অনলাইন জুয়ায় জড়িত সন্দেহে ৪৮৫৮৬ হিসাব স্থগিত

অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং হুন্ডির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৮৬টি ব্যক্তিগত এমএফএস হিসাব স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম. আবদুল লতিফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান।

জুয়া ও হুন্ডির কারণে মুদ্রাপাচার বেড়ে যাচ্ছে, ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া, বেটিং ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধসহ সব ধরনের অর্থপাচার রোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেনের মাত্রা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তিগত এই উন্নয়নের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধুচক্র অনলাইন জুয়া-বেটিং, গেমিং, ফরেক্স, ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং ও হুন্ডি প্রভৃতি অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ হতে মুদ্রাপাচার বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে এবং ফলশ্রুতিতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত অভিযোগে ৫ হাজার ৭৬৬ জন এজেন্টের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের তথ্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। হুন্ডি লেনদেনে জড়িত সন্দেহে ৫ হাজার ২৯টি এমএফএস এজেন্টশিপ বাতিল করা হয়েছে। হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সন্দেহে ২১টি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান ও এদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ৩৯টি হিসাবের তথ্যাদি সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়েছে। অবৈধ হুন্ডি, গেমিং, বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৬৬৬টি এমএফএস এজেন্ট হিসাবের লেনদেন ব্লক করা হয়েছে।




অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে সতর্কবার্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

অনলাইন জুয়া, অবৈধ ফরেক্স, বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন বিদ্যমান আইনে নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন সংবাদপত্রে এর বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। লেনদেন সম্পন্ন করতে বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে।

গতকাল এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে এক বৈঠকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। বৈঠকে বিকাশ, রকেটসহ ১৩টি এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও অর্থ পরিশোধে বৈধ চ্যানেল ব্যবহার হচ্ছে। দেশে এমএফএসে সক্রিয় হিসাব ৫ কোটি ৫৫ লাখ। এজেন্ট রয়েছে ১৫ লাখ ২২ হাজার। বিপুল সংখ্যক হিসাবের কারণে কিছু অসাধু চক্র অনলাইন জুয়ার লেনদেনে এমএফএস ব্যবহার করলেও অনেক সময় ধরা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে বিষয়টি ধরার পর অনেক অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ লেনদেনে কোনো এমএফএস হিসাব ব্যবহারের বিষয়টি নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, অনলাইন জুয়াড়িরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এ ধরনের লেনদেন করছে। যে কারণে তাদের শনাক্ত করা বেশ কঠিন। তবে তদারকি ও সতর্কতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।