ঈদে ৩৪ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ ও ঈদের কেনাকাটা মেটাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটু বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে মার্চ মাসজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব তৈরি হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে এসেছে ২৮৩ কোটি (২.৮৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) ধরে যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে দেশে পরিবার-পরিজনের জন্য বাড়তি খরচের চাপ থাকে। এ সময় প্রবাসীরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অর্থ পাঠান। এর প্রভাবই এখন রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রতিফলিত হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চলমান এই ধারা অব্যাহত থাকলে মার্চ শেষে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০২ কোটি (৩.০২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার।

এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ডলার।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এ রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

এক বছর আগে, অর্থাৎ গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।




কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে জাদুঘর নির্মাণ করা হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রকে সংরক্ষণ ও সেখানে জাদুঘর নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাঁথা তুলে ধরতে উদ্যোগ জোরদার করা হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস—১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন। এসব আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায়।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর দেশে যখন নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি সঞ্চার হয় এবং জনগণের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা ফিরে আসে।

নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং শহীদ জিয়ার স্মৃতি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা নিয়েছে। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও জিয়ার স্মৃতি জাদুঘর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়টি বিবেচনাধীন। এখানে একটি আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, শহীদ জিয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ জিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড যেমন জাতির জন্য বেদনাদায়ক অধ্যায়, তেমনই মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বাঙালির গৌরবের অংশ। এই দুই ঐতিহাসিক দিক যথাযথভাবে উপস্থাপন ও সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।




শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজ চট্টগ্রামে

বাংলাদেশে চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ান নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ রেজকি এবং সোভারচেনি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এসব জাহাজ বন্দরে ভিড়লে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

জাহাজগুলোর আগমনের সময় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার সফরকারী জাহাজের অধিনায়ক, কর্মকর্তা ও নাবিকদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত, মিলিটারি, এয়ার ও নেভাল অ্যাটাশে এবং নৌবাহিনীর স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জাহাজ দুটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা ওমর ফারুক তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায়।

 

সফরকালে রাশিয়ান জাহাজগুলোর অধিনায়ক এবং রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূতসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, ডকইয়ার্ডের এরিয়া সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এছাড়া সফরসূচির অংশ হিসেবে রাশিয়ান নাবিকরা বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে অবস্থিত রাশিয়ান নাবিক ইউভি রেডকিনের সমাধিস্থল রেডকিন পয়েন্টে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তারা নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ও জাহাজ পরিদর্শনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখবেন। একই সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকরাও রাশিয়ান জাহাজ পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, চার দিনের সফর শেষে রাশিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজ দুটি আগামী ২৭ মার্চ বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।




জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশে একমত সংসদীয় বিশেষ কমিটি:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে জারি করা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে সুপারিশের বিষয়ে একমত হয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাইবাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার যে অধ্যাদেশ রয়েছে, তার সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি পূর্ণ একমত পোষণ করেছে। এই বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।’




জ্বালানি আমদানির অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলাপ চলছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিং, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।”

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “আইএমএফ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে এক দশমিক তিন বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার বিষয়ে এপ্রিলে বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। ধারণা করছি, জুলাইয়ে ঋণের কিস্তি পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “চলমান প্রোগ্রাম পুনর্মূল্যায়ন হবে। তবে, সব শর্ত একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অনুযায়ী শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে সরকার একা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। দেশবাসীকে সংযমী ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। দেশের পরিবহন ও গার্মেন্টস খাতে কোনও সমস্যা হয়নি। তেলের অভাবে কোনও পরিবহন বন্ধ হয়নি।”

বৈঠকের পর কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, “ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে।”

 




কুয়াকাটা সৈকতে উল্লাসে মেতেছেন হাজারো পর্যটক

সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ছুটির আমেজ আর অনুকূল আবহাওয়াকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো পর্যটক সৈকতে নেমে গোসল, খেলাধুলা ও উল্লাসে মেতে উঠেছেন। এ ছাড়া, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান ও গঙ্গামতিসহ সব দশর্নীয় স্থানে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। পর্যটকদের ভীড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। বুকিং রয়েছে শতভাগ হোটেল-মোটেল। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সূর্যোদয় দেখতে ভোর থেকেই সৈকতে জড়ো হন পর্যটকরা। এরপর সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের নীল জলে নেমে পড়েন নানা বয়সী দর্শনার্থীরা। কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে লাফালাফি করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বালুচরে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং লাইফগার্ড কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও কাজ করছেন পর্যটকদের নিরাপত্তায়।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, কুয়াকাটার মতো জায়গা খুব কমই আছে যেখানে একইসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। সমুদ্রে গোসল করার অভিজ্ঞতাও দারুণ। পরিবার নিয়ে সময়টা খুব উপভোগ করছি। এখানকার পরিবেশ অনেক শান্ত। বাচ্চারা নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারছে। তাই বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে।

পর্যটকদের আগমনে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন দোকানপাটে বেড়েছে বেচাকেনা। কুয়াকাটার এক হোটেল ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন পর্যটক অনেক বেশি। আমাদের প্রায় সব রুমই বুকড। এতে ব্যবসা ভালো হচ্ছে।

কুয়াকাটার চুলা রেস্তোরাঁর রাকিবুল ইসলাম বলেন, সামুদ্রিক মাছ ও স্থানীয় খাবারের চাহিদা বেড়েছে। পর্যটকদের ভিড়ে আমাদের কর্মব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কুয়াকাটার রেস্টুরেন্ট মালিকরা চেষ্টা করছেন পর্যটকদের সুস্বাদু এবং ভালো খাবার পরিবেশন করার।

হোটেল ডিমোরর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ রুম আগে বুকিং হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সামনে পুরো সপ্তাহজুড়ে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছি। পর্যটক বাড়লে আমাদের ব্যবসা আরও ভালো হবে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, অনেকদিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ সরাসরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আয়-রোজগারও বাড়ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আমরা সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছয়টি টিম নিয়োজিত করেছি। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।




আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ মার্চ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। হাতে আছে আর মাত্র সাত দিন। এর মধ্যেই করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এবার বেশিরভাগ করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই সহজে ই-রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনেও এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন সিস্টেম চালু থাকছে।

সাধারণত প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকে ৩০ নভেম্বর। তবে এবার তিন দফায় এক মাস করে সময় বাড়িয়ে শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন নিয়েছেন।

যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবেন

ই-রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সহজেই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোনও কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই হয়। একই সঙ্গে অনলাইনেই কর পরিশোধ করা যায়। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

শেষ সময়ে তাড়াহুড়া নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে করদাতাকে জরিমানাসহ আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রিটার্ন দেওয়ার আগে করণীয়

রিটার্ন জমার আগে করদাতাদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে— আগে থেকেই আয়–ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা, জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য আবার পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া।

কর প্রশাসন বলছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধাও পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন।




সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ২

রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রেশমা আক্তার (২০) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। তিনি বরিশালের শশীপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্য ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার করে মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুজনের সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। এরমধ্যে আহত নারীর অবস্থা বেশ গুরুতর বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় কেউ মারা গেছে কি না—জানতে চাইলে সদরঘাট নৌ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, দুই লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দুজন আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এখনো মারা যাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে, দুর্ঘটনার পর সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সদরঘাট পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টার্মিনালে অবস্থান করা একটি লঞ্চে যাত্রী তোলা হচ্ছিল। এসময় পেছন থেকে আরেকটি লঞ্চ এসে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে পড়ে গুরুতর আহত হন দুজন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সজীব আহমেদ জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, আহতদের একজন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লঞ্চ দুটির চালক বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড়

ভোর থেকেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। ঈদের ছুটি শুরু হতেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ফেরার জন্য যাত্রীরা আগেভাগে ঘাটে চলে আসছেন। প্রতিটি লঞ্চ যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে ছেড়ে যাচ্ছে, তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কঠোর নজরদারিতে রেখেছে যেন কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে না ছাড়ে।

সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, দূরপাল্লার যাত্রীরা পরিবার নিয়ে অনেক আগেই ঘাটে পৌঁছে গেছেন। কেউ টিকিট কাটছেন, কেউ মালপত্র গুছিয়ে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা আসন নিশ্চিত করতে ভিড় জমিয়েছেন। পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুরের মতো স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরাও নির্ধারিত লঞ্চ ধরে রওনা দিচ্ছেন।

ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। যাত্রী ওঠানামা, টিকিট সংগ্রহ ও মালামাল বহনে কোনো বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, সেজন্য বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকারের আমলে যাত্রীসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিআইডব্লিউটিএ। সদরঘাটকে আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি চালু করা হয়েছে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা। ঈদের আগে পাঁচ দিন ও পরে পাঁচ দিন মোট ১০ দিনের জন্য যাত্রীদের জন্য ফ্রি কুলি (পোর্টার) সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব অর্থায়নে কুলিদের মজুরি দিয়ে নিয়োগ করায় যাত্রীরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।

মালামাল বহনে সুবিধার জন্য বিমানবন্দর থেকে আনা হয়েছে ১০০টি ট্রলি, যা যাত্রীরা নিজেরাই ব্যবহার করতে পারবেন। অসুস্থ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ারের সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি গেটে মোট ৪০টি রাখা হয়েছে। ক্যাডেট সদস্যরা এতে সহায়তা করছেন। এছাড়া চাপ সামলাতে অতিরিক্ত দুটি ঘাট চালু করা হয়েছে।
লঞ্চ মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উপলক্ষে ভাড়া ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত স্বস্তি যোগ করেছে।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, নতুন সরকারের সময়ে যাত্রীদের কল্যাণে আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। আগে উপরের অংশ পরিষ্কার থাকলেও ভেতরটা তেমন ভালো ছিল না। এবার পুরো এলাকায় পরিবর্তন এনেছি। সরেজমিনে এলে বোঝা যাবে সদরঘাট এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন।




ঈদের আগেই প্রায় সব পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ

ঈদের আগেই প্রায় সব পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

‘আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাইবোনদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯.৯১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট দুটি কারখানার বেতন প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন করেছে ৯৯.৮১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট চারটি কারখানার ঈদ বোনাস প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম প্রদান করেছে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, মহাসড়কে চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে। আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি দেবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বর্তমান সময়টিতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি – এই তিনটি বড় চাপ একযোগে আমাদের শিল্পকে প্রভাবিত করছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমাদের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, যার প্রভাব আমাদের মতো রপ্তানিনির্ভর শিল্পের ওপর সরাসরি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম নয়। গত ৫ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখনও নিশ্চিত নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিজিএমইএর সদস্যরা বরাবরই শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি দায়বদ্ধ। আর তাই, ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে তহবিল সংগ্রহ করে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী কিছু সংখ্যক কারখানায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মালিক, ব্যাংক এবং শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সেই কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করেছি। আজ অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের জানামতে বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে অমীমাংসিত কোনো সমস্যা রয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমরা অত্যন্ত গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি বর্তমান ব্যবসাবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব সরকারের বিশেষ নির্দেশনার কথা। সরকারের সময়োচিত হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুততম সময়ে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আমাদের উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্য সংকট লাঘবে এবং শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ধন্যবাদ জানান।

সবশেষে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রতি বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা দেখি। আমরা পরিবহন চালকদের প্রতি উদাত্ত্ব আহ্বান জানাই, সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ, – মহাসড়কে নজরদারি আরও জোরদার করা হোক, যাতে কোনো পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে।




বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দিন ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের নির্ধারিত ছুটি। সাধারণ ছুটির কারণে এই সময়ে ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং রপ্তানি বিল বিক্রয়ের সুবিধার্থে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ ও ১৯ মার্চ পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ওই দুই দিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে নির্ধারিত সময়ে লেনদেন চলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে গত ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরি পােশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সরকারি ছুটির দিন ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে খােলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপােশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

 

ছুটির দিন ব্যাংক লেনদেন সূচি—

সকাল ১০টা থে‌কে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে আর অ‌ফিস চল‌বে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে। ছুটির মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন তাদের বিধি মোতাবেক ভাতা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।




সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ৮টায়

দেশের আকাশে হিজরি শাবান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক মো. এমাদুল হক এ তথ্য জানিয়েছে।

ঈদের জামাতে সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। এ বছর নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে জামাতে শরিক হওয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জামাতে অংশগ্রহণকারী সব মুসল্লিকে অজুসহ নামাজের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে জায়নামাজ, মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনে ছাতা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যাগ বা বস্তু সঙ্গে না আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।




বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি এ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রকৌশলীদের কাজে লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আরও তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহানগর (ঢাকা) নিয়ে খুবই সিরিয়াস। তিনি সব সময় ওনার নলেজে রাখতে চান যে আমরা কী কাজ করছি, কোথায় কী কাজ বাকি আছে এবং কোথায় কী কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে আমাদের দুইজনকে মহানগরের দায়িত্ব দেওয়ার পর আগে যে শহরের অবস্থা ছিল, তার চেয়ে কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে, বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত কর্মীদের বোনাস পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দিনরাত যারা কাজ করে, প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য ঈদের উপহার দিয়েছেন, বোনাস দিয়েছেন। সেটা আমরা আজকে দিয়েছি। কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছে, ধন্যবাদটা আমরা ওনাকে পৌঁছে দিয়েছি।’

তবে প্রধানমন্ত্রী এই অগ্রগতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, এতে আমি খুশি না, যতটুকু হয়েছে আরও আরও কাজ করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল-নর্দমা যা আছে এগুলোকে কীভাবে আরও আধুনিকীকরণ করা যায়, এ সমস্ত বিষয়ে উনি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে ইনশা আল্লাহ এ সমস্ত বিষয়ে আরও কাজ হবে।’

দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান, বিদেশ থেকে আমরা কেন আমদানিনির্ভর হবো? আমাদের এখানে লোকাল যারা স্টুডেন্ট আছে, ইঞ্জিনিয়াররা আছে, মহানগরকে ক্লিন করার জন্য যে সমস্ত ভেহিক্যালস (যানবাহন) বা ডাম্পিং ট্রাক দরকার, সেগুলোর ব্যাপারে উনারা কতটুকু সাহায্য করতে পারবে, লোকালি বানিয়ে দিতে পারবে কি না– এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই সিরিয়াস। আমরা আমদানিনির্ভর না হয়ে আমাদের দেশের ওপর নির্ভর হতে চাই, এটাই ওনার ইচ্ছা। উনি চান লোকাল স্পেয়ার পার্টস বা লোকাল ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করুক।’

ঈদকেন্দ্রিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঈদকেন্দ্রিক নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন। এটা নিয়ে আমরা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রেরা সাথে সাথে দুই-তিনটা মিটিং করে ফেলেছি। ঈদের সময় যারা শহর ছেড়ে যাবে, তারা যাতে নির্বিঘ্নে যেতে পারে, সে জন্য বিভিন্ন বাস টার্মিনালগুলো যেখানে আছে, সেখানকার রাস্তাঘাটগুলো কিছুটা সংস্কার করে দিয়েছি।’

তিনি জানান, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী প্রতি সপ্তাহেই তাদের কাছে জানতে চান এবং সেই ধারাবাহিকতায় আজ তাদের এখানে আসা।

মশার উপদ্রবে সৃষ্ট অস্বস্তিকর পরিবেশ এবং এ বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মশা নিয়ে কাজ করতে গেলে একটু সময় লাগে। আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে তা সবাই বলছে। আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অলরেডি উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কি না, এটি তদারকির জন্য একটা কমিটি করে দিয়েছি। আমাদের যে সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে, তা দিয়ে কাজ করা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই লোকাল ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে কাজ করার জন্য আমরা সহযোগিতা করছি।’

মশা নিধনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মশা শুধু ওষুধ দিয়ে নিধন করা যায় না। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফলে যে সমস্ত খাল, নর্দমা এবং ড্রেন রয়েছে– ওষুধের পাশাপাশি সেগুলো পরিষ্কার করার ক্রাশ প্রোগ্রাম আমরা হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে অনেকগুলো খাল ও নর্দমা পরিষ্কার করেছি এবং এটা অব্যাহতভাবে চলমান থাকবে। অনেক জায়গায় খালগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে গেছে, সেটা খনন করার ব্যবস্থা করেছি। পরিকল্পনামতো দ্রুতই আগামী বর্ষার আগেই যাতে আমরা মোটামুটিভাবে শতভাগ না হলেও তার কাছাকাছি যেতে পারি। ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব, এটা আমাদের করতেই হবে।’

নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সচিবালয়ে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান সাংবাদিকদের জানান, বর্জ্য অপসারণে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বুয়েট উদ্ভাবিত ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার বাস্তবায়ন এবং দেশেই প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি উন্নয়নের বিষয়েও কাজ চলছে। তবে এখনো এর কোনো সময়সীমা নির্ধারণ হয়নি।




সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠনকে মোট ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ চলতি মাসে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।

আদেশে আরো বলা হয়েছে, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তথ্যানুসারে, বিএসইসির একটি পরিদর্শন দল ইনডেক্স এগ্রোর চারটি কারখানা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন সময়ে কোম্পানির জমা দেয়া নথি ও রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইনডেক্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকার একটি সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়েছে। যেখানে ইনডেক্স এগ্রোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) উভয়েই ইনডেক্স কনস্ট্রাকশনের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এ ধরনের লেনদেন প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, আলোচ্য হিসাব বছরে ইনডেক্স এগ্রোর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়নি। কিন্তু পরিদর্শনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া নির্মাণ ও সিভিল ওয়ার্ক-সংক্রান্ত কিছু কাজের আদেশ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। যেসব কাজের আদেশ ইনডেক্স এগ্রোর অনুমোদিত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে হওয়ার কথা ছিল, তার কিছুতে ইনডেক্স কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির এমডি মাহিন বিন মাজহারকে ৫ লাখ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ইকবাল আহমেদকে ১ লাখ ও সেক্রেটারি আবু জাফর আলীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন।

অন্যদিকে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারির একটি চিঠির পর ব্রোকারেজ হাউজ প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেডের অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। চিঠিতে রবি আজিয়াটার এক লাখ শেয়ারের ক্ষেত্রে ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী হিসাব এবং ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাক-অফিস সিস্টেমের মধ্যে গরমিলের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের মাধ্যমে আভা দত্ত নামে এক বিনিয়োগকারীর জন্য ওই শেয়ার কেনা হয়। পরে শেয়ারগুলো আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারীর অধীনে একটি বিও হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) রেকর্ড পর্যালোচনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মনিটরিং টিম দেখতে পায়, প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের অধীনে আভা দত্তর নামে বিও হিসাব খোলা হয় ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ, যা শেয়ার কেনার প্রায় দুই মাস পরে। এটিও সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাউল ইসলামকে ৫ লাখ এবং সাবেক কমপ্লায়েন্স অফিসার এওয়াই জোবায়েরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়ে।

এছাড়া সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় নাভানা সিএনজি লিমিটেড ও কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান, তিন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুই স্বতন্ত্র পরিচালক, কোম্পানি সেক্রেটারি ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে সতর্ক করে বিএসইসি। তবে তাদের কোনো জরিমানা করা হয়নি।




পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী পয়লা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী দিনে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ মোট ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশু খাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।

টাঙ্গাইল ছাড়া অন্য উপজেলাগুলো হল- পঞ্চগড়ের কমলাপুর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ি।

বৈঠক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা আরো স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।

বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ব্যাংক-এমএফএস কোম্পানিতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ

নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে এই ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা দেয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে এসব প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট গঠন করতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিটটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা ইউনিটটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

ইউনিট প্রধান ছাড়াও ব্যাংকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে চারজন কর্মকর্তা এবং এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুজন কর্মকর্তাকে এই ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে উপমহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন।

 

সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতির জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে সহকারী ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিটকে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে বাংলা কিউআর, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), অনলাইন ও কার্ড পেমেন্ট সম্প্রসারণ, দেশব্যাপী বাংলা কিউআর চ্যানেলে মার্চেন্ট অনবোর্ডিং জোরদার করা এবং শাখা পর্যায়ে গ্রাহক নিবন্ধন কার্যক্রম তদারকি করা।

এছাড়া কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাজও এই ইউনিটের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে সাপ্লাই চেইনভিত্তিক পেমেন্ট মডেল উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও সার্কুলারে বলা হয়েছে।

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি বছর একটি স্বতন্ত্র প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণী প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন
Jagonews24 Google News Channel

আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে ইউনিটসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।




উত্তরখানে ঈদগাহ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর উত্তরখানবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত হলো আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ঈদগাহ ও খেলার মাঠ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান উত্তরখান মধ্যপাড়া এলাকায় এই নবনির্মিত স্থাপনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

প্রায় ২৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মাঠে একসঙ্গে সহস্রাধিক মানুষের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় শিশুদের বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই ঈদগাহটি ঈদের নামাজের পাশাপাশি অত্র অঞ্চলের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীরা এই মাঠ নিরাপদে ব্যবহার করতে পারবে।’

এ সময় নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডিএনসিসির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু মশার ওষুধ দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখলে এবং সচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের উদ্যোগে অঞ্চল-৮-এর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে এতে ব্যয় হয়েছে ২৭৯.৪২ লাখ টাকা।

প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের এই মাঠে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া এখানে জানাজার নামাজ আদায়েরও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাঠটিতে ১৫০ মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ৫ ফুট চওড়া ও ১৫০ মিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) এবং ১.৭ মিটার উচ্চতার নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।

সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ডিএনসিসি জানায়, ঈদগাহে পুরুষ, মহিলা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও অজুখানা রয়েছে। মাঠটি সবুজ ঘাস ও গাছে আচ্ছাদিত।

শিশুদের খেলাধুলার জন্য ফুটবলসহ বিভিন্ন সামগ্রীর পাশাপাশি মাঠে পানি সরবরাহের জন্য পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য রয়েছে দুটি বড় গেট ও একটি পকেট গেট। এ ছাড়া হাঁটার পথের পাশে দর্শনার্থীদের বসার জন্য ১২টি আসন ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ৬টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।




মঙ্গলবারেও বাতিল মধ্যপ্রাচ্যের ২৬ ফ্লাইট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

এরপর বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মোট ২৮ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি, ১১ মার্চ ২৭ টি, ১২ মার্চ ২৮ টি, ১৩ মার্চ ২৫ টি, ১৪ মার্চ ২৪ টি, ১৫ মার্চ ২৩ টি, ১৬ মার্চ ২৮ টি এবং কাল ১৭ মার্চ) ২৬ টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

মঙ্গল্পবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৬টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ২টি, জাজিরা (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি। এছাড়া সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিলকৃত ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৭ টি।




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাউবির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ঢাবি উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ গণমাধ্যমকে জানান, ওই দিন সকালে উপাচার্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ড. নিয়াজ আহমদ খান। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে নির্বাচনের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিয়াজ আহমদ খান বলেন, আপৎকালীন পরিস্থিতি অনেকটাই দূর হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দায়িত্ব পালনের এই পর্যায়ে এসে তিনি মনে করছেন, এখন সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

তবে তিনি তখন আরও বলেন, যেন কোনো ধরনের শূন্যতা তৈরি না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। সরকারের প্রয়োজন হলে তিনি আরও কিছু সময় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিনি সরে দাঁড়াতে চান যাতে রাজনৈতিক সরকার তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশাসন সাজিয়ে নিতে পারে। প্রয়োজনে তিনি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন বলেও উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি তিনি সরকারকে অনুরোধ জানান, যেন দ্রুত তাকে ডেপুটেশন থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ বিভাগে শিক্ষকতার কাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।




প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অবলম্বন করা হবে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে আসছেন এবং প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অবলম্বন করা হবে। আপনারা দেখছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ সকল নাগরিকের সমান সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পৌনে ২টার দিকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ‘দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এরআগে কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের মুড়াইল গ্রাম এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি মুরালী-ভাবকি খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সাথে তিনি ওই এলাকায় একটি নারিকেল গাছ রোপণ করেন।

তিনি বলেন, এখানে কোনো ধরনের অপচয় বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। শুধু এখানেই নয়, কোনো ক্ষেত্রেই দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। সরকার এই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে, আইনের শাসন নিয়ে আসবে এবং মানুষকে মানুষের যে মানবিক মূল্যবোধ সেটি থাকবে। সাংবাদিকবৃন্দদের অনুরোধ করব, আপনারা যেকোনো অনিয়মের তথ্য আমাদের দিন। আমরা প্রতিটি তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

মো. আব্দুল বারী বলেন, আজ সারা দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা সকলে জানি, এই খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। উনার সেই দীর্ঘ ভিশনের অংশ হিসেবে আজ দেশের নদী ও খাল সচল থাকত, তাহলে আমাদের জলাবদ্ধতা এবং খরার সময় পানির সংকটের সমাধান হতো। সেই দূরদৃষ্টি থেকেই তিনি এই কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই কর্মসূচি চালু রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর থেকেই উনার ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী মানুষের কল্যাণের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। এই রমজান মাসেও তিনি দীর্ঘ সময় অফিস করছেন এবং প্রতিটি কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা দেখেছেন, ভোট হয়ে গেছে, ভোটের কালির দাগ এখনও আমাদের আঙুল থেকে মুছে যায়নি, এর মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষি কার্ডের কার্যক্রমও চলছে, যা আগামী মাসেই পাইলট পর্যায়ে চলে যাবে।

মো. আব্দুল বারী বলেন, একইসাথে খাল, নদী-নালা ও জলাধার খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও আজ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এরই অংশ হিসেবে আজ আমরা কালাই উপজেলার ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুরাইল খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলাম। জয়পুরহাট জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির অধীনে যতগুলো খাল আছে, সবগুলোই পুনঃখননের আওতায় আনা হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এই কাজ করা সম্ভব হবে। এটি সম্ভব হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, খরা মৌসুমে মানুষ পানি পাবে এবং মাছের চাষ করাও সম্ভব হবে। এটি একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি, এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের লক্ষ-কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অতিবৃষ্টির ফলে আমাদের এলাকায় আলুর জমিতে যে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়েছে, তার মূল কারণ পানি প্রবাহিত না হওয়া। এই খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এমন সংকট থাকবে না। এখানে উপস্থিত স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে আমাদের সাধারণ জনগণ, কৃষক ভাই, আমাদের মা-বোন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মিলে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করব এবং সাফল্যমণ্ডিত করব।

খান পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের সময় জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আল-মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার (এসপি) মিনা মাহমুদা, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম আরা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ ওহাব, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এটিএম শাহনেওয়াজ কবির শুভ্রসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




লাইলাতুল কদর ব্যক্তি ও রাষ্ট্রজীবনে কল্যাণ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

রবিবার (১৫ মার্চ) পবিত্র লাইলাতুলকদর উপলক্ষে বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাইলাতুল কদর মহিমামণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কোরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলীর জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।

তিনি এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষিত করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।




ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয়ে চাঙাভাব

চলছে পবিত্র রমজান মাস। আসছে খুশির ঈদ। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র ক‌রে বাড়‌ছে বিভিন্ন কেনাকাটা। তাই পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি কেনাকাটা ও খরচ মেটাতে দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে ২ কো‌টি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) ধ‌রে এই অঙ্ক ২৭ হাজার ১২১ কোটি টাকার বেশি। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গেল ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে দুই হাজার রেমিট্যান্স এসেছে ৬৫৮ কোটি মার্কিন ডলার; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল দুই হাজার ১১ কোটি মার্কিন ডলার।




ডেসকোর ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিকে ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ক্রেডিট রেটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ক্রেডিট রেটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এ-’। আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-৩’।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত পাশাপাশি গুণগত তথ্য অনুযায়ী এই রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৬ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৪টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, সরকারের হাতে ৬৭.৬৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৩.৪৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৮.৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ক্রেডিট রেটিং হলো কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের একটি পদ্ধতি, যা বিশেষ এজেন্সি দ্বারা নির্ধারণ করা হযয়ে থাকে। এটি মূলত ‘এএএ’ (সর্বোচ্চ নিরাপত্তা) থেকে ‘ডি’ (খেলাপি) পর্যন্ত স্কেলে রেটিং প্রদান করা হয়। ভালো রেটিংয়ের মাধ্যমে সহজে ও কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়।




ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে হরমুজ প্রণালি থেকে ফিরে গেল বাংলাদেশি জাহাজ

বাংলাদেশে ফিরতে যাত্রা করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে ফের পারস্য উপসাগরে আগের অবস্থানে ফিরে গেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়েছিল জাহাজটি।

গত বৃহস্পতিবার জাহাজটি বাংলাদেশে আসার জন্য হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গত ১১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতে জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ করে যুদ্ধের কারণে আটকা পড়ে। জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।

বৈশ্বিক জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিএসসির মালিকানাধীন জাহাজটি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারস্য উপসাগরের শারজা উপকূলের বহির্নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা শুরু করে।

এরমধ্যে গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ করে বাংলার জয়যাত্রা। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্যবোঝাই করার সূচি ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে জাহাজটি নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। এজন্য জাহাজটি হরমুজ প্রণালি হয়ে বাংলাদেশের দিকে যাত্রা শুরু করে।

সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছায়। এ সময় প্রণালি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পান জাহাজের নাবিকরা। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ডও নিরাপত্তার কারণে প্রণালি অতিক্রম না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর জাহাজটি ফিরে যায়।

এর আগে জাহাজটি যেন নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর উদ্যোগ নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএসসি।

এ বিষয়ে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় নোঙর করে। এটি এখনো হরমুজ অঞ্চলের মধ্যেই আছে। তাই পরবর্তী ট্রিপে কাতার থেকে নতুন করে পণ্যবোঝাই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।




কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়লো

কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক দফা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার (১৫ মার্চ) এক আদেশে কোম্পানির ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার সময় ১৫ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল করা হয়েছে।

করনীতির দ্বিতীয় সচিব একরামুল হকের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ এর দফা (খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর আইন, ২০২৩ এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানি করদাতাদের ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ানো হলো।

কোম্পানি করদাতারদের রিটার্ন জমার সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল এনবিআর। তবে পরে তা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সম্প্রতি কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়াতে এনবিআরে চিঠি পাঠায় ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন। এরপর আরও এক দফায় সময় বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলো।

এর আগে ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতার জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে এনবিআর।




ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার সিদ্ধান্ত স্থগিত

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পা‌নি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমক্যাশ লিমিটেডে বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ যথাযথ আলোচনার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র সম্পন্ন করার জন্য এমক্যাশ লিমিটেডে কৌশলগত ইক্যুইটি বিনিয়োগকারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসির অন্তর্ভুক্তি করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার হয়েছে। গত ১২ মার্চ দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৩৯৬তম সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৯ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায়, এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির জন্য পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছিল। সে সময় জানানো হয়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ পর্ষদ সভায় বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া না পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৫ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকের হাতে ০.১৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭৫.০৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭.৯১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬.৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সবাইকে ৫ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দিচ্ছে সরকার।




বন্ধ পাটকল চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে: বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। একসময় পাটশিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে তা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তাই বন্ধ পাটকলগুলো আবার চালু করে পাটপণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (১৪ মার্চ) পিরোজপুরে ‘টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট’ প্রকল্পের কার্যক্রম ও অগ্রগতি পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের সময়কাল এখনও খুব বেশি নয়। তবুও আমরা এমন কিছু পরিকল্পনা করছি, যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই এর দৃশ্যমান ফল পাওয়া যায়। পাট ও পাটের বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্ধ মিল-কারখানা চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা আবার প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে চট ও পাটজাত পণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। ইতোমধ্যে সরকারি বিভিন্ন অফিসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পাটপণ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, যুগ্মসচিব জাহিদ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক সাদাত অপু সায়েম, গণপূর্ত বিভাগ পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম, ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।




পাবনায় গোয়ালঘর থেকে দেড় হাজার লিটার পেট্রোল-অকটেন উদ্ধার

পাবনার সুজানগরের চিনাখড়ায় গোয়ালঘর থেকে অবৈধভাবে মজুদ রাখা দেড় হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলমান অভিযানে উপজেলার চিনাখড়া বাজারের খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সন্টু ইসলামের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে এ তেল উদ্ধার করা হয়।

ভোক্তা অধিকার পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্তিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সংকট সৃষ্টি করে একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করছে এবং ক্রেতাদের জিম্মি করে বেশি দাম নিচ্ছে।

এটি রোধে অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার সুজানগরের চিনাখড়া বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই বাজারের খান এন্টারপ্রাইজের সন্টু ইসলাম অভিযানের খবরে দোকান বন্ধ করে দেন। পরে দোকান খুলতে দেরি করলে স্থানীয়রা জানান, দোকানের পেছনেই তার বাসা। পরে দোকানের পেছন দিয়ে আভিযানিক দল ভেতরে প্রবেশ করে গোয়ালঘরে মজুত রাখা দেড় হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন জব্দ করে। যেটি তিনি সংকটকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতাদের জিম্মি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রেখেছিলেন। পরে তেলগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে বিক্রয় করা হয় এবং তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পাবনার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, সকাল থেকেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছিলাম। এটিও আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ ছিল। কিন্তু অভিযানের সময়ে ওই দোকানির আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ভেতরে গিয়ে অবৈধভাবে মজুতকৃত তেল পাওয়া যায়। আজকে আতাইকুলা ও চিনাখড়াসহ এ রকম আরও চারটি বাজারে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০ হজার টাকা জরিমানা ও আদায় করা হয়েছে। তারা অতিরিক্ত দামে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনসহ জ্বালানি তেল বিক্রি করছিল। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।




জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে দ্রুত আমদানির অনুমতি প্রস্তাব মালিক সমিতির

দেশের বাজারে চলমান জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দ্রুত তেল আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

 

শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম এই প্রস্তাব জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও মন্ত্রণালয়ের ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ রেশনিং প্রক্রিয়ার কারণে নতুন সরকারকে জনগণের কাছে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এতে বলা হয়, বিপিসির চেয়ারম্যানসহ কিছু কর্মকর্তা জ্বালানি সচিবকে ভুল তথ্য দিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা ছাড়াই গত ১০-১২ দিন ধরে সারাদেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। সরকারি ছুটির দিনে ডিপো খোলা রেখে রেশনিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যাকে ‘প্রতারণামূলক কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

 

মালিক সমিতির দাবি, সব ডিপোতে তেল রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই এবং তেলবাহী জাহাজগুলো জেটিতে অপেক্ষায় থাকলেও পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে না। ফলে তেল আসার দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই পাম্পগুলো শূন্য হয়ে পড়ছে।

সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম আরও বলেন, গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে ডিলাররা সংকটে রয়েছেন। ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্যাঙ্কলরি ২০০-২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ডিপোতে এসে মাত্র ৪ থেকে ৬ হাজার লিটার তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ হচ্ছে, কিন্তু সরকার নির্ধারিত অভিন্ন মূল্যে তেল বিক্রি করায় সেই অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের কোনো সুযোগ থাকছে না।

মালিক সমিতির মতে, গত ১০-১২ দিনের এই ঘাটতি আগামী এক মাসেও পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত তেল সরবরাহ করা জরুরি।

 

বিবৃতিতে প্রস্তাব করা হয়, সরকার যদি পর্যাপ্ত তেল আমদানিতে সময় নেয় বা অপারগ হয়, তবে যে সকল ব্যবসায়ীর সক্ষমতা আছে তাদের মাধ্যমে দ্রুত আমদানির অনুমতি দিয়ে বিপিসিকে তেল সরবরাহ করা যেতে পারে। এতে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে মনে করে সংগঠনটি।




সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনা ফ্লোরে (অধিবেশনে) হতে পারে। এখানে না (কার্য উপদেষ্টা কমিটি)। শপথ না নিলে জামায়াতের রাজপথে নামার ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা তাদের জিজ্ঞেস করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজ কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন কতদিন চলবে, কী কী আলোচনা হবে, কী কী আইন উত্থাপন হবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর কত ঘণ্টা আলোচনা হবে- তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ বেলা ১১টায় মুলতবি অধিবেশন হবে। এরপর ১৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি থাকবে এবং ২৯ মার্চ থেকে সংসদ আবারও বসবে। এপ্রিলজুড়েই সংসদ অধিবেশন চলবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটির উদ্দেশ্য হলো মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের আগে ঐতিহ্য অনুযায়ী বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। এটা কালকেই আইনমন্ত্রী উত্থাপন করবেন। অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট আকারে সংসদে উত্থাপিত হবে। এ অধিবশনে অবশ্যই সম্ভব।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের আলোচনা নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপি কী ভাবছে সংসদে বলবো। সংসদ সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আমরা আমাদের বক্তব্য অবশ্যই দেবো। আমরা কোন কারণে ওয়াক আউট করেছিলাম, কোন কারণে মনে করেছিলাম রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দেওয়া অনুচিত, আমরা ধন্যবাদ দেবো না (রাষ্ট্রপতিকে), আমাদের বক্তব্যটা বলবো।

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা সময়মতো এ আলোচনার প্রসঙ্গ তুলবেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গণভোটের রায় যেহেতু সংস্কারের পক্ষে এসেছে। সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সংবিধান সংস্কার অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এটা সরকারি দলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। সেটা আমরা সংসদে জানতে চাইবো। সরকারি দলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা করণীয় ঠিক করবো। আমরা চাইবো এ সংসদ যত দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদে যেন রূপ নেয়।




অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পুঁজিবাজারে আলোচিত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ অপব্যবহার এবং তহবিল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া অনিয়ম ও আর্থিক অসংগতির ভিত্তিতে কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুসন্ধানে মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা কীভাবে, কার নির্দেশে এবং কোন খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল পরিচালিত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফান্ডের অর্থ নির্ধারিত বিনিয়োগ খাতের বাইরে ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রবাহের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে বিএসইসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।বাংলাদেশি খাবারএর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে চিঠি পাঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যেখানে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা লোপাটের দুর্নীতির ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের দুই ফান্ডে অনিয়ম ও ইউনিটহোল্ডারদের ৫৫ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য অবগতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হলো।

গণমাধ্যমকে দুদকের সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 




রাত থেকে গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমাবদ্ধতা থাকছে না : সড়ক মন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আজ রাত থেকেই দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহনে জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, ফলে পরিবহন চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

 

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর একটি বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সড়কপথে আগামীকাল থেকে ঈদযাত্রার চাপ বাড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগেই গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ রাত থেকেই দূরপাল্লার বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনে তেল নেওয়ার কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তারা জ্বালানি নিতে পারবে।

সড়ক মন্ত্রী জানান, বিআরটিসির অধীনে চলাচলকারী বাসগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে নির্ধারিত সময় মেনে বাস ছেড়ে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। পরিবহনগুলো শিডিউল অনুযায়ী চলাচল করছে।

 

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে কোথাও যাতে ভাড়া বাড়ানো না হয় বা অগ্রিম টিকিট ফেরত না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে কিছু পরিবহন জ্বালানি সংকটের কথা বলে অগ্রিম টিকিট ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করলেও সরকারের নির্দেশনার পর তা বন্ধ হয়েছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের যেসব স্থানে নির্মাণকাজ চলছিল সেসব স্থান থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সড়ক মন্ত্রী। এতে অন্তত দুই থেকে তিনটি লেন যান চলাচলের জন্য সচল রাখা হয়েছে এবং যেখানে চার লেন রয়েছে সেখানে সব লেন চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মহাসড়কের জ্বালানি পাম্পগুলো ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পরে পাঁচ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য যানজটের ঝুঁকিপূর্ণ ২০৭টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোথাও যানজট সৃষ্টি না হয়।

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, সব প্রস্তুতি মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যাত্রীরা যাতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং সড়কে দীর্ঘ সময় আটকে না থাকেন, সে লক্ষ্যে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।




পোশাক শিল্পের প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ প্রতি মাসেই ছাড় : গভর্নর

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধিদল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বহুমুখী সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের পোশাক শিল্প বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করছে না, ফলে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ উভয়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজিএমইএ নেতারা বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে নীতি সহায়তার আওতায় নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি ও তা বহাল রাখার জোরালো আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদল বিশেষ নগদ সহায়তার হার শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাংকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের জন্য ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, প্রণোদনার অর্থ দ্রুততম সময়ে ও নিয়মিত ছাড় করা না হলে অনেক কারখানা অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে, যা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া শিল্পকে সহায়তাস্বরূপ প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এই তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে রপ্তানি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুপারিশ করা হয়।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবনা ও শিল্পের সংকটের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নগদ সহায়তার বিষয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, এখন থেকে কোনো আবেদন পেন্ডিং রাখা হবে না। রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় প্রতিনিধিদল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে (সাবেক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য) জমা করা স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি মূল্যের অর্থ নগদায়ন করতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তারা জানান, তারল্য সংকটের কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। গভর্নর এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির আশ্বাস দেন।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তড়িৎ পদক্ষেপগুলো পোশাক শিল্পকে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।




শিল্পের চলমান সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চায় বিজিএমইএ

তৈরি পোশাক শিল্পের চলমান বহুমুখী সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের বৈঠকে শিল্পের মালিকদের দাবি বিবেচনার পাশাপাশি প্রতি মাসের নগদ সহায়তা প্রতি মাসেই ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিজিএমই’র একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বহুমুখী সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বেশকিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের পোশাক শিল্প বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করছে না, ফলে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ উভয়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবনা ও শিল্পের সংকটের কথা গুরুত্বের সাথে শুনে গভর্নর জনাব মো. মোস্তাকুর রহমান আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নগদ সহায়তার বিষয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, এখন থেকে কোনো আবেদন পেন্ডিং রাখা হবে না। রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজিএমইএ দাবিগুলো
বিজিএমইএ নেতারা বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে নীতি সহায়তার আওতায় নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি ও তা বহাল রাখার জোরালো আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদল বিশেষ নগদ সহায়তার হার ০.৩০% থেকে বাড়িয়ে ১%, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১.৫% থেকে বাড়িয়ে ২% এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের জন্য ৩% থেকে বাড়িয়ে ৪% করার প্রস্তাব করেন। তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রণোদনার অর্থ দ্রুততম সময়ে ও নিয়মিত ছাড় করা না হলে অনেক কারখানা অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে, যা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া শিল্পকে সহায়তাস্বরূপ প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনরর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এই তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুপারিশ করা হয়।

সভায় প্রতিনিধিদল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে (সাবেক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য) জমা করা স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি মূল্যের অর্থ নগদায়ন করতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তারা জানান, তারল্য সংকটের কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। গভর্নর এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির আশ্বাস প্রদান করেন।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ত্বরিত পদক্ষেপগুলো পোশাক শিল্পকে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।




ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক

গ্রাহকদের ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এ বিষয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, লিয়েনকৃত সরকারি বন্ডকে যোগ্য জামানত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ঋণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে ট্রেজারি বন্ড জামানত হিসেবে রেখে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ওভারড্রাফট বা মেয়াদি ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংককে ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এফএমআই) সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট বন্ডে লিয়েন মার্ক করতে হবে।

বন্ডের অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুর সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে সুদসহ ঋণের স্থিতি কোনো অবস্থাতেই বন্ডের অভিহিত মূল্য অতিক্রম করতে পারবে না।

এছাড়া ঋণের মেয়াদ কোনোভাবেই বন্ডের মেয়াদের বেশি হতে পারবে না এবং বন্ড কেনার উদ্দেশ্যে ব্যাংক কোনো ঋণ দিতে পারবে না বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।




ঈদযাত্রায় সড়কে চাঁদাবাজি আর বাসে বাড়তি ভাড়া চলবে না : মালিক সমিতি

আসন্ন ঈদযাত্রায় সড়ক নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও চাঁদামুক্ত রাখা হবে। ঈদযাত্রীদের কোনোরকম হয়রানি করা যাবে না। বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না। বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে ঢাকার সব বাস টার্মিনালে স্থাপন করা হবে ‘প্যাসেঞ্জার হেল্প ডেক্স’। যাত্রীরা সেখানে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম।

‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও চাঁদামুক্ত করার লক্ষ্যে’ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সভায় ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করা পরিবহন মালিক, চালক ও তাদের সহকারীরা অংশ নেন।

সভায় সাইফুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে করতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এর মধ্যে অন্যতম মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী বাস টার্মিনালে ‘প্যাসেঞ্জার হেল্প ডেক্স’ স্থাপন করা। কোনো বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে যাত্রীরা হেল্প ডেক্সে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো অবস্থায়ই যাত্রী হয়রানি করা যাবে না। এরই মধ্যে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঈদযাত্রার সময় ফিটনেসবিহীন কোনো বাস সড়কে চলতে দেওয়া হবে না জানিয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, ফিটনেসবিহীন বাসের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময় চালকরা বেপরোয়াভাবে বাস চালান। এটিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বেপরোয়াভাবে আর গাড়ি চালানো যাবে না।

তিনি বলেন, মহাসড়কগুলোতে নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে চালানো যাবে না। এছাড়া একজন চালক বিরামহীনভাবে গাড়ি চালাতে পারবেন না। নিজের ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় চালককে পর্যাপ্ত সময় বিশ্রাম নিতে হবে।

বর্তমান সরকার সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে বদ্ধপরিকর জানিয়ে সাইফুল আলম বলেন, ঈদে গণপরিবহনে চাঁদা আদায় করতে দেওয়া হবে না। চালকরা যেন নির্বিঘ্নে বাস চালাতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা হবে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ঈদযাত্রা কেন্দ্র করে কোনো ধরনের যাত্রী হয়রানি সহ্য করা হবে না। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কঠিনভাবে দমন করা হবে।

মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




শাহজালালে আরও ৩৯ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ সংঘাতের কারণে এখন পর্যন্ত ৩৬৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১১ মার্চ) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) কাওছার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আজ বুধবার (১১ মার্চ) মোট ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ওমানের মাসকটগামী আটটি, সৌদি আরবগামী ১৯টি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ১২টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন যেভাবে চলছে, এটা ধারাবাহিক থাকলে ক্রমেই ফ্লাইট বাতিল বাড়তে থাকবে। আর ওই ৩৬৪টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় লাখো যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের রিশিডিউল ফ্লাইট কবে হবে তার নিশ্চয়তা নেই।




বাংলাদেশ ব্যাংকে চুরির তদন্তে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকে চুরির তদন্তে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

আজ (মঙ্গলবার) ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করলে তাকে এ আহবান জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী ফিলিপাইন সরকারের প্রতি বাংলাদেশের তরুণ নাগরিকদের ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়ায় সমাধান নিশ্চিত করার জন্যও অনুরোধ জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ফিলিপাইন-সম্পর্কিত আইনগত ও বিচারিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেট নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারকে ফিলিপাইন সরকারের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

বৈঠকে দুই পক্ষ শান্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযান ও দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

উভয় পক্ষ শ্রম সহযোগিতা, জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ফিলিপাইনের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজের বিষয়েও আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব ও নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ফিলিপাইনে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ার গিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং খাতে দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উভয় পক্ষ বাতিল বা প্রক্রিয়াধীন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যেমন বিমানসেবা, দুর্নীতি বিরোধী সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সমঝোতা স্মারকের অবস্থা পর্যালোচনা করে এগুলো চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাত নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য শক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ফিলিপাইনের বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন।

উদীয়মান খাত যেমন সৃজনশীল অর্থনীতি, গেমিং শিল্প, যুব বিনিময় ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান দেশসমূহের সংস্থা আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় ফিলিপাইনের সমর্থন কামনা করেন।

বৈঠক শেষে দুই পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে ফিলিপাইনের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণভিত্তিক সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।