভীর হচ্ছে, সংঘাত বাড়ছে, আর ন্যায়বিচার ও শান্তির সংগ্রাম আমাদের মানবতাকেই পরীক্ষা করছে।

তিনি এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবায়িত বহুপাক্ষিক কূটনীতি, গভীর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি সমষ্টিগত প্রতিশ্রুতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, দেশটি এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, একই সঙ্গে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে, জলবায়ু বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের বাজেট কমানো বা উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস করা প্রতিকূল প্রভাব ফেলবে বলে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থায় শুধুমাত্র মুনাফার জন্য ব্যবসা পরিচালনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এজন্য তিনি মানবকল্যাণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘সোশ্যাল বিজনেস’ বা সামাজিক ব্যবসাকে কেন্দ্রে রেখে একটি নতুন অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক ব্যবসা আর কোনো সীমিত ধারণা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক আন্দোলন। স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা থেকে শুরু করে খেলাধুলা পর্যন্ত নানা খাতে সামাজিক ব্যবসা প্রমাণ করেছে যে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থেকেও পৃথিবীর জরুরি সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।

যুবদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনুস বলেন, পুরোনো চিন্তাভাবনা দিয়ে নতুন সভ্যতা গড়া যাবে না। নতুন সভ্যতা গড়বে তরুণ প্রজন্ম—যারা কল্পনা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও বৈষম্য মোকাবিলা করবে।

প্রযুক্তির প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডাটা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অন্যান্য উদ্ভাবন বিশ্বকে পাল্টে দিতে পারে, তবে এর সঙ্গে বড় দায়িত্বও জড়িত।

প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে নাকি ক্ষতির কারণ হবে—এটা আজকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে, যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রযুক্তিকে ন্যায়বিচার, সমতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ‘নৈতিক উদ্ভাবনের’ প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার দীর্ঘদিনের প্রচারিত থ্রি-জিরো ধারণার কথাও তুলে ধরেন—শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ (দারিদ্র্য দূরীকরণ) এবং শূন্য বেকারত্ব।

তিনি আরও জানান, তরুণদের অংশগ্রহণে থ্রি-জিরো ক্লাব গঠন করা হচ্ছে, যাতে ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে গ্রাম, শহর হয়ে একসময় পুরো বিশ্বে টেকসই উন্নয়নের ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সামাজিক ব্যবসা, তরুণদের শক্তি ও প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা জটিল বৈশ্বিক সংকটগুলো সমাধান করতে পারি। একসঙ্গে কাজ করলেই মানবজাতির জন্য ন্যায়, টেকসই উন্নয়ন ও আশার নতুন ভোর তৈরি হবে।




জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট রবিবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

 

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা।

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধান উপদেষ্টা, সফরসঙ্গী শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা
অধ্যাপক ইউনূস আজ ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন।

এছাড়া সফরকালে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। তার ভাষণে শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন, অর্থপাচার রোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বৈশ্বিক ইস্যুও গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩০ সেপ্টেম্বর ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস অ্যান্ড আদার মাইনোরিটিস ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন এবারই প্রথম। অধ্যাপক ইউনূসের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থন পেয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ২৫ সেপ্টেম্বর যুব কর্মপরিকল্পনার ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও যোগ দেবেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত সংবর্ধনা এবং বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।

এ ছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন কমনওয়েলথ, জি-৭৭ ও চীন, ওআইসি, বিমসটেক, সিকা এবং এলডিসি মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকসহ একাধিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। প্রধান উপদেষ্টার আগামী ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।




অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস সেনাপ্রধানের

অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে এ আশ্বাস দেন তিনি। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিক অবদানের জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সরকারি এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর ভূমিকা সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট কমান্ড কাঠামো এবং নির্বাচন পর্যন্ত আগামী মাসগুলোতে সব বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‌‘আমি জাতির কাছে একটি গম্ভীর অঙ্গীকার করেছি—এমন একটি নির্বাচন উপহার দিতে যা ভোটার উপস্থিতি, নতুন ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতি বৈশ্বিক আস্থা, এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের উৎসবমুখর পরিবেশের দিক থেকে অনন্য হয়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, ‘সরকারের সব উদ্যোগ ও কর্মসূচি সফল করতে পুরো সেনাবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি গুজব উপেক্ষা করার আহ্বান জানান।




ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্য বন্ধের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার বন্ধ করতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক পরিবেশের বিষ। এটি পৃথিবীর সব প্রাণীর জন্য বিষ, শুধু মানুষের জন্য নয়। ঘটনাটি ধীরে ধীরে হচ্ছে বলে আমরা আমলে নিচ্ছি না। পৃথিবীতে মানুষ বাড়ছে, বাংলাদেশেও মানুষ বাড়ছে। তার সঙ্গে জনপ্রতি প্লাস্টিক বিষের পরিমাণও বাড়ছে। তাই প্লাস্টিকের বিষ থেকে মুক্তি পেতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৫ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে আনার প্রধান উপায় বর্জন করা। এর উৎপাদন বন্ধ করলে দুনিয়া অচল হয়ে যাবে এমন নয়। অর্থনৈতিক লাভের জন্য পরিবেশের ক্ষতি করে যাব এমন আত্মবিধ্বংসী চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত হতে হবে। জীবন বাঁচাতে হলে পরিবেশকে বাঁচাতে হবে এর কোনো বিকল্প নাই।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণে জলবায়ু, প্রকৃতিগত ও জীববৈচিত্র ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রাত্যহিক জীবন যাপনে পরিবর্তন আনতে হবে।




বাংলাদেশের স্কাউটরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের স্কাউটরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ও নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য চারজন স্কাউট আত্মহুতি দিয়েছেন। স্কাউটিংয়ের ইতিহাসে এমন নজির বিশ্বের আর কোথাও নেই।

সোমবার (২৩ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের দেশব্যাপী আয়োজিত কাব কার্নিভালের উদ্বোধন ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দুনিয়া ও নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি করে স্কাউটসের কার্যক্রম।‌ গৎবাঁধা ছাত্রজীবনে নিজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আর সুযোগ থাকে না। তোমাকে তোমার সঙ্গে পরিচিত করে দেওয়ার জন্য স্কাউটিং একটা বড় দরজা খুলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু নিজে নয়, অন্যদেরও নিজেকে চেনার সুযোগ করে দেওয়া যায়।




উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন

আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এবারের বাজেটে বাতিল করা হয়েছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। রবিবার (২২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার সংসদ ছাড়াই আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গত ২ জুন সোমবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভি এবং অন্যান্য বেসরকারি গণমাধ্যমে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার এই নতুন বাজেট একযোগে প্রচারিত হয়।

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গত ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা হয়। এরপর কিছু সংযোজন-বিয়োজন কর বাজেটের খসড়া চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বাজেটের এ চূড়ান্ত খসড়া আজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে তা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। এক্ষেত্রে আজই বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ এবং শুল্ক-কর সংক্রান্ত আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করার কথা রয়েছে।

নির্বাচিত সরকারের আমলে বাজেট জাতীয় সংসদেই উপস্থাপন করা হয়। পরে মাসজুড়ে সেই প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হতো সংসদে। জুন মাসের শেষ দিকে সংসদে পাস হতো নতুন অর্থবছরের বাজেট। এবার সংসদ না থাকায় সংসদের আলোচনা বা বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। তবে বাজেট ঘোষণার পর প্রস্তাবিত বাজেটের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে মতামত নেওয়া হয়।




৭ দিনে ৯ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

দেশ থেকে অর্থপাচার কমেছে। কমেছে হুন্ডির দৌরাত্মও। আর এসব কারণে বৈধপথে বাড়ছে রেমিট্যান্স। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেড়ে গেছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের গতিপ্রবাহ। দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স আসায় একের পর এক রেকর্ড হতে থাকে। সর্বোচ্চ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে মার্চ ও এপ্রিলে।

রেমিট্যান্স আসার সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চলমি মাস মে’র প্রথম সাত দিনেই ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি (৮ হাজার ৯৬৭ কোটি) টাকা। আর প্রতিদিন আসছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১২৮১ কোটি টাকা। এভাবে রেমিট্যান্স এলে চলতি মাসে আবারও রেকর্ড হতে যাচ্ছে অর্থাৎ তিন বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মে মাসের প্রথম সাত দিনে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা তার আগের বছরের একই সময়ে (মে, ২০২৪) সাড়ে ১৩ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪ সালের মে মাসের প্রথম সাত দিনে এসেছিল ৬০ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৫২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত এসেছিল এক হাজার ৯৭২ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি এসেছে। অর্থবছরের হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আসার প্রবৃদ্ধি ২৮.২ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে এসেছে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার এবং সবশেষ এপ্রিলে আসে ২৭৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

 




কাতারের উন্নয়ন তহবিলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও কাতারের উন্নয়ন তহবিলের চেয়ারপারসন শেখ থানি বিন হামাদ বিন খালিফা আল-থানি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

আজ মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাতারের দোহায় আয়োজিত আর্থনা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন তারা।

প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

চার দিনের সফরে ২১ এপ্রিল কাতারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন প্রধান উপদেষ্টা। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।




খাদের কিনারে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলছে সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছিল, তা বাইরে থেকে কেউ বুঝবেন না। অন্তর্বর্তী সরকার খাদের কিনারে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যারা দেশ চালাচ্ছেন, তারা কেউ ক্ষমতা নেননি, দায়িত্ব নিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিএ ভবনের আইসিএবি মিলনায়তনে নিজের লিখিত ‘গভর্নরের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থের নতুন সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বইয়ে শুধু গভর্নরের সময়কাল নয়, নিজ জীবনের নানা স্মৃতি লেখা হয়েছে। ২০১৯ সালে বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশ হয়েছিল। এবারের সংস্করণে আরও কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ অনেকে।




প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করেছে সিপিডি : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ভবিষ্যতে তাদের দেশের স্বার্থে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করতে হবে। রোববার (১ ডিসেম্বর) সিপিডির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দিন ব্যাপী এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দেশের গবেষণা সংস্থাগুলোর ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। সাম্প্রতিক সময় ছাত্র আন্দোলনে তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা জানান, সিপিডির তথ্য-ভিত্তিক গবেষণা কাজে লেগেছে সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবে।

দিনব্যাপি আয়োজনে চারটি সেশনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সিপিটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। প্রথম স্টেশনে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রফেসর রওনক জাহান, ব্যারিস্টার নিহাদ কবির ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।




আগামী ২ বছরে ৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ: আসিফ মাহমুদ

দেশে এখনো এক কোটি ৮ লাখ মানুষ বেকার উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আগামী ২ বছরের মধ্যে ৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘দেশে এখন এক কোটি ৮ লাখ বেকার। আর নুন্যতম স্নাতক বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ। তবে আগামী ২ বছরের মধ্যে ৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।’

এরই মধ্যে ৮৬ হাজার ২৭৭ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া সচিব বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের সরকারি-বেসরকারি কর্মে নিয়োজিত এবং আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮০ জনের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত ১০০ দিনে ১৯ হাজার ৪৫২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ৫২ হাজার ১১৫ জন যুব প্রশিক্ষণরত।

তিনি বলেন, বিগত ১০০ দিনে নতুন কর্মসংস্থান হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বিপিএসসি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বমোট রাজস্ব ও প্রকল্প খাতে নতুন ৮৬ হাজার ২৭৭ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৮ জনের রাজস্ব খাতে ও প্রকল্প খাতে (আত্মকর্মী ও উদ্যোক্তা) ৮৩ হাজার ৮০৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে সরকার।

বিসিবি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিসিবি জোড়াতালি দিয়ে চলছে। নতুন পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে স্থবিরতা কাটানোর চেষ্টা চলছে। এছাড়া প্রতিটি ফেডারেশনের জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রতি বছর কার্যক্রমের রিপোর্ট ও অডিট রিপোর্ট দেওয়া হবে। কেউ যদি দুর্নীতি করে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। তবে ফুটবলসহ বেশ কিছু ফেডারেশন স্বায়ত্তশাসিত। তাই সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।’

ফেডারেশনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কমিটি নিয়ে যে অভিযোগ আছে, তা খতিযে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেখানে স্থবিরতা আছে, সেখানে নতুন কমিটি করে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সে মোট সাতটি ব্যাচে ২ হাজার ১০০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭১০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক পুলিশ হিসেবে ২৩১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট নিয়োগ কর্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।




পরিবেশের সুরক্ষার জন্য এক নতুন জীবনধারা প্রয়োজন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পরিবেশের সুরক্ষার জন্য এক নতুন জীবনধারা প্রয়োজন। এই জীবনধারা আরোপ করা হবে না, এটি হবে এক স্বতঃসিদ্ধ পছন্দ। তরুণরা এ জীবনধারাকে তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে নেবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি তরুণ নিজেকে তিন শূন্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে। শূন্য নিট কার্বন নির্গমন, শূন্য সম্পদ মুনাফা (শুধুমাত্র সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে) এবং শূন্য বেকারত্ব, অর্থাৎ নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত করে। প্রতিটি ব্যক্তি নিজেকে তিন শূন্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে এবং সারাজীবন ধরে তা বজায় রাখবে। এর মধ্য দিয়েই নতুন সভ্যতার জন্ম হবে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) আজারবাইজানের বাকুতে কপ-২৯ আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্মেলনের সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি জলবায়ু বিপর্যয়কে একটু অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার অনুমতি চাই। এ দৃষ্টিকোণ আমাদের জলবায়ু ধ্বংস মোকাবিলার চেয়ে আরও ধ্বংস রোধের দিকে নিয়ে যাবে। এটি একটি বৃহৎ লক্ষ্য এবং বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়।

তিনি বলেন, আমি আপনার সহানুভূতি চাই যে, আমি আপনাদের সঙ্গে আমার বহুদিনের স্বপ্নের কথা শেয়ার করতে পারি, যেখানে একটি নতুন ‘তিন শূন্য’ বিশ্ব গড়ে তোলার কথা রয়েছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, জলবায়ু সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে এবং আমাদের সভ্যতা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ আমরা আত্মবিধ্বংসী মূল্যবোধ বজায় রেখেছি।

আমাদের প্রয়োজন আমাদের মেধা, অর্থ এবং যুবশক্তিকে সক্রিয় করা, যাতে আমরা একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করতে পারি, একটি আত্মরক্ষামূলক এবং আত্মশক্তিসম্পন্ন সভ্যতা। আমরা, এই পৃথিবীর মানববাসী, এই গ্রহের ধ্বংসের কারণ এবং আমরা এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করছি। আমরা এমন একটি জীবনধারা বেছে নিয়েছি যা পরিবেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। আমরা এটিকে একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত করে তুলেছি, যা আমাদের সৌরজগতের মতোই স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। এই অর্থনৈতিক কাঠামো সীমাহীন ভোগের ওপর নির্ভরশীল। যত বেশি ভোগ করবেন, তত বেশি উন্নতি করবেন, যত বেশি উন্নতি করবেন, তত বেশি অর্থ উপার্জন করবেন। লাভের সর্বাধিকীকরণকে আমরা এই ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় শক্তি হিসাবে গ্রহণ করেছি, যা আমাদের ইচ্ছানুযায়ী সব কিছু পরিচালিত করে।

বেঁচে থাকার জন্য আমাদের একটি ভিন্ন সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। এটি একটি পাল্টা সংস্কৃতি, যা এক নতুন জীবনধারার উপর ভিত্তি করে। এই জীবনধারা শূন্য বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে হবে, যেখানে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের বাইরে কোনো অতিরিক্ত বর্জ্য থাকবে না। এটি শূন্য কার্বন নির্গমনের ওপর নির্ভর করবে, অর্থাৎ কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, কেবল নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হবে। এই অর্থনীতি প্রধানত শূন্য ব্যক্তিগত লাভের ভিত্তিতে হবে, যা সামাজিক ব্যবসার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। সামাজিক ব্যবসা হলো এমন এক প্রকার ব্যবসা, যা সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে নিবেদিত এবং এতে কোনো লভ্যাংশ বিতরণ করা হয় না। এর বড় একটি অংশ পরিবেশ এবং মানব সুরক্ষায় নিবেদিত থাকবে। মানবজীবন শুধু সুরক্ষিত হবে না, উন্নততর মানের জীবন পাবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার আওতায়। যুবকদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তাদের জন্য নতুন ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে, যা তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য তৈরি করবে।

তিনি বলেন, এটি করা সম্ভব। এমন একটি জীবনধারা গ্রহণ করা, যা গ্রহ এবং এর সব জীবের নিরাপত্তার সঙ্গে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ আমাদের করতে হবে। আজকের প্রজন্মের যুবকরা বাকিটা করবে। তারা তাদের গ্রহকে ভালোবাসে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি আশা করি, আপনি এই স্বপ্নে আমার সঙ্গে যোগ দেবেন। আমরা যদি একসাথে স্বপ্ন দেখি, তবে তা বাস্তবায়িত হবেই।




উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হচ্ছেন আরও পাঁচজন, শপথ সন্ধ্যায়

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হতে যাচ্ছেন আরও পাঁচজন। রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন এই পাঁচ উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। নতুন এই উপদেষ্টাদের জন্য পাঁচটি গাড়ি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদেরকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের তিনদিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। সেদিন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৪ উপদেষ্টা দায়িত্ব নেন। পরে দুই দফায় আরও তিন উপদেষ্টাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।

সরকার গঠনের নয় দিনের মাথায় ১৭ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের আকার বাড়ান প্রধান উপদেষ্টা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও চার উপদেষ্টা। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

উপদেষ্টা পরিষদের আকার বাড়ার বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে কারা কারা সরকারে যোগ হচ্ছেন সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নতুন পাঁচজন যুক্ত হলে উপদেষ্টা পরিষদের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৬ জনে।