৩ লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট এখন দেশে পৌঁছেছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি পোস্টাল ব্যালট ইতিমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।

আজ বুধবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসস’কে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছেছে।

এর মধ্যে, ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ জন।

এ ছাড়া, ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

ইতমধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটগুলোর মধ্যে ৪১ হাজার ১৭৮টি গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সারাদেশের ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৯ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯১ জন ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন এবং ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৫ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

সালীম আহমাদ খান আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।




সরকারি অর্থ আত্মসাৎ : নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান সাময়িক বরখাস্ত

৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার তথ্য জানানো হয়েছে।

সাইফুজ্জামান বর্তমানে লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ওই সময় তিনি ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্প’-এর মূলধন অংশের (ডব্লিউ-১ প্যাকেজ) ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ বাস্তবায়নে ডিপিপি, আরডিপিপি বা এইচওপিইর কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একটি প্যাকেজকে অবৈধভাবে আটটি প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং এ কাজে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভাজিত আটটি প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে, তার বিপরীতে বাস্তবে কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের ডব্লিউ-১ প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ছাড়া অন্য আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয় এবং কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এ কারণে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকী ভাতা প্রাপ্য হবেন বলেও এতে জানানো হয়েছে।




সিএসই ও ইউএনজিসিএনবির উদ্যোগে যৌথ কর্মশালা

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও জাতিসংঘের গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (ইউএনজিসিএনবি) যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) মানদণ্ড এবং বাজারের অখণ্ডতা জোরদার করতে এ উচ্চপর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সিএসই ভবনের কনফারেন্স হলে ‘ইএসজি ও বাজারের অখণ্ডতা এগিয়ে নেওয়া : বাংলাদেশের জন্য সুযোগ’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে কর্মশালার সমাপনী পর্বে সিএসই ও ইউএনজিসিএনবির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। দুই বছর মেয়াদি এ এমওইউর আওতায় ইএসজি, করপোরেট গভর্নেন্স, টেকসইতা ও ব্যবসায়িক অখণ্ডতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন, দায়িত্বশীল ব্যবসা চর্চা প্রসারে সচেতনতা ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম, পুঁজিবাজার উপযোগী টেকসইতা প্রতিবেদন ও দুর্নীতিবিরোধী নির্দেশিকা প্রণয়নে যৌথ গবেষণা ও প্রকাশনা, এবং সাসটেইনেবিলিটি ডে ও ইন্টেগ্রিটি ডে’র মতো জাতীয় আয়োজনে অংশীদারিত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কর্মশালায় শিল্পখাতের শীর্ষ নেতৃত্ব, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন বলে সিএসই’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কর্মশালায় নৈতিক স্বচ্ছতা, টেকসইতা ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চার সঙ্গে করপোরেট প্রবৃদ্ধির সমন্বয় সাধনের কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শাহামিন এস জামান। তিনি পুঁজিবাজারে জাতিসংঘ গ্লোবাল কম্প্যাক্টের দশটি নীতি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাইফুর রহমান মজুমদার।

উল্লেখ্য, ইউএনজিসিএনবি হলো জাতিসংঘ গ্লোবাল কম্প্যাক্টের স্থানীয় নেটওয়ার্ক, যা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দশটি নীতি ও এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে। কর্মশালার এক পর্বে গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাবরুর এম চৌধুরী দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা ও টেকসই অর্থায়নের কাঠামো নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

এছাড়া গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটর জুলিয়ানা আও কুইস্ট লসনের নেতৃত্বে একটি উন্মুক্ত প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বিনিয়োগের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

এমওইউ অনুযায়ী, সিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সহজতর করবে এবং ইউএনজিসিএনবি টেকসই সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তার জন্য কারিগরি দক্ষতা, সম্পদ ও কাঠামো সরবরাহ করবে।

কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে সিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাদী হাসান বলেন, “আজ ইউএন গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইএসজি নীতি ও বাজারের অখণ্ডতার মাধ্যমে আমরা শুধু নিয়ন্ত্রক কাঠামোই শক্তিশালী করছি না, বরং টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাংলাদেশের জন্য আরো স্থিতিশীল অর্থনীতির পথও সুগম করছি।”




গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকমিউনিকেশন খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড গত ৩১ শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত বছরের জন্য কোম্পানিটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, সর্বশেষ হিসাববছরে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ২১ টাকা ৯০ পয়সা আয় হয়েছে। আগের বছর আয় হয়েছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা।

গত ৩১ শে ডিসেম্বর,২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৪১ টাকা ৪৯ পয়সা।

আগামী ২০ এপ্রিল হাইব্রিড পদ্ধতিতে মাধ্যমে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মার্চ।




 কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিয়োগে দুদকের অভিযান

রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুদক, জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।

দুদক জানায়, অসাধু আমদানিকারকরা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘদিন ধরে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করে নদী ও সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে জাহাজ ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিমের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেন।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বচ্ছ, নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে লোকাল এজেন্ট ও পণ্যের এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ ছাড়া কোনো লোকাল এজেন্ট বা পণ্যের এজেন্ট যেন চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের কাজে যুক্ত থাকতে না পারে—সে বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি অফিসিয়াল পত্র জারি করেন।

তবে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিশ্চিত করেছেন যে, ওই নির্দেশনার আলোকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো অনাপত্তি সনদ গ্রহণ করছে না। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না, তা যাচাই করতে ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন), হারবার মাস্টার এবং ডেপুটি কনজারভেটর দপ্তরের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে বিদ্যমান অস্পষ্টতা সম্পর্কে আইন ও বিধির আলোকে

দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে এনফোর্সমেন্ট টিম দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশনের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।




চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ চায় বিজিএমইএ

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থায় দেশের রপ্তানিনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। এ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নৌ পরিবহন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানান বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।

সেলিম রহমান বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানি ও প্রস্তুত পণ্য রপ্তানি সরাসরি এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। বন্দরের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন উৎপাদন চেইন ব্যাহত করে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বন্দরে কনটেইনার জট, জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

বিজিএমইএ জানায়, তৈরি পোশাক শিল্প একটি সময়সংবেদনশীল খাত, যেখানে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য রপ্তানি করা অত্যাবশ্যক। বন্দরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পণ্য চালানে বিলম্ব ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। এতে একদিকে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চলমান অবরোধ ও অপারেশনাল জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ বাতিলের ঝুঁকি বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এমতাবস্থায় দেশের সর্ববৃহৎ সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং রপ্তানিনির্ভর শিল্পের আস্থা ও সক্ষমতা বজায় থাকবে।




নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে আসছে ৩ ফেব্রুয়ারি

নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নোট বাজারে ছাড়া হবে।

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন সিরিজের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা মূল্যমানের নোট মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে। এবার এ ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে নতুন ১০ টাকার নোট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর স্বাক্ষরিত এ নোটটি ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথমবারের মতো প্রচলনে আসবে। শুরুতে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও তা সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ডিজাইনের ১০ টাকার নোট চালুর পরও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতো বৈধ থাকবে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ১০ টাকার বিশেষ নমুনা (স্পেসিমেন) নোটও ছাপানো হয়েছে, যা বিনিময়যোগ্য নয়। আগ্রহীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের মিরপুরস্থ টাকা জাদুঘর বিভাগ থেকে নির্ধারিত মূল্যে এসব নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।

নতুন ১০ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটের সামনের বাম পাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি রয়েছে। মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। নোটের পেছনে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র। পুরো নোটে গোলাপি রঙের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অংশ হিসেবে নোটটিতে জলছাপে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, তার নিচে ইলেকট্রোটাইপে ‘১০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে। সম্মুখভাগে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে ‘$10 দশ টাকা’ লেখা আছে-যা আলোর বিপরীতে ধরলে স্পষ্ট দেখা যায়। নোটটি নাড়াচাড়া করলে এই সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়।

এছাড়া গভর্নর স্বাক্ষরের ডান পাশে ‘সি-থ্রু ইমেজ’ প্রযুক্তিতে একটি প্যাটার্ন রাখা হয়েছে, যা আলোয় ধরলে ‘১০’ অঙ্কটি দৃশ্যমান হয়। সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখার নিচে এবং পেছনভাগের নির্দিষ্ট অংশে মাইক্রোপ্রিন্টিংও যুক্ত করা হয়েছে।




বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ ব্যাংক থেকে ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪১৫ কোটি মার্কিন ডলার (৪.১৫ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

জানা গেছে, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা রয়েছে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।




বাংলাদেশে প্রথম এআই–চালিত ভার্চুয়াল রিলেশনশিপ ম্যানেজার চালু করল এমটিবি

দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন মাত্রা যোগ করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) প্রথমবারের মতো চালু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ভার্চুয়াল রিলেশনশিপ ম্যানেজার— ‘মিতা’ (MTB Intelligent Assistant)। এই ভার্চুয়াল আরএম এমটিবি’র গ্রাহক ও সাধারণ ব্যবহারকারী সবার জন্যই উন্মুক্ত, যা প্রতিটি ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগত ব্যাংকিং সহায়তা প্রদান করবে।

‘মিতা’ মূলত একজন মানবসদৃশ ভার্চুয়াল ব্যাংকিং রিলেশনশিপ ম্যানেজার, যার নিজস্ব মুখাবয়ব, অভিব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব রয়েছে। প্রচলিত ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মতো এটি শুধু তথ্যভিত্তিক নয়; বরং ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ইন্টার‌্যাকটিভ বাটন বা সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমেও যোগাযোগ করতে সক্ষম।

একজন রক্ত-মাংসের রিলেশনশিপ ম্যানেজার যেভাবে গ্রাহককে সেবা দেন, মিতাও একইভাবে ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং আর্থিক তথ্য ও শিক্ষা প্রদান করে। এটি ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যাংকিং-বহির্ভূত বিষয়েও বন্ধুসুলভ আলোচনা করতে পারে।

এ বিষয়ে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “ডিজিটাল উৎকর্ষে এমটিবি’র অবিচল অঙ্গীকারের প্রতিফলন হলো ‘মিতা’। এটি ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে। এখন থেকে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মিতার মাধ্যমে ব্যাংকিং সহায়তা গ্রহণ করা যাবে।”

বর্তমানে এমটিবির এই সেবাটি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.avatar.mutualtrustbank.com) এবং অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মে ‘MTB NEO’ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে নতুন নতুন ব্যাংকিং সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে এমটিবির।




ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজির দাম বাড়ল ৫০ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নতুন এ মূল্যের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।

এলপিজির পাশাপাশি নির্ধারণ করা হয়েছে অটোগ্যাসের দামও। চলতি মাসের জন্য প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।




স্বর্ণের দাম আরও কমলো

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে নতুন করে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এর আগে রবিবার রাতে ঘোষণা দিয়ে সোমবার থেকে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে রাতের সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সকালে আবারও দাম কমানোর ঘোষণা আসে।

নতুন দরে ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

এর আগে ঘোষিত দরে সোমবার সকাল ১০টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।




বিডা ও জাইকার উদ্যোগে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণ বাংলাবিজ ২.০ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক, পূর্ণাঙ্গ ও ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এদিন ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাবিজের দ্বিতীয় সংস্করণ বাংলা বিজ- ফেইজ ২ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় নতুন সংস্করণের মূল কার্যকারিতা ও বিনিয়োগ সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান। অনলাইন সিস্টেমে ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করার মাধ্যমে বাংলাবিজ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের একটি ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করবে।

তিনি আরও বলেন, জাইকা বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। তাই বাংলাবিজ একটি মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিস পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে বাংলাবিজকে বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগির এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময়ে তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবায় বৈশ্বিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যেখানে সম্ভব সেগুলো বাদ দেওয়াও জরুরি।

বিডা জানায়, বাংলাবিজ ২.০–তে যুক্ত হওয়া নতুন সুবিধাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করা হয়েছে। নতুন ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান অনুমোদন, যেমন; নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন এবং ট্রেড লাইসেন্স একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন।

এছাড়াও পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা–সংক্রান্ত লাইসেন্স, আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি ও ইআরসি)সহ ২০টিরও বেশি বহুল ব্যবহৃত ব্যবসায়িক অনুমোদন বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারেন।

বাংলাবিজের নতুন ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস’ ফিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী অনুমোদন ক্ষেত্রে কোন ধরনের ডকুমেন্টস সাবমিট করা বাধ্যতামূলক, তা আগেই শনাক্ত করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা নিতে পারবেন।

এই সংস্করণে আরও যুক্ত হয়েছে বাংলাবিজ আইডি, যা একটি ইউনিক ব্যবসায়িক পরিচিতি নম্বর হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং বিভিন্ন সংস্থায় দাখিল করা আবেদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে। ভবিষ্যতে এটি জাতীয় পর্যায়ে ইউনিক বিজনেস আইডি চালুর ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি সিঙ্গেল সাইন-অন সুবিধার ফলে একটি মাত্র লগইন ব্যবহার করে বাংলাবিজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ওএসএস সিস্টেমে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করা সম্ভব হবে।




ভোটের দিন ইন্টারনেট চালু থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, ভোটের দিন ইন্টারনেট সংযোগ চালু থাকবে। কেউ গুজব ছড়ানো বা ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ বিঘ্নিত করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরের আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়, সমুদ্র ও সমতল- তিন ধরনের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে জেলায় সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাইও রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তার বেশিরভাগই রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় একটি কর্মসূচিতে নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে লোকজন অংশ নিলে সিদ্ধান্তগত দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং সেখান থেকেই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নিয়মিতই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিছু আসনে বিচ্ছিন্নভাবে ছোটখাটো লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে ও সংবাদ প্রকাশ করতে পারছেন। সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোট দিতে এসে কোনো নারী যেন আতঙ্কিত না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকবে।

ব্রিফিংয়ে জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।




সকালে কমে রাতেই বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে একই দিনে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে দাম কমলেও সন্ধ্যার পর আবার তা বাড়ানো হয়েছে।

এদিন রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

এ দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৪ হাজার ৮২ টাকা। এতে ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। নতুন এই দাম রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে একইদিন সকালে বাজুস ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে অনুযায়ী সারা দিন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।

এর আগের দিন শুক্রবারও ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমেছিল স্বর্ণের দাম। তবে তারও আগে বৃহস্পতিবার দেশের বাজারে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এতে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাজুস জানায়, সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পাকা স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় আবারও দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩৮২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৪১ টাকা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকা।

অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও এ দফায় রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সকালে রুপার দাম কমানোর পর নতুন করে আর কোনও সমন্বয় করা হয়নি। ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ২৯০ টাকায়, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকায়। এই দরেই আগামীকালও রুপা বিক্রি হবে।

করোনার পর গত পাঁচ বছরে দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়েছে। দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই প্রথমবার ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম এক লাখ টাকা ছাড়ায়। এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ এবং অক্টোবরে দুই লাখ টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে। গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম আড়াই লাখ টাকার সীমাও পেরিয়ে যায়।




অর্ধবার্ষিকে লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে এসিআই

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসিআই পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ২৯.৯৭ শতাংশ।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

তথ্য মতে, এদিকে আলোচ্য অর্থবছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৪ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (৩.১৭) টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে।

অপরদিকে, ৬ মাস বা অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৭৩ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (৭.৯৯) টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৯০.৭০ টাকা।




টেকনো ড্রাগসের অর্ধবার্ষিকে মুনাফা কমেছে ১৯.৪৪ শতাংশ

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রন্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ১৯.৪৪ শতাংশ।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

তথ্য মতে, আলোচ্য অর্থবছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৪০ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ০.৪৮ টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ০.০৮ টাকা বা ১৬.৬৭ শতাংশ।

অপরদিকে, ৬ মাস বা অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৮৭ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১.০৮ টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ০.২১ টাকা বা ১৯.৪৪ শতাংশ।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৮ টাকা।




দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানি দুটি হলো- সোনালী পেপার বোর্ড মিলস লিমিটেড এবং কাট্টালি টেক্সটাইল লিমিটেড।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, সোনালী পেপার বোর্ড মিলস লিমিটেড এবং কাট্টালি টেক্সটাইল লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএরবি)।

সোনালী পেপার: ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী ‘বিবিবি৩’ এবং স্বল্পমেয়াদী ‘এসটি-৩’ রেটিং হয়েছে। কোম্পানিটির ৩০ জুন, ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং তারিখ পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।

কাট্টালি টেক্সটাইল: ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী ‘বিবি-’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৪’ রেটিং হয়েছে। কোম্পানিটির ৩০ জুন, ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং তারিখ পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




খসড়া গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ সরকারের বিদায়ী পরিহাস : টিআইবি

খসড়া জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ দেশে মুক্ত গণমাধ‍্যম বিকাশে জনপ্রত‍্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একইসঙ্গে সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা গঠনের উদ্যোগে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রস্তাবিত উভয় কমিশনের গঠন, স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সবকিছুই সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বাধীন। এ ধরনের কাঠামো মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি হতাশাজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদজুড়ে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা রোধে সরকারের ব্যর্থতা ছিল স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে খসড়া দুটি সেই প্রতিপক্ষমূলক আচরণেরই ধারাবাহিকতা।’

টিআইবি জানায়, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত কোনো কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব বিবেচনায় নিয়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গবেষণা ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিল। তবে সরকার সেই সুপারিশকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পারস্পরিকভাবে সম্পর্কযুক্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর দুটি পৃথক নিয়ন্ত্রণমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ অপরিণামদর্শী। এর পরিবর্তে সরকারের কর্তৃত্বের বাইরে একটি অভিন্ন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম কমিশন গঠনই সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।

খসড়া অধ্যাদেশ স্থগিতের আহ্বান

টিআইবি খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে পরিণত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক দল অতীতে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের শিকার হয়েছে এবং যারা নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে অঙ্গীকার করছে, তাদের নতুন সংসদ গঠনের পর অনতিবিলম্বে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে উদ্যোগী হতে হবে।

এমন একটি কমিশন সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে বলে টিআইবি আশা প্রকাশ করেছে।




সবুজ কারখানায় তৈরি পোশাকের সঠিক মূল্যায়ন প্রয়োজন

সবুজ কারখানায় বিশ্বে বাংলাদেশ নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙছে। প্রতিনিয়ত গড়ছে নিত্য নতুন রেকর্ড। এটি দেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তবে সবুজ কারখানাগুলো ক্রয়াদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। ক্রেতাদের এটি ভাবা উচিৎ। আর কারখানাগুলোর পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজ করা উচিত।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিশ্বের শীর্ষ গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি অর্জনের জন্য হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সম্মান অর্জন করায় শীর্ষ এই সবুজ কারখানাকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ইউএসজিবিসি লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশনে ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে। এটি কেবল একটি সংখ্যার বিচার নয়, বরং এটি বর্তমানে বিশ্বের যে কোনো গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর।

তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য সারাবিশ্বের কাছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক’ তৈরি করেছে।

স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএ এর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা তারা সফলভাবে করেছে। কারখানার পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজতর করতে হবে।

বিজিএমইএ’র পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ লিড সার্টিফিকেশনে সর্বোচ্চ স্কোর করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে। এটি শিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তবে গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো কার্যাদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের মূল্যের সঠিক প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে ইউএসজিবিসি এর কনসালটেন্ট ও ৩৬০ টিএসএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত আহমেদ এই অর্জনের কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র যে সাসটেইনিবিলিটির পথে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে তা নয়, বরং নতুন বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক তৈরি করছে।

হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে কারখানার সাকসেস স্টোরি তুলে ধরেন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিজিএমইএ’র বর্তমান পর্ষদ যেভাবে শিল্পের প্রতিটি অর্জনকে মূল্যায়ন করছে এবং বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ’র এই সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ শিল্পমালিকদের টেকসই শিল্পায়নের পথে আরও সাহসী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড টেকনোলজিস্টসের (আইটিইটি) ইনটেরিম কমিটির কনভেনর প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার এবং হ্যামস গার্মেন্টস এর পরিচালকগন ও উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড সার্টিফাইড গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম এবং ১৩৯টি গোল্ড মানের। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত।




ঢাবিতে ২৮৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দেড় বছরে ঢাবি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন প্রকাশ করা হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সব হলের প্রভোস্ট এবং ডাকসু ও হল সংসদ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—আবাসন সংকটের সমাধান ও প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের আবাসন নিশ্চিতকরণ, র‍্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ধাপ উন্নতি, প্রথমবারের মতো ইউনেস্কো চেয়ার স্থাপন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে রিসোর্সের পরিমাণ বৃদ্ধি, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধে উদ্যোগ, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ইত্যাদি

উপাচার্য বলেন, এ সময়ে আমাদের অন্যতম বড় সাফল্য সুন্দরভাবে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন। তিনি বলেন, নিয়মিত ডাকসু আয়োজনের লক্ষ্যে অচিরেই ডাকসুকে ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আমরা যতটুকু এসেছি আপনাদের সহযোগিতায় এসেছি। এটা (ঢাবি) জাতীয় প্রতিষ্ঠান। জাতি যেন এটি থেকে তাদের ন্যায্য হিস্যা বুঝে নেয়।

এ সময় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদি মেগা প্রকল্পের আউটলুক প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। জানা যায়, প্রকল্পের অধীনে সর্বমোট ৩১টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ছয়টি ছাত্র হল ও চারটি ছাত্রী হলের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া এই প্রকল্পের অধীনে রয়েছে প্রশাসনিক ভবন আধুনিকায়ন, অটোমান ডিজাইনে কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ করে সেটিকে কালচারাল সেন্টারে রূপদান, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও ডাকসু ভবনের আধুনিকায়ন ইত্যাদি।

এ সময় শিক্ষক মূল্যায়ন চালু সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, এটি চালুর কাছাকাছি পর্যায়ে আছে। ডাকসু এটি নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য সিন্ডিকেট থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বিষয়ে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, নিয়োগ নিয়ে ফুল স্কেল রিভিউ কমিটি করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য আলাদা দুটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বেশি স্বচ্ছ হবে।




বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বিশাল ধস, দুই দিনে কমলো ৮০ হাজার টাকা

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গুরুত্ব বহন করে আসছে স্বর্ণ। স্বর্ণের দাম কখনও ঊর্ধ্বমুখী আবার কখনও নিম্নমুখী হচ্ছে। এবার আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে স্বর্ণের দামে। মাত্র একদিনেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। আগের দিন এই দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। এরও আগে বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে উঠে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে।

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। স্বল্প সময়ে এমন বড় দরপতন বিশ্ব স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে সেই উচ্চতা স্পর্শ করার পর গত দুই দিন ধরে স্বর্ণের দামে দরপতন শুরু হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে দাম দ্রুত বাড়ে। কিন্তু স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য মুনাফা হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ তুলে নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন যুক্ত হয়ে সাম্প্রতিক এই দরপতন ঘটেছে।

বিশ্ববাজারের এই বড় দরপতনের প্রভাব দ্রুতই দেশের বাজারে পড়েছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই স্বর্ণের দামে বড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম এক ধাপে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়। এতে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমানো হলে ভালো মানের স্বর্ণের দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়। নতুন দাম কার্যকর হয় শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে।

বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।

একই সঙ্গে রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যেকোনো দেশে মুহূর্তেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতে স্বর্ণ মজুত করে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে সেই পরিমাণ বেড়ে গেলে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় কোনো দেশের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ঘটে। সেক্ষেত্রে নিজেদের সম্পদ রক্ষার্থে স্বর্ণে বিনিয়োগ করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে তাদের কাছে ধাতুটির আকর্ষণ বাড়ে। সেই সঙ্গে দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়। সমসাময়িক বিশ্বে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রা ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের কারেন্সিটির দাম বাড়লে স্বর্ণের দর হ্রাস পায়। আবার ডলারের মূল্য নিম্নমুখী হলে ধাতুটির দাম বেড়ে যায়।

আবার স্বর্ণের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যায়। আবার প্রত্যাশার চেয়ে জোগান কম হলে ধাতুটির দর বেড়ে যায়। সময় যত গড়াচ্ছে এর মজুত তত হ্রাস পাচ্ছে। ফলে সম্পদটির দাম বাড়তি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছবে। এ ধারা বজায় থাকলে জনসাধারণের নাগালের বাইরে তা চলে যেতে পারে।

 




যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো আরও ৫৮ হাজার টন গম

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে নগদ ক্রয় চুক্তি জি-টু-জি-০২ এর অধীনে এসব গম নিয়ে এমভি ডব্লিউএফ আরটেমিস নামক জাহাজটি বন্দরে এসেছে।

 

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) খাদ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এরই মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করছে। জি-টু-জি-০২ চুক্তির আওতায় মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে, যার তৃতীয় চালান হিসেবে ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে জাহাজটি এখন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। আর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় চালানে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে।

জাহাজে রক্ষিত গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা শেষে দ্রুত এসব গম খালাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জি-টু-জি-০১ চুক্তির আওতায় এরই মধ্যে মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি হয়েছে।




‘ভবিষ্যৎ আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতা অপরিহার্য’

বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতকে টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপক এবং তরুণ পেশাজীবীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক দক্ষতা ও ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসিতে সমৃদ্ধ হওয়া একান্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের দাবি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর কেবল প্রযুক্তি খাতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা পরিচালনা, ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিচ্ছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর ‘এআই ফর ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তারা এসব কথা জানান।

বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজের সভাপতিত্বে ও বিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মো. হেলাল উদ্দিনের পরিচালনায় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেটকম লার্নিং বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) মো. ইমদাদুল ইসলাম, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির এসএমই ব্যাংকিংয়ের সিনিয়র ম্যানেজার এবং হেড অব ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি উইং সঞ্জয় পাল। কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়টি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা পরিচালনা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে আমাদের উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপক এবং তরুণ পেশাজীবীদের ডিজিটাল আর্থিক জ্ঞান ও এআই ভিত্তিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি এখন আর শুধু হিসাব জানা নয়, বরং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন, ডেটা ট্রাকিং, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, বিসিআই সবসময়ই শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের পক্ষে কাজ করে আসছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বিশ্বে ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই ফর ফাইন্যান্স এর ব্যবহার শুরু করেছে এবং আগামী ৩ বছরের মধ্যে তা ৮৪ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সময় বিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাগত জানান এবং নিজেদের আগামীর বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করে তোলার জন্য আহ্বান জানান।

কর্মশালার দ্বিতীয় ভাগে ‘এআই ফর ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি’ বিষয়ে মো. ইমদাদুল ইসলাম ও সঞ্জয় পাল দুটি সেশনের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রথম সেশনে আলোচক এআই কীভাবে প্রতিষ্ঠানের ফিন্যান্সিয়াল অপারেশনস-এ নির্ভুলভাবে কাজ করতে সহায়তা করে তা তুলে ধরেন এবং বাস্তবভিত্তিক উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের প্রতিটি বিষয় সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
el

অপরদিকে দ্বিতীয় সেশনে আলোচক ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি আমাদের ব্যক্তিগত কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য নিজে জানা ও অন্যদের জানানো অত্যন্ত আবশ্যক।




দেশের ৫ লাখ ১৮ হাজার ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করেছে ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) নিবন্ধনকারী সারা দেশের ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন ভোটারের কাছে ব্যালট প্রেরণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ শনিবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার বেলা সাড়ে সকাল ১১টা পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থিত ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন ভোটের কাছে ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে।

৭ হাজার ৩৬৭ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া ৪ হাজার ৯০২ জন ভোটার কর্তৃক ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে।

অপর দিকে, ২ হাজার ৩৯৪ জন ভোটার কর্তৃক পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেয়া হয়েছে।

৪ লাখ ৫৮ হাজার ০৫৯ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়েছে।

ইসি’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট প্রবাসী গন্তব্যের দেশে পৌঁছেছে। ৫ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৫ জন প্রবাসী ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯ জন প্রবাসী।

এছাড়া ৪ লাখ ১০ হাজার ৯২৮ প্রবাসী ভোটার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬০ জন প্রবাসী ভোটের ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

সালীম আহমাদ খান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে (দেশে ও প্রবাসী মিলে) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।




রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দাবিতে মানববন্ধন

রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক—সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণীর—কর্মকর্তারা ন্যায্য ও নিয়মিত পদোন্নতির দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা এবং বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মানববন্ধনে কর্মকর্তারা বলেন, গত ১৪ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা একটি স্মারকের কারণে নিয়মিত পদোন্নতি কার্যত বন্ধ রয়েছে। স্মারকে বলা হয়েছে, সুপার নিউমারারি পদোন্নতি আত্মীকরণ বা সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো ১৫ অক্টোবর সুপার নিউমারারি পদোন্নতি সমন্বয় করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, তবু পদোন্নতি কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কর্মকর্তারা বলেন, সুপার নিউমারারি পদোন্নতি নিয়মিত পদোন্নতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। দেশের অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সুপার নিউমারারি পদোন্নতি চালু থাকলেও নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখা হয় না। শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে “সমন্বয়”-এর অজুহাতে পদোন্নতি বন্ধ রাখাকে তারা বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনে তাদের দাবি ছিল, ২০২৪ সালের পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট বছরের শূন্য পদ অনুযায়ী এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কাট-অফ তারিখ ধরে প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী কার্যকর করতে হবে। এছাড়া নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর সুপার নিউমারারি পদোন্নতি তিন ধাপে আত্মীকরণ বা সমন্বয় এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট-অফ ধরে দ্বিতীয় দফা নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। পদোন্নতি কার্যকরতার তারিখ ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।

মানববন্ধনে মো. মোতাহের হোসেন বক্তব্য রাখেন। কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা–২০২৫’-এর কিছু ধারা বৈষম্য সৃষ্টি করছে। তারা নীতিমালাটি সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে একটি ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন, যা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।




সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে : রিজওয়ানা হাসান

নির্বাচন ইস্যুতে সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।

সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন- দুটি দলের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভোট নিয়ে মন্তব্য আসছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণই হবে। এক দল আরেক দলকে হারানোর চেষ্টা করবে, এক দল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে, সে তার পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করার কথা বলবে। এটা খুব স্বাভাবিক।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভদ্রতা ও সভ্যতার সীমা রাখা হচ্ছে না। সে জন্য সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যদি কোনোটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পৌঁছে যায়, তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বলল বা না বলল, সেটা তো সরকারের দায়িত্ব নয়।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্লেষণ থাকতে পারে, কিন্তু কে জিতলে কী ধারণা করবে, জেতার আগেই এত কথা বলে দিলে সেই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে করার সুযোগ থাকে না।

ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হবে- সরকারের এমন একটি বিবৃতি রয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেনি, তা ঠিক কথা নয়। ভোটের যেদিন শিডিউল ঘোষণা হলো, সেদিনই তো বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে এবং সেটার ভুক্তভোগী আমরাও কয়েকজন হয়েছি। ফলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি কোনো রকম চেষ্টা করে, তা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে প্রস্তুতি আমরা আরও বাড়াব।

কোনো কোনো জেলায় ডিসিদের গণভোটের পক্ষে সেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যা করছি তা হলো, আমরা সব উপদেষ্টারা দেশের ৬৪টি জেলায় গিয়ে বিভিন্ন জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি। গণভোট কেন হচ্ছে, গণভোটের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী—সেগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার অভিযান শুরু হয়ে গেছে, তাই এখন আর আমরা কোনো উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের কিছু উপকরণ আছে গণভোটের স্বপক্ষে, সেগুলোই আমরা বিতরণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকেরা কোথায় প্রচার করছেন বা করছেন না- জেলা প্রশাসকদের প্রচার বলতে বোঝায়, ১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটি গণভোট হবে এবং জনগণ যেন সাধারণ ভোটের সঙ্গে গণভোটেও অংশ নেয়, সে তথ্য জানানো। এর বেশি তাদের আর কিছু করার কথা নয়।’

মানুষের মধ্যে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভয় কাজ করছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিন, কোন মানুষ আপনাকে বলেছে যে তার ভোট দিতে ভয় লাগছে। আমরা যে এতগুলো জেলায় গেছি, সব জায়গায় গিয়ে দেখেছি নির্বাচনের একটি আমেজ তৈরি হয়েছে। আমরা যখন গিয়েছি, তখনও কিন্তু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়বে, আগ্রহও বাড়বে, আনন্দও বাড়বে। এটা বাংলাদেশে সবসময়ই হয়ে থাকে। আমি কোনো জায়গায় কাউকে বলতে শুনিনি যে ভোট দিতে যেতে তার ভয় লাগছে। আপনাকে যদি কেউ তা বলে থাকে, আমাদের জানাবেন। তার ভয় দূর করার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের।’

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে ভয়ের একটি আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণেই বলা হচ্ছে, পতিত স্বৈরাচার যদি নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার জন্য কোনো কাজ করে, তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




টেকনো ড্রাগসের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি বিকাল ৪ টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-২৫ থেকে ডিসেম্বর-২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।




কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ লিমিটেড পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি বিকাল ৪ টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-২৫ থেকে ডিসেম্বর-২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।




আমান ফিডের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আমান ফিড লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৫ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ২১ পয়সা আয় হয়েছিল।

হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৬ মাসে (জুলাই’২৫-ডিসেম্বর’২৫) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪৬ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিলো ৫৩ পয়সা।

আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ ছিল ৪৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে মাইনাস ৬৮ পয়সা ছিল।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৮ টাকা ৭ পয়সা।




জেএমআই হসপিটালের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট অ্যান্ড ম্যানুফেক্চারিং লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২১ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ৫১ পয়সা আয় হয়েছিল।

হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৬ মাসে (জুলাই’২৫-ডিসেম্বর’২৫) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিলো ১ টাকা ৬ পয়সা।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৫ টাকা ১৪ পয়সা।




জেনিথ ইসলামী লাইফের প্রিমিয়াম আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি, দাবি পরিশোধ প্রায় শতভাগ

২০২৫ সালের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে শরীয়াহভিত্তিক জীবন বিমা কোম্পানি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি। আলোচিত হিসাব বছরে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং জীবন বিমা তহবিলে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জেনিথ ইসলামী লাইফের ৪৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে। যেখানে ২০২৪ সালে এই আয় হয়েছিল ৩৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

এদিকে ২০২৫ সালে কোম্পানিটি ২৪ কোটি ১০ লাখ টাকা নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

কোম্পানিটি ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের হার শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটির মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল ৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটি উত্থাপিত মোট বিমা দাবির ৯৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ পরিশোধ করেছে। আলোচ্য বছরে বিমা কোম্পানিটিতে মোট উত্থাপিত দাবির পরিমাণ ৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে কোম্পানিটি পরিশোধ করেছে ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বিমা দাবি।

এর আগে ২০২৪ সালে কোম্পানিটির দাবি পরিশোধের হার ছিল ৯৮.১৩ শতাংশ। এক্ষেত্রে কোম্পানিটির বিমা দাবি পরিশোধের হার ২০২৫ সালে ১.৪১ শতাংশ বেড়েছে।

২০২৫ হিসাব বছর শেষে কোম্পানির জীবন বিমা তহবিলেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আলোচিত হিসাব বছরে কোম্পানির জীবন বিমা তহবিলে ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা যুক্ত হয়েছে। চলতি বছরে জীবন বিমা তহবিল বৃদ্ধির হার ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।




ডিবিএ’র সঙ্গে সিএমজেএফ’র নবনির্বাচিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সঙ্গে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) নবনির্বাচিত কমিটির এক সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারে ডিবিএর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ডিবিএর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান (সিএফএ), ভাইস প্রেসিডেন্ট নাফিজ আল তারিক (সিএফএ), পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান, নাঈম মো. কাইয়ুম, আলহাজা নাহিদ আহমেদ এবং সেক্রেটারি দিদারুল গনীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সিএমজেএফ’র পক্ষ থেকে সভায় অংশগ্রহণ করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মো. মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল, সহ-সভাপতি বাবুল বর্মণ, অর্থ সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম এবং নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ও এস এম জাকির হোসেন।

বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি নিয়ে উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। এ সময় ডিবিএর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম সিএমজেএফ-এর নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং পুঁজিবাজারের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, সিএমজেএফ-এর প্রেসিডেন্ট মো. মনির হোসেন ডিবিএর প্রেসিডেন্টসহ পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কল্যাণে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ডিবিএর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




দ্রুত সময়ের মধ্যে কমোডিটি মার্কেট চালু করতে যাচ্ছে সিএসই

দেশের পুঁজিবাজারে পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম বা ‘কমোডিটি মার্কেট’ চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এই বাজার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছে। এখন কেবল বাজারসংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও একটি শক্তিশালী ‘ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার অপেক্ষা।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সিএসই।

এর আগে রাজধানীর কাওরান বাজারে এনএলআই সিকিউরিটিজের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট: এ নিউ ফ্রন্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম সাইফুর রহমান মজুমদার এই অগ্রগতির কথা জানান। ক্যাপিটাল মার্কেট সিইও ফোরাম ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘কমোডিটি মার্কেটের জন্য টেকনোলজিক্যাল কাঠামো স্থাপনের পাশাপাশি আমরা আমাদের পুরো ট্রেডিং সিস্টেমও আপডেট করেছি। নতুন এই কাঠামোতে বর্তমান ইকুইটি মার্কেট, ডেরিভেটিভস মার্কেট এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভস মার্কেটকে যুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের জন্য তিনটি কাঠামো প্রয়োজন– রেগুলেটরি (নিয়ন্ত্রক), টেকনোলজিক্যাল (প্রযুক্তিগত) এবং ইকোসিস্টেম। সিএসই ইতোমধ্যে প্রথম দুটি স্তরের কাজ সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ চলছে। সবার সহযোগিতা পেলে খুব দ্রুত এই বাজার চালু করা সম্ভব হবে।

সিএসইর এমডি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমাদের ইকুইটি মার্কেট এখনও পরিপূর্ণ নয়। বিশ্বে বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট লেনদেনের বড় অংশই হয় ডেরিভেটিভস মার্কেটে। সেই তুলনায় আমাদের বাজার অনেক পিছিয়ে। যত দ্রুত কমোডিটি মার্কেট চালু হবে, অর্থনীতিতে এর সুফল তত দ্রুত পাওয়া যাবে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ক্যাপিটাল মার্কেট সিইও ফোরামের ডিরেক্টর মো. আলী বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বা প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন নেই বললেই চলে। নতুন নতুন পণ্যের আগমনকে সফল করতে সিইও ফোরাম কাজ করে যাবে।

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কমোডিটি মার্কেট চালু হলে অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, সিইও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস সিএসইর স্বচ্ছতা ও আধুনিক সেবার প্রশংসা করে বলেন, কমোডিটি মার্কেটের মাধ্যমে বাজার আরও প্রাণবন্ত হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর এজিএম ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রজেক্টের মেম্বার সেক্রেটারি ফয়সাল হুদা। এতে বিভিন্ন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।




চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৯ শতাংশ

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে কৃষিতে মোট ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত চলতি অর্থবছরের মোট ৩৯ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ছয় মাসেই অর্জিত হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ বিতরণের অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষি খাতে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে এক বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৬ শতাংশ এই খাতে নিয়োজিত। অথচ প্রতি বছর গড়ে ৫ শতাংশ হারে ঋণ বাড়লেও কৃষি খাত কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঋণ বিতরণের পাশাপাশি কৃষি খাতে ঋণ আদায়ও বেড়েছে। গত ছয় মাসে কৃষি খাত থেকে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। ফলে গত ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর নিট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষিতে বিতরণের লক্ষ্য বর্তমান বাস্তবতায় অপর্যাপ্ত। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন জরুরি।

ঋণ সীমিত থাকায় কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত বীজ-সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃষক ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও সচেতনতা বাড়াতে প্রকাশ্য ও দলগত ঋণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক শাখার বাইরে এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ব্রাঞ্চ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, এরিয়া অ্যাপ্রোচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এমএফআই-লিংকেজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




বাংলাদেশি‌দের জন্য ওয়ার্ক ভিসা চালুর আশ্বাস ওমানের শ্রমমন্ত্রীর

 

আগামী দুমাসের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছেন ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইন সালিম আল-বুসাইদি।

সৌ‌দি আরবে গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদে‌শিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে এক বৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রী এই আশ্বাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জান‌য়া‌রি) রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে এ তথ্য জা‌নিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে, উপদেষ্টা অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের জরিমানা ছাড়া বৈধকরণে ওমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তি‌নি বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী যেমন- প্রকৌশলী, চিকিৎসক, নার্সরাও যাতে করে ওমানের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারে এর জন্যও ওমানের মন্ত্রীর সহযোগিতা চান। পাশাপাশি অদক্ষ, আধা-দক্ষ কর্মী ভিসার উপর স্থগিতাদেশের পর্যালোচনার অনুরোধ জানান।

ওমানের শ্রমমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অনিয়মিত ও আনডকুমেন্টেড প্রবাসী কর্মীদেরকে নিয়মিতকরণের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে ২০২৩ থেকে সাময়িকভাবে অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন ওয়ার্ক ভিসা স্থগিত রাখা হয়। তিনি আগামী দুমাসের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালু করার আশ্বাস দেন।

উপদেষ্টা অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, আইনি সংস্কার, কর্মী প্রেরণের আগে দক্ষতা যাচাই, প্রাকবর্হিগমন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাগতিক দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও আইন-কানুন সম্পর্কে অবহিতকরণসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে ওমানের শ্রম মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

উপদেষ্টা চলতি বছরের প্রথমার্ধে মাস্কাটে যৌথ কারিগরি কমিটির (জেটিসি) পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তাব করেন।

এ ছাড়া, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং শ্ৰম সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এরইমধ্যে চূড়ান্ত করা সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের জন্য ওমানের শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।




ড্রাইভার আবেদ আলীর স্ত্রীর ফ্ল্যাট-জমি জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর নামে থাকা ১৪৮ শতাংশ জমি ও দুটি ফ্ল্যাট (মিরপুর) জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। একইসঙ্গে তার নামে থাকা ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ও চারটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে ১১ লাখ ১৩ হাজার ২০৮ টাকা রয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন স্থাবর সম্পদ জব্দ ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি শাহরিন আক্তার শিল্পীর নামে স্থাবর সম্পদ এবং অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। তার নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, দলিল সম্পাদন বা অন্য কোন পন্থায় মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তর সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার নামে অর্জিত স্থাবর সম্পদ জব্দ এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।




বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আবারও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গত বছর মূল্যবান এই ধাতুর দাম রেকর্ড ৬৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলতি বছরও অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডলারের দরপতনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৯ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে সর্বকালের সর্বোচ্চ হিসেবে স্বর্ণের দর উঠেছিল ৫ হাজার ১১০ দশমিক ৫০ ডলারে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০ ডলার।

এদিকে, রুপার দামেও বড় উত্থান দেখা গেছে। গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো রুপার দাম আউন্সপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ায়। চলতি সপ্তাহে তা আরও বেড়ে ১০৮ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। ভেনেজুয়েলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ইরানকে ঘিরে হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণ ও রুপাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বাড়তি চাহিদা, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি শিথিল হওয়া এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী স্বর্ণ কেনার প্রবণতা দাম বাড়ানোর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, গত ডিসেম্বরে টানা ১৪ মাস ধরে চীনের স্বর্ণ ক্রয় এবং এক্সচেঞ্জ–ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ প্রবাহ স্বর্ণের দামে বড় ভূমিকা রেখেছে। এসব কারণে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।

ডলারের সাম্প্রতিক দুর্বলতার পেছনে জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন জল্পনাও কাজ করছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ট্রেডারদের সঙ্গে ইয়েনের বিনিময় হার নিয়ে যোগাযোগ করেছে—এমন প্রতিবেদনের পর এশিয়ার বাজারে ইয়েনের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে ডলারের বিপরীতে ইয়েন এক শতাংশের বেশি শক্তিশালী হয়ে ১৫৩ দশমিক ৮৯-এ দাঁড়িয়েছে।




সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: ভাতার সঙ্গে বাড়লো উপকারভোগীও

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা ও সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা, প্রতিবন্ধী, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, গুরুতর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, মা ও শিশু, মুক্তিযোদ্ধা এবং জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ভাতার হার ও সহায়তা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি ৯০ বছরোর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।

একই মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রমে মোট ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। এছাড়া ৯০ বছরোর্ধ্ব ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বাড়িয়ে প্রাথমিকে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত অন্য এক কর্মসূচিতে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বৃত্তির মাসিক হার প্রাথমিকে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৪৯০ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সদস্যকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবার মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে মোট ৬ মাস পাবে।

সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।




নির্বাচন ঘিরে টানা চারদিনের ছুটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকার ঘোষিত দুই দিন ছুটি ছাড়াও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট চার দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারি চাকরিজীবী ছাড়াও যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি পেয়ে থাকেন, তারাও একটানা চারদিনের ছুটি পাচ্ছেন।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি। এরপরের দুদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। সবমিলিয়ে মোট ৪ দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বুধ ও বৃহস্পতিবার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/ কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হলো।