আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয়, অর্থপাচারসহ দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএফআইইউর কাছে দেওয়া চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরবরাহের জন্য বিএফআইইউকে অনুরোধ করা হয়েছে। চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে– দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা সব ধরনের হিসাবের (চালু, সুপ্ত বা বন্ধ) বিস্তারিত বিবরণ।

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র।

পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনসংক্রান্ত দলিল ও রেকর্ডপত্র এবং বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই পাঁচ দেশে তাদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, সে সংক্রান্ত সংগৃহীত তথ্য।

চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে ‘শেল কোম্পানি’ গঠনে একাধিক অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধান কাজ পরিচালনার জন্য দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অভিযোগ অনুসন্ধানে চার ধরনের নথি তলব করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় দুদক।

ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুদকে এসে পৌঁছেছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থপাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়েও কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান করা হবে।

নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন বাণিজ্য, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। যেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিজের দুই বোন জামাই ও ভাগ্নেকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থের মধ্যে দুবাইতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ‘গ্রীন গ্রুপ’-এ মূলধন যোগানোর অভিযোগ রয়েছে। আর সিঙ্গাপুরে অবৈধ উপায়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার করে সম্পদ গড়ে তোলা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে পর্তুগালে জমি ক্রয় করার বিষয়ও উঠে এসেছে অভিযোগে।

দুদক জানায়, নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে– স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসা’র সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৩য় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ প্রদান করার অভিযোগ।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। এছাড়াও, তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধান জালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদসহ ডজনখানেক কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধানের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তার মানহানি করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুধু তাই নয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়। যদিও ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান তার বিরুদ্ধে আইন-বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান শুরুর কথা জানিয়েছেন।




সংসদে পাস হওয়া শ্রম বিল সংশোধনের আহ্বান বিকেএমইএর

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬-কে স্বাগত জানিয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে সময় স্বল্পতার কারণে আইনের কিছু ধারায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, সেগুলো ভবিষ্যতে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সই করা এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শ্রম আইনের কিছু ধারায় কৌশলে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিকেএমইএর মতে, এসব পদক্ষেপ শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদে শ্রম অসন্তোষের বীজ বপন করতে পারত।

সংগঠনটির দাবি, ওই ধরনের অস্পষ্টতা অব্যাহত থাকলে শিল্প কল-কারখানা ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারত।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার সংশোধিত শ্রম আইনের কিছু ধারা পরিবর্তন করে আইনটি পাস করলেও কিছু ক্ষেত্রে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে শ্রম অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিকেএমইএ।
সংগঠনটির মতে, এসব অস্পষ্টতা দূর না হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

শিল্প কারখানায় শান্তিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে শ্রমবিধি ও শ্রম আইনের পরবর্তী সংশোধনের সময় এসব অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

বিবৃতিতে শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করার বিধানকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি শ্রমিকের পরিচয়ে আইনবহির্ভূত দাবি তুলে শিল্প কারখানায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করা, অবৈধ ধর্মঘট বা অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে সেগুলোও অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা প্রয়োজন।

বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার ও সংশোধনে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাস নির্দেশনামূলক ভূমিকা রেখেছে, তাদের প্রতি সংগঠনের আহ্বান—আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের ন্যায্য ও নৈতিক মূল্য (ফেয়ার অ্যান্ড এথিক্যাল প্রাইস) দিচ্ছেন কি না, সেটিও যেন তারা নজরদারিতে রাখেন।

অন্যথায়, দিন শেষে শিল্প কারখানা ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

 




পরিবেশকে প্রভাবমুক্ত রেখে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান

প্রকৃতি, পরিবেশ ও নদীকে নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে সড়ক, রেল, বিমান ও নৌপথের সম্মিলিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (২ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘সেন্ট্রাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট সেক্টর মাস্টার প্ল্যান অব বাংলাদেশ’ সংক্রান্ত প্রান্তিক মূল্যায়ন ও কৌশলগত পরিকল্পনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পদস্থ কর্মকর্তারা।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই হযবরল অবস্থায় রয়েছে, এটাকে দ্রুত শৃঙ্খলার মধ্যে আনা না গেলে পুরো ব্যবস্থাটা অর্থনীতির জন্য গলার ফাঁসে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, আমাদেরকে এই কাজটা করতে হবে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। নদীর ওপর কোনো আঘাত করা যাবে না, পানিকে শান্ত রাখতে হবে, মনে রাখতে হবে পানি আমাদের জন্য বিরাট সম্পদ।

বৈঠকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ একটি প্রাথমিক কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে তৈরি করেন।

এই পরিকল্পনায় দেখানো হয়, পুরো দেশের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অল্পবিস্তর সংস্কার ও সংযোজনের মাধ্যমে কীভাবে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা যায়।

এতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে থাকা রেলপথ, নৌপথ এবং সড়কপথের যথাযথ ব্যবহার ও কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়ানো গেলে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি করা সম্ভব।

যোগাযোগ খাতের সবগুলো ব্যবস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা প্রণয়ন করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই পরিকল্পনার ফলে প্রাথমিকভাবে একটি শক্তিশালী ধারণা পাওয়া গেল। এখন এটিকে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পুরো পরিকল্পনাটা করতে হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে মাথায় রেখে। অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

‘আমরা যখন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নদীর কথা চিন্তা করব, তখন অবশ্যই আমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে নদীগুলো আমাদের প্রাণ,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রাথমিক পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন বলেন, যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি সামষ্টিক মডেল দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনভাবে কাজ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে যেন অর্থনৈতিক লাইফলাইনটা গড়ে ওঠে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, যেসব ক্ষেত্রে ছোট ছোট কিছু সড়ক নির্মাণ করে দিলেই পুরো অঞ্চলটাকে জাতীয় কানেকটিভিটির মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে দ্রুত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজগুলোকে আরও পরিকল্পিতভাবে করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি প্ল্যানার্স উইং গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রামে আরও তিনটি নতুন বন্দর চালু হবে। এটাকে বিবেচনায় রেখে অবশ্যই এসব বন্দর থেকে সড়ক যোগাযোগ যেন সহজ ও কার্যকর হয় সে বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে।




অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন জমা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটি। রোববার (১ ডিসেম্বর) বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং অর্থনীতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়।

এর আগে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে দায়িত্বে আসা অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে এ কমিটি গঠন করে। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয়ের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও খাতভিত্তিক অর্থনীতির অবস্থা এবং সামনের দিনের জন্য করণীয় ঠিক করতে শ্বেতপত্রে সুপারিশ থাকবে বলে আগেই জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে কমিটি গঠনের সময় বলা হয়েছিল সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, বাহ্যিক ভারসাম্য, জ্বালানি-বিদ্যুৎ, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান—এ ছয় বিষয়ে মতামত নেয়া হবে।




অন্তর্বর্তী সরকার চড়া সুদে কোনো বিদেশি ঋণ নিচ্ছে না: অর্থ উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চড়া সুদে বিদেশ থেকে কোনো ঋণ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বলেন, ‘বিগত সরকারের অনেক ভুল পলিসি উত্তরাধিকার সূত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে টানতে হচ্ছে।’

শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকায় ‘পলিসি ডায়ালগ অন ফিন্যানসিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘পৃথিবীর আর কোনো দেশের অর্থনৈতিক খাতে এত বিশৃঙ্খলা নেই। তারপরও দেশের যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে তাতে কৃষকদের বড় ভূমিকা আছে। এগ্রিকালচার সায়েন্টিস্টদেরও অবদান অনেক।’

‘বিগত সরকারের অনেক ভুল পলিসি উত্তরাধিকার সূত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে টানতে হচ্ছে। সেগুলি সংস্কার করতে সময় লাগবে। সব সংস্কার আমরা করে যেতে পারব না। আমরা হয়ত জরুরি কিছু প্রাথমিক সংস্কার করব। বাকি সংস্কার রাজনৈতিক সরকার করবে। বাংলাদেশের মানুষের যে দক্ষতা তা দিয়ে সংস্কার সম্ভব।’

অর্থনৈতিক খাতে যেভাবে লুটপাট হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ হচ্ছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থনীতিতে শুধু উন্নয়ন দেখানোর যে প্রবণতা, সেই উন্নয়ন কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।’

মধ্যস্বত্বভোগীদের জন্য বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘তাদের (মধ্যস্বত্বভোগী) কারণে হাত ঘুরে পণ্যের দাম বাড়ে। তাদের দরকার আছে। তবে হাত কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

রাজস্বখাতে পলিসি আর ইমপ্লিমেন্টশন আলাদা করার ইঙ্গিত দেন অন্তর্বর্তী সরকারের এ উপদেষ্টা। বলেন, ‘বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অনেক প্রকল্প করা হয়েছে, ফিজিবিলিটি টেস্ট করা হয়নি।’

অর্থ উপদেষ্টা ভারতের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎচুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘আদানির বিষয়ে কোনো করই দেওয়া হয়নি। আদানিকে টাকা দেয়ার জন্যে সময় নেওয়া হয়েছে।’

দেশ থেকে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ টাকা পাচার করলে ধরা পড়বে। প্রাইভেট কিংবা পাবলিক সেক্টর যেই হোক ধরা পড়বে। কেউ লুটপাট করলে শাস্তি পেতেই হবে।’




পাটশিল্পের বকেয়া ঋণে বি‌শেষ সু‌বিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পাটপণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তার অংশ হিসেবে পাট শিল্পের বকেয়া ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ খাতের বকেয়া (অনিয়মিত) ব্যাংক ঋণ ব্লক হিসাবে স্থানান্তর করে ১০ বছরের পরিশোধ সুবিধা দিতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম দেড় শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আদায় নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে। পাশাপাশি এক বছরের জায়গায় গ্রেস পিরিয়ড দুই বছর করা হয়েছে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আদেশ জারি করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাট খাতের গত বছরের জুন পর্যন্ত ঋণ দায়ের সুদ ও আসল পৃথক ব্লক হিসাবে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। এসব ঋণ পরিশোধে ১০ বছর সুবিধা পাবে। তবে, ঋণ পরিশোধ পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেড পিরিয়ড এক থেকে দুই বছরে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঋণ ব্লক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১.৫ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আদায় নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। সুপারশপগুলোতে পলিথিন শপিং ব্যাগের বিকল্প ব্যবহারের সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলার জন্য ক্রেতা, বিক্রেতা, জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ১ অক্টোবর থেকে কেউ বাজার করতে পলিথিন শপিং ব্যাগ আনতে পারবে না বা বাজার থেকেও নিতে পারবে না। পরবর্তী সময়ে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকও বন্ধ করা হবে। এ জন্য জনগণ, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সুপারশপগুলো খুশি মনে পলিশিন শপিং ব্যাগ বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে এবং নিজেরাই বিকল্পের পরামর্শ দিচ্ছে উল্লেখ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নভেম্বর থেকে পলিথিন উৎপাদনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।




দেশের স্বার্থই আমাদের একমাত্র এজেন্ডা : অর্থ উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ছাত্র-জনতা আমাদের কিছু দায়িত্ব দিয়েছে। সেটুকু আমরা যথাসম্ভব পালন করার চেষ্টা করছি। আমাদের কারও কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। এজেন্ডা হচ্ছে দেশের স্বার্থ। যা কিছু করা হচ্ছে তা দেশের স্বার্থেই করা হচ্ছে। আর আমরা যা করছি সেটি ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার এলেও তারা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

সোমবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত তৃতীয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই আয়োজনের বিষয় ছিল ‘বৈষম্য, আর্থিক অপরাধ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির নিরাময়’।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা কাজগুলোকে ৩টি ধাপে ভাগ করেছি। স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ। আমরা হয়ত মধ্যমেয়াদি কাজ শুরু করতে পারব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কাজগুলো পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার যারা আসবেন তারা করবেন। তবে আমরা কিছু কিছু দীর্ঘমেয়াদি কাজও করার চেষ্টা করব। দেশের অর্থনীতির ভালোর জন্য যে গবেষণাগুলো হয়েছে সেগুলো যেন আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োগ করতে পারি সে চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যাংকিং, রেভিনিউসহ বিভিন্ন রেগুলেটরি ফ্রেম ওয়ার্কের কথা বলা হচ্ছে। সেজন্য আমাদের সিদ্ধান্তগুলো খুব দ্রুত নেওয়া হচ্ছে। এর মানে আবার এমন নয় যে, টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। আমরা যা করছি, সেগুলো জনগণকে কনভিন্স করেই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বৈষম্যের ক্ষেত্রে দুটি দিক রয়েছে। যার একটি চোখে দেখা যায় না এবং আরেকটি দেখা যাচ্ছে। আবার আমরা দেখতে পাচ্ছি, আয় ও সম্পদের বৈষম্যও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আবার আয়ের চেয়ে সম্পদের বৈষম্য বেশি প্রকট।

গরিব মানুষজন সুযোগের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গ্রামের অনেক মানুষই জানেন না সরকারি সুযোগগুলো কোথায় পাওয়া যাবে। তারা সুযোগের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আবার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও বৈষম্য হচ্ছে। গরীব মানুষকে শুধুমাত্র ভিটামিন এ ক্যাপসুল আর কলেরার টিকা দিলেই হয় না। তারও মরণব্যাধী হওয়া হয়। কিন্তু তার জটিল রোগের চিকিৎসা কোথায় করাবে সেটি নির্দিষ্ট নয়। তাকে ঘটিবাটি বিক্রি করে ঢাকা আসতে হচ্ছে। আবার শিক্ষা খাতেও অনেক সময় তারা গুণগত শিক্ষা পান না।

উপদেষ্টা বলেন, যোগ্য পরিচালকের অভাবে বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। কারণ, সেগুলো চালাতে সময়মতো ভালো লোক দেওয়া হয়নি। আবার তারা প্রফেশনাল জায়গাগুলোতে নন প্রফেশনাল কন্সিডারেশনও হয়েছে।

এছাড়া আমাদের সিস্টেমগুলোও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অটোমেশন হয়নি। স্মার্ট বাংলাদেশ, ডিজিটাল বলা হলেও বাস্তবে এতটা নয়। সেজন্য এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

অর্থনৈতিক সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং উপস্থিত আছেন।




আমাদের প্রধান কাজ আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা : অর্থ উপদেষ্টা

এখন আমাদের প্রধান কাজ আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের ওপর একটি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আমি বলি ছাত্র-জনতা সবার পক্ষ থেকে সেটি দেওয়া হয়েছে। এটি খুব কঠিন সময়। আমাদের কনসার্ন হলো দেশের ছাত্র-জনতার সংগ্রামে এটি আসছে। আমাদের এখন প্রধান কাজ আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা। এটা যদি আমরা না করতে পারি তাহলে কিন্তু সমস্যা তৈরি হবে। আইনশৃঙ্খলা শুধু রাস্তাঘাটের না, ব্যাংকগুলো চালু করাসহ যেগুলো আছে সেগুলো আমরা চেষ্টা করছি ঠিক করতে ইমেডিয়েটলি। চ্যালেঞ্জ যেগুলো আছে তারমধ্যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তো আছেই। সামষ্টিক ক্ষেত্রে, মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে যে সমস্যা আছে আমরা ইমেডিয়েটলি চেষ্টা করব।

 

তিনি আরও বলেন, আমার দৃষ্টিভঙ্গি অর্থনীতি যদি থমকে যায়, মন্থর হতে পারে। কিন্তু থমকে গেলে কিন্তু একটা গাড়ির মতো বন্ধ হয়ে গেলে অনেক সময় লাগে। তাদের ব্যাংকের ওপর চাপ পড়ে। তাই চাচ্ছি গতিটা যেন সচল করতে পারি।

 

গতকাল শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করেন। এর মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সালেহ উদ্দিন আহমেদকে।




বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা দরকার, নয়ত ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারতেও : ইউনূস

গণবিক্ষোভের মুখে গত সোমবার বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। এখন প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিনবাহিনীর প্রধান, কোটা সংস্কার আন্দোলন সমন্বয়কদের বৈঠক হয়। এরপরই প্রফেসর ইউনূসকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এমন সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সঙ্গে কথা বলেছেন ইউনূস। নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ জানিয়েছেন, এখন বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা দরকার। যদি বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা না ফেরে তাহলে মিয়ানমার ও ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত সাত অঙ্গরাজ্যও অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছেন তিনি।

এনডিটিভির কাছ থেকে ইউনূসকে প্রশ্ন করা হয় এখন আন্দোলন কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না আনা গেলে পরিণতি কি হবে?

জবাবে তিনি বলেন, “এটি কোনো সুখকর পরিস্থিতি হবে না। যদি আপনি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করেন। এটি পুরো বাংলাদেশের চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে। যারমধ্যে থাকবে মিয়ানমার, (ভারতের) সেভেন সিস্টার এবং পশ্চিমবঙ্গসহ সব জায়গা।”

“মিয়ানমারসহ আমাদের চারপাশে এটি হবে একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত… এবং এটি আমাদের জন্য একটি বড় সমস্যায় পরিণত হবে। কারণ আমাদের এখানে ১০ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে।”
বাংলাদেশে ১৭ কোটি জনগণ রয়েছে; যাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং তারা কখনো ভোট দেয়নি উল্লেখ করে ইউনূস বলেছেন, “আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে তারা খুশি, আইন মান্যকারী সাধারণ মানুষ এবং তারা জানবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র রয়েছে। এসব তরুণ তাদের জীবনে কখনো ভোট দেয়নি। তারা কখনো ভোটকেন্দ্রে যায়নি কারণ ওই নির্বাচনগুলো কখনো হয়নি। আমাদের শুরুটা হবে; আমাদের এই তরুণদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”

বাংলাদেশ বর্তমানে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পরামর্শে সেনাবাহিনী একটি অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠন করবে। এছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তিনি আন্দোলনকারীদের সহায়তা চেয়েছেন।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আন্দোলনটি প্রথমে শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে থাকা কোটা সংস্কারের দাবিতে। তাদের দাবি ছিল, এসব কোটার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছিল আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। কিন্তু এই আন্দোলন থামাতে হাসিনা সরকার সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করে। এতে করে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হন। পরবর্তীতে এটি গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। এরপর হাসিনা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু এর আগে ঝরে যায় শত শত তাজা প্রাণ।